রম্যগল্প: বন্ধু বিভ্রাট
পর্ব:৫ (শেষ)
.
.
নিরবের সাথে খুনসুটি চলছিলো। কখনো আমি ওকে নাস্তানাবুদ করি, আবার কখনো ও আমাকে নাস্তানাবুদ করে। দু'জনের মধ্যে মনকষাকষি হলে খুব দ্রুতই ভেঙে যায়।
আবারো দু'জনই এক হয়ে খুনসুটি শুরু করি। খুনসুটির ফাঁকে ফাঁকে লেখাপড়াটা ঠিকঠাক করতাম। যাতে পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হয়। দেখতে দেখতে টেষ্ট পরীক্ষা চলে এলো।
প্রথমে নিরবের শুরু হলো, এর কয়েকদিন পরই আমার। বই কিনেছিলাম ভাগাভাগি করে। কারণ গফের পিছনে ছুটতে ছুটতে নিরবের টাকা শেষ। শেষের কয়েকটা পরীক্ষার মধ্যে অর্থনীতি একই দিনে পরে গেল।
আমার রুটিন দেখে নিরব অবাক। একটা বই, দু'জনের পরীক্ষা কাল। আমি সেদিনের মতন দুপুরে ঘুমাতে গেলাম। ঘুম থেকে উঠে পড়তে গিয়ে দেখি বই উধাও।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর বইয়ের অর্ধেক পৃষ্টা আবিষ্কার করলাম। চিৎকার দিতে থাকলাম,
- নিরুব্বা, ওই হ্লা নিরুব্বা।
বেলকনি থেকে নিরব উত্তর দিলো,
- ওই হ্লা, ওমন কইরা চিৎকার দিতাছোস ক্যান? কুত্তায় কামড়াইছে নাকি?
- কুত্তায় কামড়াইলে তো ভালোই হতো, কিন্তু সেটা আর হয়নি। আমার বইটার কী অবস্থা করেছিস তুই?
- কি করমু? কাল তোরও পরীক্ষা, আমারো।
- এর জন্য তুই আমার নয়া ফকফকে বইটা দুইভাগ করেছিস? বইটা ভাগ করার আগে কি তোর একটুও মহব্বত হয়নি রে হারামজাদা? কি সুন্দর ছিলো বইটা! আহা।
- তুই ভাগ এইখান থাইকা। ডিস্টার্বের ক্ষতি করিস না। আমি অহন পড়তাছি। আগে বইয়ের ওই পার্টটা শেষ কর, তারপর এটা নিস।
আমি রাগে দুঃখে পড়তে শুরু করলাম। বইটার দিকে দেখলেই বুকটা হু হু করে কেঁদে উঠে। হায়রে কী সুন্দর বইটার একি হাল করেছে!
নিরবকে বারবার অভিশাপ দিচ্ছি। বেলকনি থেকে হাহা করে হেসেই যাচ্ছে। একসময় রুমে চলে আসলো,
- হ্লা তোর বাচ্চা হইবো না, থুক্কু তোর বউয়ের বাচ্চা হইবো না। তোর বউ তোরে ছ্যাকা দিবো।
উল্টা আমাকে অভিশাপ দেয়া দেখে ওর গায়ে লাফিয়ে পড়লাম। দু'জনে জড়াজড়ি করতে করতে অনেকটা সময় কেটে গেল। কিন্তু পড়ালেখা হলো না।
সময় গড়িয়ে গেলে দু'জনে চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলাম। আর কথা না বলে সেই রাতে খুব বেশি পড়লাম। পরদিন পরীক্ষা দিয়ে এসে রীতিমতো ড্যান্স শুরু করলাম।
নিরব তখনো রুমে আসে নি। আজকে নিরবের দেরি হতে দেখে কিছুটা চিন্তিত হলাম। নিরব যখন ফিরলো তখন ওর মুখ অন্ধকার দেখে বললাম,
- দোস্ত, কেমন দিলি?
- ভালো হইছে।
- মন খারাপ কেন?
আমার কথায় কান না দিয়ে পোশাক পাল্টে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। আমি বেশ খানিকটা আশ্চর্য হলাম। হঠাৎ কী হলো নিরবের?
.
সন্ধ্যার সময় বুঝতে পারলাম গভীর কিছু একটা হয়েছে। আমি সিরিয়াসলি নিরবকে শান্ত মনে জিজ্ঞেস করলাম,
- দোস্ত, তোর আসলে কী হইছে? আমাকেও বলা যায় না?
আমার কথা শুনে আমার বুকে মাথা রেখে ছোট্ট শিশুর মতন হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। আমি বারবার সান্তনা দেয়ার পরও সে কাঁদতেই থাকলো।
- বলবি তো কী হয়েছে? না বললে বুঝবো কেমনে?
- দোস্ত, সুবা আমাকে ঠকিয়েছে।
- সুবা ঠকিয়েছে! মানে কী?
- সুবা আরো দু'জন ছেলের সাথে প্রেম করে।
নিরবের কথা শুনে কিছুটা অবাক হলাম।
- তুই বুঝলি কী করে?
- আজকে পরীক্ষা দিয়ে আসার সময় দেখলাম। পরে ছেলেটাকে একা পেয়ে বলাতে সব ভড়ভড় করে বললো। সুবার সাথে ব্রেকআপ করেই এসেছি।
- দোস্ত, তুই সিরিয়াস?
- হুম দোস্ত, তুই ঠিক ছিলি। এই মেয়েটার জন্য কত কষ্ট সহ্য করে স্বপ্ন দেখেছিলাম কিন্তু সে আমাকে ঠকালো।
- দোস্ত, মন খারাপ করিস না। আল্লাহ যা করেন তা ভালোর জন্যই করেন। দ্যাখ এই ব্রেকআপের সমস্যা যদি ফাইনাল পরীক্ষার সময় করতো তাহলে কী হতো? আল্লাহ তোদের সম্পর্কটা মেনে নেয় নি, তাই আগে ভাগে শেষ করে দিয়েছেন।
- দোস্ত, আমার কী অপরাধ ছিলো বলতে পারিস?
- না রে তোর কোন অপরাধ নেই। হ্যাঁ তোর সবথেকে বড় অপরাধ তুই ওকে অন্ধের মতন ভালোবেসেছিস। তোর সবকিছু জানা উচিত ছিলো।
নিরব আর আগের মতন খুনসুটি করে না। সবসময় বেলকনিতে বসে চুপচাপ বই পড়ে নতুবা বেদনার গান শোনে।
আমিও ওকে বাঁধা দেই না। শেষপর্যন্ত সর্বস্ব দিয়ে ভালোবাসার ফল হাড়ে হাড়ে টের পেল। আমি তো অবাক হয়েছি মেয়েটার জন্য নিজের সবকিছু বিসর্জন দেয়ার চিত্রটা। অনেকসময় আমাকেও তার শরীক হতে হতো। যেমন খাট কেনা থেকে শুরু করে বই কেনা অবধি।
রসিক ছেলেটা হঠাৎই চুপসে গেল। মাঝে মাঝে খুব খারাপ লাগতো আমার। তবুও একদিন বলেছিলাম,
- দোস্ত, যে তোকে ভালোবাসে না তাকে ভুলে যা। ওতো তোর সাথে ভালেবাসার নাটক করে মজা লুফেছে। ও যদি তোকে ভুলতে পারে তাহলে তুই কেন নয়? দ্যাখ তোর সামনে ফাইনাল পরীক্ষা। তারপর ভার্সিটির এক্সাম। নিজে একটু শক্ত হ।
.
শেষের কথাগুলো ভালোভাবে মেনে নিয়ে নিরবের নতুন করে পথচলা শুরু হলো। রসে ভরপুর ছেলেটা হঠাৎ করেই নিশ্চুপ হয়ে গেল। সবসময় শান্তভাবে থাকে।
সেদিন নিরবের আব্বার কথাই পরবর্তীতে সঠিক রুপ ধারণ করলো।
জীবনে হয়তো একটা ভুল তার জীবনটাকে উলটপালট করে দিয়েছে। এখন খুব শখ করে একটু ফানি পরিবেশ তৈরি করলেও মুচকি হেসে পরিবেশটা ঠান্ডা করে দেয়।
নিরব এখন তারেই নামের মান রেখেছে, নিরব হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় যেন ছেলেটাকে বুকের মধ্যে নিয়ে কাঁদি। ওর সব কষ্ট পানিতে বের করে ফেলি।
আস্তে আস্তে ফাইনাল পরীক্ষা চলে আসলো। আল্লাহর রহমতে দু'জনে খুব ভালো পরীক্ষা দিলাম।
আমি সাধারণভাবে এ প্লাস পেলেও নিরব গোল্ডেন পেয়ে সেন্টার ফার্ষ্ট হয়েছিলো। সেদিন দু'জনে দু'জনকে জড়িয়ে খুব কেঁদেছিলাম। কারণ আমরা বুঝতে পারছি সামনে কী ঘটতে চলেছে।
ভার্সিটি এডমিশনের জন্য কোচিং এ ভর্তি হয়ে দিনরাত পড়তে লাগলাম। দু'জনে প্রতিযোগীতা করে পড়তাম। আগের থেকে একটু নিজেকে সামলে নিয়েছে নিরব।
ঢাবিতে পরীক্ষা দিলাম দু'জনই। আমার ইংলিশ খারাপ হলো। ভাবলাম চান্স হবে না। মন খারাপ করে কেঁদেছিলাম সেদিন।
সেদিন নিরবের সাপোর্ট পেয়েছিলাম। রেজাল্ট হলো, নিরব বি ইউনিটে ৬০ তম হলো। আমি ইংরেজিতে টেনেটুনে পাশ করে শেষের দিকে সিরিয়াল পেলাম।
কিন্তু ভালো সাবজেক্ট আসলো না। হতাশ হয়ে রাবিতে পরীক্ষা দিলাম। রাবিতে খুব ভালো করলাম। সিরিয়াল প্রথম দিকে থাকার কারণে পছন্দের সাবজেক্ট আসলো।
সেজন্য রাবিতেই ভর্তি হলাম, নিরব ঢাবিতেই ভর্তি হলো। ডি ইউনিটে মানবিকের আসন কম বিধায় পরীক্ষা দেইনি।
আমার কলেজে কাজ পরে গেল। কাগজপত্র তোলা ইত্যাদি করাতে ফ্লাট ছাড়তে দু'দিন বেশি লাগবে।
নিরবকে দু'দিন আগেই ছাড়তে হলো। চলে যাবার সময় এত কেঁদেছিলাম যা কোনদিন এভাবে কাঁদি নি। দু'জন দু'জনকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম।
ও যখন চলে গেল তখন বুঝতে পারলাম বুকের এক পাশটা মনে হয় খালি হয়ে গেল।
এতদিনের খুনসুটি, বন্ধুত্ব কত সহজেই ছাড়তে হলো। হয়তো ফোনে কথা হবে, কিন্তু এরকম খুনসুটি থাকবে না। থাকবে না দুষ্টু-মিষ্টি স্মৃতিগুলো। হাজার খুঁজেও রাবির ক্যাম্পাসে পাবো না ঢাবিয়ান নিরবকে।
কখনো হয়তো ছুটে এসে বলবে না দোস্ত চল তোকে ট্রিট দেই।
নিরবকে বাসে তুলে দেবার জন্য বাসস্টপে গিয়েছিলাম। আমাদের দু'জনের চোখে পানি দেখে অন্যান্য লোকেরা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলো।
তারা তো বুঝলো আমরা কাঁদছি। কিন্তু এটা জানলো না কেন কাঁদছি? দু'জনের দু'টো হৃদয়ের একপাশটা করে শূণ্যতায় হারিয়ে গেছে কোন এক নতুন স্বপ্নে।
.
লেখা: সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž
4434 (3)
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧝:ā§Šā§Š AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ