āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4439 (5)

জীবনী: অশ্রু ভেজা ডায়েরী
((পর্ব:১৩))
(সত্য ঘটনা)
.
.
(৩৬)
পরদিন এশার নামায আদায় করে লজিং বাড়ি খেতে গেলাম। আমার লজিং বাড়িতে প্রায়ই দেরি হয়। মাঝে মাঝে মেজাজ বিগড়ে গেলেও কিছু করার থাকে না।
তবে প্রত্যেকটা মানুষ আমাকে ভালোবাসতো। পরিবারে দু'টো বউ, দু'টো মেয়ে থাকতেও রান্না বসাতে খামখেয়ালি।
মাঝে মাঝে মনে হতো লজিং আর খাবোই না।
কিন্তু এমন চিন্তা করে লাভ নেই, বোর্ডিং এ ঢুকলে জেলখানার মতো বন্ধি হয়ে থাকতে হবে। আর তো মাত্র ৬ মাস, তারপরই মাদরাসা ছাড়বো, এটা নিশ্চিত।
লজিং বাড়ি থেকে খেতে একটু দেরি হয়ে গেল। খুব দ্রুত হাঁটতে থাকলাম। হঠাৎ মনে হলো, আরিফ ভাইকে কথা দিয়েছিলাম আজ ফোন দিবো। ইচ্ছে না থাকলেও ফোন দিলাম। রিসিভ করলেন,
  -  ভালো আছেন আপনি?
  -  হুম। কি খবর তোমার?  ভাবছিলাম সন্ধ্যার পরই ফোন দিবেন, এখন তো সাড়ে ন'টা বাজে।
  -  না মানে, মনে ছিলো না। লজিং বাড়ি থেকে কেবল যাচ্ছি মাদরাসায়।
  -  স্কুলের মাঠে আসেন। আমি এখানে একলা দাঁড়িয়ে আছি।
  -  না মানে, দেরি হয়ে গেলে হুজুর গেট লাগিয়ে দিবে।
  -  আরে পাঁচ মিনিটের জন্য আসেন।
  -  ঠিক আছে।
বাজারে ঘুরে বেড়ানো অভ্যাস নাই। কমিটি দেখলে অবশ্যই নালিশ করবে হুজুরের কাছে। আর হুজুরের কাছে নালিশ করলে আর রক্ষে থাকবে না। আশপাশ দেখে মাঠে গেলাম। মাঠ ফাঁকা, উনি একপাশে দাঁড়িয়ে আছেন।
আমি পাশে গিয়ে সালাম দিলাম। মাদরাসার আশেপাশে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সালাম দিতে হয়, না হলে হুজুরের কাছে নালিশ যাবে। ছোট হুজুরদের সবখানেই দোষ।
  -  একলা এখানে দাঁড়িয়ে আছেন যে?
  -  ভালো লাগছে না তাই।
  -  এখানকার পরিবেশটা খুব সুন্দর। স্কুলের ঘরগুলোতে মিটমিট করে আলো জ্বলছে, নিশ্চুপ পরিবেশ ইত্যাদি। একি আপনার চোখ লাল কেন?
আমার কথায় উনি চুপ করে আমার দিকে মুখ করে তাকিয়ে থাকলেন। আমি আবার বললাম,
  -  আপনার কি কোন বাজে অভ্যাস আছে?
  -  আছে কয়েকটা বিষয়ে। তবে সেটা পানীয়জলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, ধোঁয়া ছাড়ার মধ্যে নয়।
  -  ওহ। এসব তো ভালো না, জানেন না বুঝি?
  -  জানি, তবুও বাস্তবতা মানুষকে বিমুখ করে দেয়।
তারপর উনি আমাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলেন। মনে হয় লোকটার অনেক কষ্ট। তাতে কি! আমার সেটা জেনে কি লাভ! তবুও বুঝতে পারছি না কেন বারবার আমাকে ফোন করেন।
  -  আপনাকে তুমি করে বলি?
  -  সেটা বলতেই পারেন, আমি আপনার অনেক ছোট হবো।
  -  ধন্যবাদ, আপনি কথাটা দ্বারা মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়া হয়।
  -  আমি বরং আজকে যাই। হুজুর খোঁজ করে না পেলে রাগ করবে।
  -  চলো, আমিও দোকানে বসবো।
দু'জনেই মাঠ থেকে বের হলাম। বাজারের লোকজন আমাকে খুব কমই চেনে। তবে কয়েকটা দোকান বাদে, যে দোকানে পিঁয়াজু খেতে খেতে খেলা দেখি সেগুলো বাদে। এমন একজন লোকের সাথে হাঁটছি যাকে আমি এখনো ভালো করে চিনিও না।
মাদরাসার ছাত্রগুলো দেখলে নিশ্চই উনাকে নিয়ে মজা করবে! করবেই তো, মাদরাসায় অনেকেই আমাকে মিল মাষ্টার ডাকতো। জানি না, এতো ছেলে থাকতে কেনই বা আমাকে এই নামে ডাকে। ওই যে মামুনদের ৫জনকে পড়াতাম, সে দিক দিয়ে।
.
(৩৭)
কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছি আলু তোলার জন্য। নাজির মামাও আমার সাথে এসেছে। দেখাশুনা করার জন্যও তো মানুষের প্রয়োজন। আব্বু সারাদিন বাজারে থাকে, আমিও হাবাগোবা।
মামা আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পর নাজির মামাই যাতায়াত করে। আব্বু বিভিন্ন মতামত শেয়ার করে মামার সাথে। মনে হয় যেন নিজেরই শ্যালক।
প্রথমদিন আলু তোলা শেষ হলে হাত-মুখ ধুয়ে হাঁটে গিয়েছিলাম সিঙারা আর পিঁয়াজু আনার জন্য। এই দু'টো খাবার আমার খুব প্রিয়। ফোনটা বাজছে, হাতে নিয়ে দেখলাম আরিফ ভাইয়ের ফোন।
হঠাৎ করেই মনে হলো গত দু'দিন থেকে উনার সাথে কোন যোগাযোগ নেই। কি থেকে কি বলে! রিসিভ করে সালাম দিলাম,
  -  কি খবর সাজ্জাদ সাহেব?  খবর নাই, কই আছো?
  -  আসলে আমি বাড়িতে আসছি গতকাল।
  -  বাড়িতে কেন? কোন সমস্যা?
  -  না মানে আলু তুলতে হবে তো, সেজন্য।
  -  হায়রে দোলাবাড়ির লোক!
  -  এই শোনেন, আমরা গ্রামের লোক হতে পারি, তবে আপনাদের মতন ড্রেনের উপর আমাদের বাড়ি না। বুঝলেন?
  -  হুহ, বাড়ি গেলে একবার জানালেও না?
  -  না মানে, হঠাৎ করেই ডাকছে আব্বু, তাই ছুটি নিয়ে চলে আসছি।
  -  কয়দিনের ছুটি?
  -  ১০ দিনের মতো হবে।
  -  তোমার বাড়িতে যাবো, কবে যাবো বলো?
আমার বাড়িতে আসবে একথা শুনে কিছুটা অবাক হলাম। পরক্ষণে ভাবলাম মজা করছে হয়তো। অনেক সময়ই কথার মধ্যে বেশ রসিকতা টেনে আনে। তাই বললাম,
  -  পরশুদিন কাজ শেষ হবে। আসলে আসিয়েন।
  -  ঠিক আছে যাবো।
পরের দু'দিন আর কথা হলো না।  সত্যি কথা বলতে গেলে আমি প্রয়োজন মনে করি নি। মানুষ মানুষের সাথে কথা বলে, বলতেই তো পারে! এতে স্পেশালিষ্টের হবার কি প্রয়োজন।
বিকালের আগে ফোন করলেন, সত্যিই নাকি আসবেন।
বাড়িতে বলতে গিয়েও বলতে পারছিলাম না, যাকে আমিই ভালো করে চিনি না, তাকে কিভাবে বাড়িতে আনার কথা বলি!
অনেক কষ্টে নাজির মামাকে বললাম বিষয়টা। নাজির মামার সাথে মামা-ভাগনার সম্পর্ক হলেও অনেক কথা শেয়ার করি আমরা। এক বছরেরই তো সিনিয়র।
নাজির মামাকে লোকটার পরিচয় দিলাম, উনি ঠিক চিনতে পারলেন না। বললেন, 'হয়তো চিনি বাট নাম জানি না।'
আমি বলেছিলাম, 'হবে হয়তো।'
মামা বাড়িতে বিষয়টা বললেন যে উনারা আমাদের মাদরাসার পাশে থাকে। সবসময় দেখা-সাক্ষাৎ হয়, আসতে চেয়েছে তাই আসছে।
আব্বু কিছু মনে না করে বেশ কিছু তরকারি আর নাস্তা নিয়ে দিলেন। যেহেতু উনাদের আসাটা কনফার্ম সেহেতু রান্নাবান্নাও প্রায় কম্পিলিট।
আমার বুকটা ধুকধুক করছিলো, যদি না আসে তাহলে সব রান্নাবান্না বৃথা। আব্বুরও বকা শুনতে হবে।
.
(৩৮)
এশার নামাযের কিছুক্ষণ আগে ফোন দিয়ে বললেন তারা নাকি আমাদের বাজারে। ওখান থেকে নিয়ে যেতে হবে। তারা বলতে আরিফ ভাই আর মনির ভাই। নাজির মামাসহ তাদের নিতে গেলাম।
দেখাও হলো, নাজির মামা উনাদের দেখেই বললেন চিনেন। মামাকে রিকুয়েস্ট করলাম উনাদের বাইকে বাড়ি নিয়ে আসতে। কিন্তু উল্টো উনিই আমাকে বাইকে তুলে দিয়ে হেঁটে হেঁটে আসলেন।
আমাদের ছোট্ট বাড়িতে হয়তো তারা বেমানান! কিন্তু তারা যে সত্যি সত্যি বলেছে তা জানতো কে!
আমি উনাদের পাশে বসে রইলাম। আমার জেঠাতো বড় ভাই উনাদের সাথে বেশ কিছুক্ষণ গল্প করলেন। কিছুক্ষণ পর ভাই চলেও গেলেন। নাস্তা দিয়েছিলাম প্রথমে, আরিফ ভাই অর্ধেক ডিম আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছে।
যদিও আমা বেশ লজ্জা করেছে, বরাবরই লজ্জা একটু বেশিই আমার।
আম্মু বাইরে থেকে দু'চারটা কথা বলেছিলেন। খাবার দেয়া হলো, খাবার খাওয়ার সময় বারবার ফোন আসছিলো তার। তখন আমার মেজাজটা বিগড়ে গিয়েছিলো, মনে হচ্ছিলো ফোনটা নিয়ে পানি ঢিল মারি।
মানুষের এত ফোন আসে! তারপরও আমার সাথে কথা বলতে ভুল করেন না। কথা বলছেন আর একেরপর এক মিথ্যা বলছেন। আমাদের বাড়িতে বসে আছেন আর বলছেন বাজারে।
রাগও হচ্ছিলো আবার বারবার ফোন আসা দেখে হাসিও পাচ্ছিলো। কিছুই করার নেই আমার। নতুন অতিথি বলে কথা! সব মুখ বুঝে সহ্য করতে হয়েছিলো।
বাড়ি থেকে চলে যাবার সময় আমার আব্বুও চলে আসছিলো হাঁট থেকে। উনারা যেহেতু আমার মাদরাসার স্থানীয় ছেলে সেহেতু আব্বু উনাদের বললেন,
  -  বাবা, আসলে আমাদের ছেলেটা একটু সহজ-সরল। কারো সাথে মিশতে চায় না। কোন সমস্যা হলে কাউকে বলতেও চায় না। আপনারা যেহেতু স্থানীয় সেহেতু ওকে একটু দেখে রাখবেন।
আম্মু রান্নাঘর থেকে বলে উঠলেন,
  -  নিজের ভাই মনে করে একটু দেখবেন বাবা।
আম্মু-আব্বুর এমন কথা শুনে আমি নিজেই আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম। উনাদের একটাই দোষ, সবসময় মানুষের কাছে বলে আমি নাকি খুব সহজ-সরল আর হাবাগোবা।
আরিফ ভাই আব্বু-আম্মুর কথায় বলে উঠলেন,
  -  কোন চিন্তা করবেন না, ওকে আজ থেকে আমরাই দেখে রাখবো। আর আমাদের সাথে থাকার সময়ও কোন কথা বলে না। সবসময় চুপচাপ।
উনারা কথাবার্তা শেষ করে হাঁটতে থাকলো গেট পর্যন্ত। আমি একটু এগিয়ে দেয়ার জন্য সামনে গেলাম।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে মনির ভাই বলে উঠলেন,
  -  তোমার কোন সমস্যা নেই। সমস্যা হলে আমাদের জানাবে।
  -  ভাই, আমাদের গরীব মানুষের বাড়িতে খুব যত্ম করতে পারি নি বলে ক্ষমাপ্রার্থী।
আরিফ ভাই আলতো করে একটা চড় দিয়ে বললেন,
  -  বড়লোক আমারো পছন্দ না। কবে মাদরাসা যাবে?
  -  পরশুদিন না গেলে তার পরের দিন।
  -  ঠিক আছে, ফোন দিলে ধরো।
  -  জ্বী।
উনারা চলে গেল। আমি বাড়ি ফিরে আসলাম। নাজির মামা জিজ্ঞেস করলেন কিভাবে শুরু হলো, মানে সম্পর্কটা।
আমরা খুব ফ্রিলি, তাই সবটা বললাম।
সত্যি কথা বলতে গেলে উনাকে এখনো আমি চিনিই না। কোথায় বাড়ি, ভাই-বোন কয়জন ইত্যাদি।
শুধু এতটুকু জানি, উনি প্রাইমারী স্কুলে দপ্তরি ও একটা কনফেকশনারিতে কাজ করে। রাত হলে আসামী ধরতে বের হয়, এই আর কি!
(চলবে)

জীবনী: অশ্রু ভেজা ডায়েরী
((পর্ব:১৪))
(সত্য ঘটনা)
.
.
(৩৯)
পরদিন সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে আরিফ ভাই ফোন করলেন। আমি রিসিভ করাতে উনি শহরে ডাকলেন। নাজির মামা সকালেই চলে গেছেন। আম্মুকে বলে শহরে গেলাম। উনি আমাকে নিয়ে অটোতে উঠলেন।
অটো কিছুক্ষণ যাওয়ার পর হঠাৎ অজানা এক ভয় আমাকে গ্রাস করলো। কারণ সবসময়ই আমি একটু ভীতু। উনি আমাকে নিয়ে রংপুর মেডিকেলে নামলেন। পরে শুনলাম উনার ভাতিজিকে ভর্তি করিয়েছেন, পেটেই বাচ্চা মারা গেছে।
ওখানে ঘন্টাখানেক থাকার পর নিচে নামলাম। দু'জনে পাশাপাশি হাঁটছি। উনি আমার ডান হাত ধরে হাঁটতে থাকলেন। উনি কি চান আমি হয়তো পুরোটা না বুঝলে কিছু কিছু বুঝতে পারি।
আমি অপেক্ষায় আছি এমন একটা সময়ের যখন আমি আমার সব কথা উনাকে বলবো। হয়তো তখন ছেড়ে চলে যাবে। আমি ছেলেটা খুব ভালে নই, হয়তো আমার সম্পর্কে জানলে কষ্ট বাড়াতে চাবে না।
শহরে নাস্তা খাওয়ালেন, কনফেকশনারি থেকে আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু শুকনো খাবার কিনে দিলেন।
রিকশাচালককে ভাড়া দিয়ে রিকশায় তুলে দিলেন। যদিও আমার কাছে টাকা ছিলো, আমি নিতে চাই নি। উনি আমাকে বললো,
- যেহেতু আমি তোমাকে ডেকেছি তাই আপাতত সব ভরণপোষণ আমার।
আমি রাত ১০টায় বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়া করে সবেমাত্র বিছানায় নিজেকে সোপর্দ করেছি, আবার ফোন,
- কি খবর? দেখা তো হলোই, আবার ফোন দিলেন যে?
- কেন ফোন দিতে কি নিষেধ নাকি?
- নিষেধ হবে কেন? কথাবার্তা তো হলোই, তাই বলছিলাম।
- বাড়িতে পৌঁছেছো কি না তা জানতে হবে না আমাকে?
- কি প্রয়োজন!
- তোমাকে শহর ডাকলাম, রাস্তায় যদি কোন বিপদ হয় তাহলে তো তোমার বাবা-মা আমাকেই দোষারোপ করবেন। তাই ফোন দিলাম পৌঁছিছো কি না তা জানার জন্য।
- আমি ঠিকমতো পৌঁছেছি এবং খেয়েদেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছি। এবার হলো তো?
- কি? এত দ্রুত ঘুম? শালা দোলাবাড়ির লোক।
- এই যে শুনুন, আমার বোন নাই বুঝলেন। সো শালা বলবেন না।
- মামাতো, ফুফাতো, খালাতো যেকোন একটা হলেই চলবে। তবে শালা হওয়া চাই।
- লাগতো না। বুইড়ারে আমি আমার বোন দেই, ভাগেন।
- এই শোনো, আমি বুড়া না। সবে মাত্র ২৯ বছর বয়স।
- হইছে হইছে নিজেকে আর নাবালক ভাইবেন না। দোকানে যান নি?
- দোকানেই তো বসে আছি।
- তাহলে বেচা-কেনা করেন। ফোন রাখেন, আমি ঘুমাবো।
- কবে আসছো?
- কালকে, যদিও ছুটির কয়েকদিন আছে। কারণ বই নিয়ে আসি নি, পড়তে হবে।
- শহরে সন্ধ্যায় আসো, একসঙ্গে না হয় আসবো।
- না না। আমার দেরিও হতে পারে।
- ঠিক আছে, ফোন দিও।
এই লোকটাকে নিয়ে প্রথম প্রথম সত্যি ঝামেলায় পরেছিলাম, যখন তখন ফোন দিতো। ফোন দিলে ফোন রেখে দেয়ার কোন ভ্রুক্ষেপই থাকতো না।
মনে হয় আমি কারো সাথে প্রেম করছি, বফ আর গফ কথা বলছি। সত্যি কথা বলতে ফোনে এত কথা বলা তখনো আমার পছন্দ ছিলো না।
.
(৪০)
মাদরাসায় গিয়ে পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চেয়েছি। যে করেই হোক দাখিল ভালো করতে হবে। সত্যি কথা বলতে ক্বওমী মাদরাসায় যে কয়বছর ছিলাম প্রত্যেক বছরেই প্রচুর পড়াশোনা করতাম।
সেদিনগুলোর কথা আজো মনে পড়ে যায়। ভাগ্যিস আমার ক্লাসমেটরা খুব পড়তো। সবাই প্রতিযোগীতামূলক লেখাপড়ায় ব্যস্ত থাকতো, কে কত বেশি পড়তে পারে।
এজন্য অবশ্য সব হুজুরেরা আমাদের উপর সবসময় খুশি ছিলো।
মাদরাসায় এসেছি একথা জানিয়েছি আরিফ ভাইকে।
উনি দিনে দু'একবার করে খোঁজ নিতো। মনে হয় এই ব্যাপারটা অনেকেরই পছন্দ হতো না। তবুও তখন বুঝতে পারি নি।
একদিন কথা বলার সময় কথা ঠিকমতো বুঝা যাচ্ছিলো না। উনি প্রায় রাগ হয়ে আমার ফোনটা নিজের কাছে রেখে ৫০০ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দেন।
তখন আমি ফোন শূন্য হয়ে যাই। আমার ফোন না থাকার অবর্তমানে মাহবুব ভাইয়ের ফোনে ফোন করতো।
একদিন বিকেলবেলা ফোন করলেন। মাহবুব ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বললেন আরিফ ভাই কথা বলবে।
আজ হঠাৎ এসময়ে দেখে অবাক হয়েছিলাম। উনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
- আজ হঠাৎ এসময়ে যে? শহর যান নি?
- না যাই নি। কালকে তোমাকে বললাম না, আজ খেলা আছে! সেজন্য।
- ওহ, ফোন দিয়েছেন কেন?
- তুমি একটু মাঠে আসবে?
- মানে? আমি পড়তেছি, তাছাড়া এখনো বের হবার এক ঘন্টা বাকি।
- তুমি না আসলে জার্সিও পড়বো না, মাঠেও নামবো না।
- কি সব পাগলের মতো করছেন।
- আমি তো পাগলেই, সবাই তাই বলে। তুমিও বলো সমস্যা নাই। তুমি আসবে কিনা বলো?
- না যাবো না।
না কথা শুনেই কেটে দিলো। মাহবুব ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কি বলে। আমি সবটা বললাম। এ লোককে নিয়ে সত্যি আমি বিপদে। মাহবুব ভাই বললেন,
- যা, দু'তিন মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে আয়। লোকটা খুব জেদি রে।
মাহবুব ভাইয়ের কথায় আমি অনেক কষ্ট করে মাঠে গেলাম। হয়তো মাহবুব ভাই না বললে আমি কখনোই যেতাম না।
মাঠের এক গেটে দাঁড়িয়ে খুঁজলাম ওনাকে। অনেকেই আছে বাট উনি নেই। চারপাশে খুঁজতেছি, নাহ নেই।
হঠাৎ জার্সি পরে লাফাতে লাফাতে কোথা থেকে যেন বের হয়ে আসলেন। আমাকে দূর থেকে দেখেই মুচকি হাসলেন। আমি দু'মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে মাদরাসায় চলে আসলাম।
হাঁটছি আর ভাবছি, লোকটা আসলেই বড্ড পাগল, মাথায় অবশ্যই গন্ডগোল আছে। না হলে কেউ এমন করতে বলে?
এখন যদি হুজুরের সানে পড়ে যাই তাহলে আর রক্ষে থাকবে না।
অনেক উঁকি ঝুঁকি দিয়ে দেখলাম, নাহ হুজুর আশেপাশে নেই। খুব দ্রুত নিজেদের রুমে গিয়ে পাঞ্জাবি খুলে পড়তে বসলাম।
শেষপর্যন্ত খেলা দেখতে গিয়েছিলাম কয়েকজন মিলে।
সেদিন ম্যাচটা জিতেছিলো। আমার বেশ ভালো লেগেছে উনার খেলা দেখে।
আমি যেখানে ফুটবল মারতে পারিই না সেখানে উনি কত ভালো খেলে।
.
(৪১)
সন্ধ্যার পরে মাহবু্ব ভাই আমাকে এসে বললো,
- চল একটু বাজারে যাবো।
- এই সময়? হুজুর দেখলে বকবে।
- চুপ করে যাব, চল।
- কিন্তু হুজুর?
- চল তো।
যেতে যেতে বুঝলাম আরিফ ভাই ডাকছে। মাহবুব ভাই সহ বের হলাম চোরের মতো। মাহবুব ভাই ফোন দিলো উনাকে। আরিফ ভাই হোটেলের ভিতরে ডাকলো।
হোটেলের ভিতর উনার সব খেলোয়ার। আমি তাই দেখে না ঢুকে মাদরাসা দিকে ঘোর দৌঁড় দিলাম। মাহবুব ভাই পিছন থেকে চিৎকার করে ডাকতে লাগলো।
আমি পিছনে না দেখে সরাসরি মাদরাসায় এসে পড়তে বসলাম। কিছুক্ষণ পর মাহবুব ভাইও আসলেন।
- কি রে, তুই এভাবে দৌঁড়ে আসলি ক্যান?
- আর বলিস না ভাই, ওখানে সব খেলোয়ার। হোটেলের ভিতর ঢুকতে আমার শরম করছিলো, তাই দৌঁড় দিছি।
- আরিফ ভাই রাগ করেছে খুব।
মাহবুব ভাইয়ের কথায় খুব গুরুত্ব না দিয়ে পড়তে থাকলাম। লজিং বাড়ি যাবার সময় সামনে পড়লেন উনি। সালাম দেয়াতে কিছুটা রাগ দেখলাম উনার চোখে।
- ভাই কি রাগ করেছেন?
- তুমি তখন ওভাবে দৌঁড় দিলে কেন?
- আসলে ওখানে আপনার সব খেলোয়ার, আমার শরম করেছিলো।
- আমি যাকে পছন্দ করি তাকে হাজার গুরুত্বপূর্ণ মানুষ থাকলেও তাদের মধ্যে খুঁজে নেই। আর হ্যাঁ, আমি যখন কিছু বলবো বা করবো তখন না করবে না। না শব্দটাকে আমি খুব অপছন্দ করি।
মনির ভাই বলে উঠলো,
- এমন করলে তো তুমি আমাদের সাথে চলতে পারবে না।
আমি মাথা নিচু করে থাকলাম। সত্যি মনে হয় আমারই ভুল হয়েছে। আমি ছোট্ট করে সরি বলে নিলাম।
চা খেতে বললেন। আসলে এই চায়ের নেশা একসময় প্রখর ছিলো। চা না খেলে মাথা ব্যাথা করতো, কিন্তু এখন আর হয় না।
তাছাড়া বাইরে চা খাই না বাড়িতে ছাড়া। বলতে পারছি না আমি খেতে পারবো না। মনির ভাই বললেন,
- কোন সমস্যা?
- জ্বী মানে আমি বাইরে চা খাই না।
আমার কথা শুনে কাপ থেকে অর্ধেক চা ঢেলে নিলেন আরিফ ভাই। আর বললেন,
- অর্ধেক খাও, আমি নিলাম তো অর্ধেক।
আর কথা না বলে চুপচাপ চা পান করলাম। হোটেল থেকে বের হয়ে আরিফ ভাইকে বললাম,
- আপনার সাথে আমি কিছু কথা বলতাম।
- হুম, বলো।
- আসলে বিষয়টা একটু গোপন।
- ঠিক আছে কাল এশার আগে আসিও। আমি অপেক্ষা করবো। লজিং বাড়ি যাবে না?
- ইচ্ছে নাই, ভালো লাগছে না। মাদরাসায় যাবো।
- লজিং বাড়ি যাও, রাতে না খেলে পেট খারাপ করবে।
- না মানে, ভালো লাগছে না।
- এত কথা বলো কেন?
আমি চুপচাপ কথা না বলে লজিং বাড়ি চলে গেলাম। আসলে লজিং বাড়ি এখন আমার আর ভালো লাগে না। হেঁটে যেতে ১০ মিনিট সময় লাগতো। অসহ্য মনে হতো বেশিরভাগ সময়।
তবুও উনার কাছে আজ দোষী, তাই যাচ্ছি।
(চলবে)

জীবনী: অশ্রু ভেজা ডায়েরী
((পর্ব:১৫))
(সত্য ঘটনা।)
.
.
(৪২)
পরদিন এশার নামাযের আগে অনেক কষ্টে মাদরাসা থেকে বের হলাম। মাহবুব ভাইয়ের ফোনটা সাথে এনেছি।
বের হয়েই ফোন দিলাম উনাকে। উনি মাঠে ডাকলেন। আমি  গিয়ে দেখলাম মাঠে শুয়ে আছে। আমি সালাম দিয়ে বসলাম। চোখ খুলে বসে পড়লেন, মুচকি হাসলেনও।
  -  কি খবর?
  -  এইতো!
  -  বলো কি বলবা?
  -  বলতে চাই অনেক কিছু। শুনবেন তো?
  -  শোনার জন্যই তো ডাকলাম। তুমি যা খুশি বলো, তবে ফাউল কথা বলবা না।
  -  ফাউল কথা বলতে?
  -  বলতে শুরু করো, ফাউল হলে আমি চুপ করতে বলবো।
  -  আপনি এত আমাকে ফোন দেন কেন? যদিও জানেন আমার ফোন নাই। মানুষের মোবাইলে ফোন দেন, ক্লাসের অনেকেই হাসাহাসি করে।
  -  কে হাসাহাসি করে?
  -  অনেকেই, আমি চাই না আমার ক্লাসের ছেলেটা আমাকে নিয়ে কটু কথা বলুক। আর এত ঘনঘন ফোন দিয়ে আপনার লাভ কি?
  -  তোমাকে আমার ভালো লাগে। আমার ছোটভাই নাই, তোমাকেই আমি ছোটভাই মনে করি। অনেক ভালোবাসি তোমাকে। তাছাড়া তোমার আব্বু-আম্মু তোমাকে দেখে রাখতে বলেছেন। সুতরাং বর্তমান আমার নজরে বন্দি।
  -  ভালোবাসেন মানে? ছেলে ছেলে ভালোবাসার কথা শুনলে মানুষ হাসবে।
  -  মানুষ হাসবে নাকি কাঁদবে তা দিয়ে আমার কি? মানুষ কি দু'টাকা দিয়ে আমাকে সাহায্য করবে?
উনার কথা শুনে আমি চুপসে গেলাম। ফোন দিতে নিষেধ করতে এসে নিজেই ফেসে গেলাম। আমি মাথা নিচু করে আছি।
  -  কথা বলছো না যে?
  -  দেখেন, আপনি আমার সম্পর্কে কিছু জানেন না। আমি আর কোন সম্পর্কে জড়াতে চাই না। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করুন।
  -  দেখ, এমন কথা বলো না। কয়দিন পর দোকান ছেড়ে দিয়ে শুধু স্কুলের চাকরিটাই করবো। তখন আমার একাকী জীবনে খুব প্রয়োজন তোমার। আমি জানি তুমি কাউকে ভালোবাসলে মন থেকেই বাসবে।
  -  দেখেন আমার ছোট একটা ভাই আছে। (মামুনের কথা বললাম উনাকে।) আমার ভালোবাসার বেশি অর্ধেকটা ওর দখলে। ওকে বুঝতে না দিলেও খুব ভালোবাসি। তাই আমি চাই না আর সম্পর্কে জড়াতো।
তখন মনে হয়েছিলো আমার গ্রামের বন্ধুর কথা, তার সাথে সম্পর্ক ভাঙার পর আমার চোখের পানি। তখন মনে হয়েছিলো আমার মাদরাসার প্রথম বন্ধুর কথা, যখন সে আমাকে ছেড়ে চলে গেল তখনকার চুপিসারে কান্নার কথা। তখন মনে হয়েছিলো তাওহীদ মামার কথা যখন হাতটা ধরেও ছেড়ে দিয়েছিলো।
  -  সাজ্জাদ তুমি তোমার ভালোবাসায় একটু জায়গা দাও।
  -  ভালোবাসার মতো অনেক মানুষ পাবেন। আমাকে কেন?
  -  তোমার মধ্যে যা আছে সবার কাছেই কি তা আছে!
  -  আপনাকে আমার ভালো লাগে তাই বলে ভালোবাসতে হবে এমন তো নয়। ছোটভাই মনে করেন করতে পারেন, আমার জীবনেও কখন বড় ভাইয়ের আদর পাই নি। তবে খুব ঘনিষ্ঠতা করতে পারবো না। তাছাড়া আমার সাথে নিজেকে জড়ালে কষ্ট পাবেন। আমি বড্ড অভিমানী ছেলে।
  -  আমি কিছু চাই না তোমার কাছে। শুধু আমাকে একটু ভালো রাখবে। এ সম্পর্কটা সারাজীবনের থাকবে।
আমি নিশ্চুপ হয়ে গেলাম। আবারো কি সেই ভুল করতে যাচ্ছি আমি? সেই চোখের জল কি আবার পরবে নাকি বাকি জীবনটা হাসি-খুশিতে কাটবে!
.
(৪৩)
উনি আমার হাত ধরে মনির ভাইকে নিয়ে সরাসরি মোবাইলের দোকানে গেলেন। উনার পছন্দমতো একটা স্যাম্ফোনি ফোন কিনলেন। আমার হাতে দিয়ে বললেন,
  -  এবার তো কেউ হাসাহাসি করতে পারবে না। এটা রাখো, আমি এবার সরাসরি ফোন দিতে পারবো। তোমার যখন কথা বলতে ইচ্ছে হবে মিসকল দিবে।
আমার হাতে ফোনটা দিলেন।
  -  আমার ফোন লাগবে না। কয়েকদিন বাদে আমি নিজেই কিনে নেব।
  -  কথা বলো নাতো। নাও এটা।
  -  না মানে নতুন ফোন দেখলে সবাই ভাববে টাকা কোথায় পেলাম।
  -  তাহলে আমারটা নাও, কয়েকদিন এটা ব্যবহার করো। তারপর আবার পাল্টাপাল্টি করবো।
আমি উনার সাথে হাঁটতে হাঁটতে হোটেলে গেলাম। রীতিমতো চায়ের অর্ডার দিলেন। মনির ভাই সামন থেকে মুচকি মুচকি হাসছে। চা দিয়ে গেলে আরিফ ভাই অর্ধেক ঢেলে নিয়ে বাকিটা দিলেন।
হোটেল থেকে বের হয়ে আরিফ ভাইকে বললাম,
  -  আপনি সবসময় লুঙী পরেন কেন? প্যান্টও তো পরতে পারেন।
  -  আমাকে লুঙী পরতেই বেশি ভালো লাগে। আমার জিন্স, গ্যাবাডিন, বানানো প্যান্ট সবই আছে।
  -  লুঙী সবসময় ভালো লাগে না।
  -  ঠিক আছে কাল থেকে প্যান্টই পরবো।
আমি মাদরাসায় গেলাম। রাতে কথা হলো কিছুক্ষণ। পরদিন দেখলাম প্যান্ট পরে আছে। প্যান্টে খুব ভালো লাগছিলো না। মনির ভাই আমাকে বললেন,
  -  সাজ্জাদ আরিফ ভাই প্যান্ট পরেছে। কেমন লাগছে?
  -  ধুর, লুঙীতেই বেশ ভালো উনি।
  -  পরশু থেকে তুমি আমার বাড়িতে খাবে। লজিং ছেড়ে দিও।
  -  কি সব পাগলের মতন বলেন? আমি ওখানেই ভালো আছি।
  -  সবসময় বেশি বুঝ কেন?
এমন সময় আমি উনার হাত চেপে ধরে উনার দিকে তাকিয়ে বললাম,
  -  দয়া করে আপনি এই রিকুয়েস্টটা আমাকে করবেন না। আমি এটা রাখতে পারবো না।
উনি আর কিছু বললেন না। চুপ করে রইলেন। মাদরাসা যেতে হবে, আসার সময় বললাম,
  -  কাল থেকে লুঙীই পরিয়েন। প্যান্টে একদম বাজে লাগে আপনাকে।
উনি মুচকি হেসে হ্যাঁ উত্তর দিলেন।
  -  আমি তাহলে যাই, আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। বেশি দেরি হলে গেট বন্ধ করে দিবে।
  -  আরেকটু থাকো, ১০ মিনিটের মত। আমিও দোকানে বসবো। আর হ্যাঁ রাতে মিসকল দিও।
১০ মিনিটের মতো আড্ডা দিলাম। যখন উনার সাথে থাকি বা আড্ডা দেই তখন চারদিকে তাকাই। যদিও কেউ দেখে ফেলে এই ভয়ে।
এমনিতেই উনাকে নিয়ে বেশ কথা হচ্ছে মাদরাসায়। আমি বুঝতাম না, কে কার সাথে মিশলো বা ঘুরলো কিংবা আড্ডা দিলো, এসব নিয়ে কানাকানি না করলেই কি নয়?
এসব কথা নিয়ে কানাকানি করে উনাদের লাভ কি?
.
(৪৪)
এভাবে চলতে থাকলো এক একটি দিন। আমাকে উনি নিয়মিত তিন চার বার ফোন দিতেন। আমিও দু'একবার দিতাম। কেন জানি আস্তে আস্তে তার প্রতি মায়া জন্মে গেছে।
সবাই তাকে অন্য চোখে দেখলেও আমি তার মধ্যে কিছু ভালো গুন পেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে ভাবছিলাম আমার সাথে তো উনি খারাপ ব্যবহার করেন নি বা তাকে কোন খারাপ কাজের সাথে তুলনা করবো!
পহেলা বৈশাখ আসলো। এরই মধ্যে আমি উনার প্রতি অনেকটা দূর্বল হয়ে গেছি। মাঠের মধ্যে আজ আমরা দু'জনই বসে আছি। চারপাশে অনেক লোক গরমের কারণে বসে গল্প করছে।
তবে সবার চেয়ে আমরা একটু দূরে। বেশ অন্ধকার। ভয়টা আমারই, কেউ দেখে ফেললে বিপদ হতে পারে। উনার সাথে থাকাকালীন আমার একটা জিনিষই খারাপ লাগে, বারবার ফোন আসা।
  -  আমি কি চলে যাবো?
  -  কেন? মাত্রই তো আসলে।
  -  তখন থেকে ফোনে কথা বলেই যাচ্ছেন। আমি যে আমার সময় অপচয় করে এখানে এসেছি তার কোন মূল্যই নেই নাকি?
  -  আমায় ভালোবাস তাই এসেছো।
  -  কে বললো আমি আপনাকে ভালোবাসি?
  -  আমি বুঝি গো, বুঝি। পহেলা বৈশাখ পরশু দিন, কি দিবে আমায়? আর নিবে কি?
  -  আমি যা চাইবো সেটা দিবেন তো?
  -  তুমি প্রথমবার কিছু চাইবে আর আমি দিব না! কেমন করে হয়? তুমি বলো।
  -  আপনি আপনার খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করুন।
  -  খারাপ অভ্যাস বলতে?
  -  আপনি যে নেশাদার পানীয়জল পান করেন সেটার কথা বলছি।
  -  সাজ্জাদ, আমার জীবনটা অনেক কষ্টের ছিলো। তবে বর্তমান আমি সুখেই আছি। মাঝে মাঝে কষ্টটাকে ভুলে থাকতে পান করি, তাও বন্ধুদের সাথে। তুমি যেহেতু বললা আর কখনো খাব না। আমায় কি দিবে বলো?
  -  কি নিবেন?
  -  যা চাইবো দিবে তো?
  -  জ্বী বলেন।
  -  আমায় ছেড়ে কখনো যাবে নাতো?
বারবার পাগলামি করার কি মানে? আমি যদিও তাকে ভুলতে চেয়েছি কিন্তু পারি নি। উনার কথার জাল আমাকে বারবার ফাঁসিয়েছে। জীবনে এত কেঁদেছি যে আর কাউকে বিশ্বাস করে কাঁদতে ইচ্ছে করে না।
কিন্তু এই মানুষটা বারবার আমার কাছে ভালোবাসা কেন চায়? আমি তো ভালোবাসার মানেই বুঝি না। শুধু এতটুকু জানি উনাকে মোটামুটি ভালো লাগে।
  -  পরশুদিন আমি বাড়ি যাবো। শহরে দেখা করবো কি?
  -  কেন?
  -  গিফট নিবেন না?
  -  যেটা চাইলাম সেটা পাবো তো?
  - আমি মানুষকে বিশ্বাস করে বারবার ঠকেছি। কেঁদেছিও অনেক। তার অনেক কিছু আপনি জানেন। আপনার থেকে দূরে যেতে চেয়েছি কিন্তু পারি নি, ভালোবাসি কিনা জানি না, তবে আপনাকে এখন আমার অনেক ভালো লাগে। আপনার ফোনের জন্য অপেক্ষা করতে ভালো লাগে।
  -  আর কিছুই চাই না, শুধু এতটুকুই চাই।
আলতো করে জড়িয়ে ধরলেন। এই জড়িয়ে ধরার মধ্যে অনেকটা ভালোবাসা লুকায়িত ছিলো। ছিলো না কোন অহমিকা। আমার মনে হয়েছিলো যুগ যুগ ধরে কেউ এভাবে জড়িয়ে রাখতো তাহলে আমার সর্বস্ব দিতাম।
(চলবে)
.

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ