āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4533


গল্পের নাম ঃ ফুলি
.
.
.
- ভাইজান,আপনার চা। (ফুলি)
- রেখে যা। (আকরাম)
- রেখে গেলাম, মনে করে খেয়ে নিয়েন।
- হুম।
.
একুশে বই মেলার জন্য বইয়ের জন্য কবিতা লেখতে ব্যস্ত আকরাম মিয়া।এবার তার দুটো কাব্যগ্রন্থ বের হবে।এছাড়াও ছোটদের নিয়ে লিখেছেন ছোটগল্প গ্রন্থ "চাঁদের পাহাড়"।বেশ ভালো লিখেন তিনি।লেখাতেই যেন তিনি তার সবটুকু শান্তি খুঁজে পান।লেখালেখি করা তার শখ।
.
একটা হাইস্কুলে বাংলায় শিক্ষক হিসেবে জয়েন করেছেন মাস চারেক আগে।বাংলায় শিক্ষকতা করার কারণ হচ্ছে,এতে তিনি বিভিন্ন ক্লাসে নতুন নতুন বাংলা শব্দ জানতে পারবেন।যা তার কবিতা বা গল্পতে কাজে লাগতে পারে।বেশ উদার মনের মানুষ তিনি।বিয়ে করেছেন বছর খানেক আগে।
.
কিছুক্ষণ আগে ফুলি চা দিয়ে গেছে আকরাম খানকে।আকরাম খান তখন কবিতা লেখা ব্যস্ত ছিলেন।তাইতো সেদিকে নজর দেয়ার কথা ভুলেই গেছেন।গভীর সাগরের অথৈ পানিতে যেন সাঁতার কাটছেন। একটা ভালো কবিতা লিখতে গিয়ে অনেক পরিশ্রম করেন তিনি।
.
ফুলি আকরামদের বাড়িতে কাজ করে।প্রায় চার থেকে ৫ বছর হবে।কাজের লোক হলেও কখনো তাকে কেউই হেয় করেনি।সবসময় নিজের পরিবারের মতোই মনে করে।ফুলিও সংসারটাকে নিজের হাতে সাজানোর চেষ্টা করে।সকলের খেয়াল রাখে।
.
- একি ভাইজান! আপনি এখনো চা পান করেন নি?(ফুলি)
- ওহ,সরি রে ফুলি।ওদিকে মনোযোগ দেয়া হয়ে উঠেনি।তুই তো জানিস,কেমন ব্যস্ত লোক আমি।
- হ জানি।ভাইজান এগুলো লিখে কি হবে?
- আরে মানুষকে আনন্দ দেয়ার জন্য ভালো কিছু উপহার দেয়ার মজাটাই আলাদা।
- আপনার চা তো ঠান্ডা হয়ে গেছে।
- ওফ, তাহলে আর কি করা! পরে পান করবো।
- সমস্যা নাই,আমি আবার গরম করে নিয়ে আসছি।
- ওকে সমস্যা নাই।তুই কি এখন খুব ব্যস্ত রে ফুলি?
- না ভাইজান।রান্নার কাজ তো শেষ।
- তাহলে চা নিয়ে আয়,আমি তোর কাজের ব্যবস্থা করছি।
- আচ্ছা ভাইজান।(মুচকি হেসে)
.
রান্নাঘর থেকে চা গরম করে নিয়ে আসে ফুলি।মেয়েটা বেশ মায়াবী। এই পরিবারের সাথে মিশে গেছে খুব সহজেই।
.
- ভাইজান আপনার চা। (ফুলি)
- চা টা টেবিলে রেখে আমার সামনে বস।
- আচ্ছা ভাইজান।
- আমি তোর জীবনের গল্প কিছুটা জানি।সম্পূর্নটা বল।আমি তোকে নিয়ে একটা উপন্যাস লিখবো।
- কি কন ভাইজান! আমারে নিয়া আপনি কি লিখবেন?
- যা বলবি তাই।
- মানুষের জীবনের গল্প বড় দীর্ঘ। থাক না ভাইজান।আপনাদের পেয়ে তো বেশ সুখেই আছি।পুরাতন কথা আর মনে করাতে চাই না।
.
কথাটা বলেই চলে গেল ফুলি।হয়তো আঘাত পেয়েছে।আকরাম মিয়া ফুলি সম্পর্কে কিছুটা জানেন।তবে পুরোটা না।মনে মনে ভাবলেন, "যেটুকু জানেন সেটুকুই গল্প/উপন্যাসের রুপ দিবেন।এই কাজটা যদি তিনি করতে না পারেন তাহলে কিসের লেখক তিনি।"
.
অনেকদিন আগে শুনেছিলেন ফুলির আত্মকথা।যখন হাসু চাচা তাকে এই বাড়িতে নিয়ে এসেছিলো।তখন ফুলির বয়স ছিলো ৮ কি বা নয়।এখন মোটামুটি ১৩ কিবা ১৪ হবে।ফুলি তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলো।বেশ সুখেই দিন অতিবাহিত করছিলো।স্কুলে ভর্তিও হয়েছিলো।ফুলির বাবার স্বপ্ন ছিলো ফুলি একজন পাইলট হবে।
.
কিন্তু একটা একসিডেন্ট সবকিছুকে পাল্টে দেয়।ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় ছোট ফুলি।কিন্তু দুনিয়াতে মেয়ের সাথে থাকা হয়ে উঠে না ওর বাবা মায়ের। কারণ উপরওয়ালার কাছে তাদের জীবন শেষ হয়ে এসেছিলো।তাইতো তিনি তাদের নিয়ে গেছেন।
.
আকরাম সাহেব চায়ে চুমুক দিচ্ছেন আর সেই কথাগুলো ভাবছিলেন।প্রতিপালক কিনা করতে পারেন!সেই ছোট ফুলি আজ তাদের বাড়িতেই কাজ করে।যদিও বাড়ির প্রত্যেকজন তাকে নিজের পরিবারের একজন হিসেবে মেনে নেয়।কোন বৈষম্য নেই তার এই বাড়িতে।
.
আকরাম মিয়া আর কষ্ট দিতে চাইলেন না ফুলিকে।তিনি ফুলিকে নিয়ে লিখবেন ফুলির জীবনের গল্প।আশা করি তার এতে কষ্ট হবে না।মনে মনে ঠিক করলেন বইটার নাম দিবেন "ফুলিদের গল্প"। অতঃপর মুচকি হেসে চায়ের ফাঁকা কাপটা টেবিলের কোণায় রাখে আবারো পূর্বের কাজে মনোযোগী হলেন।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)


.
গল্পের নাম ঃ লাশ
.
.
.
- বাজান, বাজান ও বাজান? (সুজন)
- কি হইলো রে সুজন? এতো চিক্বুর পারতাছিস ক্যান? (হাসু মিয়া)
- বাজান,আইজ নাও নিয়া যাবা না?
- হ যামু তো।না গেলে খামু কি?
- আইজ এতো দেরি করতাছো যে?
- আইজ একটু দেরি যাই রে বাজান।
- হ ঠিক আছে।তয় তাড়াতাড়ি খাইয়া লও।আমি খাইছি।
- হুম।
.
হাসু মিয়া একজন নৌকা চালিয়ে দিনপাত করে।তার ছেলে সুজন।সুজন তার বাবাকে সাহায্য করে যখন তার স্কুল বন্ধ থাকে।সুজন ক্লাস ফাইভে পড়ে।লেখাপড়ার প্রতি খুবই মনোযোগী। হাসু মিয়ার ছেলে মেয়ে বলতে তিনজন।মায়া,সুজন আর সাজু।মায়া সবার বড়,সুজর সেঝ আর সাজু সকলের ছোট।
.
স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই আছেন হাসু মিয়া। ছোটবেলায় লেখাপড়া করেন নি।হাসু মিয়ার বাবা সোবহান উদ্দীন ছেলের হাতে বই তুলে দেয়ার পরিবর্তে বইঠা তুলে দিয়েছিলেন।তাই লেখাপড়ার আর সুযোগ হয় নি।তবে এখন তিনি চান না,তার সন্তানেরা তার মতো নৌকার মাঝি হোক।তাই নিয়মিতভাবে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খোঁজ খবর নেন।
.
হাসু মিয়া হাতে বৈঠা নিয়ে সামনে হাঁটছেন।সুজন বাবাকে অনুসরণ করে হাঁটছে।বাবার কাজে মাঝে মাঝে সহযোগীতা করলে বেশ আনন্দ অনুভব করে সুজন।তাই তো পাড়ার দস্যি ছেলেদেরকে ছুটির দিন বেশি সময় না দিয়ে বাবাকেই সময় দেয় সে।
.
হাসু মিয়া ও সুজন ঘাটে নৌকাতে বসে আছে।অপেক্ষা করছে নদী পারাপারের যাত্রীর জন্য।কিছুক্ষণ বসে থাকার পর দুজন ব্যক্তি নদী পার হওয়ার জন্য মালামাল সহকারে আসে।হাসু মিয়া তাদের পরিচিত।তাই তো অন্য কারো নৌকায় না উঠে তার নৌকায় উঠেছে।
.
হাসু মিয়া যাত্রী দুজনকে নামিয়ে দিয়ে ফিরছেন।সুজন আর একটা বৈঠা নিয়ে হাসু মিয়ার অপর প্রান্তে চালানোর কাজে ব্যস্ত।হঠাৎ কেন জানি সে থেমে যায়।অন্য দিকে চোখ স্থির হয়।ছেলের এমন আচরনে কিছুটা আশ্চর্য হয়ে উঠেন হাসু মিয়া।
.
- কি রে বাজান? নৌকা চালানো বন্ধ করলি যে?
- বাজান দ্যাখতাছি।
- কি দ্যাখতাছিস?
- ওই যে কচুরিপানা (হাত দিয়ে ইশারা করে) ওইখানে কালো কি একটা যেন ভাসতাছে।
- কি ভাসতাছে?
- সেটাই তো বুঝতে পারতাছি না।নৌকা কি সেদিকেই ফিরাবে বাজান?
- হ, দেখি কি ভাসতাছে।
.
হাসু মিয়া নৌকা কচুরিপানার দিকে ঘুরায়।কালো চিহ্নটার কিছুদূর পূর্বে সুজন একটা ছেঁড়া আঁচল আবিষ্কার করে খানিকটা আশ্চর্যবোধ করে।বাবার দিকে মলিন মুখে চাহনি দেয়।হাসু মিয়া ও সুজন কালো চিহ্নটার পাশাপাশি নৌকার উপরে।এ যে চুল।আস্তে করে খুব সাবধানে লাশটাকে তুলে নৌকায় রাখলো হাসু মিয়া ও সুজন।মনে হয় মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে।মেয়েটি অপরিচিত।
.
ঘাটে নৌকাটা বেঁধে রেখে লাশটাকে নিয়ে বাড়ির পথে ছুটলো হাসু মিয়া।হাসু মিয়ার কাঁধে লাশ দেখে গ্রামের মানুষেরা তার পিছু নিয়েছে।লাশটাকে বাড়ির উঠনে রাখে।গ্রামে আর দশজন মানুষ মেয়েটাকে চিনে না।হাসু মিয়া পড়লেন মহাবিপদে।কার লাশ! কি করবেন লাশ দিয়ে?
.
গ্রামের অন্যান্য মানুষের মতামত নিয়ে দাফন করার জন্য সকলের নিকটে চাঁদা উঠানো হলো।কাফনের কাপড় কিনে আনা হলো।এমন সময় বেড়িয়ে এলো এক নতুন তথ্য।একজন ব্যক্তি নাকি মেয়েটাকে চিনে।তার বক্তব্য হলো, মেয়েটা এতিম ছিলো।চাচা-চাচীর কাছে মানুষ।প্রাপ্ত বয়স হবার আগেই মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজে পাঠানো হতো।এমনি করে কয়েকদিন আগে মেয়েটা মেম্বারের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে আর ফিরে আসে নি।
.
মেয়েটার জীবনের সংক্ষিপ্ত গল্প গ্রামের অন্যদের মাঝে সাড়া ফেলে।মেয়েটা দেখতে মোটামুটি সুন্দরী।হয়তো গ্রামের হায়েনা-শিয়ালেরা তাকে খুঁড়ে খুঁড়ে খেয়েছে।যার ফলশ্রুতিতে আজ সে এই অবস্থা বেঁচে নিয়েছে।নতুবা হায়েনারাই তাকে বাঁচতে দেয় নি।মেয়েটির মৃত্যু রহস্য উদঘাটন হয় নি।
.
কি দরকার! গ্রামের মানুষের এটিই সবচেয়ে বড় মনের কথা।তারচেয়ে ভালো মেয়েটাকে কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা।শেষ অবধি এটাই করা হলো।তবুও জানা গেলনা লাশটির মৃত্যুর রহস্য।
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)


.
গল্পঃ লজিং মাষ্টার
.
.
.
- স্যার আম্মা আপনাকে খেতে ডাকে। (মিতু)
- জ্বী যাচ্ছি। (শফিক)
- তাড়াতাড়ি আসেন।
- হাতের কাজটা শেষ হলেই যাবো।
- ভাত ঠান্ডা হলে পান্তা করে খাইয়েন।তাড়াতাড়ি আসেন।
.
গত ১০ দিন আগে শফিক লজিং মাষ্টার হিসেবে মিতুদের বাড়িতে উঠেছে।মিতুর বাবা আকরাম খান গ্রামের মেম্বার।বেশ ভালো মানুষ তিনি।তিনি ভালো হলে কি হবে! মেয়েটা হয়েছে দুষ্টু প্রকৃতির। সবসময় মানুষের অনিষ্ট করে বেড়ায়। লেখাপড়াও ঠিকমতো করে না।
.
মিতু যাতে ঠিকমতো লেখাপড়া করে সেজন্যই বাড়িতে লজিং মাষ্টার রাখা।মিতুর ছোট আরেকটা ভাই আছে। ওর নাম সুজন।সুজন ক্লাস টু তে পড়ে।আর মিতু ক্লাস নাইনে।সাধারণ বিভাগে।অংক ঠিকমতো বুঝে না।বুঝে না বলতে মাথায় ঢুকে না।
.
- বাবা বসো। (মিতুর মা।ওনার নাম সাহেরা বানু)
- জ্বী চাচি আম্মা। (শফিক)
- দেরি হলো কেন বাবা?
- আসলে একটা বই মোলাট করছিলাম তো তাই।
- ওহ আচ্ছা।
- চাচাকে দেখছি না যে চাচি আম্মা।
- তোমার চাচা কয়েকদিনের জন্য শহরে গেছে।কিসের নাকি কাজ আছে।
- ওহ আচ্ছা।
.
মিতুর মা সাহেরা বানু বেশ অতিথিপরায়ণ। গত কয়েকদিনে
শফিকে আপন করে নিয়েছে। করবেই না কেন! শফিকের মতো শান্ত স্বভাবের ছেলে পাওয়া কষ্টসাধ্য। সাহেরা বানু শফিকের প্লেটে ভাত তুলে দিয়ে তরকারি দিয়েছে।শফিক কোন কথা না বলে প্রথম গ্রাস মুখে তুলে কেমন যেন অনুভব করতে থাকে। তারপরও বের না করে সবটুকু গিলে ফেলে।
.
এভাবে দু গ্রাস ভাত গিলে এদিক সেদিক তাকায়।চোখ দিয়ে পারি ঝরার উপক্রম।রান্নাঘরের পাশে জালানা দিয়ে মিতু শফিককে দেখছে আর হাসছে।শফিক তখন বুঝতে পারলো মিতু আলাদা করে তার তরবারির বাটিতে লবন-ঝাল মিশিয়েছে।তাইতো আর মুখে না দিয়ে বাকিটুকুতে পানি ঢেলে দিয়ে সোজা রুমে চলে যায়।
.
সন্ধ্যা.........
সুজন আর মিতু স্যারের সাথে পড়তে বসেছে। শফিক মিতুকে বীজগণিতের মান নির্ণয়ের অংক করাচ্ছে।
- স্যার আমি ধরতে টরতে পারবো না। (মিতু)
- কিসের ধরতে টরতে? (শফিক)
- এই যে বলছেন,মনে করি বা ধরি A এর মান 5, এগুলো।
- কেন কোন সমস্যা?
- হুম,এসব ভালো লাগে না।ভালো অংক করান।
- এগুলো তো সহজ অংক দেখ। একি! তুমি আমার পায়ের উপর তোমার পা দিয়ে চিমটি কাটছো কেন?
- আমার ইচ্ছা, তাই দিছি।চুপ হয়ে থাকুন।
.
শফিকের গা কাঁপতে থাকে। তাইতো পা টা সরিয়ে নেয়।এমনিতে নতুন জায়গা,তার উপর আবার লজিং বাড়ি।চাচি আম্মা দেখলে নিশ্চয়ই রাগ করবে।শফিক পা সরিয়ে নেয়াতে মিতু টেবিল থেকে রাগ হয়ে উঠে বই নিয়ে নিজের ঘরে চলে যায়।
.
পরদিন,
কাপড় কাচতে কলের পাড়ে (গ্রাম্য ভাষায়) গেছে শফিক।কাপড় কেচে নিজেও গোসল সেরে নেয়।অতঃপর লুঙী পাল্টানোর সময় চোখ যায় বেড়ার ফুটোর দিকে।নিজেকে টুপ করে আঁটোসাঁটো করে নেয় সে।তাড়াতাড়ি কাপড় পাল্টিয়ে তৎক্ষনাৎ সে স্থান ত্যাগ করে।
.
শুকনো কাপড়গুলো রোদ থেকে তুলে এনে গোছাতে শুরু করে শফিক।হঠাৎ চোখ যায় তার পছন্দের শার্টটা ছেড়া।অথচ সেটা কাচার সময় তো ঠিকই ছিলো।মনটা খারাপ হয়ে যায় শফিকের।এমন সময় মিতু ঘরে ঢুকে শফিককে চোখ টিপে দৌড়ে চলে যায় নিজের ঘরে।
.
শফিক খুব কষ্ট পেয়েছে।শার্ট খুব প্রিয় ছিলো ওর।রাহাদ নামের এক ক্লোজ ফ্রেন্ড সেটা উপহার হিসেবে দিয়েছিলো।আজ সে স্বৃতিটা মুছে যাবার উপক্রম।চোখটা ছলছল করে উঠে শফিকের।
.
- এ কি বাবা! তুমি কি কোথাও যাচ্ছো? (সাহেরা বানু)
- জ্বী চাচি আম্মা,বাড়িতে যাচ্ছি।
- বাড়ির কথা কি খুব মনে পড়ছে?
- জ্বী,চাচি আম্মা আমি আর আপনাদের বাড়িতে থাকবো না।আসলে এখানে আমার কেমন জানি লাগে।(মিথ্যা বললো)
- কি কও বাবা।মাত্র ১২ দিন হলে তুমি আসার।তোমাকে কেউ কি কিছু বলেছে বাবা? যদি বলে তাহলে আমাকে বলো,আমি তাকে শায়েস্তা করবো।
- না চাচি আম্মা।আমাকে কেউ কিছু বলে নি।
.
সাহেরা বানু কোন ক্রমেই শফিককে ছাড়তে চাইছিলো না।কিন্তু শফিক বড় নিরুপায়। আর কয়েকদিন থাকলে আরো বড় বিপদের সম্মুখীন হবে সে।তাই তো তাড়াতাড়ি কেটে পড়াই শ্রেয়।শেষ অবধি সাহেরা বানু রাজি হয়। কেঁদে ফেলেন তিনি।মায়ার বাঁধনে বেঁধেছিলেন তিনি।এতোক্ষন দরজার আড়াল থেকে সবটা শুনছিলো মিতু।
.
চাচির কাছে বিদায় নিয়ে নিজের ব্যাগটা ঘাড়ে করে আনমনে সামনের দিকে হাঁটতে থাকে শফিক।পিছনে মিতু দাড়িয়ে। মিতুর চোখ ভিজে গেছে।তার দুষ্টুমির জন্যই শফিক আজ চলে যাচ্ছে।শফিককে ডাকার মতো গলায় জোর পায় না মিতু।শুধু তাকিয়ে থাকে ১২ দিনের লজিং মাষ্টারের বিদায়ের পথের পানে।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল


.
গল্পঃ অভিমানী বউ
.
.
.
- চলো না আগামীকাল কোথাও ঘুরতে যাই? (মুমু)
- ঘুরতে! না না মুমু।আমার সময় হবে না।কাল অফিসে অনেক কাজ আছে।(এনাম)
- একটা দিন অফিস না গেলে হয় না?
- সেটা কি বলো মুমু! মাইনে কেটে নিবে।
- ওহ।
.
এতোক্ষণ মুমু আর এনামের মাঝে কথাবার্তা চলছিলো।ওদের মাঝে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক।বিয়ের আগে কয়েকমাস ভালোবাসা।তারপর পারিবারিক মতের ভিত্তিতে এই পবিত্র কাজটি সংঘটিত হয়েছে।
.
অফিস থেকে ফিরে এসে ভাত খেতে দেয়ার সময় ঘুরতে যাবার আবদার করে বসেছিলো মুমু।ইদানিং সবসময় কাজ নিয়েই বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকে এনাম।এনামের পুরো নাম এনামুল হোসেন। বিয়ের পরে কয়েকমাস ধরে ভালোই দিন যাচ্ছিলো এনাম আর মুমুর বৈবাহিক জীবনে।
.
কিন্তু বর্তমানে এনাম অন্য একটা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।ভালো মাইনে পায়।ভালো মাইনে পাওয়ার পরও মাঝে মাঝে পারটাইম কাজ করে।সারাদিন বাড়িতে একলা থাকতে হয় মুমুকে।কিছুই যেন একলা একলা ভালো লাগে নাহ।শুয়ে বসে আর কত দিন!
.
এখন কিছুটা রাত।১২টা ২৩ মিনিট।
ঘুম ভেঙে যায় মুমুর।বিছানা থেকে উঠে এনামের দিকে তাকায়।সারাদিনের ক্লান্তি শেষে কি সুন্দর ঘুমাচ্ছে। অথচ একবারো জিজ্ঞেস করলো না, সে কি রাতে খেয়েছে? বেশ নিজেই খেয়ে লাইট অফ করে ঘুমিয়ে পড়েছে।
.
একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বিছানা থেকে উঠে ছাদে যায় মুমু।চাঁদটা আকাশে জ্বলজ্বল করছে।কিছুটা আলো ছড়িয়েছে চারদিকে। মাঝে মাঝে কালো মেঘ এসে ঢেকে দিচ্ছে চাঁদটাকে।এভাবে বুঝি মানুষের আশা,স্বপ্নগুলো ঢেকে যায়।মনে মনে ভাবলো মুমু।
.
হালকা বাতাসও উঠেছে।মুমুর এলোকেশী চুলগুলো উড়ছে।বেশ ভালোই লাগছে।এমন সময় মনে পড়ে যায় পুরনো স্বৃতিগুলোর কথা।এনাম আর মুমুর স্বৃতিগুলোর কথা। কি দুষ্টুমি, মান-অভিমান,হাসি-কান্না বিজরীত স্বৃতি। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ চোখের কোণে বিন্দু বিন্দু কোণে জল এসে যায়।
.
পিছন দিক থেকে একজনের আওয়াজে ভাবনার রাজ্য থেকে হঠাৎ পিছলে পড়ে যায় মুমু।পিছনে আবিষ্কার করে এনামকে।এনাম তাকে ডাকছিলো।চোখের পানি মুছে পিছনে না ঘুরেই উত্তর দেয় মুমু।
.
- হ্যাঁ বলো,কেন ডাকছিলে? (মুমু)
- এতো রাতে তুমি ছাদে কি করো? (ভাংগা গলায় প্রশ্ন করলো এনাম।অতঃপর মুমুর দিকে এগিয়ে আসলো)
- ঘুম আসছিলো না,তাই ছাদে এসেছি।
- আমাকে তো ডাকতে পারতে।
- তুমি তো সারাদিন কত পরিশ্রম করে কি সুন্দর করে ঘুমাচ্ছিলে।যদি রাগ হও,তাই ডাকি নি।
.
- এই মুমু,তুমি কি কাঁদছো?
- কাঁদছি! কই না তো? (হাত দিয়ে চোখের পানিগুলো মুছার ব্যর্থ প্রচেষ্টা)
- মিথ্যা বলো না।প্লিজ আমাকে বলো।
- কাঁদবো কেন বলো? আমার এখন কোন কিছুরই অভাব নেই।বেশ টাকা পয়সা ইনকাম করছো।
- তা করছি ঠিক।কিন্তু তুমি কি কোন বিষয়ে আমার উপর মন খারাপ করেছো মুমু?
- না না,মন খারাপ করবো কেন বলো? সারাদিন বাসায় একলা থাকি, রান্না করি,খাই,এভাবেই তো বেশ চলছে।
- আসলে কালকে একটা জরুরী কাজ আছে।তাই তোমার কথা রাখতে পারি নি।
- একটা কথা বলতে পারো?
- কি?
- আমি কি ভালো আছি?
- তুমি ভালো আছো কিনা! এটা আমি কেমনে জানবো বলো?
- একজন স্ত্রী কেমন থাকে,সেটাতো তার স্বামীই ভালো বুঝতে পারে।তুমি এখন আমাকে তো সময় দেও না।ফোন দিলে ব্যস্ত বলো।তুমি জানো,সারাদিন কেমনে আমার সময় কাটে?
- জীবনে ভালো থাকতে হলো টাকার প্রয়োজন আছে মুমু।
- আর সেজন্য টাকাই যদি হয় ভালোবাসার মধ্যে শক্ত প্রাচীর তাহলে তার দরকার নেই আমার।আমি চাই না টাকার জন্য তুমি আমাকে দূরে ঠেলে দাও।একবারো কি জিজ্ঞেস করেছিলে,সকালে খাওয়ার পর আর আমি খেয়েছি কিনা? দুপুরে ফোন করতে চেয়েছিলে, করেছিলে কি?প্লিজ তুমি বিশ্বাস করো,আমি ভালো নেই।
.
কথাগুলো বলতে বলতে কাঁদতে থাকে মুমু। এনামের চোখেও পানি এসে যায়।সত্যিই তো,ইদানিং ব্যস্ততার জন্য লক্ষী বউটাকে সময় দেয়া হচ্ছে না।তাইতো জড়িয়ে ধরে মুমুকে।আর বলতে থাকে, "সরি আর এমনটি হবে মুমু।বিশ্বাস করো প্লিজ।"
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ