ফজরের নামাজ শেষ করে বাসার দিকে রওনা দিলাম।আল্লায় জানে আবার যে কোন বিপদে পড়ি।তবে ভালই লাগছে।আজ তো শুক্রবার।সারাদিন শুধু ঘুমাবো।
"
কলিং বেল বাজাতেই অবনী দরজা খুলে দিল।মনে হয় দরজার পাশেই ছিল।বেল চাপ দেওয়ার সাথে সাথেই দরজা খুলে গেল।
আমি ভেতরে ঢুকেই অবনীকে জড়িয়ে ধরতেই ও ছাড়িয়ে নিয়ে বললো,
-আরে কি করো।রোজার দিনে কোন রোমান্স হবে না।কথাটি বলেই অবনী চলে গেল।
কি বলে মেয়েটা।সামান্য একটু জড়িয়ে ধরলেই কি রোজা শেষ হয়ে গেল নাকি।যাই হোক এখন একটু ঘুমানো যাক।
"
আমি কোল বালিশটা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।আহ কি শান্তির ঘুম।কোলবালিশে আবার চুল আসলো কোথা থেকে।সড়িয়ে দিতেই আবার হাতের উপর এসে পরলো।
'
এই অবনীকে নিয়ে আর পাড়া গেল না।মাঝে মাঝে খাওয়ার সময়ও ভাত বা তরকারীরর মদ্ধে চুল পাওয়া যায়।এখন আবার আমার প্রিয় কোল বালিশের সাথেও।মেয়েটার এতো চুল ওঠে কেন এটাই বুঝতে পারিনা । আমি এবার জোরে টান দিয়ে সড়িয়ে দিতে চাইলাম।
"
উফফফফ.....
'
এমা কোল বালিশ আবার কথাও বলে।আমি চোখ খুলে তাকাতেই একটা বড় রকমের ধাক্কা খেলাম।অবনী!ও এখানে কেন।তাহলে এতক্ষন কোলবালিশ ভেবে অবনীকেই জড়িয়ে ধরে ছিলাম।আর অবনী আসার পর থেকে আমার কোলবালিশটা যে কোথায় গেল সেটা আমিও বুঝতে পারলাম না।
"
মেয়েটা যেভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে এখনি খেয়ে ফেলবে।আমি কিছু বলার আগেই অবনী রাগি চোখে বললো,
-কি হলো এটা?
আমি আমতা আমতা করে বললাম,
-আসলে আমি ভাবছিলাম কোলবালিশ।তুমি কখন এসে শুয়েছো আমি সেটাই বুঝতে পাড়িনি।
-কিইইই!আমি কোলবালিশ।দাড়াও দেখাচ্ছি মজা।কথাটি বলেই অবনী ওর পা আমার উপর তুলে দিয়ে বললো, এখন থেকে এভাবেই থাকবো
আর তুমিই আমার কোলবালিশ।
'
আমি আর কিছু বললাম না।যাক বাবা অল্পের উপর দিয়েই রাগ কমে গেছে।সেদিন জোহরের নামাজে না যাওয়ার জন্যে তো প্রায় এক ঘন্টা এক পায়ে কান ধরে দাড় করিয়ে রেখেছিলো। আজ আর সে ভুল করছি না।সবার আগে গিয়ে মসজিদে হাজির হবো।
"
বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে অবনী।বিশাল সম্পত্তির মালিক হওয়া সত্তেও অবনী সব ছেড়ে পালিয়ে আমার কাছে এসেছিল।সেদিন ওকে ফিরিয়ে দিতে পারিনি।
মেয়েটা বড্ড বেশিই ভালোবাসে আমাকে।
ও আগে রোজা থাকতো না।বড় লোক বাবার মেয়ে তো,একটু বেশিই আদরের ছিল।তবে কাল যখন রোজার সম্পর্ক এ সবকিছু বললাম তখন থেকেই সে বায়না ধরে ছিল যে রোজা রাখবে।আমি অনেক বুঝালাম যে তুমি কোনদিন থাকনি।পারবে না,কষ্ট হবে।কিন্তু কে শোনে কার কথা।সেহেরীতে ও নিজেই আমাকে টেনে তুলেছিল।
"
জোহরের নামাজ শেষে একটু টিভিটা অন করলাম।দেখি আজ কার খেলা হচ্ছে।সেদিন তো বাংলাদেশ আমাদের আশায় রেখে নিরাশায় ডুবিয়ে দিল।
"
এইটা কি হলো।আমি অবনীর দিকে তাকিয়ে কথাটি বললাম।
খেলা যখনি শুরু হলো তখনি অবনী এসে রিমোটটা নিয়ে একটা ইসলামিক চ্যানেলে দিল।গজল আর কোরআন তেলাওয়াত হচ্ছে।
-রোজার দিনে এইগুলাই দেখতে, শুনতে হয়।খেলা বাদ।
বলে কি মেয়েটা। একটু খেলা দেখলেই সমস্যা।আমি আর কিছু বললাম না।কিছু বললেই তো আবার শাস্তি শুরু হয়ে যাবে।আমি চুপচাপ কোরআন তেলাওয়াত শুনতে লাগলাম।
"
আমি বুঝতে পারছি না এই মেয়েটা কিভাবে এতক্ষন না খেয়ে আছে।ও তো কোনদিন রোজা থাকতোনা।বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে হলে যা হয়।নিজে কখনও ভাত বেড়ে খেতো না।আর সে এখন রান্না ঘরে রান্না করছে।
'
আমি রান্না ঘরে যেতেই অবনী বললো,আছরের আজান হয়ে গেছে, যাও নামাজ পড়ে এসো।
-আজ বাসায়ই পড়ি তোমার সাথে।আমি অবনীকে কথাটি বলতেই ও কেমন করে যেন তাকালো আমার দিকে।কি এমন বললাম যে এইভাবে তাকাতে হবে।আসলে শরীরের অবস্থা একদম খারাপ।নড়তে পারছি না।তাই বাসায় ই পড়তে চাইলাম কিন্তু অবনী মনে হয় বাসায় পড়তে দেবে না।
আমি মসজিদে যাওয়ার জন্যে দরজা খুলতেই অবনী বললো, শুধু আজকেই।আর কোনদিন কিন্তু হবে না।আমার মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠলো।
"
নামাজ শেষে অবনীর কাছে আসলাম।মেয়েটা একা একা রান্না করছে।যে মেয়ে কোনদিন রান্না ঘরে যায়নি সে আজ রান্না করছে।অবনী আমাকে দেখেই বললো,তুমি একটু এইখানে দাড়াও আমি নামাজটা পড়ে আসি।আমি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাতেই অবনী রান্না ঘর থেকে চলে গেল নামাজের জন্যে।আগে তো আমি নিজেই রান্না করতাম।তাই আর কোন সমস্যা হলো না।
"
অবনী নামাজ পড়তে গেছে প্রায় অনেক্ষন হল।এখনো আসছে না কেন!সারাদিনের ক্লান্তিটা হয়তো বেড়ে গেছে তাই হয়তো একটু বিশ্রাম নিচ্ছে।আমি আর অবনীকে ডাকলাম না।নিজেই সবকিছু করতে লাগলাম।রান্না প্রায় শেষ।কিন্তু অবনীর তো এতক্ষনে আসার কথা।আমি রান্না নামিয়ে অবনীর কাছে গেলাম।
""
এইটা তেমন কিছু না।সারাদিন না খেয়ে ছিল তাই শরীরটা একটু দৃর্বল হয়ে গিয়েছিল।যার ফলে অজ্ঞান হয়ে যায়।আপনি ওকে এখন বাসায় নিয়ে যেতে পারেন।
আমি ডাক্তারের কথায় একটু স্বস্থি পেলাম।অনেক টেনশানে ছিলাম।মেয়েটার যে খারাপ লাগছে এইটা আমাকে একবার বলেও নি।অবনীর দিকে তাকাতেই দেখি মেয়েটা আমার দিকে ভীত চোখে তাকিয়ে আছে।
'
অবনীকে জায়নামাজে পড়ে থাকতে দেখে আমি কিছুটা ভয়ই পেয়েছিলাম।অবনীকে ডাকার পর যখন কোন সাড়াশব্দ পেলাম না তখন আমার ভয়ের মাত্রাটা আরও একটু বেড়ে গেল।অবনীকে ধরতেই ও আমার কোলে ঢলে পরলো।আমি আর দেড়ি করলাম না।অবিনীকে নিয়ে সোজা হাসপাতালে।
"
অবনীকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।ইফতার শেষে বাসায়ই নামাজ পড়ে অবনীকে খাবার টেবিলে বসালাম।
-আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।
কি মেয়েরে বাবা না খেয়ে থাকার জন্যেই এই অবস্থা হলো আর এখন বলে খাবে না।আমি এবার আর অবনীর কোন কথাই শুনলাম না।
'
আমি অবনীকে খায়িয়ে দিচ্ছি আর মেয়েটা বাচ্চা মেয়েদের মতো মুখ ফুলিয়ে খাচ্ছে।কতবার বললাম না থাকতে পারলে জোর করে থাকার দরকার নাই।যখন পারো তখন থেকে দিলেই হবে।কে শোনে কার কথা।
খাওয়ার শেষে অবনীর চোখের কোনের বিন্দু জল আমার চোখ এড়ালো না।
"
আমি উঠতেই অবনী বললো,তুমি বসো আমি এগুলো ধুয়ে আনছি।অবনীর কথায় আমার রাগের মাত্রাটা বেড়ে গেল।আমি বললাম,
কোন কথা নয়।এখন লক্ষী মেয়ের মতো যাও ঘুমিয়ে পড়ো।
"
আমি থালা বাসন পরিষ্কার করে এসে দেখি অবনী এখনও সেখানেই বসে আছে।আমি আর কিছু বললাম না।অবনীকে নিয়ে রুমে চলে আসলাম।
"
মেয়েটা আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমুচ্ছে।কি নিষ্পাপ লাগছে মেয়েটাকে।তবে ঘুমানোর আগে বলেছে সেহেরীতে যেন আমি ডেকে দেই।আর না ডেকে দিলে আমার অবস্থা যে কি হবে এটা আমি এই কয়েকদিনে বুঝে গেছি।
"
আমি তাকিয়ে আছি অবনীর মিষ্টি মুখের দিকে।মনে হচ্ছে আমি আবারও মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেলাম।এখন আমার একটি গানই মনে পড়ছে।
আমি আবার আর একটি বার
তোমার প্রেমে পড়তে চাই।
-------------------------------------
(অবনী আর আমার ভালোবাসার গল্প)
"
Abdul Ahad(অলস বালক)
"
#17
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ