āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4534


.
গল্পঃ টিউশনি
.
.
.
- স্যার আপনাকে একটা কথা বলবো? (অয়ন)
- জ্বী বলো। (আমি)
- আপনার ফোনটা একটু দিবেন প্লিজ?
- ফোন দিয়ে তুমি কি করবে?
- স্যার বাবলস গেমসটা খেলবো।
- গেমস খেলবা মানে? না না আমার ফোনে কোন গেমস নেই।
- স্যার,আপনি তো বলেন মিথ্যা কথা বলা মহাপাপ। আপনিই মিথ্যা বলছেন কেন?
- মিথ্যা বলছি মানে? তোমাকে কে বললো?
- স্যার,যখন আপনি বাথরুমে গেছিলেন তখন আমি আপনার ফোন চেক করেছিলাম।স্যার প্লিজ দেন না।একবার মাত্র খেলবো।
.
- না না।পড়ার সময় কোন গেমস খেলা চলবে না।তুমি পড়ো ভালো করে।
- যদি না দেন তাহলে আম্মুকে ডেকে বলবো আপনি আমাকে মেরেছেন।
- তুমি কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছো?
.
অতঃপর ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে লাগলো।কাঁদছে আর ওর আম্মুকে ডাকছে।আমি পড়লাম মহাবিপদে।৪ বছর ধরে টিউশনি করাই,কোনোদিন এমন পরিস্থিতিতে পড়ি নাই।
অয়নকে পড়ানোর মাত্র ৫ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। তাতেই আমি মহাবিপদ। অয়নের কান্না দেখে ওর আম্মু পড়ার টেবিলের সামনে এসে জিজ্ঞেস করছে ঘটনা কি?
আমি বলার আগেই অয়ন বলতে শুরু করেছে,
"আম্মু আম্মু স্যার আমাকে মেরেছে।তুমি বলে দাও,যেন উনি আমাকে আর না মারে।"
.
অয়নের মিথ্যা কথা শুনে আমি কিছুটা অবাক।ছেলে বলে কি! আমি কিছু বলার আগেই অয়নের আম্মু আমাকে বললো, "দেখ বাবা,তুমি ওকে না মেরে একটু বুঝিয়ে বুঝিয়ে পড়াইয়ো।আসলে ও একটু দুষ্ট তো।"
আমি কিছু না বলে শুধুমাত্র মাথা নিচু করে হ্যাঁ বলে উত্তর দিলাম।
.
অবশ্য এই টিউশনিটা আমার ভীষণ প্রয়োজন ছিলো।কারণ,মায়ের অপারেশনের পরে বারতি টাকার প্রয়োজন ছিলো।কিছু মানুষের কাছে কর্জও করেছি বেশ কিছু টাকা।অয়নের বাবা ভালো টাকা দিতে চেয়েছিলেন অয়নকে পড়ানোর জন্য।আর সেজন্য বুঝি আমাকে পোহাতে হবে ওর বিভিন্ন অভিযোগ,দুষ্টুমি।
.
প্রতিদিন মিনিমাম ৫ মিনিট গেমস খেলতো আমার মোবাইল নিয়ে।নতুবা পড়ানোই মুশকিল ছিলো।ছোট ছেলে হয়ে সে যে এতো ফাজিল ছিলো তা আমার অজানা ছিলো প্রথমত।বাধ্য হয়ে অনেক কষ্টে পড়াতাম।কিছুই করার ছিলো না আমার।
.
অয়নের টিউশনিটা বাদে আরো দুটো পড়াতাম।মাস দুয়েকের মধ্যে অনেক কষ্টে দেনাগুলো শোধ করলাম।ভাবলাম, এভাবে আর অয়নকে পড়াবো না।এতো কষ্ট করতে ইচ্ছে হয় না।তাছাড়া দুষ্টুমি আমি একদমই পছন্দ করি নাহ।আমি যাদেরকে পড়াই তারা সবাই মাধ্যমিক স্টুডেন্ট। কেজির বাচ্চাকে পড়ানো এই প্রথম।
.
অয়নের বাবাকে ফোন করে সব বলেছি।এটাও বলেছি, আমি আর অয়নকে পড়াতে পারবো না।সেজন্য পরপর ৩ দিন যাই নি।আগের টিউশনি দুটোই রাখছি।ও দুটোতে যা পাই তাতেই আমার হয়ে যায়।
.
মেসে শুয়ে আছি।হঠাৎ সামনে দেখি অয়ন।বেশ খানিকাটা আশ্চর্য হয়ে গেলাম।
- কি ব্যাপার অয়ন? তুমি এখানে! (আমি)
- আব্বুর সাথে এসেছি স্যার।
- ওহ।
- স্যার আপনি নাকি আমাকে আর পড়াতে যাবেন না?
- হুম।আসলে আমি ব্যস্ত তো।
- মিথ্যা বলিয়েন না স্যার।স্যার আমি এই কানে ধরছি জীবনেও আর আপনার কাছ থেকে গেমস খেলার জন্য মোবাইল চাইবো না।দুষ্টুমি দিয়ে আপনাকে জ্বালাবো না।মন দিয়ে লেখাপড়া করবো।প্লিজ স্যার আমি আপনার কাছেই পড়বো।
.
অয়ন কথাগুলো কাঁদো কাঁদো স্বরে বলছিলো।আমার মায়া লেগে গিয়েছিলো ওর উপর আগে থেকেই।তাই তো ওকে কাছে টেনে একটু আদর করলাম।হাতটা ধরে বাইরে গেলাম ওর আব্বুর কাছে।গিয়ে বললাম,আমি অয়নকে পড়াতে যাবো।" একথা শুনে অয়নের কালো করে থাকা মুখে রোদের ঝিলিক ফুটে উঠলো।মনে হয়,ছেলেটা আমাকে খুব ভালোবাসে।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)


গল্পঃ দুই পৃথিবী
.
.
.
বাড়িতে আজ অনেক সাজ-সজ্জা।হবেই না কেন? বাড়ির একমাত্র মেয়ের বিয়ে বলে কথা! ধনীর বাবার কোন কিছুরই কমতি নেই।সবকিছু তো তার একমাত্র মেয়েকে ঘিরে।জামাইও মিলেছে বেশ! পেশায় ডাক্তার।বেশ খুশি খুশি লাগছে মেয়ের বাবা আকমার খানকে।চারদিকে ছোটাছুটি করছেন।যদিও বা এসব কাজের জন্য অনেক লোক রাখা হয়েছে।
.
কনের সাজে বসে আছে তাসমিকা।ডাক নাম মিতু।তার আশেপাশে বান্ধুবীরা তাকে ঘিরে রেখেছে।কেউ কেউ আবার মিতুর সাথে ঠাট্টা করছে।মিতু কোন কথা বলে নাহ।শুধু চুপটি করে বসে ভাবছে তামিমের কথা। অন্তরের ভিতরে তার সবটাই পুড়ে ছাড়কার হয়ে যাচ্ছে।
.
তামিম হচ্ছে মিতুর ভালোবাসা।৫ বছরের প্রেম।দুজন দুজনকে প্রচন্ড ভালোবাসতো।ভালোবাসতো বললে ভুল হবে,এখনো বাসে।দুই পৃথিবী দুদিকে কান্না নিয়ে ব্যস্ত।ফাটল ধরতে শুধু করেছে উভয়ের ভালোবাসার মধ্যে।আদৌ কি কোন প্রাচীর উঠবে তাদের ভালোবাসায়?
.
তামিম একটা ফোনের জন্য অপেক্ষা করছে।তামিমের বিশ্বাস,নিশ্চয়ই মিতু তাকে শেষবারের জন্য হলেও ফোন দিবে। দোষটা মিতুরও নয় তামিমেরও নয়।দোষটা আজ শিক্ষিত সমাজের।লেখাপড়া শেষ করে কত অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে তামিম।কেউই তাকে চাকরি দিতে রাজি হয় নি।সবাই শুধু সেটা (টাকা) চায়।কিভাবে দেবে সে? সে তো নিম্মমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।বাবা-মা কেউই নেই।চাচা-চাচীর কাছে মানুষ।
.
মিতুর বাবার একটাই কথা,বেকার ছেলের সাথে তিনি মিতুকে বিয়ে দিবেন না।মিতুকে পেতে হলে অবশ্য তামিমকে একটা চাকরি পেতে হবে।কিন্তু নাহ! শেষ অবধি চেষ্টা করেও একটা চাকরি পায় নি তামিম।তাইতো শেষ মূহুর্তে মিতুর সামনাসামনি হবার সুযোগ হয় নি।
.
বড় আসার কথা শুনে সবাই বড়কে আনতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।ঘরটা খালি হয়ে গেল।মিতু বিছানা থেকে আস্তে করে উঠে গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিলো।ফোনটা বের করে তামিমকে শেষবারের মতো ফোন দিলো সে
.
- কি খবর মিতু কেমন আছো? (তামিম)
- ভালো খুব ভালো আছি।তুমি? (মিতু)
- হ্যাঁ বেশ আছি আমি।তোমাকে ছাড়া অনেক সুখে আছি।
- সেটা তো তুমি থাকবেই।নতুন নতুন এখন আসবে,যাবে।
- অনেক ভালো বলেছো তুমি।
- আমার বিয়েতে তুমি আসলে না কেন?
- শরীরটা ভালো না।ঘুম পাচ্ছে প্রচন্ড ঘুম।
- ঘুম? হাহাহাহা। এই অসময়ে তোমার ঘুম?
.
- হ্যাঁ মিতু।আজকে আমার প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে।বুকটাও খুব জ্বালা করছে।মাঝে মাঝে বাবাকে দেখছি,আবার আম্মুকেও দেখতে পাচ্ছি।তারা আমাকে ডাকছে।
- কি বলতেছে এসব তুমি? তুমি কি পাগল হয়ে গেছো নাকি?
- পাগল তো আমি।তোমাকে ছাড়া আমি কেমনে থাকবো? একবারো বলতে পারো? তাইতো চলে যাচ্ছি না ফেরার দেশে।
- হাহাহাহা, খুব ভালো ডিসিশন। তুমি চলে যাও।আমি বিয়ে করে খুব মুখে থাকবো।
- থাকবেই তো।তোমার জন্য গতকাল রাত্র তাহাজ্জুদ পড়ে দোয়া করেছি।যদিও আমি ঠিকমত নামাযই পড়তাম না।তবে আমার বিশ্বাস,আল্লাহ আমার মুনাজাত রাখবে।মিতু আমি অনেকগুলো ঘুমের ঔষধ খেয়ে ফেলেছি।
.
- যখন দুজন দুজনকে ভালোবেসেছিলাম।তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম,বাঁচলে একসাথে বাচঁবো।আর মরলে এক সাথে।আজ তুমি চলে যাচ্ছো,তুমি একা যাবে কেন? জানো? তুমি ছাড়া দ্বিতীয় কোন পুরুষকে আমি মেনে নিতে পারবো না। তুমি আমাকে সাথে নিবে নাহ?
.
- আমার সাথে কেন যাবে তুমি? তোমার তো সবাই আছে।বাবা আছে,মা আছে,স্বামী হতে যাচ্ছে একজন।তুমি সুখেই থাকবা।
- প্যাচাল বন্ধ করো তামিম।তোমার সাথে সাথী হবো মরনের পরও।তুমি যেখানে সেখানেই আমি।আল্লাহর কাছে দোয়া করি যাতে উনি আমাদের কে আবার মিলন করে দেয়। জানো তামিম আমাদের ভালোবাসায় কোন ক্ষুত ছিলো না।তবে কেন এমন হলো? বলতে পারো?
.
মোবাইলের অপর প্রান্তের ব্যক্তিটা চলে গেছে। ফোনে আর কেই কথা বলছে না।কয়েকবার তামিম তামিম করেও কোন শব্দ পায় নি মিতু।তাই তো দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে হাহাহাহা হাসতে থাকে সে।খুবই রহস্যময় হাসি। ক্ষণিকের মধ্যে নিস্তল হয়ে আসে আরেক পৃথিবী।
.
বিয়েতে যখন সবাই আনন্দেতে ব্যস্ত।তখন দুই পৃথিবী চলে গেছে নিষ্টুর এই পৃথিবীর সমস্ত পার্শ্ব ছেড়ে।সেখানেই চলে গেছে,যেখানে তাদের খুঁজে পাবে না দুনিয়ার কেউই।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)
.
গল্পঃ অপরিচিতার অন্তরালে
.
.
.
- আসসলামু আলাইকুম। (অচেনা একটি মেয়ে)
- ওয়ালাইকুম আসসালাম। (আমি)
- আপনি কোথায় যাবেন?
- জ্বী রংপুর যাবো।
- ওহ তাহলে ভালোই হলো।
- ভালো হলো কেন?
- কারণ আমি গাইবান্ধা যাবো।
- এতে ভালো হবার কি হলো?
- না মানে,সাড়া রাস্তা গল্প করতে করতে যাওয়া যাবে।এই আর কি!
- ওহ।
.
কলেজ যাবার জন্য ঢাকা থেকে রংপুরে যাবার জন্য বাসে উঠেছি।আমার পাশে একটা মেয়ের সিট পড়েছে।সেই মেয়েটাইই এতক্ষণ আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছিলো।যাইহোক মেয়েটা দেখতে খারাপ না।বয়স ১৭ থেকে ১৯ এর মধ্যে হবে।
.
- ভাইয়া,আমি সাবা। (অচেনা মেয়েটি)
- জ্বী,আমি তাওহীদ।
- তাওহীদ! খুবি ভালো নাম।রংপুরে আপনি কেন যাচ্ছেন?
- জ্বী কলেজে যাচ্ছি।
- অবাক ব্যপার! সবাই তো ঢাকামুখী।আর আপনি তো দেখছি তার উল্টো।
- আমি ছোট থেকে রংপুরে বড় হয়েছি তো।তাই সেখানেই ভর্তি হয়েছি।
- ওহ,তাহলে ঠিক আছে। আমি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার পড়ি। সায়ন্স বিভাগে।
- জ্বী ভালো।
.
এভাবেই অচেনা একটা মেয়ের সাথে ক্ষনিকের পরিচয় বাসের মধ্যে।মেয়েটা বারবার এটা ওটা জিজ্ঞেস করছিলো।আমিও তার কথার উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলাম।মাঝে মাঝে ফেসবুক ওপেন করে সময় কাটাচ্ছিলাম।ঢাকা থেকে রংপুরের দুরুত্ব বেশ।তাই এ সময়ে যদি একজন কথা বলার সাথে পাই তাহলে একাকিত্বও দূর হবে,সময়ও কাটবে।মনে মনে ভাবলাম।
.
- ভাইয়া,আপনি কি আমার সাথে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করছেন নাকি?
- না তো।কেন বলুন তো?
- না মানে,আপনি তো আমার সাথে ভালোভাবে কথাই বলছেন না।
- কই,বলছি তো।
- হুম, বলছেন।কিন্তু যেগুলো প্রশ্ন করছি শুধুমাত্র সেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন।
- আসলে আমি কথা কম বলি।
- ওহ।তাহলে কি আজকের জন্য আমরা বন্ধু হতে পারি?
- বন্ধু? হুম হওয়া যায়।
.
অতঃপর কিছুক্ষণের জন্য একটা অপরিচিত মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব করলাম।আমি গাড়িতে ঘুম পাড়তে পারি নাহ।তাই সাবার সাথে কথা বলছিলাম।সাবা আমার থেকে মোটামুটি দু এক বছরের ছোট হবে।বেশ কথা বলে মেয়েটা।
.
- ভাইয়া বিস্কিট খাবেন?
- না।আপনি খান।
- বন্ধুত্ব যেহেতু করেছেন সেহেতু আপনাকে খেতেই হবে।
.
বাধ্য হলাম খেতে।যদিও আমি বাইরের খাবার খাই না।তখন আমার দিকে মুচকি মুচকি হাসছিলো।আমিও তার হাসার সাথে একটু সঙ্গ দিচ্ছিলাম।আগেই বলেছি,আমি বাস বা ট্রেন যে কোন যানবাহন হোক ঘুমাতে পারি নাহ।আজ কেন জানি ঘুম পাচ্ছে। দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়লাম।
.
- ভাইজান,ও ভাইজান। (হেল্পার)
- জ্বী। (ধড়পড় করে উঠে পড়লাম। চোখে এখনো আমার প্রচন্ড ঘুম।)
- গাড়ি থেকে নামবেন না? রংপুর তো আইসা গেছি।
.
রংপুর আসার কথা শুনে একটু হতভম্ব হয়ে গেলাম।পাশের সিটের দিকে তাকালাম।মেয়েটি নেই।মনে মনে ভাবলাম, যাবার সময় আমাকে একবারো বলে গেল নাহ।অপরিচিতা মেয়েরা বুঝি এমনি হয়।
.
ব্যাগটা খুঁজে পাচ্ছিলাম নাহ।গাড়ির ভিতরের আশেপাশে খুঁজলাম।বাট পেলাম না।পকেটে হাত ঢুকালাম।একি! আমার টাকাগুলো কই! বেশ খানিকটা আশ্চার্য হয়ে গেলাম।
.
- আমার সাথে একটা মেয়ে বসেছিলো।মেয়েটা কোথায় নেমেছে বলতে পারেন? (আমি)
- উনি তো বগুড়ায় নেমে গেছে। (হেল্পার)
- ওহ।
.
এখন আমার কাছে সব পরিষ্কার আসলে কি কি ঘটেছে।অপরিচিতার সাথে বন্ধুত্ব করার ফল আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।পকেট ফাঁকা,একদম ফাঁকা।মোবাইলটাও নেই।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)


.
গল্পঃ সেই তুই
.
.
.
- হৃদয় একটু বাইরে আয় তো। (সাফা)
- কেন রে? কিছু বলবি? (হৃদয়)
- বলার জন্যই তো ডাকছি।চল।
- আরে বাবা যাচ্ছি তো।
- হুম।
.
সাফা আর হৃদয় একই ভার্সিটিতে পড়ে।ভাগ্যক্রমে দুজনই সে কলেজ লেভেল থেকে একই সাথে।আজ হঠাৎ ক্লাসে যখন সবার সামনে হৃদয়কে সাফা এভাবে ডাকছিলো তখন খানিকটা আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলো ক্লাসে বসে থাকা সবাই।
.
- বল কেন ডাকছিলি? (হৃদয়)
- কেন ডাকছি তুই বুঝিস না? (সাফা)
- আরে বাবা বুঝলে কি তোরে জিগাইতাম নাকি?
- তুই তখন সায়মার সাথে ওভাবে কথা বলছিলি কেন? কয়দিন এভাবে বললে নিশ্চিত ও তোর প্রেমে পড়বে।
- পড়লে পড়বে।প্রেম তো পড়ার জিনিষ।সেজন্য কি তুই আমাকে এখানে ডেকেছিস?
.
- হুম।সেজন্যই তোকে এখানে ডেকেছি।আর হ্যাঁ নেস্কট টাইম এভাবে কারো সাথে কথা বললে খবর আছে।দরকার ছাড়া কোন মেয়ের সাথে কথা বলবি না।
- কি বলিস এগুলা! তুই কি পাগল হয়ে গেছিস নাকি?
- হ্যাঁ আমি পাগল হয়ে গেছি।কোন মেয়েকে তোর সাথে দেখলে আমার সহ্য হয় না।
.
- এটা কোন কথা হলো! কেন সহ্য হবে না?
- কারণ আমি তোকে ভালোবাসি।
- ভালোবাসিস!
- হ্যাঁ তোকে আমি ভালোবাসি সেই কলেজ লাইফ থেকে। সত্যিই বলছি হৃদয়।তোকে হারানোর ভয়ে বলতে পারি নি।সবসময় তোর কাছাকাছি থেকেছি।
- পাগলামি বন্ধ কর সাফা।তুই কত বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে।আর আমি মধ্যবিত্ত বাবার সন্তান।বুঝতে চেষ্টা কর।
.
- কি বুঝতে চেষ্টা করবো? তোকে ছাড়া আমি কিছুই ভাবতে পারি নাহ।তুই তো বলেছিস বন্ধুত্ব টাকা পয়সার উপর বিচার করে হয় না।তাহলে ভালোবাসার ক্ষেত্রে কেন এমন পার্থক্য?
- তুই আসলে পাগল হয়ে গেছিস। চল তোকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে আসি।একটু বিশ্রাম নে।দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে।
- দরকার নেই আমাকে বাড়িতে রেখে আসার।আমি কচি বাচ্চা নই যে বাড়িতে রেখে আসবি।ভালো থাক তুই।
.
কথাগুলো কান্নাজনিত কন্ঠে বলে দৌড়ে বাড়ি চলে গেল সাফা। সাফা মেয়েটা হৃদয়কে অনেক ভালোবাসে।কিন্তু হৃদয় শুধু চায় এই সম্পুর্কটা বন্ধুত্বের মাঝে সিমাবদ্ধ থাক।তাইতো ভালোবাসা বুঝেও না বুঝার ভান করে সবসময়।
.
আজ ১ শনিবার।
গত এক সপ্তাহ থেকে সাফা ভার্সিটিতে আসে নাহ।যতবার হৃদয় সাফাকে ফোন দিয়েছে ততবারই কেটে দিয়েছে।তবুও বাড়িতে যায় নি।যদিও সাফার বাবা অনেক ভালোবাসেন হৃদয়কে।
.
সাফা খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। সবসময় ঘরের ভেতর লাইট অফ করে কাঁদে আর দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে।মনে মনে ভাবতে থাকে,ভালোবাসা বুঝি এমনি কষ্টদায়ক ও যন্ত্রনাদায়ক হয়।
.
বারবার চোখের জল মুছে।মাঝে মাঝে মায়ের ছবিটার দিকে তাকিয়ে কি যেন বলে আবার হুহু করে কেঁদে উঠে।সাফার বাবা রাহাত চৌধুরী মেয়ের এই অবস্থা দেখে শঙ্কিত।কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।একমাত্র মা মরা মেয়ে তার।
.
সব লজ্জা ভুলে সাফাদের বাড়িতে ঢুকেই পরে হৃদয়।সাফার বাবা বাড়ির বাইরেই ছিলেন।হৃদয়কে দেখে মেয়ের অবস্থার জন্য হুহু করে কেঁদে উঠলেন।হৃদয় রাহাত চৌধূরীর কথা শুনে সাফার রুমের দিকে দৌড় দিলো।রুমের লাইট অফ ছিলো।লাইটা অন করে দিলো হৃদয়।
.
.
- একি হৃদয়,তুই?(সাফা)
- হ্যাঁ সাফা,আমি।গত ১ সপ্তাহে তোকে ছাড়া আমি খুব কষ্টে ছিলাম রে।আমিও তোকে বড় ভালোবাসি সাফা।
- সত্যিই বলছিস হৃদয়?
- হ্যাঁ সাফা সত্যিই বলছি।
- তুই আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবি না তো? কথা দে।
- কথা দিলাম সাফা, তোকে ছাড়া আমি কোনদিনই যাবো না।
(অতঃপর সাফা হৃদয় কে জড়িয়ে ধরে আরেকবার কেঁদে উঠলো।নাহ! এ কান্না দুঃখের কান্না নয়,সুখের কান্না।)
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)


.
গল্পঃ কাঁচের চুড়ি
.
.
.
- মায়া, মারে, কই গেলি? (হাসু মিয়া)
- কি হইছে বাজান? (মায়া)
- হাটে যাতি হবি।ছাতাটা দে তো।
- হাটে যাবে বাজান?
- হ মা।ক্যান তোর কি কিছু লাগবো?
- না মানে।
- না মানে করতেছি ক্যান?কিছু লাগলে কইয়া ফালা।
- যদি এক ডজন কাঁচের লাল চুড়ি আনতে তাহলে ভালো হতো।আগেরগুলো ভেঙে গেছে।
- এই কথা! আচ্ছা নিয়া আসবো নে।অহন তাড়াতাড়ি ছাতাটা দে।
- আনতাছি বাজান।
.
অতঃপর মায়া ঘর থেকে ছাতাটা বের করে তার বাবাকে দিলো।হাসু মিয়া ছাতাটা নিয়ে হাটের দিকে রওয়ানা হলো বিসমিল্লাহ্‌ বলে।মায়া তাকিয়ে থাকে তার বাবার দিকে।
.
মায়া হাসু মিয়ার বড় আদরের ছোট মেয়ে।হাসু মিয়ার একটি ছেলে এবং দুটো মেয়ে।বড় ছেলে ও মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।এখন শুধু মায়াই অবশিষ্ট রয়েছে।হাসু মিয়া চান মায়া আরো কিছু লেখাপড়া করুক।বর্তমান সে ক্লাস নাইনে গ্রামের স্কুলেই পড়ছে।
.
হাসু মিয়া গ্রামের স্কুলের রিটায়ার্ড প্রাইমারি শিক্ষক।বড় ছেলে আরমান শহরে একটা প্রতিষ্টানে চাকরি করছে।সব মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বেশ আছেন তিনি।
.
গ্রামের আঁকা বাঁকা পথ ধরে হাটছেন তিনি।হাতে খরছের ব্যাগ।গত রাতে তাঁর নামে চিঠি পাঠিয়েছে আরমান।শহরে নাকি ভীষণ গোলমাল চলছে।তাইতো সে বাড়িতে আসতে চায়।সেই চিঠির উত্তর ও প্রয়োজনীয় কিছু জিনিষ কেনা জন্য হাটে যাচ্ছেন তিনি।পোষ্ট অফিসটা হাটের পাশেই অবস্থিত।
.
হাসু মিয়া হাটে গিয়ে প্রথমে চিঠিটা পোষ্ট করে দিয়ে আসলেন।অতঃপর এক জোড়া লাল রঙের কাঁচের চুড়ি সংগ্রহ করলেন।দাম মাত্র ৬ টাকা। চুড়িগুলো কিনে খুব খুশি হলেন তিনি।মনে মনে ভাবলেন,নিশ্চয়ই অনেক খুশি হবে মায়া।চুড়ি কেনার পর্ব শেষ করে তার প্রয়োজনীয় সদাই ক্রয় করতে লাগলেন।
.
এমনসময় লোকেরা ছোটাছুটি করতে লাগলো।কিছুই বুঝে আসলো না তার।অন্যসব লোকদের মতো তিনিই দৌড়াতে লাগলেন।বয়স হয়েছে তাই হয়তো অন্যদের ভীরে তিনি দৌড়াতে ঠিকমত পারছিলেন না।পড়ে গেলেন ধপাস করে।একটা বুলেট আঘাত হানলো তার বুকে।ঝাঁঝরা হয়ে গেল তার সারা দেহ।কোনরুপ কথা বলার সময় পেলেন না।এমনকি আল্লাহু আকবারও না।
.
অনেক লোক শত্রুবাহিনীর বুলেটের আঘাতে দেহত্যাগ করেছে।সুপেয় পানি পান করেছে শহীদের।হাসু মিয়া তাদেরই একজন।তার শেষ আশা ভরসা পূরণ হলো না।কাচের চুড়িগুলো তার হাতে মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় রইলো।
.
শত্রুবাহিনীর সদস্যরা চলে যাবার পর একটা একটা করে লাশ তাদের বাড়িতে পৌঁছানো হচ্ছিলো।হাসু মিয়ার নিথর দেহটাকেও নিয়ে যাওয়া হলো তার বাড়িতে।মায়া ঘর থেকে আস্তে আস্তে বের হয়ে আঙিনায় আসলো।একটু আগের সেই চঞ্চল মেয়েটি লাশ দেখে কিছুটা আশ্চর্য হয়ে গেল।
.
লাশটার কাছে হাটু গেঢ়ে বসে পড়লো লাশটার মাথা বরাবর।মাথা থেকে কাপড়টা সরিয়ে দেখলো এ যে তার বাজান।জোরে চিৎকার দিয়ে হুহু করে কেঁদে উঠলো মায়া।তার কান্না দেখে তার মা সাহেরা বানুও কোথা থেকে যেন ছুটে আসলো।
.
সদ্যভূমিষ্ট সন্তানের মতো নিজের বাজানকে কাছে টেনে নিলো মায়া।কাঁদতে লাগলো জোরে জোরে।এমন সময় হাতের দিকে চোখ গেলো মায়ার।হাতের মধ্যে মুষ্টিমেয় অবস্থায় এক জোড়া লাল কাচের চুড়ি চকচক করছিলো।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ