āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4439 (1)

জীবনী: অশ্রু ভেজা ডায়েরী
((পর্ব:১))
((সত্য ঘটনা অবলম্বনে))
.
.
(১)
জোৎস্না রাতে জন্মগ্রহণ করেছিলো বলে আমার আম্মার দাদী তাকে জোৎস্না বলেই ডাকতো, যদিও মূল নাম ছিলো অন্যটা। বংশের বড় মেয়ে হিসেবে সকলের কাছেই ছিলো সমাদৃত। যেমন রুপ ছিলো, ঠিক তেমনি ছিলো গুনও।
স্কুলে সবেমাত্র ক্লাস থ্রীতে পড়েন আমার আম্মা। তখনি এক যুবক তার রুপে মুগ্ধ হয়ে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেন আম্মার বাবা-মাকে। যুবক এতিম হলেও মা ছিলেন একমাত্র বড় অবলম্বন। মেঝ ভাইকে রেখে নিজেই বিয়ের পিঁড়িতে বসে পড়েন। যুবকটিই আমার পিতা।
সবসময় কাছে কাছে রাখতো আমার আম্মাকে। খুব বেশিই ভালোবাসতো তাকে। দু'জনই ছোট মানুষ। বড় ভাইকে রেখে ছোট ভাই বিয়ে করাতে কিছুটা নারাজ ছিলেন আমার দাদীমা। তাইতো ঘোর বিপদের সময়ও পাশ কাটতে দ্বিধা করেন নি আমার দাদিমা। নবদম্পতির সাংসারিক জীবন চলছিলো মাশাআল্লাহ। কিছুদিনের মধ্যে সৃষ্টি হয় জীবনের বড় কালো অধ্যায়। দুষ্ট জ্বিনের কবলে পড়ে যান রাবেয়া নামের মেয়েটি। জোৎস্নার মূল নামই ছিলো রাবেয়া।
গোলজার মিয়া নামের যুবকটির পদে পদে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় দুষ্ট জ্বিন। আকাশের পানে চেয়ে দু'চোখ দিয়ে অশ্রু ফেলতে থাকেন অনবরত। আমার আব্বু প্রেমের বিয়ে যেহেতু, কেউ মেনে নেয়নি, সেহেতু প্রতিটা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে থাকেন। আমি তখনো পৃথিবীর সূর্য দেখিনি। আমার ছোট্ট মায়ের কোলে নতুন অতিথি আসে নি।
সারাদিন দুষ্ট জ্বিন অজ্ঞান করে রাখতো আম্মাকে। আম্মার এ অবস্থা দেখে দু'চোখ বেয়ে পানি ফেলানো ছাড়া আর কোন উপায় খুঁজে পান নি আমার আব্বু।
অনেক ডাক্তার-কবিরাজের সাহায্য নিয়েছেন কিন্তু কাজের কাজ কেউই করতে পারেন নি।
আমার আম্মাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হতো। এতেই নাকি দুষ্ট জ্বিনের শান্তি। সুন্দরি মেয়েদের এভাবেই নাকি সে কুপোকাত করে। অনেক টাকা পয়সা খরছ করার পরও কোনই উপকার আসলো না।
আমাদের বাড়ির পাশে একজন ছোটখাটো পীর ছিলেন। গ্রামের লোকজন বাদে দূর দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ তার কাছে বিভিন্ন সমাধান নিতে আসতো। উপকার হতো বিধায় উনার বাড়িতে লোকজনের কমতি ছিলো না। আমার আব্বু একদিন সেখানে গেলেন, সব সমস্যার কথা বললেন।
উনি মুচকি হেসে বলেছিলো, 'কাল তোর বউকে নিয়ে আসিস।'
পীর নামের ব্যক্তিটাকে আব্বু আগে থেকে নানা বলেই ডাকতো। পরদিন আম্মাকে নিয়ে যাওয়া হলে তার এমন অবস্থা দেখে তিনি অনুশোচনা করতে থাকেন।
নিজের পাতানো মেয়ে বলে স্বীকৃতি দেন। তখন থেকে তাকে আব্বা বলে ডাকেন আমার আম্মা। আর আব্বুও তখন সম্বন্ধ পরিবর্তন করে তিনিও আব্বা বলে ডাকতো।
নিজের বাড়িতে থাকাকালীন বেশিই অত্যাচার করতো দুষ্ট জ্বিন। সেজন্য সবসময় আমার পীর নানার বাড়িতেই থাকতো হতো। আশ্চর্যের বিষয় হলো যতক্ষণ তিনি উনাদের বাসায় থাকতেন ততক্ষণ ভালোই থাকতেন।
সেজন্য আব্বু সকালে আম্মুকে উনাদের বাড়িতে রেখে আসতো। রাত হলে নিয়ে আসতো। এভাবেই চলতে থাকে একটির পর একটি দিন।
.
(২)
দিন বা সময় কখনো থেমে থাকে না। চলতে থাকে আপন গতিতে। অনেক বাঁধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে জন্মগ্রহণ করে আমার আপু। দুষ্ট জ্বিনের চোখ পড়ে আমার আপুর উপর। সেজন্য হয়তো বারবার নবজাতককে চুরি করে বিভিন্ন গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখে আম্মু-আব্বুকে ভয় দেখাতো। এত কষ্টের মধ্যেও বড় হচ্ছিলো আমার আপু।
পীর নানুর বাড়িতেই বেশি সময় কাটতো আপুর। যদি দুষ্ট জ্বিন মেরে ফেলে সেই ভয়ে।
প্রায়শই আম্মার উপর ভর করতো দুষ্ট জ্বিন। সকলেই কম-বেশি অতিষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। আর কত! এভাবে একটা মেয়ের প্রতি সারাদিন ভর করলে,মারলে কিভাবেই বা বাঁচবে? দুষ্ট জ্বিন মারতো আমার আম্মাকে। যখন মারতো তখনি ঠিক বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে গায়ে দাগ হয়ে যেত, ব্যাথা করতো প্রচণ্ড।
আব্বু আম্মুকে প্রচণ্ড ভালোবাসলেও ছোটখাটো দোষেও ছাড় দিতো না। আব্বুও মারতো আম্মুকে।
একদিন আম্মুর মুখ দিয়ে গোল্লা ছুটছিলো, আমার মেঝ অান্টি তা দেখে দ্রুত নানা-নানীকে বিষয়টা জানায়।
আব্বু-আম্মুর ডিভোর্স করানোর জন্য লোকজন নিয়ে আসে নানা। আমার নানা ভীষণ রাগী প্রকৃতির। নানা ও তার দলবল দেখে আব্বু ঘরের কোণা ভেঙে পালিয়ে যায়, যদিও পরে তাকে ধরে আনা হয়েছিলো। মাফ চেয়ে সেবারের মতন বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি।
কথায় বলে, 'কিছু কিছু মানুষের স্বভাব কখনো বদল হয় না।'
আব্বুর ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। তিনিও তার স্বভাব পরিবর্তন করতে পারেন নি। তিনি যেমন তেমনি রয়ে গেলেন। তথাপি তিনি অনেক ভালোবাসতেন আম্মাকে।
মানুষের ক্ষেতে প্রথমে কাজ করলেও পরবর্তীতে হাটে সবজির দোকান খুলেন। মানুষের ক্ষেত থেকে সবজি কিনে নিয়ে শহরে যেতেন বিক্রি করার জন্য।
আগে টানাহেঁচড়ার সংসার এখন মোটামুটি ভালোই চলে।
চার ফুটা টিনের চালা তখন একটু হলেও বড় হতে থাকে।
আপুও শত বাঁধা কাটিয়ে আস্তে আস্তে বড় হোন।
আব্বু-আম্মুকে ছাড়ানোর জন্য গ্রামের বেশ কিছু লোক উঠে পরে লাগে। আম্মা খুব সুন্দরী ছিলেন। তার চরিত্রে কলঙ্কের দাগ দেয়ার নিমিত্তে প্লান করেও ব্যর্থ হয় বিদ্বেষীরা।
কথায় বলে, "আল্লাহ যা চান তাই করেন।"
আপুর পর তিন বছরের ব্যবধানে আমার একটা ভাই ও একটা বোনকে মেরে ফেললো দুষ্ট জ্বিন। পৃথিবীর মুখ দেখেছিলো মাত্র ক'দিন করে।
জীবনটা কষ্টের মধ্য দিয়েই কাটাতে থাকে ছোট্ট একটি ছন্নছাড়া পরিবার। এরপর পৃথিবীতে আসি আমি।
জন্মের সময় আব্বু-আম্মু খুব কান্না করে বলেছিলেন, 'হে আল্লাহ! এবারের সন্তানটা যদি পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখো আর সে যদি ছেলে হয় তাহলে তোমার ঘরে দান করবো (মাদরাসায় পড়াবো।)
দুষ্ট জ্বিন এবার পুরোপুরি ব্যর্থ হলো আমাকে মেরে ফেলার। আমি পৃথিবীতে জন্ম নেয়ার, জন্ম নিলাম। বহুবার ব্যর্থ প্রচেষ্টা করেছিলো। নাহ! সফলকাম হয়নি।
শেষপর্যন্ত আল্লাহই বাঁচিয়ে রেখেছেন আমাকে। আমাকে পেয়ে আব্বু-আম্মু ভীষণ খুশি। খুশি আমার আপুও।
দাদিও সেবার খুশি হয়েছিলেন। দাদাকে দেখি নি। আমি কেন? আমার আব্বুও হয়তো দেখেনি। খুব ছোট ছিলেন তিনি। খুব কষ্টে বড় হয়েছেন।
লেখাপড়া ছেড়ে কাজ করেছেন। দু'টো অন্নের জন্য অন্যের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যার জন্য আমার বড় আব্বু খুব মেরেছিলো। কি করবে? ছোট মানুষ! পেটের ক্ষিধে বলে কথা।
(চলবে)

জীবনী: অশ্রু ভেজা ডায়েরী
((পর্ব:২))
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
.
.
(৩)
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও বেড়ে উঠছিলাম আমরা দু'ভাই-বোন। আপু ইদানীং স্কুলে যাওয়া-আসা করে। আমিও তার সাথে মাঝে মাঝে যাই। ছোট্ট মানুষ তখনো আমি, কিছুই বুঝতাম না। ছোট্ট মানুষ বলে মোটামুটি আদর করতে শিক্ষিকরাও। যতদূর মনে পড়ে আমাকেও লুকোচুরি খেলিয়েছে দুষ্ট জ্বিন। বেশ কয়েকবারের কথা এখনো মনে আছে। বেশ কয়েকটা শেয়ার করছি,
(ক) একদিন আলিফ লায়লা দেখার জন্য আম্মু ও বড় আম্মুর সাথে টিভি দেখার জন্য যাচ্ছিলাম। সকলের কাছে তখন এই আলিফ লায়লা অতীব জনপ্রিয় ছিলো। যদিও তখন খুব অল্প লোকের বাড়িতে টিভি ছিলো। বিছানা থেকে নামছি, দু'টো খাট পাশাপাশি। হঠাৎ কে যেন আমার পা টেনে ধরেছে। আমি চিৎকার করছি। আম্মুও আমাকে টেনে ধরেছে। দু'জনের টানাটানির মধ্যে পড়ে গেছি আমি। ছোট্ট মানুষ আমি, বুঝতাম না। আম্মু চিৎকার দিয়ে কাঁদতে থাকেন আর আমাকে ছাড়াতে চেষ্টা করেন। আমার দাদিমা দৌঁড়ে আসে। এসেই দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে দেয়। ব্যাস, দুষ্ট জ্বিন আমাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। আমিও কাঁপতে থাকি।
.
(খ) আজ আমার মনটা কিছুতেই মানছে না। হুজুর বারবার ডাকছে পড়ানোর জন্য। মাঝ রাতে চিৎকার দিয়ে উঠি, 'হুজুর সাহেব ডাকছেন আমাকে, আমি যাবো,আমি যাবো।'
অনেক কষ্টে বুকের ভিতর আগলে রাখেন আমার আম্মু। সারারাত জেগে হয়তো শেষরাতে ঘুমিয়েছেন। ঠিক তখনি ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়ি। হাতে একটা কৌটা।
হয়তো এই সময়টাতে মাসজিদে মাসজিদে নামায হচ্ছে। আমি কৌটা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাঁশঝাড়ের ভিতর ঢুকে পড়লাম। ইচ্ছেমত ফুল তুলে তুলে কৌটার ভিতর রাখে রেখে ভর্তি করছি। ওইদিকে শোরগোল শুরু হয়ে গেছে, 'ছোট্ট বাচ্চাটি নেই।'
খুঁজতে খুঁজতে আব্বু বাঁশঝাড়ের দিকে এসেছেন। হঠাৎ চোখ যায় আমার দিকে। হ্যাঁ তখনো আমি শোরগোলের দিকে কর্ণপাত না করে অনবরত ফুলই তুলছিলাম। আব্বু গিয়েই জড়িয়ে ধরেন আমাকে। আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো, 'আব্বু তুমি এখানে কি করছ?'
আমি হেসে জবাব দিয়েছি , 'হুজুর সাহেব তো ডেকে আনলেন, বললেন এখানে অনেক ফুল ফুটেছে। তাই তো আসলাম।'
আব্বু কোলোয় তুলে বাড়ি নিয়ে আসলেন। বাড়ির আশেপাশে সবাই ছুটে আসছিলো।
.
(গ) রাস্তার পাশে বাঁশঝাড়ে একটি পায়খানা করছিলাম। ছোট্ট মানুষ তো তাই কেউই কিচ্ছু মনে করে নি। খেলতে গিয়ে শুরু হয় এই ঘটনার। বাঁশঝাড়েই বসে পরি। বেশ কয়েকজন আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করছিলো, 'ওই, তুই ওখানে কি করিস?'
আমি শুধু ওনাদের কথায় ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলাম। কোন উত্তর দেই নি। সন্ধ্যার আযানের কিছুক্ষণ আগে আপু এসে অনেক জোরাজুরি করলেন আমাকে নিয়ে যাবার জন্য। নাহ! বসা অবস্থা থেকে তুলতেই পারলেন না। আমি যেন পাথুরে মূর্তি হয়ে গেছি। আপু রাগত স্বরে বলে গেল, 'থাম, আম্মুকে পাঠাই দেই।'
অতঃপর আম্মু চলে আসলো। মাসজিদে মাসজিদে আযান দেয়া হচ্ছে। আম্মুকে দেখে দ্রুত দাঁড়িয়ে পড়লাম।
আম্মু বলে উঠলো, 'এখানে কি করছিস? তোর আপা তোকে ডাকতে আসে নি?'
আমি এবার মুখ খুললাম, 'হুজুর সাহেব তো পড়াচ্ছিলেন। কেমনে যাই কও।'
আম্মুর সাথে যথারীতি বাড়িতে ফিরে গেলাম।
.
(৪)
আমি নিজেও জানি নাহ, আমি আমার আম্মার দুধ পান করেছি কিনা! করলেও অতি স্বল্প সময়ের জন্য।
আমাকে মেরে ফেলার জন্য আর আম্মাকে ভয়ের মধ্যে রাখার জন্য সবসময় দুষ্ট জ্বিনের প্রভাব পড়তো আমার উপর কিংবা আমার বোনের উপর।
জানি নাহ, কেন সে আমাদেরই উপর অত্যাচার করতো।
(৩) এর ঘটনাগুলো যখন ঘটেছে তখন আমি কিছুটা হলেও বুঝতে শিখেছি। আমার জন্মের কয়েকমাস আগে আমার মেঝ খালার সন্তান জন্ম দেয়। সেই সাথে আমার জন্মের পর জন্ম নেয় আমার বড় আম্মুর ছোট মেয়ে।
আমার জন্মের প্রথম কয়েকমাস আম্মার দুগ্ধ পান করলেও বঞ্চিত হয়েছি তারপর থেকে।
দুষ্ট জ্বিন সবসময় আমার আম্মাকে অজ্ঞান করে রাখতো। আম্মা বেহুঁশ অবস্থায় থাকাকালীন আমি কাঁদতাম।
আমার কান্না দেখে কাঁদতো আমার আপু।
এমনি একদিন খাবারের জন্য (দুধ) কান্না করছিলাম। আপুও কাঁদছিলো আমার পাশে।
মেঝ খালা সেসময় আমাদের বাড়িতে আসলেন। আমার কান্না দেখে সহ্য করতে পারলেন না, তার স্তনে আমার মুখ রাখলেন। আমি তৃপ্তি সহকারে পান করলাম। তখন থেকে তিনি হয়ে গেলেন আমার দুধমা। এভাবেই বেশ কিছুদিন থেকে চলে গেলেন তার সংসারে।
তার অনুপস্থিতিতে আমার মুখে জুটলো বড় আম্মুর ভালেবাসা। তখন থেকে কান্না করলে তার দুগ্ধ পান করতাম। এভাবে ছোটখালারও দুধ পান করেছি। একদিন পীর নানা আম্মুকে ভাত খেতে নিষেধ করেছিলেন। ভাতের বদলে তাকে খাওয়ার জন্য বললেন কাউনের ভাত। (কাউন কেউ কেউ চিনবেন, আবার কেউ না।) আম্মা কাউনের ভাত খেত, কাউনের রুটি খেত। এভাবে দু'বছর তিনি মুখে ভাতের একটি দানাও তুলতে পারেন নি।
ভাইরে সত্যি বলছি, আমার পুথিবীতে টিকে থাকা দারুন এক লড়াই। আস্তে আস্তে সব জানবেন হয়তো।
হ্যাঁ, আমি এমনি একজন যে কিনা মায়ের দুধটুকু শান্তিতে খেতে পারে নি। যাকে জন্ম দেয়ার জন্য ভাত ছাড়তে হয়েছিলো আমার আম্মাকে।
মানুষের করুনার পাত্র হয়ে মুখে তুলে নিতে হয়েছে অন্যের মায়ের দুধ। হ্যাঁ, আমি হয়তো তাদের ওসিলায় বেঁচে আছি। আমি বড় হয়ে সবটা শুনে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। মাঝে মাঝে তাদেরকেও মা বলে ডাকি। কারণ তারা হয়তো আমাকে পেটে ধরেনি কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য তাদের স্তনের দুুধ পান করিয়েছে।
জীবনে একটা প্রতিজ্ঞা করেছি, 'চাকরি লাইফের প্রথম উপার্জন তাদের জন্য ও আমার সৃষ্টিকর্তার পথে ব্যয় করবো।' জানি না আমার আশাটুকু আমার প্রিয় সৃষ্টা পূরণ করবেন কি না।
ও সরি, অনেক বাড়তি কথা বলে ফেললাম। চলুন পরবর্তী প্যারায় চলে যাই।
.
(৫)
ছোট্ট সেই আমি প্রাইমারী স্কুলে যাওয়া-আসা করতাম। সংসারের অবস্থা তখন টেনেটুনে চলছিলো। আমার মনে আছে একতদিন এক টাকা চেয়ে পাইনি। সারাদিন কেঁদেছিলাম। আরেকদিনের কথা বলি, আমি খাতা কেনার জন্য দু'টাকা চেয়েছিলাম আম্মার কাছে।
তিনি দিতে পারেন নি, পারবেনই বা কিভাবে! সংসারে তখনোও অশুভ জ্বিনের আচরণে ছন্নছাড়া আমরা।
আব্বু আম্মার পিছনে অনেক টাকা ব্যয় করতে হতো। দিনের পর দিন দুষ্ট জ্বিনের অত্যাচারে শরীরে রোগের ছড়াছড়ি। প্রতিদিন ওষুধ না খেলে ভালো থাকতো না আম্মু।
আব্বু আম্মাকে কখনো কাছ ছাড়া করতো না। কিন্তু ছোটখাটো ভুলের জন্য মারতো।
আমি বহুবার আম্মাকে মারতে দেখেছি। গায়ে কালশিটে দাগ পর্যন্ত হয়ে যেত। সবসময় আমি ভয়ে থাকতাম কখন কোন বিপদ আসে।
হ্যাঁ, এ কথা এজন্য বললাম যে, হয়তো জ্বিনের প্রভাব পড়তে নতুবা আব্বু মার খেতে হতো।
সুন্দর শরীরটা ভেঙে গিয়েছিলো অনেকটা। মাঝে মাঝে ছোট দোষের কারণে আব্বুর মার খেতাম।
মোটা বাঁশের অংশ বা কাচা কঞ্চি ছিলো তার বড় হাতিয়ার। আমি যে তার যক্ষের ধন, মাঝে মাঝে বুঝতেই চান না। তার কড়া পরা হাতও চলতো।
আমিও আম্মার মতো সংকীর্ণ হয়ে থাকতাম। আব্বুর সামনে বেশি আসতাম না এই ভয়ে যে, যদি কোন কারণবশত মারে।
আব্বু যে আম্মাকে ভালোবেসে বিয়ে করে এনেছেন কিংবা আমাকে কঠিন প্রতিজ্ঞার মধ্য দিয়ে কিনে নিয়েছেন, একথা ভুলেই যান।
আব্বু আর আম্মার বাকবিতণ্ডা হলে দু'জনে বিছানা পর্যন্ত পৃথক করতেন। কথা বলতেন না দু'চার দিন।
ছোট ছিলাম বলে তখনো এত কিছু বুঝার ক্ষমতা ছিলো না। প্রায়শ আম্মু পীর নানুর বাড়িতে গিয়ে থাকতো। আগের চেয়ে জ্বিনের প্রভাব কমতে থাকে।
তবুও কয়েকদিন দেখা গেছে ভিন্ন কিছু রুপ।
একদিন আম্মুকে বোবা বানিয়ে সারাদিন রেখেছিলো। আম্মু ইশারা দিয়ে সেসময় কথা বলতো।
একদিন ধানের পাতিল পরিষ্কার করার সময় পুকুরের পানির তল দিয়ে টেনে ধরেছিলো দুষ্ট জ্বিন। সেসময় ভাবি যদি তার আশেপাশে না থাকতো হয়তো তাকে আর ফিরে পেতাম না।
মাঝে মাঝে ভর করলে আম্মা ঘর থেকে বের হয়ে যাবার উপক্রম হয়। তখন আপু আর আমি দুজনে চিৎকার দিয়ে কাঁদতাম আর বলতাম, 'আমার মাকে কেউ ধর। আমার মাকে কেউ বাঁচাও।'
এত মায়াশীল কথা যেন দুষ্ট জ্বিনের কান অবধি পৌঁছাতো না। অসহায় আমরা দু'টো ভাই-বোন অশ্রুকে সাথী করে নিয়েছিলাম।
দুষ্ট জ্বিনের প্রভাব কাটাতে বেশ খানিকটা সাহায্য করেছিলেন আরেকজন পাতানো জ্বিন। পীর নানার বশ থেকে মুক্তি পেয়ে দু'জন জ্বিন সরাসরি আম্মুকে মেয়ে বলে স্বীকৃতি দেয়।
কিছুদিন পর একজন মারা গিয়েছিলো। যখন ওই জ্বিন নানুর ছেলে এসে আম্মুকে খররটা দিয়েছিলো তখন আম্মা কেঁদেছিলেন।
প্রায়শ মেয়েকে বা তার জামাইকে এটা ওটা খাওয়াতেন তারা। (পরের পর্বে এ বিষয়ে লিখবো।)
আমি স্কু্ল থেকে ফিরে পীর নানুর বাড়ি যেতাম। মামার একটা মেয়ে ছিলো। যার সাথে দিনের অর্ধেকটা সময় কাটিয়ে বাড়ি ফিরতাম। ছেলেবেলায় অনেকটা সময় দু'জনে পার করেছি। যখন ওই বন্ধুটা স্কু্লে ভর্তি হলো তখনি ওদের বাড়ি আমার যাওয়া আসা কম হয়ে গেল। তখনো আমার আপু পীর নানুর বাড়িতেই বেশি থাকতো।
((চলবে))

জীবনী: অশ্রু ভেজা ডায়েরী
((পর্ব:৩))
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে।)
.
.
(৬)
আমার আম্মার পাতানো জ্বিন বাবা সবসময় খোঁজ খবর রাখতো যাতে দুষ্ট জ্বিন আম্মার উপর আছর করতে না পারে। তখন থেকে আম্মুর উপর অনেকটা অত্যাচার কমে যায়। আমার আব্বু বেশ কয়েকবার তাকে (জ্বিন) দেখতে চেয়েছিলো কিন্তু তিনি নাকি বলেছিলেন, তাকে কোন সাধারণ মানুষ দেখা সম্ভব নয়। হঠাৎ দেখলেও জ্ঞান হারাতে পারে।
সেজন্য তিনি বিড়ালের রুপ ধরে বেশ কয়েকবার আব্বুর সামনে দেখা দিয়েছিলেন।
মাঝে মাঝে বেশ কিছু ফলমূল নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতেন আর বলতেন তা খেতে। জ্বিন নানু বেশ ভালোবাসতো আমাদের পরিবারকে।
আম্মু আস্তে আস্তে সুস্থ হতে থাকলো।
পীর নানাও সবসময় খোঁজ খবর নিতেন। অনেক মানুষ তাকে ভণ্ড বললেও আমি বলতে নারাজ। আমি মনে করি, তার ইদানীং কাজকর্ম ভণ্ডামি হতে পারে কিন্তু তার থেকে আমরা উপকার পেয়েছি। আমার আব্বু যেমন ব্যাঙের ছাতার মতো আম্মুকে আগলে রাখতো ঠিক তেমনি পাতানো মেয়ে বলে পীর নানুও আগলে রেখেছিলো।
পীর নানুর জন্যই হয়তো আম্মু একজন জ্বিনবে পাতানো বাবা হিসেবে পেয়েছিলেন। জ্বিন নানু অস্তিত্ব আমি নিজেও একদিন উপভোগ করেছিলাম।
জেডিসি পরীক্ষার আগের দিন আম্মু তাকে আমার ব্যাপারে বলেছিলেন। পরীক্ষা দিতে যাবার সময় আমাকে বললেন,
'তোর সিটের পাশে একটু জায়গা ফাঁকা রাখিস।'
ডিম ভাজি দিয়ে ভাত খেতে চেয়েছিলাম কিন্তু তিনি দেন নি। বলেছিলেন, পেঁয়াজ তার সহ্য হয় না।
সেইবার জেডিসি পরীক্ষায় ১০ সাবজেক্টস এর ৯টাতে প্লাস পেয়েছিলাম। এক সাবজেক্টস এ এ গ্রেড। যাইহোক অপশনাল ছিলো না তাই প্লাস হয়নি।
এছাড়াও আজো জ্বিন নানুকে আম্মা ডাকলে ছুটে আসেন। হয়তো কিছু দোয়া আছে, যা পড়লে উনি ছুটে আসেন। বিভিন্ন বিপদের সময় আম্মাকে ডাকতে বললে আম্মা ডাকতেন। তখনি দেখেছি মনে মনে কি যেন পড়েন তিনি। নাহ! আমাদেরকে কখনো বলেন নি। শুধু বলেছেন জ্বিন নাকি অনেক বড় হয়। বিশাল তার দেহ, নাকটা সামনের দিকে ঝুলে আছে, কানগুলো বড় বড়, চোখদুটি জ্বলজ্বল করছে। আমার আম্মার কাছে সবসময় আমাদের খোঁজ নিতেন। আমাকে যে শর্তে নেয়া হয়েছে তার কথা মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দেন। নাহ! আম্মা-আব্বু এ বিষয়ে খুব সেনসিটিভ। জ্বিন নানু মাঝে মাঝে এই কথা নাকি তাদেরকে বলতেন, যদি না শর্ত পূরণ করেন তারা তাহলে হয়তো আমার ক্ষতি হবে। পীর নানুর বাসায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান হলে তার খাবার-দাবার পৌঁছে যেত আমাদের বাড়ি।
হ্যাঁ, আম্মার বিয়ে হওয়া থেকে আমি জন্মগ্রহণ করার অনেকদিন পর্যন্ত খেয়াল রাখতেন দু'জন,
(১) পীর নানু।
(২) জ্বিন নানু।
পাঠকের কাছে বিষয়টা হাস্যকর মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস করুন এটাই সত্যি। মজার ব্যাপার হলো দু'জনই আমার নানু। জ্বিন নানুর সাথে বেশকিছুদিন কথা বলার ভাগ্য হয়েছে আমার।
তিনি অনেকরকম উপদেশ দিতেন আমায়। হয়তো ভাবতে পারেন কেমনে কথা বলতাম? উনি সরাসরি আম্মার শরীরে ভর হতেন। তখন শরীরটা আম্মার হলেও পুরোপুরি তার কন্ট্রোলে চলে যায়।
.
(৭)
প্রাইমারী স্কুল পড়ার পাশাপাশি মক্তবে যাওয়া-আসা শুরু করলাম। কায়দা খুব দ্রুত শেষ করলেও আম্মা পারা পড়ার সময় সমস্যা হতে থাকে। তবুও খুব চেষ্টা করলাম, কারণ আমার আপুদেরকে দেখি কত সুন্দর করে কোরআনে তেলাওয়াত করে।
হ্যাঁ, বেশ কিছুদিন ধরে আগে থেকে অনেক ভালো পারতে শুরু করলাম। এভাবে আম্মা পারা শেষ করলাম। হুজুর বললেন ২০-২৫ সূরা মুখস্ত করতে। হুজুরের কথা মত মুখস্ত করা শুরু করলাম।
যদিও একটু কঠিন মনে হচ্ছিলো তবুও পড়তে থাকি। যেভাবেই হোক কোরআন তেলাওয়াত শিখতে হবে।
প্রাইমারীতে দু'বছর যাওয়া আসা করার পর কেজি স্কুলে ভর্তি হলাম।
ছোট্ট মানুষ হিসেবে স্কুলে যেতাম।
আব্বু প্রাইভেট ঠিক করে দিলেন। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। অভিজ্ঞতা একটু মজার।
ঘটনা: আমি বড় আব্বুর ছেলে মানে বড় ভাইয়ের সাথে প্রথম পড়তে যাই।
স্যার ছিলেন হিন্দু। আমাদের পাশের গ্রামে বাড়ি। স্যার আমাকে অনেক প্রশ্ন করলেন। না, আমি একটাও উত্তর দিতে পারলাম না। স্যার পড়া বুঝাতেন আমি কিচ্ছু বুঝতাম না। স্যার রাগী ছিলেন, সপাৎ সপাৎ করে হাত দিয়ে গায়ের মারতে থাকে। আমিও টুলটুল করে স্যারের দিকে চেয়ে থাকি। স্যারের মায়া দয়া হতো না মনে হয়। সারা শরীরে দাগ পরে যেত। আমার ভাই এত মারতে দেখে চুপি চুপি আমাকে বলে, 'শোন, তুই দোয়া পড়তে থাক। দোয়া পড়লে কম করে মারবে।'
ভাই ছোট্ট একটা দোয়া শিখিয়ে দিলেন, আমি পড়া না পরে দোয়া পড়তে থাকলাম। স্যার নাস্তা খেয়ে আসলেন এবং আমাকে পড়া ধরলেন, আমি পড়া পারলাম না। আগের চাইতে আরো বেশি সপাৎ সপাৎ করে মাইর খেতে হলো।
আমার এ অবস্থা দেখে ভাই মুচকি মুচকি হাসতো।
আমি তখন স্যারের হাতের মাইর খেয়ে কষ্ট পেলেও এখন বুঝতে পারি তা কত কার্যকর ছিলো। স্যারের জন্য সাধারণ ছাত্র থেকে কেজিতে অসাধারণ হয়ে উঠি।
ক্লাসে রোল ভালো পর্যায়ে যেতে থাকে। আমার এখনো মনে পড়ে স্যার "র" লেখা শেখাতে গিয়ে ভীষণ মেরেছিলেন। তিনি একটা একটা করে অক্ষর লেখার মাধ্যমে হাতের লেখা সুন্দর করে দেন।
কেজিতে ছয় বছরের সম্পূর্ণটা উনার কাছে প্রাইভেট পড়েছি।
মারতেনও অনেক, ভয়ে আব্বুকে বলতে পারি নি যে উনার কাছে পড়বো না।
আমার এখনো মনে পরে, যখন ৮০ জন ছাত্রের মধ্যে মাদরাসায় ফার্ষ্ট হলাম তখন তাকে এ সংবাদটা দিলাম। তিনি সংবাদটা পেয়ে চোখের কোণে পানি লুকিয়ে ছিলেন। কারণ তিনি চাইতেন, আমাকে যেন আব্বু শহরের ভালে কোন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন।
তিনি এ ব্যাপারে আব্বুর সাথে কথাও বলেছিলেন। আব্বু তার প্রতিজ্ঞার কথা তাকে জানান, তিনি নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছিলেন।
আমি মাদরাসায় ভর্তি হবার পর থেকে আজ অবধি একটি কথাও বলেন নি।
আদাব দিলেও মাথা নিচু করে।
আমার জন্য তার প্রতি যে ভালোবাসা দেখেছি তা কখনো ভুলার মতো নয়। তার জন্য হয়তো আমার আজকের এই অবস্থান।
.
(৮)
মক্তবে শেষপর্যন্ত কোরআন পড়া শিখেছিলাম। স্কুলে পড়ার সময় থেকে মাদরাসায় পড়ার একটা অন্যরকম ঝোঁক ছিলো আমার।
সবসময় মাদরাসা মাদরাসা করে জ্বালাতন করতাম আম্মুকে যে, কবে তারা ভর্তি করিয়ে দিবেন।
যখন আমার সাত বছর বয়স তখন আমি রমযান মাসে সাতটি রোযা দিয়েছিলাম।
এরপর যথাক্রমে আট বছর বয়সে আটটি, নয় বছর বয়সে দশটি, দশ বছর বয়সে বিশটি রোযা দেয়ার তাওফীক দান করেছিলেন সৃষ্টিকর্তা।
এগারো বছর থেকে আজ বিশ বছর অবধি আল্লাহর রহমতে একটি রোযাও মিস যায় নি। একদিন ভুলে কিছু খেয়ে ফেলেছিলাম, বড় আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম রোযা হবে না ভেঙে যাবে?
উনি বলেছিলেন, ভেঙে যাবে। সেদিন সারাটা সময় আমার মন খারাপ ছিলো।
শুধু তখন কেন, আজ অবধি একটা রোযা মিস গেলে আমার শরীর ঠিক থাকবে না হয়তো।
সেজন্য সবসময় আল্লাহর কাছে দোয়া করি যাতে অন্তত রমযান মাসের রোযা মিস না যায়।
স্কুলে থাকতে কোরআন এক খতম দিয়েছিলাম। মাদরাসায় ভর্তি হবার পর কোরআন সহীহ করে পড়া শিখে বেশ কয়েকবার খতম দিয়েছি আলহামদুলিল্লাহ।
হয়তো পাঠকরা বিশ্বাস করবেন না যে, আমি ছোট থাকতেই বিভিন্ন কবিতা লিখতাম ছন্দছাড়া।
আম্মা মাঝে মাঝে আদর করে ডাকতো কবি বলে।
আমিও খানিকটা লজ্জা পেতাম। খাতার মধ্যে বিভিন্ন রকম ছবি আঁকতাম। মানুষের ছবি, পশু পাখির ছবি, ফুলের ছবি ইত্যাদি।
এই সময়টাতে আম্মার জ্বিনের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকলেও জুটেছিলো নতুন এক কালো অধ্যায়। আগেই বলেছি, একটা বিপদ কাটার পর অপেক্ষায় থাকতে হয় পরের বিপদ মোকাবেলা করার জন্য।
আমি যখন ক্লাস ওয়ানে পড়ি তখন হঠাৎ একদিন আমাদের বাড়িতে ফুফুরা আসে।
আমার আপুর বয়স তখন এগারো বছর চলছিলো।
পীর নানুদের বাড়িতেই সে বেশি থাকতো। শুনতে পেতাম আপুর নাকি মাসখানেক পর বিয়ে। আমার আপুর বিয়ে হবে জেনে আনন্দে লাফালাফি করতে থাকি।
আপুর যখন বিয়ে ঠিক হয়ে গেল তখন পীর নানুর ছেলেদের কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেছিলো,
'মামা, আপনাদের যা খুশি করেন আমাকে তবুও আমাকে এখন বিয়ে দিয়েন না মামা। প্রয়োজনে আপনাদের পায়খানা দিন সেটাও খাবো তবুও আমাকে এখন বিয়ে দিবেন না। আমি আরো লেখাপড়া করতে চাই।'
আপুর কথা শুধু মামারা কেন বড় আব্বু কিংবা আমার আব্বুও শুনেনি।
শেষপর্যন্ত বিয়েটা হয়েছিলো। (বিয়ের ঘটনা পরের পর্বে লিখবো।)
আমার আপুর লেখাপড়া করার খুব ইচ্ছে ছিলো। ক্লাসে ৬০জন ছাত্রীদের মধ্যে ওর রোল ৫ ছিলো। আপুর যখন বিয়ে হলো তখন স্যারেরা দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।
আমি তখন ক্লাস ওয়ানে পড়তাম, কি আর বুঝি!
((চলবে))

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ