এক..
বাহিরে অনেক বৃষ্টি,ছাতাটা নিয়ে যাও।
"
আমি যখনি সিড়ি দিয়ে নামতে যাব তখনি পেছন থেকে কথা টা শুনতে পেলাম।
বিরক্তি নিয়েই পেছনে তাকিয়ে দেখি সুপ্তি হাতে ছাতা নিয়ে দারিয়ে আছে।
"
সুপ্তি আমাদের পাশের ফ্লাটয়েই থাকে।মেয়েটাকে কেন যেন আমার ভাল লাগে না।সবসময় ছেলেদের মত জিন্স আর টি শার্ট পরে থাকে।মেয়ে মানুষ মেয়েদের মত থাক ছেলেদের মত হতে হবে কেন।তবে মেয়েটা দেখতে বেশ ভালো।
"
আমি ছাতাটা না নিয়েই নিচে নেমে আসলাম।বাইরে অনেক বৃষ্টি।এখন মনে হচ্ছে ছাতাটা নেওয়াই ভাল ছিল।
বৃষ্টিতে ভিজলে আবার আমার অনেক সমস্যা হয়।বিরক্তি নিয়েই বসে রইলাম বৃষ্টি থামার অপেক্ষায়।
"
ছাতাটা নিয়ে যাও। কথাটা শুনে মুখ তুলে তাকিয়ে দেখি সুপ্তি দারিয়ে আছে।মেয়েটা উপর থেকে নিচে এসেছে আমাকে ছাতা দেওয়ার জন্যে।আমার জন্যে এতো ভালবাসা কেন আমি সেটাই বুঝে উঠতে পারলাম না।
'
এইবার ছাতাটা আর হারাতে চাই না।হারালে আমার আজ আর কোন ক্লাস ই করা হবে না।সুপ্তির হাত থেকে ছাতাটা নিয়ে বাইরে বের হওয়ার সময় সুপ্তির মুখের দিকে তাকালাম।
মেয়েটার মুখ দেখে মনে হচ্ছে ছাতাটা নেওয়ায় অনেক খুশিই হয়েছে।
দুই....
কলিংবেলের আওয়াজ শুনে দরজা খুলে দেখি সুপ্তি হাতে প্লেট নিয়ে দারিয়ে আছে।
আমি কিছু বলার আগেই প্লেট টা এগিয়ে দিয়ে বলল তোমার তো বিরিয়ানি পছন্দ তাই আমি নিজেই রান্না করে নিয়ে এলাম।
'
আমি কিছুটা অবাক হয়েই সুপ্তির দিকে তাকালাম।আমার যে বিরিয়ানি পছন্দ এইটা ও কিভাবে জানলো।
খুব ক্ষুধা লাগছে তাই কিছু না বলেই প্লেটটা নিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলাম।
মেয়েটাকে একটা ধন্যবাদ দেওয়া উচিত ছিল তাই আবার ও দরজা খুলে যেই ওদের ফ্লাটের দিকে যাব তখনি দেখি সুপ্তি এখনও দরজার পাসে দারিয়ে আছে।
'
আমাকে দেখে একটা পিরিচ এগিয়ে দিয়ে বলল পায়েস টা দিতে ভুলে গেছিলাম।
আমি মুচকি হেসে পায়েসের পিরিচ টা নিলাম।আমি জানি মেয়েটা আমাকে আর একবার দেখার জন্যেই তখন পায়েস টা দেয় নাই।
আমি কেমন যেন মেয়েটার মায়ায় পরে যাচ্ছি। ওকে ধন্যবাদ দিয়ে আমি রুমে চলে আসলাম।
তিন...
আমি তোমাকে ভালবাসি আহাদ।
"
ছাদে রেলিং এ হাত দিয়ে দারিয়ে আছি।হঠাৎ কেও যেন উপরের কথাটি বলল।
আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি সুপ্তি মাথা নিচু করে দারিয়ে আছে।আমি কিছু বলতে পারলাম না।
মেয়েটা আবারও বলতে শুরু করলো,,
অনেক দিন ধরে বলতে চেয়েও পারিনি কেমন যেন ভয় ভয় লাগতো। কিন্তু আজ বলেই দিলাম। আমি তোমার জননে সব কিছুই করতে পারব।
'
আজ ভয় পেলে না।
সুপ্তি কিছুই বলল না।
আমি কিছুক্ষন চুপ থেকে বললাম সব করতে পারবে।
সুপ্তি একটু জোর দিয়েই বলল হ্যা।
আমি চাই তুমি বাঙালি মেয়েদের মত পোশাক পড়ে তাদের মত চলাফেরা কর।কথাটি বলে আমি আর দাড়ালাম না।
চার....
কিছুদিন হল সুপ্তিকে আর দেখতে পাই না।নিজের কাছে কেমন যেন ফাকা ফাকা লাগে।মনে হচ্ছে আমার খুব কাছের কেও হারিয়ে যাচ্ছে আমার থেকে।মনে হচ্ছে মেয়েটাকে আমিও ভালবেসে ফেলেছি।
এর মাঝে অনেক বার সুপ্তির মায়ের সাথে দেখা হয়েছে কিন্তু কেন যেনো সুপ্তির কথা জিজ্ঞেস করতে পারিনি।
"
আজ বিকেলে যখন বাইরে বের হতে যাব তখনি দেখি সুপ্তি দরজার সামনে দারিয়ে আছে।সুপ্তিকে দেখে মনে হল আমার দেহে প্রান ফিরে এসেছে।
কিন্তু সুপ্তি যে এইকয়েক দিনে নিজেকে এইভাবে পালটে ফেলবে তা আমি বুঝতে পারিনি।
'
সুপ্তি শাড়ি পড়ে আমার সামনে দারিয়ে আছে।
আমি খুশি হলেও মুখে রাগি ভাব নিয়ে সুপ্তিকে বললাম এতদিন কোথায় ছিলে?
সুপ্তি মাথা নিচু করে বলল তোমার জন্যে নিজেকে পরিবর্তন করলাম।
আমি কিছু না বলে যখনি নিচে নামতে যাব তখনি সুপ্তি আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।
পরিশিষ্ট.....
সুপ্তি কান্না করছে,যাকে বলে অঝোর ধারায় কান্না করছে।
বন্ধুদের সাথে একটু বেড়াতে যাব কিন্তু মেয়েটা আমাকে তার কাছে থেকে যেতেই দেবে না।
'
আমি আবারও বললাম আমি তো মাত্র দু, তিনদিনের জননে যাচ্ছি। আবার তোমার কাছেই ফিরে আসবো।
কিন্তু না,মেয়েটা আমাকে ছাড়ছেই না জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।আমার ও মেয়েটাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। তবুও যেতে হবে না হলে বন্ধুরা আবার রাগ করবে।
'
বাস চলে এসেছে,এবার আমাকে যেতে হবে কথাটি বলেই আমি বাসে উঠে পরলাম।
জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি সুপ্তি এখনো কাঁদছে। নাহ আমারও ভাল লাগতেছে না।বাস চলতে সুরু করেছে।জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি সুপ্তিও বাসের পেছন পেছন দৌড়াচ্ছে আর কান্না করতেছে।
'
আমি বাস থামাতে বললাম।আমি যাব না।ড্রাইভার কেমন করে যেন তাকালো।
বাস থেকে নেমে দেখি সুপ্তি এখনও দৌড়াচ্ছে।মেয়েটা এসে জরিয়ে ধরে আমার বুকে মাথা রেখে কাঁদতে শুরু করল।
আমি কপালএকটা চুমু একে দিলাম আর মনে মনে বললাম এই ভালবাসা হারাতে নেই।
-------------------------------------
(জিন্স পড়া মেয়েটির প্রেমে পড়ে গেলাম)
Abdul Ahad(অলস বালক)
"
#03
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ