প্রসঙ্গ: ডাক্তারবাবু
((পর্ব: ১))
(এটা কোন গল্প নয়। জীবনের বাস্তব কিছু চিত্র। সুতরাং গল্প ভেবে ভুল করবেন না।)
.
.
.
আলিম ক্লাস শেষ করার জন্য শহরের মাদরাসায় ভর্তি হয়েছিলাম। আমার বাড়ি থেকে মাদরাসা যেতে সাইকেলে সময় লাগতো মোটামুটি ৩০ মিনিট। যদিও তখনো শহরে সাইকেল চালাতে পারদর্শী ছিলাম না তবুও সাইকেলে যেতে হতো। আমাদের গ্রাম থেকে আমি একাই যেতাম সেই মাদরাসায়।
এভাবে কিছুদিন যাবার পর হঠাৎ একটা ছেলের সাথে পরিচয় হলো। ছেলেটা আমাদের মাদরাসায় ক্লাস নাইনে পড়তো। আমাদের পাশের গ্রামেই বাড়ি ছিলো।
ছেলেটার কণ্ঠে ছিলো সুরের যাদু। একটি শিল্পীগোষ্ঠীর আন্ডারে কাজ করতো। ওর কণ্ঠ শুনে আমি বিমোহিত হয়ে গিয়েছিলাম। সবসময় আমাকে ভাই ভাই বলে মুখে ফেনা তুলতো। আসার সময় প্রতিদিন একসঙ্গে ফিরতাম।
ওর নাম ছিলো রাহিফুল ইসলাম। রংপুরের ঐতিহ্যবাহী 'বহমান শিল্পীগোষ্ঠী' কিশোর শিল্পী।
রাহিফুল অনেক কথাই আমার সাথে শেয়ার করতো। অনেক পড়া বিষয়ে সাজেসন্স নিতো। আমিও ছোট ভাইয়ের মতো ওকে দেখতাম।
একদিন ফেরার পথে রাহিফুল বললো, 'ভাইয়া আজকে একটু ওষুধের দোকানে থামতে হবে। চাচা একটা প্রেসক্রিপশন দিছে ওষুধ নেয়ার জন্য।'
আমি হেসে বললাম, 'আচ্ছা সমস্যা নাই। আমিও তোমার সাথে যাব।'
রাস্তার পাশেই ছিলো দোকানটা। বলে রাখা ভালো যে, প্রতিদিন যাওয়া-আসার সময় দোকানটাকে দেখি। যাওয়ার সময় বন্ধ থাকে আর আসার সময় খোলা থাকে। লোকটার সাথে মাঝে মাঝে লোকটার সাথে চোখাচোখি হয়।
রাহিফুল ওই দোকানটাতে নামলো। আমিও সাইকেলে তালা দিয়ে ঢুকলাম। ঢুকেই সালাম দিলাম।
রাহিফুল ওষুধ নিলো। আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। খুব বেশি কথা না হলেও দু'চারটা কথা হয়েছিলো।
তারপর থেকে আমাকে দেখলেই সালাম দিতো। আমিও মুচকি হেসে সালামের জবাব দিতাম।
একদিন আমিও কিসের যেন ওষুধ নেয়ার জন্য দোকানের ভিতর গেলাম।
উনি বললেন, 'কি খবর স্যার? ভালো আছেন?'
আমি হেসে বললাম, 'আমি আবার স্যার হলাম কবে?'
উনি বললেন, 'আপনাকে দেখলে স্যারের মতন মনে হয় তাই বললাম। সমস্যা হলে বলবো না।'
আমি বললাম, 'সমস্যা হবে কেন? আপনার ইচ্ছে হলে বলতে পারেন।'
লোকটার সাথে এভাবেই শুরু। জানতে পারলাম লোকটার নাম রিয়াদ। ফেসবুক আইডিও দেয়া নেয়া হয়েছিলো।
মাঝে মাঝে নক করতো, আমিও করতাম।
একদিন ফেসবুকে উনার একটা নাম্বার পেলাম। ফোন দিয়ে বন্ধ পেলাম।
পরদিন মাদরাসা থেকে ফেরার পথে উনার ওখানে ঢুকলাম,
- লাষ্টে বাংলালিংক ৯৭ নাম্বারটা আপনার?
-হুম, তুমি ওটা কোথায় পেলে?
- না ফেসবুকে দেখলাম। ফোন দিলাম বন্ধ পেলাম।
- ওটা সিম হারিয়ে গেছে।
- ওহ।
- তুমি বরং তোমার নাম্বারটা দাও।
- জি, আচ্ছা। একটা কথা বলবেন?
- হুম বলো।
- আপনার বাড়ি কি হারাগাছ?
- নাতো, কেন?
- না মানে, হারাগাছিদের মতো কথা বলেন তো তাই।
- আমার বাড়ি কামারপাড়া। হারাগাছ নয়।
পরে জানতে পারলাম রিয়াদ ভাই বিয়েও করে নি। পাত্রি খুঁজছে, ভালো পেলেই পিঁড়িতে বসে যাবেন। আর সেটা এই বছরের মধ্যেই। বিয়ে করেনি কথাটা শুনে খানিকটা হেসেছিলাম।
এভাবেই পরিচয় ডাক্তারবাবুর সাথে। ডাক্তারবাবু মাঝে মাঝে আমাকে ফোন করতেন, আমিও তাকে ফোন করতাম। খুব কম সময়ে বেশ ভালো লাগে তাকে। মানুষ হিসেবে অনেক ভালো তিনি। যেমন সৎ তেমনি পজেটিভ মাইন্ডের।
সবচেয়ে উনাকে ভালো লেগেছে এটা দেখে যে, উনি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করেন।
উনার সাথে পরিচিত হবার ৯ মাস আগে থেকে পারিবারিক সমস্যায় পড়েছিলাম। যে সমস্যা আমাকে কাঁদাতো। একদিন তিনি আমার মনমরা দেখে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন এর কারণ কি?
আমি আমার জীবন সম্পর্কে উনাকে বলেছিলাম ৩০%......
সবটা বলেছিলাম বিশ্বাসের উপর। উনি আমাকে সান্তনা দিতো, সবসময় পৃথিবীতে বেঁচে থাকার মতো প্রেরণা দিতো।
যতক্ষণ উনার পাশে থাকতাম বা উনার সাথে কথা বলতাম ততক্ষণ অনেকটা ভালো সময় কাটাতাম।
এরই মধ্যে আমি বেশ কিছু প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করি। #রেডিও_মুন্নার মাসিক প্রতিযোগীতার #রমযান মাসের পর্ব চলছিলো। অন্যদিকে চলছিলো #ইসলামীক_ওয়াল্ডের_গল্প_প্রতিযোগীতা। প্রথম দিকে পিছিয়ে পড়লেও শেষঅবধি #রেডিও_মুন্নায় ৩য় এবং #ইসলামীক_ওয়াল্ড ২য় হবার যোগ্যতাম অর্জন করে বেশ কিছু সম্মানী পেয়েছিলাম। ডাক্তারবাবু আমাকে অনুপ্রেরণা দিতেন।
সবসময় আমার জীবনের বাকি অংশটুকু ৭০% শোনার জন্য তাগাদা দিতেন। তিনি আমার সম্পর্কে জানতে চাইতেন। আমি তাকে বলেছিলাম, 'আমার সম্পর্কে সবটা জানলে হয়তো আপনি আমাকে ঘৃণা করে দূরে সরে যাবেন। প্লিজ না শুনলে হয় না?'
তিনি মন খারাপ করে বলেছিলেন, 'তোমাকে অনেক পছন্দ করি আমি। তোমাকে কখন ঘৃণা করবো বা ভুলে যাবো তা কখনোই আমার মাথায় আসে না।'
আমি বলেছিলাম, 'ঠিক আছে একদিন আমরা বাইরে কোথাও দেখা করি?'
উনি হেসে বলেছিলেন, 'আচ্ছা কোথায় যেতে চাও বলো?'
আমি বলেছিলাম, 'আপনার পরিচিত কোন জায়গায় তবে তা নিরিবিলি হওয়া চাই।'
উনি মাথা ঝুকিয়ে হা উত্তর দিয়েছিলেন। এরই মধ্যে খুব বড় সমস্যায় পড়ে গেলাম আমি। পারিবারিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করলো। আমাকে ঘন্টা কয়েকের জন্য আন্টির বাসা যেতে হবে। সাথে আপুরাও যাবে।
আমার বন্ধু আসাদসহ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে মার্কেটে ঢুকলাম। সুন্দর দেখে একটা গেঞ্জি কিনলাম।
মনে মনে ভাবলাম আজকে উনাকে গিফট করবো। মানুষকে খাওয়াতে বা গিফট দিতে বেশ ভালো লাগে আমার।
ডাক্তারবাবুকে ফোন দিয়ে শাপলাতে আসতে বললাম। উনি চলো আসলো, আমি গিফটটা ওনার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম, 'আপনার অনুপ্রেরণা আমার ভীষণ দরকার। সারাজীবন এই অনুপ্রেরণাটুকু দিলে অনেকদূর এগিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।'
গিফট নিতে চাইছিলো না, কিন্তু শেষপর্যন্ত নিতে হলো। চলে আসার সময় একটা কথাই বললাম শুধু, 'আপনার মাঝে দু'টো সত্ত্বা বাস করে। একজন রিয়াদ ভাই, অপরজন আমার ডাক্তারবাবু। আর হ্যাঁ আমি আপনাকে ডাক্তারবাবু বলেই সারাজীবন ডাকতে চাই।'
উনি শুধু চেয়ে থাকলো আমার দিকে। আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম, 'এ কেমন মায়ায় জড়িয়ে যাচ্ছি আল্লাহ। আবারো কি সেই পুরনো ভুল হতে চলেছে?'
((চলবে))
প্রসঙ্গ: ডাক্তারবাবু
((পর্ব: ২))
(গল্প ভেবে ভুল করবেন না।)
.
.
.
আপুদের সাথে আন্টির বাড়ি গেলাম। চিল্লাচিল্লিতে গলাটা আমার ভেঙে আসছিলো। সেদিনটির কথা আমি কখনো ভুলতে পারবো না। বিষয়টা যখন মীমাংসা হলো তখন হঠাৎ করে মোবাইল বাজতে থাকলো। স্ক্রিনের উপর দেখি ডাক্তারবাবুর ফোন। আমার সমস্যা সম্পর্কে জানতো ডাক্তারবাবু। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর তাকে ফোন দেয়া ছিলো আমার প্রতিদিনের ডিউটি। ফোনটা রিসিভ করে কানে দিয়ে সালাম দিলাম।
- কি খবর ডাক্তারবাবু?
- এইতো ভালো। কি করো?
- এখনো আন্টির বাসায়।
- সমস্যার সমাধান হয়েছে কি?
- জ্বী, চলছে। হঠাৎ আপনি এসময়ে ফোন দিলেন যে?
- না মানে তুমি তো প্রতিদিন দাও, আজ তোমার ফোন পেলাম না তাই ফোন দিলাম। সমস্যা আছে কোন?
- আমার সমস্যা কোথায়! আমার কোন সমস্যা নাই। গেঞ্জিটা আপনার পছন্দ হয়েছে?
- না হওয়ার কি আছে! ভালোবাসার জিনিষ সবসময় পছন্দ হয় সবার। তবে তোমার এটা ঠিক হয়নি। তুমি তো জব করো না। আমি জব করি, আমার উচিত তোমাকে দেয়া।
- রাখেন তো এসব কথা। আমিও তো মাঝে মাঝে সম্মানী পাই। সেটা দিয়েই তো দিছি আপনাকে। দোয়া করবেন যাতে আজকের সমস্যাটা তাড়াতাড়ি মিটে যায়।
- দোয়া তো সবসময় করি।
- কাল দেখা হবে। গলাটা ব্যাথা করছে।
- বেশি চিল্লানি দিও না। কাল অফিসে এসো।
কথাটা শুনেই ফোন কেটে দিলাম। অনেক ঝড় ঝাপটার পর সেদিন রাতেই গত ১১মাসের বিতর্ক মিটে গেল। কিছুটা যেন শান্তি পেলাম। গত এগারো মাসে যে কি রকম ছিলাম বলে বোঝাতে পারবো না।
.
পরদিন সাইকেল নিয়ে ডাক্তারবাবুর চেম্বারে গেলাম। বেশ কিছু সময় লাগে সাইকেলে। চেম্বারে বসার সময় আমি খানিকটা অবাক হয়ে গেলাম। আমাকে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে বললেন,
- কি দেখো? বসো।
- জ্বী। আপনাকে খু্ব সুন্দর দেখাচ্ছে।
আমার দেয়া গিফটটা পরে তিনি আজ চেম্বারে এসেছেন। মনে মনে খুব ভালো লাগা কাজ করলো। পকেট থেকে একটা স্পেশাল কিছু বের করে ওনার হাতে দিলাম।
- এটা আবার কি?
- কেন চিনেন না বুঝি?
- চিনি, আমার খুব পছন্দের।
- আপনারই শুধু পছন্দের, আমার না? আমি চাই সবসময় সাথে সাথে রাখুন। ফুলগুলো নষ্ট হলেও সুবাস থাকবে।
- তুমি আমাকে এত জিনিষ দাও কেন স্যার?
- কেন দেই সেটা জানি না। তবে আপনাকে আমার প্রচন্ড ভালো লাগে।
উনি মুচকি হেসে মালাটা নাড়াচাড়া করে দেখেন। মালাটা বকুল ফুলের। ছোটবেলা থেকেই আমি খুব ফুল ভালোবাসি। আগে অনেক মালা গাঁথতাম। মাদরাসার বদ্ধ জীবনে তাকে ছুটি দিয়েছি। আজ অনেকদিন পর ছোট চাচার গাছের ফুল কুঁড়িয়ে গেঁথেছি।
ডাক্তারবাবু আমার সাথে কথা বলেন আর রোগী আসলে রোগী দেখেন। আমি উনার কার্যকলাপ দেখে মাঝে মাঝে হাসি।
- একটা কথা বলবো ডাক্তারবাবু?
- বলেন স্যার?
- আপনার হাসিটা অনেক সুন্দর। একটু হাসবেন প্লিজ?
আমার কথা শুনে খিলখিল করে হেসে উঠেন। সেদিনের মতো বিদায় নিয়ে বাড়ি চলে আসি।
আলীম পরীক্ষার পরের ঘটনা। কোন ক্লাস নাই,পড়াশোনা কম, প্যারা নাই। সন্ধ্যায় ফোন দেই উনাকে। উনি রিসিভ করেন।
- আসসালামু আলাইকুম ডাক্তারবাবু?
- ওয়ালাইকুম আসসালাম।
- নামায আদায় করলেন?
- হ্যাঁ করেছি। তুমি?
- হুম, আমিও করেছি। আপনার পাত্রী দেখার কি হলো?
- হুম, চলছে। এক জায়গায় বেশ পছন্দ হয়েছে। আব্বা-আম্মার পছন্দ হলেই হয়তো কাজটা সমাপ্ত হয়ে যাবে।
- বাহ! খুব ভালো তো। তারপর বুঝি ভুলে যাবেন আমাকে?
- কি যে পাগলের মতো বলো না। শোন, তোমার বকুল ফুলের মালার সুন্দর গন্ধ বের হয়েছে। বেশ ভালো লাগছে। তুমি নাকি আমার সাথে ঘুরবে? কোনদিন?
- জানি নাহ, আপনার যেদিন সময় হবে সেদিন।
- ঠিক আছে, সোমবার দেখা করো?
- জ্বী আচ্ছা।
- সেদিন কিন্তু তুমি আমার সাথে হোটেলে খাবে। না খেলে তোমার আমার সম্পর্ক টুট টুট করে দিবো।
ডাক্তারবাবুর সাথে সবসময় দেখা করলেও কখনো বাজারের খাবার খাইনি। দেখা গেছে উনাকেই একা গিয়ে খেতে হয়েছে। আমি বাইরের খাবার খাই না, অভ্যাস নাই। বাইরের খাবার আমার ভালো লাগে না।
.
রবিবার কোচিং এ ছিলাম। ভাইব্রেট করা মোবাইলটা বারবার ভোঁ ভোঁ করছিলো। স্যার ক্লাস নিচ্ছিলেন তাই বাইরে গিয়ে ফোন রিসিভ করে জানতে পারলাম আমার আপু খুব অসুস্থ। মেডিকেলে ভর্তি করিয়েছে। ক্লাস শেষ করে বাড়ি ফিরে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিশপত্র নিয়ে মেডিকেলে গেলাম। সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে ডাক্তারবাবুকে ফোন দিলাম।
- সরি ডাক্তারবাবু। আমি কাল আপনার সাথে দেখা করতে পারছি না।
- কথা দিয়ে কথা রাখলা না?
- না মানে আমার আপু হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি গাইনী বিভাগে।
- ওহ, তাহলে ঠিক আছে। তোমার যেদিন সময় হবে সেদিন বলো।
- জ্বী, আচ্ছা। কষ্ট পেলেন নাকি? আপনি ইচ্ছে করলে দেখা করতে পারি তবে আমার মুড খারাপ থাকবে। তখন আপনাকেই খারাপ লাগবে। তাই বলছিলাম সব ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবার পরই দেখা করলে ভালো।
- আমার সমস্যা নাই স্যার? স্যার কি খেয়েছেন?
- জ্বী, মাত্র মেডিকেলে থেকে এসে খেলাম। আপনি?
- নাহ, এশার নামাযের পর খাবো।
প্রতিদিন মিনিট কার্ড কিনে কথা বলতাম ওনার সাথে। উনিও দিনে একবার অন্তত ফোন দিতেন। উনি দিনে ফোন দিতেন আর আমি রাতে দিতাম। অজানা এক মায়ায় জড়িয়ে গেছি আমি। জানি নাহ অজানা কোন এক শক্তি আমাকে আঁকড়ে রেখেছে। ছাড়াতে গেলে হয়তো খুব বেশি কষ্ট পাবো।
.
শুক্রবার আপুকে বাড়িতে নিয়ে আসলাম। আপুকে বাড়ি নিয়ে আসার পর হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। মেডিকেলে সুস্থ মানুষ থাকলেও হয়তো অসুস্থ হয়ে যাবে। খুব ক্লান্ত লাগছিলো। এ ক'দিনে পড়ালেখা বা কোচিং কিছুই হয়নি। ঢাবির এডমিশন টেষ্টের অনেক পড়া পিছিয়ে গেছি। স্পেশাল ব্যাচ গঠনের পরীক্ষাও দিতে পারি নি। শনিবার ডাক্তারবাবুকে ফোনে বললাম সোমবার দেখা করতে। কারণ রবিবার আলীম ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হবে। সেজন্য হয়তো খুব টেনসনে থাকবো নতুবা রবিবারই দেখা হতো।
কাঙ্ক্ষিত দিন আসলো। বুকটা ধুঁক ধুঁক করছে, জানি না কি রেজাল্ট আসবে! তবে কনফিডেন্স ছিলো বেষ্টটাই হবে। ফেসবুকের বেশ কয়েকজন ভাই/বন্ধু রোল,রেজি নিলো। একজন ইনবক্সে জানালো রেজাল্ট অনেক ভালো। আলহামদুলিল্লাহ পড়ে সাজদায়ে শুকুর দিলাম।
মাদরাসায় ডাক পড়েছে, গেলাম। হুজুরেরা খুব খুশি। যেখানে রেজাল্ট এতো খারাপ সেখানে আমাদের মাদরাসা থেকে দু'টো এ প্লাস। সবথেকে বড় ব্যাপার ৬ টা মাদরাসার ছাত্র অর্থ্যাৎ সকলের মধ্যে ফার্ষ্ট হইছিলাম।
মাদরাসা থেকে সোজা চলে গেলাম আমার পুরনো মাদরাসায়। বন্ধুদের সাথে দিনটা সেলিব্রেট করার জন্য।
রাতে বাসায় ফিরছিলাম, ফোন বের করে দেখলাম ডাক্তারবাবুর নাম্বার থেকে মিসকল এসেছে। হয়তো ফোন দিছিলো রিসিভ করতে পারি নি।
খুব দ্রুত ফোন ব্যাক করলাম। মনে হয় মন খারাপ করেছে।
- সরি, আসলে একটু ব্যস্ত ছিলাম বন্ধুদের নিয়ে তাই টের পাইনি।
- আমি কে যে তোমার মনে থাকবে।
- আরে রাগ হচ্ছেন কেন? সরি তো বলেছি।
- তোমার রেজাল্ট জানার জন্য বসে আছি। কখন ফোন করে জানাবে।
- আমি তো ভেবেছি আপনিই ফোন দিবেন। যাইহোক এ প্লাস আসছে।
- আলহামদুলিল্লাহ। মিষ্টি খাবে না খাওয়াবে?
- কালকে তো দেখা হবে। কালকে আপনিই খাওয়াবেন।
- ওহ, তাই। হাহা।
- হাসেন কেন?
- না এমনি। আমার হাসি খারাপ বুঝি?
- সেটা তো বলি নি। আপনি হাসলে খুব সুন্দর লাগে আপনাকে।
সত্যি প্রথমে একটু রাগ করলেও রাগ এখন পানি হয়ে গেছে। লোকটা খুব মিশুক ও সরল-সোজা।
((চলবে))
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ