āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4439 (4)

জীবনী: অশ্রু ভেজা ডায়েরী
(পর্ব:১০)
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে।)
.
.
(২৭)
মাদরাসা জীবনে লেখাপড়ার জন্য হুজুরের কাছে মার খাইনি বেশি, তবে ঘুম আর খেলা খেলার জন্য খুব মার খেয়েছি।
আমাদের রুমের বেশ কয়েকজন ঘুমবাবু ছিলেন, আমিও ছিলাম। একটু ফাঁকা পেলেই ঘুম। প্রায় ফজরের পর চোখের টান সইতো না, সেজন্য নামায পড়ে এসে ঘুমিয়ে যেতাম। ঘুমানোর কারণে অধিকাংশ সময় হুজুর বেত নিয়ে দৌঁড়ানি দেন। তাইতো তিনি আসার আগেই তাকে দেখানোর জন্য বই খুলি কিংবা মার খাই।
সবথেকে হাসির বিষয়গুলো ছিলো যখন খেলা দেখতে গিয়ে ধরা খাই। বাংলাদেশের খেলা মিস করতে চাইতাম না বলে ফাঁক-ফোঁকর খুঁজতাম। দু'তিনজন যে করেই হোক পালিয়ে যেতাম।
কিন্তু আমাদের ধারণা ভুল হতো, কারণ আমাদেরর আগে আরো অনেকজন চুপ করে পালিয়েছে।
শেষপর্যন্ত যা হবার তাই হয়, এত ছাত্র মাদরাসায় না থাকলে হুজুরের সন্দেহ হতো ঠিকই বাজারে গেছে খেলা দেখতে। তাইতো তিনি মাঝে মাঝে টহল দিতে বাজারে যেতেন।
মাদরাসা থেকে তিন মিনিটের রাস্তার পরই বাজার। বাজার বিশাল হওয়ায় অনেককেই খুঁজে পেতেন না তিনি। বোর্ডিং এর ছাত্রদের বেশি সমস্যা হতো, কারণ তারা ছিলো সম্পূর্ণ পরাধীন।
তাইতো গেট আগে থেকে লক করে দিয়ে নিজের রুমে গিয়ে আপন মনে বসে থাকতেন। ১০ মিনিট পরপর আসতেন দরজা খুলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ কয়েকটা বেতের ঘা গায়ে বসিয়ে দিয়ে ভিতরে সোপর্দ করতেন।
এভাবে ১০ মিনিট পরপর চলতেই থাকতো। গেট লক না করলেও নাম লিখে নিয়ে যেতেন, তারপর সে অনুযায়ী ধরতেন আর কষতেন।
এই খেলা খেলার ব্যাপারে আর দেখতে যাওয়ার ব্যাপারে হুজুরের এত অনিহা কেন ছিলো বুঝতে পেতাম না।
মুজাম্মেল হক নামের সেই হুজুরটির বাড়ি ছিলো দিনাজপুর। বেশ কিছুদিন আগে তিনি আমার প্রাক্তন মাদরাসা ছেড়ে চলে গেছে। মাদরাসাকে ঢাল স্বরুপ আগলে রেখেছিলেন।
তিনি চলে যাওয়াতে মাদরাসার অবস্থা কি হবে আল্লাহ পাক ভালো জানেন। তিনি চলে যাওয়াতেন অনেকেই কেঁদেছেন। আমরা যারা আগে থেকে মাদরাসা ছেড়েছি তারাই শুধু হুজুরের শূন্যতা অনুভব করি।
সবসময় শাসন করলেও ভালোবাসতেন খুব। কিন্তু অধিকাংশ ছাত্ররা তা বুঝতো না। তাইতো হুজুর কবে বাড়ি যাবেন তার প্রহর গুনতে থাকে।
হুজুর সাহেব বাড়ি যাওয়ার জন্য গেট পার হলে মাদরাসায় ঈদ লেগে যায়। মনে মনে ভাবতে থাকে, 'যাক বাবা, দু'টো দিন একটু স্বাধীনভাবে চলা যাবে।'
কেউ বা এই সময়টুকু খেলতে ব্যস্ত, আবার কেউ মোবাইলে ভিডিও দেখে সময় কাটাতো।
আমিও দেখেছি ভিডিও, তবে খারাপ কিছু নয়, আলিফ লায়লার ১৮০ পর্ব পর্যন্ত। মোবাইল তখনো আমার ছিলো না, শুধু ভিডিও অপশন বের করে দেখতাম। মোবাইল ছিলো আমার প্রাক্তন বন্ধুর।
মনে মনে তখন ভাবতাম, এই আলিফ লায়লার জন্য অন্যের বাড়িতে ভিড় জমাতো আমার চাচি,আম্মুরা। আর আজ সেইসব পর্ব একসাথে পাওয়া যাচ্ছে।
মাদরাসা থেকে কম বের হতাম বিধায় আশেপাশে রাস্তাঘাট কম চিনতাম।
.
(২৮)
আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি, তখন মাদরাসায় নতুন একজন ছাত্র আসলে, ক্লাস ফোরে। ছেলেটা হুজুরেরা ভাতিজা। খুব ছোট ছিলো, খু্ব জেদি আর চঞ্চর। যে কেউ ইচ্ছে করলে তার সাথে কথা বলতে পারবে না। আমিও মনে হয় পুরো প্রথম এক বছরে তার সাথে ১০টি কথাও বলি নি। আমার জেডিসি পরীক্ষা শেষ, মামুন নামের ছোট্ট ছেলেটি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে।
আমি একদিন মাসজিদে পড়ছিলাম হঠাৎ করে আমার পাশে এসে পড়া দেখিয়ে চাইলো। আমি ওকে পড়া শিখিয়ে দিয়ে পিএসসিতে ভালো করার কিছু উপায় বলে দিলাম। মামুন খুব খুশি হয়ে বললো, 'সাজ্জাদ ভাই, আমাকে প্রাইভেট পড়াবেন?'
আমি তাকে হেসে বলেছিলাম, 'প্রাইভেটের কি আছে? সমস্যা হলে আমার কাছে অথবা বড় ক্লাসের যে কোন ছাত্রের কাছে শিখিয়ে নিতে চাইলে দিবে।'
ও আমাকে বললো, 'না না, আমি কারো কাছে পড়বো না। আপনার কাছেই পড়বো।'
আমি তাকে মাঝে মাঝে পড়াতে রাজি হয়েছিলাম। তখন আমার কাছে একটা নরমাল ফোন ছিলো। জেডিসির একটা ছাত্রকে পড়াতাম। কারণ আমি অংকে মোটামুটি ভালো ছিলাম, ছেলেটা অংক আর ইংলিশ পড়তো আমার কাছে।'
মামুন মাঝে মাঝে আমার ফোন দিয়ে ওর আব্বুর সাথে কথা বলতো। ছোট মানুষ বলে কিছু বলতাম না। তবে তার চাঞ্চল্যতা আমাকে সবসময় মুগ্ধ করতো।
বোর্ডিং এর গন্ডি ছেড়ে সবে মাত্র লজিং খুঁজে নিয়েছি। লজিং নেবার একটাই উদ্দেশ্য ছিলো, মাদরাসার বদ্ধ দেয়াল ছেড়ে একটু শান্তিতে হাঁটা বা কারো সাথে মন খুলে কথা বলা।
লজিং বাড়িতে বসে ছিলাম তখন হঠাৎ করে মামুনের আব্বু আমাকে ফোন করলেন। আমি তাকে সালাম দিয়ে বললাম,
- আঙ্কেল আমি লজিং বাড়িতে, মাদরাসা গেলে আপনাকে ফোন দিব।
- বাবা তোমার সাথে কথা বলতাম, একটু সময় হবে?
- বলেন, কোন সমস্যা নাই।
- বাবা, মামুনকে একটু পড়তে বসাবা। ছেলে খুব দুষ্টু। আর জানোই তো কিছুদিন পর ওর পিসএসি পরীক্ষা। তুমি নাকি খুব ভালো পড়াও, তাই তোমার কাছে পড়তে চায়।
- আমি তো ওকে আসতে বলেছি। কিন্তু আঙ্কেল প্রাইভেট পড়াতে পারবো না। আসলে আমার সময় কম।
- তাহলে একটু দেখবে বাবা? ছেলেটা খুব চঞ্চল তো।
- সমস্যা নাই, আমি দেখে রাখবো।
ছেলেটাকে ডেকে বললাম কি বলেছো তোমার আব্বুকে। ও মাথা নিচু করে বললো, 'আপনার কাছে ছাড়া কারো কাছে পড়বো না, সে কথা।'
আমি বলেছিলাম, 'আমি যা বলবো, সব শুনবে তো?'
ও মাথা নেড়ে হ্যাঁ উত্তর দিয়েছিলো। ছেলেটা ইতিমধ্যে আমার হৃদয়ের একটা অংশে জায়গা করে নিয়েছিলো। কেন বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু আমি তাকে বেশি প্রশ্রয় দিতে চাইনি, কারণ আমি জানি আমি দাখিল পরীক্ষা দিয়ে আমি চলে যাব। তখন হয়তো ও খুব কষ্ট পাবে।
মামুন সবসময় আমার পাশাপাশি থাকতে চেয়েছিলো, খুব বেণি না দিলে প্রতিদিন খোঁজ নিতাম, চুপ চুপ করে দেখতাম ও কি করে।
আগের চাঞ্চল্যতার অনেক পরিবর্তন এসেছিলো।
.
(২৯)
মামুনকে পড়া দেখানোর সময় আরো কয়েকজন আমার কাছে এসে বলে, 'সাজ্জাদ ভাই, শুধু মামুনকে পড়ালে চলবে না, আমাদেরকে কি পড়াবেন না?'
তারপর থেকে মামুনসহ পাঁচজন নিয়মিত পড়তে মাসজিদে বসে থাকতো। ছেলেগুলোর মেধা ভালো ছিলো বিধায় ভাবতাম, 'হয়তো একটু চাপে রাখলে প্লাস পাবে।'
আমার কথামতো লেখাপড়া শুরু করে দিলো। প্রতি সাবজেক্টস এর পরীক্ষা নিতাম। যে ফার্ষ্ট হতো তাকে কলম গিফট করতাম।
তাই পাঁচজনের মধ্যে প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে গিয়েছিলো। ছোট ছোট ছেলেগুলোকে পেয়ে আমার বেশ ভালো সময় কাটছিলো। তাদের দুষ্টুমি, অভিযোগ ইত্যাদি খুব উপভোগ করতাম আমি।
মাঝে মাঝে খুব রাগ হলে দু'চার ঘা বেতের বারি পড়তো তাদের উপর। আমি বাড়ি না গেলে মামুনও বাড়ি যেত না, গেলে খুব তাড়াতাড়ি চলে আসতো।
আমি বুঝতাম ছেলেটা আমাকে খুব বেশি ভালোবাসতো। মাদরাসায় ভর্তি হবার পর আমার জন্য এই প্রথম অন্যরকম ভালোবাসা দেখেছিলাম, তাও প্রচণ্ডভাবে।
মাঝে মাঝে ট্রাংকে লুকিয়ে লুকিয়ে খাবার রেখে যেত। সেজন্য রাগও হতাম। ওর ছোটখাটো আবদারগুলো পূরন করতে হতো।
মাঝে মাঝে খুব বেশি বকলে কাঁদতো। তখন কান্না থামানোর জন্য অনেক কিছু বলতে হতো।
পিএসসি পরীক্ষার আগে ওর আব্বু আমাকে একটা লুঙি গিফট করেছিলেন। আমি নিতে চাইনি, তবুও খুব জোর করেছিলেন বলে নিয়েছিলাম।
ছেলের সঙ্গে দেখা করার জন্য মাদরাসা আসলে আমার সাথে দেখা না করে যেতেন না। অবশ্য আমি উনাকে দেখলে সালাম দেয়ার জন্য এগিয়ে যেতাম।
মামুনের ব্যাপারে অনেক কিছু শেয়ার করতো। পিএসসি পরীক্ষায় ৪.৫০ পেল। আমাকে না জানিয়ে ঘরে লুকিয়ে কেঁদেছিলো। পরে আমি ওকে সান্তনা দিয়েছিলাম।
আমার ছাত্রদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪.৮৩ পেয়েছিলো। যদিও ভেবেছিলাম তিনজন প্লাস নিশ্চই পাবে, কিন্তু আমার ধারণা পুরো ভুল হয়েছিলো।
আমি একজন কষ্ট পাই নি। কষ্ট পেয়েছিলো পিচ্ছিগুলো যারা অনেক পরিশ্রম আর ভালো পরীক্ষা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায় নি।
রেজাল্টের দিন আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। প্রত্যেকের হাতের লেখা আমার থেকেও অনেক সুন্দর ছিলো।
ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের পয়সা খরছ করে ওদের জন্য প্রশ্ন করে পরীক্ষা নিয়েছিলাম। শুধু দায়িত্ব থেকে করি নি, করেছি আমার অতীত ভোলার জন্য। চেয়েছিলাম পিচ্ছিগুলোন মাঝে একটু শান্তি ফিরে পেতে।
(চলবে)

জীবনী: অশ্রু ভেজা ডায়েরী
((পর্ব:১১))
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে।)
.
.
(৩০)
২০শে ফেব্রুআরি ২০১৪.....
বাজারের ভিতর টিভিতে বাংলাদেশের খেলা দেখছিলাম। দিনটা খুব সম্ভবত বৃহস্পতিবার ছিলো। হঠাৎ করেই আব্বু ফোন করলেন। ফোন রিসিভ করে আমি সালাম দিলাম,
- কি খবর আব্বু? কেমন আছেন?
- ভালো আছি, বাড়িতে আসবি না?
- কেন? আজকে আর যাবো না। পরের সপ্তাহে যাবো।
- কালকে তোর বাতেন ভাইয়ের বিয়ে, তবুও আসবি না?
বিয়ের কথা শুনে আমি আনন্দে গদগদ। আমাকে আর পায় কে! খুশি হয়ে আব্বুকে বললাম,
- ঠিক আছে, আমি আসতেছি।
সেদিন হুজুরও বাড়িতে গিয়েছিলেন, যার কারণে ছুটিও নেয়া লাগলো না। খুব দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। ভাবলাম প্রথমে নানু বাড়ি যাবো, সন্ধ্যার পর হেঁটে হেঁটে না হয় বাড়িতে যাওয়া যাবে।
আমার কাছে টাকা না থাকলে আমি কোনমতে অর্ধেক গিয়ে বাকিটুকু হেঁটেই যাই।
তাছাড়া নানু বাড়ি থেকে হেঁটে যাওয়া আমার অভ্যাস আছে।
গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে আছি দেখলাম অয়ন আমাকে ডাকছে,
- কি রে কই যাবি?
- এইতো, নানু বাড়ি যাবো। ওখান থেকে সন্ধ্যার পর বাড়ি হেঁটে হেঁটে বাড়ি যাবো।
- এই অটোতে উঠ, আমরা রংপুরই যাবো।
কথা না বলে অটোতে উঠে বসলাম। অয়নের সাথে আরিফ ভাই। এমনিতে চিনি, কখনো কথা বলি নি। আমার ক্লাসফ্রেন্ড মাহবুব ভাইয়ের সাথে খুব ভালে সম্পর্ক। অয়ন আমাকে বললো,
- আজকে হঠাৎ বাড়ি যাচ্ছিস? তুই তো বললি যাবি না। কোন সমস্যা?
- না রে, বড় ভাইয়ের বিয়ে কালকে। আব্বু একটু আগে ফোন করেছিলো। একই চতলে থাকি, আমি না গেলে রাগ করবে।
আমার নাম, ঠিকানা, বাড়ি কোন গ্রামে ইত্যাদি জানতে চাইলো আরিফ ভাই। উনি আমাকে প্রশ্ন করলেন আমি উত্তর দিলাম। ছোটবেলা থেকে কম কথা বলার অভ্যাস আমার। তবে খুব ঘনিষ্ঠ হলে সহজে ছাড়ি না। আমি আরিফ ভাইয়ের ফুটবল খেলা দেখেছি।
অসাধারণ খেলেন উনি। বেশ নামডাক ওনার। গাড়িতে আমার গন্তব্য আসার আগ পর্যন্ত শুধু কথাই বলে গেলেন, আমি চুপটি করে শুনলাম। অয়ন আমার বিপরীত দিকে বসে উনার কথায় সায় দিচ্ছে।
আমি আমার গন্তব্যে নেমে গেলাম। নানু বাড়িতে খাবার খেয়ে খেলা দেখা শেষ করে সন্ধ্যার পর হাঁটতে থাকলাম। বাড়ি থেকে আমার চাচাতো ভাইকে পাঠিয়েছে আমাকে নেয়ার জন্য।
ভালো হয়েছিলো, আমাকে অর্ধেক রাস্তা আর হাঁটতে হয়নি। ভাইয়ের বিয়েতে অনেকটা মজা করেছিলাম।
যদিও আমাকে সঙ্গ দেয়ার মতো তেমন কেউ ছিলো না।
আমি বিয়ের বাড়িতে একা একা দাঁড়িয়ে ছিলাম।
একটা মেয়েকে খুব পছন্দ হয়েছিলো, মেয়েটাও আমার মতো দাঁড়িয়ে ছিলো। পরে ভাই (জেঠাতো ভাই) বললো ওই মেয়েকে নাকি সেও পছন্দ করেছে।
যাক ছেড়ে দিলাম ভাইয়ের জন্য। প্রেমের আগেই ছ্যাকা খেলাম।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ওই মেয়ে নতুন ভাবীর ভাগনি ছিলো। তাই আর সম্পর্কটা আগায় নাই। শেষমেশ ভাইও ছ্যাকা খাইলো।
.
(৩১)
ভাইয়ের বিয়ের পরদিন মাদরাসা চলে আসলাম। যদিও ভাই আরো দু'দিন থেকে যেতে বলেছিলো। কিন্তু আমার প্রতিবন্ধকতা ছিলো দু'টি, (১) সাইন্স ছিলাম, সেজন্য প্রাইভেট পড়তে হতো। (২) মামুনকে বলে আসি নি।
অনেকটা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে সাইন্স নিয়েছিলাম দাখিলে। কিন্তু বছরখানেক যাওয়ার পর মনে হলো, সাইন্স আমাদের মতো ক্বওমীর ছেলেদের জন্য না। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
তবুও কম চেষ্টা করি নি! জীববিজ্ঞান একদিক থেকে অপরদিক পর্যন্ত মুখস্ত করে ফেলেছিলাম। কিন্তু পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে আমার বেশ সমস্যা ছিলো। তবুও একটা প্রাইভেট পড়ছিলাম।
সাইন্স বলতে আমি আর অয়ন। বাকি সবাই আর্সে। সারাদিন অনেক খাটনি যেত। এদিকে মামুনের জন্য প্রতিদিন কিছু সময় বরাদ্দ করে রাখতে হয়।
ভাইয়ের বিয়ে খাওয়া শেষে চলে আসি মাদরাসায়। পরদিন টিফিন প্রিয়ডে হোটেলে নাস্তা খাওয়ার জন্য যাই। মাদরাসায় সম্পূর্ণভাবে খাওয়া ছেড়ে দিছিলাম। হোটেল রিজার্ভ করে সেখানেই মাসওয়ারী টাকা দিতাম।
সেদিন নাস্তা খাচ্ছি, হঠাৎ আরিফ ভাই আমার পাশে বস ওয়েটারকে ডিমের অর্ডার দিলেন। ওয়েটার ডিম দিয়ে গেলে আমি বললাম,
- সরি ভাইয়া, আমি পরোটার সাথে ডিম খাই না।
যদিও খেতাম, কিন্তু যাকে ভালোভাবে চিনতাম না তার দেয়া জিনিষ কেন খাবো? সেজন্য মিথ্যা বলেছিলাম। আরিফ ভাই বললেন,
- খাও সমস্যা নাই। শিখতে হবে তো।
- আসলে আমার অভ্যাস নাই।
ওয়েটারকে ডেকে আমি ফিরিয়ে দিলাম। যদিও বিষয়টা ভালো লাগে নি।
- ভাইয়ের বিয়া কেমন হলো?
- জ্বী, ভালো। আপনি এসময় এখানে?
- প্রতিদিন এসময় পাবেন। এসময় খাওয়ার জন্য আসি।
- ওহ, আমি বরং যাই। ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।
- আচ্ছা।
আমি বিলটা লিখে দ্রুত চলে আসলাম। শুনেছি আরিফ ভাই নাকি লোকটা ভালো। সরকারি প্রাইমারীতে দপ্তরি। মানুষরের অনেক উপকার করে উনি। শুনেছি, সরাসরি জানি না। পুরোটা মানুষের শোনা কথার উপর ভিত্তি করে।
মাহবুব ভাইয়ের কাছে শুনেছি।
মাদরাসায় পিকনিকের কথা চলছে। হয়তো এটাই আমার শেষ পিকনিক। কারণ পরের বছরই চলে যাবো এটা নিশ্চিত। তাই মামুনের কাছে টাকা ধার করে শোধ করেছিলাম।
রাতে মাহবুব ভাইয়ের সাথে বাজারে গেলাম। তখন ওর লজিংটা আমিই ঠিক করে দিয়েছিলাম। দু'জন দু'দিক দিয়ে চলে যাবো।
আবারো সামনে আরিফ ভাই। মাহবুব ভাই থামলো, সাথে আমিও। তখন বুঝলাম আরিফ ভাইদের আড্ডা দেয়ার মতো ছোটখাট একটা গ্রুপ আছে। আরেকজন (মনির ভাই) বললেন,
- মাহবুব কে এটা?
- আমাদের ক্লাসে পড়ে। চিনেন না?
- না তো, কখনো দেখি নি।
- ও একটু কম বের হয়।
- আরিফ ভাই, এটাকেও আপনার দলে এড করে নেন।
মনির ভাইয়ের কথায় মাহবুব ভাই হাসলো। আমি কিছু বুঝলাম না। আমার নাম্বার নিলো। আমি চলে গেলাম খাওয়ার জন্য লজিং বাড়ি।
সবসময় চশমা পড়তে হতো আমাকে। কারণ আমার মাথার সমস্যা। ডাক্তার পরীক্ষা করে চশমা দিয়েছেন, পড়তে বসলে বা কোথাও বের হলে পড়তে হয়। নতুবা মাথা ব্যাথা শুরু হলে সমস্যা হতো।
.
(৩২)
লজিং বাড়ি থেকে আপন মনে ফিরছিলাম। হঠাৎ কে যেন আমাকে কাগজ বলের মতো করে ছুঁড়ে দিলেন। আমি দু'পাশে তাকালাম অথচ কাউকে দেখতে পেলাম না।
পিছনে একজন ডাকলেন চশমা করে। পিছনে ফিরে দেখি আরিফ ভাই হাসছে।
আমি দাঁড়িয়ে গেলাম, উনি আমার কাছে আসলেন।
- কিছু বলবেন ভাই?
- হ্যাঁ, কোথায় গিয়েছিলেন?
- এইতো লজিং বাড়ি।
- কার বাসায় লজিং খাও?
- সাদেকুল ডাক্তারের বাড়িতে।
- হাহা, ওর বাড়িতে! ওতো পাগল একটা।
আমার লজিং মাষ্টার একটু পাগল টাইপের। পাগল টাইপ বলতে কথা বলে বেশি। কিন্তু লোকটা অনেক ভালো। সেদিন ওনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মাদরাসায় ফিরে আসলাম।
আমি বারবার ওনার সামনে কেন পড়ি বুঝতে পারি না।
লোকটাকে খুব ভালো মনে হয়। বারবার কেন তার কাছে আকর্ষিত হই বুঝতাম না।
পিকনিকের আগের দিন বাড়ি থেকে মাদরাসা যাচ্ছিলাম। অটোতে বসে আছি। যাত্রীর জন্য চালক অপেক্ষা করছেন। হঠাৎ চোখ গেল শার্ট আর গ্যাভাডিন প্যান্ট পড়া লোকটির দিকে।
গাড়ি থেকে মনে হলো আরিফ ভাই। এই প্রথম তাকে ফোন দিলাম। উনি আমার ফোন কেটে দিলেন। ভাবলাম ব্যস্ত মনে হয়। ওই লোকটাই যে আরিফ ভাই সেটা ফোন হাতে নিয়ে কেটে দেয়ার সময় বুঝেছি।
দেখলাম উনি ফোন ব্যাক করেছেন।
- কি খবর সাজ্জাদ সাহেব, ভালো আছেন?
- জ্বী, আপনি?
- ভালো নাই, মাত্র দিনাজপুর থেকে রংপুর আসলাম। এখন কনফেকশনারির মাল করছি। কাল তো আপনাদের পিকনিক। প্রস্তুতি কেমন?
- জ্বী, ভালোই। আপনি কি বৈশাখীর সামনে?
- হ্যাঁ, আপনি জানলেন কি করে?
- আসলে আমি অটোতে বসে আছি, মাদরাসা যাবো। আপনি কি না তা শিউর হবার জন্য ফোন দিছিলাম।
- তাহলে নেমে আসেন। আমার সাথে যান।
- না মানে!
- কি না মানে করছেন, আসেন।
ড্রাইভার সাহেব টাকা ফেরত দিলেন। আমি উনার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। উনি মুচকি হাসলেন আর বললেন,
- এভাবে দেখা হবে ভাবি না।
- জ্বী, আমিও।
- ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন, আমার কাজ প্রায় শেষ।
- সমস্যা নেই, কাজ শেষ করেন।
আমি দাঁড়িয়ে থাকলাম, উনি মিষ্টি, কেক, দই, বিস্কিট ইত্যাদি গাড়িতে তুলছেন।
এর আগে কখনো প্যান্ট আর শার্ট পরে দেখি নি, সবসময় লুঙি আর গেঞ্জি। আজকে শার্ট আর প্যান্টে ভালোই লাগছিলো।
এরপর সারা রাস্তা উনি কথা বললেন আর আমি হু হা করলাম। লোকটা বড্ড কথা বলে।
অটো থেকে নামার পর বললেন,
- কালকে পিকনিকে যাবার টাকা আছে তো?
- জ্বী, আছে।
- না লাগলে ধার নিতে পারেন। মাহবুবও টাকা ধার নিয়েছে।
- না ভাই, আমার টাকা আছে। বাড়ি থেকে যা দিয়েছে তাতেই অনেক।
দেখলাম মাহবুব ভাই পিছনে। হয়তো দেখা করতে আসছে। কথা বলা শেষ হলে দু'জনই মাদরাসায় ফিরে যাই।
((চলবে))

জীবনী: অশ্রু ভেজা ডায়েরী
((পর্ব:১২))
(পুরোটাই সত্য ঘটনা।)
.
.
(৩৩)
পিকনিক উপলক্ষে মাদরাসায় আনন্দঘন পরিবেশ। সকলের মুখে হাসির ছাপ। কেউ কেউ কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত। ছোটদের লাফালাফি দেখে ভালো লাগছিলো রাতটা। সারারাত অনেকেই ঘুমালো না।
অন্যদের মতো আমার বা আমার ক্লাসের ছাত্রদের এত সুযোগ নাই। কারণ দাখিল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছিলো সবাইকে।
তবুও সব নিয়মমাফিক করার চেষ্ঠা করছিলাম। খুব ভোরে হুজুর ডেকে দিলেন, যারা ঘুমায় নি তাদের। ঘুম থেকে উঠেই বাথরুমে চলে গেলাম গোসলের জন্য।
কারণ
ফজরের নামায যে যার মতো আদায় করে বাসে গিয়ে উঠবো, যাতে ভালোভাবে পরিদর্শন করা যায়।
সরি, বলাই হয়নি কোথায় যাচ্ছি। তিনটা স্থান নির্বাচন করা হয়েছিলো, প্রথমে বাংলাবান্দা জিরো পয়েন্ট, তারপর তেঁতুলিয়া ও চা বাগান পরিদর্শন এবং নীলফামারীর নীল সাগর।
দু'টো বাসে অনেক কষ্টে জায়গা হয়েছিলো। তবুও সিনিয়র ছাত্র হয়ে সেক্রিফাইজ করার মধ্যে অন্যরকম একটা মজা আছে। দু'পাশে দু'জন ছোট ক্লাসের ছাত্রতে বসিয়ে দিয়েছে স্যার।
প্রথমে জিরো পয়েন্ট দেখেই তেঁতুলিয়া চলে আসলাম। ওখানে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরির পর সিনিয়রদের ডাক পড়লো খাবার পরিবেশন করার জন্য।
আমাদের খাবার সবার শেষে, আগে পরিবেশন করতে হবে এটাই হুজুরের আদেশ।
কাজ শুরু করে যখন নিজেরা বসলাম তখন সবকিছু টান টান অবস্থা। দু'চারজনের মেজাজ বিগড়ে গেল। তবুও সিনিয়র হিসেবে মেনে নিয়েছিলাম।
যা ছিলো তাই শেষপর্যন্ত ভাগাভাগি করে খেয়েছি। সত্যি কথা বলতে কি, কোন জিনিষ ভাগাভাগি করে খাওয়ার মজাই আলাদা।
দিনটাকে স্বরনীয় করে রাখার জন্য বেশ কয়েকটা ছবি তুললাম। কিছুক্ষণপর চা বাগান দেখার জন্য গেলাম। চা বাগানের চেয়ে বাঁশ বাগানটাই বেশি আকর্ষণীয় ছিলো।
সত্যি কথা বলতে গেলে এত মোটা বাঁশ আমি জীবনেও দেখি নি।
চা বাগান থেকে আস্ত চায়ের গাছ তুলে ব্যাগে ঢুকালাম। চুরি করা হলেও ব্যাপারটা বেশ মজার ছিলো।
আস্তে আস্তে সময় গড়িয়ে যেতে থাকলো। মাদরাসার অধিকাংশ ছাত্ররা পাঞ্জাবি খুলে প্যান্টের সাথে গেঞ্জি বা শার্ট পরেছে।
কেউ কেউ প্যান্টের সাথে পাঞ্জাবি পরেছে। আমি অধিকাংশ সময় প্যান্টের সাথে পাঞ্জাবি পরি। আমার ক্লাসমেটের সবাই প্যান্টের সাথে পাঞ্জাবি পরেছিলো। তখন হুজুর বেশ কয়েকজন ছাত্রকে ডেকে বলেছিলো,
  -  এগুলা কি আমাদের ছাত্র?
আমাদের মধ্যে একজন হেসে উত্তর দিলো,
  -  জ্বী হুজুর, সব আমাদের মাদরাসার ছাত্র।
  -  বেশিরভাগেই তো শার্ট আর প্যান্ট!
হুজুরের আফসোস দেখে অন্য একজন হুজুর বলে উঠলেন,
  -  আরে শাইখ বাদ দেন। ওরা এখনো ছোট, তাছাড়া একটা দিনের ব্যাপার।
হুজুর মেকি হাসলেন। আমরাও হুজুরের মধ্যে কিছুটা হতাশার ছাপ দেখলাম। তবুও ভেবেছি, একটা দিনেরই ব্যাপার তো! প্রতিদিন তো এমন সুযোগ আসে না। দু'এক বছর পর পর মাত্র একদিন।
হারিয়ে যাক কিছুক্ষণ আনন্দের ভেলায়। গতানুগতিকের বাইরে এমন দিন খুঁজে পেলে চিৎকার করে বড্ড বলতে ইচ্ছে করে,
"আজকে মোদের হারিয়ে যাবার নেই মানা, হা হা হা।'
.
(৩৪)
তেঁতুলিয়া থেকে নীল সাগরে আসলাম। জায়গাটা খুব মনোমুগ্ধকর। জিরো পয়েন্ট ও চা বাগানের চেয়ে এই বিশাল দিঘীটাই বেশি ভালো লাগলো।
দিঘীর পানিতে ওযু করে যোহর ও আছরের সলাত আদায় করে নিলাম। দিঘীর বিস্তৃতি অনেক বিশাল। হাঁটতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন।
নামাযের পর একটা দোকানরে কিছু কেনার জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। জেঠাতো ছোট বোন, ভাতিজি, ভাগনি ও লজিং বাড়ির আপার জন্য কিছু কেনা দরকার।
দোকানে বিভিন্নরকমের কসমেটিক্স। আমি দেখে দেখে কিনছিলাম, মোবাইলে হঠাৎ কল আসলো। হাতে নিয়ে দেখি আরিফ ভাই।
এই প্রথম নিজের থেকে আমাকে ফোন দিলেন। রিসিভ করে সালাম দিলাম, উনি জবাব দিলেন।
  -  ভালো আছেন আরিফ ভাই?
  -  নাহ
  -  কেন, কোন সমস্যা হয়েছে নাকি?
  -  ঘুরতে গেলেন অথচ একটিবার ফোনও করলেন না। অনেক কিছু দেখছেন মনে হয়?
  -  জ্বী ভাইয়া, আসলে মনেই হয়নি আপনাকে ফোন দেয়ার কথা।
  -  হুম সেটাতো অবশ্যই, আমরা পর মানুষ তাই মনেই হবে না।
উনার কথাগুলো শুনে আমি বেশ অবাক হচ্ছিলাম। খুব না বুঝলেও কিছুটা বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু উনি সবসময় এখন কেন আমাকে টার্গেটে রাখছে সেটাও বুঝতে পারছিলাম না।
লাষ্ট দশটি দিন আমার সাথে উনার সম্পর্কটা অনেক মজবুত হয়তো হয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো সেদিন উনি ১৫ মিনিটের মতো আমার সাথে কথা বলেছিলো। আমি এর আগে কারো সাথে এতক্ষণ কথা বলি নি।
উনি তখন জিজ্ঞেস করলেন
  -  আপনি বলেন এখন কোথায় আছেন, সে জায়গার আশেপাশে কি আছে বলে দিচ্ছি।
  -  হাহা,  তাই হয় নাকি?
  -  হুম হয়, আপনি বলেই দেখুন না।
  -  আমি এখন নীল সাগর ঢোকার সময় পাশে যে দোকানটা আছে সেখানে কিছু কিনতেছি।
অতঃপর তিনি গড়গড় করে সব বলে দিচ্ছিলো। আমি শুধু অবাক হয়ে উনার কথা শুনছিলাম আর জিনিষ কিনছিলাম। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিলো এতক্ষণ কেমনে কথা বলে উনি! তাইতো শেষপর্যন্ত আমি বললাম,
  -  ভাইয়া, এখন ফোনটা রাখি?
  -  কেন কোন সমস্যা?
  -  না মানে একটু জিনিষ দেখতেছি, আমার সহপাঠীরা দিঘীর চারপাশে ঘোরাঘুরি করছে। আমি দ্রুত কেনা শেষ করে তাদের সাথে যোগ দিতে চাই।
  -  ফিরলে ফোন দিবেন?
  -  আচ্ছা, মনে থাকলে দিবো।
এতক্ষণ দোকানদার আমার ফোনে কথা বলা সব শুনছিলেন। আমার সব জিনিষ প্যাক করতে করতে বললেন,
  -  ভাইয়া কিছু মনে করবেন না, কার সাথে এতক্ষণ কথা বলছিলেন?
দোকানদার ছেলে বেশ তরুন। সুন্দর দেহের গড়ন। তাকে পার্সোনাল বিষয় কেন শেয়ার করবো? যদি তাকে ঝাড়ি দেয়ার কথা কল্পনাও করা যায় না। ছেলেটার মুখে যেন হাসি লেগেই আছে। আমি বললাম,
  -  পরিচিত এক ভাই। উনি বললেন কোথায় আছি, আমি বললাম নীল সাগরে। তারপর নীল সাগরের কোথায় কি আছে সব গড়গড় করে বলে দিচ্ছিলেন।
ছেলেটা হাসতে হাসতে বললেন,
  -  তাহলে মনে হয় এর আগে বেশ কয়েকবার এসেছিলেন তিনি। তাই হয়তো এভাবে বলছিলো।
  -  হবে হয়তো।
দোকানদারের টাকা চুকিয়ে দিঘীর পাশে গেলাম,  সবাই যে যার মতো দিঘীর পাশ দিয়ে ঘুরছে। আমার মনে এখনো একটা খটকা লেগে আছে। এটা একটা দিঘী, তাহলে এর নাম সাগর রাখলো কেন? নীল দিঘী তো রাখতে পারতো।
আশেপাশে এমন কাউকে পেলাম না যাকে জিজ্ঞেস করবো, তাই বাধ্য হয়ে সহপাঠীদের সাথে যোগ দিলাম।
.
(৩৫)
সারাদিনে পিচ্ছি মামুনকে দু'বার চোখে পড়েছিলো। একবার কিছু পাতা নেয়ার জন্য আসলেও অন্যবার মুচকি হেসে অন্যদিকে দৌঁড় দিয়েছে। ছেলেটা লাজুকও বটে।
পাঞ্জাবি ছেড়ে প্যান্ট আর শার্ট পরেছে বলে লজ্জায় সামনে আসছে না।
সহপাঠীদের সাথে একটু দূরেই গেছিলাম। আসতে দেরি হওয়ায় স্যার খানিকটা ঝাড়ি দিয়েছে। তাতে কি! দেখা তো হয়েছে!
আসার সময় খুব করুণভাবে আসলাম। এমনিতে ভালো করে খাওয়া হয়নি তাতে আবার চশমাটার ডান্টা ভেঙে গেছে।
বই সাথে এনেছিলাম বাসে পড়ার জন্য। কিন্তু তা আর কই হলো! বাসের অশোভনীয় দৃশ্য দেখে মেজাজটাই বিগড়ে গেছে।
মাঝে মাঝে মনে হয় এই পিচ্ছিগুলোকে কেন আমাদের সাথে দিছে? এদের নিয়ে আর পারা গেল না। পুরো বাস শেষ করে ফেলছে। এত ছোট মানুষ পরিবেশ বুঝবে কেমন করে?
তবে আমি যে জায়গায় ছিলাম সেটা জানালার পাশেই। জানালার বাইরের দৃশ্য অবলোকন করছিলাম যদিও রাত নেমে এসেছে। তবে গাড়ি দিয়ে দিনের দৃশ্য দেখার চেয়ে রাতের দৃশ্যই মনোমুগ্ধকর!
মাদরাসার মূল রাস্তায় এসে গেছি। কিন্তু নামবো কিভাবে?
যে অবস্থা তাতে আমারও অবস্থা খারাপ হবে। তাইতো সিটের উপর দিয়ে দৌঁড় দিলাম। যদিও হেলপার সাহেব একটু রাগ করেছিলেন।
তাতে কি! ভালোয় ভালোয় নামনে পেরেছি এটাই বিশাল!
মাদরাসায় ফিরে ওযু করে মাগরিব আর এশার সলাত একসাথে আদায় করে বিছানায় শুয়ে পড়লাম।
নাহ! আজ আর পড়া হবে না। আবারো ফোনটা ভাইব্রেট করতে লাগলো।
বের করে জিহ্বায় ছোট করে কামড় দিলাম। আরিফ ভাই! মনে মনে ভাবলাম, এই লোকের কি কাজ কর্ম নাই?
রিসিভ করে সালাম দিলাম,
  -  কি খবর, কেমন আছেন?
  -  কালকের মতন।
  -  মানে?
  -  মানে কালকে যেমন ছিলাম তেমনি আছি।
  -  ওহ, কালকে কেমন ছিলেন?
  -  আজকের মতন।
  -  ওহ! কি জ্বালায় পড়লাম! মজা করছেন ভাই?
  -  মাঝে মাঝে করতে হয়। আপনি মাদরাসায় পৌঁছেছেন কতক্ষণ আগে! এখনো ফোন দিলেন না, তাই ভাবলাম আমিই দেই।
  -  সরি ভাই, আসলে খুব ধকল গেছে সারাদিন। মনেই ছিলো না আপনার কথা। সরি।
  -  শোনেন, আমাকে ইংলিশ বলবেন না, আমি ইংলিশ বুঝি না।
  - আচ্ছা, ঠিক আছে বলবো না। আমি আপনাকে কাল ফোন দেই? আসলে ঘুম ধরেছে।
  -  আচ্ছা ঠিক আছে, সন্ধ্যার পর বেশি ফ্রি থাকি। এসময় দিলে ভালো।
  -  আচ্ছা ঠিক আছে।
বিছানায় শুয়ে ভাবছিলাম এ কেমন লোক! বারবার কেন ফোন দেয়? আমাকে তো ঠিকমতো চিনেও না। মাহবুবু ভাই বলেছে  উনি নাকি বিয়েও করে নি এখনো। দেখলে মনে হবে বিয়ের বয়স পার হয়ে গিয়েছে। পরে জানলাম উনার ভাগিনার সাথে একমাসের কম-বেশি।
ভাগিনা দেখতে এখনো তড়তড়ে তরুন। মাহবুব ভাই বলেছিলো লোকটা নাকি জীবনে খুব কষ্ট করেছে, খেটেছেও খুব। সেজন্য অনেকটা বয়সের ছাপ পরেছে। লেখাপড়াও নাকি করার সুযোগ পায় নি। উনাকে বলাতে উনি বলেছিলেন, 'আমি নয় ক্লাস কম মেট্রিক পাশ।'
((চলবে))

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ