āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4434 (2)


রম্যগল্প: বন্ধু বিভ্রাট
পর্ব:৩
.
.
১০০ বার কান ধরে উঠা-বসা করার পর দোলনায় বসে এক হাত জিহ্বা বের করে নিঃশ্বাস ছাড়ছিলো। তারপর মনে হয় মেয়েটা ওকে ক্ষমা করে দিয়েছে। তাদের কথাবার্তা চলতেই থাকলো। আমি ভাবলাম এখানে থাকা ঠিক হবে না, চলে আসতে লাগলাম তখনি শুনলাম,
  -  তোমার বার্থডে শনিবার?
  - ...........!
  -  আগে বলবা তো? বলো গিফট চাও?
  - ..........!
  -  কেন দিব না! এখন তো তুমিই আমার সব।
  - ..........!
  -  তুমি কোন চিন্তা করো না। তোমার গিফট তুমি অবশ্যই পাবে।
মনে মনে ভাবলাম, আহা! গার্লফ্রেন্ডের জন্য দরদ একেবারে উথলে পড়ছে! বন্ধুদের কাছে শুনতাম প্রেমে পড়লে নাকি অধিকতর চালাক ব্যক্তিও বোকা বনে ঘুরঘুর করে। নিরবের ক্ষেত্রে সেটাই দেখছি।
আর বেশিক্ষণ আড়ি না পেতে বেডে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। খুব সকালে নিরব ডাকছে,
  -  ওই কি হইছে? ডাকতাছোস ক্যান?
  -  হ্লা লিমুয়্যা, নামায পড়বি না?
  -  না পড়মু না, ভাগ তো এখান থাইকা। ঘুমাইতে দে।
  -  দ্যাখ না উঠলে কিন্তু পানি ঢাইলা দিমু।
  -  এত ফজরে উঠার অভ্যাস আমার নাই।
  -  নাই, অহন থাইকা অভ্যাস করবি।
আমি কোন কথা না বলে কম্বল আরো ভালো করে গায়ে দিলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি এক মগ পানি এনে আমার মুখের মধ্যে ঢালা শুরু করছে। আমি তড়বড় করে উঠে বললাম,
  -  হ্লা, তোরে কি কুত্তায় কামড়াইছে? কি শুরু করলি সকাল সকাল?
  -  কুত্তায় কামড় দিলে তোরে খায়া ফালাইতাম। অহন উঠো চান্দু। একলগে জামাত কইরা নামায পড়মু।
নিরবের জোরাজুরিতে প্রতিদিন এভাবে জামাআত করে নামায পড়তাম। কেননা মসজিদ একটু দূরে ছিলো। তবে ছেলে নামাযের দিক দিয়ে রক্ষণশীল ছিলো।
মাঝে মাঝে সকালবেলা হাঁটতে বের হতাম। সকালবেলার আবহাওয়া বেশ ভালো লাগতো।
রীতিমতো ভালো চলছিলো দিনগুলো। সকালের খাবার রেখে খালা এসে বললো,
  -  বাজান, আমি দু'দিনের জন্যি দ্যাশে যামু। তুমরা দু'দিন একটু চালিয়ে নিও।
খালার কথা শুনে আমি কিছু বলার আগে নিরব ছুটি দিয়ে বললো,
  -  ঠিক আছে খালা। আপনি নিশ্চিন্ত মনে দেশের বাড়ি থেকে ঘুরে আসুন।
  -  তোমাগো কোনো কষ্ট হইবো নাতো বাজান?
  -  না না খালা, কোন কষ্ট হইবো না।
খালা চলে যাওয়ার পর আমি অগ্নিশর্মা চোখে নিবরের দিকে তাকালাম। স্বাভাবিকভাবে নিরব বললো,
  -  কি রে লিমু, অমন কইরা তাকাই আছোস ক্যা? ভূতে ভর করছে নাকি?
  -  হ্লা, খালাকে ছুটি দিছোস ক্যান? রান্না করবো কেডায় অহন?
  -  দুপুরে তুই করবি, রাইতে আমি করমু নে।
  -  হ্লা রান্না করতে তো আমি পারি না।
  -  পারতে হইবো চান্দু। তোর ইচ্ছে মতন রাঁধবি দুপুরে। রাইতে আমি করমু নে।
মনে মনে ভীষণ রেগে যাচ্ছি আমি। জীবনে রান্নাঘরে ঢুকি নাই,তাকে কিনা আজ রান্না করতে হবে। সেদিনের মতন নিরবরে পাছায় লাত্থি দিতে খুব ইচ্ছে করছে।
.
নিরব গার্লফ্রেন্ডের বার্থডে পালন করার জন্য ডেটে গেছে। আমার দায়িত্ব দুপুরের রান্না করার। আমি লুঙী ভালো করে বেঁধে রান্নাঘরে ঢুকলাম।
গ্যাস অন করে ভাত বসালাম। তরকারি কি করা যায় ভেবে ভেবে আলু বড় বড় করে কাটতে লাগলাম। আজকের নতুন রেসিপি রাঁধবো। যেটা নিরব জীবনেও খায়নি।
ফ্রিজ খুলে দেখলাম গোস্তের একটা ছোট পলিথি আছে। গোস্তগুলো পরিষ্কার করছি আর ভাবছি, 'আহা! জীবনের প্রথম রান্না। শেষ করেই ফেসবুকে একটা স্টাটাস দিমু।'
ভাবতে ভাবতে কিসের যেন গন্ধ পেলাম। ওমা! ভাত পুরে পেছে। গোস্ত রেখে গ্যাস অফ করে দিলাম।
পিঁয়াজ কাটার সময় চোখের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেল। টপটপ করে পানি ঝরতে লাগলো।
সবকিছু কোনমতে মিশিয়ে, মাখিয়ে গ্যাসের চুলায় বসিয়ে দিলাম। আহা! এখন হইলেই বাঁচি।
আমি রুম একা পেয়ে একটা ড্যান্স শুরু করলাম। ড্যান্সের ফাঁকে ফাঁকে তরকারি বারবার নাড়ছি।
খুব ভালো গন্ধ বের হয়েছে। ভালো গন্ধ দেখে মনে মনে ভাবলাম যাক খুব ভালো খেতে হবে। এজন্য টেষ্ট না করেই নামিয়ে ফেললাম।
রান্না শেষ! যাক বাবা বড় ধরনের এভারেষ্ট জয় করলাম যেন। দু'বন্ধু একসাথে খাবো বলে আমি নামায পড়েই ঘুমিয়ে পড়লাম।
নিরব রুমে ঢুকেই কাপড় পাল্টাতে থাকলো। আমি তাড়াতাড়ি জেগে উঠে বললাম,
  -  হ্লা, তুই আমার পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে গেছস? জানিস গতকালকেই লন্ড্রি করে রেখেছি।
  -  লন্ড্রি করা দেখেই তো গায়ে দিয়েছি। গার্লফ্রেন্ডের বার্থডে বলে কথা।
  -  ও বাবা! কোনদিন তো বলিস নি, তুই প্রেম করছিস। তুই এতো স্বার্থপর হলি কি করে?
কথাটা বলেই মিথ্যা মিথ্যা হুহু করে কেঁদে উঠলাম। আমার কান্না দেখে সান্তনা দিতে দিতে বললো,
  -  সরি দোস্ত, তোকে বলবো বলবো করে বলা হয়নি। যদি তুই..........!
  -  থাক, আর বলতে হবে না। আমি তো তোর পর হয়ে গেছি। ভালো থাক তুই। একটা সামান্য মেয়ের জন্য তুই আমাকে অবিশ্বাস করছিস! একদিন তোকে ওই মেয়েই কাঁদাবে।
  -  মেয়েটা ওরকম নয় রে।
  -  থাক থাক। সময় হলে বোঝা যাবে। এখন গোছল করে নে, আমি রান্না করে তোর জন্য বসে আছি।
  -  সত্যি দোস্ত? দাঁড়া এখনি আমি গোছল করে আসছি।
কথাটা বলেই লাফাতে লাফাতে বাথরুমে চলে গেল নিরব।
.
দু'বন্ধু বসে পড়লাম খেতে। আমি বীরের মতন খাবার সব নামিয়ে রাখলাম। তরকারির উপরের ঢাকনাটা খুলে তরকারির সুগন্ধে মাতাল হয়ে গেল নিরব। আমাকে বললো,
  -  হ্যাঁ রে লিমু,  হেব্বি সুগন্ধ বের হয়েছে দেখছি। মনে হয় খেতে খুব মজাদার হবে।
  -  দেখতে হবে না রান্নাটা করেছে কে?
  -  আরে খালা যদি আজ না যেত তাহলে কি তোর এই প্রতিভাটা বের করে আনতে পারতাম? তুই বল?
  -  ভাবতেছি রান্নার প্রতিযোগীতায় নিজের নামটা পাঠামু।
  -  ওকে ওকে, আগে শুরু করি।
  -  ঠিক আছে।
দু'জনে খাওয়া শুরু করলাম। প্রথম গ্রাস মুখে দিয়েই বাথরুমের দিকে দৌঁড় দিলো নিরব। তখনো আমি খাওয়া শুরু করি নি। কি হলো ঠিক বুঝলাম না।
আমি নিরবের দিকে না তাকিয়ে প্রথম গ্রাসটা মুখে তুলে দেখি, ভাত মুখে তোলা যাচ্ছে না। তরকারিতে লবণ দেই নি, ঝাল খুব হয়েছে, একটু মিষ্টি মিষ্টি খেতে।
মনে পরে গেল হয়তো লবণ না দিয়ে ভুলে চিনি দিয়ে ফেলেছি। দৌঁড় দিলাম রান্নাঘরে, গিয়ে দেখি সত্যিই ওটা লবণ ছিলো না, ছিলে চিনি।
আমি ঘরে এসে চুপচাপ গপাগপ মুখে পুড়ছি। এখন খাওয়া না গেলেও খেতে হবে। নিরব বাথরুমে অনর্গল বমি করছে।  একটু পরে ফিরে এসে বললো,
  -  হ্লা লিমুয়্যা, এগুলা কি রাঁধছিস? ভাত পোড়া, তরকারিতে ঝাল বেশি, লবণ নাই! আর কি দিছিস তরকারিতে বলতো? তরকারি মিষ্টি কেন?
  -  কই ঠিকই তো আছে। আমি তো বেশ খাচ্ছি। ভালো, সুস্বাদু খাবার তোর পেটে সহ্য হবে না তাই বমি হচ্ছে। গার্লফ্রেন্ডের বার্থডে কেক খাইছিস তাই মুখটা তোর মিষ্টি হয়েছে।
  -  আর বলতে হবে না। সারাদিন খাটা খাটনির পর একটু খেতে বসেও শান্তি নেই।
  -  তুই আবার কি খাটাখাটনি করলি?
  -  সুবা'কে নিয়ে ঘুরেছি সারাদিন।
  -  এটা কোন খাটাখাটনি হলো? বাকিটুকু খেলে বস, না হলে শ্বশুরবাড়ী গিয়ে খেয়ে আয়।
আমার কথা শুনে ক্ষুধার চোটে অখাদ্যগুলো গিলতে থাকে নিরব। আমি খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে ওর দিকে তাকাচ্ছি আর হাসছি। বেচারার সাদা মুখ ঝাল খেয়ে লালচে হয়ে গেছে।
(চলবে)

রম্যগল্প: বন্ধু বিভ্রাট
পর্ব:৪
.
.
অখাদ্য খেয়ে আমার ডাইরেক্ট এ্যাকশন হয়ে গেল। বাথরুমে কিছুক্ষণ পরপর দৌঁড়াতে হচ্ছে। পাতলা পটি। গতকাল জ্বালিয়েছি নিরবকে, আজ অখাদ্য খেয়ে নিজের ঘারে চেপেছে।
আমার এ অবস্থা দেখে নিরব হিহিহি করে হাসছে। রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম দ্রুত। নিরব বেশ ভালো রাঁধতে পারে।
খেতে খেতে নিরব বললো,
  -  দোস্ত একটা ভুল হয়ে গেছে।
  -  কী ভুল?
  -  আজকে সুবা'কে গিফট করেছি।
  -  তাতে আমার কী?
  -  না,  খাট কেনার টাকা থেকে খরচ করেছি।
কথাটা শোনার পর মনে হচ্ছিলো আবার বিশাল দেহে তাকে আরেকবার লাত্থি দেই। কিন্তু শরীর অসুস্থ হওয়ার কারণে আর পারছি না।
আগামীকাল খাট আনার কথা ছিলো। কিন্তু তা আর হলো কই?
  -  হ্লা, তোর জন্য খাটে ঘুমাতে পারছি না। আজকে গফরে গিফট দেয়ার কারণে আমাকে এভোয়েড করছিস? একদিন এই গফই তোকে কাঁদাবে।
  -  দোস্ত, আগামী মাসে কিনবো।
আর বেশি কথা বাড়ালাম না। আমি খেয়ে চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়লাম।
নিরব গফের সাথে কথা বলার জন্য বেলকনিতে অপেক্ষা করছে।
ফজরের নামাযের পর আজকে দু'জনই ঘুমিয়েছি। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে কিছু বুঝতে পারলাম না। খালাকে তো ছুটি দিয়েছি গতকাল, তিনি তো আজকে আসবেন না! তাহলে কে?
নিরবসহ চাওয়া-চাওয়ি করছি কে হতে পারে। তখনি নিরবের মোবাইলে ফোন আসলো।
  -  আসসালামু আলাইকুম আব্বু?
  - ............!
  -  কখন এসেছো?
  - ...........!
  -  একটু দাঁড়াও, আমি এখনি আসছি।
বিছানা ঠিকঠাক করে দরজা খুলে দিলো নিরব। একজন ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে আসলো। সমাদর দেখে বুঝলাম এটাই নিরবের বাবা।
নিরবের বাবাকে দেখে আকাশ থেকে পড়লাম। হায় হায় এটা মানুষ নাকি ছোটখাটো একটা হাতি।
বিশাল দেহের অধিকারী লোকটার ভুড়ি দেখে আরো বেশি অবাক হয়েছি। আমি নিশ্চিত এই লোকটা যদি আমাকে একবার জড়িয়ে ধরে তাহলে আমি পরপারের টিকিট কাটবো।
আমি নিরবের বাবাকে সালাম দিলাম। উনি সালাম নিয়ে বললেন,
  -  তুমিই লিমু?
  -  জ্বী আংকেল। আপনি ভালো আছেন?
  -  আলহামদুলিল্লাহ, ইদানীং প্রেসারটা বেড়েছে।
মনে মনে ভাবলাম যে হারে খান সে হিসেবে প্রেসার বাড়বে নাতো কি হবে? টেবিলের সব খাবার মনে হয় সব সাবাড় করে দেয়, না হলে এত বিশাল দেহ হতো না।
.
নিরবের বাবা আসাতে সব থেকে বেশি চোখে পড়েছে নিরবকে। মনে হয় এত ভালো ছেলে জীবনেও দেখি নি। মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছে।
যে ছেলে এখন রুমের ভিতর লাফালাফি করতো সে কিনা এখন ভদ্র! নিরবের বাবা নিরবকে বলছে,
  -  বাজান, খাট নাও নি কেন? টাকা তো পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।
নিরব মাথা নিচু করে বললো,
  -  লিমুর টাকা নাই। আগামী মাসে টাকা হলেই একসাথে কিনবো। আমি একলা খাট কিনে থাকলে আমার খারাপ লাগবে।
নিরবের কথা শুনে আমি আকাশ থেকে পড়লাম। হ্লা কয় কি! আমার জন্য নাকি তার খাট কেনা হচ্ছে না। গতকাল গফের বার্থডে পার্টিতে পাঁচ হাজার টাকা ব্যয় করে বর্তমান ফকির! সে কিনা আমার ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে!
আমার মেজাজ বিগড়ে গেল। কিছু বলতে যাবে দেখছি ইশারায় ক্ষমা চাচ্ছে নিরব।
আর কিছু না বলে নিরবের বাবাকে বললাম,
  -  আসলে আংকেল বই কিনতে অনেক টাকা ব্যয় হলো তো, তাই ভাবলাম আগামী মাসে কিনবো। তাছাড়া ফ্লোরে কোন সমস্যা হচ্ছে না, তাই না রে নিরব?
নিরব আমার কথার মাথে একমত পোষণ করে বললো,
  -  হ্যাঁ হ্যাঁ বাবা ঠিক তাই।
নিরবের পাল্লায় পরে মিথ্যা কথা বললাম। মনে মনে ভাবলাম আজ তো খাইছি নিরুব্বা।
  -  বাজান লিমু, নিরব ঠিকঠাক মতন মাদরাসায় যায় তো?
  -  জ্বী আংকেল যায়।
  -  লেখাপড়া ঠিকঠাক করে তো?
  -  আসলে আংকেল লেখতে কখনো দেখি না, পড়তেই দেখি।
আমার একরোখা উত্তর দেখে নিরব দ্রুত বলে উঠলো,
  -  আব্বু, কলেজ জীবনে লেখার বেশি প্রয়োজন পরে না।
অনেকক্ষণ কথাবার্তা বলার পর নিরবের বাবা চলে গেল, যাওয়ার সময় বললো,
  -  বাজান,  নিরবরে একটু দেখিও। ও একটু হাবাগোবা, সহজ-সরল ছেলে।
এই কথার প্রেক্ষিতে কি বললো সেটা ভেবে পাইনি। আমি কী দেখবে নিরবকে? সেই তো আমাকে জ্বালিয়ে খায়।
আর হাবাগোবা সহজ-সরল!
হাবাগোবা হলেই কী কেউ কখনো চুটিয়ে প্রেম করে? খাট না কিনে গফের জন্য পাঁচ হাজার টাকা ব্যয় করে দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়?
নিরবের হাতির মতন বাবা চলে যাবার পর সত্যি সত্যি একটা লাত্থি দিলাম নিরবের পাছায়।
  -  আবার কি করলাম?
  -  কি করিস নি হতচ্ছারা? আমার জন্য তুই খাট কিনতে পারছিস না? আর তুই হাবাগোবা, সহজ-সরল?  হ্লা ভাদাইম্মা।
  -  সরি দোস্ত, কি করমু বল? মিথ্যা না বললে আব্বু আমারে মাইরা চ্যাপ্টা কইরা দিতো।
  -  হাচাই তোরে মারতো?
  -  হ রে দোস্ত, আগেও কতবার যে মেরেছে তার ইয়ত্তা নাই।
মুখটা ব্যাকা করে ধ্যাত শব্দটা উচ্চারণ করলাম।
  -  কি হলো আবার?
  -  আগে জানলে তোর পিটন দেখতাম। সব কথাই বলে দিতাম।
- তোরে আইজ ট্রিট দিমু নে। রাগ করিস না তুই।
ট্রিটের কথা শুনে চুপ হয়ে গেলাম।
.
নিরবের বাবা একটা ব্যাগে অনেক কিছু দিয়ে গেছে। ব্যাগ থেকে আস্তে আস্তে সবকিছু বের করতে লাগলে। অতঃপর বের হয়ে গেল খাবারের একটা টিফিন ক্যারিয়ার।
টিফিন ক্যারিয়ার খোলার সময় আমি ওর পাশেই বসে আছি। নিরব বলে উঠলো,
  -  লিমুয়্যা, তোরে আইজ রাঁধতে হবে না। খাবার দেখছি পাঠাই দিছে।
  -  হ্লা কথা কম, আগে খোল।
নিরব টিফিন ক্যারিয়ার খুলছে। কি সুন্দর খাবারের সুগন্ধ! আহা! গরুর গোস্তের ভুনা, মাছ আলতো তেলে ভেজে রান্না করা, তিনটে ডিম, দু'টিফিন ভাত।
আমি সেটা দেখেই লাফিয়ে উঠলাম। মোবাইল থেকে একটা গান বের করে নাচতে শুরু করলাম। গান চলছে,
'তুই আমার ফেসবুকেও নাই, তুই আমার এ বুকেও নাই,
তোকে আজ পার্মানেন্টটি ডিলেট করতে চাই।'
আমার সাথে নিরবও যোগ দিলো। কিছুক্ষণ ড্যান্স করার পর নিরব বললো,
  -  দোস্ত, ড্যান্স পরে। আগে চল খেয়ে নেই।
  -  দোস্ত, আগে গোসল করে নামায পড়ে নেই।
  -  ঠিকাচ্ছে।
কথাটা বলেই নিরব লুঙী আর তোয়ালে নিয়ে বাথরুমে চলে গেল। আমি বাথরুমের দরজা বাইরে থেকে আঁটকে দিলাম। দরজা আঁটকে দিয়েই টিফিন ক্যারিয়ার থেকে কিছু পেটে চালান করলাম।
আমি নিশ্চিত খেতে বসলে আমাকে অবশ্যই কম করে দিবে। আমি ডিম আর ভাত বাদে মাছ আর গোস্তের দু'পিচ করে পেটে চালান করে সব ঠিকঠাক মতো রাখলাম। যাতে নিরব বুঝতে না পারে।
গোসল শেষ করে নিরব বের হয়ে বেলকনিতে গেল কাপড় শুকাতে। আমি বাথরুমে ঢুকলাম।
বাথরুমের সবকাজ শেষ করে বের হয়ে দেখি নামায না পড়তেই খেতে বসেছে নিরব। আমি কিছুটা রাগতঃস্বরে বললাম,
  -  হ্লা নিরুব্বা, তুই কি এটা ঠিক করলি?
  -  কোনটা দোস্ত?
  -  আমাকে রেখেই তুই খেতে বসেছিস?
  -  কিছু মনে করিস না দোস্ত, তরকারির সুগন্ধে আর অপেক্ষা করতে পারলাম না। তাড়াতাড়ি আয়, তোর জন্যও রেখেছি তো।
আমি কাপড় শুকাতে দিয়ে খেতে বসলাম।
  -  দোস্ত, তুই আমার জন্য এতটুকু রেখেছিস?
  -  কিছু মনে করিস না ভাই, অনেকদিন পর বাড়ির খাবার পেয়ে গপাগপ মুখে পুরছিলাম।
  -  আমিও তো পারতাম তুই বাথরুমে যাবার পর তোর টিফিন ক্যারিয়ার থেকে কিছু খেতে। কিন্তু সেটা আমি করি নি।
কথাগুলো বলে এমন ভাব করলাম যেন আমি মন খারাপ করেছি। নিরব চান্দু জানে না তার এ ভাগাভাগির কম-বেশির কারণে আগেই কিছু সাবাড় করেছি। তবুও বললাম,
  -  হ্লা তোর সুবা তোরে ছ্যাকা দিবে। তুই ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবি আর কাঁন্দবি।
  -  না না দোস্ত, এমন বদদোয়া করিস না। সুবাকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। আচ্ছা ঠিক আছে,এই নে আমার পাত থেকেও কিছু দিচ্ছি।
আর কিছু না বলে চুপচাপ খেতে লাগলাম। আহা! কতদিন পর মাছ, গোস্ত, ডিম একসাথে পেয়ে উদরপূর্তি করলাম।
শান্তি, আহা কি শান্তি! পেট শান্তি তো দুনিয়া শান্তি।
(চলবে)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ