āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4426 (1)

#গল্পঃনিঃস্বার্থ_ভালোবাসা
#সাজ্জাদ_আলম_বিন_সাইফুল_ইসলাম
পর্ব: ১
.
.
অফিসে কাজের চাপে শরীর অনেকটা ভেঙে পড়েছে। মাথাটা ম্যাজম্যাজ করছে। আঁখিকে ফোন দিলাম, ফোন ওয়েটিং বললো। মনে হয় বাবার বাড়িতে কথা বলছে। মেয়েটা আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসে। সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ের কাজটা সমাপ্ত করে দিয়েছেন আব্বা-আম্মা।
.
অফিসের কাজগুলো দ্রুত শেষ করে বেলা থাকতেই বাড়ির পথ ধরলাম। নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করছি। মাথা ব্যাথাটা এখনো কমে নি। পার্কের সামনে এসে দেখি বকুলের সাথে আমার মেয়ে নিশি। বকুল আমার বাড়ির কাজের মেয়ে। অনেক ভালো মেয়ে এই বকুল। আমার পরিবারের একজন হয়ে গেছে।
.
গাড়ি থেকে নেমে ডাক দিলাম,
  -  বকুল, বকুল।
আমার দিকে তাকিয়ে নিশিকে নিয়ে দ্রুত আমার কাছে এসে হাস্যজ্বল মুখে বললো,
  -  জ্বী ভাইজান।
নিশিকে কোলোয় তুলে আদর করতে করতে বললাম,
  -  হঠাৎ পার্কে কেন তোমরা? বাড়ির বাগানে তো খেলতে পারতে।
  -  আপামনি কইলো পার্ক থেকে ঘুরিয়ে আনতে, তাই আসছি।
আমি ওহ শব্দটা উচ্চারণ করে বললাম,
  -  সন্ধ্যার আগেই ফিরে এসো। কেমন?
  -  জ্বী, ভাইজান।
.
নিশিকে একটা চুমু এঁকে দিয়ে গাড়িতে বসে পড়লাম। গাড়ি ড্রাইভ করে বাড়িতে এসেই খানিকটা অবাক হয়ে গেলাম। বাগানের পাশে একটা গাড়ি দেখে দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম,
  -  আবুল, কে এসেছে?
  -  নয়ন সাহেব।
আমি আর কথা না বাড়িয়ে আস্তে আস্তে বাড়ির ভিতরে ঢুকলাম। প্রথম দরজাটা টান দিতেই খুলে গেল। চারদিকে খুঁজে দেখি কোথাও কেউ নেই। বুকটা ধুঁক করে উঠলো।
.
নয়ন সাহেবের পরিচয় হচ্ছে ও আঁখির ভার্সিটি লাইফের বন্ধু। আঁখির মুখের ভাষ্যানুযায়ী নয়ন ওর বেষ্ট ফ্রেন্ড। আমার উপস্থিতিতে বেশ কয়েকবার এসেছে। আজ হঠাৎ আমার অনুপস্থিতিতে! বিষয়টা ভেবে ছাদের দিকে উঠলাম, নাহ! এখানেও কেউ নেই।
.
বেড রুমের দিকে এগুতেই আমার চোখ দু'টো ছানাবড়া হয়ে গেল। বেড রুমের দরজা লক করা। দরজার সাথে এক জোড়া কালো রঙের জুতা, অপর জোড়া আমার চেনা, আঁখির চপ্পল। আমি নিঃশব্দে একটু এগিয়ে গেলাম। দু'জন যে কত অন্তরঙ্গ অবস্থায় লীলাখেলায় মত্ত তা তাদের কথানুযায়ী বোঝা যাচ্ছে। হাসাহাসিও চলছে বেশভাবে।
.
আমি নিজের কানকে শেষ বারের মতন অবিশ্বাস করে বাড়ির বাইরে চলে আসলাম। আবুলকে জিজ্ঞেস করলাম,
  -  নয়ন সাহেব কখন এসেছেন?
  -  আপনি আসার ঘণ্টাখানেক আগে।
  -  ওহ, আমি যে এসেছিলাম তা যেন তোমার ম্যাডাম জানতে না পারে।
  -  জ্বী স্যার।
.
আবারো অফিসে চলে আসলাম। আমাকে অফিসে দেখে এক কলিগ জিজ্ঞেস করলেন,
  -  কী খবর রহীম সাহেব, চলে গেলেন। আবার আসলেন যে!
  -  আরে মোবাইলটা রেখে গিয়েছিলাম, সেজন্য আসলাম।
আমার উত্তর পেয়ে তিনি কাজ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আমি ম্লান হেসে রুমে ঢুকে চেয়ারে বসে চোখের জল ফেলতে লাগলাম। মোবাইলটা বের করে আঁখিকে আবার ফোন দিলাম। ফোন বেজেই যাচ্ছে, কিন্তু সে রিসিভ করছে না। অগত্যা আর ফোন না দিয়ে পুরনো দিনের বন্ধুকে ফোন দিলাম। অনেকদিন বাদে আমার ফোন পেয়ে আবেগে আপ্লুত সে।
.
অনেক্ষণ যাবত কথা বলে বুঝলাম ও অনেক ভালো আছে। আমাকে বললো,
  -  দোস্ত তোর অবস্থা কেমন? দাম্পত্য জীবন কেমন চলছে?
দাম্পত্যজীবনের কথা বলার সাথে সাথে বুকের ভিতরটা আবার মোচড় দিয়ে উঠলো। মনে মনে ভাবলাম, ভালো তো ছিলাম। আজ থেকে ভালোবাসা পাখির মতন উঁড়ে চলে গেল। তবুও মিথ্যা বললাম,
  -  হ্যাঁ দোস্ত, আমি ভালো আছি। সবাইকে নিয়ে ভালো আছি। দেখা করবি একদিন?
  -  তা করা যায়। কোনদিন, কোথায়?
  -  আগামীকাল চিড়িয়াখানায় চলে আয়, বিকেল ৪টা।
  -  ঠিক আছে, আমি সঠিক সময়ে চলে আসবো।
.
কথা শেষ করে আবারো বাসায় চলে আসলাম। এসেই নিশির ঘরে শুয়ে পড়লাম। রাত ন'টায় আঁখি এসে আমার পাশে বসে কপালে নেড়ে দেখলো। আমি চমকে বিছানার উপর উঠে বসলাম। আমি ঘুমন্ত চোখ খুলতে খুলতে বললাম,
  -  এ কি! তুমি এখানে?
  -  আমারো তো একই প্রশ্ন। হঠাৎ বাবুর ঘরে শুয়ে আছো যে?
  -  না এমনি।
  -  শরীর ঠিক আছে তো তোমার?
আমি ম্লান হাসলাম। মনে মনে ভাবলাম, আঁখি কি আমাকে ভালোবাসে? নাকি নয়নকে তার সতীত্ব দিতে চায়? এত বছরের ভালোবাসাটুকু কি মিথ্যা ছিলো?
  -  হ্যাঁ, শরীর ঠিক আছে।
  -  তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও, আমি চা দিচ্ছি আপাতত।
.
আঁখি ভেজা চুল নিয়ে চলে গেল। আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আজ নিঃশ্বাস নিতে বড়ই কষ্ট হচ্ছে। আমার ভালোবাসাটুকু জানালা দিয়ে উড়াল দিয়েছে। কিসের কমতি ছিলো আমার? নাহ! কোন কিছুরই তো অভাব রাখি নি।  আমাদের ছোট্ট ঘর, ছোট্ট সংসার! বেশ ভালোই তো ছিলাম। তাহলে কেন মেঘের ঘনঘটা?
.
ভাবনার জগতে লুটোপুটি খেলতে খেলতে আঁখির চিৎকার,
  -  কই তোমার হলো?
আমি কোন জবাব না দিয়ে আস্তে আস্তে ওয়াশরুমের দিকে গেলাম। ফ্রেশ হয়ে চা পান করে আঁখিকে বললাম,
  -  তুমি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। আমি দেরিতে ঘুমাবো।
  -  আজ তোমার নিশ্চই কিছু একটা হয়েছে। আমাকে বলা যায় না?
  -  তেমন কিছু না। তুমি ঘুমানোর আগে ডাইনিং টেবিলে আমার খাবারটুকু রেখে ঘুমিয়ো।
  -  আচ্ছা।
.
আঁখি বেডরুমের দিকে পা বাড়ালো। আমি ল্যাপটপ অন করে কিছু টাইপিংয়ের কাজ করে নিশির পাশে ঘুমালাম। রাতে বুঝতে পারলাম আঁখি কম্বলটা ভালোভাবে জড়িয়ে দিয়ে গেছে। আমি বুঝেও না বোঝার ভান করে নিশিকে বুকের মাঝে টেনে নিয়ে কিছুটা শূন্যতা দূর করার চেষ্টা করলাম।
.
এলার্মের ডাকে ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালাম। আঁখি রান্নাঘরে রান্না করছে। ফ্রেশ হয়ে টিভির রিমোটটা নিয়ে টিভি অন করে বসলাম। আঁখি চা নিয়ে আসলো।
  -  তোমার নিশ্চই কিছু একটা হয়েছে। প্লিজ বলো আমাকে।
  -  তোমার এমনটা মনে হবার কারণ কী?
  -  রাতে খেলে না, বেডরুমে আসলে না , কথাও ঠিকমতো বলছো না।
  -  এগুলো কোন কথা নয় আঁখি। আমি ঠিক আছি। বেশ কয়েকদিন আমি নিশির সাথে থাকতে চাই। মেয়েটা বড়ই মিস করে আমাকে।
  -  তুমি যেটা ভালো মনে করো।
.
আঁখি চলে গেল। আমি টিভি দেখাতে মনোযোগ দিলাম। নিশির স্কুল সকাল সকাল। বকুলের প্রথম কাজ নিশিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া। হয়তো সেই নিয়ে গেছে। আমি একটু দেরিতে গেলেও বস বকবে না, কারণ সব কাজ তাকে সময়মতই বুঝিয়ে দেই।
.
বেশিক্ষণ টেলিভিশনের সামনে বসে থাকতে ইচ্ছে হচ্ছে না। টেবিলে বসে সকালের খাবার খেয়ে উঠতে লাগলাম।
  -  আজ টিফিন ক্যারিয়ারে খাবার দেয়ার দরকার নেই।
  -  কেন?
  -  বিকেলে একটা মিটিং আছে, হয়তো কাজে ব্যস্ত থাকবো।
  -  খাবে কোথায়?
  -  সেটা পরে দেখা যাবে। আমার হয়তো ফিরতে রাত হবে।
  -  আচ্ছা।
.
অনেকগুলো মিথ্যা কথা একসাথেই বলে ফেললাম। আঁখি থাকুক ওর বেষ্ট ফ্রেন্ড নিয়ে। আমি না হয় আমার নিশিকে নিয়েই বেঁচে থাকবো। অফিসের জন্য রেডি হতে হতে দশটা পর হয়ে গেল। আজ আর গাড়ি সাথে নিলাম না। ড্রাইভ করার মন মানসিকতা নেই। খু্ব ইচ্ছে করছে রিকশায় করে অফিস যাই।
.
হাতে ব্যাগ নিয়ে হেঁটে হেঁটে গেট অবধি গেলাম। আবুল মিয়া আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
  -  স্যার, আজ গাড়ি নিলেন না?
  -  না রে, আজ রিকশায় করে যাবো।
  -  রিকশায় চড়া খুব মজাদার।
  -  কলেজ জীবনের কথা খু্ব মনে পড়ে। বন্ধুরা মিলে কত ঘুরেছি, মজা করেছি।
আমি কিছুটা হেসে হেসে কথাগুলো সমাপ্ত করলাম। আবুল আমাকে দ্বিতীয়বারের মতন সালাম দিলো।
.
আমি কি যেন মনে করে পিছনে ফিরে আবুলকে ডাকলাম।
  -  আচ্ছা, নয়ন সাহেব কি নিয়মিত যাওয়া-আসা করে?
  -  দশ-পনেরো দিন থেকে নিয়মিত আসে।
  -  ওহ, আজকে আসলে আমায় ফোন করিস তো।
  -  জ্বী স্যার।
  -  আর হ্যাঁ, তোর ম্যাডাম যেন না জানতে পারে।
  -  জ্বী স্যার, জানবো না।
.
আমি হাসিমুখে পঞ্চাশ টাকার একটা নোট আবুলের হাতে ধরিয়ে দিলাম। ছেলেটা খুশি হয়ে আমার দিকে চেয়ে থাকলো। আমি ওর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আপাতত একটা রিকশাকে ডাক দিলাম।
(চলবে)

#গল্পঃনিঃস্বার্থ_ভালোবাসা
#সাজ্জাদ_আলম_বিন_সাইফুল_ইসলাম
পর্ব: ২
.
.
অফিসে এসেও কাজে মন দিতে পারছিলাম না। বারবার শুধু আঁখির কথা মনে পড়ছিলো। মেয়েটা হঠাৎ এত দ্রুত পাল্টে গেল কেমন করে! আমার কথা, নিশির কথা কি একবারো ভাবলো না! আমি তো তাকে কোন কিছু থেকে কমতিতে রাখি নি, তাহলে কেন!
.
সারাদিন অফিসে থেকে দু'চারবার ফোনালাপ। অফিস থেকে ফেরার সময় ফুলের দোকান থেকে সুন্দর সুন্দর ফুল কিনে চুপটি মেরে ওর খোঁপায় গুঁজে দিতাম। সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে রাতে একসাথে খেতে বসতাম। মাঝে মাঝে জোৎস্না বিলাশ করতাম। আর কী চাই!
.
বিকেল চারটার আগেই চিড়িয়াখানার সামনে গিয়ে হাজির হলাম। সোহেল এখনো আসে নি। ঠিক চারটা পাঁচ মিনিটে একটা গাড়ি এসে দাঁড়ালো। আমি এগিয়ে গিয়ে সোহেলকে বুকে টেনে নিলাম। একসময় খুব ভালো বন্ধুত্বের বাঁধনে বেঁধে ছিলাম। এখন দু'জনই নিজ নিজ পরিবার নিয়ে ব্যস্ত। যদিও বা দু'জনের অফিসের দূরত্বটা খুব বেশি নয়।
.
দু'টো টিকিট সংগ্রহ করে ভিতরে ঢুকতেই আবুলের ফোন,
  - আসসালামু আলাইকুম স্যার,
  - ওয়ালাইকুম আসসালাম। কী খবর আবুল?
  - স্যার, নয়ন সাহেব একটু আগে আসলেন।
  - তুই তোর কাজ কর, ওসব নিয়ে ভাবিস না।
  -জ্বী স্যার।
ফোনটা কেটে দিয়ে পকেটে রাখলাম। অনেকদিন বাদে দু'বন্ধু একসাথে হতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
.
সকালে খাওয়ার পর আমার মুখখানা শুকিয়ে গেছে। দুপুরেও খাওয়া হয়নি। শুকনো মুখ দেখে সোহেল বললো,
  -  দুপুরে খাস নি? তোর মুখ এত শুকনো কেন?
  -  আসলে কাজের চাপে খাওয়া হয়নি।
সোহেলকে মিথ্যা কথা বলে হাঁটতেই থাকলাম। সোহেল আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
  -  পেটটার জন্যই তো চাকরি করছিস, তাকে অভুক্ত রাখলে কী করে চলবে!  চল আগে খেয়ে নিবি।
.
সোহেল আমাকে জোরপূর্বক হোটেলে নিয়ে গেল। দুপুরে খাওয়া সত্ত্বেও আমার অনুরোধে দ্বিতীয়বার খেল সোহেল। অনেকদিন বাদে একটা সুন্দর বিকেল পেলাম। সারা বিকেল ঘোরাঘুরি ও অনেক কথার পরে দু'জনই স্ব স্ব কর্মস্থলে ফিরে গেলাম। মনটা এখন অনেকটা হালকা লাগছে।
.
আজকে আঁখি একটিবারও ফোন দেয় নি। হয়তো বয় ফ্রেন্ডকে সময় দিতে গিয়ে আমার মতন হতভাগ্যকে ভুলে গেছে। তাতে কী! ও সুখে থাকলে আমি তো বাঁধা দিতে পারবো না। তবে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলের কারণে এখন  আমাকে মাশুল দিতে হচ্ছে।
.
গত দশদিন যাবত আঁখির সাথে ভালো করে কথা বলছি না। খুব প্রয়োজন হলে দু'একটা ছাড়া। নিশিকে বুকের ভিতর জড়িয়ে রাতটা কেটে দেই। শূন্যতায় পরিপূর্ণ আমার এ জীবন। আমি আমার জন্য ভাবি না, আমার ছোট্ট নিশির জন্য ভাবি, আমার সোসাইটির কথা ভাবি। কী করে সবার সামনে মুখ দেখাব!
.
গত দশদিনে নাকি নিয়মিত যাওয়া-আসা করে নয়ন। নয়ন সাহেব আমার থেকে বিত্তশালী হলেও ভালোবাসার দিক থেকে কখনোই এতটা বিত্তবান হবে না। বকুলকে নিয়মিত নিশিকে নিয়ে বিকেল হবার আগেই পার্কে পাঠিয়ে দেয়। বুকের ভিতর যন্ত্রনাটা বেড়েই যাচ্ছে। কী করবো ভেবে পাচ্ছি না!
.
মোবাইলটা হাতে নিয়ে সোহেলকে ফোন দিলাম,
  -  হ্যাঁ দোস্ত বল।
  -  বিকেলে একটু দেখা করতে পারবি?
  -  কেন বলতো? খুব আর্জেন্ট?
  -  এলেই বলবো না হয়।
  -  ঠিক আছে, আমি সঠিক সময়ে চলে আসবো।
.
চিড়িয়াখানার সামনে বসে আছি। আজ একটু তাড়াতাড়িই এসেছি। বুকের ব্যাথাটা বহুগুণ বেড়েছে। অনেক লোকজন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। অসহ্য! জীবনটাকে অসহ্য মনে হচ্ছে। সোহেল গাড়ি থেকে নেমে মোলাকাত করলো। আমি ম্লান হেসে টিকিট সংগ্রহ করে হাঁটতে লাগলাম।
.
গত এক মাসের কথা পুঙ্খানুপুঙ্খানুভাবে বর্ণণা করতে লাগলাম। কথাগুলো বলছি আর কাঁদছি। দু'জনে গাছের আড়ালে বসে আলাপ করছি। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে মেকি হেসে সোহেল বললো,
  -  নিজের শরীরের দিকে নজর দিয়েছিস? কী হাল করেছিস!
  -  বিষাক্ত পৃথিবীটাকে বিদায় দিতে ইচ্ছে করে।
  -  তোকে বাঁচতে হবে, নিশির জন্য বাঁচতে হবে। সব থেকে ভালো হবে ঘরের আবর্জনাকে দ্রুত উৎখাত কর। যে মেয়ে এত সুখের পরও অন্য ডালে বসতে পারে তার কী প্রয়োজন তোর জীবনে।
আমি ছোট্ট শিশুর মতন ওর বুকে মাথা রেখে কেঁদেই চলছি।
.
পরদিন....
আজ অফিস থেকে খুব তাড়াতাড়ি চলে এসেছি। আসার সময় নয়ন সাহেবকে অনুরোধ করেছি আমার বাসায় এই অসময়ে আসার জন্য। আমাকে এত দ্রুত আসতে দেখে আঁখি রীতিমতো অবাক!  হবারই তো কথা, আমি এমন সময় কখনোই তো অফিস থেকে বাড়ি আসি না। ব্যাগটা সোফার উপরে রেখে টাই খুলতে লাগলাম।
.
আমাকে দেখে আঁখি রান্নাঘর থেকে দৌঁড়ে আসলো। আমার কপাল নেড়ে বললো,
  -  আজ যে এত তাড়াতাড়ি আসলে? শরীর খারাপ করে নি তো?
  -  নাহ, তুমি তোমার কাজ করো।
আমার সাথে বেশি কথা না বলে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ালো। আমার বুকটা কাঁপছে। একটু পর যা ঘটতে যাচ্ছে তা হয়তো আমি ১০০% সফল হবো। কিন্তু তারপর আমার কী হবে! তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বসে থাকলাম।
.
গাড়ির হর্ণের আওয়াজ কানে পৌঁছাতেই বুঝতে পারলাম নয়ন সাহেব এসেছে। নয়ন সাহেব নিতান্তই ভালো মানুষের মতন আমাকে সালাম দিলো। আমি সালাম গ্রহণ করে তাকে বসতে বললাম। আঁখি রান্নাঘর থেকে এসেই বললো,
  -  নয়ন তুমি এসময়?
আমি বললাম,
  -  আমি ডেকেছি। তোমাদের সাথে আমার কথা আছে।
  -  বেশ তো, বলো।
আঁখি কথাটা বলে দাঁড়িয়ে থাকলো। আমি দাঁড়ালাম।
.
বললাম,
  -  দেখ আঁখি, আমাকে তোমার পছন্দ নয় তা তুমি বিয়ের আগেই বলতে পারতে। কেন তুমি আমার জীবন নিয়ে খেলছ?
আঁখি আমার কথা শুনে কিছু হতভম্ব হয়ে বললো,
  -  তুমি কী বলছো? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
  -  না বোঝার কি আছে আঁখি? অস্বীকার করতে পারবে, নয়ন নিয়মিত আমার বাসায় যাতায়াত করে না? অস্বীকার করতে পারবে তুমি তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোল নি? অস্বীকার করতে পারবে নয়নের সাথে তুমি ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলো না?
খুব জোর গলায় কথাগুলো বলে হাঁপাতে লাগলাম। আঁখি আমার দিকে এগিয়ে আসতেই হাতের ইশারায় না করে দিলাম।
.
আঁখি ও নয়ন দু'জনেই বুঝতে পেরেছে আমি সবটা জেনে গেছি। আঁখি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। নয়নও বেশ অবাক হয়েছে। আমি চাপা গলায় বললাম,
  -  আমি এ সম্পর্কটাকে বাড়াতে চাচ্ছি না। আমি তোমাকে এই মূহূর্তেই ডিভোর্স দিবো। তবুও তোমরা সুখে থাকো।
আমার কথায় আঁখি জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো। নয়নও কিছু বলছে না। কিছুক্ষণের মধ্যে কম সময়ের ব্যবধানে উকিল সাহেব ও আঁখির বাবা আসলেন।
.
আঁখির বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে?
আমি বললাম,
  -  দয়া করে আপনি বসুন। আমাকে আর এ ব্যাপারে প্রশ্ন না করে আঁখিকে করুন। উকিল সাহেব পেপারটা দিন, আমি সাইন করে দিচ্ছি।
উকিল সাহেব পেপারটা আমার হাতে দিলেন। আমি সেটা সাইন করে দিলাম। উকিল সাহেব এবার পেপারটা আঁখির উদ্দেশ্যে বাড়ালো। আঁখি সাইন করে দেয়ার সময় অশ্রুভারাক্রান্ত চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছিলো। আমি চোখ সরিয়ে নিয়ে ডাকলাম,
  -  বকুল, বকুল।
বকুল নিশিকে নিয়ে এসে বললো,
  -  জ্বী ভাইজান।
  -  তোমার ম্যাডামের সব কাপড়-চোপর গুছিয়ে দাও।
আমার কথায় বকুল কাঁপতে লাগলো। আমি জোরে ধমক দিতেই দ্রুত বেডরুমের দিকে দৌঁড় দিলো। আমি নিশিকে কাছে টেনে নিলাম।
.
আঁখি পেপারটা সাইন করে দিয়েছে। এতক্ষণে আঁখির বাবা বুঝতে পেরেছে ঘটনা কী! তিনি লজ্জায় মুখ নামিয়ে নিয়ে কাঁদছেন। আমি নিশিকে বুকের ভিতর টেনে নিয়ে বললাম,
  -  নিশি কার সন্তান? আমার নাকি নয়ন সাহেবের?
জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো আঁখি। কড়জোরে মিনতি করে বললো,
  -  ও কথা তুমি বলো না প্লিজ, নিশি তোমার সন্তান।
  -  তাহলে নিশি আমার কাছেই থাকবে।
  -  আমার একমাত্র অবলম্বনটুকু কেড়ে নিও না প্লিজ।
  -  অবলম্বন! ঠিক আছে। নিশি যার কাছে থাকতে চাইবে তার সাথে থাকবে।
.
আমি নিশিকে বুকের ভিতর থেকে ছেড়ে দিয়ে বললাম,
  -  মামনি তুমি কাকে চাও? আম্মুকে না আব্বুকে?
নিশির আমার বুকের ভিতর ঢুকে পড়লো। আঁখির বুঝতে বাকি রইলো না যে নিশি আমার সাথে থাকতে চায়। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,
  -  তোমার মোহরানা তো পরিশোধ করে দিয়েছি। তোমার আর কিছু নেয়ার থাকলে বলো।
আঁখি কাঁদতে কাঁদতে বেডরুমে গিয়ে সুটকেসটা নিয়ে বের হয়ে আসলো। আমি তাকে বললাম,
  -  তোমাকে আমি সুখী করতে পারি নি, তোমার যোগ্য স্বামী হয়ে উঠতে পারি নি। তোমাকে ভালোবাসতে পারি নি বলেই হয়তো তোমাকে হারিয়েছি। তবে শেষবেলা একটা কথা মনে রেখ, আমি তোমাকে সত্যিই অনেক ভালোবেসেছিলাম, যেটা হয়তো তোমাকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। তোমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছিলাম।
.
কথাগুলো শুনে আঁখির বাবা কান্নাজনিত কণ্ঠে লজ্জায় আগেই চলে গেল। এতকিছু হয়ে যাওয়া পরেও নয়ন একটা কথা বললো না। সুটকেসটা হাতে দাঁড়িয়ে নিশিকে একবার ডাকলো। নিশি ছোট্ট হলেও মায়ের কাছ থেকে মুখ সরিয়ে নিয়ে আমার বুকের ভিতর লুকালো।
.
নয়ন আঁখির হাতটা ধরে বললো, 'চলো আঁখি।'  আঁখি অশ্রুজল চোখে চলে যাচ্ছে আর বারবার ফিরে তাকাচ্ছে। আমি নিশিকে বুকের ভিতর নিয়ে দু'জনে হাউমাউ করে কাঁদছি।
(চলবে)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ