āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4537


.
""গল্পঃ স্বাধীনতার জন্য""
.
.
.
চারদিকে যুদ্ধের ঘনঘটা।পাক-বাহিনীরা বিভিন্ন গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে।অত্যাচার আর নিপীড়ন বেড়েই চলছে।ধর্ষিতা হচ্ছেন মা আর বোনেরা।চারদিকে শুধু হাহাকার।
পাক সেনাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারন করেছে বাংলাদেশেরর সাহসী ছেলেরা।মুক্তি এনে দিতে প্রানপন চেষ্ঠা চালাচ্ছে প্রতিনিয়ত। একটি ফুলকে স্বাধীনভাবে ফোটার অধিকার এনে দিতে।একটি পাখিকে স্বাধীনভাবে উড়ার স্বাধীনতা দেয়ার জন্য।
.
সজল যুদ্ধে গেছে কয়েকদিন আগে।প্রথমে ট্রেইনিং করবে অতঃপর যুদ্ধে যোগ দিবে।তার মা সাহেরা বানু ছেলের জন্য সবসময় মন মরা হয়ে থাকেন। প্রতিদিন হাঁড়িতে একটু বেশিই চাল দেন। যদি সজল মাকে দেখার জন্য ফিরে আসে একটিবারের জন্য।ব্যাকুল হয়ে পথের পানে তাকিয়ে থাকে সাহেরা বানু।নামাযে দোআ করে প্রতিবারই।
.
রাত ১১টা।
বিছানায় নিজেকে সোপর্দ করেছে সাহেরা বানু।হঠাৎ দরজাতে কড়া নড়ার শব্দ।
- কে? (সাহেরা বানু)
- আমি মা।তোমার ছেলে সজল। (দরজার অপর প্রান্ত থেকে বললো সজল।
- দাড়াও বাবা,আসতেছি।
- তাড়াতাতি খোল মা।
যখন দরজাটা খুলে দিলেন ঠিক তখনি সজলের সাথে আরো দুজন যুবক ছেলে ঘরে ঢুকে পড়লো।সাহেরা বানু দরজাটা পুনরায় লাগিয়ে দিলেন। পিছনে ফিরেই সজলকে বুঁকে জড়িয়ে চুমু খেতে লাগলেন বারবার।
- মা তুমি কাঁদছো কেন?(সজল)
- তোরে কতদিন থেকে দেখি না বাবা! (সাহেরা বানু)
- মা, তুমি যদি এভাবে ভেঙে পড়ো তাহলে তো আমি আমার সাহস হারিয়ে ফেলবো।তোমার উচিত আমাকে সাহস দেয়া।
- সজল ঠিক কথা বলেছে চাচিমা। (তানভীর)
- কিন্তু বাবা মন যে মানে না।তুই তো জানিস,তুই আমার একমাত্র সন্তান।তোর কিছু হলে আমি কেমন করে বাঁচবো বল? (কান্নাজনিত কন্ঠে বলতে লাগলো সাহেরা বানু।)
- মা তুমি কোন চিন্তা করো না।আমরা আমাদের জীবনের বিনিময় হলেও এই দেশকে স্বাধীন করেই ছাড়বো।আর আমি যদি আর না ফিরি তাহলে ভাববে লাল সবুজের পতাকার মাঝেই আমি নিহিত।তোমার জন্য তখন থাকবে হাজারো বীর সন্তান।
- সজল ঠিক কথাই বলেছে চাচিজান। (ফাহিম)
- মা ও মা।কিছু খাবার হবে?সেই সকাল থেকে কিছু খাওয়া হয় নি।গতকালই ট্রেইনিং শেষে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিছি।
- কেন হবে না।তোরা বোস,আমি ভাত দিচ্ছি।
.
সাহেরা বানু ভাতের বুলটা তিনজনেে সামনো রেখেছে।সাথে রেখেছে কচু শাক আর ডিম ভাজা।সজল,ফাহিম আর তানভীর পেটের চাহিদামত খাবার নিয়ে খাচ্ছে।
- মা তুমি তো পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ো।তুমি আমাদের জন্য দোয়া করবা।আমাদের সব মুক্তিবাহিনীরর জন্য।কারন আজ যত মুক্তিযোদ্ধাকে দেখছো এরা সবাই তোমারি সন্তান।তার নিরাপত্তার জন্য তাহাজ্জুদ আদায় করবে।
- সেটা তো প্রতিদিনই করি বাবা। আমার বিশ্বাস তোমরাই পারবে আমার সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা দেশটিকে হানাদার মুক্ত করতে।আমার দোয়া তোমাদের সাথে আছে বাবা।
- হ্যাঁ মা।আমিই তাই বিশ্বাস করি।
- আর কবে আসবি বাবা?
- আসবো মা আসবো।মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলেই চলে আসবো।এর মাঝে যদি সময় পাই তাহলেও আসবো।মা এখন আমাদের যেতে হবে।আগামীকাল একটা অপারেশন আছে।দোয়া করো মা,যাতে সফল হই এই অপারেশনে।
- আচ্ছা যা বাবা।তোকে আমি আল্লাহর হেফাযতে সোপর্দ করলাম।
.
অতঃপর সজল তার মা সাহেরা বানুর নিকট থেকে বিদায় গ্রহন করলো।সজল, ফাহিম আর তানভীর বাড়ির ঝোঁপটা দিয়ে খুব সাবধানে চললো মুক্তবাহিনীর ক্যাম্পের দিকে।সাহেরা বানু অপলক চোখে তাকিয়ে থাকে সজলের যাবার পানে।চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পড়তে থাকে অঝর নয়নে পানি। তবুও তাকে শক্ত করতে হবে তার মনকে।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)

.
গল্পঃ হৃদয়ের গহীনে
.
.
.
- হ্যালো সজল।(তানিশা)
- হ্যাঁ বল।(সজল)
- তুই কোথায় রে?
- কেন বাড়িতে!
- তাড়াতাড়ি ক্যাম্পাসে আয়।তোদের সাথে আমার কথা আছ।
- তাই বুঝি?
- হুম রে।
- আজকে তুই না ডাকলেও আমি তোরে ফোন দিতাম। আমারো কিছু গুরুত্বপূর্ন কথা আছে।
- ওকে।তাড়াতাড়ি আয়।
- ওকে আসছি।
.
সজল আর তানিশা একই ভার্সিটিতে পড়াশুনা করে।দুজনে খুব ভালো বন্ধুও বটে।নিজেদের সব কথাগুলো একে অপরের মাঝে শেয়ার করে।তারা দুজন বাদেও আরো দুজন তাদের দলে।ফাহিম আর শাম্মী।৪জনেই প্রায়ই জমে আড্ডা দেয়।
.
রিক্সায় উঠেছে সজল। ভাবছে আজকে সে তার মনের কথা বলবে তানিশাকে।বন্ধু থেকে সে যে তাকে ভালোবেসে ফেলেছে সেই কথা।তানিশার পর্যায় থেকে কোন অংশ থেকে কম নয় সজল।বাবার টাকা পয়সা আছে,গাড়ি আছে,বাড়ি আছে।সে নিজেই বেশ স্মার্ট ও মেধাবী ছাত্র।
সজলের ধারনা নিশ্চয়ই তানিশা তাকে ফিরিয়ে দিবে না।
.
ভার্সিটির গেটে রিক্সা থেকে নামে সজল।ভাড়াটা মিটিয়ে তাদের আড্ডাস্থলের দিকে হাস্যজ্বল মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে।এদিকে তার বুঁকের মাঝে ধুঁকধঁক করছে।
খানিকটা দূর থেকে দেখলো ফাহিম, তানিশা আর শাম্মীকে বসে থাকতে।সজল মনে মনে ভাবলো,আজকেও বুঝি বাকি দুজনের জন্য তানিশাকে তার মনের কথা বলা হবে না।আজ থেকে আরো কয়েকদিন ভালোবাসার কথা বলার নিয়ত করে এসেছিলো।কিন্তু তানিশাকে সে ভয়ে বলতে পারে নি।কেন জানি ছেলে হয়েও তার মনে বেশ লজ্জা কাজ করে।
.
- মহারাজের এখনি আসার সময় হলো।(তানিশা)
- বড়লোক বাপের পোলা তো।তাই সকালে ঘুম ভাঙে না।(শাম্মী)
- শাম্মী দেখ ভালো হবে না কিন্তু।আমি তোদের কতবার বলেছি না,আমাকে কখনো বড় লোক বলবি না।আমি এখনো আমার বাবার হোটেলে খাই।যখন আমার নিজের টাকা পয়সা হবে,তখন বলিস।আমি তোকে বাঁধা দিবো না।(সজল)
- এই তোরা এসব বাদ দে না। ছেলেটাকে প্রতিদিন না ভ্যাংচালেই কি নয়?(ফাহিম)
- দেখ,আমাকে আর কখনো বড়লোক বললে আমি আর কখনো আসবো না।(অভিমানের সুরে বললো সজল)
- আচ্ছা বলবো না।এবার হয়েছো তো!এবার বোস।দেখ তানিশা কি বলে?তোর জন্য এখনো আমাদেরকে বলে নি।(শাম্মী)
- আচ্ছা ঠিক আছে।
অতঃপর সজল বসে পড়লো।
.
- তানিশা বল।কি জন্য ডেকেছিস? (সজল)
- আগে তোরটা বল। (তানিশা)
- আগে তোরটা।
- এভাবে তোরটা তোরটা না বলে একজন বললেই তো হয়।(ফাহিম)
- হুম।(শাম্মী)
- ওকে আমিই বলছি আগে।(তানিশা)
- হুম বল।(শাম্মী)
- আমার মামাতো ভাই নয়ন।পুরো নাম নাইমুল ইসলাম নয়ন।বিদেশে থেকে লেখাপড়া করছে।আগামী ২ মাস বাদেই নাকি ওর লেখাপড়া শেষ।তারপর দেশে চলে আসবে।গতকাল মামা আর বাবা দুজনে আলাপ করছিলো নয়ন ভাইয়ের ব্যাপারে।মামা আমাকে নয়ন ভাইয়ের বউ করে ঘরে তুলতে চায়।বাবাও রাজি।আসলে তোদের আমি একটা কথা বলি নি জানিস! নয়ন ভাইকে আমি ছোটবেলা থেকে পছন্দ করতাম। আমার স্বপ্নটা সত্যিই হতে চলেছে।
- তাই নাকি? যাক বাবা অনেকদিন পর একটা বিয়ে খাওয়া যাবে।(ফাহিম)
- তোর বিয়েতে কিন্তু আমরা অনেক মজা করবো। (শাম্মী)
.
তানিশার কথা শুনে সত্যিই অবাক সজল।কি বলবে নিজেই ভেবে পাচ্ছে না।ভিতরটা যেন তার ফেটে যাচ্ছে।হৃদয়ের একটা কোনা যেন খালি হয়ে গেল।তাই তো মাথা নিঁচু করে বসে থাকলো বাকি তিনজনের সাথে।
- কি রে সজল? কি হলো তোর? হঠাৎ চুপসে গেলি যে।(শাম্মী)
- আরে নাহ।শরীরটা খারাপ লাগছে রে।মনে হয় জ্বর আসবে।(সজল)
- ওকে তোর কথাটা এবার বল।(তানিশা)
- থাক না তানিশা।আমার ভালো লাগছে না।(সজল)
- তুই তো বলেছিলি এখানে আসলে বলবি।(তানিশা)
- কিছু কথা মনের গহীনে লুকায়িত থাকাই শ্রেয়।সেখানেই সে বেশি সুশোভিত।
কথাটা বলেই এক হৃদয় কষ্ঠ নিয়ে উঠে যাচ্ছে সজল।চোখ যেন তার ছলছল করছে।
- কই যাস? ক্লাস করবি না? (ফাহিম)
- না রে।আজ তোরা কর।
.
অতঃপর ভার্সিটি থেকে বেড়িয়ে আসলো সজল।বাইরের দোকান থেকে একটা সিগারেট কিনে নিলো।যদিও সে এসব বেশি খায় না।তবে বন্ধুরা থাকলে দু একটান দিতেই হয়।
আজ সে পুরোটা খাবে।পুড়িয়ে দিবে হৃদয়ের সেই প্রান্তর,যেখানে সে তানিশাকে রেখেছিলো।অতঃপর নিকোটিনেরর ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে রাস্তার প্বার্শ দিয়ে আনমনে হাঁটতে লাগলো সজল।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)

.
গল্পঃ মায়ের প্রতি ভালোবাসা
.
.
.
মেসে বসে ভাবনার রাজ্যে ব্যস্ত ছিলো নয়ন। এ মাসে খাওয়ার টাকা এখনো দেয়া হয় নি।অনেকের কাছেই সে অল্প অল্প করে টাকা কর্জ নিয়ে চলেছে।হাতে একদমই টাকা নেই।চাকরিটা চলে গেছে গত মাসেই।মাকেও টাকা পাঠানো হচ্ছে না।হয়তো অনেক কষ্ঠে আছে তার মা সাহেরা বানু।তারপরও তিনি তার কষ্ঠের কথা বলেন নি।মাকেও জানায় নি যে,তার চাকরিটা চলে গেছে।চাকরিটা চলে যাওয়ার পর থেকে আরেকটা চাকরির চেষ্ঠা করে চলেছে প্রতিনিয়তই।কিন্তু কোথাও যেন একটা চাকরিই হয়ে উঠছে না।এমন সব কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তার মায়ের ফোন,
.
- আসসালামু আলাইকুম মা।
- ওয়ালাইকুম আসসালাম।কেমন আছিস বাবা?
- জি মা।আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।তুমি কেমন আছো মা?
- হ্যাঁ বাবা,আমিও আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি।তুই কি বাড়িতে আসবি না?
- হ্যাঁ মা আসবো।খু্ব ইচ্ছে হচ্ছে বাড়ি যেতে।
- আয় না বাবা।তোকে দেখতে খু্ব ইচ্ছে হচ্ছে।
- জ্বি মা।রিহান কেমন আছে?
- ওর কথা বলিস না বাবা।সারাদিন টইটই করে কোথায় কোথায় যে যায়।রাতে ছাড়া একদম পড়তে বসে না।একটা কথা বলতাম বাবা।
- হ্যাঁ মা বলো।
- আমার চশমাটা ভেঙে গেছে কয়েকদিন হলো।তোর কাছে তো আমার প্রেসক্রিপশনটা আছে।যদি নতুন একটা আনতিস তাহলে ভালো হতো।
- তুমি আগে বলবা না তোমার চশমা ভেঙে গেছে।চশমা ছাড়া তো তুমি ভালোভাবে দেখতে পারো না।আগে বললেই তো হতো।
- না মানে যদি তোর কাছে টাকা না থাকে সেজন্য বলি নি।মাস তো শেষ সেজন্য বললাম।
- মা আমি তোমার সন্তান।অনেক কষ্ট করে তুমি আমাদের মানুষ করেছো।লেখাপড়া শিখিয়েছো।তুমি অনেক কষ্ঠ করেছো আমাদের জন্য।তুমি তোমার ছেলেদের কাছে চাইতে লজ্জাবোধ করো কেন? আমি আগামী পরশুই বাড়িতে যাবো তোমার চশমা নিয়ে।
- ঠিক আছে বাবা।তুই কি খেয়েছিস?
- না মা এখনো খাই নি।কেবল নামায পড়ে আসলাম।কি রান্না করেছো মা?
- কচু শাক আর আলু ভর্তা।
- মা বাড়িতে গেলে কিন্তু কচু শাক রান্না করবে।তুমি তো জানো কচু শাক আমার খুব প্রিয়।
- হ্যাঁ বাবা।করবো।আচ্ছা থাক।শরীরের দিকে নজর দিস।অনিয়ম করবি না কিন্তু।
- আচ্ছা মা,দোয়া করবে কিন্তু।
অতঃপর ফোনটা কেটে গেল।
.
রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লো নয়ন।শুয়ে পড়লে কি হবে! চোখে যে তার ঘুম নেই।শুধু একটাই চিন্তা,কেমন করে মায়ের জন্য চশমা কিনা যায়।অতঃপর মনে পড়তে লাগলো,সেই ছোট বেলার কথা।যখন তার মা সাহেরা বানু অনেক কষ্ঠে তাকে ও তার ছোট ভাইটাকে মানুষ করেছে।কারন তার বাবা তার বয়স যখন ১২ বছর তখনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।সে সময়ের অভাব অনাটনের কথা মনে হলে এখনো তার গা শিহরিত হয়ে ওঠে।
.
যেভাবেই হোক তাকে তার মায়ের জন্য চশমা কিনতেই হবে।এভাবে ভাবতে ভাবতে অর্ধেক রাত্রি কাটিয়ে দিলো নয়ন।অবশ্য শেষ রাত্রিতে একটু ঘুমিয়ে ছিলো বটে।
এভাবেই রাত্রিটা কেটে ভোর হয়ে যায়।নয়ন ওজু করে নামায আদায় করে আল্লাহর দরকারে তার মায়ের জন্য দুয়া করে দুহাত তুলে।
.
সকালে কিছু মুখে দিয়ে টাকার সন্ধানে বেড়িয়ে পড়ে নয়ন।যারা পরিচিত তাদের কাছে যান,যাতে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।নাহ! কোন মতেই একটা চাকরি পাওয়া গেল না আজও।
সারাদিনের ক্লান্তি শেষে অবশেষে ব্লাড ব্যাংকে দু ব্যাগ রক্ত বিক্রি করে কিছু টাকা পায় নয়ন।
সেই টাকাটা হাতে পেয়ে কিছুটা স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলে সে।অতঃপর মায়ের জন্য একটা চশমা নিয়ে মেসে ফিরে আসে।
.
পরদিন,
নয়ন কিছুক্ষণ আগে বাড়িতে চলে এসেছে।মায়ের হাতে সোপর্দ করেছে চশমাটা আর কিছু কমলা আর আঙ্গুর ফল।ছেলের কাছে এগুলো পেয়ে বেশ খুশি সাহেরা বানু।মলিন মুখটা যেন তার খুশিতে ভরে উঠে।ছেলেকে বুঁকে জড়িয়ে ধরে কিছুটা আদর করেন ছেলেবেলার মতো।নয়নেরও তার মায়ের খুশিতে আনন্দিত হয়ে ওঠে।ভুলে যায় তার কষ্ঠের কথা,তার চাকরি চলে যাওয়ার কথা।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)

.
গল্পঃ শাস্তি
.
.
.
পড়ার টেবিলে বই পড়ছিলো তানিশা।সামনে তার ইন্টার ফাইনাল পরিক্ষা।টেষ্ট এক্সাম চলছে।আগামীকালই শেষ হবে।আগামীকাল আইসিটি সাবজেক্ট। সেজন্য একটু বেশিই পড়ছিলো সে।কারন সাবজেক্টটা একটু কঠিন মনে হয় তার কাছে।নাহ,এভাবে পড়লে মাথা কয়েক দিনেই মাথা নষ্ট হয়ে যাবে।তাই তো চিন্তা ভাবনা করলো,আগামী ১০ দিন কোন বই খুলবে নাহ।আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি ফেসবুক আর ঘুম নিয়েই ব্যস্ত থাকবে ।অবশ্য পড়তে পড়তে যখন একটু বোরিং লাগে তখন টুপ করে মোবাইলটা অন করে ফেসবুকে ঢুকে পড়ে।কিছুক্ষণ চালানোর পর আবারো পড়াশুনাতে মনোযোগ দেয়।এভাবেই তার বেশ চলছে।
.
তারই ধারাবাহিকতায় মোবাইল ফোনটা অন করে আইডিটা লগ ইন করে,সজলককে মেসেজ দেয়,
"আগামীকাল একটু দেখা করবা? অনেকদিন তোমারে দেখি না।"
মেসেজটা দিয়ে ফেসবুকের জগত থেকে বেরিয়ে পড়ে তানিশা।ওহ! বলাই হয় নি,সজল তানিশার ভালোবাসার মানুষ।দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসে। পরীক্ষা যাতে খারাপ না হয় সেজন্য সজল তানিশার সাথে সব যোগাযোগ আপাতত বন্ধ রেখেছে।তানিশা আর সজলের সম্পর্কটা
উভয়ের পরিবারের জানা।কারন দুজনে মামাতো ফুফাতো ভাই-বোন।তাছাড়া পারিবারিক ভাবে উভয়ের পরিবারের মত আছে সম্পর্কটাকে পরিনয়ে রুপ দিতে।
.
তানিশার মেসেজ পেয়ে সরাসরি ফোন দেয় সজল।
"আসসালামু আলাইকুম" বললো সজল
"কেমন আছো?" সজলের সালামের উত্তর না দিয়ে বললো তানিশা।
"তুমি কি আমার সালামের জবাব দিয়েছো?" কিছুটা রাগান্বিত স্বরে বললো সজল।
"নাতো দেই নি।" বললো তানিশা।
"কেন দিলে না?তোমাকে না কতবার বলেছি এ কথা" পুনরায় বললো সজল।
"সরি বাবু,আমার ভুল হয়েছে।আর হবে না।" ভুল স্বীকার করলো তানিশা।
"না হলেই ভালো।আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুক।" বললো সজল।
"শোনো তোমাকে যেজন্য মেসেজ দিয়েছিলাম,কাল একটু দেখা করতে পারবা? দরকার ছিলো। " বললো তানিশা।
"তোমার তো মনে হয় পরীক্ষা এখনো শেষ হয় নি।আগে শেষ হোক তারপর না হয়।" (সজল)
"আরে নাহ, কালকেই পরীক্ষা শেষ।সেজন্য তো বলছি।আমি তো আমার ক্যারিয়ার নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। আসবে তো?" (তানিশা)
"হুম আসবো।রাতে খেয়েছো?" প্রশ্ন করলো সজল।
"হুম খেয়েছি,তুমি খেয়েছো?" উত্তরের সহিত পুনরায় প্রশ্ন তানিশার।
"না এখনো খাই নি।কেবল নামায পড়ে আসলাম।তুমি নামায পড়েছো তো?" প্রশ্ন করলো সজল।
"ইয়ে,মানে ইয়ে মানে!"(তানিশা)
"কিসের ইয়ে মানে করছো!সত্যি করে বলো,নামায পড়েছো কিনা?" প্রশ্ন করলো সজল।
সজলের প্রশ্ন শুনে কাচুমাচু করে বলতে লাগলো তানিশা
"আসলে পরীক্ষার জন্য ঠিকভাবে হচ্ছে না।পড়া নিয়ে খুব ব্যস্ত আছি তো।"
"বাহ খুব ভালো তো।অনেক ভালো।তোমার দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। তুমি সামান্য পরীক্ষার জন্য নামায ছেড়েছো।অথচ নামায পরকালের পরীক্ষা সবচেয়ে বড় উপকরন।এই দুনিয়াটাই তো একটা পরীক্ষাস্থল।আমরা তো কয়েকদিনের যাযাবর মাত্র।" তানিশার নামায ছেড়ে দেয়ার কথা শুনে গলগল করে সব বলে দিলো সজল।
.
সজল ছেলেটা মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও অনেকটা ইসলামীক পর্যায়ের।তাইতো দাঁড়ি রেখেছে,পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায় করতে কখনোই ভুল হয় না।সজল নিজের থেকে অনেক বেশি ভালোবাসে তানিশাকে।কিন্তু তানিশাকে ভালোবাসার চেয়েও তার কাছে গুরুত্বপূর্নকাজ হচ্ছে ইসলামীক কাজ গুলো নিয়মিতভাবে সম্পাদন করা।তাইতো তানিশাকে সে আগেই এ সম্পর্কে বলেছে।সে বলেছে,তার কাছে যে স্ত্রী হয়ে আসবে তাকে অবশ্যই ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও ধর্মীয় বিষয়বস্তু সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে।তাকে ধর্মীয় কাজগুলো যথাসম্ভব মেনে চলকে হবে।
.
"প্লিজ তুমি রাগ করো না।আমার সত্যিই বড় ভুল হয়েছে। আর কখনো আমি নামায ছেড়ে দেবো না।তুমি যা বলবে সে হিসেবে চলার চেষ্ঠা করবো।" কথাগুলো বলে সজলের রাগ ভাঙানোর চেষ্ঠা করলো তানিশা।
তানিশার এমন কথাতে সজলে বললো, "দেখ,তুমি বললে তুমি তোমার ক্যারিয়ার সম্পর্কে খুবই সচেতন।অথচ কুরআনের আলোকে এ জীবনটা অতি নগন্য।দুনিয়াটা মানুষের জন্য খেল তামাসা মাত্র।যে ব্যক্তি খেল তামাসা থেকে বের থেকে পারবে না সে অন্ধকারেই পরে রবে।
আর যে খেল তামাসা থেবে বের হতে পারবে সেই সফলকাম।শোনো,যতক্ষণ পর্যন্ত পুনরায় তুমি ইসলামীক কার্যাবলী সমূহ পুনরায় আদায় করতে পারবে না ততদিন আমি তোমার সাথে কোন যোগাযোগ রাখবো না।নিজেকে শুধরে নেয়ার চেষ্ঠা করো।ভালো থেকো।" কথাগুলো বলে ফোন কেটে দিলো সজল।তার ধারনা তানিশাকে একটু শাসন না করলে সে এসবের উপর থেকে বেঁকে যেতে পারে।তাইতো ছোট্ট এই শাস্তি।
.
এদিকে তানিশা নিজের ভুল বুঝতে পেরে সত্যিই খুব অনুতপ্ত।মনে মনে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলো তার কৃতকর্মের জন্য।অতঃপর খুশি হলো এই ভেবে যে, তার ভালোবাসার মানুষ তাকে সত্যিকারের শাসন করতে শিখেছে।সেজন্য মনে মনে আল্লাহর দরবারে বলে উঠলো,আলহাদুুলিল্লাহ।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)

.
""মেঘে ঢাকা সূর্য ""
.
.
.
"কাল থাইকা আমার লগে ক্ষেতে যাবি নয়ন।তোর আর স্কুলে যাতি হবে না।"
কথাগুলো অনেকটা বিরক্তির সহিত বললেন হাসু মিয়া।উদ্দেশ্য তার বড় ছেলে নয়ন।হাসু মিয়া আর চান না নয়ন স্কুলে যাক।কারন তিনি আগের মতো আর অন্যের জমিতে কাজ করতে পারেন না।অনেকটা বয়স হয়েছে তার।তাই তো অভাব-অনাটন সংসারে লেগেই আছে।
.
দুবেলা গরম ভাত পেট পুরে খেতে পারে না হাসু মিয়া ও কার পরিবার।এরই মাঝে যদি নয়ন তার লেখাপড়া চালিয়ে যায় তাহলে যেটুকু কপালে ছিলো তা অর্ধেক হয়ে যাবে।দূর্ভিক্ষ নেমে আসবে তার সংসারে।
তাই তো এসময়ে যদি নয়ন লেখাপড়া ছেড়ে তার বাবাকে সাহায্য করে তাহলে সংসারে কিছুটা উন্নতি পরিলক্ষিত হবে।বাপ-বেটার আয়ে ভালো মতোই সংসার চলবে।দুবেলা পেট পুরে গরম ভাত খেতে পারবে হাসু মিয়ার পরিবার।
.
"কি কও বাজান! আমার দুমাস পর এসএসসি পরীক্ষা।আমাকে ভালো করে পড়তে হবে এসময়ে।তা না হলে ভালো রেজাল্ট করবো কেমন করে!" অনেকটা আশ্চর্য হয়ে উত্তর দিলো নয়ন।
.
"আমি বলছি ব্যস,কাইল থাইকা আমার লগে ক্ষেতে যাবি।পড়াশুনা করে আর কাম নাই।হিসাব করতে পারলেই হলো।আর এটাই আমার শেষ কথা।" গামছাটা ঘাড়ে দিয়ে রাগান্বিত হয়ে মসজিদের উদ্দেশ্য রওয়ানা হলেন হাসু মিয়া।কারন সবে মাত্র তিনি ক্ষেত হতে ফিরে এসেছেন।এদিকে চারদিকে মাগরিবের আযান হচ্ছে।নয়নও বইগুলো বন্ধ করে বাবার পিছনে পিছনে মসজিদের দিকে রওয়ানা দেয়।
.
বাবার কথাগুলো বেশ মাথায় ঘোরাঘুরি করছে নয়নের।কিছু ভাবতে পারছে না সে কি করবে! হঠাৎ চোখের কোনা দিয়ে জল পড়তে থাকে টপটপ।তাইতো পরনের পুরনো গেঞ্জিটা দিয়ে মুছে রাত্রে আবার পড়তে বসে।নাহ! সে তার স্বপ্নকে মুছে যেতে দেবে নাহ।যে করেই হোক তাকে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।তার স্বপ্নকে সে বাস্তবে রুপ দিবেই।সেজন্য যা কিছু বিপদ আসুক না কেন সেটি সে কঠোর হস্তে দমন করতে প্রস্তুত।
.
পরদিন সকাল বেলা পান্তা খেয়ে বাবার সাথে ক্ষেতে যায় নয়ন।ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে বাবার দিকে।কিন্তু হাসু মিয়ার এক জবাব, সংসার যাতে ভালো মতো চলে।সেজন্য যা করার প্রয়োজন তিনি করতে প্রস্তুত।তার মনের ধারনা লেখাপড়া গরীবদের জন্য নয়।তা কেবল ধনীদের ক্ষেত্র প্রযোজ্য।
গরীবদের মানুষের মতো মানুষ হওয়া কেবলই স্বপ্ন বৈ আর কিছুই নয়।
.
থেমে থাকতে চায় না নয়ন।বাবার সাথে ক্ষেত থেকে ফিরে নামায আদায় করে বই নিয়ে পড়তে বসে নির্জনে।সামনে হয়তো জ্বালানো থাকে কুপি।যখন বাড়ির সবাই সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ক্লান্ত,পরিশ্রান্ত মনে ঘুমে কাতর,ঠিক তখনি বই নিয়ে ব্যস্ত নয়ন।তার স্বপ্নটি এখনো কুপির মতো নিভু নিভু।
.
যেকোন সময় নিভে যেতে পারে।কিন্তু অনেক চেষ্ঠার মাধ্যমে আগলে রেখেছে নয়ন।যাতে কখনোই কুপি ও তার স্বপ্ন কখনোই নিভে না যায়। একটাই উদ্দেশ্য তাকে মানুষের মতো মানুষ হতেই হবে।আর দশজনের মতো বাঁচবে মাথা উঁচু করে।যেখানে থাকবে না কোন কষ্ট বা ক্লান্তি।এক ফালি চাঁদ হাসি দিয়ে ডাকবে।মেঘে ঢাকা সূর্যটি মেঘের খোলস থেকে বের হয়ে চারদিক আলোকিত করে তুলবে।সমাজ হবে আলোয় আলোকিত।
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম(কাশফুল)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ