āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4433 (4)

রুপকথার গল্প: বুদ্ধিমতী লীলাবতী
পর্ব: ৭
লেখা: সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
.
.
'তুমি কি সত্যি সত্যি ডাইনি রিকাকে মারতে চাও?' পাখি রাজপুত্রের কথা শুনে কিছুটা অবাক হয় লীলাবতী।
'যদি মারতেই না চাইতাম তাহলে কী রাজার কাছে যেতাম?' লীলাবতী পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় পাখি রাজপুত্রকে।
'আমি তোমাকে সাহায্য করতে চাই লীলাবতী।'
'তোমাকে আমি কিভাবে বিশ্বাস করবো?'
'সবথেকে বড় প্রমাণ হচ্ছে ডাইনি রিকাই আমার বড় শত্রু। তাছাড়া আমাকে বিশ্বাস করা ছাড়া আপাতত তোমার কোন পথ নেই।'
অবাক হয়ে লীলাবতী প্রশ্ন করলো, 'কেন?'
'তুমি হয়তো শোনো নি, তাতাকুয়া জঙ্গলের মায়াময় একটা স্থানে ডাইনি রিকার বাস। স্বাভাবিক মানুষকের জন্য সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। সম্ভব হলে রাজামশাই খালেকরাজ তার সৈন্য নিয়েই ডাইনিকে ঘায়েল করতে পারতেন।'
লীলাবতী বেশ চিন্তায় পড়ে গেল। এই পর্যন্ত কোন পথ পায়নি সে। তার উপর আবার পাখি রাজপুত্র তার কপালে জুটেছে। আপাতত তাকে বিশ্বাস করা ছাড়া কোন উপায় নেই তার।
অনেক ভেবে পাখি রাজপুত্রের সাথে জন্য রাজি হলো সে, 'ঠিক আছে, আমি তোমার সাথে যাবো। আমি জানি নাহ, তুমি কে! তবে আশা করি দু'জনেই যে করেই হোক ডাইনির কবল থেকে রাজকন্যা মায়াবতী ও রাজপুত্র বিজয়রাজকে বাঁচাবো। এতে তোমারও লাভ।'
পাখি রাজপুত্র বললো, 'আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। ডাইনি রিকার বোনের অভিশাপে আজ আমি পাখি। তবে তোমার মতন সাহসী কাউকে আমি খুঁজছিলাম। কারণ আমি এত ছোট অবস্থায় সব কাজ করা সম্ভব হবে না। আগে তোমাকে নিয়ে আমার দরবেশ বাবার কাছে যেতে হবে। তিনি নিশ্চই কোন সাহায্য করবেন আমাদের।'
'দরবেশ বাবা!'
'হ্যাঁ, দরবেশ বাবা।'
অতঃপর পাখি রাজপুত্র লীলাবতীকে নিয়ে বীত পাহাড়ের গুহায় গেল। লীলাবতী দেখলো সাদা পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি নামায আদায় করছেন।
পাখি রাজপুত্র কিছুক্ষণ লীলাবতীকে শান্ত হয়ে বসতে বললো। লীলাবতী এরই ফাঁকে ফাঁকে ছক আঁকতে লাগলো।
দরবেশ বাবা নামায আদায় শেষ করে মুনাজাত করতে লাগলেন। মুনাজাত শেষে পিছনে ফিরে তাকালেন।
পাখি রাজপুত্র ও লীলাবতী দরবেশ বাবাকে সালাম জানালো।
'বাবা, আমাদের হাতে সময় বেশি নেই। এই মেয়েটাকে যে দেখছেন ওর নাম লীলাবতী। আমাকে এই কাজের জন্য সাহায্য করবে।'
দরবেশ বাবা বললেন, 'মেয়েটাকে দেখেই বুঝেছি। আমি দোয়া করছি তোমরা এই কাজে সফল হও।'
লীলাবতী বলে উঠলো, 'পাখি রাজপুত্র বললো কোন সাধারন মানুষ নাকি সেখানে ঢুকতে পারবে না? তাহলে আমি সেখানে কিভাবে ঢুকবো?'
দরবেশ বাবা মুচকি হেসে একটা ছোট্ট বোতল তার হাতে দিয়ে বললেন, 'এই বোতলের পানি পবিত্র। আল্লাহর কালামের বিশেষ সূরা পড়ে তাতে ফুঁক দেয়া আছে। এ ছাড়াও এ পানির অনেক গুন আছে। তুমি একটা ব্যবহার করতে পারবে।'
পাখি রাজপুত্র লীলাবতী বোতলটা হাতে নিতে বলে দরবেশকে বললো, 'বাবা, আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আর লীলাবতীকে সেখানে ঢোকার ব্যবস্থা করে দিতেন।'
দরবেশ বাবা বললেন, 'আমি একটা পক্ষীরাজ ঘোড়া দিচ্ছি, সে তোমাদের ওখানে পৌঁছে দিবে। তবে সেখানে প্রবেশের পর কাজ সমাধা না হওয়া পর্যন্ত বের হতে পারবে না। যখন ডাইনি মারা যাবে তখন আপনা আপনি মায়াজাল ভেঙে যাবে। সেখানে পৌঁছে পক্ষীরাজ ঘোড়াটার মাথায় স্পর্শ করবে তাহলে ঘোড়াটা ক্ষুদ্রাকৃতি লাভ করবে। ডাইনিও বুঝতে পারবে না। কাজ সমাধা হলে মাথায় আবার স্পর্শ করলে আবার বড় আকৃতি লাভ করবে।'
দরবেশ বাবার কাছে বিদায় গ্রহণ করে পক্ষীরাজ ঘোড়ার পিঠ চেপে বসলো লীলাবতী। পক্ষীরাজ ঘোড়ার মাথা বরাবর নিজেকে স্থির করে রাখলো পাখি রাজকুমার।
ঘোড়া পাখা মেলে চলছে তো চলছে। লীলাবতী ও পাখি রাজকুমার মাটি থেকে অনেক উপর দিয়ে তাতাকুয়া জঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে।
আকাশপথ দিয়ে উঁড়তে উঁড়তে পক্ষীরাজ ঘোড়া গহীন জঙ্গলের ভিতর এসে থামলো।
পাখি রাজপুত্র বলে উঠলো, 'লীলাবতী, আমাদের এখানেই নামতে হবে।'
'আচ্ছা' বলে লীলাবতী পক্ষীরাজ ঘোড়া থেকে নেমে পড়লো। ঘোড়া থেকে নেমে পক্ষীরাজ ঘোড়ার মাথা বরাবর স্পর্শ করার সাথে সাথে ঘোড়া ক্ষুদ্রাকৃতি লাভ করলো।
লীলাবতী ক্ষুদ্রাকৃতির পক্ষীরাজ ঘোড়াটাকে গাছের কোটরে লুকিয়ে রাখলো।
এমন সময় পাখি রাজপুত্র বলে উঠলো, 'লীলাবতী তুমি বরং এখানে গাছের আড়ালে বিশ্রাম নাও, আমি ওখানকার অবস্থা দেখে আসি।'
পাখি রাজপুত্রের কথা শুনে লীলাবতী বললো, 'আমি খুব ক্লান্ত, আমি কি ঘুমাবো?'
'ঘুমাতে পারো, আমাদের হাতে মাত্র দু'দিন সময়। যা করার খু্ব তাড়াতাড়ি করতে হবে।'
কথাগুলো বলেই ডাইনির আস্তানার দিকে উঁড়তে লাগলো পাখি রাজপুত্র। লীলাবতী ছোট্ট একটা চাদর বিছিয়ে শুয়ে পড়লো। বীত পাহাড় যেতে অনেকটা সময় হাঁটতে হয়েছে। নিজেকে খুব ক্লান্ত লাগছে লীলাবতীর।
দরবেশ বাবার বোতলটা ভালোভাবে লুকিয়ে রেখে ঘুমিয়ে পড়লো লীলাবতী।
.
পাখি রাজপুত্র বিজয় ও মায়াকে বন্দি অবস্থায় দেখলো। একটু কথা বলতে যাবে তৎক্ষনাৎ ডাইনিটা কোথা থেকে যেন চলে আসলো।
পাখি রাজপুত্র আর সামনে অগ্রসর হলো না।
ডাইনিটা হাহা করে হাসতে হাসতে রাজপুত্র বিজয়কে খাবার দিতে দিতে বললো, 'আহারে বিজয়! যতটুকু পারো খেয়ে নাও। তোমরা তো বলি হতে যাচ্ছো। আমার মহা উৎসবের দিন আসতে মাত্র দু'টো রাত বাকি। তারপর আমি তোমাদের বলি দিয়ে আমার বোনকে কাছে পাবো।'
মায়াবতী ডাইনির এমন বিদঘুটে হাসি দেখে সে নিজেও হাসলো। মায়াবতীকে হাসতে দেখে কিছুরা রাগান্বিত হলো ডাইনি, 'তুই হাসছিস কেন?'
হাসতে হাসতে মায়াবতী বললো, 'কখনো শুনেছ, শয়তানের কাছে মানুষের পরাজয়? আল্লাহ তো মানুষকে সৃষ্টি করে সকলের উপর তাদের বিজয়ী করেছেন। তাই এ আশাটাও তোদের পূরণ হবে না।'
হুংকার ছেড়ে ডাইনি বললো, 'তোদের বাঁচাতে কে আসবে? কেউ আসবে না। তোদের বাবা এসেছিলেন কিন্তু মায়াজাল ভেদ করতে পারে নি। আর কে বাঁচাবে তোদের? কার সাধ্যি আছে মায়াজাল ভেদ করতে?'
মায়াবতী বললো, 'আল্লাহ চাইলে কি না হতে পারে! আমার মন বলছে কেউ আসবে। আল্লাহর সাহায্য আসবে। উপর-নিচ উভয়ের কোথাও শয়তানরা সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের উপর বিজয়ী হতে পারে নি। এবারো পারবে না ইনশাআল্লাহ।'
হাহা করে হাসতে হাসতে ডাইনিটা চলে গেল।
পাখি রাজপুত্র উঁড়তে উঁড়তে বিজয়রাজের খাঁচার উপরে বসলো।
বিজয়রাজ আগ্রহের সহিত বললো, 'বন্ধু, এতদিন কোথায় ছিলে তুমি?'
পাখি রাজপুত্র জবাব দিলো, 'হাতে অনেক কাজ ছিলো রাজপুত্র বিজয়।'
মায়াবতী বললো, 'কিসের কাজ?'
পাখি রাজপুত্র বললো, 'আমাদের মুক্তির পথ খুঁজতে গিয়েছিলাম।
বিজয় বললো, 'কিছু পেলে?'
'হুম, পেয়েছি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা ও তার বুদ্ধিমত্তা।'
'তার'টা কে বন্ধু?'
'লীলাবতী'
মায়াবতী আশ্চর্য হয়ে গেল এ নামটা শুনে। জিজ্ঞেস করলো, 'কে এই লীলাবতী?'
'আপাতত আমি তার সম্পর্কে খুব বেশি জানি নাহ। তবে সে তোমাদের বাঁচাতে এসেছে। আমাদের মুক্তি দিতে এসেছে। আমি তাকে যতদূর পারি সাহায্য করবো।'
'কিন্তু একটা মেয়ে কিভাবে আমাদের সাহায্য করবে বন্ধু?' রাজপুত্র বিজয়ের প্রশ্ন।
'কিভাবে সেটা জানি নাহ। তবে আমার বিশ্বাস সে পারবে। মায়াজালের ভিতরে সে এখন বিশ্রাম করছে।'
রাজপুত্র বিজয়রাজ খানিকটা আশ্চর্য হলো। একটা মেয়ে কিভাবে তাদের এই ডাইনির হাত থেকে বাঁচাতে!
সেদিনের মতন পাখি রাজপুত্র চলে গেল। বিজয়রাজ ও মায়াবতী খাঁচার ভিতরে বন্দিই থাকলো।
পাখি রাজপুত্র উঁড়তে উঁড়তে সেই গাছের ডালে বসলো। লীলাবতী ঘুমাচ্ছে। পাখি রাজপুত্র গাছের ডাল থেকে লীলাবতীকে দেখছে। মেয়েটাকে কত নিষ্পাপ মনে হচ্ছে। ডালে বসেই আল্লাহকে ডাকতে থাকে পাখি রাজপুত্র, 'হে আল্লাহ এই ডাইনির হাত থেকে আমাদের বাঁচাও। রহম করো আমাদের উপর।'
সকালের সূর্য পূর্ব আকাশে উঁকি দিয়েছে। সূর্যের কিছুটা আলো লীলাবতীর চোখে এসে পড়ে। চোখে আলোর ঝলকানি পেয়ে উঠে বসলো লীলাবতী। পাখি রাজপুত্র বলে উঠলো, 'ঘুম হয়েছে লীলাবতী?'
চোখ মুছতে মুছতে বলে লীলাবতী বললো, 'আলহামদুলিল্লাহ। পাখি রাজপুত্র আমরা কখন কাজ শুরু করবো?'
'আজ রাত থেকে। সারাদিন দাবার ঘর সাজাতে ব্যস্ত থাকবে ডাইনিটা। আমরা রাত থেকেই কাজ শুরু করবো। তুমি বরং তোমার পরিকল্পনা শুরু করে দাও।'
'পরিকল্পনা শেষ পাখি রাজপুত্র। তবে কালকের আগে আমাকে একবার রাজপুত্র বিজয়রাজ ও রাজকন্যা মায়াবতীর সাথে সাক্ষাত করতে হবে।'
'কিন্তু সেটা তো আপাতত সম্ভব না লীলাবতী।'
আশ্চর্য হয়ে লীলাবতী বললো, 'কেন সম্ভব নয় রাজপুত্র?'
'ওখানে ডাইনির ভয় আছে আপাতত। তোমাকে ধরে ফেললে সবটাই আশা শেষ।'
'আমাকে ধরতে পারবে না রাজপুত্র। এ নিয়ে তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারো।'
'এ কাজে বিপদ আছে লীলাবতী।'
'এ মায়াজালে ঢোকার পর থেকেই তো বিপদে পড়েছি আমরা। হয়তো চারজন বাঁচবো নতুবা রাকা ও রিকা ডাইনিকে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিবো।'
পাখি রাজপুত্র বুঝতে পারলো এ মেয়ে নাছোড়বান্দা। তাকে ডাইনির আস্তানায় নিয়ে যেতেই হবে।
তবে একটাই ভয় পাচ্ছে পাখি রাজপুত্র। যদি লীলাবতীকে ধরে ফেলে তাহলে সবটাই শেষ। নিজেদের পরিকল্পনাটুকু ভেস্তে যাবে। ধরা পড়ে যাবে সবাই।
আর ধরা পড়লে সবাইকেই বলি দেবে ডাইনি রিকা। সময় যত গড়াচ্ছে মনের মধ্যে ততই ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু লীলাবতী গাছের ডালে বসে গপগপ করে ফল খাচ্ছে। মেয়েটার কোন চিন্তাই নেই দেখছি।
নিশ্চিত আজকে সে সবাইকে বিপদে ফেলবে। লীলাবতী সাথে আনাই ভুল হয়েছে। মনে মনে ভাবতে থাকে পাখি রাজপুত্র।
পশ্চিম আকাশে সূর্য টলতে শুরু করেছে। এরই মাঝে পাখি রাজপুত্র মাঝে মাঝে চুপি চুপি ডাইনির কাজকর্মের অগ্রগতি দেখে এসেছে।
পাখি রাজপুত্র আপাতত পাখি। তাই হয়তো ডাইনিটা কখনোই টের পাচ্ছে না। নতুবা তাকে ধরেও খাঁচায় ভড়িয়ে দিতো। মানুষের গন্ধ সহজেই বুঝতে পারে সে।
সময় যত গড়াচ্ছে ডাইনিটাকে ততই উৎফুল্ল দেখা যাচ্ছে। এতদিনের স্বপ্ন তার, যা কাল সত্যি হতে যাচ্ছে।
আর তো মাত্র একটি রাত! তারপরই শুরু হবে মহা উৎসব, মহা আনন্দের দিন।
এসব ভাবতেই ডাইনি নাচ শুরু করে সে।
(চলবে)

রুপকথার গল্প: বুদ্ধিমতী লীলাবতী
পর্ব: ৮
লেখা: সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
.
.
পাখি রাজপুত্র সন্ধ্যার পরপর ফিরে আসলো। এসেই লীলাবতীকে কাছের নিচেই পেল।
'ওখানে কি না গেলেই নয় লীলাবতী?'
পাখির রাজপুত্রের কথা শুনে চমকে উঠলো সে। এতক্ষণ কি যেন ভাবছিলো, 'আমাকে যেতেই হবে পাখি রাজপুত্র। চিন্তা করো না, আমার কিছু হবে না।'
'ঠিক আছে চলো।'
পাখি রাজপুত্রের কথা শুনে তার পিছে পিছে হাঁটতে লাগলো  লীলাবতী। হাতে ছোটখাট একটা পুটলি। কিছুক্ষণ হাঁটার পর পাখি রাজপুত্র থামলো। রাজপুত্রকে থামতে দেখে লীলাবতী জিজ্ঞেস করলো, 'কী হলো থামলে যে?'
'সামনে দেখ দু'টো ঘর। ওখানকার প্রথম ঘরটাতে রাজকন্যা মায়াবতী ও রাজপুত্র বিজয়রাজ খাঁচায় বন্দি।'
'ঠিক আছে আমি চললাম তাহলে।'
'একটু দাঁড়াও, আগে আমি আশপাশটা ভালো করে দেখে আসি। তুমি বরং গাছের আড়ালে থাকো কিছুক্ষণ।'
'ঠিক আছে।'
কথাটা বলেই সাবধানে উঁড়াল দিলো পাখি রাজপুত্র। আশেপাশে ভালো করে দেখে রাজপুত্র বিজয়রাজকে বললো, 'ডাইনিটা কোথায় বন্ধু?'
বিজয়রাজ উত্তর দিলো, 'বলি দেয়ার উৎসবের জন্য কি যেন কমতি পড়েছে, তাই নিতে গেছে।'
'লীলাবতী তোমাদের সাথে দেখা করতে চায়।'
মায়াবতী আশ্চর্য হয়ে উত্তর দিলো, 'এসময় ডাইনি হুট করে চলে আসলে সমস্যা আছে। পাখি রাজপুত্র আপনি বরং ওকে আসতে আজ নিষেধ করে দিন।'
'কিন্তু ওতো নাছোড়বান্দা।'
বিজয়রাজ বলে উঠলো, 'ঠিক আছে, সাবধানে আসতো বলো বন্ধু।'
পাখি রাজপুত্র পতপত করে উঁড়ে লীলাবতীর কাছে গেল। লীলাবতী গাছের আড়ালে লুকিয়ে আছে। পাখি রাজপুত্র তাকে সাবধানে যেতে বললো।
লীলাবতী খুব দ্রুত ঘরে ঢুকেই প্রথমে সালাম দিলো। রাজপুত্র বিজয়রাজ ও মায়াবতী সালামের জবাব দিলো। বিজয়রাজ লীলাবতীকে দেখে আশ্চর্য হয়ে গেছে।
এ যেন আকাশ থেকে কোন ডানাকাটা পরী তাদের সামনে হাজির হয়েছে। মুগ্ধ হয়ে লীলাবতীর দিকে চেয়ে রইলো সে।
মায়াবতী বললো, 'লীলাবতী, যা বলার বলো। নতুবা ডাইনিটা আসলে বিপদ হতে পারে।'
মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো লীলাবতী। পুটলি থেকে দু'টো কবচ বের করে দু'জনের হাতে দু'টো দিয়ে বললো, 'এ দু'টো লুকিয়ে রাখুন আপাতত। ডাইনি যেন কোনক্রমেই দেখতে না পারে। যদি দেখে ফেলে তাহলে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।'
মায়াবতী বলে উঠলো, 'কিন্তু এ কবচ তো আমাদেরই।'
'হ্যাঁ, আপনাদেরই। আপনাদের জিনিষ আপনাদেরকে ফেরত দিলাম। শুনেননি, এ দু'টো থাকলে কোন শয়তান বা ডাইনি আক্রমন করতে পারবে না।'
বিজয়রাজ উত্তর দিলো, 'ঠিক তাই। যখন এ কবচ হাতে ছিলো তখন ডাইনিটা কিছুই করতে পারে নি। কিন্তু যখনই কবচটা হাত থেকে খুলেছি তখনি সে ধরে এনেছে।'
'আপনারা এ দু'টো ভালো করে রাখুন। কাল যখন বলি দেয়ার সময় উপস্থিত হবে তার আগে আগে এটা পড়ে নেবেন।'
রাজপুত্র বিজয়রাজ ও মায়াবতী দু'জনই লীলাবতীর কথায় সায় দিলো। এমন সময় ভীতিগ্রস্ত হয়ে পড়লো পাখি রাজপুত্র। লীলাবতীকে ডাকতে লাগলো, 'লীলাবতী তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ো। ডাইনিটা আসছে।'
একথা শোনা মাত্র ঘরের ভিতরেই লুকিয়ে পড়লো লীলাবতী। পাখি রাজপুত্রসহ সকলেই আল্লাহকে ডাকতে লাগলো।
ডাইনিটা সরাসরি বিজয়রাজের ঘরে ঢুকেই হাহা করে হেসে বলতে লাগলো, 'সব কাজ শেষ বিজয়রাজ ও মায়াবতী। আর মাত্র কয়েকটা মুহূর্ত বাকি। তারপর আমি মিলিত হবো আমার প্রিয়তমা বোন রাকার সাথে।'
মায়াবতী বলে উঠলো, 'এত দাপাদাপি করো না ডাইনি রিকা। তোমার দাপাদাপির দিন শেষ।'
হুংকার ছেড়ে ডাইনি বললো, 'আমার দিন কেবল শুরু নির্বোধ রাজকন্যা। নতুন করে বাঁচবো কাল থেকে। মরার জন্য প্রস্তুত হয়ে নে।'
রাজপুত্র বিজয় বললো, 'কার নতুন করে দিন শুরু হবে তা তো দেখা যাবে কালকেই। কে মরবে সেটা তো আল্লাহ তায়ালাই ঠিক করবেন। তিনিই সবকিছুর মালিক।'
ডাইনি রিকা হঠাৎ কি যেন শুঁকতে লাগলো, 'মানুষের গন্ধ পাচ্ছি! আশেপাশে কেউ আছে নাকি?'
একথা বলা দেখে পাখি রাজপুত্র শব্দ করে ডাইনির সামন দিয়ে উঁড়ে পালিয়ে গেল।
ডাইনি মনে মনে ভাবলো, 'হয়তো এই পাখিটার গন্ধ পেয়েছিলাম। কিন্তু এ আসলো কোথা থেকে?'
এ কথা ভাবতে ভাবতে পাখিকে ধরার জন্য ডাইনি রিকা উঁড়াল দিলো। এ সুযোগে লীলাবতী বের হয়ে বললো, 'তোমাদের যেভাবে বলেছি সেরকম করবেন। খুব সাবধানে থাকবেন। আমি বাকি কাজগুলো শেষ করছি।'
এ কথা বলেই দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে নতুন জায়গায় ঘাপটি মেরে বসে থাকলো লীলাবতী।
ডাইনিটা পাখি রাজপুত্রকে খুঁজে না পেয়ে অশান্ত মনে ফিরে আসলো।
এসেই আবার শুঁকতে লাগলো, 'না কোথাও তো মানুষের গন্ধ নেই। তাহলে হয়তো পাখির গন্ধকেই ভুল ভেবেছিলাম।' মনে মনে এসব ভাবতে লাগলো।
কিন্তু এ পাখি মায়াজালের ভিতরে আসলো কী করে!
.
সকাল হওয়ার পর থেকে ডাইনিকে অনেক খুশি খুশি লাগছে। পিছনের ঘরের ভিতর ঢুকে লাশের কফিনটা বের করে চিৎকার করে বলতে লাগলো, 'প্রিয়তমা বোন আমার, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তারপর আমরা শান্তিতে মিলিত হবো। আপাতত আমি সবকিছু সাজিয়ে শয়তানের রাজাকে আনতে যাচ্ছি।'
ডাইনির এ কথা সবাই শুনতে পেল। এত জোরে হাহা করে হেসে কথাগুলো বলছিলো যে তাতাকুয়া জঙ্গল আন্দোলিত হয়ে উঠেছিলো।
পাখি রাজপুত্র মীর খান, রাজপুত্র বিজয়রাজ, রাজকন্যা মায়াবতী ও লীলাবতী সবাই শুনেছে। ডাইনিটা শেষবার রাজপুত্র ও রাজকন্যার দিকে আড় চোখে তাকিয়ে ডানা মেলে শয়তানের রাজ্যের দিকে রওনা দিলো।
পাখি রাজপুত্র লীলাবতী লীলাবতী বলে ডাকতে লাগলো। তখন লীলাবতী গাছের কোটরের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসলো।
পাখি রাজপুত্র বললো, 'গতকাল একটুর জন্য বেঁচে গেছ।'
মুচকি হেসে লীলাবতী বললো, 'ডাইনিটা আসলেই নির্বোধ। মানুষের বুদ্ধির সাথে লড়তে এসেছে।'
'আগেই এমন কথা বলছো লীলাবতী?'
'রাজপুত্ররা এত ভয় পায় না পাখি রাজপুত্র। তুমি তো দেখছি ভীতুর ডিম। যাইহোক, তুমি দেখনই না আমি কি করি।'
উৎসুকভাবে পাখি রাজপুত্র বললো, 'কী করবে তুমি?'
'এত প্রশ্ন করো নাতো রাজপুত্র। আমার সাথেই শুধু থাকো।'
লীলাবতীর কথা শুনে মনের মধ্যে ভয় বেড়েই চলছে। না জানি এই মেয়ে কী করে বসে।
মানুষের বুদ্ধি থাকা ভালো বটে, কিন্তু অতি বুদ্ধি থাকা বিপদজনক।
লীলাবতী বললো, 'পাখি রাজপুত্র, তুমি একটা তরবারি জোগাড় করে দিতে পারবে?'
মাথা নেড়ে রাজপুত্র বললো, 'হ্যাঁ সেটা তো প্রথম ঘরের ভিতরেই আছে।'
পাখি রাজপুত্রের কথা শুনে প্রথম ঘর অর্থ্যাৎ রাজপুত্র বিজয়রাজ ও রাজকন্যা মায়াবতী যেখানে বন্দি সেখানে গেল। তরবারিটা হাতে নিয়ে আসার সময় রাজপুত্র বিজয় বললো, 'তরবারি দিয়ে কী করবে লীলাবতী?'
উপরে রাগী মনোভাব দেখিয়ে লীলাবতী বললো, 'আপনার মুন্ডু আলাদা করবো।'
লীলাবতীর কথা শুনে মায়াবতী ও পাখি রাজপুত্র হাহা করে হাসতে লাগলো। বেচারা রাজপুত্র বিজয়রাজ মাথা নিচু করে খাঁচায় দাঁড়িয়েই রইলো।
লীলাবতী পিছনের ঘরের ভিতর গিয়ে কফিনের ভিতরের লাশটাকে বের করে কয়েক টুকরো করে বিকৃতি করে দিলো। বিকৃতাকৃতি বলতে, পা দু'টো আলাদা করে মাথার দিকে, মাথাটা ভুঁড়ি বরাবর, হাত দু'টো পায়ের দিকে।
মৃত ডাইনি রাকাকে এ অবস্থা করা দেখে ভয় পেয়ে পাখি রাজপুত্র বললো, 'এ কি লীলাবতী! তুমি কি করছো এসব? ডাইনিটা দেখলে সব শেষ!'
একটা ছোটখাটো ধমক দিয়ে লীলাবতী বললো, 'চুপ, এ কথা বলো কেন? আজকেই ওদের শেষদিন। হয় আমরা বাঁচবো না হয় ওরা বাঁচবে।'
লীলাবতীর কথা শুনে পাখি রাজপুত্র চুপ হয়ে রইলো। মনে মনে ভাবলো আর কথা বলবেই না। লীলাবতী কি করে সেটাই দেখবে শুধু। এ মেয়ের বুদ্ধি যেমন তার চেয়ে বেশি রাগ।
লাশটা বিকৃতি করার পর কফিন দিয়ে ঢেকে মাটির নিচে পুঁতে রাখলো। পাখি রাজপুত্রকে বললো, 'তোমার সব প্রশ্নের উত্তর পাবে, তবে পরে।'
'যদি আমরা বেঁচে না থাকি তাহলে?'
'আল্লাহ তার বান্দাদের নিরাশ করেন না।'
লীলাবতীর ধর্মীয় কথা শুনে কিছুটা শান্ত হয় পাখি রাজপুত্র। পিছনের ঘর থেকে বের হয়ে বলি দেয়ার সাজানো প্রান্তর দেখে ডাইনি রিকার অনুপস্থিতে তাকে ভ্যাংচি কেটে বলে, 'শখ কত! রাজপুত্রদের ও রাজকন্যাকে বলি দেবে। তোর বলির প্রান্তরে তোকেই বলি দেব ডাইনি। কিছুক্ষণ আগে তোর বোনকে শান্ত থেকে আরো শান্ত করেছি।'
কথাগুলো বলে রাজপুত্র বিজয় ও মায়াবতীর কাছে গিয়ে বললো, 'মায়াবতী ও বিজয়রাজ, আপনারা পোশাকের আঁড়ালে কবচটা বিসমিল্লাহ করে পরে নিন। বিসমিল্লাহর বরকতে ডাইনি কোন ক্ষতিই করতে পারবে না।'
রাজকন্যা মায়াবতী ও রাজপুত্র বিজয়রাজ কবচটা বের করে নিজ নিজ গলায় পরে নিলো।
লীলাবতী ওদের কবচ পড়া দেখে মুচকি হেসে বললো, 'রাজপুত্র তুমি কিছু মনে করো না, আমার একটু রাগ বেশি।'
লীলাবতীর কথা শুনে মাথা নিচু করে মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো বিজয়।
মায়াবতী ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ভাইজানকে ডাক দিলো, 'ভাইজান হাসছো কেন? হুহ।'
ঠোঁটের ফাঁকে হাসি লুকিয়ে রেখে বিজয়রাজ বললো, 'চুপ কর।'
ভাই-বোনদের কথার কিছুই বুঝতে পারে না লীলাবতী। পাখি রাজপুত্রও সব দৃশ্য, কথাবার্তা অবলোকন করছে। লীলাবতী বললো, 'এবার শুধু অপেক্ষার। ডাইনিটা কখন আসবে। আমার মন শুধু খচখচ করছে কখন তাকে বলি দেব।'
লীলাবতীর নিশ্চয়তা দেখে পাখি রাজপুত্র ভরসা না পেলেও রাজপুত্র বিজয়রাজ ভরসা পায়।
এদিকে শেষদিন জেনে রাজামশাই খালেকরাজ মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। গতরাতে তিনি সারারাত তার সন্তানদের জন্য দোয়া করে আল্লাহর দরবারে চোখ ভিজিয়েছেন। নামায পড়েছেন তাহাজ্জুদের।
(চলবে)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ