.
গল্পঃ ১টা রুটি
.
.
.
- ভাইজান একটা রুটি দিবেন? সকাল থাইকা কিছুই খাই নাই।(দোকানদারের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে কথাটা বললো নিরব।)
- টাকা নিয়া আসছিস? (দোকানদার)
- না ভাইজান,আমার কাছে তো এখন টাকা নাই।
- টাকা নিয়া আয়।টাকা ছাড়া ফাও জিনিষ দিমু নাহ।
- দেন না ভাইজান,খুব ক্ষিধে পাইছে।
- বললাম না ফাও জিনিষ দিমু না।যা ভাগ।
- পরে না হয় টাকা দিয়ে দিমু।দেন না ভাইজান।
- তোরে আমি চিনি নাহ।তোরে বাকিতে জিনিষ দিমু নাহ।যা যা,কেটে পর।
.
বারবার আকুতি করা সত্বেও দোকানদার একটা রুটি দিলো না।তাকিয়ে আছে রুটির দিকে। পেটে তার প্রচন্ড ক্ষিধে।ছেলেটির নাম নিরব।নিরব নাম হলেও আসলেই সে নিরব।কাজ-কর্ম,কথা বার্তা ইত্যাদিতে।বাবা নেই।মা অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পরে আছে।তাইতো খাবারের সন্ধানে এদিক থেকে সেদিক ছুটছে নিরব।
.
নিরব অপেক্ষা করছে একটা ছোট মূহুর্তের।হঠাৎ সুযোগ বুঝে একটা রুটি নিয়ে দৌড় দিলো।দোকানদারও চোর চোর বলে চেঁচাতে চেঁচাতে নিরবের পিছনে দৌড় দিলো।নিরব ছুটছে তো ছুটছে।পিছনে তাকানোর শক্তি নাই।মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে থাকে নিরব।কিন্তু নাহ! কোন ক্রমেই কাজ হলো না।দোকানদার নিরবকে ধরে ফেললো।
.
নিরবকে ধরেই তিন চারটা চড়,কিল দিয়ে রুটিটা কেড়ে নিলো।
- ভাইজান,অনেক তো মারলেন,এবার রুটিটা না হয় আমারে দেন।আমার অসুস্থ মা বিছানায়। আমিও কিছু খাইনি।দয়া করুন ভাই,দয়া করুন।
- আরো রুটি দিমু তোরে? আমারে কি পাগলা কুত্তার কামড়াইছে নাকি?
.
অতঃপর আরো কয়েকটা চড়,কিল বসিয়ে দিলো নিরবের গায়ে।আশেপাশে অনেক মানুষ জমায়েত হয়েছে।সবাই শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে।কেউ কোন প্রতিবাদ করছে না।নির্ চারদিকে তাকায় কিন্তু কাউকে দেখতে পায় না।তাইতো কাঁদতে থাকে।
.
এমন সময় এক ব্যক্তি ভীর ঠেলে ভিতরে ঢুকর পরে।
- এই যে ভাইজান,ছেলেটাকে আপনি মারছেন কেন?
- মারছি কি আর সাধে! দোকান থেকে রুটি চুরি করে পালাচ্ছিলো।তাই মারছি।
- একটা রুটির জন্য এভাবে তাকে মারতে পারলেন আপনি? দেখছেন না ছেলেটা কত ছোট!
- আমি এসব বুঝি নাহ।ওহ কেন চুরি করলো?
- ওকে ওকে,যদি আপনার ছেলে চুরি করতো! তাহলে কি পারতেন এভাবে পিঠাতে?
- আমার ছেলে কখনোই এভাবে চুরি করবে না।কারন,আমি আমার ছেলেকে নিয়মিত হাত খরছের জন্য টাকা পয়সা দেই।
- আপনি বাবা হয়ে তাকে হাত খরছ দেন।তাই তাকে চুরি করতে হয় না।হয়তো এই ছেলের বাবা নেই।তাই তো ক্ষুধার জন্য চুরি করতে হয়েছে।
- সেটা তো বুঝলাম ভাই।আমরাও তো গরিব মানুষ।আমাদেরকেও অনেক কষ্টে চলতে হয়।
.
অতঃপর লোকগুলো সবাইকে বিদায় দিলেন।দোকানদারের সাথে যিনি কথা বলছিলেন,উনার নাম সামিউল।উনি একজন ছোট চাকুরিজীবি।বাড়িতে যাচ্ছিলেন দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য।এরই মধ্যে ঘটনাটা ঘটেছে।
.
যাইহোক,নিরবকে চুরি করার করান জানতে চাইলো সামিউল মিয়া।নিরব সব কথা বলে কেঁদে দেয়। সামিউল মিয়া নিরবের মাথায় হাত বুলিয়ে একটা হোটেলে নিয়ে যায়।দুজনের জন্য ভাতের অর্ডার দিলেন।নিরব ভাত পেয়ে খাচ্ছে।খুব দ্রুতই খাচ্ছে।
.
খাওয়া শেষ হলে কয়রকটা আপেল,কমলা নিয়ে দিলেন নিরবকে তার মায়ের জন্য।সাথে ১০০ টাকার একটা নোট।নিরব খুব খুশি হয়ে বাড়ির দিকে দৌড় দিলো। সামিউল মিয়া এমন হাসি দেখে তার মন ভরে যায়।মনে মনে ভাবলেন, সবার ভাগ্যে এমন হাসি দেখার সুযোগ হয় না।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
.
গল্পঃ জেদি ভাগিনী
.
.
.
ইন্টার টেষ্ট পরিক্ষার পর বোনের বাড়ি গেছিলাম কয়েকদিন থাকবো বলে।আমার একটাই মাত্র বোন।নাম শাহানা।অবশ্য লেখাপড়ার জন্য বেশি থাকা হয় না ওর বাড়ি। যদি যাই তাহলে গিয়েই চলে আসি।তাইতো এবার পণ করলাম ১০ দিন ওর বাড়িতে কাটিয়ে আসবো।
.
বোনের বাড়ি থেকে এসেই ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে।তাইতো সামান্য এই সফর।যেই ভাবা সেই কাজ,আব্বুর কাছে হাজার, বারশো টাকা নিয়ে রওয়ানা দিলাম বোনের বাড়ি।ওর বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে মোটামুটি ৪০ কিলোমিটার। অটোতে যেতে হয়।।।
.
বোনের বাড়িতে বোন আমাকে দেখে মহা খুশি।আরো বেশি খুশি হলো যখন শুনলো ১০ দিন থাকবো। আমার ভাগিনী তো মহা খুশি।এই তো ওর সুযোগ! হয় কোলোয় করে কিংবা কাঁধে চড়ে ঘুরে বেড়ানো। একমাত্র ভাগিনী,তাই রাগ করতে পারি নাহ।
.
ভাগিনীর নাম জাকিয়া।ডাক নাম জুতি।বয়স ৪ বছর।স্কুলে যায় না।ওর আম্মু ওকে বাড়িতে অল্প অল্প করে পড়ায়।বেশ চলছিলো ওদের বাড়িতে।খাওয়া-দাওয়া হৈ হুল্লুরে।এভাবে দুটো দিন চলে গেল।
.
সন্ধ্যার পর আপুর সাথে আঙিনায় বসে গল্প করছি।আমাদেে সাথে আরো যোগ দিয়েছে পাশে বাড়ির আরো দুজন।বেশ জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছি।এমন সময় জুতি এসে আমার কোলোয় বসে পড়লো।আর বলতে লাগলো,
.
- মামা জানো,আমার না পরশুদিন জন্মদিন।
- ওহ,তাই।
- হুম মামা।আম্মুকে জিজ্ঞেস করে দেখ।আমি না আমার বন্ধু বান্ধুবীদের দাওয়াত দিয়েছি।আব্বু না কেক নিয়ে আসবে।
.
ওর কথায় ওর আম্মু কিছুটা সায় দিলো।তাতেই মনে হলো জুতির কথা সত্যি।আমার তখনি খুব হাসি পেল,যখন শুনলাম ওর বন্ধু বান্ধুবীদের দাওয়াত করেছে।এতটুকু মেয়ে,তার আবার বন্ধু-বন্ধুবী!
.
- মামা,মামা,তুমি আমাকে কি গিফট দিবা আমার জন্মদিনে?
- তুমি যা চাইবে তাই দিবো আম্মু।
- সত্যি বলছো তো?
- হুম,সত্যি সত্যি সত্যি।
- তাহলে আমাকে তারা এনে দিবা।
- তারা! (কিছুটা আশ্চর্য হয়ে গেলাম।মেয়ে বলে কি!)
.
কথাটা বলেই দৌড়ে চলে গেল ওর দাদীর ঘরে।আমি পড়লাম বিপদে।জন্মদিনে (গল্পের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে।যদিও তা জায়েজ নয়।) আমি তারা কোথায় পাবো?এমনিতেই জুতি ছোট।একবার কোনো জিনিষ চাইলে না নিয়ে সে ক্ষান্ত হবে নাহ।
.
খুব ভাবতে লাগলাম আমি।কি থেকে কি হয়ে গেল! তারা আমি কোথায পাবো? অন্য গিফট দিলেও তো সে নিবে না।ভাবতে ভাবতে একটা দিন পার করে দিলাম।হঠাৎ জন্মদিনের আগে রাত্রে একটা আইডিয়া মাথায় খেললো।
.
জন্মদিনের দিন.........
- মামা মামা,আমার তারা কই? (জুতি)
- তোমার তারা আছে আম্মু।
- কোথায়? তাড়াতাড়ি দাও।আমি তারা দিয়ে খেলবো।
- ওকে চলো।
.
তারপর জুতিকে কেক কাটার ঘরে নিয়ে গেলাম।ঘরটা বেশ সুন্দর করে সাজিয়েছি।অনেকগুলো প্লাস্টিকের তারা সাজিয়ে দিয়েছি।চারদিকে শুধু চকমক চকমক করছে।
- মামা এগুলো তো আকাশের তারা নয়। (জুতি)
- মামনি,এগুলো তারা।তুমি এগুলো দিয়ে খেলতে পারবা।আকাশে দেখবা ছোট ছোট তারা।আর এগুলো দেখ বড় বড়।এগুলো দেখ সুন্দর!
- না না।আমি আকাশের তারাই নিবো।এগুলো নকল তারা।আমাকে আকাশের তারাই এনে দাও।
.
অতঃপর শুরু হলো কি কান্না।অনেক গিফট দিবো,এটা দিবো, সেটা দিবো বলেছি।তবুও তার মন গলে নি।আমি পড়লাম মহাবিপদে।জীবনের প্রথম এতো দিন কারো বাড়িতে থাকার প্লান নিয়ে আসলাম।তাতেই কি গন্ডগোল।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)
.
(পুরোটাই কাল্পনিক)
.
গল্পঃ মিষ্টি বউ
.
.
.
স্বপ্ন দেখছিলাম।আহা কি সুন্দর স্বপ্ন! সুন্দরী এক অপরুপার হাতে হাত রেখে ঘুরে বেড়াচ্ছি দিব্যি।কি রোমান্টিক মূহুর্ত! সুন্দরী আমার দিকে তার অপলক চোখে তাকিয়ে আছে। আর আমিও তার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি।হঠাৎ পানি ঢালার শব্দ পেলাম।
.
তড়িঘড়ি করে উঠে দেখলাম সাফা আমার গায়ে পানি ঢালছে।সাফাকে দেখেই আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম। হায়রে এতোক্ষণ বুঝি তাহলে স্বপ্ন দেখছিলাম।মনটাই খারাপ হয়ে গেল।স্বপ্নে দেখা সুন্দরী অপরুপা ছিলো।
.
- কি ব্যাপার সাফা! তুমি এখানে কেন? পানিই বা ঢালছো কেন? (আশ্চর্যের সাথে বললাম আমি।)
- বেলা কয়টা বাজে তুমি জানো? (রাগে গদগদ করতে করতে উত্তর দিলো সাফা)
- আজকে ছুটির দিন।একটু বেশি ঘুমুলে কোন ক্ষতি হবে না।
- ছুটির দিন তো কি হয়েছে? বাজারে যেতে হবে না? একটা ফোঁটা তেলও নেই।উঠ তাড়াতাড়ি।
- উঠছি বাবা উঠছি। (মনে মনে খুব রাগান্বিত হলাম)
.
আমি শেখ হৃদয়।একটা কোম্পানিতে ছোটখাটো চাকরি করি।সাফা আমার স্ত্রী।পুরো নাম সুমাইয়া জান্নাত সাফা।মেয়েটা বেশ ভালো,তবে রেগে গেলে যা তা করে বসে।এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।দুজনে একটা ভাড়া বাড়িতে থাকি।
.
যাইহোক,বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে চলে গেলাম বাজারে।সাফা লম্বা একটা লিষ্ট ধরিয়ে দিয়েছে আমায়।সাথে যা টাকা দিয়েছে তাতে কিছু বাঁচাতে বলেছে।বোনের বাড়িতে নাকি মিষ্টি নিয়ে যাবে।পেটে প্রচন্ড ক্ষিধে নিয়ে হাঁটছি তো হাঁটছি। এমনিতেই আমি বাজারে যাওয়া তেমন পছন্দ করি নাহ।তারপর আবার বারেক গেছে দেশের বাড়ি। বারেক আমাদের কাজের ছেলে।বারেকই প্রতিদিন বাজারে যায়।
.
হাঁটছি আর মনে মনে বারেক ও সাফাকে গালি দিচ্ছি। বন্ধের দিনও একটুও ছাড় নেই।চোখে মুখে হতাশার ছাপ।কেন যে ভুল করে বিয়ে নামক একটা ৫০০ কেজি ওজনের বোঝা ঘাড়ে নিলাম! এখন তো আমি নামাতেও পারি নাহ।
.
যাইহোক বাজারে গিয়ে যা দেখলাম তা বর্ণনাতীত। এতো মানুষ! কারণ, একটাই আজকে ছুটির দিন।আমার কাছে খুব আশ্চর্যের হলেও এটাই বাস্তবতা।ভীরের মধ্যেও ব্যাগ ভর্তি করে বাড়িতে ফিরলাম।বাড়িতে এসেই হাতমুখ ধুয়ে বিছানায় বসে সকালের নাস্তা খেতে লাগলাম।
.
-কোথায় গেলে তুমি? (রান্নাঘর থেকে জোরে জোরে চিৎকার দিতে থাকে সাফা)
- কেন ডাকছো? নাস্তা খাচ্ছি।
- লেটুস পাতা কই?
(লেটুস পাতার কথা শুনে জিহ্বাতে ছোট একটা কামড় দিলাম।ওহ ভুলে ওটা আনিনি।অবশ্য লিষ্টে জায়গা ছিলো নাহ।তাই মুখে বলে দিয়েছে।এবার বুঝি চৌদ্দটা বাজাবে আমার।)
.
মুখ তুলতেই দেখি তরকারি নেড়া বড় চামুত ওর হাতে।ওকে দেখেই মুখটা ঘুরালাম আমি।এসময় খুব রেগে আছে।আরো যদি কিছু বলি এখন তাহলে চামুচ দিয়ে ঢিল দিবে। দোষটা তো আমারই।তাই চুপ।
.
সাফা একটু রাগী হলেও নিয়মিতভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া মিস করে নাহ।ধর্মীয় অনুশাসনগুলো মেনে চলার চেষ্টা করে সবসময়। আমাকেও মাঝে মাঝে বুঝায়।
.
- লেটুসপাতা কই? মাথা ঘুরিয়ে রেখেছো কেন?
- আসলে ভুল হয়ে গেছে।এই দেখ কানে ধরছি।আর ভুল হবে না।
(কথাগুলো বলছিলাম আর আস্তে আস্তে সাফার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম।ওর পাশে গিয়ে দাড়িয়ে পড়লাম কান ধরে।মিষ্টি করে একটু হেসে দিলো সাফা।আমি ভাবলাম,যাব রাগটা কমেছে।আরো কমাতে হবে।তাই ওকে জড়িয়ে ধরলাম।)
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)
.
গল্পঃ পরোপকারী
.
.
.
- দোস্ত দেখ দেখ, ছেলেটা কি ভিতু টাইপের। (রাইমন)
- হুম দোস্ত, নতুন এসেছে আমাদের ক্লাসে। (সাদ)
- আমাদের ক্লাসে এসেছে মানে?(রাইমন)
- মানে আবার কি! আমাদের ক্লাসে নতুন ভর্তি হয়েছে।(সাদ)
- কই আগে তো কখনোই দেখি নি!
- তুই দেখবি কি করে? কয়দিনই বা স্কুলে আসিস।তুই তো খালি পারিস টইটই করে ঘুরে বেড়াতে। (সালমান)
- যা বলেছিস সালমান। (সাদ)
- দোস্ত ছেলেটা হাবাগোবা টাইপের।কারো সাথে ভালো করে কথাও বলে না।মনে হয় ছেলেটা গরিব। (সালমান)
- রাখ তোর গরিব ধনি।চল একটু মজা নেই ছেলেটার সাথে।(রাইমন)
- মজা নিবি কিভাবে? (সাদ)
- তোরা চল না।আমি কি করি তাই দেখ। (রাইমন)
.
রাইমন,সাদ,সালমান একই ক্লাসে পড়ে।ক্লাস সেভেনে।তিনজনে দুষ্টু প্রকৃতির হলেও,খুব ভালো সম্পর্ক ওদের।তিনজই প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান।স্টুডেন্ট হিসেবে সাদ মোটামুটি ভালো।রাইমন তেমন একটা ভালো না।আর সালমান! সে বানিয়ে বানিয়ে লিখে কোনমতে পাশ করে যায়।
.
রাইমন,সাদ,সালমান যে ছেলেটিকে নিয়ে এতক্ষণ কথা বলছিলো,তার নাম ফাহিম।ফাহিম শহরে নতুন এসেছে।মায়ের সাথে।বাবা গত তিন মাস আগে গত হয়েছে।জীবনের তাকিদে বস্ততি এসে উঠেছে ওরা।ফাহিমের মা সাহেরা বানু অনেক কষ্টে গার্মেন্টস এ একটা চাকরি পেয়েছে।তিনি স্বপ্ন দেখতেন ফাহিমকে নিয়ে।ফাহিমকে ঘিরেই তাে সব আশা ও ভালোবাসা।
.
- কি রে নতুন এসেছিস বুঝি? (বেঞ্চের উপরে বসে ফাহিমকে জিজ্ঞেস করতে থাকে রাইমন।)
- জি ভাই, আমি নতুন এসেছি। (নরম গলায় উত্তর দিলো ফাহিম)
- থাকিস কোথায়?
- বস্তিতে।
- বস্তিতে!
(কথাটা শুনে ৩জনই হাসতে লাগলো।৩জনের হাসা দেখে কোন কারন ছাড়াই ক্লাসের সবাই খিলখিল করে হাসতে থাকে। এতে কোনরুপ লজ্জা পায় না ফাহিম।কারন যেটা তার প্রাপ্য সেটাই তো বলেছে।এতে দোষের কি!
.
দুষ্টদের সাথে কোনরুপ আর কথা বলছে ইচ্ছে হয় না ফাহিমের।চুপ করে মাথা নিচু করে বসে আছে।মনে হয়,চোখে জল চলে আসবে।
- কি রে,তোর বাড়িতে কে কে আছে? (সাদ)
- বাড়ি বলছিস কেন? বল বস্তিতে। (রাইমন)
- ওহ হ্যাঁ,সরি সরি। (সাদ)
.
এভাবেই চলতে থাকে একেরপর একদিন।সবার সাথে ভালো পরিচয় না হলেও দু একজনের সাথে তার ভালো সম্পর্ক হয়েছে।যদিও বেশি কথা বলাকে সে পছন্দ করে না।
.
এভাবে দেখতে দেখতে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলে আসে।পড়াশোনা আরো ব্যস্ত হয়ে পড়ে ফাহিম।যে করেই হোক,ভালো ফলাফল করে তাকে প্রমান করতে হবে বস্তির ছেলেরাও পারে।এদিকে তিনবন্ধুর দুষ্টুমি থেমে থাকে নি।প্রতিদিনই কোন না কোন দিক দিয়ে হেয় করে ফাহিমকে।ফাহিম শুধু মুখ বুঝে সব সহ্য করে নেয়।
.
আজ প্রথম পরীক্ষা। বিষয় ইংরেজি প্রথম পত্র।
ক্লাসে স্যারের কথাগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতো ফাহিম।যেগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ন সেগুলো দাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।ফাহিম তার সবটাই পড়ে এসেছে।প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর,সারা মুখে হাসির প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে তার।তার তো সবই কমন।তাই তো কোনদিকে না দেখে ভালোভাবে লিখতে থাকে।
.
ক্লাসে ভর্তির শেষ রোল হওয়ায় রাইমনে পিছনে ফাহিম।রাইমন কিছু লিখতে পারছিলো না।চারদিকে তাকাচ্ছিলো আর হেল্প চাচ্ছিলো।কিন্তু কেউই তাকে হেল্প করলো না।এমনকি সাদ ও না।শেষ ৩০ মিনিট থাকতে উপায়হীন হয়ে সে ফাহিমের শরনাপন্ন হয়।একটাই শুধু তার অনুরোধ পাস মার্ক।আর সেজন্য এখনো প্রয়োজন ২০ মার্কস।
.
এতোদিনের দুষ্টুমি,অপমানের কথা ভুলে যায় ফাহিম।বিপদে পড়েছে।তাকে তো সাহায্য করতেই হবে।এটিই তার মা তাকে শিখিয়েছেন।ফাহিম রাইমনকে একুরেড মার্কসগুলোর উত্তর বলে দেয়।রাইমন খুশি হয়ে লিখতে থাকে। শেষ অবধি ৬০ মার্কস লিখেছে খুব দ্রুত।যা সে কল্পনাই করতে পারে নি।পাসের চেয়েও ঢের হবে ইংলিশ প্রথম পত্রে।
.
পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে,
- সরি ফাহিম,তোমাকে আমি অনেক জ্বালিয়েছি।আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও প্লিজ।
- আমি কিছু মনে করি নি।আমার যা আছে তাই তো বলেছো।সেটাই সঠিক।
- তারপরও তোমার কাছে যে সাহায্য পেলাম তা কোনোদিন ভুলবার মতো নয়।
- এ আর এমন কি! আমার লেখা শেষ হয়েছে,তাই বলে দিয়েছি।মা বলেন,পরোপকারই একমাত্র ধর্মের বড় গুন।
কথাটা বলে শান্তভাবে বাড়ির পথ ধরলো ফাহিম।রাইমন শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলো।যতই ফাহিমকে দেখছে ততই সে মুগ্ধ হচ্ছে।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)
.
____ ক্ষণিকের অপ্রকাশিত ভালোবাসা ____
.
.
.
নিরব আর তামিম কলেজ ক্যাম্পাসে বসে আছে।দুজনই ভালো বন্ধু। একজনের কথা অন্যজনের সাথে সবসময় ভাগাভাগি করে নেয়।তাদের এই বন্ধুত্ব ছোটবেলা থেকেই।কারন,তারা একই গ্রামের ছেলে।বড়ও হয়েছে একই গ্রামে।এখন লেখাপড়ার তাকিদে শহরে।
.
- দুস্ত জীবনের প্রথম ক্রাশ।আমি তাহারে ভালোবেসে ফেলেছি।(নিরব)
- কি সব যা তা বলছিস? কার উপরে ক্রাশ? কারেই বা তুই ভালোবেসে ফেলেছিস? কোথায় তার বাড়ি? কি করে? (তামিম)
- তুই এতো কথা একসাথে জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিবো কেমন করে? একটা একটা করে বল।
- ওকে বল।তুই ক্রাশ খাইছোস! এটা ভাবতেই কেমন যেন লাগছে রে।
- আমি তাহারে দেখিয়াছি ক্যাম্পাসের সেই ফুলবনে।মৃদ্যু হাসিয়া হাসিয়া কোথায় যেন যাচ্ছিলো।সঙ্গে তাহার বন্ধুবীরা ছিলো।আহা! কি তাহার রুপ! কি তাহার চুল!
- তুই কি পাগল হয়ে গেছিস না? এভাবে কথা বলছিস কেন?
- দুস্ত,আমি পাগল হয়ে গেছি।আমি এ যুগের সেই লায়লার পিছনে এ যুগের মজনু হতে চাই।
- লায়লাটা আবার কেডা?
- আমি মজনু।মজনুর সেই লায়লা।
- পাগলের লগে আর কথা কমু না।কি যে বলতেছিস,আমি কিছুই বুঝতেছি না।তুই বসে বসে মজনু হ,নাকি ফরহাদ নাকি দেবদাস হ,সেটা তোর ব্যাপার।আমি তোর লগে নাই।শালা পাগল।
- আমি মজনু,আমি পাগল।আমি লায়লার জন্য পাগল।
.
আসলে প্রথম বর্ষে অনেকগুলো ভালো ভালো মেয়ে এসেছে।যার মধ্যে একজনকে বেশ ভালো লেগে যায় নিরবের।জীবনে তার এই প্রথম কারো প্রতি ভালোবাসা জন্মেছে।অথচ নিরব শুধু এক পলক দেখেছে মেয়েটা।দেখার সাথে সাথে ভালো লেগেছে।তাকিয়ে ছিলো অপলক দৃষ্টিতে।তাই তো তাকে কোন মতেই ভুলতে পারছিলো না।
.
নিরব সেদিনের পর থেকে মনে মনে মেয়েটাকে খুঁজে।কিন্তু কোন মতেই তাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলো না।তাই তো মনে মনে ঠিক করে নিয়েছে।তাড়াতাড়ি করে তাকে তার মনের কথাটা বলে দিতে হবে।নতুবা তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অন্য কেউ প্রোপজ করে বসবে।
.
১০ দিন পর।
ক্লাস থেকে বের হচ্ছিলো নিরব।বের হবার সময় চারদিক তাকিয়ে দেখার চেষ্ঠা করলো।কিন্তু কোথাও তার লায়লাকে দেখতে পেল না।তাই তো সামনের দিকে একা একা হাঁটা দিলো।এ কয়দিনে সে শুধু অপরিচিতা লায়লাকেই নিয়ে ভেবেছে।হঠাৎ করেই চোখ গেল গেট থেকে খানিকটা দুরের বটগাছের দিকে।এতো সেই লায়লা।মজনুর লায়লা।খুব দ্রুত ছুটে গেল তার দিকে। মনে হচ্ছে কতদিনের চেনা।
.
- হাই। (নিরব)
- জি আমাকে বলছেন? (মেয়েটি)
- জি তোমাকে বলছি।
- জি বলেন।
- আসলে আমি কি তোমার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারি?
- কথা তো বলছেন।আবার অনুমতি নেয়ার কি প্রয়োজন?
- ওহ,তাই তো।আসলে আপনাকে কিছু কথা বলার ছিলো।
- জি বলেন।ওহ সরি ভাইয়া।যদি মনে কিছু না নেন তাহলে গেট পর্যন্ত হাঁটতে হাঁটতে বলেন।
- চলবে সমস্যা নাই।
.
নিরব মেয়েটার সাথে হাঁটছে।বিভিন্নরকম কথা বলছে।কিন্তু সে যে তাকে ভালোবাসে,সেটি বলতেই পারছে না।এরি মধ্যে জানতে পেরেছে মেয়েটির নাম মিতু।বেশ সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারে মেয়েটা।
.
মিতু আর নিরব গেটের পাশে দাড়িয়ে আছে।এরি মধ্যে একজন যুবক ছেলে বাইক নিয়ে মিতুর সামনে উপস্থিত।
- মিতু।তাড়াতাড়ি আসো।আমার কাজ আছে। (যুবক)
- একটু দাড়াও,যাচ্ছি। (মিতু।)
- ছেলেটা কে তোমার? (নিরব)
- ওহ,ও আমার হাসবেন্ট।গ্রামীন ব্যাংকে জব করে।আচ্ছা ভাইয়া,পরে কথা হবে।ওর আবার দেরি হয়ে যাচ্ছে।
.
কথাগুলো বলেই মিতু ওর হাসবেন্টের বাইকে চড়ে চলে গেল।নিরব অপলক দৃষ্টিকোন থেকে তাকিয়ে আছে মিতুর দিকে।সে তার ভালোবাসার কথা বলতেই পারলো না।তার আগেই সে অন্য কারোর হয়ে গেছে? জীবনের প্রথম ক্রাশ,প্রথম ভালোলাগা, তাও আবার বিবাহিত মেয়ের সাথে! মনে মনে একটু হেসে নিয়ে বাড়ির পথ ধরলো নিরব।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ