রুপকথার গল্প: বুদ্ধিমতী লীলাবতী
লেখা: সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
পর্ব:৩
.
.
রিকা ডাইনি রাজপুত্রকে তাতাকুয়া জঙ্গলে নিয়ে আসলো। বিজয়রাজের এখনো ঘুম ভাঙ্গেনি। নিজের স্বরুপ পরিবর্তন করে খালেদা দাসীর রুপ ধারণ করলো যাতে রাজপুত্রকে ভুলিয়ে রাখা যায়।
কিছুক্ষণপর রাজপুত্রের ঘুম ভাঙ্গলো। ঘরে নিজেকে একলা পেয়ে আম্মিজান আম্মিজান বলে চিৎকার করতে লাগলো।
রাজপুত্রের চিৎকার শুনে ডাইনি খুব দ্রুত দাসীর রুপে ফিরে আসলো, 'কী হয়েছে দাদুভাই?'
ভয়ার্ত চোখে রাজপুত্র বলে উঠলো, 'দিদিমা, আমি একলা ঘরে কেন? আমি রাজপ্রাসাদে ফিরতে চাই।'
মুচকি হেসে ডাইনি বললো, 'তোমাকে আমি নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসেছি রাজপুত্র। তোমার আব্বিজান, আম্মিজানকে এক রাক্ষসী ধরে নিয়ে গেছে। তোমাদের রাজ্য ধ্বংশ করে দিয়েছে।'
ডাইনির মিথ্যা প্রলাপ শুনে জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো রাজপুত্র বিজয়। ডাইনি রিকা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখলো। রাজপুত্রকে ঘুম পাড়িয়ে রাজকন্যাকে আনার বন্দোবস্ত করতে লাগলো ডাইনি।
হাতে এখনো ঢের সময় বাকি। ১৫ বছর পর সেই কাঙ্খিত দিনটি আসবে। যেদিন ডাইনি রিকা মহারাজ খালেকরাজের দুই সন্তানকে হত্যা করে তার বোনকে বাঁচিয়ে তুলবে। তারপর দু'বোন মিলিত হবে মহা আনন্দে।
সেই দিন আসা অবধি তাকে অপেক্ষা করতে হবে। রাজপুত্রকে ভুলিয়ে সেখানেই বড় করতে হবে। কোনক্রমেই যেন রাজপুত্র টের না পায়।
রাজপুত্রকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিভিন্নরকম ফল ফলাদি এনে দিতো ডাইনি। ঘরের আশেপাশে সুন্দর সুন্দর ফুলের বাগান করে দিয়েছিলো যাতে এখানে থাকতে কোনরুপ অসুবিধা না হয়।
তবুও রাজপুত্র যেন একা! বড্ড একা।
সারাদিন একা একা থাকলে তার ভালো লাগে না। ডাইনি সেই সকালে বের হয়ে যায়, আর ফিরে আসে রাতে। আসার সময় নিয়ে আসে বিভিন্নরকম খাবার।
তাতাকুয়া জঙ্গল এতটাই গভীর ছিলো যে যেখানে কোন পশু অবধি আসে না। আশেপাশের রাজ্যের মানুষ জানতো এই জঙ্গল সম্পর্কে। সেজন্য কেউই আসতো না।
দুই ডাইনি রিকা ও রাকার খবর সম্পর্কে সকলেই অবগত। রাকা জেগে থাকার সময় কত অঘটন না ঘটিয়েছে জঙ্গলের আশেপাশের রাজ্যে।
কত মানুষের রক্ত পান করেছে, কত মানুষকে হত্যা করেছে তার ইয়ত্তা নেই।
বেশ কয়েকবছর থেকে মানুষেরা একটু শান্তিতেই বাস করছে। তবুও রক্তের নেশায় মাঝে মাঝে গ্রামে ঢুকে পরে রিকা ডাইনি। মানুষ না পেলে গরু, ছাগল ধরে আস্ত গিলে ফেলে।
হাতের কাছের বড় শিকারকে আস্তে আস্তে বড় করে তুলছে মহা উৎসবের জন্য। যেদিন শক্তিশালী, তেজি রাজার সন্তানদ্বয়ের রক্ত পানের পর উৎসর্গ করা হবে শয়তানের রাজার সমীপে।
.
রাজা খালেকরাজ সৈন্যসামন্ত তৈরি করছেন। হাজার হাজার সৈন্য যোগ হচ্ছে দলে। কেউ কেউ স্বেচ্ছায় যোগ দিচ্ছে। সকলের মুখে একটাই বুলি, 'রাজপুত্রতে ডাইনির হাত থেকে উদ্ধার করতে হবে।'
রাজার পাগলামো দেখে রাজ মনিষী ছুটে আসলেন। রাজ মনিষীকে হাঁপাতে দেখে রাজামশাই বললেন, 'কী খবর রাজ মনিষী, এভাবে হাঁপাচ্ছেন কেন?'
রাজ মনিষী বললেন, 'আপনি একটু শান্ত হোন ধীমান রাজা। এত পাগলামো করলে চলবে না। আপনাকে শান্ত হতে হবে। আপনি এত সৈন্য নিয়ে কোথায় যাবেন? তাতাকুয়া জঙ্গলের কোথায় খুঁজবেন? তাছাড়া এত লোকসংখ্যা দিয়েও একজন ডাইনির সাথে আপনি পেরে উঠবেন না। কারণ তার মায়া শক্তি আছে।'
উত্তেজিত কণ্ঠে রাজামশাই বললেন, 'তাহলে আমি কি এভাবে বসে থাকবো মনিষী? আমার সন্তানকে ডাইনি নিয়ে গেছে। এরপর রাজকন্যাকেও নিয়ে যাবে, তখন কী করবো?'
রাজ মনিষী রাজাকে সান্ত্বনা দিতে লাগলেন, 'দেখুন রাজামশাই, শুধুমাত্র রাজপুত্রকে দিয়ে তাদের কাজ হাসিল হবে না, রাজকন্যাকেও লাগবে। এর জন্য তার নির্দিষ্ট সময় আছে। ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে, মাথা গরম করলে এর বিপরীত হতে পারে।'
রাজ মনিষীর কথা শুনে হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠলেন রাজামশাই। সৈন্যসামন্তদের বিদায় দিয়ে রাজামশাই বাগানবাড়ীতে বসে আছেন। চিন্তা করছেন, গভীর চিন্তা। কি জানি! রাজপুত্রকে ডাইনি রিকা কি অবস্থায় রেখেছে!
গত দু'দিন অতিক্রান্ত হয়ে যাবার পরও মুখে এক ফোঁটা দানা পানিও তুলেন নি তিনি।
রাণী ঝুমরতী তো অজ্ঞান অবস্থায় বিছানায় শায়িত। ঝুমরীর একটু ভুলের জন্য তাকে এত কষ্ট পেতে হচ্ছে। তবুও মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছেন না।
দোলনায় বসে অশ্রুসিক্ত চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। মনে মনে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকছেন, ভাবছেন, 'হে আল্লাহ! জীবনে কী এমন ভুল করেছি যার জন্য এত বড় শাস্তি দিচ্ছো?'
আজকে এত বড় দুঃসময়ে হঠাৎ একজনকে খুব বেশি মনে পড়ছে- তার বোন রাজিয়া।
রাজার বিশ্বাস হয়তো সে সবটা শুনেছে। কিন্তু তারপরও সে আসছে না। ভাইজান বলে বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে না। আসবেই বা কি করে? তিনি তো তাকে আসতে নিষেধ করেছেন।
এসব ভাবতে ভাবতে রাজ মনিষী এসে তাকে সালাম দিলেন। রাজামশাই চোখ থেকে পানির কণাগুলো মুছে বললেন, 'রাজ মনিষী আপনি?'
রাজ মনিষী বললেন, 'রাজামশাই আপনার বিশ্বস্ত দাসীদের বাদে সকলকে অপসারণ করুন।'
অবাক হয়ে রাজামশাই বললেন, 'কিন্তু কেন রাজ মনিষী?'
রাজ মনিষী বললেন, 'ডাইনি রিকা আবার আসবে, তার যে আরো একজনকে প্রয়োজন। তাকে আসতেই হবে। নতুনদের উচ্ছেদ করে দিন। নতুবা সে তাদের দলে ঢুকতে পারে।'
মাথা নাড়িয়ে রাজামশাই বললেন, 'আপনি যা বলছেন তাই হবে রাজ মনিষী।'
.
মন খারাপ করে বাগানে বসে আছে রাজপুত্র বিজয়। কত রঙের ফুল! তবুও যেন তার মনে কিছু অশান্তির ছাপ। আব্বিজান, আম্মিজান আর আদরের বোন মায়াবতীকে খুব মনে পড়ছে তার।
আশেপাশে কোন রাস্তাও নেই যে যেদিকে মন চায় সেদিকে চলে যাবে। ডাইনি রিকা জানে এরকম ছদ্মরূপ জঙ্গল থেকে কখনোই রাজপুত্র কোথাও যেতে পারবে না।
সেজন্য যেকোন কোথাও গিয়ে সে নিশ্চিন্ত। জঙ্গল যে কোথায় শেষ হয়েছে কেউই বলতে পারে না।
দিন কাটতে চায় না, তবুও প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী দিন আসে দিন চলে যায়।
রাজপুত্র একদিন বাগানে বসে আপন মনে কাঁদছিলো। কাঁদতে কাঁদতে তার চোখ ফুলে যাবার উপক্রম। হঠাৎ কিচিরমিচির শব্দ শুনে চুপ করে রইলো।
বাহ! একটা সুন্দর পাখি!
বাগানের ফুলগাছের ফুলে বসে ড্যাবড্যাব করে রাজপুত্রের দিকে তাকিয়ে আছে।
রাজপুত্র এতদিন পর অন্তত একটা জীবকে দেখে ভীষণ খুশি হলো।
পাখিটা জিজ্ঞেস করলো, 'কে গো তুমি? কাঁদছো কেন?'
রাজপুত্র উত্তর দিলো, 'আমি শান্তিপুরের রাজপুত্র। আমার আব্বিজান, আম্মিজানকে ডাইনিরা ধরে নিয়ে গেছে, আমাদের রাজ্য ধ্বংশ করে দিয়েছে তারা। তাই তো দিদিমা আমাকে এখানে নিরাপদে রেখেছে। কিন্তু আব্বিজান আর আম্মিজানকে খুব মনে পড়ছে, তাই কাঁদছি।'
পাখিটা চারপাশটা ভালো করে দেখে মনে মনে ভাবলো, 'যাক ডাইনিটা তাহলে নেই। নিশ্চই ভুলভাল বুঝিয়ে রাজপুত্রকে আঁটকে রেখেছে। তবে সবটা এখন বলা ঠিক হবে না। এখনো রাজপুত্র ছোট, ভয় পেতে পারে।'
সবকিছু ভেবে পাখিটা বললো, 'মন খারাপ করো না বন্ধু। সবঠিক হয়ে যাবে।'
খুশিমনে রাজপুত্র বলে উঠলো, 'বন্ধু! তুমি আমার বন্ধু হবে?'
পাখিটা বলে উঠলো, 'অবশ্যই হবো রাজপুত্র।'
'তুমি আমার সাথে খেলবে?'
'খেলবো তো, তবে একটা শর্ত আছে।'
'কী শর্ত?'
'আমি যে এখানে এসেছিলাম তা যেন তোমার দিদিমা না জানে।'
'ঠিক আছে মিষ্টি পাখি।'
'তুমি আমাকে বন্ধু বলেই ডাকতে পারো।'
'ঠিক আছে বন্ধু।'
অনেকদিন পর রাজপুত্র বিজয় খেলার,কথা বলার মতন একজন সাথী পেল। আজ সে অনেক মজা করেছে, প্রাণ খুলে হেসেছে। বন্ধুটা খুবই মিষ্টি আর রসিক।
পাখি হলেও মানুষের মতন তার হৃদয়। মমত্ববোধ, ভালোবাসাবোধ সবকিছু দিয়ে দু'জন দু'জনার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে যাতে কাকপক্ষীও এ সম্পর্কের কথা টের না পায়।
(চলবে)
রুপকথার গল্প: বুদ্ধিমতী লীলাবতী
পর্ব: ৪
লেখা: সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
.
.
রাজপুত্র বিজয়রাজ পাখি বন্ধুটির সাথে সারাটাদিন সময় কাটায়। কথা বলে, হাসে, খেলে। পাখিটিও সবসময় রাজপুত্রের সঙ্গ দেয় যাতে কোনক্রমেই রাজপুত্রের মন খারাপ না থাকে।
ডাইনি রিকা রাজপুত্রের সাথে সবসময় ভালো আচরণ করে আসছে। যাতে অন্যকোন সন্দেহ না হয়। মাঝে মাঝে আব্বিজান ও আম্মিজানের জন্য মন কাঁদে রাজপুত্রের।
ডাইনির কাছে বায়না ধরেও কাজ হয় না।
সবাই যে যার মতন বেশ আছে।
রাজামশাই রাজপুত্রের চিন্তায় অনেকটা শুকিয়ে গেছেন। রাণী ঝুমরতী সবার সাথে কথা বলেন না। চুপচাপ থাকাটাই যেন তার বেশি পছন্দ।
মায়াবতীও আব্বিজান, আম্মিজানের আজব রকম অবস্থা দেখে সুখে নেই। যে যার মতন চিন্তা করলেও মায়াবতীর কথা ভাবার মতন সময় কারো নেই।
রাজামশাই মাঝে মাঝে মেয়ের খোঁজ নিলেও রাণী ঝুমরতী নিরবে কাঁদেন।
রাণীর এ অবস্থা দেখে রাজকুমারীর জন্য বিশ্বস্ত দাসী নিয়োগ করেন রাজামশাই। দাসী দেখাশুনা করে রাজকন্যার।
এত কিছুর মধ্যেও থেমে নেই ডাইনি রিকা। সবসময় ফন্দি আঁটলেও সব বিফলে যায়। মেজাজ তিরিক্ষি হলেও চুপচাপ থাকে। তার ধারণা ডাইনিরা এত উচ্ছৃঙ্খল হলে চলে না। তাদের উচিত উচ্ছৃঙ্খল না হয়ে ঠান্ডা মাথায় কাজ করে জয় ছিনিয়ে আনা।
রিকা ডাইনি সেটাই করছে। প্রায় প্রায় শয়তানের রাজার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে বুদ্ধি গ্রহণও করে। রাজা খালেকরাজের দুই সন্তানদের রক্ত ভাগ তাকে দিবেন বলে আশ্বস্ত করে।
ডাইনি রিকা চুপচাপ গাছের ডালে বসে চিন্তা করছে কী করে রাজকন্যাকে বশে আনা যায়। বশে আনতে হলে তো অবশ্যই কবচ খুলে ফেলতে হবে।
কিন্তু কবচ খুলবে কেমন করে? রাজপুত্রের কাজটাও পাঁচ বছর ধরে লেগে থাকার পর সমাধাণ করতে পেরেছে। সেদিনের কথা মনে হতেই নিজেকে ধিক্কার দিতে থাকে সে।
ছোট্ট একটা ভুলের কারণে আরো ১৫ বছরের অপেক্ষা!
সেদিনই যদি আসল চেহারা প্রথমে না বের করে রাজকন্যাকে রাজপুত্রের মতো বশে আনা যেত তাহলে হয়তো এত কষ্ট করতে হতো না।
শুধুমাত্র কষ্ট ছাড়াই ২০ বছরের অপেক্ষায় থাকতে হতো। ডাইনি ডালে বসে কী যেন ভাবছে। একটা পরিকল্পনা মনে মনে কষছে এমন সময় তার ভাবনায় ছেদ পড়লো ছোট্ট একটা পাখির কিচিরমিচির শব্দে।
পাখিটাকে তাড়া করতে গিয়ে পুরো পরিকল্পনাটাই ভেস্তে গেল। রাগে গিজগিজ করতে লাগলো ডাইনি রিকা।
.
১৪বছর পর........
কেটে গেছে অনেকটা দিন।
রিকা ডাইনি সেদিন থেকে আজ অবধি বিশ্বস্ত দাসীর নিকট থেকে রাজকন্যাকে ধরে আনতে পারে নি। বহুবার সুযোগ পেলেও ব্যর্থ হয়েছে রীতিমতো।
এদিকে রাজপুত্রের বন্ধু পাখিটা আজ মন খারাপ করে বসে আছে। রাজপুত্র তার মন খারাপ দেখে বলে উঠলো,
'বন্ধু, তুমি এভাবে মন খারাপ করে বসে আছো কেন? আজ খেলবে না? কথাও তো ঠিকমতো বললে না।'
পাখিটা বললো, 'বন্ধু, তোমাকে কিছু কথা বলা দরকার। যা তোমার জন্য জানা জরুরী।'
অবাক হয়ে রাজপুত্র বললো, 'কিন্তু বন্ধু, কী এমন জরুরী কথা যার জন্য তোমার এত মন খারাপ?'
পাখিটা বললো, 'তুমি হয়তো আমাকে অবিশ্বাস করবে।'
'তুমি আমার বন্ধু, অনেক বিশ্বাস করি তোমাকে।'
'তুমি যাকে দিদিমা বলে ডাক সে আসলে মানুষ নয়, সে ডাইনি। তোমার আব্বিজান, আম্মিজান সবাই বেঁচে আছেন। তোমাদের রাজ্য ধ্বংশ হয়ে যায় নি। ডাইনি তোমাকে মিথ্যা বলেছে।'
পাখির কথাগুলো শুনে চুপসে গেল রাজপুত্র। এ যেন রুপকথার গল্প শুনছে। অবাক হয়ে বললো, 'বন্ধু তুমি কী বলছো এসব?'
'যা বলছি সব সত্যি বলছি। আরো অবাক হওয়ার মতন গল্প আছে রাজকুমার। ডাইনি তোমাকে ধরে এনেছে তোমার ২০বছর পূর্ণ হবার দিন বলি দেয়ার জন্য। শুধু তোমাকে নয়, তোমার ছোট বোন মায়াবতীকেও ধরে আনবে। তোমাদের বলি দেয়া রক্ত পান করলে তার আরেক বোন রাকা জীবিত হয়ে উঠবে।'
'বলি দেবে! কী বলছো বন্ধু! দিদিমা আমাকে অনেক আদর করে।'
'যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে তোমাদের ঘরের পিছনের ঘরটায় যাও। মাটি খুঁড়লে একটা গর্ত পাবে, সেখানে কফিনে করে তার বোনের লাশ আছে।'
'কিন্তু দিদিমা তো আমাকে ওই ঘরে যেতে বারণ করেছে।'
'এ কারণেই বারণ করেছে রাজপুত্র।'
ডাইনির বারণ সত্ত্বেও খুব দ্রুত পাখিটাকে নিয়ে পিছনের ঘরে গেল। সত্যি সত্যি একটা লাশ!
যার পচন এখনো ধরেনি, তরতাজা!
সবটা ঠিকঠাক দেখে রাজপুত্র বিজয় বললো, 'কিন্তু তুমি এসব জানো কেমন করে?'
হিহি করে হেসে পাখিটা বললো, 'আমিও তোমার মতন হতভাগা। রাকা ডাইনির যাদুকরী মন্ত্রে আজ আমি পাখি। আমার রাজ্য ধ্বংশ করে দিয়েছে। আমি বিক্রমপুরের রাজার ছেলে মীর খান। যেদিন থেকে জানতে পারলাম আমি আবারো আগের মতন হতে পারবো ডাইনি দু'টো মরলে, সেদিন থেকে তার আশেপাশেই ঘুরি। তারপর তোমাকে দেখে তোমার ব্যাপারে সবটা খোঁজ নেই। এতদিন তোমাকে বলি নি তুমি ছোট ছিলে বলে।'
সবটা আবছা লাগছে রাজপুত্র বিজয়রাজের কাছে। এ কি শুনছে সে!
সব থেকে বড় আদ্ভুত লাগছে মীরের পাখি হবার কথা শুনে। আহা! রাজপুত্র মীর পাখি হয়ে কতই না কষ্টে আছে।
বিজয় বললো, 'তাহলে আমি কি করবো বন্ধু?'
মীর বললো, 'তোমাকে আমি দু'টো পাথর দিচ্ছি। খুব সাবধাণে ডাইনির দু'চোখে দু'টো পাথর রেখে দিবে। এতে সে অন্ধ হয়ে যাবে। তারপর তাকে মারতে বেশ সুবিধাই হবে।'
ডাইনি রিকাকে মারার পথ বের করে দিলো রাজপুত্র মীর। খুব ভয় করছে রাজপুত্র বিজয়।
.
আগে দিনশেষে পাখি রাজপুত্র চলে যেত, আর দু'দিন থেকে রাতেও থাকে। তবে খুব সাবধাণে। আজও সে রাজপুত্রের ঘরে লুকিয়ে আছে। জীবনের বড় পরীক্ষা আজ!
রাজপুত্র বিজয় খুব সাবধাণে পাথর দু'টো হাতে করে ডাইনির ঘরে প্রবেশ করে তার খুব কাছাকাছি হয়।
সদ্য ঘুমানো ডাইনিটা হয়তো ঘুমের ঘোরে খেলছে। রাজপুত্র এই সুযোগ যেই পাথর দু'টো রাখতে যাবে ওমনি হাত দু'টো খপ করে ধরে ফেলে ডাইনি রিকা।
এতক্ষণে ঘেমে গেছে রাজপুত্র। ডাইনি রিকা বললো, 'বিজয় হাতে ও দু'টো কী?'
ভয়ার্ত কণ্ঠে বিজয় বললো, 'কিছুনা দিদিমা?'
ভীষণ রেগে হাত থেকে পাথর দু'টো ছিনিয়ে নিয়ে বললো, 'তুই আমাকে মারতে চাস? পারবি না খালেকরাজের পুত্র বিজয়রাজ। তোকে আমি তো বলি দিবো।'
এ কথা বলে হাহা করে হাসতে লাগলো ডাইনি রিকা। অতঃপর রাজপুত্র বিজয়কে বড় একটা খাঁচায় বন্ধ করে রাখলো, 'আমি আজকে মনে মনে ভেবেছিলাম তুই হয়তো সবটা জেনেছিস। কারণ পিছনের ঘরে গিয়েছিলি। এজন্য তোকে কেউ একজন সাহায্য করেছে। এই পাথর দু'টোও দিয়েছে। কে দিয়েছে ভালোয় ভালোয় বলে দে।'
কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে রাজপুত্র বিজয় বললো, 'আমাকে মেরে ফেললেও বলবো না। তুমি আমার সাথে বেঈমানী করেছো।'
হুংকার ছেড়ে ডাইনি বললো, 'বেঈমানী তো তোর বাপ করেছে, আমার বোনের সাথে বেঈমানী করেছে। এর শেষ তোদের দু'ভাই-বোনের মাধ্যমেই করবো।'
রাজপুত্র বললো, 'আমার আব্বিজানের জন্য তুমি আমাদেরকে কেন শাস্তি দিবে?'
'কারণ তোদের ছাড়া কাজ হাসিল সম্ভব নয়। আর হ্যাঁ, ভ্যা ভ্যা করে কাঁদবি না।'
রাজপুত্রকে খাঁচায় দেখে পাখি রাজপুত্রের বড্ড খারাপ লাগলো। এভাবে রাজপুত্র বিজয়কে পাঠানো ঠিক হয়নি।
ডাইনি যদি কোনরকমভাবে জানে এই কাজ আমিই করেছি তবে আমাকেও আস্ত রাখবে না। সেজন্য সকলের মঙ্গলের জন্য আপাতত আমাকে লুকিয়ে থাকতে হবে। আমাকে ধরা পড়লে চলবে না।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে পাখি রাজপুত্র উঁড়ে গেল বনের অন্য প্রান্তে। বাঁচাতে হবে, সবাইকে বাঁচাতে হবে।
(চলবে)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ