#গল্পঃনিঃস্বার্থ_ভালোবাসা
#সাজ্জাদ_আলম_বিন_সাইফুল_ইসলাম
#পর্বঃ৫(শেষ_পর্ব)
.
.
সংসারটা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আগের মতন হাসি খুশি দুষ্টমি লেগেই আছে। নিষ্প্রাণ নিশি এখন আগের মতন সারা বাড়ি লাফালাফি করে বেড়ায়। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। যেদিন থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় শুরু করেছি সেদিন থেকে সুখ যেন দরজায় কড়া নেড়েছিলো। মায়ার গ্রাম্য স্বভাবের অনেকটাই কেটে গেছে। তবুও কিছু কিছু ছেলেমানুষি এখনো রয়েছে।
.
সেদিন ছুটির দিন ছিলো। নিশিকে নিয়ে সোহেলের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। এসে দেখি মায়া নিশিকে ডাকছে। নিশি দৌঁড়ে রান্নাঘরের দিকে গেল। বকুল আমার দিকে চেয়ে হাসছে। কিছুক্ষণ পর নিশি একটা প্লেটে কিছু পিঠা এনে আমার হাতে ধরিয়ে বললো,
- বাব্বা, আন্টি পিঠা বানিয়েছে, এই নাও।
পিঠা দেখে আর লোভ সামলাতে পারলাম না। গপাগপ মুখে পুরতে লাগলাম। এতদিন পর পিঠা খেতে ভালো লাগছিলো।
.
রাত দশটার দিকে ডাইনিং টেবিলে ডাক পড়লো। টেবিলে অনেক রকমের খাবার সাজানো। প্রত্যেকটাই দেখতে চমকপ্রদ। আমার পেট ভর্তি থাকা সত্ত্বে দেড় প্লেট চেটেপুটে খেয়ে বকুলের দিকে তাকালাম। বকুল হেসে বললো,
- ভাইজান রান্না কেমন হইছে?
- তোর রান্নার জবাব নেই রে। আজকের রান্না অসম্ভব ভালো হয়েছে।
বকুল হিহি করে হেসে বললো,
- মায়া আপা রান্না করছে সব।
- মায়া রান্না করেছে!
কথাটা বলেই অবাক হয়ে গেলাম। পরক্ষণে ভাবলাম মায়া তো গ্রামেরই মেয়ে, রান্না জানাটাই তো স্বাভাবিক। তবে জব্বর ভালো রাঁধে।
.
মাঝে মাঝে মায়াকে চুপচুপি দেখি। মেয়েটা কত সুন্দর! একজন মেয়ের এত গুন থাকতে পারে! মায়াকে না দেখলে কখনোই বুঝতে পারতাম না। সেদিন মায়াকে বললাম,
- রেডি হয়ে নাও, আজ একটু বের হব।
মায়া অস্ফুটভাবে বললো,
- কেন? কোথায় যাবেন?
- বেশি প্রশ্ন করা পছন্দ করি না আমি। বের হতে বলছি বের হও।
.
বকুলকে ডেকে মায়াকে সাজিয়ে দিয়ে নিশিকে ভালো জামা পরাতে বললাম। আমি অনেকদিন পর প্যান্ট ও পাঞ্জাবি পড়লাম। আঁখি থাকাকালীন এই প্যান্ট আর পাঞ্জাবি গিফট করেছিলো। আমি বাইরে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। মায়া নিশিকে কোলোয় করে হেঁটে হেঁটে আসছে।
.
মায়াকে দেখে চোখ সরাতে পারছিলাম না। এই প্রথম ওকে সাজগোজে দেখলাম। আগের চেয়ে অনেক ভালো লাগছিলো। গাড়ি ড্রাইভ করছি, মায়া বললো,
- আমরা কোথায় যাচ্ছি?
- ভয় করো না, তোমাকে বিক্রি করতে যাচ্ছি না।
আমার কথায় নিশি হিহি করে হাসতে লাগলো। আমিও তার সাথে যোগ দিলাম। মায়া লজ্জা পেল।
.
একটা শপিংমলে গাড়ি পার্কিং করে সেখানে ঢুকলাম। মায়া এত বড় শপিংমল দেখে বেশ খানিকটা অবাক হয়েছে। আমি বেশ কয়েকটা সালোয়ারকামিজ ও দু'টো শাড়ি পছন্দ করে ওর জন্য কিনলাম। নিশিকেও জামা কিনে দিয়ে বের হয়ে আসার সময় সবুজ সাহেবের সাথে দেখা। উনি আমার প্রাক্তন কলিগ।
.
আমাকে দেখা মাত্রই সালাম দিয়ে মুনাফা করে বললো,
- কেমন আছেন রহীম সাহেব?
- এই তো ভালোই আছি আল্লাহর রহমতে। আপনার শরীর ভালো তো?
- জ্বী আছি একরকম। ভাবী নাকি?
- ইয়ে মানে!
- আরে ভাই দাওয়াত দেন নি তো কি হয়েছে! মন খারাপ করি নি। একদিন বাসায় গিয়ে খেয়ে আসব।
আমি মেকি হেসে মায়ার দিকে তাকিয়ে দেখলাম ও মাথা নিচু করে আছে। আমি সবুজ সাহেবকে বিদায় দিয়ে গাড়ি করে বাড়িতে ফিরে আসলাম
.
পরদিন অফিস খোলা।
প্রতিদিনের মতই অফিসে গিয়ে কাজ করতে লাগলাম। হঠাৎ একটা নাম্বার থেকে ফোন এলো। নাম্বারটা ডিলেট করা সত্ত্বেও হৃদয়ের মধ্য হতে ডিলেট হয় নি। প্রথমবার রিসিভ করবো কি না ভেবে করলাম না। দ্বিতীয়বার আবারো ফোন আসলো। রিসিভ করলাম,
- কেমন আছো রহীম?
- খারাপ নেই। তুমি ভালো তো?
- আমার কথা বাদ দাও আপাতত। কিছুক্ষণের জন্য আমার সাথে দেখা করতে পারবে? যদি তোমার সমস্যা না থাকে তো।
- কোথায় আসতে হবে?
.
আঁখিই ফোন দিয়েছিলো, আজ এক বছর পর। ওর নির্ধারণ করা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। কিছুক্ষণের মধ্যে ও চলে এলো। একবার ওর দিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলাম। আগের থেকে খানিকটা শুকিয়ে গেছে। আঁখিই প্রথম বললো,
- কখন এসেছ?
- এইতো কিছুক্ষণ। কি বলবে বলো।
- নিশিকে নিয়ে এলে না?
- ও বায়না করে নি কখনো। আর আমি অফিস থেকে আসছি।
.
আমার কথায় চুপ করে গেল। আমিও চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ।
- তোমার কিছু বলার থাকলে বলো। আমার অফিসে কাজ আছে এখনো।
চোখের পানি মুছে বললো,
- নয়ন আমাকে বিয়ে না করে অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করেছে। আমাকে ওর কাছ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
- আমার বা কি করার আছে? তুমি তোমার সংসার রেখে তার হাত ধরেছ। আমি তো ইচ্ছে করেই দেই নি।
- আমি ফিরতে চাই রহীম।
- সম্ভব নয়। অন্য কেউ সেখানে বাসা বেঁধেছে। তাকে নিয়েই আমি ভালো আছি।
- তুমি বিয়ে করেছ?
- করাতে দোষের কিছু তো দেখি না।
আঁখি কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। আমিও ম্লান হেসে অফিসে ফিরে আসলাম। ভাবলাম সেই বিদায়কালীন বানী, 'আমার মতন তোমাকে কেউ কোনদিন ভালোবাসবে না।'
.
আমার আজ ভালো লাগছে না। আঁখিকে নিয়ে আবার ভাবছি। পুরনো ভালোবাসা আবার জাগ্রত হচ্ছে। নাহ! ও তো আমার কথা না ভেবে অন্য পুরুষের খাবারের বস্তু হয়েছে। তাকে আমি কি করে গ্রহণ করবো? ও তো নিজের পথ নিজেই বেছে নিয়েছে, আমার দোষ কোথায়? পেপারে সাইন করার সময় তো অন্তত বলতে পারতো, 'রহীম, তোমাকে ছাড়া আমি কারো সংসার করবো না। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।' কই, এ কথা তো বলে নি।
.
ডিভোর্স পেপারে সাইন করে ভালোবাসার মানুষের সাথে চলে গিয়েছিলো। গত একটি বছরে আমার বা আমার নিশির কোন খোঁজ করে নি। বাজারের পণ্যের মতন নিজেকে বিক্রি করে যখন সে অসহায় তখন কেন আমাকে তার প্রয়োজন পড়লো? আমি যে আরেকজন কে ভালোবেসে ফেলেছি। মায়া! মায়া তার বন্ধনে বেঁধেছে আমায়।
.
আমি কিছুই ভাবতে পারছি না। অফিস থেকে দ্রুত বাসায় চলে আসলাম। মায়া রান্নাঘরে রান্না করছে। আমাকে দেখে বকুল দ্রুতগতিতে এসে বললো,
- ভাইজান, আপনার শরীর কি খারাপ? এত তাড়াতাড়ি আসলেন যে?
- এক গ্লাস পানি খাওয়াও তো।
- আনতেছি ভাইজান।
বকুল পানি এনে দিলো। আমি ঢকঢক করে পান করছি। কলিজাটা প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিলো। আমি বকুলের দিকে তাকিয়ে বললাম,
- মায়াকে তোর কেমন লাগে?
- কেমন লাগে আবার! অনেক ভালো।
- ওহ, যদি সারাজীবনের জন্য ওকে এ বাড়িতে রাখার বন্দোবস্ত করি তাহলে কেমন হয়?
বকুল খুশি হয়ে বললো,
- অনেক ভালো হয় ভাইজান। নিশিও মায়ের আদর পাবে।
- আপাতত ওকে বলার দরকার নাই বকুল। তুই তোর কাজ কর।
- আচ্ছা ভাইজান।
.
আমার তো পৃথিবীতে কেউ নেই যাকে মনের কথাটা বলবো। বকুলের কাছে সমর্থন পেয়ে বেশ ভালো লাগছে। বিশ্রাম নিতে নিতে ঘুমিয়ে গেছি। নিশি এসে ডাকছে,
- বাব্বা খাবে না?
আমি চোখ খুলে বললাম,
- খাবো মামনি। তুমি যাও, আমি আসছি।
নিশি চলে গেল। আমি ফ্রেশ হয়ে টেবিলে গিয়ে দেখি মায়া নেই। সারা বাড়ি খুঁজে ছাদে গিয়ে দেখি দাঁড়িয়ে আছে।
.
আমি পিছনে দাঁড়িয়ে গলা খাকড় দিলাম। মায়া চমকে উঠে পিছন ফিরে তাকালো। আমি বললাম,
- তুমি গ্রামে ফিরে যেতে চাও?
মায়া কোন কথা না বলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো। ওর চোখ দেখেই বুঝতে পারছি যেখানে কেউ নেই সেখানে ও আর যেতে চায় না। তবুও আচমকা বললো,
- আমি থাকাতে আপনার এখানে খু্ব সমস্যা হচ্ছে?
আমি ব্যস্ত হয়ে বললাম,
- আমি পৃথিবীটা খুব ছোট। নিশিকে নিয়ে আমার সংসার। তুমি আসাতে ফের সজীবতা খুঁজে পেয়েছে। তুমি চলে গেলে শুধু আমি না, নিশিও খুব কষ্ট পাবে।
.
মায়া ঝরঝর কাঁদছে। আমি অপলক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছি। একটু কাছে গিয়ে বললাম,
- আমার মেয়েটার তুমি মা হবে?
অশ্রুকণা দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি কিছুটা মজা করার জন্য বললাম,
- আমার বয়সটা একটু বেশি। তাতে কি! মনটা এখনো পঁচিশ বছরের যুবকের মতন।
মায়া আমার কথায় হেসে ফেললো। আমি আবারো বললাম,
- আমায় বিয়ে করে আমার নিশির মা হবে? আমার দ্বিতীয় স্ত্রী হবে?
.
মায়া কোন কথা বলছে না। চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আমিই বললাম,
- চুপ থাকা কিন্তু সম্মতির লক্ষণ। তুমি চাইলে এখনি কাজী ডাকতে পারি।
মায়া আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
- বাবা-মাকে ভালোভাবে দেখি নি। ভালোবাসা কি জিনিষ জানি নাহ। আপনি আমার প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন তা কোনকালেই ভোলার মতন নয়। আমি নিশির মা হতে চাই।
আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে শোকর জ্ঞাপন করে প্রথমবারের মতন মায়ার হাতটা ধরে বললাম,
'মায়া বিবি রাজি, তো কিয়া করে কাজী।'
আমার শ্লোক শুনে মায়া মুচকি হাসলো।
(সমাপ্ত)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž
4426 (3)
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§Ž:ā§Ģā§ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ