āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4532


.
" সৎ মায়ের ভালোবাসা "
.
.
.
চুপি চুপি ঘরে পা টিপে টিপে ঢুকে পড়ে নয়ন।যাতে কেউই টের না পায় সেজন্য এই ব্যবস্থা।
- নয়ন কোথায় গিয়েছিলে? (মায়া)
- ইয়ে মানে!
মায়ার কথায় থমকে যায় নয়ন।কাচুমাচু করতে থাকে।
- আমি কিন্তু আমার উত্তর পাই নি।
- আসলে বাজারে গিয়াছিলাম।
- এতো কাচুমাচু করছো কেন?
মায়ার কথায় মিথ্যা কথা বলে নয়ন।
.
মায়া নয়নের নতুন মা।মাস ছয়েক আগে নয়নের মা সায়মা পরলোক গমন করেছে।প্রথম স্ত্রীর শোক ভুলতে পারে নি নয়নের বাবা আব্দুল বাতেন।মহল্লার মানুষেরা আব্দুল বাতেনকে বাতেন সাহেব বলেই ডাকে।মহল্লার মানুষের জোরাজুরিতে পুনরায় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হন তিনি।
.
বাতেন সাহেব নয়নের আম্মুকে প্রচন্ড ভালোবাসতেন।সায়মাও তার প্রানপ্রিয় স্বামীকে কোন অংশেই কম ভালোবাসতেন না।মানুষের জীবনে নাকি বেশি সুখ সহ্য হয় না।সেটাই ঘটেছে তাদের ছোট্ট সংসারে।সুখের সংসারে হঠাৎ দুঃখের সুচনা।সুখি পরিবারটা হয়ে ওঠে দুঃখি পরিবারে।
.
নয়নের বয়স ১০ বছর।এবার ক্লাস ফাইভে উঠেছে। স্কুলে ক্লাসের মধ্যে ভালো ছাত্রদের কাতারে।রোল নাম্বার ৩।
নয়নকে দেখলে যে কারো মায়া জমে যাবে।সবসময়ে হাসি খুশির ছেলেটা এখন আর মন খুলে হাসতে পারে না।দুষ্টুমি করতে পারে না সারাবাড়ী।
.
অথচ নয়ন একসময় পুরো বাড়ি আনন্দে মাতিয়ে রাখতো। আনন্দে চারদিক মৌ মৌ করতো।এখন তার মায়ের স্থানে অন্যকেউ।যদি মায়া নয়নকে প্রচন্ড ভালোবাসে।বাসবেই না কেন! মায়াবী ছেলেকে সবাই কাছে পেতে চায়।
.
- নয়ন কোথায় যাচ্ছো দাঁড়াও। (মায়া)
- (নয়ন দরজার মুখে দাঁড়িয়ে আছে)
- আমার কাছে এসো।
নয়ন আস্তে আস্তে মাথা নিচু করে মায়ার কাছে আসলো।মায়া নয়নকে ভালোভাবে দেখে বলতে লাগলো,
- তোমার চোখ ভেজা কেন নয়ন?
- (নয়ন নিশ্চুপ)
- কথা বলো না কেন?
- কিছু হয় নি ছোট মা।
- ছোট মা! মা বলে ডাকতে পারো না?(কাঁদো কাঁদো স্বরে)
- আচ্ছা।
.
এমন সময় নয়নের পায়জামায় কিছু মাটি দেখতে পেয়ে বুঝার কোন বাকি রইলো না মায়ার।ছোট ছেলে মায়ের কথা মনে পড়তেই পারে।হয়তো তারও তার মায়ের কথা মনে পড়েছে।
- তুমি কি তোমার মায়ের কাছে গিয়েছিলে নয়ন?
- (কিছুক্ষণ চুপ থেকে হ্যাঁ সূচক ভাবে মাথা নড়ালো নয়ন)
- খুব বেশি মনে পড়েছে?
- হুম।আম্মুকে খুব মিস করছি।
এমতোবস্থায় চোখের কোণ থেকে দু এক ফোঁটা পানি টপ করে মাটিতে পড়ে মায়ার।অসম্ভব যাদু নয়নের মধ্যে।ছেলেটাকে উপর থেকে কোন কিছু বুঝার উপায় নেই।
.
- আর কখনো একা একা মায়ের কবরে যাবা না নয়ন।তুমি ওখানে গেছো,আমাকে বা তোমার বাবাকে বলেছো?
- না।
- আমরা তোমার জন্য চিন্তা করছিলাম।দুপুরে তো কিছু খাও নি।তোমার জন্য আমরাও তো কিছু খাই নি।সারাদিন মায়ের কবরে পড়ে থাকলে হবে?
নয়ন তার সৎ মায়ের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।নয়ন শুনেছিলো সৎ মায়েরা নাকি ডাইনি হয়।খুব খারাপ ধরনের হয়।খুব খাটায়।খেতে দেয় না,আদরো করে না।কিন্তু তার সৎ মা তো তাকে অনেক ভালোবাসে।
.
তার জন্য এখন পর্যন্ত কিছু খান নি তিনি।তার নিজের মায়ের মতোই তাকে আদর করে বুকে টেনে নেয়।ঘুম পাড়ায়। হোমওয়ার্ক করায়।এ কয়দিনে মা মরা ছেলেটাকে মায়া যেন নিজের মায়াজালে আবদ্ধ করে রেখেছে।নিজের ভালোবাসাটুকু উজার করে দিয়েছে।
.
মায়া প্লেটে ভাত নিয়েছে নয়নকে নিজের হাতে খাইয়ে দিবে বলে।
- নয়ন তুমি একা আর করবে যাবা না।
- কেন? মাকে যে দেখতে ইচ্ছে করে।
- যখন দেখতে ইচ্ছে করবে তখন আমাকে বলবে,আমি নিয়ে যাবো।কেমন?
- জি আচ্ছা।
মায়ার হাতে ভাত খাচ্ছে নয়ন। নয়নও এক গ্রাস ভাম মায়ার মুখে তুলে দেয়। মায়া অশ্রুসিক্ত চোখে ভাতের গ্রাসটা মুখে তুলে নেয়।মনটা যেন তার আনন্দে ভরে যায়।
.
এতক্ষন যাবত মায়া আর নয়নের কান্ড নিজ চোখে দেখছিলেন বাতেন সাহেব।তিনিও আড়াল থেকে চোখ থেকে পানি ফেলেন।তিনি জানেন, কিছু কিছু সৎ মা ভালো হয়,কিন্তু এতোটা ভালো হয়,তার জানা নেই।তাইতো মনে মনে আল্লাহর দরবারে "আলহামদুলিল্লাহ" বলে উঠেন।
.
.
"সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)
.
(

""লালপরী""
.
.
- এই যে শুনুন। (তামিম)
- আমাকে ডাকছেন? (সায়মা)
- জ্বী আপনাকেই ডাকছি।
- জ্বী বলেন কি বলতে চান। (একটু এগিয়ে গিয়ে)
- আপনার নাম সায়মা?
- জ্বী আমার নাম সায়মা।
- চলেন না কোথায় একটু বসি।
- সরি, কে আপনি?
- ধরে নিন আমি একজন মানুষ।চলুন না?
- আমি তো দেখতেই পাচ্ছি আপনি গরু কিংবা ছাগল না।আমার ক্লাস আছে।
.
সায়মা কথাটা বলে চলে গেল।তামিম দাঁড়িয়ে
দাঁড়িয়ে হাসছে।কোন কিছুই বললো না
আর।অগত্যা ভার্সিটির সামনে দাঁড়িয়ে না থেকে
গাড়ি ড্রাইভ করে অফিসের দিকে রওয়ানা দেয়।
গাড়ি ড্রাইভ করছে আর মুচকি মুচকি হাসছে।
.
তামিম এতক্ষণ তার হবু বউয়ের সাথে
কথা বলছিলো।সায়মার সাথেই তামিমের
বিয়ে ঠিক হয়েছে।সায়মা জানে তার বিয়ে
ঠিক হয়ে গেছে।কিন্তু সে পাত্রের ছবি
দেখে নি।পক্ষান্তরে তামিম সায়মার ছবি
দেখে তার ভার্সিটিতে সামনা সামনি দেখতে এসেছে।
.
সায়মাকে তার খুব পছন্দ হয়েছে।স্বপ্নের
মাঝে যে রমনীকে সে প্রতিনিয়ত কল্পনাতে
দেখতে পায় সেই মেয়েটি মনে হয় সায়মা।যেমনি
রুপ তেমনি তার কন্ঠস্বর।সায়মার সবকিছুই
মনে হয় তার জন্য আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে বানিয়েছেন।মনে মনে এসব ভাবে আর
মুচকি মুচকি হাসে তামিম।
.
প্রথমদিন সায়মার ভার্সিটিতে যাওয়ার পর
আরো কয়েকদিন সায়মাকে সরাসরি এক
নজর দেখার জন্য অপেক্ষা করে তামিম।
সায়মা তামিমকে দেখে ওড়না দিয়ে মুখটা
ঢেকে ফেলে।কিন্তু তার সাথে কোন কথা
বলে না।যদিও তামিম কিছুটা চেষ্টা করেছিলো।
.
আগামীকাল সায়মা-তামিমের শুভ বিবাহ।
বাড়িঘর বেশ সাজানো হয়েছে।
তামিম মনে মনে ভাবে,তারর বাবা-মা তার জন্য
পৃথিবীর সেরা মেয়েটাই বাছাই করেছে।
সেজন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে থাকে।অপরদিকে শ্বশুড় বাড়ি ও তার
লোকজন কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তার অন্ত নেই সায়মার।
.
যথাযথ নিয়ম পদ্ধতি মোতাবেক সায়মা
তামিমের বিবাহ সম্পূর্ণ হলো।
সারা দেহে অনেকটা আনন্দের ছাপ তামিমের।
বাসর ঘরে তার জীবর সাথী সায়মা।
তাইতো বাসর ঘরে যাবার পূর্বে দুই রাকাআত
নফল নামায আদায় করে নেয়।যাতে তাদের
জীবন সুখী হয় সেজন্য প্রতিপালকের কাছে
দোয়া করতে থাকে।
.
হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা সায়মাকে উজাড়
করে দেয়ার জন্য বাসর ঘরে ঢুকে পড়ে তামিম।
ঢুকেই সালাম দিতে দিতে বিছানার দিকে এগুতে থাকে।
সায়মাকে লাল বেনারসিতে আগের থেকেও অপূর্ব লাগছিলো।সেই সাথে পরনে হালকা গহনা তার রুপকে অনেকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।
.
সায়মা মাথা নিঁচু করে বসে আছে।মনে হয়
বাসর ঘরে খানিকটা লজ্জা পাচ্ছে।কিংবা
তার মনের মধ্যে ভয় কাজ করছে।নতুন
মানুষের সাথে এক ঘরে।জানে সে,কেমন
হবে সেই অপরিচিতজন।সায়মার মাথা নিঁচু
করে থাকতে দেখে তামিম নিজেই তার মুখটা
উঁচিয়ে ধরার চেষ্টা করলো।সায়মা তার
হরিণের মতো চোখ দুটো মেললো।
.
- একি আপনি এখানে! (খানিকটা আশ্চর্য হয় সায়মা)
- আমার ঘরে আমি থাকবো নাতে কি অন্য কেউ থাকবে?
- আপনার ঘর মানে?
- জ্বী, ম্যাডাম এটা আমার ঘর।আর এই খাটটা যে দেখছেন সেটাও আমার।আর..........!
- আর কি? (নরম স্বরে)
- বিছানার উপরের লাল পরীটাও।
.
- কি যে বলেন! আপনি তো একটা বখাটে।ভার্সিটির সামনে আমাকে বিরক্ত করতেন।
- তোমার রুপ দেখে আমি অভিভূত।তাইতো প্রতিদিন দেখার সাধ হতো।তাই তো.......!
- তাই তো কি?
- তাই তো তোমারে আরো কাছে পেতে চেয়েছিলো এই মন।ছুঁয়ে দিতে চেয়েছিলো ভালোবাসায়।
- এখন তো পারেন। সারাজীবন আমাকে ওভাবে ভালোবাসবেন?
- হুম বাসবো।সারজীবন বাসবো।ঠিক এমন করে।
(এমন সময় তামিম সায়মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা উজার করে ঢেলে দেয় তার হৃদয়ে।যেখানে এখন শুধু তারই অধিকার।)
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)


.
"তাহারেই পড়ে মনে"
.
.
পৃথিবী যখন অনেক খানি নিস্তব্ধ, তখন
ছাদের উপর দাঁড়িয়ে আকাশ
দেখছিলাম।কত সুন্দর তারাগুলো ঝলমল
ঝলমল করে জ্বলছে।মৃদ্যু বাতাসও
বইছে।সবমিলিয়ে অসাধারন একটা
পরিবেশ। এসময় মায়া থাকলে হয়তো
পরিবেশটা আরো অন্যরকম হতে
পারতো।
.
মায়া আমার স্ত্রী।সে এখন গত।কথায়
আছে, "বেশি ভালোবাসা/সুখ নাকি
মানুষের জীবনে সয় না।" সেটিই
ঘটেছে আমার জীবনে।৪ বছরের
ভালোবাসার পর সম্পূর্কটা দম্পতিতে
রুপান্তরিত হয় আমার আর মায়ার
মাঝে।কিন্তু ৪ মাসের মাথায়
জানিনা কেন সে আমাকে কাঁদিয়ে
পরপারে পারি জমিয়েছে।এ চারমাসে
অনেক হ্যাপি ছিলাম আমি।
.
বিয়ের আগে সে বলেছিলো, "বাঁচলে
একসাথে বাঁচবো নতুবা একসাথে
মরবো।" কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল!
আমাকে সে সাথে নিলো না।একাই
চলে গেল কাঁদিয়ে আমায়।সেজন্য
ভীষণ রাগ করেছি মায়ার উপরে।
.
মায়াকে হারানোর দেড় বছর অতিক্রম
করেছে।নাহ! তাকে আমি কখনোই
ভুলতে পারি নি।জানি নাহ! মেয়েটা
কোন বাঁধনে বেঁধেছে আমায়।তার মৃদ্যু
হাসি আমার মনটাকে প্রচন্ডভাবে
নাড়িয়ে দিতো।সবসময় তার হাসিটা
আমার চারদিকে আজো ঘুরে।
.
আব্বা পুনরায় আমার বিয়ে দেয়ার
জন্য মেয়ে খুঁজে পেয়েছেন।আমি
রাজি হইনি।তবুও আমার উপর জবরদস্তী
করা হয়েছে।আম্মাও খুব করে ধরেছে।
তাইতো নাম মাত্র বিয়ে করার জন্য
রাজি হয়েছি।শুভ কাজটা
আগামীকালই সংঘটিত হবে।
.
গতকাল সামিহার সাথে দেখা করেছি
একাকী।মেয়েটার নাম সামিহা।
দেখতে মন্দ না।শ্যাম বরণ,বেশ
মায়াবী।শুনেছি শ্যাম বরণের মেয়েরা
নাকি খুব স্বামী ভক্ত হয়।জানি না
কি হবে জীবনের দ্বিতীয় ধাপে।
সামিহাকে সব বলেছি।সে নাকি
আমার বিষয়ে সব কিছু জানে।তবুও
রাজি।
.
পরদিন.............
কিছুক্ষণ আগে আব্বা বিয়ের
শেরওয়ানী, পাগড়ী,পাঞ্জাবি,
পায়জামা রেখে গিয়েছেন।সা'দকে
বলে গিয়েছেন যেন তাড়াতাড়ি
আমাকে রেডি করায়।অবশ্য আমি
জাঁকজমক করে ২য় বিবাহে দ্বিমত
পোষণ করেছিলাম, কিন্তু আমার কথা
অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
.
২য় বিবাহের জন্য রেডি হয়েছি।আজ
আরো বেশি মায়াকে মনে পড়ছে।
এভাবেই একদিন খুশি মনে মায়াকে
ঘরে তোলার জন্য রেডি হয়েছিলাম।
মনে হলো কিছু একটা আমার কাছ
থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।মায়া মনে
হলো আর হাসছে না।তার মুখে
বিষাদের ছাপ।তাইতো তার ছবিটা
ডয়ার থেকে বের করে দেখতে
লাগলাম।নাহ! ছবিতে তো সে বেশ
হাসছে। তাহলে কি আমার মনের ভুল!
.
এক ফোঁটা চোখের পানি টপ করে
ছবির মধ্যে পড়ে গেল।পিছনে কাকে
যেন আবিষ্কার করলাম।ফিরে দেখি
আব্বা।আব্বা সাথা নাড়িয়ে বলতে
লাগলো, "দেখ,আমার মনে হয় সামিহা
তোমার সব দুঃখ ভুলে দিতে পারবে।
মায়া তো চলে গেছে।তাকে মনে করে
আর কি হবে!"
.
আব্বাকে বোঝাতে ব্যর্থ হলাম আমি
মায়াকে কতটা ভালোবাসি এখনো।
তিনি আমার চোখের পানির ভাষা
বুঝতে ব্যর্থ হলেন।যাইহোক এভাবেই
বিয়ের পর্বটা শেষ হয়ে গেল।
সামিহাকেও সাথে করে নিয়ে
আসলাম।ওকে বেশ সুন্দর লাগছিলো।
আগে দেখেছি শ্যাম বরণ,এখন একদম
মনে হচ্ছে না।মেকাপ করতে নিষেধ
ছিলো আব্বার।তিনি এসব পছন্দ করেন
না।।মনে মনে ভাবলাম, "যতই সুন্দর
দেখাখ,মায়ার মতো হবে না।"
.
ছাদে পাঞ্জাবি পড়েই দাঁড়িয়ে
আছি।সামিহা ভিতরে বধু সেজে বসে
আছে।ভিতরে যেতে ইচ্ছে করছে না।
শুধু মনে হচ্ছে মায়া আর হাসছে না।
তাহলে সে কি আমার দ্বিতীয় বিবাহে
খুশি নয়? যাইহোক চোখে বড্ড ঘুম।ঘরে
প্রবেশ করে পাঞ্জাবি খুলে লুঙ্গি
পড়ে নিলাম।
.
সামিহাকে বললাম শুয়ে পড়তে।বলেই
আমি নিজে ডান কাত হয়ে চোখ বন্ধ
করলাম।সামিহাও শুয়ে পড়লো।কিন্তু
আমার ঘুম আসছিলো না।তাইতো ফের
চোখদুটো খুলে ফেললাম।এখন মনে
হলো সে হাসছে।সেই চিরাচরিত
হাসি।যা দেখলে মন জুড়িয়ে যায়।
.
- আপনি কি ঘুমাবেন না? রাত তো
অনেক হলো।এতো কি চিন্তা করেন?
(সামিহা)
কি বলবো সামিহাকে? ভাষা
নেই,হারিয়ে ফেলেছি।একটা
দীর্ঘশ্বাস ফেলে উত্তর দিলাম,
"তাহারেই পড়ে মনে,ভুলিতে পারি না
কোনমতে।"
.
.
"লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম(কাশফুল)"


.
"আত্মশুদ্ধি"
.
- নয়ন,দাঁড়াও তো। (মিজান স্যার)
- জ্বী স্যার বলুন।(নয়ন)
- বলতো আয়তকারক্ষেত্র কাকে বলে?
- (কিছুক্ষণ মাথা চুলকিয়ে) পারি না
স্যার।
- কেন পারো না?
- গতকাল অসুস্থ ছিলাম স্যার।তাই পড়ে
আসতে পারি নি।
- অসুস্থ ছিলা বলে পড়া যাবে না?
- অসুস্থ থাকলে কিভাবে পড়বো স্যার?
- মুখে মুখে তর্ক করো আবার?
.
নয়নের পাল্টা উত্তরের কারণে
মিজান স্যার নয়নকে কয়েকটা চড়
মারলেন।নয়ন শুধু মিজান স্যারের
দিকে অবাক নয়নো তাকিয়ে আছে।
কিছুই বলছে না।স্যারের চোখে মুখে
রাগের চিহ্ন। কিছু না বলে টপটপ করে
পানি ফেলতে থাকে নীরবে।
.
মিজান স্যার ক্লাস শেষ করে চলে
যায়।নয়ন সর্বশেষ বেঞ্চে গিয়ে বসে
পানি ফেলতে থাকে। ক্লাসের সবাই
নয়নের দিকে তাকিয়ে আছে।নয়ন
ভালো ছাত্র।ইদানিং অসুস্থতার
কারণে ঠিকমত লেখাপড়া করতে
পারছে না।ক্লাস ফাইভে পড়ে নয়ন।
.
গালের উপর মিজান স্যারের
থাপ্পড়ের চিহ্ন বসে গেছে।লাল হয়ে
গেছে গালটা।আস্তে আস্তে শরীর
আবার গরম হতে থাকে নয়নের।বেঞ্চেই
মাথা রেখে শুয়ে পড়ে।ক্লাসের
কয়েকজন ছাত্র তাড়াতাড়ি অন্য দুজন
শিক্ষককে ডেকে আনে।তাড়াতাড়ি
করে ক্লাসে ঢুকে দেখে নয়নের গা
জ্বরে ফেটে যাচ্ছে।দুজন ছাত্রকে
নিয়ে তাড়াতাড়ি করে নয়নের
বাড়িতে যায় সুজন স্যার।
.
নয়নের সহপাঠী আপন মিজান স্যারের
চড়ের কথা জানিয়ে দেয় হেড মাষ্টার
সাহেবকে।স্কুলে এখন মিজান স্যারের
নির্মমতার কথা ছড়িয়ে পড়েছে।
মিজান স্যার অফিসে চুপটি মেরে
বসে আছেন।তার মুখ দিয়ে কোন কথা
বের হচ্ছে না।বের হবেই বা কি করে!
তিনি তো ভুল করেছেন।
.
হেড মাষ্টার সাহেব মিজান স্যারকে
অনেক বকা দিয়েছে।হেড মাষ্টার
সাহেবের কথার কোন প্রতিবাদ করার
সাহস মেলেনি তার।মনে মনে নিজের
ভুলটা বুঝতে পেরেছেন।কিন্তু
প্রায়শ্চিত্ত করার কোন রাস্তা
পাচ্ছেন না।
.
নয়নকে বিছানায় শোয়ানো হয়েছে।
ডাক্তার সাহেবও এসেছেন।তিনি
নয়নকে পরীক্ষা করে একটা
প্রেসক্রিপশন লিখে দিলেন। স্কুল
ছুটি হয়েছে,সব শিক্ষকরা নয়নকে
দেখতে এসেছেন।কিন্তু শুধুমাত্র
মিজান স্যার বাদে।বারবার মনে
পড়ছে তার কুকর্মের কথা।কি করে
পারলেন তিনি এটা? ভাবতেই তার গা
শিউরে উঠে।
.
পরদিন সকাল,
মিজান স্যার নয়নদের বাড়িতে
গেছেন।মাথায় কার টুপি পড়া।
- নয়ন, নয়ন? (নয়নের বাবা)
- কি? (নয়ন)
- দেখ তোমার মিজান স্যার এসেছেন।
- না,তুমি উনাকে চল। যেতে বলো।না
হলে উনি আমাকে আরো মারবে।
- না নয়ন আমি তোমাকে আর মারবো
না বাবা।দেখ দেখ,একটু এদিকে দেখ
প্লিজ নয়ন।(মিজান স্যার)
- না না।আমি দেখবো না।আপনি চলে
যান।(নয়ন)
- দেখ নয়ন,আমি ফজরের নামায পড়ে
তোমার জন্য দোয়া করেছি।তুমি
আমাকে চলে যেতে বলছো? কথা
দিলাম নয়ন,কখনো আর কারো গায়ে
আমি হাত তুলবো না।
- সত্যি বলছেন তো স্যার?
- হুম সত্যিই বলছি।
- শিহাব,ওমর,সানি কেও কিন্তু মারতে
পারবেন না।
- হুম কাউকেই মারবো না আমি।
সবাইকে খুব আদর করবো।এখন তো একটু
আমার মুখের দিকে তাকাও।
.
স্যারে কথা শুনে স্যারের দিকে
হাস্যজ্বল মুখে তাকায় নয়ন।মিজান
স্যারও কিছুটা মুচকি হাসি দেয়।
আবেগাপ্লুত হয়ে নয়নকে বুকে টেনে
নেয় মিজান স্যার।
.
""সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম""

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ