āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4433 (1)

রুপকথার গল্প: বুদ্ধিমতী লীলাবতী
লেখা: সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
.
.
শান্তিপুরের রাজা খালেকরাজ আজ বেজায় খুশি। খুশি হবেনই না কেন! তার ঘরে বংশের প্রদীপ আসছে। রাজা  খালেকরাজ নিজ ভান্ডার থেকে প্রজাদের স্বহস্তে দান করছেন। পুরো শান্তিপুরের প্রজারা আজ ধন্য ধন্য করছে। রাজার এ খুশির ভাগীদার যেন সবাই।
এই খুশির দিনে দু'দিন ব্যাপী মহাভোজের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে সবাই খুশি সেখানে রাজ মনিষী আজ নিস্তব্ধ। কোন এক চিন্তায় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন। এমন আনন্দের দিনে ঘোর অমঙ্গলের কথা না বলাই শ্রেয়।
মহাভোজের দিন অতিক্রম করলে রাজাকে একান্তে ডেকে নেন রাজ মনিষী,
'কী হলো রাজ মনিষী, হঠাৎ এভাবে ডাকলেন যে?'
রাজার কথায় মাথা নিচু করে কাচুমাচু করতে থাকে রাজ মনিষী।
'কী হলো মনিষী, কোন সমস্যা? আমাকে বলুন। কয়েকদিন ধরে আপনাকে খুব চিন্তিত দেখছি।'
রাজার কথায় মাথা তুললেন রাজ মনিষী, 'রাজামশাই, আপনি তো জানেন রাকা ডাইনির কথা।'
রাজা বলে উঠলেন, 'সে ডাইনিকে তো বন্দি করা হয়েছে। তাছাড়া তাকে ঘুমন্ত পানির স্পর্শ করানো হয়েছে। যার মাধ্যমে ৩০ বছর সে ঘুমের ঘোরে তলিয়ে থাকবে। হঠাৎ তবে তার কথা আসছে কেন?'
'মাফ করবেন রাজামশাই, গত দশটি বছরে আপনি যতটা আনন্দে ছিলেন ততটা না আপনাকে ২০ বছর পর বা এর আগে কষ্ট পেতে হয়।'
রাজামশাই অনেকটা অবাক হলেন, 'মনিষী, আমি আপনার কথায় কিছুই বুঝতে পারছি না। খোলাসা করে সবটা বলুন।'
রাজ মনিষী বললেন, 'ডাইনিকে যখন ঘুমন্ত পানির ফোটা স্পর্শ করানো হয়েছিলো তখন রাকা ডাইনির বোন তার প্রিয় বোনকে সুস্থ করে তুলতে শয়তানের রাজার কাছে অনুনয়-বিনয় করতে থাকে। শয়তানের রাজা তাকে পথ বাতলে দিয়েছে।'
অতি আগ্রহের সহিত রাজামশাই বলে উঠেন, 'কী সেই পথ মনিষী?'
'আপনার মতো তেজি, বুদ্ধিমান, শক্তিশালী রাজার ঘরে আপনার মতোই দু'টি সন্তান জন্ম নেবে। মজার ব্যাপার হলো যার মধ্যে একজন হবে রাজকন্যা, অপরজন রাজপুত্র। আপনার সন্তানদের রক্ত পান করতে পারলে রাকা ডাইনি ও তার বোন দু'টো উপকার লাভ করবে, প্রথমত আপনার সাথে শত্রুতার প্রতিশোধ নিবে, দ্বিতীয়ত তারা আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তখন আপনার রাজ্য সে সহজেই নিজের মুঠোয় নিয়ে যাচ্ছেতাই করবে।'
ভয়ার্ত চোখে রাজামশাই বললেন, 'রাজ মনিষী কিছু একটা করুন, এ থেকে বাঁচার কি কোন পথ নেই?'
রাজাকে শান্তনা দিয়ে কিছুক্ষণ কী যেন ভাবলেন। অতঃপর বললেন, 'রাজামশাই, আমি আপনাকে দু'টো কবচ দিবো, আপনি সেটা নবজাত রাজপুত্র-রাজকন্যার গলায় পরিয়ে দিবেন। আর সাবধান এ কবচ যেন তারা কাছ ছাড়া না করে। কারণ রাকা ডাইনির বোন সবসময় রাজপুত্র-রাজকন্যার আশেপাশে ঘুরবে। এই পবিত্র কবচের অসিলায় হয়তো আল্লাহ তাদের বাঁচাবেন। কবচ ছাড়া পেলে আপনি আপনার সন্তানদের হারাবেন।'
'ঠিক আছে মনিষী, তাই হবে।'
.
রাণীর আজ দু'টো ফুটফুটে সন্তান জন্ম নিয়েছে। ভাগ্যক্রমে একজন রাজপুত্র, অপরজন রাজকন্যা। রাজ মনিষীর কথাই সত্যি হলো।
সন্তান জন্ম নেবার কিছুক্ষণ পর রাজামশাই ঘরের ভিতর ঢুকলেন। রাজামশাইকে ঘরে ঢুকতে দেখে সব দাসীরা কামরা ছেড়ে আপাতত চলে গেল। রাজামশাইকে দেখে রাণী কিছুটা লজ্জা পেয়ে মুখ লুকালো।
'এত লজ্জা পাচ্ছো কেন প্রিয়তমা?'
রাজার কথায় মুচকি হেসে রাণী বললেন, 'এতদিন বাদে আপনাকে খুশি করতো পেরে খুব ভালো লাগছে।'
রাজামশাই সন্তানদের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে নিলেন। এ যেন চাঁদের আলো ঝলমল করছে। এতদিন তো তিনি এরমকই সন্তান চেয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছেন। আজ ঘোর অমানিশার মধ্যেও তার পূরণ হয়েছে।
নিজেকে আজ খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। নিজের শত্রুতার জের ধরে ডাইনি হয়তো তার মানিক দু'টোর দিকে হাত বাড়াবে।
খুব বেশি দেরি না করে কবচ দু'টো দু'জনে গলায় পরিয়ে দিলেন।
'এ কি! আপনি কী করছেন?'
রাণীর কথায় রাজা তার খুব কাছে গিয়ে বললেন, 'আমাদের ভালোবাসার ফসল এ দু'টো মানিক। প্রিয়তমা,  তোমার কাছে একটাই অনুরোধ থাকবে, কখনো কবচ দু'টো যেন তাদের গলা থেকে না নামে।'
আশ্চর্য হয়ে রাণী বলে উঠলেন, 'কিন্তু কেন রাজামশাই?'
রাণীর হাত দু'টো খুব শক্ত করে চেপে ধরলেন রাজামশাই। মাথা নিচু  করে বললেন, 'রাণী সেটা তোমার শুনে কাজ নেই। আমার এই ছোট্ট অনুরোধটুকু রেখ।'
'আপনি দোয়া করবেন প্রিয়তম। আমি যেন সমসময় আপনার সেবা করে বাকি জীবনটর কাটিয়ে দিতে পারি।'
রাণীর শেষ কথাগুলো শুনে সন্তানদের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির হাসি হেসে কামরা ছাড়লেন রাজামশাই।
রাজ্যে আজ খুশির ঢল নেমেছে। রাজামশাই দু'রাকাআত নামায আদায় করে প্রজাদের দান করতে লাগলেন।
সবধরনের প্রজাদের বাস এই রাজ্যে। তবুও কেউ অসুখী নেই, সবাই যে যার মতো করে শান্তিপুরে শান্তিতে বসবাস করছে।
রাজার কাছ থেকে দান গ্রহণ করে খুশি মনে নব্য রাজপুত্র-রাজকন্যাকে যে যার মতন দোয়া আশির্বাদ করছে।
.
রাজ্যের যেখানে খুশির আমেজ বিরাজ করছে সেখানে রাজামশাই ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। হঠাৎ সূর্যটা কালো মেঘে ঢেকে গেল।
রাজামশাইয়ের বুকটা ধুঁক ধুঁক করতে লাগলো। দৌঁড়ে রাজ মনিষীর নিকট গেলেন, 'রাজ মনিষী, এ কিসের আভাস?'
রাজামশাইকে অভয় দিয়ে মনিষী বললেন, 'চিন্তা করবেন না রাজামশাই, কবচ দু'টো যতদিন তাদের গলায় থাকবে আল্লাহর রহমতে কোন অনিষ্ট হবে না।'
মনিষীর কথায় তবুও যেন ভরসা পেতে চাইছেন না রাজামশাই, 'কিন্তু সূর্য কেন কালো মেঘে ঢেকে গেল? এ কী অমঙ্গল নয়?'
'আল্লাহ চাইলে কোন অমঙ্গলই ঘটবে না। আর হ্যাঁ, আপনার বংশের প্রদীপ এসেছে বলে ডাইনির বোন খুশি হয়েছে। কারণ তারা তো এই দিনের অপেক্ষাই করছে।'
রাজ মনিষী সব কথা বুঝিয়ে বললেন। রাজামশাই হাত দু'খানা পিছনে মুঠ করে রেখে নিজের কামরায় গেলেন।
এদিকে হাহা করে হেসে তাতাকুয়া জঙ্গল মাথায় তুলে নাচছে রাকা ডাইনির বোন রিকা।
মাটির নিচে ঘুমন্ত পানির স্পর্শে ঘুমিয়ে আছে রাকা ডাইনি। তার ঘুম ভাঙতে এখনো ২০টি বছর বাকি।
আস্তে আস্তে কাঙ্ক্ষিত দিন হাতে আসছে। রাকা ও রিকা দুই ডাইনির বাস ছিলো এই তাতাকুয়া জঙ্গল। খুবই ভয়ংকর এই জঙ্গল। যেই এই জঙ্গলে পা রেখেছে সেই মরেছে। নিজের জীবন নিয়ে কেউ আর তাতাকুয়া জঙ্গল থেকে ফিরে যেতে পারে নি।
কত রাজা, রাজপুত্র, শিকারির হাড়-গোড় পরে আছে তার ইয়ত্তা নেই।
রিকা ডাইনি বোনের সমাধি স্থানে গিয়ে বলছে, 'দিদি, আমাদের কাঙ্ক্ষিত দিন আসছে। রাজার দু'টো সন্তান হয়েছে। এদের রক্ত পান করে আমি প্রতিশোধ নিবো, তোমাকে ৩০টি বছর কাছে না পাওয়ার যন্ত্রনা তাদেরকে তিলে তিলে দিবো। তুমি আপাতত শান্তিতে ঘুমেই থাক। আমি আমার মিশন কালকে থেকে শুরু করবো।'
দেখতে বিশ্রী টাইপের রিকা খুব অনুশোচনা নিয়ে বোনকে বলতে লাগলো।
তার মনের মাঝে জ্বলে উঠলো প্রতিশোধের আগুন। মনে পড়ে গেল ১০ বছর আগের সেই দিনটির কথা!
যখন রাজামশাই তার বোন রাকাকে শুধুমাত্র ডাইনি হবার কারণে স্ত্রীরূপে মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলো।
সেই দিনটির কথা আবারো মনে পড়ে গেল যখন তার বোন হাতজোড় করে রাজার কাছে তার স্ত্রী হবার মিনতি প্রকাশ করেছিলো। কিন্তু রাজামশাই তাকে আবারো ফিরিয়ে দিয়ে রাণী ঝুমরতী'কে বিয়ে করে রাণীর মর্যাদা দিলেন।
শুধু এতেই তিনি থেমে থাকেন নি, রাজ মনিষীর মাধ্যমে ঘুমন্ত পানি ছিটিয়ে ঘুমিয়ে রেখে মাটি চাপা দিয়ে রেখেছে।
এসব কথা মনে উঠতেই গর্জন দিয়ে উঠলো ডাইনি রিকা।
(চলবে)

রুপকথার গল্প: বুদ্ধিমতী লীলাবতী
লেখা: সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
পর্ব:২
.
.
রাণী ঝুমরতী সবসময় রাজকন্যা, রাজপুত্রকে চোখে চোখে রাখতো। যাতে কোনক্রমেই কবচ গলা থেকে না নামে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতো। রাজামশাইয়ের আদেশ বলে কথা! তিনি তো আর এমনি এমনি একথা বলেন নি। হয়তো নিশ্চই কোন কারণ আছে, যার জন্য অনুরোধ করে তাকে বলেছে।
রাজামশাই খালেকরাজও সময় পেলে রাজকন্যা,রাজপুত্রর সাথে ঘোরাঘুরি, ক্রিয়া করেন। আস্তে আস্তে দু'জনে বড় হতে থাকে। রাজপ্রাসাদ আনন্দময় করে রাখাই দু'ভাই-বোনেরর আসল কাজ। দৌঁড়ানি কিংবা লুটোপুটিময় কর্মকান্ড রাজা-রাণীর মধ্যে দাগ কাটে।
খুশিতে ভরপুর তখনো রাজপ্রাসাদ। রাজামশাই এর আগে ঘটা করে রাজকন্যা ও রাজুপত্রের আকিকা করেন। যেখানে দূরদূরান্ত থেকে রাজা-বাদশারা আমন্ত্রিত হোন।
রাজামশাই রাজকন্যার নাম রাখেন মায়াবতী আর রাজপুত্রের নাম রাখেন বিজয়রাজ। রাজামশাই আদর করে রাজকন্যাকে মায়া আর রাজপুত্রকে বিজয় বলে ডাকতেন।
রাজকন্যা ও রাজপুত্রের যেন কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য রাতের শেষাংশে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করেন রাজামশাই।
তার এই সুখের সংসারে যেন রাকা ডাইনি কিংবা তার বোন রিকা ডাইনির কোন কালো ছায়া না পরে সেজন্য বেশি বেশি দোয়া ও দান খয়রাত করেন।
মায়াবতী ও বিজয়রাজ ৫ বছরে পদার্পণ করলেও সমসময় রিকা ডাইনি তাদের পিছু ছাড়ে নি। ছলে, বলে, কৌশলে তাদের আশেপাশেই থেকেছে। একটা করে সুযোগ পেলেই হয়তো তাদের পিতা-মাতা ছাড়া করবে।
সুযোগের অপেক্ষায় অপেক্ষা করতে করতে পাঁচটি বছর কেটে গেছে তবুও কোন সুযোগ পায় নি। কবচ গলায় থাকার সময় তো তাদেরকে স্পর্শও করতে পারবে না।
বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও কিছু করতে পারে নি সে। উল্টো তার কিছু শক্তি ক্ষয় হয়ে গিয়েছে।
রিকা ডাইনি মাঝে মাঝে ভাবে রাজ মনিষীকেই না সে মেরে ফেলে। কিন্তু তার কাছেও ঘেষতে পারে না।
কী যাদু এই কবচে!
কবচের শক্তি সম্পর্কে সম্যখ অবগত সে। শয়তানের রাজা বলেছিলো, 'এ কবচ যে সে কবচ নয়, আল্লাহর নাম খোদাই করে তাদের বিশেষ ধরণের পানি ও দ্রব্য মিশ্রিত আছে।  যা স্পর্শ করা কোন শয়তানেরই সম্ভব নয়।'
শয়তানের কথাগুলো স্বরণ হতেই চমকে উঠে রিকা ডাইনি। শয়তানের রাজার কথার প্রেক্ষিতে কোনক্রমেই কবচ থাকা অবস্থায় তাদের স্পর্শ করা চলবে না।
যে কোনভাবেই হোক কবচ খুলে ফেলতে হবে। কিন্তু সেটা কিভাবে? সেটা রিকা ডাইনির অজানা!
.
একদিন ছাদে রাজপুত্র ও রাজকন্যা খেলা করছিলো। খেলতে খেলতে রাজপুত্র ছাদের শেষ সীমানায় এসে দাঁড়িয়ে যায়, কি সুন্দর একটা ফুলের গাছ!
রাজকন্যা ও রাজপুত্রকে একা পেয়ে সুযোগ খুঁজতে থাকে রিকা ডাইনি। অতঃপর একটা বুদ্ধি বের করে কাজ শুরু করে দিলো। খুব দ্রুত রাজপুত্রের কাছে এসে বললো,
'বিজয়, তুমি কী করছো?'
হেসে হেসে বিজয় উত্তর দিলো, 'দিদিমা, দেখ কত সুন্দর একটা ফুলের গাছ।'
'তুমি কি এর ফুল নিতে চাও?'
রাজপুত্র বিজয় বলে উঠলো, 'হ্যাঁ দিদিমা, ফুল নিতে চাই। কিন্তু গাছটাকে আমি স্পর্শ করতে পারছি না।'
'তুমি যদি ফুলটা নিতে চাও তাহলে তোমার গলার ওই কবচটা খুলে ফেলতে হবে। না হলে তুমি এটা ধরতেও পারবে না, ফুলও নিতে পারবে না।'
রিকা ডাইনির কথা শেষ হতেই পিছন থেকে রাজকন্যা মায়াবতী চিৎকার করে ডাকতে থাকলো, 'দাদাভাই, তুমি ওখানে কী করো?'
প্রিয়তম ছোটবোনের দিকে তাকিয়ে রাজপুত্র বিজয় বললো, 'দেখ মায়া, এখানে সুন্দর ফুলের গাছ।'
ভাইয়ের কথায় হেঁটে হেঁটে আসতে লাগলো মায়াবতী। বিজয় ডাইনির দিকে তাকিয়ে বললো, 'আচ্ছা দিদিমা, ফুল নিতে হলে কবচ খুলতে হবে কেন?'
মুচকি হেসে ডাইনি বললো, 'এ ফুল এমন একটি ফুল যা মানুষের মনকে শীতল করে তোলে। এর সুগন্ধ অনেক। দেখ তুমি কি এর সুগন্ধ পাচ্ছো?'
মাথা নাড়িয়ে রাজপুত্র বললো, 'নাতো দিদিমা।'
হাহা করে হেসে ডাইনি বললো, 'আমি পাচ্ছি দাদুভাই। তুমি পেতে চাইলে খুলে ফেল। ফুলটা নেয়া হয়ে গেলে আবার কবচ পরে নিও।'
ছোট্ট রাজপুত্র ডাইনির ষড়যন্ত্র ধরতে ব্যর্থ হলো। তাছাড়া ডাইনি রিকা রাজপ্রাসাদে দাসীর কাজ করে।
সে হিসেবে রাজপুত্র ও রাজকন্যা তাকে ভালো করেই চিনে। ছোট্ট রাজপুত্র গলা থেকে কবচ খোলা মাত্র একটা সুগন্ধ পেল।
ডাইনি রিকা বললো, 'সুগন্ধ পাচ্ছো দাদুভাই?'
বিজয় খুশি মনে বললো, 'হুম, খুব সুন্দর সুগন্ধ দিদিমা।'
কথা শেষ হতেই ডাইনি রিকা তার কদাকার চেহারায় ফিরে এসে হাহা করে হাসতে থাকে।
যাদুকরী ফুলের গন্ধে রাজপুত্র বিজয় ঘুমের ঘোরে টলতে থাকে। ছোট্ট রাজকন্যা এমন কদাকার চেহারা দেখে ভয় পেয়ে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে।
ডাইনি রিকা একজনের কবচ খু্লতে পেরেছে মাত্র। রাজকন্যা তো অজ্ঞান অবস্থায় পরে আছে। নিজেকে একটু ধিক্কার দিতে থাকে ডাইনি রিকা। কেন আগেই নিজের রুপে সে ফিরে গেল? কেন আর একটু দেরি করতে পারলো না?
রাজকন্যার চিৎকারে রাণী দ্রুত ছাদে চলে আসলেন।
রাণী ঝুমরতী'কে দেখে রাজপুত্রকে খুব দ্রুত তুলে আকাশে উড়তে থাকে ডাইনি রিকা।
ছেলেকে ডাইনি নিয়ে যাচ্ছে, মেয়ে মায়াবতী ছাদে অজ্ঞান অবস্থায় পরে আছে! এসব দেখে রাজামশাই রাজামশাই বলে চিৎকার করতে থাকেন রাণী ঝুমরতী।
রাজামশাই এসময় সভাসদে বসে জরুরী কথা বলছিলেন। রাণীর এমন চিৎকারে দ্রুত সভাসদ থেকে ছাদের দিকে হাঁটা দিলেন।
মন্ত্রীপরিষদের সকলেই রাজামশাইয়ের পিছন পিছন যেতে লাগলেন। সবাই বলাবলি করছে, 'ঘটনা কী?'
রাজামশাই ছাদে উঠেই ডাইনি রিকাকে দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলেন। সব থেকে বেশি আশ্চর্য হয়েছেন তার কোলে রাজপুত্র বিজয়কে দেখে।
বিজয় তখন ঘুমের ঘোরে। ডাইনি রিকা জোরে জোরে হাসছে আর বলছে, 'আজকে একজনকেই নিলাম। পরেরবার রাজকন্যাকে নিতে আসবো।'
রাজামশাই অশ্রুসিক্ত চোখে হা করে তাকিয়ে রইলেন।
.
রাজকন্যা বিছানায় শোয়া। চারদিকে সবাই দাঁড়িয়ে আছে। রাণী ঝুমরতী বিলাপ করে কান্নাকাটি করছে। রাজা খালেকরাজ চিন্তামগ্ন অবস্থায় রাজকন্যার শিয়রে বসে আছেন। রাজামশাই চিন্তা করছেন, 'কী থেকে কী হলো?'
ভাবতে ভাবতে হঠাৎ করেই ভাবনায় ছেদ পড়লো একজন দাসীর ডাকে, 'রাজামশাই এই কবচটা ছাদে পেয়েছি।'
রাজামশাই চকচকে উজ্জ্বল কবচটার দিকে তাকিয়ে দু'ফোঁটা অশ্রুকণা ফেললেন।
কবচটা হাতে নিয়ে বুঝতে পারলেন যে কোন উপায়ে হোক ডাইনি রিকা সেটা খুলে ফেলেছিলো।
রাণীর দিকে তাকিয়ে রাজামশাই বললেন, 'তোমাকে কী আমি বলি নি রাণী? তুমি একটু সচেতন হলে হয়তো........!'
কথা শেষ না করেই থামলেন।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে রাজকন্যার এখনো জ্ঞান ফিরছে না। রাজবৈদ্য চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছেন।
কিছুক্ষণের মধ্যে রাজকন্যার জ্ঞান ফিরলো। রাজকন্যা আমতা আমতা করে বলতে লাগলো, 'দাদাভাই ফুল, দাদাভাই আমারো ফুল চাই।'
রাজকন্যার কথায় রাজ মনিষীর দিকে তাকিয়ে রইলেন রাজামশাই।
রাজ মনিষী বললেন, 'রাজকন্যার কাছে শোনা উচিত কী ঘটেছিলো।'
রাজামশাই মেয়ের খুব কাছে মুখ রেখে বললো, 'মায়াবতী, মায়াবতী?'
ভয়ার্ত চোখ দু'টো খুলে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো মায়াবতী। রাজামশাই আবারো বললেন, 'মা মায়াবতী, তখন কী হয়েছিলো?'
মায়াবতী ছোট্ট মানুষ বেশি কিছু বুঝে না, তবুও বললো, 'দাদাভাই ফুল নিতে ডাকলো। ওখানে খালেদা দিদুনও ছিলো। কিন্তু হঠাৎ খালেদা দিদুন হাওয়া হয়ে গেল।'
রাজ মনিষী রাজাকে নিয়ে খুব দ্রুত ছাদে গেল। নাহ! আশেপাশে কোন গাছের ছায়া অবধি নেই।
রাজামশাই রাজ মনিষীকে বললেন, 'এখন কী কিছুই করার নেই রাজ মনিষী? আমি আমার রাজপুত্রকে ফেরত চাই। ব্যবস্থা করুন।'
মাথা নিচু করে থাকলো রাজ মনিষী। কোন কথাই যেন তার মুখে ফুটছে না।
'আপনি কিছু না বললে আমি কী করবো বলতে পারেন রাজ মনিষী?'
রাজ মনিষী বললেন, 'রাজামশাই, আমি তো বলেছিলাম আপনাকে যাতে কবচ না খোলা হয়। কিন্তু আপনি ব্যর্থ হলেন আপনার কথা রাখতে।'
রাজ মনিষীর কথায় কিছুটা বিব্রত হয়ে গেল রাজামশাই। গত একটি ঘণ্টা তার জীবনকে পরিবর্তন করে দিলো।
'তাহলে কি আর কিছুই করার নেই? আমার রাজপুত্রকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করুন।
'ধৈর্য অবলম্বন করুন, ধৈর্যবান লোকদের আল্লাহ ভালোবাসেন। ডাইনি রিকা রাজপুত্রকে নিয়ে তাতাকুয়া জঙ্গলে গেছে। তাতাকুয়া খুব ভয়ংকর জঙ্গল-যেখান থেকে কেউ কোনদিন ফেরত আসতে পারে নি। ভাববেন না, রাজপুত্রকে সে এখন মারবে না। তার হাতে ঢের সময় বাকি। আল্লাহকে ডাকুন।'
কথাগুলো বলেই রাজ মনিষী চলে গেলেন। ছাদে একলা দাঁড়িয়ে রইলেন রাজামশাই। বারবার আকাশের সেদিকে তাকাচ্ছেন তিনি যেখান দিয়ে রিকা ডাইনি তার প্রিয় পুত্রকে নিয়ে গেছো।
(চলবে)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ