āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4439 (3)

জীবনী: অশ্রু ভেজা ডায়েরী
((পর্ব:৭))
((সত্য ঘটনা অবলম্বনে))
.
.
(১৯)
এক সপ্তাহ পরপর বাড়িতে নিয়ে আসতেন মামা। রাস্তায় কথার মাধ্যমে নানান কিছু বোঝাতেন। আমি চুপ করে বসে থাকতাম শুধু।
তিনি আমাকে শাসন করতেন, তবে আমার মনে হয় শাসনটা একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিলো। বেশি রাগ হলে তিনি তুই-তুকারি পর্যন্ত শুরু করতেন।
মামা যখন রুমে এসে আমার সাথে রাগারাগি করতেন তখন অন্যান্য ছাত্ররা চুপ হয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো। চতুর্থ শ্রেণীর অর্থ বার্ষিকী পরীক্ষার রেজাল্টে চতুর্থ হয়েছিলাম।
যার কারণে মামা তার রুমে ডেকে নিয়ে গেলেন। ভয়ে আমি প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলাম। আমি জানি হয়তো দু'চার ঘা বেদের বাড়ি আমার কপালে জুটবে।
মাথা নিচু করো মার্কসশীট উনার হাতে দিলাম। উনি সবগুলো দেখলেন। আমি স্কুলের ছাত্র হিসেবে আরবিটা কম মুখস্ত থাকতো। সেজন্য হয়তো একটু খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। মামা সেদিন আর মারলেন না।
এমন সব কথা বললেন যাতে আমি কাঁদতে বাধ্য। কাঁদিয়ে বিশ টাকা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে নিজের রুমে যেতে বললেন।
আমি চোখে পানি নিয়ে রুমে আসলাম। যোহরের পরের সময় ছিলো তো, সেজন্য বাকি ছাত্ররা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরতো। আমার ঘুম আসলো। বারবার বাড়ির কথা মনে হচ্ছিলো। ক্লাস রুমের দরজা লাগিয়ে দিয়ে দূরের আকাশ দেখতে লাগলাম। ছোট থেকেই একা একা থাকতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম। খুব বেশি কারো সাথে মিশতাম না।
হয়তো গভীরভাবে মিশলে মামার পক্ষ থেকে কিছু উপহার পাবো সেই ভয়ে।
নাজির মামাদের ক্লাসে আরেকজন ছেলে আমার খুব পছন্দের ছিলো। উনার নাম সামিউল। উনাকেও মামা বলে ডাকতাম। মজার ব্যাপার হলো, সামিউল মামাকে তখন যতটুকু দেখেছি আজো ঠিক ততটুকুই দেখি।
সহজ-সরল, নম্র স্বভাবের ছেলেটির বাড়ি পঞ্চগড়। রুমে পড়ুয়া ছাত্রদের মধ্যে তাকে না রাখলে ভুল বলা হবে।
আমাকে বেশ আদর করতেন তিনি।
আমি প্রায় উনার ঘাড়ের উপর বসে ঘোড়া ঘোড়া খেলতাম। আমি উনাকে ঘোড়া বলে ডাকতাম, আর উনি আমাকে ফেরাস বলে ডাকতেন।
ফেরাস শব্দের অর্থ সম্ভবত আরোহী, অনেকদিন আগে পড়েছি তো মনে নেই।
মামার আড়ালে নিজেকে ভালো রাখার জন্য চুপি চুপি বসে থাকতাম কিংবা রসিক মানুষদের সাথে গল্প করতাম।
অর্ধ-বার্ষিকী পরীক্ষায় একটু খারাপ করার জন্য নিজেকেও খারাপ লাগতে শুরু করলো। ভাবলাম ভর্তি পরীক্ষায় ফার্ষ্ট হলাম অথচ এখন পিছিয়ে পড়লাম!
আগের থেকে লেখাপড়া আরো বাড়িয়ে দিলাম। ভালো রেজাল্ট করার জন্য মামা আরবি বইগুলোর প্রথম থেকে শেষপর্যন্ত মুখস্ত ধরতেন।
নিয়মটা ছিলো এমন, আমি সবটা মুখস্ত করে প্রথম থেকে বলা শুরু করবো, মামা আমার সামনে বই নিয়ে থাকবেন। ভুল বলা যাবে না। ঠিকঠাক বলতে পারলে গিফট স্বরুপ দশ থেকে বিশ টাকা কপালে জুটতো। নতুবা আবার মুখস্ত করার জন্য পাঠাতেন।
বার্ষিক পরীক্ষায় আবারো চতুর্থ হলাম। তৃতীয় যে হয়েছিলো তার সাথে ৯ মার্কসের পার্থক্য। মামা এবার খুব বেশি রাগ হননি। হয়েই বা কি লাভ! সবাই ভালো পড়েছে, ভালো করেছে। আমিও তো কম পড়ি নি।
তখন থেকে মনের মধ্যে একটা সংকল্প কাজ করতো, বেশি করে পড়ার।
.
(২০)
মামার অধীনে থাকাকালীন আমি সম্পূর্ণ পরাধীন ছিলাম। যেখানে বন্ধুরা অবাধে ঘুরে বেড়াত, খেলতো, দুষ্টুমি করতো সেখানে আমি খুব কমই সুযোগ পেয়েছি।
চতুর্থ শ্রেনীর গন্ডি পেরিয়ে পঞ্চম শ্রেনীতে উঠলাম। সাথে বাড়লো পড়াশোনা। মামা বইয়ের পড়ার চাইতে আরো অতিরিক্ত পড়া দিতেন।
পঞ্চম শ্রেনীতে "মিজান ওয়াল মুনশাইব" নামে একটি বই পড়ানো হতো। মাদরাসা পড়ুয়া স্টুডেন্টদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বইটি। গ্রামের মৌলিক বিষয়গুলো সেখানেই সন্নিবিষ্ট।
এই সাবজেক্টস পড়ার সময় হুজুরের কাছে যা মার খেয়েছি তার থেকে পাঁচগুণ মামার কাছে খেয়েছি।
আরবি ও উর্দুতে সাজানো বইটি শেষপর্যন্ত মুখস্ত শুনাতে হয়েছিলো।
অধিক আরবি শব্দার্থ মুখস্ত করার জন্য দুই তিন পৃষ্টা পর্যন্ত পড়া মুখস্ত দিতেন। তাইতো যেসময় ছাত্ররা খেলতে যেত বা ঘুমাতো তখনো অনেকটা সময় জুড়ে পড়তে হতো।
অয়নের কথা নিশ্চই মনে আছে আপনাদের!
আগের পর্বে বলেছিলাম তার সম্পর্কে। অয়নের সাথে উপর ক্লাসের একজন ছাত্রের খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিলো। ওনার নাম মিজানুর রহমান।
আমি অবশ্য মিজান মামা বলেই ডাকতাম, অয়নও মামা ডাকতো।
মাদরাসায় ভর্তির কিছুদিন পর্যন্ত উনার সাথে সম্পর্ক ছিলো ছিলো। ছেলেটা বেশ মেধাবী ছিলো, এখনো মেধাবী।
অয়নের সাথে ওনার বন্ধুত্বের সম্পর্ক দেখে মাদরাসার সবাই হিংসে করতো হয়তো।
উনারা দু'জন এমনভাবে মিশতো যেন তাদের সম্পর্কটা জনম জনম রয়ে যাবে। সবাই বিশ্বাস করতো সম্পর্কটা রয়ে যাবে চিরকাল।
যদিও শেষপর্যন্ত অনেক নাটকীয়তার মধ্যে টিকে নি। কিন্তু উনাদের সম্পর্ক দেখে যে কেউই হিংসে করত।
আমার সাথে হয়তো এমনি করতে চাইতো আরেকটি ছেলে, বন্ধুত্বের ভালো সম্পর্ক।
আমি বুঝতে পেতাম না প্রথম দিকে, যখন বুঝতে পেরেছি তখন উনার কাছাকাছি আসতে চেয়েছি। কিন্তু তখন তিনি আমাকে দূরে টেলে দিলেন।
তার কয়েকমাস পর উনি মাদরাসা থেকে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে উনি আমাকে সবটা বলেছেন। এটাও বলেছেন যে, উনি আমাকে কষ্ট দিতে চান না।
তাইতো সম্পর্ক শুরুর আগেই সমাপ্তি ঘটেছিলো। ঢাকাইয়া ছেলেটির নাম Tawhidul islam Tawhid (আইডি নেম).........
আগের থেকে পড়াশোনা আরো বাড়িয়ে দিলাম।  কারণ সামনে আমার পিএসসি পরীক্ষা। ক্লাসের সবাই ভর্তি হলেও শেষপর্যন্ত দু'জন দিয়েছিলাম পরীক্ষা।
আমি বড় আব্বুর মেয়ে (আমার আপু) উনার বাড়ি থেকে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। সেজন্য বেশ কিছুদিন আমাকে ছুটি নিতে হয়েছিলো।
পরীক্ষাগুলো খুব ভালো না দিলেও মোটামুটি দিয়েছিলাম। তবুও সেন্টার ফার্ষ্ট হয়েছিলাম ফার্ষ্ট ডিভিশন নিয়ে। ৬০০ এর মধ্যো মার্কস পেয়েছিলাম ৪৭৪.....
তবুও কেন জানি বৃত্তি দেয় নি। আমার অন্য বন্ধু রুহুল আমীন সেও ফার্ষ্ট ডিভিশন নিয়ে সেন্টার সেকেন্ড হয়েছিলো।
সেন্টার কিছুটা দূর হলেও যাওয়ার সময় রিকশায় যেতাম আর আসার সময় হেঁটে। ভাগিনাও পিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলো সেসময়। কোন কোন সময় ফসলের মাঠের মাঝখান দিয়ে দৌঁড়ে দৌঁড়ে আসতাম।
আপুর বাড়িতে বেশ মজা করলেও আসার সময় ওর মায়ার টানে কেঁদেছিলাম। ২০১০ সালের ঘটনা ছিলো এরকম।
.
(২১)
সমাপনী পরীক্ষা শেষ করে বাড়িতে দু'দিন থেকে মাদরাসায় ফিরে গেলাম। তখন আমি নিচতলায় থাকতাম। আমার দূর সম্পর্কের এক মামা আমার সঙ্গে পড়তো। অসম্ভব সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী ছেলেটা আমার সাথে বন্ধুত্বের অফার করে বসে।
আমিও তার কথায় সায় দেই। শুরু হলো দু'জনের পথচলা। খেতাম একসঙ্গে, কোথাও ঘুরতে গেলে একসঙ্গে, নামাযের সময় বসতাম একসঙ্গে, ক্লাসে বসতাম পাশাপাশি।
ক্লাস ফাইভ সমাপ্ত করার পর আমাদের জায়গা হয় দ্বিতীয় তলায়।
আমার জন্য তখন বেশ ভালোই হয়েছিলো।
কারণ মামা দ্বিতীয় তলায় শেষের রুমে থাকতো। আমরাদের জায়গা হলো শেষের আগের রুমে।
মামার সাথে সম্পর্ক ভালো দেখে আমার নিজের মামা কিছু বলতেন না। কারণ তিনিও তো আমার মামা, আমার নিজের মামার পরিচিত খুব তিনি।
ছোটখাটো খুনসুটিতে ভরা একটা সম্পর্ক। তখনো বুঝতাম না বন্ধুত্বের মানে আসলে কি?
অয়ন-মিজানকে দেখে কিছুটা বুঝেছি। অয়নও দ্বিতীয় তলায় এসে বেশ ভালোই হয়েছে দু'জনের। কারণ আমার বন্ধু আর মিজান মামা একই রুমে থাকতো।
আমাদের রুম থেকে ওনাদের রুম দেখা যায়। মাঝখানে হার্টবোর্ডের পাটিশন দেয়া।
আমার বন্ধুর নামটা বলতে চাচ্ছি না, যদি রাগ করে সেজন্য। প্রতিদিন নিত্যনতুন আদর, ভালোবাসা, মান-অভিমান লেগেই ছিলো। আমি উনাকে যতটা ভালোবাসতাম তার চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন আমাকে।
প্রতিদিন ক্লাস রুম থেকে পড়াশোনা করে ঘুমাবার আগে দেখা করতাম, সেসময় বিভিন্ন খাবারের জিনিষ হাতে তুলে দিতেন। আমি না নিলে তিনদিন কথা বলতো না। তিনদিন হলে ঠিকই কাছে চলে আসতো।
আমার জন্য ডিম কিনে এনে রেখেছিলেন। উনার ডিম সিদ্ধ করা জগ ছিলো, সেখানে সিদ্ধ করে আমাকে দিতেন।
নিজেও খেতেন না। আমি মনে মনে ভাবতাম, এটা কেমন ভালেবাসা!  যা শুধুই এক তরফা!
যা হবে সমান সমান হবে, না হলে একেবারেই নাই। উনি আমার ক্লাস সিক্সের বন্ধু।
আমার কাপড় কেচে দেয়, বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, একসঙ্গে খেলাধুলা করা সবই ছিলো। উনি চাইতেন শুধু উনিই দিবেন, আমি কিছু দিতে পারবো না।
বাড়িতে আসছিলাম ছুটিতে। মিজান মামা হঠাৎ আমার বাড়িতে উপস্থিত। পরদিন আমিও মাদরাসায় যাবো বলে আব্বু তাকে থেকে যেতে বললেন।
তিনিও রাজি হয়ে গেলেন। অদ্ভুত ব্যাপার, তিনিও আমাকে বন্ধুত্বের জন্য হাতটা বাড়িয়ে দিলেন। আমি তাকে কিছু বললাম না শুধু এতটুকু বাদে যে, 'অয়ন আমার শুধু বন্ধু নয়, ভাইও বটে। আমি চাইবো না আমার কারণে ও কষ্ট পাক।'
উনি আমার কথার মানে বুঝেছিলেন। আগের থেকে উনার কাছে সম্পর্কটা ভালো হয়েছিলো কিন্তু তার আবদার রাখতে পারি নি।
পরদিন মাদরাসায় আমার বন্ধুকে সবটা বলে দেই।
উনি আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। যদিও সম্পর্কটাকে আমি বিচ্ছেদ করে দিয়েছিলাম। কারণ একটাই, তিনিই শুধু আমার কেয়ার নিবেন , আমি নিতে পারবো না।
সম্পর্কটাকে বিচ্ছেদ করে কেঁদেছিলাম।
((চলবে))

জীবনী: অশ্রু ভেজা ডায়েরী
((পর্ব:৮))
((সত্য ঘটনা অবলম্বনে))
.
.
(২২)
আজকের পর্বে এমন কিছু মানুষের নামের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব যারা মাদরাসা জীবনে দেখা অসম্ভব সব গুনের অধিকারী।
.
(ক) #জসীম_উদ্দীন: মামা বলে ডাকতাম। আমার মামার এক ক্লাস জুনিয়র। ক্লাসে সবসময় ফার্ষ্ট হতেন। নিজের ট্রাংকে শুকনো সিঙারা, বিস্কিট, রুটি, কেক ইত্যাদি নিয়ে এসে বিক্রি করতেন। লাভ হতো চোখে পড়ার মতো। এই খরচ দিয়ে তার লেখাপড়ার টাকা যোগান দিতেন। শান্ত প্রকৃতির ছেলেটার ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যে, একাদশ শ্রেণীতে পড়া কালীন সংসারের চাপে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ তিনি ছিলেন বড় ছেলে, বাবা বৃদ্ধ।
.
(খ) #সাজ্জাদ_আলম: আমি নই, আমার মিতা। মামা বলে ডাকতাম তাকে। জসীম মামাদের ক্লাসে পড়তেন। সবসময় দুই রোল করতেন। ছেলেটাকে যেকেউ দেখলে এখনো পিচ্ছি মনে করবে। উনার মতো স্বৃতি শক্তির ক্ষমতা আমি দ্বিতীয় কারো দেখি নি। আরবীতে অনর্গল বক্তৃতা দিতে পারতেন। বলা যায় সবদিকেই অল স্কয়ার। প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সবসময় হাস্যজ্বল মুখ।
.
(গ) #মুয়াজ_হাসান: আমার তিন ক্লাস সিনিয়র। মামা বলে ডাকতাম তাকে, আমাকে জামাই বলে ডাকতেন। সর্বোপরি আমি আমার সব মামার জামাই। কম-বেশি সবাইকে শ্বশুর ডাকতাম। মুয়াজ হাসান আমার দেখা সব থেকে মনোযোগ দিয়ে পড়ুয়া ছাত্র। সবসময় বই যেন তার নিত্যদিনে সঙ্গী। ভাগ্যক্রমে দাখিলে এ প্লাস না পেলেও চান্স পেয়েছিলেন যাত্রাবাড়ী মাদরাসায়। সেখান থেকে বর্তমানে মদীনা ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ পেয়ে পড়ার সুযোগ এসেছে। উনার বক্তব্য আমাবে সবসময় বিমোহিত করতো।
.
(ঘ) #মিজানুর_রহমান: অয়নের ফ্রেন্ড। আমি তাকে মামা বলে ডাকতাম। স্বৃতি শক্তি প্রখর ছিলো। মুয়াজ মামাদের ক্লাসে পড়তেন। মুয়াজ মামা ফার্ষ্ট হতেন, আর মিজান মামা সেকেন্ড। আমি উনাকে পরীক্ষা ব্যতীত পড়তে দেখতাম না। সবসময় খেলাধুলা ও মোবাইলে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটে। মুয়াজ মামা প্লাস না পেলেও সেকেন্ড হিসেবে তিনি ছাড় দেন নি। দাখিল, আলিম দু'টোতেই সাধারণ বিভাগ থেকে প্লাস পেয়েছেন। মাদরাসায় কোন অনিয়ম হলে তাকে প্রথমেই প্রতিবাদ করতে দেখা যেত। বর্তমান দিনাজপুরের একটা মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন।
.
(ঙ) #ফাহিম_হাসান (রাহুল): মিজান মামাদের ক্লাসের ছাত্র। বস বলে ডাকতাম আমরা সবাই। কারো মন খারাপ থাকলে মিনিটের মধ্যেই ভালো করে দিত। সর্বোপরি পুরো মাদরাসাকে হাসিয়ে বেড়াতো। প্রতিদিন সকালে খাওয়ার পর বস ও সাত সাগরেদ (আমাদের সেভেন স্টার) মিটিং বসতো। মজার ব্যাপার হলো কেউ অসুস্থ হলে তার সামনে বলতে পারতো না আমি অসুস্থ। নতুবা অবস্থা খারাপ আছে। কারণ তার বিখ্যাতসব থেরাপি আছে। কিছুই পড়তেন না, তবুও ভালো ছাত্রদের কাতারে ছিলেন তিনি। তার মতো হাসি-খুশি আর মজার মানুষ আমি কমই দেখেছি। গতবার দাওরায়ে হাদীস শেষ করেছেন।
.
(চ) #নাজির_হোসাইন: নাজির মামার কথা আগেই বলেছি। আমার এক ক্লাস সিনিয়র ছেলেটি অত্যন্ত ভদ্র প্রকৃতির। অনেকটা সময় ক্লাসে ১ম রোলটা দখল করে রেখেছিলেন। সময়ের কাছে পরাজিত হয়ে স্থানটা হারাতে বাধ্য হন। উনার হাতের লেখা, আর্টস, কোরিওগ্রাফি, কণ্ঠ, হাতের কাজ, মেধাবী ইত্যাদি গুনগুলো আমি শুধুই তার কাছে একত্রিত দেখেছি। তেলকালো বর্ণের ছেলেটি কয়েকমাসের মধ্যে দাওরায়ে হাদীস শেষ করবে। বাস্তবতার কাছে হেরে অতীত সংকীর্ণতায় জীবনযাপন করছেন। বড্ড দুর্বলতা উনার প্রতি।
.
(ছ) #সামিউল_ইসলাম: মাদরাসায় ভর্তি হয়ে যতটুকু দেখেছি ঠিক ততটুকুই এখনো আছে। আমাকে বেশ ভালোবাসতেন। নতুবা আমাকে নিয়ে ঘোড়া ঘোড়া খেলতেন না। আমি উনাকে ফেরাস (ঘোড়া) বলে ডাকতাম, আর উনি সেওয়ার (আরোহী) বলে ডাকতেন। দীর্ঘদিন এলার্জিতে ভুগেছিলেন। সেসময় উনার যতটুকু কষ্ট হয়নি ততটুকু আমার হয়েছিলো। কারণ উনার কষ্ট দেখে মাঝে মাঝে আমার চোখে পানি আসতো। প্রচুর পড়ালেখা করলেও সবজায়গায় প্রাপ্য যোগ্য স্থান পাননি। হয়তো আল্লাহ উনার জন্য ভালো কিছু রেখেছেন। দাওরায়ে হাদীস শেষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন।
.
(জ) #তামিমুল_ইসলাম: আমার থেকে দু'বছরের সিনিয়র ভাই আমার মামাকে মামা বলার সুবাদে ভাই ডাকতাম। আমি যে বছর ভর্তি হয়েছিলাম সে বছর তিনিও ভর্তি হয়েছিলেন। কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় সেটা আমি তার কাছে দেখেছি। বড়লোক বাবার একমাত্র ছেলে হলেও বিন্দুমাত্র অহংকারবোধ ছিলো না তার মাঝে। প্রচুর পড়াশোনা করলেও ক্লাসে তখনো ভালো করতে পারেন নি। পরবর্তীতে নওদাপাড়া মাদরাসায় ভর্তি হয়ে অনেক ভালো কিছু করলেন। চেষ্টা করলে যে সফলতা নিশ্চিত তাকে দেখলেই বোঝা যায়। দাখিল, আলীম গোল্ডেন পাওয়ার পর এখন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ইকোনোমিক্স নিয়ে পড়ছেন।
কত বছর পর তার সাথে গত ২২ তারিখ দেখা হয়েছিলো। একটুও পরিবর্তন চোখে পড়ে নি।
.
(ঝ) #মোহাম্মদ_ইউসুফ: নাজির মামাদের ক্লাসের ছাত্র। আমার ডানে তার বেড ছিলো। প্রচুর পড়লেও হাতের লেখা খারাপ হবার কারণে নাজির মামাকে টপকাতে পারতেন না। তবে সামান্য নাম্বারের কম-বেশি থাকতো। বন্ধের সময় বাড়ি গিয়ে তাঁতে লুঙী বুনত। সেখান থেকে রোজগার করে তা দিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতো। বর্তমানে মুয়াজ মামার মতো তারও মদীনা ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করার সুযোগ এসেছে।
.
(ঞ) #রুহুল_আমীন: আমার ক্লাসমেট। নাতি বলে ডাকি, আমাকে নানা ডাকে। অবশ্য সম্পর্কের জের ধরে নানা ডাকে। শেষের দিনগুলো তার সাথে বেশি কাটিয়েছি। প্রথম দিকে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও বর্তমান মাদরাসার মধ্যে টপ পর্যায়ের ছাত্র। যদিও আমার সাথে তার ও আরেকজনের জোর প্রতিযোগীতা হতো। কেউ বলতে পারতো না কে ফার্ষ্ট, সেকেন্ড হবে। আরবীতে এত প্রখরতা মুয়াজ মামার পরপরই তার দেখেছি। ক্লাসে ঘুমালেও তাক্বরার করার সময় সেই করাতো। দরিদ্র পর্যায়ে জন্ম নিয়ে প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করে লেখাপড়া করছে। খুব শখ, মদীনা ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করার। আমি সবসময় ওর জন্য দোয়া করি।
.

জীবনী: অশ্রু ভেজা ডায়েরী
((পর্ব:৯))
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
.
.
(২৩)
পঞ্চম শ্রেনীতে পড়াকালীন একদিন ফজরের সলাত আদায় করে বের হচ্ছিলাম হঠাৎ মামা পিছন দিক থেকে ডাকলেন। আমি মামার ডাকে মাসজিদেই মধ্যেই থামলাম। মামা বললেন,
'তাড়াতাড়ি ব্যাগ গুছিয়ে নাও। তোমার দাদীমা ভীষণ অসুস্থ, এখনি বাড়ি যেতে হবে। তুমি কাপড় গোছাও, আমি ছুটি নেই।'
মামার কথা শুনে চোখ আমার টলমল করা শুরু করে দিয়েছে ইতোমধ্যে। তাড়াতাড়ি কাপড় গুছিয়ে মামার সাথে সাইকেলে উঠলাম। আমার ভিতরটা কান্নায় ফেটে যাচ্ছিলো। মামা হঠাৎ করে বললেন,
'তোমার দাদীমা মারা গেলে জানাযা পড়াতে পারবে না?'
আমি চুপ করে রইলাম। কারণ জানাযার দোয়া আমার মনে নেই। মুখস্ত করেছিলাম কিন্তু ভুলে গেছি।
মামা কিছুটা রাগ দেখার ফলে বললাম। তারপর সারা রাস্তায় আমাকে গালি দিতে দিতে নিয়ে আসলেন। একদিকে মামার গালি খাচ্ছি, অপরদিকে দাদীমার জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে। আমার আম্মাকে প্রথমে ভালো না বাসলেও পরের দিকে মেনে নিয়েছিলেন। আমাকে অন্যসব নাতি-নাতনির চেয়ে বেশিই ভালোবাসতেন।
আমি বাড়ি ঢোকার আগে দেখি বাড়ির ভিতর অনেক লোকের সমাগম, বাইরেও অনেকেই বসে আছে। বুকটা আমার হু হু করে উঠলো। মনে মনে ভাবলাম দাদীমাকে মনে হয় আর দেখতে পারবো না।
যা মনে করেছিলাম তা ভুল প্রমানীত হলো। দাদীমাকে দেখার জন্য সবাই এসেছেন, সবাই চিন্তামগ্ন। আমার দাদুভাইয়েরা তিনভাই, যার মধ্যে মোট ছেলে ৪+৪+৪=১২জন, মোট মেয়ে ৮জন। সব ছেলে, তাদের বউ, নাতি-নাতনি, মেয়েগুলো ইত্যাদিতে বাড়ি ভরে গেছে। কারণ সবশেষে এই একটাই দাদীমা বেঁচে।
আমি বাড়িতে না ঢুকেই সরাসরি দাদীমার ঘরে গেলাম। আমাকে দেখে অনেকেই সরে গেলেন। প্রথমে দাদীমা আমাকে না চিনলেও পরবর্তীতে চিনলেন। আমাকে দেখিমাত্রই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কেঁদে দিলেন। দাদীমার কান্না দেখে আর সব মহিলারাও কাঁদতে থাকলেন।
আমি দাদীকে একটু পানি খাওয়ালাম। আমার মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দিলেন যে, 'তুই অনেক বড় হবি ভাই।'
আমার দাদীমা মরণকে খুব ভয় করতেন। যদিও তিনি সবসময় নামায, তসবিহ-তাহলীলে বেশি মগ্ন থাকতেন।
উনার যা প্রয়োজন হতো ছেলেরা বা বউয়েরা ঘরের মধ্যে দিয়ে আসতো।
সব ছেলে-মেয়েরা প্রচণ্ড ভালোবাসতেন তাকে। যদিও সারাজীবন কষ্টের মধ্যেই জীবনটা কাটিয়েছেন।
সেদিনের পর দুই দিন বেশ ভালো ছিলেন তিনি। আমরা সবাই ভাবলাম , এ যাত্রায় হয়তো বেঁচে উঠবেন।
কিন্তু সব ধারণাকে মিথ্যা প্রমানীত করে শুক্রবার ফজরের সময় তিনি চলে গেলেন, ইহকালের মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন স্থায়ী গন্তব্যে।
সেদিন আমি কাঁদতে পারি নি, কারণ চোখের পানি আমার শুকিয়ে গিয়েছিলো। আব্বু ফজরের সময় আমাকে ডেকে বললেন আমার দাদীমা আর বেঁচে নেই। আমি বিছানা ছেড়ে এক দৌঁড়ে বড় আব্বুর ঘরে গেলাম, দেখি ফুফু আর বড় আম্মু কাঁদছেন না। তারা খুব শক্ত হয়ে আছেন।
বড় ফুফু বললেন, 'যার জিনিষ সে নিয়ে গেল। কান্না করা যাবে না। আল্লাহ গুনাহ দিবেন।'
কিন্তু তবুও কেউ কেউ তা মেনে নিতে পারলো না। সকাল হতে হতেই লোকজনে বাড়ি ভর্তি হয়ে গেল। শুরু হলো নতুন করে কান্নার রোল। সবচেয়ে কেঁদেছিলো আমার বোবা বড় আব্বুকে নিয়ে, সেতো বিয়েই করেনি।
জানাযার সময় ভেবেছিলাম হয়তো আমাকে দেয়া হবে। আমি ছোটমানু্ষ তাই আমাকে দিলো না। খুব সম্ভবত আমার মামা পড়িয়েছেন (মনে নেই)।
হায়রে আমার দাদীমা!
.
(২৪)
দাদীর শোকে পাগল সবাই, একদিন না যেতেই মামা পরদিন আমাকে নিয়ে মাদরাসায় আসলেন। আমার মনের ভিতর শূন্যতায় পরিপূর্ণ ছিলো, আসতে চাইনি। তবুও মামার মুখের উপর না বলতে পারি নি।
আমার যতদূর মনে পড়ে জীবনে একবারও একথা বলি নি যে আমি মাদরাসা পড়বো না কিংবা মাদরাসায় যাবো না। হ্যাঁ তবে একথা বলেছি, আজকে যাবো না কাল সকালে যাবো।
কারণ আমি আমার আম্মা-আব্বুর প্রতিশ্রুতি শুনেছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি সবসময় আমাকে ভাবনাতে ফেলতো। আমার আম্মার জ্বিন বাবা প্রতিদিন আমাকে দেখে আসতো। যাতে কোন অশুভ ছায়া আর ছোঁয়াতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতো।
এভাবে কাটছিলো একেকটা দিন। একদিন মামা তার পছন্দের মেয়েকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসলেন। মেয়েটার বাড়ি মাদরাসার পাশেই ছিলো। আমি জানতাম না একথা কে বলেছিলো তাকে যে উনি মেয়েটাকে আমাদের বাড়িতে দেখানোর জন্য এনেছিলেন।
দু'দিন পর হঠাৎ করেই ক্লাসের আগে আমার বিছানার পাশে এসে প্রশ্ন করতে থাকেন আমি কাউকে বলেছি কিনা?
আমি বারবার না বলা সত্ত্বেও উনি আমাকে রেহাই দিলেন না। টেনে হিচরে ঘরের বাইরে বের করলেন। আমি সকলের দিকে তাকিয়ে আছি করুণার দৃষ্টিতে। আমি কারো সাহায্য পাই নি। কে বা সাহায্য করবে! যে আসবে মামা তার প্রতিই রাগান্বিত হবে।
আমাকে এমন জায়গায় বের করলেন পুরো মাদরাসার ছাত্ররা খাবার বাদ দিয়ে আমার আর মামার কাহিনী দেখতে লাগলো। হুজুর দেখেও কিছু বলেন নি।
মামা মোটা মোটা কয়েকটা খড়ির অংশ দিয়ে আমাকে পেটাতে লাগলেন। আমি চিৎকার করে কেঁদে বলেছি 'আমি কাউকেও বলি নি।'
তবুও তিনি বিশ্বাস করেন নি। খড়ির অংশগুলো ভেঙে গিয়েছিলো, তারপর কয়েকটা লাথি দিয়ে বিছানায় রেখে গেলেন। কয়েকজন ছাত্রকে বলে গেলেন আমার কাপড়-চোপর সব গুছিয়ে দিতে। উনি আমাকে আর এ মাদরাসায় রাখবেন না।
সেদিন আমার সহপাঠী ভাই, বন্ধুদের চোখে স্পষ্ট পানি দেখতে পেয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর নাজির মামা আসলেন, মলম লাগিয়ে দিলেন। আমার তবুও কোন অভিযোগ নেই, আমি সত্যি কাউকে বলি নি।
বিকেলে মামা আমার বিছানায় এসে মিছে সান্তনা দিয়ে গেলেন। মামার সেই মেয়েই নাকি মামার বন্ধুকে বলে দিয়েছে আমাদের বাড়ি যাবার কথা।
সেদিনও মামা মার আমাকে প্রচণ্ডভাবে কাঁদিয়েছিলো। আমার মামার মুখোমুখি হবার মতন কোন ছাত্র এই কারণে ছিলো না যে তিনি একমাত্র ছাত্র যিনি একাই একটি ক্লাসে পড়েন তাও আবার সবার উপরে।
অনেকেই সহ্য করতে না পেরে আমাকে বলতো, 'তুই তোর আব্বুকে কেন এত বর্বরতার কথা বলিস না?'
আমি মাথা নিচু করে থাকতাম। কারণ আমি জানি আমার আব্বুর রাগ সম্পর্কে।
তাইতো সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকতো তখন আমি শূন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। কিছু একটা খুঁজতাম আর কাঁদতাম।
.
(২৬)
মামা দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বড় মামার শালীকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। আব্বু অনেক বলেছিলেন আর বুঝিয়েছিলেন যাতে বিয়েটা না হয়, তবুও আব্বুর কথা অগ্রাহ্য করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন।
আব্বুর সাথে মামার সেই যে মনকষাকষি, আজ অব্দিও ঠিক হয়নি। অথচ মামার প্রতি আব্বুর অগাধ ভালোবাসা আর বিশ্বাস দেখেছিলাম।
সেই থেকে মামা আমার প্রতি যত্ন নেয়া কমিয়ে দিলো। নাজির মামাকে অনেকটা আপন করে নিলো।
অসুস্থ অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে পানি দেয়ার রেকর্ডও আছে। আমার নিজের মামা যে আমাকে কঠোর শাসন করতেন শুধু তাই নয়, আমাকে ভালোবাসতেনও।
খুব খুশি থাকলে আমাকে হোটেলে নিয়ে ভালো ভালো জিনিষ খাওয়াতেন। আমি তার কাছে শাসন আশা করেছিলাম তবে খুব কঠোর না।
যে শাসনের মধ্যে থাকবে ভালোবাসার স্পন্দন, ক্ষমার মতো দৃষ্টিভঙ্গি।
আমার মামা বর্তমান আমার সাথে স্বাভাবিক। দেখা হলে অনেক ভালো আচরণ করেন। একটা মেয়েও আছে তার।
যে মাদরাসায় লেখাপড়া করতাম সে মাদরাসায় চাকুরি করেন।
সাপ্তাহিক ইমামতি করেন, মাহফিলে করেন অগণিত। মামার বক্তব্যের ধরণ যে কাউকে মুদ্ধ করতে বাধ্য। যার আদলে আজ তিনি সংসারে অরেকটা স্বাবলম্বী। অন্যান্য ভাইদের থেকে বেশ ভালো আছেন তিনি।
আহলে হাদীসের একজন প্রখ্যাত বক্তা, 'আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফের' হুবহু নকল করে বক্তৃতা দিতে সক্ষম। আমি নিজেও বিশ্বাস করতাম না, তবে গতবছর উনার সাথে দিনাজপুরে গিয়ে বুঝেছি।
মামা বেশি মাহফিল করেন নীলফামারী, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, বগুড়া, গাইবান্দা ও কুড়িগ্রামে।
প্রথমে রাযযাক সাহেবের বক্তৃতা নকল করে মানুষের মন জয় করলেও এখন নিজের মত করে স্টেজ মাতিয়ে রাখেন।
তবে বেশিরভাগ লোকই চায় উনি রাযযাক সাহেবের মত বক্তৃতা দিক। আমি মামার সাথে গিয়ে বুঝেছিলাম তার বর্তমান কত কদর!
মনে মনে ভাবি, এক সময় অহস্য মনে করলেও এখন তার উপর রাগ কম। আমি এখন বুঝি তার কঠোর শাসন আমার জীবনটাকে অনেকখানি পরিবর্তন করে দিয়েছে।
নিজেকে বুঝতে শিখেছি বলে যেকোন ছাত্রের সাথে পাল্লা দেয়ার মতো কঠিন কাজটা নিতে রাজি অনায়াসেই।
মামা এখন আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। নানু বাড়ি গেলে তার ঘরেই সবসময় খেতে হয়।
আমি তার কঠোর শাস্তির কথা ভুলে গেলেও কিছু কিছু এখনো মনে দাগ কাটে।
মাঝে মাঝে মামাকে ভ্যাংচাই আর বলি, 'আপনার মেয়ে তো বড় হচ্ছে। আরেকটু বড় হোক তারপর আমাকে যতগুলো মেরেছেন সব শোধ করে নিবো।'
মামা আমার কথায় হাসেন।
((চলবে))

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ