#সীমাহীন_ভালোবাসা
#সাজ্জাদ_আলম_বিন_সাইফুল_ইসলাম
#পর্বঃ৫(শেষ)
.
.
ডাক্তারের চেম্বার থেকে ফেরার কিছুদিন অতিবাহিত হয়ে গেল। বুক বেঁধে আশায় আছি কবে তিনি ফোন দিয়ে বলবেন চোখের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। হঠাৎ কেউ ফোন দিলে মনে মনে ভাবি এই বুঝি ডাক্তার সাহেবের ফোন এলো। এদিকে সায়মার মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। হয়তো সেও মনে মনে তার স্বামীকে দেখার জন্য অধির আগ্রহে বসে আছে।
.
ডাক্তার সাহেবকে আমি নিজেই একদিন ফোন করে বললাম,
- জনাব, চোখের ব্যবস্থা কিছু হয়েছে?
- আজ্ঞে না, ব্যবস্থা হলে আমি নিজেই আপনাকে জানাবো।
- আচ্ছা ধন্যবাদ।
ডাক্তার সাহেবের কথা শুনে মাথা চুলকাতে লাগলাম। আর কতদিন অপেক্ষা করবো? আমি আবার অপেক্ষা নামক জিনিষটার সাথে বেশি পরিচিত নই। ভালো লাগে না শব্দটাকে।
.
এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ডাক্তার সাহেবের ফোন আসলো, আমি দ্রুত রিসিভ করে বললাম,
- কেমন আছেন ডাক্তার সাহেব?
- আজ্ঞে ভালো আছি।
- চোখের কোন খবর আছে নিশ্চই?
- জ্বী, একটা ছেলে চোখ বিক্রি করতে চায়, হয়তো ফ্যামিলিতে কোন সমস্যার কারণে। তবে দু'টো নয়, একটি।
- আপাতত এটাই যথেষ্ট। টাকা নিয়ে আপনি ওকে চিন্তা করতে নিষেধ করবেন। যত টাকা চাবে আমি দিয়ে দিব।
- আচ্ছা জনাব। আমি তাহলে অপারেশনের ব্যবস্থা শুরু করি?
- জ্বী, অবশ্যই।
.
চোখ পাওয়া গেছে শুনে বাবা-মা ভীষণ খুশি হলেন। সায়মার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ম্লান হাসি। হয়তো এর কারণটা আমি অনুধাবন করতে পারছি। মেয়েটা অন্ধ হলেও আমি জীবনটাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছে। সায়মাকে পেয়ে আমি ধন্য।
.
বাবা-মাকে কথাটা বলে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণের মধ্যে সায়মা আসলো। আমি ওকে কাছে টানতেই বলে উঠলো,
- কি করছো?
- কিছু না। তুমি খুশি হওনি?
- ঢের খুশি হয়েছি। তুমি আমার জন্য এত কিছু করলে! মাঝে মাঝে ভাবতে অবাক লাগে।
- তোমার জন্য তো কিছু করিনি, আমার ভালোবাসার মানুষের জন্য করেছি।
- একটা অনুরোধ করবো?
- করো।
- চোখ খুলে কিন্তু সবার আগে তোমাকে দেখব।
আমি হাসতে হাসতে বললাম,
- তা না হয় দেখ। এখন কিছু খেতে দাও।
সায়মা মিষ্টি হাসি দিয়ে ডাইনিং টেবিলের দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে গেল।
.
নির্দিষ্ট দিনে সায়মাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলাম। সায়মা আমার শার্টের কলার খামচে ধরে বলছে,
- আমার খুব ভয় করছে সজীব।
আমি মুচকি হেসে বললাম,
- ডাক্তাররা তোমাকে খেয়ে ফেলবে না। আজ তোমার অপারেশন হবে, তারপর আবার তুমি দেখবে। আমাকে দেখবে, বাবা-মাকে দেখবে, এই সুন্দর পৃথিবীটাকে দেখবে।
তবুও সায়মার চোখে মুখে ভয়ের ছাপ দেখলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব আমাকে ডাকলেন।
.
বাবা-মা ব্যাপারটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। আমি তাদেরকে অনেক বুঝাচ্ছি। কিন্তু তারা তো বাবা-মা! অবশেষে আমার কথায় হার মেনে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ কাঁদলো। আমি হাসিমুখে অপারেশন থিয়েটারে গেলাম।
.
সায়মা আস্তে আস্তে চোখ খুলছে। আমার বুকের ভিতরটা দুরুদুরু করছে। না জানি কি হয়। তবুও ডাক্তারদের উপর খুব ভরসা করতে ইচ্ছে হচ্ছে। সায়মা চোখ খুলে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আমি ভয় পেয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম। সায়মার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরছে।
.
আমি সায়মার সামনেই বসে আছি। সায়মাকে বললো,
- সজীব তোমার চোখে ব্যান্ডেজ কেন?
আমি হেসে বললাম,
- ও কিছু না সায়মা। তুমি ঠিকঠাক দেখতে পাচ্ছ তো?
দাঁতের উপর দাঁত থুয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে কেঁদে বললো,
- আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো, এত বেশি তা জানতাম না। তুমি কেন এ কাজ করেছ? তুমি সবসময় আমাকে ঋনী করে রাখ। কেন কেন?
.
আমি মাথা নিচু করে বললাম,
- ঋন বলছো কেন সায়মা? এটা তো আমাদের ভালোবাসা, সীমাহীন ভালোবাসা।
- সেজন্য তুমি নিজের চোখ আমাকে দিয়ে দিবে? আমি চাই না এ চোখ।
বলেই সায়মা হুঁ হুঁ করে কাঁদতে লাগলো। মা সায়মাকে চুপ করিয়ে বললো,
- আমার পাগল ছেলেটা তোমাকে সত্যিই খুব ভালোবাসে।
- মা তাই বলে নিজের সর্বস্ব দিবে?
আমি বললাম,
- কই সর্বস্ব দিলাম সায়মা? ভাগাভাগি করে নিয়েছি। আবার চোখ পাওয়া গেলে না হয় তখন এর ব্যবস্থা করবো। ছেলেটা চোখ দিতে চেয়ে পরে আর দিলো না। ওর নাকি টাকার যোগাড় হয়ে গেছে। কিন্তু আমি তোমাকে কথা দিয়েছিলাম আজই তোমার অপারেশন হবে। এখন যদি তোমাকে বলতাম ছেলেটা তার ডিল উইড্রো করে নিয়েছে তখন তোমার হয়তো মন খারাপ দেখতাম। কিন্তু বিশ্বাস করো তোমাকে সবসময় আমি হাসি খুশি দেখতে চাই।
.
বাবা-মা ঘর থেকে চলে গেলেন। সায়মা আমার বুকে মাথা রেখে কেঁদেই যাচ্ছে। আমি ওকে আর থামাচ্ছি না, কারণ কাঁদলে নাকি মানুষের মন শান্তি পায়। হয়তো এভাবে কাঁদতে কাঁদতে একসময় ঠিকই চুপ হয়ে যাবে। আপাতত সায়মার ছোঁয়া আমাকে তৃপ্ত করছে।
.
সায়মাকে বাড়ি নিয়ে আসলাম। তারপরও ওর মুখ সবসময় খারাপ দেখতাম। আমি জিজ্ঞেস করলেও বলতো না। তবে আমি ঢের বুঝতে পারছিলাম ওর মন খারাপের রহস্য সম্পর্কে। আমি ওকে কিছুই বলতাম না। শুধু মন খারাপের সময়টুকু জড়িয়ে আদরে ছুঁয়ে দিতাম। তখন কিছুক্ষণের জন্য হয়তো ও সব দুঃখ কষ্ট ভুলে যেত। ওর হাসিমাখা মুখটা আমার খুব পছন্দ।
.
একদিন সিফাতের হঠাৎ আগমন। সাথে নিশিও আছে। বন্ধের দিন বলে হয়তো সময় মিলেছে। আমি সিফাতকে দেখেই বললাম,
- ভালো তো ভালো না, আমাকে একেবারেই ভুলে গেলি?
- ভুলে গেলে কি আর আসি নাকি? তুইও তো খোঁজ নিস না।
- তুই তো জানিস, বাবার বড় ব্যবসা। সেখানেই সারাদিন সময় কাটে।
- আর সায়মা আপাকে সময় দিস না? তোদের এমন ভালোবাসা শিরি-ফরহাদকেও হার মানায় দোস্ত।
- বেশি কথা বলিস না। মহারানীর খুব রাগ। আগে তোরা ভিতরে যা, তারপর সব কথা হবে।
সিফাত হাসতে হাসতে নিশিকে নিয়ে ভিতরে গেল। আমিও ওদের পিছনে পিছনে ছুটে গেলাম।
.
৫ বছর পর.......
সায়মার কোল আলো করে একটা মেয়ে হয়েছে। মেয়েটা দেখতে সায়মার মতই সুন্দর হয়েছে। বাবা-মায়ের পুরোটা সময় কাটে তিথিকে নিয়ে। বাবা ব্যবসার সব কাজকর্ম আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে রিটায়ার্ড করেছেন। এখন আমি সবকিছু দেখতে হাঁপিয়ে উঠি, তবুও কিছু করার নেই।
.
ওহ বলাই হয়, তিথি যখন ওর মায়ের পেটে তখন দু'টো চোখ পেয়েছিলাম। যার ফলে আমরা আগের মতই চলাফেরা করতে পারি। সায়মা আর মুখ ভার করে থাকে না। হাসিখুশিতে আমরা ভালোই আছি। সায়মা যে একসময় অন্ধ ছিলো সেটা আমি ভুলে গেলেও সায়মা ভুলে যায়নি।
.
তাই হয়তো মাঝে মাঝে আমাকে বলে,
- মাঝে মাঝে তোমাকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় সজীব।
- কেন বলতো?
- তোমার এত ভালোবাসা আমাকে পুড়িয়ে মারে।
- দাম দিতে চাও?
- হ্যাঁ চাই।
- তাহলে যা চাইবো তাই দিবে?
- হ্যাঁ দিবো।
- সারাজীবন আমাকে ভালোবাসবে? আমাকে সীমাহীন ভালোবাসা দিতে পারবে?
সায়মা মুচকি হেসে আমার বুকে মাথা রাখে। আমিও ওর চুলে বিলি কেটে দেই।
(সমাপ্ত)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž
4423 (3)
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§Ž:ā§Ģ⧍ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ