āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4433 (3)

রুপকথার গল্প: বুদ্ধিমতী লীলাবতী
পর্ব: ৫
লেখা: সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
.
.
রাজপুত্রকে খাঁচায় ভড়িয়ে রেখে ডাইনি তার কাজে মানে রাজবাড়িতে চলে গেল। পাখি রাজপুত্র খুব দ্রুত রাজপুত্রের খাঁচায় সামনে এসে বললো, 'আমি দুঃখিত বন্ধু। আমার জন্য তোমাকে আরো বিপদে পড়তে হলো।'
শান্ত স্বরে রাজপুত্র বিজয় বললো, 'কপালে যা আছে তাই হবে বন্ধু।'
'ডাইনির হাতে বেশি সময় নেই রাজপুত্র। যা করার খুব তাড়াতাড়ি সেরে ফেলবে। নতুবা তাদের মনের ইচ্ছা কখনোই পূরণ হবে না।'
'আমাদের এখন অপেক্ষায় থাকতে হবে বন্ধু। দেখি আল্লাহ কী করেন।'
রাজপুত্রের কথায় পাখি রাজপুত্র সহমত প্রকাশ করে উঁড়তে লাগলো। তার এখনো বেশ কিছু কাজ বাকি আছে। যে করেই হোক ডাইনির হাত থেকে সকলকে মুক্তি দিতে হবে।
রাজপুত্র খাঁচায় বন্ধি থাকা অবস্থায় পাখি রাজপুত্র ডাইনির পিছনে পিছনে খুব সাবধানে ঘুরঘুর করে।
ডাইনি কখন কোথায় যায়, কী করে সবটা খেয়াল রাখে। গোপন কোন বুদ্ধি আঁটলে সেটা ভেঙে দেয়।
এর আগে বেশ কিছু পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে সে। পাখি রাজপুত্র পাখি হবার পরে এক দরবেশ বাবার সাক্ষাত লাভ করেছিলো যিনি তাকে বলেছিলেন কিভাবে সে আবার মানুষরুপে ফিরে যেতে পারে।
দরবেশ বাবা তার শক্তি থেকে  কিছু অংশ পাখি রাজপুত্রের মধ্যে দান করেছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে পাখি রাজপুত্র মানুষ, ডাইনি, রাক্ষস, পশু-পাখিদের মনের কথা বুঝতে পারে।
ডাইনি রিকা খুব গোপনে কৌশলে রাজবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এক দাসী থাকার পরেও রাজকন্যার খাস দাসীকে বন্ধি করে তার স্থানে নিজেকে বসিয়েছে।
'যা করার খুব দ্রুত করতে হবে। হাতে বেশি সময় নেই।' মনে মনে ভাবে ডাইনি রিকা।
পাখি রাজপুত্র বিপদ আসন্ন দেখে রাজামশাইয়ের আশেপাশে ঘুরতে লাগলো। এত সুন্দর পাখি দেখে সবাই তার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।
সকলের মধ্যে একটাই ভাবনা,  'এত সুন্দর পাখি হয় নাকি! পরিচিত কোন পাখির মধ্যে সে পড়ছে না। অচিন পাখি!'
রাজামশাই এরকম অদ্ভুত পাখি দেখে অবাক হয়েছেন।
পাখি রাজপুত্র রাজ দরবারে ঘুরছে আর বারবার বলছে, 'বিপদ, বিপদ, ঘোর বিপদ। বিপদ, বিপদ, ঘোর বিপদ। সাবধান রাজামশাই, সাবধান।'
রাজামশাইসহ বৈঠকের সবাই আরো অবাক হয়ে গেলেন। এ দেখি কথাও বলছে!
বেশ কয়েকবছর আগে রাজ মনিষী পরলোক গমন করেছেন। তিনি মারা যাবার আগে এরকম কিছু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেদিন আবারো আসবে নাতো!
নাকি এ ইঙ্গিতই সেই ইঙ্গিত!
রাজামশাই ভাবনায় পড়ে গেলেন।
.
রাজকন্যা নিজের কামরায় বসে বসে পায়ে আলতা দিচ্ছে। এমন সময় ডাইনি রিকা আগের দাসীর রুপ ধারণ করে রাজকন্যার পাশে গিয়ে বসে।
কাঁপা কাঁপা গলায় কাশতে কাশতে বলে, 'দিদিভাই, তুমি কী করছো?'
একটু হেসে রাজকন্যা মায়াবতী জবাব দেয়, 'পায়ে আলতা দিচ্ছি দিদিমা। তুমি আসলে ভালোই হলো, আমার চুলগুলো আঁচড়ে দাও তো।'
চুল আঁচড়ানোর কথা শুনে মনে মনে ঢোক গিললো ডাইনি। সে তো আর দাসী নয় যে তাকে স্পর্শ করতে পারবে, সে তো ডাইনি, অপবিত্র। অপবিত্ররা এই পবিত্র কবচ স্পর্শ করতে পারবে না।
হুঁ হুঁ করে ব্যাপারটা অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করে বলে, 'দিদিভাই তোমার গলায় ওটা কী? অনেকদিন থেকেই তো দেখছি।'
রাজকন্যা কবচটা স্পর্শ করে বলে, 'এটা একটা কবচ। আমার দাদু নাকি আমার আব্বিজানকে দিয়েছিলেন আমাকে দেয়ার জন্য। তবে এই কবচটা পবিত্র, এটা আমার সাথে থাকলে আমার কোন ক্ষতি হবে না। এমনটাই আব্বিজান বলেছেন।'
এবার ডাইনি একটু কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে বলেন, 'তা কি করে হয় রাজকন্যা? তোমার ভাইজানেরও তো ছিলো কিন্তু তারপরও তো সে হারিয়ে গেল।'
রাজকন্যা একটু ভেবে দেখলো কথাটা তো ঠিক। রাজকন্যা জানতো না কবচটা খোলার জন্য তার ভাইজানকে ডাইনি তুলে নিয়ে গেছে।
ডাইনিটা বললো, 'দিদিভাই তুমি একটু তোমার কবচটা আমার হাতে দিবে? না মানে আমি একটু স্পর্শ করে ধন্য হতে চাই। তুমি তো বললে ওটা পবিত্র।'
রাজকন্যা হেসে বললো, 'তুমি তো বিশ্বাস করছিলা না। তবুও এটা স্পর্শ করতে চাও কেন?'
ডাইনি বললো, 'মজা করছিলাম দিদিভাই, দেবে একটু?
'কেন দিবো না, তবে একটা শর্ত আছে।'
'কী শর্ত?'
'আব্বিজান যেন জানতে না পারে।'
ডাইনিটা হাহা করে হাসতে লাগলো। এমন বিদঘুটে হাসি দেখে রাজকন্যার মুখ কালো হয়ে গেল, 'এভাবে হাসছো কেন?'
'তোমার কথা শুনে রাজকন্যা মায়াবতী। আমি তো এখনি তোমাকে এটা দিয়ে দিবো, এতে তোমার আব্বিজান কেন জানবে!'
ডাইনির কথা শুনে রাজকন্যা তাকে বিশ্বস্ত দাসী মনে করে কবচটা খুলে হাত বাড়িয়ে দেয়। ডাইনি ভয়ে ভয়ে একটা ঝটকা মেরে ফেলে দেয়। রাজকন্যা অবাক হয় খানিকটা।
ডাইনি বলে উঠে, 'আহারে, পড়ে গেল।'
একথা বলা মাত্রই রাজকন্যাকে কবচহীন অবস্থায় পেয়ে খপ করে ধরে হাসতে থাকে। রাজকন্যা ভয়ে আব্বিজান আব্বিজান বলে চিৎকার দিতে থাকে।
রাজামশাই দৌঁড়ে আসেন। যতক্ষণে তিনি এসে পৌঁছান ততক্ষণে রাজকন্যা মায়াবতীকে নিয়ে ডাইনি রিকা আকাশে উঁড়াল দিয়েছে।
মেঝেতে জ্বলজ্বল করে তখনো কবচটা জ্বলছিলো। রাজকন্যাকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে রাজামশাই কাঁদতে লাগলেন।
সভাসদগণও রাজার এমন অবস্থায় চোখের পানি ফেলতে লাগলো। এত বছর হয়ে গেল রাজপুত্রকে হারানোর, এবার হারালেন রাজকন্যাকে।
.
রাজামশাই হাজার হাজার সৈন্য প্রস্তুত করছেন। তাতাকুয়া জঙ্গলে আক্রমন চালাবেন বলে। রাজ মনিষী থাকলে হয়তো কিছু উপায় বের করতো, তাও তো তিনি নেই।
রাজকন্যা, রাজপুত্র দু'জনই বন্দি।
রাজামশাই হাজার হাজার সৈন্য নিয়ে তাতাকুয়া জঙ্গলের সবটা ভালোভাবে খুঁজে দেখলেন।
নাহ! কোথাও কোনকিছুর অস্তিত্ব নেই। এত বড় জঙ্গলে ১০দিন খুব ভালোভাবে খুঁজলেন, না কোথাও কোন ঘরের খড়কুটোও নেই।
অবশেষে পরাজিত বেশে তাতাকুয়া জঙ্গল থেকে ফিরে আসলেন। ডাইনি রিকা রাজার এই কর্মকান্ড দেখো হাহা করে হাসছেন। অবশেষে রাজা তার কাছে পরাজিত হলো।
রাজামশাই ফিরে গেছেন রাজপ্রাসাদে। বিষণ্ণতার ছাপ সারা দেহে।
এদিকে রাজপুত্র বিজয়রাজের খাঁচার পাশে নতুন একটা খাঁচার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে ঘুমিয়ে রয়েছে একজন রাজকন্যা।
রাজপুত্র বিজয় মেয়েটাকে ডাকে নি। পাখি রাজপুত্রেরও গত দশদিন থেকে কোন খবর নেই। বেশ চিন্তায় রাজপুত্র বিজয়।
হাহা করে হাসতে হাসতে ডাইনি রিকা চলে আসলো। রাজকন্যার ঘুম ভাঙালো। রাজকন্যা ঘুম থেকে উঠে ডাইনিকে ধিক্কার জানাতে লাগলো।
ধিক্কার শুনে আরো জোরে জোরে হাসতে থাকে ডাইনি। অতঃপর খাবারের খোঁজে চলে যায়।
রাজকন্যা মায়াবতী রাজপুত্র বিজয়রাজের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে দু'জনে কত বছরের চেনা।
রাজপুত্র বিজয়রাজ মেয়েটাকে বললো, 'কে তুমি?'
ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে বললো, 'আমি! আমি......!
'ও মায়াবতী বন্ধু! তোমার ছোট বোন।' কোথা থেকে যেন উঁড়ে আসলো পাখি রাজপুত্র।
অবাক হয়ে বিজয়রাজ বললো, 'আমার বোন!'
'হ্যাঁ তোমার বোন মায়াবতী। ডাইনি ওকেও ধরে এনেছে। তোমাকে তো বলেছিলাম, ডাইনির কাজ সমাধা করতে হলে মায়াবতীকেও লাগবে।'
এত বছর পর বোনকে দেখা মাত্র চোখে পানি চলে আসে রাজপুত্র বিজয়রাজের।
মায়াবতী বলে উঠে, 'ভাইজান, তুমি কেমন আছো?'
হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠে রাজপুত্র বিজয়, 'তোদের ছাড়া কেমন থাকি বল? সেই যে ছলনা করে ডাইনি ধরে এনেছে, তারপর থেকেই তো ডাইনির কব্জায়। আব্বিজান, আম্মিজান কেমন আছে মায়াবতী?'
'তোমাকে হারিয়ে আম্মিজান বিছানায় শায়িত। আব্বিজান তো প্রজাদের নিয়ে ব্যস্ত। তবুও তোমার চিন্তায় শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।'
মায়াবতীর কথা শুনে পাখি রাজপুত্র বললো, 'আমি বরং এখন যাই, আমার অনেক কাজ পড়ে আছে। রাজকন্যা মায়াবতী ডাইনিকে কখনোই আমার কথা বলবে না। না হলে বিপদ আছে। তোমার ভাইজানের কাছে শুনে নিও। আমি গেলাম বন্ধু।'
পাখি রাজপুত্র উঁড়তে লাগলো। বিজয়রাজ হাত নেড়ে তাকে আপাতত বিদায় জানালো।
(চলবে)
.
রুপকথার গল্প: বুদ্ধিমতী লীলাবতী
পর্ব: ৬
লেখা: সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
.
.
প্রথমে রাজপুত্র, তারপর রাজকন্যা মায়াবতীকে হারিয়ে রাজা প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছেন। রাণী তো আগের মতন বিছানায় শায়িত অবস্থায় চোখের পানি ফেলছেন। কোন পথ খুঁজে পাচ্ছেন না রাজা খালেকরাজ। চিন্তামগ্ন অবস্থায় ছাদে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন।
জীবনে কী এমন ভুল করেছেন যার জন্য এত বড় শাস্তি পেতে হচ্ছে!
হঠাৎ কী যেন মনে হলো। ছাদ থেকে নিজের ঘরে এসে রাজ পোশাক ত্যাগ করে সাধারণ পোশাক পরিধান করে গায়ের উপরে চাদর জড়িয়ে নিলেন। সকলের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বেড়িয়ে পড়লেন এমন ব্যক্তির কাছে যার সাথে জীবনের বড় অন্যায় করেছেন।
হাঁটতে হাঁটতে একটা কুঁড়ে ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালেন। ডাকবেন কী ডাকবেন না, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলেন। অনেক ভেবে চিন্তায় ভিতরে থাকা মানুষটাকে আর ডাকলেন না।
চোখের জল মুছে ফিরে যেতে লাগলেন। এমন সময় পিছন থেকে ডাক আসলো, 'দাঁড়ান, কে আপনি?'
রাজা খালেকরাজ পিছনে ফিরে তাকাতে চাইলেন না। পিছনে না দেখে আবারো হাঁটতে লাগলেন।
পিছন থেকে আবারো আওয়াজ আসলো, 'কে আপনি? দয়া করে দাঁড়ান। এভাবে চলে যাচ্ছেন কেন?'
রাজা খালেকরাজ এবার পিছনে ফিরে তাকালেন। সাদা শাড়ী পরিহিতা একজন মহিলা দাঁড়িয়ে।
মহিলা ও রাজা দু'জনই আশ্চর্য হয়েছেন। রাজামশাই আশ্চর্য হয়েছেন মহিলাকে সাদা শাড়ী পরা দেখে, অপরদিকে মহিলা আশ্চর্য হয়েছেন রাজামশাইকে তার কুঁড়ে ঘরে আসতে দেখে, তাও এতদিন পর।
রাজামশাইয়ের চোখ থেকে পানি ঝরছে। সাদা শাড়ী পরিহিতা মহিলা চোখে অশ্রুকণা নিয়ে এগিয়ে আসলেন, 'ভাইজান, আপনি এখানে?'
সাদা শাড়ী পরিহিতা মহিলার নাম রাজিয়া। রাজামশাই খালেকরাজের ছোট বোন। সব সম্পদ একাই ভোগ করবে বিধায় বোনকে তাড়িয়ে দিয়েছিলো ৩৫ বছর আগে।
আজ ৩৫ বছর পর বোনকে দেখলেন রাজা খালেকরাজ। তাও আবার সাদা শাড়ী পরিহিতা অবস্থায়।
মন্ত্রীর ছেলেকে বিয়ে করার অপরাধে বাড়ি রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দিয়েছিলেন তিনি।
কাঁদো কাঁদো স্বরে বললেন, 'হ্যাঁ রে, তোর হতভাগা ভাইজান।'
রাজিয়া খুব দ্রুত রাজামশাইয়ের কাছে এসে বললো, 'ভাইজান, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবেন? আমার কুঁড়ে ঘরের ভিতরে আসবেন না?'
চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন, 'হ্যাঁ, যাব রে। কেন যাবো না? আমাকে আর অপরাধী করিস না বোন।'
কথাটা বলতে বলতে ছোট্ট কুঁড়ে ঘরের ভিতরে গেলেন রাজামশাই খালেকরাজ।
ঘরটা ছোট্ট হলেও বেশ সাজানো গোছানো। রাজামশাইয়ের পাশে বসলেন রাজিয়া। রাজিয়াকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, একদিন এই ভাইজানই তাকে রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
রাজামশাই কোন কথা বলছেন না। রাজিয়া এক গ্লাস পানি এনে দিয়ে বললো, 'ভাইজান, আপনি খুব তৃষ্ণার্ত। পানিটুকু পান করে নিন।'
রাজামশাই পানিটুকু ঢকঢক করে পান করে বললেন, রাজিয়া, তুই রাজপ্রাসাদর ফিরে চল।'
সশব্দে রাজিয়া হেসে হেসে বললেন, 'আজ হঠাৎ কেন ভাইজান? ৩৫ বছরে আজকে বলতে এলে!'
মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ কি যেন ভাবলেন। রাজিয়া বলে উঠলেন, 'ভাইজান, ঘরে কিছু নেই। কিছু বাতাসা আর গুড় আছে, দিবো?'
'না রে ছোট, আমি আর কিছু খাবো না। খাবার তো আমার কপাল থেকে উঠে গেছে।'
'কেন ভাইজান?'
রাজা খালেকরাজ আস্তে আস্তে সব খুলে বললেন। কথাগুলো বলার সময় কাঁদছিলেন রাজামশাই।  রাজিয়া কথাগুলো শুনে বললেন, 'নিশ্চই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন ভাইজান। তার উপর ভরসা করুন, তিনি আপনাকে বিমুখ করবেন না।'
'আমাকে অন্তত ক্ষমা করে দে বোন। তোকে তাড়িয়ে দিয়ে সব থেকে বড় ভুল করেছি জীবনে। আমার সাথে ফিরে চল রাজপ্রাসাদে।'
'ভাইজান, আমি এখানেই ভালো আছি। তুমি শুধু আমার জন্য দোয়া কর, তাতেই হবে। তোমার উপর আমার কোন রাগ নেই।'
'কিন্তু তোর গায়ে সাদা শাড়ী!'
রাজার আশ্চর্যমূলক কথা শুনে একটু মুখ কালো করলেন রাজিয়া, 'আমার কপালের দোষ ভাইজান, মেয়েটার যখন বয়স দশ, তখনি তিনি আমাকে একা রেখে চলে গেলেন।'
'তোর মেয়ে আছে! ডাক একটু দেখি।'
'ওকে বাড়িতে পাওয়াই যায় না। কোথায় যেন গেছে।'
'কী নাম ওর?'
'লীলাবতী'
'পরেরবার আসলে দেখবো। আজ যাই রে। আমার জন্য দোয়া করিস। আর পারলে আমাকে ক্ষমা করিস।'
কথাগুলো বলে বোনকে বুকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ কাঁদলেন রাজামশাই। তারপর আস্তে আস্তে চোখ মুছতে মুছতে চলে গেলেন।
এতক্ষণ ঘরের আড়ালে দাঁড়িয়ে সব কথা শুনছিলো লীলাবতী। রাজা চলে যাবার পর ঘরে ঢুকলো সে।
মাকে জিজ্ঞেস করলো, 'মা উনি!'
'রাজামশাই, তোর মামা।'
'আমার মামা?'
'হ্যাঁ, তোর মামা।'
'কেন এসেছিলেন তিনি?'
মেয়েকে সব কথা খুলে বললেন রাজিয়া। অনেক নতুন-পুরাতন কথা শুনে কিছুটা আশ্চর্য হলো লীলাবতী।
মায়ের কথা শুনে লীলাবতী বলে উঠলো, 'তাহলে কি বিজয়রাজ আর মায়াবতীকে ডাইনি রিকা বলি দেবে মা?'
চিন্তামগ্ন হয়ে রাজিয়া উত্তর দিলো, 'আল্লাহ চাইলে দিতে পারবে না। বর্তমান তিনিই একমাত্র সম্বল।'
লীলাবতী অনেকদিন পর মায়ের মুখের এক কোণে একটু হাসি দেখেছে। তাও বিলীন হয়েছে রাজামশাইয়ের দুর্দিনের কথা শুনে।
লীলাবতী ভাবতে লাগলো কিভাবে মায়ের মুখে হাসি ফেরানো যায়?
.
সারারাত ঘুমাতে পারলো না লীলাবতী। শেষরাতের দিকে চোখটা একটু লেগে আসছে ওমনি কার যেন কান্নার শব্দ ভেসে আসে তার কানে। চোখ খুলে বুঝতে পারলো এ তার মা।
কুপির আবছা আলোতে বোঝা যাচ্ছে মায়ের চোখ থেকে পানি ঝরঝর করে ঝরছে। রাজিয়া তার ভাইয়ের সমস্যা সমাধানের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন।
লীলাবতী মিথ্যা হাসি হেসে ভাবলো, 'হায়রে রাজামশাই!  যাকে আপনি রাজপ্রাসাদ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন সে আজ সব ভুলে আপনার জন্য শেষরাতে মুনাজাতে কাঁদছে।'
মায়ের চোখে কান্না দেখে লীলাবতীও নিশ্চুপভাবে কেঁদে ওঠে।
সকালের সূর্য ফুটতে ধরলে লীলাবতী মাকে জিজ্ঞেস করে, 'মাগো একটা কথার জবাব দিবা?'
উনুনে আগুন জ্বালাতে জ্বালাতে রাজিয়া বলে উঠলো, 'কিসের জবাব লীলাবতী?'
'রাজামশাই তোমার সাথে এত বছর অন্যায় করা সত্ত্বেও তাকে তুমি ক্ষমা করে দিলে কেন? তার জন্য তাহাজ্জুদের নামাযে কাঁদলে কেন?'
রাজিয়া মনে মনে ভাবতে লাগলো তার মেয়ে তাহাজ্জুদ নামায পড়ার সময় তাহলে সবটা শুনেছে। তাই তিনি আর লুকালেন না, বললেন- 'ক্ষমা একটি মহৎ গুন। যে ব্যক্তি মানুষকে ক্ষমা করবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। তাছাড়া উনি তো আমার ভাইজান, নিজের রক্তকে এভাবে ফিরিয়ে কিভাবে দেই বল।'
মায়ের কথায় কিছু বলার অবকাশ থাকে না লীলাবতীর। ঝুড়ি নিয়ে ফুল তুলতে রওয়ানা হয়। মনের মাঝে অনেক সংশয়।
রাজপুত্র বিজয়রাজ ও রাজকন্যা মায়াবতী ডাইনির কবল থেকে বাঁচবে তো? ইতিমধ্যে রাজামশাই সৈন্য নিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। আকাশের তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করে তাকে পথ বাতলে দেয়ার জন্য বললো সে।
মায়ের বিষণ্ণ মুখে হাসি ফুটাতে পারে কেবল রাজামশাইয়ের মুখে হাসি ফুটলে। হয়তো মা তার ভাইজানকে আঁকড়ে ধরে আবারো বাঁচতে চায়।
লীলাবতী ফুল তুলে খুব দ্রুত ফিরে আসলো। এই প্রথমবার নিজে নিজে একটা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে।
সে একাই যাবে তাতাকুয়া নামক ভয়ঙ্কর জঙ্গলে। ফিরিয়ে আনবে রাজপুত্র আর রাজকন্যাকে।
মাকে জোরে জোরে ডাকতে থাকে। রাজিয়া ঘর থেকে বলে উঠেন, 'এভাবে ডাকতেছিস ক্যান লীলাবতী?'
'মাগো আমি সইদের সাথে ঘুরতে যাচ্ছি। তুমি চিন্তা করো না, আমি ভালো থাকবো।' বাড়ি থেকে মিথ্যা কথা বলে তাতাকুয়া জঙ্গলের দিকে রওয়ানা দেয় লীলাবতী।
মিথ্যা কথা না বললে হয়তো রাজিয়া বেগম তাকে এই ভয়ঙ্কর কাজের জন্য পাঠাতে চাইতো না।
লীলাবতী হাঁটছে তো হাঁটছে। মনে মনে বুদ্ধি আঁকছে। কিন্তু আজ যেন বুদ্ধি ধরাই দিচ্ছে না।
এমনিতে দুষ্টু বুদ্ধিতে মাথা গিজগিজ করে। আজ যেন বুদ্ধিরা ছুটি নিয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে রাজপ্রাসাদ সামনে আসে।
রাজপ্রাসাদ দেখে হঠাৎ কি যেন মনে হলো। লীলাবতী রাজপ্রাসাদে রাজামশাইয়ের সাথে দেখা করতে চাইলো। কিন্তু প্রহরীরা কোনক্রমেই ঢুকতে দিচ্ছে না।
কয়েকটা মোহরের বিনিময়ে রাজার সাথে দেখা করার সুযোগ পেলো সে।
'রাজামশাই, একটা মেয়ে আপনার সাথে দেখা করতে চায়।' প্রহরীর কথায় রাজামশাই তাকে পাঠাতে বলেন।
লীলাবতী রাজামশাইয়ের দরবারে প্রবেশ করেই সালাম প্রদান করে বলে, 'যদি একান্তে কথা বলার সুযোগ পেতাম তাহলে খুব উপকার হতো রাজামশাই।'
রাজা খালেকরাজ অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো, 'কে তুমি? হঠাৎ একান্তে কথা বলতে চাও কেন?'
মুচকি হেসে পরিচয় গোপন করলো লীলাবতী, 'জ্বী মহারাজ আমি ছদ্মবেশিনী। আপাতত এটাই আমার পরিচয়। যদি একান্তে কথা বলার সুযোগ দেন তাহলে খুব উপকার হতো।'
রাজ দরবার থেকে উঠে পাশের কামরায় লীলাবতীকে নিয়ে গেল।
লীলাবতী রাজাকে সবটা বুঝিয়ে শুধু একটা জিনিষ আবদার করলো। রাজামশাই অনেকটা অবাক হলে তার মেয়ের বয়সের একটা মেয়ের সাহস দেখে। যে কিনা ডাইনি রিকার সাথে লড়তে সাহস করেছে।
রাজামশাইয়ের সাথে কথা শেষ করে প্রয়োজনীয় জিনিষটা আদায় করে নিয়ে সফরের পথে হাঁটা দিলো লীলাবতী।
কয়েক কদম হাঁটা দিয়ে পিছনে ফিরে রাজামশাইয়ের কাছে মিনতি করে বললো, 'যদি কিছু মনে না করেন, তাহলে আরেকটা জিনিষ চাইবো, দিবেন?'
রাজামশাই বললেন, 'বলো।'
মুচকি হেসে লীলাবতী বললো, 'নিজের মেয়ের মতন মনে করে যদি মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দিতেন তাহলে খুশি হতাম। শুনেছি গুরুজনদের দোয়া কবুল হয়।'
লীলাবতীর কথা শুনে আনন্দে চোখে জল এলো রাজামশাইয়ের।
খুশি হয়ে মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দিলেন। বিদায়বেলা কাঁদতে মানা, তাই লীলাবতী চুপ করে হনহন করে হাঁটা দিলো।
রাজপ্রাসাদের বাইরে বের হতেই পাখি রাজকুমার উঁড়তে উঁড়তে ছুটে এলো। এতক্ষণ রাজা ও লীলাবতীর কথাবার্তা সে চুপিচুপি শুনেছে।
পাখি রাজপুত্র বলে উঠলো, 'লীলাবতী, শোনো।'
পাখির মুখে নিজের নাম শুনে খানিকটা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো লীলাবতী। প্রশ্ন করলো, 'কে তুমি? আমার নাম জানলেই বা কি করে?'
পাখি রাজপুত্র মিষ্টি হেসে বললো, 'আমি জানি গো বুদ্ধিমতী লীলাবতী।'
'বুদ্ধিমতী!'
'হুম লীলাবতী, এতদিন থেকে রাজবাড়ীর আশেপাশে ঘুরছি তবুও তোমার মতন একটা বুদ্ধি আমার মাথায় আসেনি। আমি তোমাকে সাহায্য করতে চাই। কারণ ডাইনি রিকার সাথে জড়িয়ে আছে আমার জীবন-মরণ।'
পাখি রাজপুত্রের কথাগুলো শুনে খুব অবাক হয়ে থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো লীলাবতী।
(চলবে)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ