#সীমাহীন_ভালোবাসা
#সাজ্জাদ_আলম_বিন_সাইফুল_ইসলাম
#পর্বঃ৩
.
.
সায়মা অন্ধ!
কিভাবে এত সুন্দর একটা মেয়ে অন্ধ হতে পারে। এই প্রশ্নটা আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। কোনকিছুই ভালো লাগছে না। দীর্ঘদিন পর নীলার কবর দেখেও সায়মাকে এতটুকু ভুলতে পারিনি। নীলার বাবার কাছ থেকে দ্রুত বাড়ি চলে আসলাম। দরজা দিয়ে শুয়ে থাকলাম। কোন কিছুই ভালো লাগছে না।
.
রাতে মা ঘরে এলেন। আমি ঘুমিয়ে গেছি। ঘাড়ের কাছে আলতো ছোঁয়ার পিছনে ফিরে দেখি মা। এশার নামাযও পড়া হয়নি। আমি দ্রুত বিছানা থেকে উঠে বসে পড়লাম,
- এ কি মা তুমি?
আমার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললেন,
- অসময়ে ঘুমিয়ে গেছিস কেন বাবা? শরীর খারাপ নাকি?
- আরে নাহ মা, ভালো লাগছিলো না।
.
আমি বিছানা থেকে উঠতে যাব ঠিক তখনি মা আমাকে বললেন,
- হ্যাঁ রে সজীব, তোর কি হয়েছে আমাকে বলতো?
- না মা, আসলে কিছুই হয়নি।
- আমার কাছে লুকাস না বাপ। আমাকে সব বল।
.
আমি মায়ের কথায় হাউমাউ করে কেঁদে তার বুকে একটু আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করলাম। আমার আচরণে মা একটু বিব্রত হয়ে বললো,
- কি হয়েছে বাবা? আমাকে বল, তোর মাকে বল।
- মা, একটা মেয়ে আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। ওকে আমি ভালোবেসেছি মা।
মা আশ্চর্য হয়ে বললেন,
- দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবার!
- হ্যাঁ মা, ওকে না পেলে আমি বাঁচবো না।
.
আমার কথায় মা মুচকি হেসে বললেন,
- তুই আমাদের একমাত্র সন্তান, সবকিছুই তো তোর জন্য। তোর পছন্দ মতই বিয়ে হবে। তুই কোন টেনসন করিস না।
- মা আমি সত্যিই অনেক ভালোবাসি, কিন্তু মেয়েটা আমাকে ভালোবাসে না। ও আমাকে দূরে ঠেলে দেয়। বিশ্বাস করো সায়মাকে দেখলে তোমরাও পছন্দ করবে।
- তোকে ভালোবাসে না কেন?
.
আমি মায়ের কথায় কোন উত্তর দিতে পারলাম না। চুপ করে মায়ের বুকের মাঝেই লুকিয়ে থাকলাম। মা বারবার আমাকে জিজ্ঞেস করলো, পরে আমি বাধ্য হয়ে বললাম,
- মা সায়মা অন্ধ! ও চোখে দেখতে পায় না। এইসএসসি পরীক্ষার পর ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে।
আমার কথা শুনে মা অবাক হয়ে গেল,
- অন্ধ মেয়েকে নিয়ে কিভাবে তুই সংসার করবি বাবা? আমি মেনে নিলেও তোর বাবা মেনে নিবে না।
- মা তুমি বাবাকে বোঝাও, আমাদের তো অনেক টাকা। আমরা না হয় ওর চিকিৎসা করাবো। মা আমার বিশ্বাস সায়মা ভালো হয়ে উঠবে, স্বাভাবিক হবে আবার।
- আমি তোর বাবার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলবো। এখন উঠে নামায পড়ে খেতে আয়।
.
কথাগুলো বলে মা চলে গেলেন। আমি বিছানায় বসেই মুখ মুছতে লাগলাম। সায়মা এমন কেন? কেন এত ভালো লাগে তাকে? সবসময় কেন আমার চোখের চারপাশে ঘোরাঘুরি করে? আমাকে নিয়ে কেন খেলছে? খেলার কি আর মানুষ পেল না? আহ! কিছুই ভাবতে পারছি না।
.
পরদিন বাবার ঘরে আমার ডাক পড়লো। আমি এত বড় হয়েও বাবাকে এখনো অনেক ভয় করি। খুব ভয়ে ভয়ে উনার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। মাথাটা নিচু করে দাঁড়িয়েই থাকলাম। বাবা বললেন,
- তুমি আসলেই পাগল হয়ে গেছ। তোমার মানসিক ট্রিটমেন্ট করা দরকার।
বাবার মুখে এমন কথা শুনে আমি কাঁদতে লাগলাম। বাবা বললেন,
- এত বড় হয়েছ অথচ নিজের ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা হয়নি। আমি তোমার পছন্দ দেখে অবাক হয়ে যাই। দ্বিতীয়বার যেন এমন কথা মুখে না শুনি। নিজের ঘরে যাও।
মা মনে হয় বাবাকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমাকেও বোঝাতে দিলো না।
.
আমি ঘরে এসে দরজা দিয়ে বাচ্চাদের মতন হাউমাউ করে কেঁদে ঘুমিয়ে পড়লাম। মেয়েটাকে এতটা ভালোবেসেছি যে তাকে ভোলা এখন অসম্ভব! কিন্তু কি করবো আমি! ঘুমের মাঝে নানা রকম স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্ন দেখছি সায়মা আর আমার সুন্দর একটা ঘর হয়েছে, সংসার হয়েছে, একটা বাচ্চাও আছে। আমরা খুব সুখে আছি। হঠাৎই ঘুম ভেঙে গেল। রাত হয়ে গেছে। বাবা দরজার ওপাশ থেকে ডাকছেন।
.
আমি কোন উত্তর না দিয়ে চুপচাপ শুয়ে আছি। স্বপ্নটা কবে বাস্তবে রুপ নিবে? কবে আমি সায়মাকে নিয়ে একটা সংসার পাতব? কবে কবে?
বাবা ডাকতে ডাকতে বিরক্ত হয়ে অবশেষে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর মা ডাকতে আসলেন। কোন জবাব দিলাম না। ফোনও বন্ধ করে রেখেছি। সবার থেকে আলাদা হতে চাই। আমি শুধু সায়মাকে চাই, আর কিছু না। আমি নীলার পরপরই সায়মাকে ভালোবেসেছি। নীলাকে পাইনি, তাই বলে সায়মাকে হারাতে পারবো না।
.
পরদিন মা বাসায় কান্নাকাটি শুরু করে দিলো। সিফাত, নিশি, আব্বু সবাই চলে আসছে। গতকালকের মতন এখনো দুপুর অবধি দরজা খুলিনি। আমি যে কোনকিছুই ভাবতে পারছি না। সবাইকে বোঝাবো কি করে? আমার ধ্যানে জ্ঞানে এখন শুধুই সায়মা।
.
বাবা দরজার ওপাশ থেকে অনেক অনুনয়-বিনয় করার পর দরজা খুলে দিলাম। মা এসে জড়িয়ে কাঁদতে লাগলো। আমিও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছি। বাবা হাত ধরে খাবার টেবিলে নিয়ে গেল। নিজ হাতে খাইয়ে দিয়ে বললো,
- তোর পছন্দ মতন তোর বিয়ে হবে। আমি আর কোন হস্তক্ষেপ করবো না। আমরা কালই মেয়ে দেখতে যাব।
আমি চুপচাপ বাবার হাতে ভাত খেয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকলাম। সেই ছোটবেলায় বাবা আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিতেন। আর আজ কত বড় হয়েছি!
.
পরদিন বাবা-মা, আমি, নীলার বাবা সবাই মেয়ে দেখতে গেলাম। আমি আসবো বিধায় সায়মার বাবাকে গ্রাম থেকে ডেকে আনা হয়েছে। উনার কথায় বুঝলাম, সায়মার যে কখনো বিয়ে হবে এটা উনি কল্পনাও করতে পারেন নি। তাও এত বড় ঘরে।
.
তবুও সায়মার বাবা আমার বাবা-মাকে বললো,
- আমার মেয়ে অন্ধ, চোখে দেখতে পারে না। আমি চাই না ও যাওয়ার কারণে আপনাদের কোন অমঙ্গল হোক।
নীলার বাবা আমার বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। উনিও বললেন,
- আমাদের ছেলে যেহেতু পছন্দ করেছে সেহেতু সায়মার সাথেই ওর বিয়ে হবে। দয়া করে আপনারা আর আপত্তি করবেন না।
- সত্যি কথা বলতে আমি কখনো কল্পনাও করিনি আমার মেয়েটার বিয়ে হবে। অথচ এসএসসি ও এইসএসসিতে ও গোল্ডেন প্লাস পেয়েছিলো। সব আমাদের ভাগ্যের দোষ।
.
সায়মার বাবা কাঁদতে লাগলো। আমার বাবা এমন সময় বললেন,
- দয়া করে কাঁদবেন না। আমি একটা শুভ কাজে এসেছি। শুভ কাজটা কান্নায় মুখরিত করবেন না। সায়মাকে নিয়ে আসুন, আমরা আংটি পড়িয়ে যাই।
সায়মার বাবা চোখ দু'টো মুছে ভিতরে গেল।
.
কিছুক্ষণ পর নিশি সায়মাকে মেহমানদের সামনে নিয়ে আসলো। সায়মা প্রথমেই তাদের সালাম দিলো। আমি চুপচাপ বাবা-মায়ের দিকে তাকাচ্ছি। তারা অপলক দৃষ্টিতে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমিও দেখছি, মেকআপ ছাড়া একটা সহজ-সরল গ্রাম্য মেয়েকে দেখছি।
.
বাবা সায়মাকে আংকটি পড়িয়ে নিশিকে বললো সায়মাকে নিয়ে যেতে। নিশি সায়মাকে নিয়ে চলে গেল। মা আমাকে ফিসফিস করে বলছেন,
- খোকা, তোর পছন্দ আছে বেশ। মেয়েটাকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
মায়ের কথা শুনে আমি খানিকটা লজ্জা পেয়ে মুখ লুকিয়ে ফেললাম। মা আমার মাথায় হাত বোলাতে লাগলেন।
অতঃপর মুরব্বিরা মিলে বিয়ের দিন তারিখ পাকা করে মিষ্টি খাওয়াতে যোগ দিলো।
.
সিফাতকে নিয়ে একটু বাইরে বের হলাম। সিফাত আমাকে বললো,
- শেষপর্যন্ত সায়মাকেই বিয়ে করবি। তোর জেদ আছে রে।
- কিছু কিছু কাজে জেদ থাকাটা ভালো। নীলা মারা যাবার পর একজনকেই ভালো লেগেছে, সে সায়মা। তাকে ছেড়ে দেই কেমনে বল।
- তুই পারিসও বটে।
বলেই সিফাত হাসতে লাগলো। আমিও তার সাথে যোগ দিলাম।
(চলবে)
#সীমাহীন_ভালোবাসা
#সাজ্জাদ_আলম_বিন_সাইফুল_ইসলাম
#পর্বঃ৪
.
.
যথারীতি জাঁকজমক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সায়মা আর আমার বিয়ের কাজটা সমাপ্ত হলো। অনুষ্ঠানে কোনকিছুরই কমতি ছিলো না। সায়মাও ভাবতে পারে নি সেদিন ছাদে যার সঙ্গে কথা বললো তার সাথেই তার বিয়ে হবে। সায়মার সাথে বিয়ে হবার পর আমার অন্তরটা জুড়িয়ে গেল। পৃথিবীর সব ভালোবাসা উথলে পড়লো।
.
আমার বিয়ের রাতে আমার ঘরটা অনেক ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। লাল-নীল ছাড়াও অনেক সুন্দর সুন্তর বাতি দিয়ে পুরো বাড়ি সাজানো হয়েছে। আমি খুব সাবধানে দরজা খুলে ঘরে ঢুকলাম যাতে সায়মা টের না পায়। একটা গোলাপ ফুল নিয়ে ওর মাথায় গুঁজে দিতে ও বলে উঠলো,
- আসসালামু আলাইকুম।
আমি মুচকি হেসে বললাম,
- ওয়ালাইকুম আসসালাম।
- আপনি ঘরে কখন আসলেন?
- অনেকক্ষণ। তুমি কেমন আছো?
- অনেক ভালো। কখনো ভাবতে পারি নি আমার মতন অন্ধ মেয়েকে কেউ বিয়ে করবে।
আমি ওর মুখে হাত দিয়ে বললাম,
- প্লিজ আর কখনো নিজে অন্ধ বলবা না। তুমি শুধু আমার ভালোবাসা, আমার প্রেম।
- প্রথমদিন মনে হয়েছিলো এ আপনার ভালোবাসা নয়, আবেগ। কারণ আমি এখন ছেলেদের বিশ্বাস করি না।
.
সায়মার শেষ কথাটা শুনে আমি খানিকটা আশ্চর্য হয়ে বললাম,
- বিশ্বাস করো না কেন?
- আপনার কাছে লুকাবো না। গ্রামের একটা ছেলে আমাকে ভালোবাসতো। আমার পথ চেয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করতো, যেদিন আমি অন্ধ হয়ে গেলাম তারপর থেকে ও আমাকে দেখতেও আসেনি। পরে শুনি বিয়ে করেছে।
সায়মার কথা শুনে আমি ওর মাথায় হাত রাখলাম। কিছুক্ষণ সান্ত্বনা দিয়ে বললাম,
- এখন থেকে তুমি শুধু আমাকে ভালোবাসবে, আর আমি তোমাকে।
.
সায়মা আমার বুকে মাথা রাখলো। আজ অনেকদিন বাদে নীলার অস্তিত্ব অনুভব করছি। নীলা প্রায়ই আমার বুকে মাথা রেখে জীবনের গল্প করতো। আমি মুচকি হেসে ওর চুলে বেলি কেটে দিতাম। নীলা আমাদের বিয়ের পর কি করবো সে সম্পর্কে বলতো। আজ মনে হচ্ছে এক নীলা আমার জীবন থেকে চলে গেছে, কিন্তু আরেক নীলা সায়মার মাধ্যমে আমার মনের কুঠরে জায়গা করে নিয়েছে।
.
কিছুক্ষণ পর আমি বললাম,
- সায়মা ঘুমাবে না?
- আজ আমাদের জীবনের প্রথম রাত। আজ না ঘুমালে হয় না?
- কেন কী করতে চাও?
- আজ দু'জনে গল্প করতে করতে রাতটা পার করে দেই? জীবনের গল্প, তোমার গল্প, আমার গল্প, সুখের গল্প।
আমি হেসে বললাম,
- আচ্ছা ঠিক আছে তাই হবে।
.
অনেকটা রাত পর্যন্ত গল্প করতে করতে সায়মা এক পর্যায়ে বললো,
- আমি তো অন্ধ। তোমার সোসাইটিতে আমাকে নিয়ে উঠতে পারবে না। কেন তুমি আমাকে বিয়ে করলে?
আমি কিছুটা রাগ হয়ে বললাম,
- সোসাইটি কখনো আমাকে একটা টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে না যে তাদের কথা শুনতে হবে। আর হ্যাঁ, আমি কথা দিচ্ছি তুমি আবারো পৃথিবীর আলো দেখবে। সবাইকে আবারো দেখতে পারবে। হাসবে, ঘুরবে, স্বামীর খেদমত করবে।
সায়মা কোন কথা বললো না। চুপ করে থাকলো। দু'জন দু'জনকে জড়িয়ে ধরে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি মনে নেই।
.
যখন ঘুম ভাঙলো তখন সকাল হয়ে গেছে। সায়মাকে ডেকে দিয়ে ফ্রেশ হয়ে ওজু করে আগে নামায পড়ে নিলাম। সায়মাকে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে নিয়ে যেতে ও বাবা-মাকে সালাম দিলো। মা সায়মাকে নিজেই বসালো,
- দেখ মা, আমাদের মেয়ে নেই। মেয়ের খুব শখ থাকলেও ভাগ্যে জোটেনি। আজ থেকে তুমিই আমাদের মেয়ে। তোমার কোন সমস্যা হলে আমাকে বলবে। কেমন?
সায়মা ম্লান হেসে বললো,
- জ্বী মা।
.
বাবা টেবিলে এসে বসে খাবার শুরু করলো। খাওয়ার এক পর্যায়ে বললো,
- আগামী দশটা দিন তুই বউমাকে সময় দে। ঠিক এগারো দিনের মাথায় তোকে অফিসে বসতে হবে। এত বড় ব্যবসা আমি সামাল দিতে পারছি না।
আমি মাথা নিচু করে খেতে খেতে বললাম,
- ঠিক আছে বাবা।
- পারলে একবার নীলার বাড়ি থেকে ঘুরে এসো।
গতরাতে সায়মাকে নীলার কথা বলেছি। সায়মা এখন নীলার ব্যাপারে সবকিছু জানে।
.
আস্তে আস্তে সময়ের পরিক্রমায় কাটতে থাকলো এক একটি দিন। ভালো যাচ্ছিলো। মা সায়মাকে অনেক ভালোবাসে, বাবাও সবসময় সায়মাকে মেয়ের মতই দেখে। মা আস্তে আস্তে সায়মাকে শিখিয়ে পড়িয়ে নিচ্ছে। অন্ধ হলেও সব কাজ পিটপিট করে করতে পারে। একটা কথা শুনেছিলাম, 'যারা নাকি অন্ধ, তাদের অন্যান্য ইন্দ্রিয়গুলো অনেক বেশি সক্রিয় থাকে।'
.
সায়মা পুরো বাড়ি একাই চলা ফেরা করতে পারে। ফ্লাক্স থেকে বাবা-মাকে চা ঢেলে দেয়া, বাবা-মায়ের দেখাশুনা করা ইত্যাদি। আমি মাঝে মাঝে ওকে খুব কাছে টেনে বেশিই আদর করি। সায়মা সুন্দর! নীলার মতই সুন্দর। বিছানায় শুয়ে শুয়ে মাঝে মাঝে ভাবি, 'নীলা থাকলে হয়তো এমনি করে আমাকে ভালোবাসতো।' দু'জনের মধ্যে পার্থক্য খুঁজতে গিয়েও পার্থক্য করতে পারি না।
.
নিয়মিত অফিসে বসার কারণে বাবা আমার উপর অনেক খুশি। বাপ ছেলে মিলে অফিসের কাজকর্ম অনায়াসেই করে একসাথে বাসায় ফিরি। সেদিন বাবা আমাকে বলছিলেন,
- হ্যাঁ রে সজীব, বউমাকে ডাক্তার দেখিয়েছিস?
- কোন ব্যাপারে বাবা?
- চোখের ব্যাপারে।
আমি বললাম,
- না বাবা। তোমার অনুমতি পাইনি, তুমি অনুমতি দিলে শীঘ্রই করাবো।
- অনুমতি লাগবে না। তাড়াতাড়ি ভালো ডাক্তার দেখাইস।
- আচ্ছা বাবা।
.
সেদিন বাবার কাছে অনুমতি পেয়ে খুব ভালো লাগছিলো। প্রেরণা পাচ্ছিলাম মনে মনে। সায়মা আবার চোখে দেখবে, পুরো পৃথিবীটাকে আবার দেখবে! ভাবতেই খুব ভালো লাগছিলো। মনে হচ্ছিলো বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলি, 'বাবা তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা।'
.
সেদিন বাবার সাথে কথা হবার পর তার দু'দিন পর সায়মাকে বললাম রেডি হতে। সায়মা একটু আশ্চর্য হয়ে বললো,
- কোথায় যাবে?
- যেদিকে দু'চোখ যায় সেদিকে। আজ সারাদিন অনেক ঘুরবো।
- বাবা-মা রাগ করবেন।
- আরে কিছুই বলবে না। তুমি ভেব না, আমি বাবাকে বলেছি।
সায়মাকে নিজের হাতে শাড়ি পরিয়ে দিয়ে আমি একটা সাদা পাঞ্জাবি পরলাম। মায়ের কাছ থেকে বিদায় গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে শহরের সবচেয়ে ভালো চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে আসলাম।
.
আশেপাশে কিছুটা কোলাহল দেখে সায়মা জিজ্ঞেস করলো,
- কোথায় নিয়ে আসলা?
- তুমি কি আমার সাথে থেকে ভয় পাচ্ছো?
- ছি ছি এসব বলছো কেন? ভয় পাবো কেন? এখন তুমিই তো আমার সবথেকে কাছের মানুষ।
- তাহলে চুপ করে থাক।
আমি এখানে আসার আগে ফোন করে দিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর আমাদের ডাক পড়লো। সায়মাকে ডাক্তার সাহেব পরীক্ষা করতে লাগলেন। অনেক পরীক্ষা করার পর আমাকে একান্তে ডেকে বললেন,
- সজীব সাহেব, আপনার স্ত্রীর পজিশন ভালো দেখলাম। তবে চোখ প্রতিস্থাপন করতে পারলে তিনি হয়তো আবারো দেখতে পারবেন।
- আপনি চোখের ব্যবস্থা করুন। যত টাকা লাগে আমি দিয়ে দিব।
- দেখুন, টাকা কোন ব্যাপার না। চোখ পাওয়াই সব থেকে বড় সমস্যা। আপনি চারদিকে খোঁজ লাগান, আমি খোঁজ লাগাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ দ্রুত পেয়ে যাব।
- ধন্যবাদ ডাক্তার সাহেব।
.
ডাক্তার সাহেবের কাছ থেকে সায়মাকে নিয়ে সোজা শহর থেকে একটু দূরে গেলাম। সামনে ছোট একটা নদী, চারদিকে কাশবন। এখানকার পরিবেশটা বেশ ভালোই লাগছে। এমন সময় সায়মা বললো,
- কি দরকার এত টাকা খরচ করে আমার চোখ ভালো করার?
- তুমি চুপ করে থাকো। বিয়ের দিন থেকে আমি তোমার সব দায়িত্ব নিয়েছি।
- তুমি আমাকে খুব ভালোবাসো তাই না?
- ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি। তোমার আমার ভালোবাসা শুধুই সীমাহীন ভালোবাসা।
আমার কথা শুনে আমার কাঁধে মাথা রাখলো সায়মা।
(চলবে)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž
4423 (2)
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§Ž:ā§Ģā§Ļ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ