āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4425

#অনুগল্পঃমায়া
#সাজ্জাদ_আলম_বিন_সাইফুল_ইসলাম।
.
.
ঘাড়ের উপর বড় একটা বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বাবা পরপারে চলে গেছেন। বোঝা বলতে আমার স্ত্রী মায়ার কথা বলছি। ছোটবেলায় নাকি দু'বন্ধু শপথ করে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছিলো। যার কুফল ভোগ করতে হচ্ছে আমাকে। মায়াকে বোঝা বলার কারণ ও বাক-প্রতিবন্ধী। এমনিতেই অনেক সুন্দর দেখতে। মুখটা মায়া মাখানো। খোঁপার চুলগুলো খুললে অনেকদূর বিস্তৃতি দেখায়। মায়াকে প্রথম দেখে বুঝতে পারিনি ও কথা বলতে পারে না। কিন্তু বাবা আমাকে আগে বলেছেন।
.
মায়ার সাথে বিয়ের ৬ মাস হতে চললো। বাবা মারা গেছে তিনমাস। মায়ার সাথে তেমন কথা বলা পছন্দ করি না। যাকে পছন্দ করিনা তার সাথে কেন কথা বলবো। বিয়ের রাতেই বলেছি,
'আমার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করবা না। কিছু লাগলে মোবাইলে মেসেজ দিবা।'
সেদিন আমার কথা শুনে চুপিসারে কেঁদেছিলো। কাঁদবেই না কেন, আমি যে ওকে সবকিছু থেকে বঞ্চিত করছি। তবুও আমার সবকিছু ঠিকঠাক সাজিয়ে রাখে। সকালে কফি, গোছল করার পর কি পোশাক পড়বো, তোয়ালা, আমি কী খেতে ভালোবাসি সব।
.
এইতো সেদিন, অফিসে ম্যানেজারের সাথে ঝামেলা হয়েছে আমার। ম্যানেজারকে রাগ দেখাতে পারি নি ঠিকঠাক। ভিতরটা রাগে গজগজ করছে। বাসায় ফিরে দেখি মায়া রান্নাঘরে রান্না করছে। মনে হয় আজ রান্না হতে দেরি। আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর রান্নাঘরে গিয়ে বললাম,
'কখন খেতে দিবে? আমার বুঝি ক্ষিধে পায়নি? সারাদিন বাসায় বসে থাকো,  তবুও রান্না করতে দেরি কেন? সংসার করতে ইচ্ছে না হলে চলে যাও।'
আমি কথাগুলো ছুঁড়ে দিয়ে বাইরে থেকে খেয়ে আসলাম। মায়া মনে হয় বিষয়টা অনুধাবন করতে পারে নি। খাবারের ট্রে সাজিয়ে আমার সামনে রাখতে আরো রেগে গেলাম। পুরো ট্রে ফেলে দিলাম। আমার দিকে অশ্রু ফোঁটা চোখে তাকিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে দিলো। আমি মুখ সরিয়ে নিলাম।
.
সকালে উঠে দেখি সবকিছুতেই নিরবতা। নিস্তব্ধতায় ছেঁয়ে গেছে পুরো বাড়ি। আজ উঠতেও দেরি হয়েছে। টেবিলের উপর একটা চিঠি রাখা। আমি হাতে নিয়ে খুললাম,
'বাক-প্রতিবন্ধীর সাথে সংসার না করাই ভালো। আমি কীট-পতঙ্গের ন্যয় একটা প্রানী। ছুঁড়ে ফেলে দিও। আর কখনো তোমার ভালোবাসার কাঙালিনী হতে আসবো না। ডিভোর্স লেটার দিয়ো, সাইন করে মুক্তি দিবো।'
চিঠিটা পড়ে পুরোমাত্রায় স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ চিন্তা করে চিঠিটা ফেলে দিয়ে অফিসে গেলাম। এভাবেই চলছে সময়।
.
বেশ কয়েকদিন থেকে একটা বিষয় ভাবাচ্ছে, সত্যিই কি বাক-প্রতিবন্ধীরা কীট-পতঙ্গের ন্যয়? তাদের কি সংসার করার যোগ্যতা নেই? তারা কি মনের মানুষের সাথে সন্ধিযুক্ত হতে পারে না? মায়া নেই, পুরো বাড়িটা শশ্মানে পরিণত হয়েছে। ঠিকমতো কোনকিছুই হয়ে ওঠে। বুকের ভিতর মায়ার জন্য অস্থিরতা টান অনুভব করি। মেয়েটা তো ভালোবাসতো আমাকে। তাকে কেন সরালাম? ও আমার ভালোবাসার যোগ্য নয়, নাকি আমিই ওর ভালোবাসার আঁচলে লুকাতে ক্ষমতা রাখি না! মনটা কেঁদে উঠছে।
.
বিয়ের পর মাত্র একদিন শ্বশুরালয়ে এসেছিলাম। তাও বাবার অনুরোধে। আজকে আবার আসতে হলো, বাধ্য হলাম আসতে। মায়ার ভালোবাসা আমাকে টেনে এনেছে তার হৃদয়ের গভীরে। আমাকে দেখে শ্বশুর মশাই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। আমি শান্তস্বরে বললাম,
'আব্বা, মায়া কোথায়?'
আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'ওতো ছাদে আছে বাবা।'
ম্লান হেসে বললাম, 'আমি একটু উপরে যাই?'
অবাক হয়ে তিনি বললেন, 'এতে অনুমতির কি আছে বাবা? এটা তো তোমারই বাড়ি। যাও, ততক্ষণে আমি খাবারের যোগান দেই।'
.
ছাদে গিয়ে দেখলাম মায়া চেয়ারে বসে আছে। চুলগুলো হালকা বাতাসের দুলছে। চারদিকে নতুন বছরকে গ্রহণ করার জন্য উৎসব চলছে। আমি ডাক দিলাম, 'মায়া।'
আমার ডাকে মুখ ঘুরিয়ে মাথা নিচু করে বসার ইঙ্গিত করলো। আমি বললাম,
'সরি মায়া। এ কয়দিনে বুঝেছি তোমাকে সত্যিই আমি ভালোবাসি। তুমি ছাড়া আমি অচল।'
.
আমার কথায় মায়া চুপ করে আছে। গায়ের উপরের চাদরটা ঠিক করে আমার দিকে তাকালো। আমি কড়জোরে মিনতি করার সময় আমার হাত চেপে ধরে মুখ নাড়িয়ে 'না' কথাটির ইঙ্গিত দিলো। আমি দাঁড়িয়ে বললাম,
'তোমার ভালোবাসার কাছে হেরে গেছি আমি। তুমি ফিরে এসো। তোমাকে ছাড়া সত্যিই বাঁচবো না আমি।' কথাগুলো বলে সামনে দিকে এগিয়ে গেলাম। মায়া আমার হাতটা টেনে ধরলো। আমি ওর দিকে তাকালাম, মায়াও কাঁদছে। মোবাইলে কি যেন লিখলো, তারপর আমাকে দেখালো,
'আমিও তোমাকে ভালেবাসি।'
আমি মুচকি হেসে বুকে জড়িয়ে ধরে বললাম, 'আর ভুল হবে না, তুমি ফিরে হলো। কাল নতুন বছর শুরু হবে, নতুন বছর থেকে আমরা নতুন জীবন শুরু করবো।'
আমি দেখলাম মায়ার মুখে হাসি, সুখের হাসি, ভালোবাসার হাসি। তৃপ্তিহীন হৃদয়টা জুড়ে নতুন স্বপ্ন গেঁথেছে, স্বপ্ন দেখছে ভালোবাসার, একটা সুখের সংসারের।
(সমাপ্ত)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ