.
" অবাক করা জীবন "
উৎসর্গঃ সকল এসএসসি পরীক্ষার্থীদেরকে
.
.
.
সূর্যের কিরণের ন্যায় মুখে একফালি হাসি তামিমের।হাতে এসএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার ফাইল।যাতে সবকিছু ভালোভাবে সাজিয়ে নিয়েছে।সবাই অনেক দু'য়া করেছে ছেলেটার জন্য।কেউ কেউ বকশিসও দিয়েছে।
.
তামিম মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।বাবা একজন স্কুল শিক্ষক।গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে পড়ার তিনি।তামিমেরা তিনভাই বোন।যার মধ্যে তামিম দ্বিতীয়।তামিমের ছোট একটা বোন আছে।ওর নাম পরী।
.
ক্লাসের সেরা পাঁচজন ছাত্রের চেয়ে কোন অংশেই কম নয় সে।প্রচুর পড়ে, সাথে লেখাটাও চালিয়ে যায়।পড়ার সাথে সাথে লিখলে সে পড়াটা অনেকদিন যাবত মনে থাকে।এই কথাটুকু অনুসরণ করে তামিম।
.
এভাবে ৫টি পরীক্ষা অতিবাহিত হয়ে যায় তামিমের। প্রতিদিনই খুশি মনে বাড়িতে ফিরে আসে।খাতা নেয়ার সময় বিসমিল্লাহ্ বলে শুরু করে।প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর সবটা ভালো করে দেখে আলহামদুলিল্লাহ বলতে ভুল হয় না কোনদিনই। এটা তার বাবার আদর্শ।
.
আজকে গনিত পরীক্ষা। প্রশ্নপত্র হাতে নিয়ে ভালো করে পড়ে নেয়। খুশিতে মনে মনে আত্মহারা হয়ে যায় তামিম।সবগুলোই তার কমন।তাইতো কোনদিকে না তাকিয়ে অংক করতে থাকে।
.
- দোস্ত ৭ নং অংকটার অর্ধেক করে ভুলে গেছি। প্লিজ একটু বলতো। (দিপু)
- কি বলিস! এখন পাবো না।আজকে খুব কড়া গার্ড।(তামিম)
- দেখাও না অংকটা প্লিজ।
বারবার অনুরোধ করতে থাকে দিপু।দিপু তামিমের ক্লাসমেট। বারবার ডাকছে সে।এবার একটু পিছরে ফিরে তাকায় তামিম।
- কোনটা সমস্যা?
- এই তো এখানে।
এমনসময় দিপু ম্যাজিস্ট্রেটকে দরজার কাছে দেখতে পায়।অনেকটা ঘাবড়িয়ে যায় সে।ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব তো তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।কোন উপায় না দেখে দিপু সশব্দে বলতে থাকে,
- তোকে না কতবার বললাম আমি তোকে দেখাবো না।তারপরও তুই আমার খাতা দেখছিস মানে?
- কি বলিস তুই? (আশ্চার্য হয়ে)
- হুম ঠিকই তো বলছি।
.
এতক্ষন দিপু আর তামিমের কথাবার্তা শুনে ম্যাজিস্ট্রেট তামিমের খাতা নিয়ে নেয়।রাগের ভঙ্গিতে তামিমের দিকে তাকায়। তামিম ভয় ভয় করে দাড়িয়ে পড়ে।
- এই ছেলে পিছনে কি দেখছো?
- ইয়ে মানে! ইয়ে মানে স্যার!
- লেখাপড়া করে পরীক্ষা দিতে আসো নি?
- করেছি তো স্যার।ও বললো অংকটার পরে কি হবে....!
- থাক,আমি দেখেছি তুমি কি করেছো।
- স্যার আপনি মনে হয় ভুল দেখেছেন।
- আমি ভুল দেখেছি মানে? তুমি কি আমাকে অন্ধ ভেবেছো?
- না মানে সেটা বলতে চাই নি স্যার।
- তুমি কি আমাকে জ্ঞান শিখাচ্ছো? যাও এই মূহুর্তে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে যাও।তোমাকে স্পেল করা হলো।
- প্লিজ স্যার আমার খাতাটা দিন।
.
কাঁদতে থাকে তামিম।সকলের মন গলেছে কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের মন গলে নি।তাইতো সে আমার খাতা পায় নি।অনেক কান্নাকাটি করার পর হল থেকে বের হতে বাধ্য হয় সে।
.
পরীক্ষার হল থেকে বাড়িতে কান্না করতে করতে ঢুকে পড়ে।বাড়ির কাউকেই কোন কথা বলে না।সরাসরি দরজা আটকিয়ে কাঁদতে থাকে। বাড়ির সবাই খুব ডাকাডাকি করলো কিন্তু নাহ! কোনক্রমেই দরজা খুললো না।
.
বাড়ির সবাই তখনি জানতে পারলো যখন তামিমের বাবা আকরাম মিয়া বাড়িতে আসলেন।বাড়িতে এসেই তিনি হাঁটু গেড়ে কাঁদতে থাকলেন আর বলতে লাগলেন,
- কি ছেলে জন্ম দিছিলাম আমি! কি দোষ করেছিলাম আমি! যার জন্য এই ছেলেকে পেয়েছিলাম।কত আশা ছিলো আমার.........!
- কি হয়েছে আপনার? বলবেন তো! তামিমও পরীক্ষার হল থেকে এসে দরজা আটকে দিছে কিন্তু এখন পর্যন্ত খুলছে না।(তামিমের মা)
.
- না খুলুক।ও মরে যাক।ওর মতো ছেলের আমার দরকার নাই।তোমার ছেলে আজ পরীক্ষার হল থেকে স্পেল হয়েছে।স্কুলের সবাই আমাকে উপহাস করেছে।অনেক লোক আজ আঙ্গুল তুলে বলেছে, "ওই যে তামিমের বাবা যায়। উনি নাকি শিক্ষক,অথচ ওনার ছেলে স্পেল হয়েছে।"
কথাগুলো বললেন আর কাঁদতে থাকেন।আকরাম মিয়া কান্না দেখে পুরো বাড়ির লোকজন কাঁদতে থাকে।
.
এতক্ষণ তামিম ঘরের ভিতর থেকে সব শুনছিলো।শেষপর্যন্ত তার বাবাও তাকে অবিশ্বাস করলো! তিনি এত সহজে মেনে নিলেন তার ছেলে অন্যের দেখতে দিয়ে স্পেল! আজকে মানুষ তার বাবার দিকে আঙ্গুল তুলেছে।অপমান করেছে খারাপ ভাষা করে।এ সব কিছুর জন্য একমাত্র সেই দায়ী।মনে মনে ভাবতে থাকে তামিম।
.
হঠাৎ তার মনে হতে থাকে আগামীকাল যখন বাড়ির বাইরে বের হবে,তখন কি হবে? সবাই তো তার দিকে আঙ্গুল তুলবে।কিন্তু কেউই জানতে চাইবে না আসল ঘটনা কি!
তাইতো সে ঘটনার সম্মুখীন হবার আগে যা করার তাকেই করতে হবে।
.
সবাই যখন যে যার মতো ঘুমে ব্যস্ত ঠিক তখনি ছোট্ট একটা চিরকুট লিখে আজীবন ঘুমের দেশে পাড়ি জমায় তামিম।সুন্দর পৃথিবীর নিষ্টুর মানুষগুলো তাকে বাঁচতে দিলো না।
.
পরদিন তামিমদের বাড়িতে কান্না রোল পড়ে যায়।আকরাম মিয়া উঠানে গালে হাত দিয়ে চোখের পানি ফেলছেন।এমনসময় পরী এসে চিরকুটটা তার বাবার হাতে ধরিয়ে দেয়.........
"বাবা মানুষের কথায় শেষ অবধি তুমিও আমাকে অবিশ্বাস করলে।অথচ এই সময় তোমাদের সকলের সাহস আমার খুব প্রয়োজন ছিলো।তুমি কিভাবে বিশ্বাস করলে, তোমার ছেলে নিজের দোষে স্পেল হয়েছে।শেষপর্যন্ত দুঃখ নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে গেলাম।দুনিয়ার মানুষগুলো সত্যিই আজব বাবা।ভালো থাকো সবসময়ই।"
................ইতি,
................জীবন যুদ্ধে পরাজিত সৈনিক (তামিম)
.
আকরাম মিয়া কাঁদছেন। তার চোখেন পানিতে চিরকুটটা ভিজে যাচ্ছে।সেদিকে কোন নজরই নেই তার
.
.
" সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল) "
.
" লিমা পাগলি "
.
.
.
তামিম আর আমি খুব ভালো বন্ধু।তামিমদের বাড়ি বেশ কয়েকবার গিয়েছি।বেশ শিক্ষিত পরিবার ওরা।কিন্তু আমি কখনো আমার বাড়িতে তামিমকে নিয়ে যেতে পারি নি।কারণ আমি গ্রাম থেকে এসেছি।আমার মোটামুটি দূরে।
.
গ্রীষ্মের ছুটিতে ভাবলাম ওকে আমাদের বাড়ি দেখিয়ে আনি।
- দোস্ত চল আমাদের বাড়ি। (আমি)
- না,কোথাও যাবো না।(তামিম)
- যদি না যাস তাহলে আমাদের বন্ধুত্ব ব্রেকআপ।
- কি বলিস এগুলা!
- সত্যি বলতেছি।
কথাটা বলে হনহন করে হাঁটতেছি।তামিম পিছন থেকে আমাকে ডাকছে।
- কি রে মন খারাপ করলি? (তামিম)
- (চুপ)
- কি রে কথা বলিস না ক্যান? আচ্ছা যাবো,এবার তো কথা বল।
- সত্যি যাবি? খুব মজা হবে। তাঞ্জিদকেও সাথে নিবো।
- ওকে মাম্মা।
.
গ্রীষ্মের ছুটির দুদিন পর তামিম তাঞ্জিদকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসলাম।বেশ কয়েক ঘন্টা জার্নি করতে হয়েছে। তাইতো বাড়িতে এসেই হাতমুখ ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।তামিম ও তাঞ্জিদও আমাকে অনুসরণ করলো।
.
তামিম ও তাঞ্জিদ শহরের ছেলে।গ্রামে থাকার মজা তারা বুঝে না।তাই তো প্রথমদিন শিয়ালের ডাক শুনে বেশ ভয় পেয়ে গেছিলো। আমি তাদের অভয় দিয়েছিলাম।আমার বাড়িতে শহরের আত্মীয়দের পেয়ে বেশ খাতির যত্ম শুরু করে দিয়েছে। নিজস্ব গাভীর দুধ,পুকুরের মাছ,গাছের ফল পেয়ে খুশিতে আত্মহারা দুজনই।
.
পরদিন........
বিকেলে তিনজনেই গ্রাম দেখতে বের হয়েছি।আমাদের সামান্য জমিজায়গা তাদের দেখিয়ে ফিরছিলাম।হঠাৎ চোখ গেল চিরচেনা সেই বটগাছটার দিকে।লিমা পাগলি চিঠি লিখছিলো আর মুচকি মুচকি হাসছিলো।কিছুক্ষণপর তা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে হাউমাউ করে কাঁদতে আরম্ভ করলো।এটাই লিমা পাগলির চিরাচরিত ধরণ।গত ৭ বছর থেকে এটাই দেখে আসছি।
.
- দোস্ত এটা কে রে? (তাঞ্জিদ)
- লিমা পাগলি।(আমি)
- লিমা পাগলি মানে? (তামিম)
- পাগলি মানে পাগলি, আমার পাগলিটার নাম লিমা।সবটা মিলে হয়েছে লিমা পাগলি।
- ওহ এভাবে চিঠি লিখছে আর ছিঁড়ছে কেন?
- সেটা তো আজ অবধি কেউ জানে না।
আমার কথায় কিছুটা অবাক হয়ে যায় তামিম আর তাঞ্জিদ।বটগাছের নিচে লিমা পাগলি তার চিঠি লিখতে আর ছিঁড়তে ব্যস্ত।আর আমরা তিনজন বাড়ির দিকে হাঁটছি।
.
- লিমা পাগলির চিঠি লেখা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নি।তবে সবাই ধারনা করেছে সে কাউকে হয়তো ভালোবাসতো,তার ভালোবাসার মানুষটি তাকে হয়তো দাগা দিয়েছে।তাই তো মুচকি মুচকি হেসে হেসে চিঠি লিখে, আবার পরক্ষনে ভুল ভাঙ্গলে তা ছিঁড়ে ফেলে।
- লিমা পাগলির বাড়ি ঘর নাই দোস্ত? (তামিম)
- সবই আছে।
- তাহলে বটগাছের নিচে কেন?
- এ কথার ভিত্তিতে একটা লোমহর্ষক কাহিনী আছে।যদিও কাহিনীটা পুরোপুরি সত্যি,তবে তোদের কাছে কাল্পনিক মনে হতে পারে।
- বল না প্লিজ শুনি।
- ওকে বলতেছি।
.
ফসলের ক্ষেতের মাঝ দিয়ে হাঁটছি।দখিনা বাতাস ফসলগুলোকে দোল দিচ্ছে।আকাশ নীলাভ রং ধারন করেছে।আমি দীর্ঘনিঃশ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করলাম,
গ্রামের সহজ সরল মেয়ে ছিলো লিমা।আমি দেখেছি নিজ চোখে।সবসময় সারাগ্রামে ঘুরে বেড়াতো। কারো আম,কাঁঠাল,কিংবা জাম চুরি করে খাওয়া ছিলো তার চিরাচরিত অভ্যাস।স্কুলেও যেত।বেশ ভালো ছাত্রী ছিলো।হঠাৎ একাদিন তার এই দূরন্তপনা বন্ধ হয়ে যায়।চুপ করে ঘরের ভিতরে বসে থাকে আর কি যেন ভাবে।
.
লিমা পাগলির বাবা ছোটবেলায় মারা যায়।দুই ভাই আর মায়ের সাথে থাকতো সে।একদিন বিয়ের পোশাক পরিচিত অবস্থায় তাকে এই বটগাছের নিচে পাওয়া গিয়েছিলো।সেদিন তাদের বাড়ির টাকা-পয়সা, সোনা দানা সব চুরি হয়ে গিয়েছিলো।লিমা পাগলিকে খুব বাজে অবস্থায় এখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।সে সুস্থ হয়েছে বটে,কিন্তু মানুষিক শক্তিটা ফিরে পায় নি।তার এই অবস্থার পর মাস পাঁচেকের ভিতরে তার মা হইলোক ত্যাগ করেন।
.
সারাদিন এই বটগাছের নিচে বসে থাকবে আর চিঠি লিখবে।মুচকি মুচকি হাসবে কিংবা কাঁদবে।এভাবেই চলতে থাকে তার জীবন।মাঝে মাঝে তার ভাইয়েরা বাড়ি নিয়ে খাবার খেতে দেয় লিমা পাগলিকে।নতুবা অনাহারেও কাটায়।কিন্তু কেউই কখনোই জানতে পারে নি কোন পাষন্ড সহজ সরল একটি মেয়ের সাথে এমনটা করেছে!
.
- হয়রে মানুষ! (তাঞ্জিদ)
- কি করবি বল! মানুষের জীবনের মোড় যে কোথায় ঘুরে যায় কে বা বলতে পারে!
কথা বলতে বলতে বাড়িতে চলে এসেছি।মাগরিবের আযান পড়ছে। ওযু করে নামাযের জন্য প্রস্তুত হলাম।দূরের সেই বটগাছের নিচে লিমা পাগলির কান্না আওয়াজ ভেসে আসছে।কতক্ষণ এভাবে কাঁদবে, কে বা জানে!
.
"সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)
.
" পিচ্ছি বউ "
.
.
.
- ভাইয়া আমি কিন্তু তোমাকেই বিয়ে করবো! (আনিকা)
- (হাহাহাহা) (আকাশ)
- হাসো কেন?
- তুই তো পুচকি।আর আমি দেখ কত বড়!
- আমিও তো কিছুদিন পর বড় হবো। তখন করবো।
- তোর ভাবি শুনলে আমাকে ক্যালাবে।এখন ঘরে যা।
- আমি তোমার মোবাইল দেখেছি।কোন মেয়ের নাম্বার তো খুঁজে পাই নি।আমাকে মিথ্যা বলা হচ্ছে।ভাইয়া আমি কিন্তু তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি।আর আমিই তোমার বউ হবো।
- তুই যাবি এখান থেকে?
.
এতক্ষণ যাবত আনিকার সাথে কথা হচ্ছিলো আকাশের।আকাশ আনিকার মামাতো ভাই।তারা একটা বাড়িতেই থাকে।আকাশ এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিবে।আর পিচ্ছি আনিকা কেবল পঞ্চম শ্রেনিতে।পঞ্চম শ্রেনিতে পড়লে কি হবে! বড় পাকা পাকা কথা বলে এই আনিকা।
.
আকাশের রাগের কারনে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায় আনিকা।মনে মনে হাসতে থাকে।পড়ার টেবিলে বসে আকাশও ভাবে,একটুকু মেয়ে! সাহস এতবড়! আকাশের ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় খেলতে যায় আনিকা।আকাশ টেবিলেই পড়তে বসে।
.
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আকাশের কাছে হাজির হয় আনিকা।আজকে তো পুতুল ভেঙেছে,কাল তো অংকটা মাথায় ডুকছে না ইত্যাদি।আকাশও আনিকার সব প্রবলেম সলভ করার চেষ্টা করে।হাজার হোক ফুফাতো বোন বলে কথা।
.
আনিকা আর আকাশের বাবা- মা দুজনের কাহিনী দেখে মাঝে মাঝে হাসেন। আনিকা আসলেই সবসময় আকাশের পিছনে আঁটার মতো লেগে থাকে।তাইতো প্রায়ই আনিকাকে আকাশের দৌড়ানি খেতে হয়।তবুও তাকে পাছ ছাড়া করে না পিচ্ছি মেয়েটা।আনিকা দেখতে খারাপ নয়,বেশ সুন্দর দেখতে।
আকাশও আকাশের মতোই সুন্দর।
.
কোন এক পড়ন্ত বিকেলে আকাশের মা হ্যার্ট এ্যাটাকে হইলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোকে চলে যায়।রেখে যায় প্রানপ্রিয় স্বামী আর আকাশকে।জীবনটা বড়ই অদ্ভুত! মায়ের মৃত্যুর বছর খানেকের মাথায় মালয়েশিয়া চলে যায় আকাশ।লেখাপড়া আর শেষ করা হয়নি।
.
যেদিন আকাশ মালয়েশিয়া চলে যায় সেদিন আনিকা খুব কেঁদেছিলো।আনিকাকে সান্তনা দেয়ার ভাষা জানা ছিলো না আকাশের।তাইতো শেষবারের জন্যও তার সাথে দেখা করে নি।মালয়েশিয়া যাবার প্রক্কালে বাবাকে একা করে দেয় আকাশ।মূহুর্তের মধ্যে জীবনের প্রান্তর ঘুরে যায় আকাশদের সংসারে।
.
- ভাইয়া তুমি কি আর ফিরে আসবে না?(আনিকা)
- কেন আসবো না?
- অনেক মানুষ তো বিদেশে বিয়ে করে সেখানেই থেকে যায়।
- আরে পাগলি আমি তোমাদের ছাড়া আর কয়দিনই বা থাকতে পারবো!
- হুম,তুমি তাড়াতাড়ি চলে আসবে।আর খবরদার ওখানে বিয়ে করবে না।আমাকে দেশে এসে বিয়ে করবে।
আনিকার কথায় সেদিন মুচকি হেসেছিলো আকাশ।আনিকা কোন উত্তর না পেয়ে ছাদে চলে গিয়েছিল গোলাপের গাছটাতে পানি দেয়ার জন্য।
.
আজ ৩টি বছর কেটে গেল। এ তিনটা বছর যে কিভাবে সে একলা কাটিয়েছে সেটা হয়তো প্রবাসী ব্যক্তিই জানে।বারবার বাড়ির কথা মনে পড়তো। বাবার কথা,মায়ের স্বৃতিগুলো, আনিকার কথা।যদিও মোবাইলে মাঝে মাঝে কথা হতো।খুব বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছিলো আকাশের।
.
অবশেষে আকাশ মাসখানেকের ছুটি পেয়ে যায়।দেশে ফিরে আসে।অনেকদিন পর আকাশকে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠে বাড়ির সবাই।আগের মতো আর দুষ্টুমি করে না আনিকা।দূর থেকে আকাশকে দেখে শুধু মুচকি মুচকি হাসে।আকাশও তার সাথে যোগ দেয়।পুরনো দুষ্টুমির কথা মনে পড়ে যায় আনিকার।লজ্জায় সে মাথা তুলতে পারে না।যখন আকাশ বিদেশে চলে যায় তখন আনিকা ৬ষ্ঠ শ্রেনিতে পড়তো।আর এখন নবম শ্রেনিতে।
.
দুদিনপর......
- আকাশ একটা কথা বলতে চাইছিলাম।(আকাশের বাবা)
- বলো আব্বা।
- তোর মা আমাকে একদিন তোর বিয়ে সম্পর্কে বলেছিলো।ছোট্ট আনিকাকে তখন তার খুব পছন্দ ছিলো।খুব ইচ্ছে ছিলো তোদের বিয়ের দিবেন।কিন্তু.......!
- কি যে বলো বাবা! আনিকা তো আগের মতো নেই।আগের চেয়ে কত সুন্দর হয়েছে।ও কি আমাকে বিয়ে করবে!
- মেয়েটা এখনো তোকে ভালোবাসে।মাঝে মাঝে দেখি মুখ লুকিয়ে কাঁদে।
- যদি মামা-মামি রাজি থাকে তাহলে আমার আপত্তি নেই।
- তোর মামা-মামি তো রাজি।
- তাহলে আমার কোনন আপত্তি নেই।
.
অতঃপর পারিবারিকভাবে বিয়েটা হয়ে যায় একসময়ের পিচ্ছি আনিকার।বাসর ঘরে বসে একটু লজ্জাবোধ করছে।অবশেষে তার মনে ইচ্ছে পূরণ হলো।
- আনিকা এবার খুশি তো? (আকাশ)
- (জানি নাহ)
- ক্যান?
- (চুপ)
- তুই তো আমার বউ হতে চেয়েছিলি।ভালোবাসতিস আমাকে।আজকে তো স্বপ্ন পূরণ হলো।
- আমি কি তোমাকে একাই ভালোবাসতাম? তুমি কখনো বাসো নি? সত্যি বলবা,হ্যাঁ অথবা না।
- ইয়ে মানে! বাসতাম। তবে তোর মতো না।
- বউকে বুঝি তুই করে বলতে হয়!
- তাহলে কি করে বলবো?
- তুমি করে বলবা।
- যথা আজ্ঞা মহারানী।আচ্ছা তোমার তো স্বপ্নপূরন হলো,তবে আমার একটা কথা।আমি চলে যাবার পর কোন দুষ্টুমি নয়,লেখাপড়া হবে মন দিয়ে।দুবছরের মধ্যে একেবারে দেশে চলে আসবো।বিদেশ আর ভালো লাগে না।
- যথা আজ্ঞা মহারাজ।
- মহারাজ! হাহাহাহা পিচ্ছি একটা!
(অতঃপর দুজনে একে অন্যের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে হাসতে থাকে।)
.
.
(সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ