āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4423 (1)

#সীমাহীন_ভালোবাসা
#সাজ্জাদ_আলম_বিন_সাইফুল_ইসলাম
#পর্বঃ১
.
.
একটি মেয়ে!
যাকে দেখার পর এই এক সপ্তাহ আমি তার ভাবনায় মশগুল। চাঁদমাখা মুখটা বারবার তার কথাই স্বরণ করিয়ে দিচ্ছে। কোনকিছুতেই মন বসাতে পারছি না। আমার ধ্যানে জ্ঞানে শুধু তাকেই দেখি। এত সুন্দর কেন তুমি? নিজেকেই নিজে বারবার প্রশ্ন করি।
.
ছাদে বসে টবে লাগানো গোলাপ ফুলের গাছটায় পানি দিচ্ছিলাম। এমন সময় আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু সিফাত এসে উপস্থিত। আমি সিফাতকে দেখে মুচকি হাসলাম। সিফাতও আমার সাথে যোগ দিলো। আমার হাতে কার্ডটা ধরিয়ে দিয়ে বললো,
  -  বিয়ের আগের দিনই চলে আসবি। জানিসই তো বাড়িতে কত কাজ! তাছাড়া আমার বড়-ছোট ভাই নেই যে সবটা সামাল দিবে।
  -  তুই চিন্তা করিস না সিফাত, আমি চলে আসবো।
  -  ঠিক আছে যাই রে। আর হ্যাঁ খালাম্মা আর আঙ্কেলকে আমি পার্সোনালভাবে ইনভাইট করবো।
  -  আরে ভাই দাঁড়া! এক কাপ চা অন্তত খেয়ে যা।
সামনের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে পিছনে ফিরে তাকিয়ে বললো,
  -  হাতে অনেক কাজ। পরে এসে ডাবল খেয়ে যাব।
সিফাতের কথা শুনে আমি হাহা করে হেসে চেয়ারে বসে পড়লাম।
.
মেয়েটাকে দেখেছি সিফাতের হবু বউকে দেখতে গিয়ে। যদিও সিফাতের এটা লাভ ম্যারেজ হতে চলছে। মুরব্বীগনকেও নাকি দেখাতে হবে, তাই! আমি ফোনে কথা বলার জন্য আচমকা ছাদে উঠেছিলাম। কথা বলার এক প্রান্তে চোখে গেল ছাদের কোণার দিকে। আমি মুখ হা করে দাঁড়িয়ে রইলাম। চুলগুলো বাতাসে উঁড়ছে। মায়ামাখা মুখটা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।
.
আমি কথা বলা বাদ দিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়েই আছি। আমার ঘোর ভাঙলো সিফাতের ডাকে,
  -  সজীব, এই সজীব?
আমি চমকে উঠে বললাম,
  -  কিছু বলবি সিফাত?
  -  খাবার রেডি, তাড়াতাড়ি চল। সবাই তোর জন্য বসে আছি।
সিফাত এ বাড়িতে আগেও কয়েকবার এসেছে। সে সুবাধে বাড়ির প্রায় অনেকখানি তার চেনা। আমি মেয়েটাকে দেখতে দেখতে সিফাতের পিছন পিছন ডাইনিং টেবিলের দিকে অগ্রসর হলাম।
.
সেই মেয়েটি!  যে আমার সবকিছুকে এলোমেলো করে দিয়েছে। আমার যতদূর মনে পড়ে সিফাতের নিজস্ব কোন হবু শালী নেই। তবে কে এই মেয়েটি? বারবার মনের মধ্যে এই কথাটি উঠতেই নিজেকে আপাতত দমে রাখি। আগে সিফাতের হিল্লেটা হয়ে যাক তারপর আমারটা ভাবা যাবে।
.
আমাদের মতই বড়লোক সিফাতরা। সিফাতের সাথে বন্ধুত্বতা কলেজ লাইফ থেকে। কলেজ লাইফ থেকে একই ভার্সিটিতে পড়েছি। আল্লাহ দয়া করেছিলেন বলে হয়তো একই ডিপার্টমেন্টও পেয়েছিলাম। তাইতো বন্ধুত্বের পর্যায়টা আরো গাঢ় হয়েছে।
.
বিয়ের আয়োজন অনেক জাঁকজমকপূর্ণ। সিফাত যে বড়লোক বাবার সন্তান তা বিয়ের আয়োজন দেখে সহজেই অনুমান করা যায়। আমি সিফাতের পাশেই বসে আছি। সিফাত বরের বেশে স্টেজে বসে আছে। আমি বারবার সেই চোখ দু'টোকে খুঁজছি, সেই লম্বা ঘন কেশ কালো চুলওয়ালা মেয়েটাকে। নাহ! কোথাও দেখছি না।
.
আমার এমন ভাব দেখে সিফাত মুখ থেকে রুমালটা সরিয়ে কানে কানে বললো,
  -  ব্যাপার কী বলতো? চোরের মতন এভাবে কাকে খুঁজছিস?
  -  দোস্ত, তুই চুপ করে থাক। আমি তাকেই খুঁজছি।
  -  আরে এই 'তাকে'টা কে?
  -  আরে আমি নিজেও জানি নাহ, তুই এখানে বসে থাক, আমি একটু ভিতর থেকে আসছি।
  -  সজীব কোথাও যাস না, তুই এখানে থাক।
.
সিফাতের কথায় কান দেয়ার মতন সময় বর্তমান আমার কাছে নেই। আমি রিফাতকে নিয়ে পুরো বাড়ি খুঁজতে লাগলাম। হঠাৎ চোখ গেল কনের ঘরের দিকে। আমি রিফাতকে নিয়ে কনে দেখার ভান করে কনের ঘরে ঢুকলাম।  সিফাতের বউকে আমি আগে থেকেই চিনি। তাই কোন সমস্যা হবার কোন কথা নয়।
.
সিফাতের বউয়ের নাম নিশি। নিশির পিছনে সবুজ রঙের শাড়ি পড়ে গায়ে হালকা গহনা দিয়ে বসে আছে সেই অপরিচিতা। যে আমার খাওয়া, ঘুম সব কেড়ে নিয়েছে। আমি বউকে এক পলক দেয়ার ছলে বউকে না দেখে অপরিচিতাকে দেখতে লাগলাম।
.
আমার ভাগ্যটাই খারাপ, অপরিচিতা আমার দিকে একবারো তাকালো না। আনমনে সেদিনের মতন একদিকেই তাকিয়ে আছে। আমাদের এখানে বেশিক্ষণ থাকতে দিলো না কতিপয় রাক্ষুসে মেয়ের দল। দু'জন তো বলেই ফেললো,
  -  বউ দেখতে আসছেন নাকি বউয়ের বান্ধুবীদের দেখতে আসছেন?
মেয়েটির কথা শুনে আরেকটি মেয়ে বললো,
  -  দেখতে আসে নাই রুবি, মেয়েদেরকে ওদের হিরোগিরি দেখাতে এসেছে।
পরের মেয়েটার কথা শুনে সবাই হাহা করে হাসতে লাগলো। আমি অপরিচিতার দিকে তাকিয়েই আছি। ও হাসছে না, চুপ করে বাইরের দিকে তাকিয়েই আছে।
.
ঝামেলা ছাড়াই সিফাত আর নিশির বিয়ের কাজটা সমাধা হলো। খেতে বসার সময়ও অপরিচিতাকে খুঁজেছি কিন্তু পাইনি। আমাকে আনমনা দেখে সিফাত পা দিয়ে গুতা দিয়ে বললো,
  -  এমন কইরা কারে খুঁজিস?
  -  চুপ, খাওয়ার সময় কথা বলা ইসলামে নিষেধ আছে। চুপ করে প্লেটের সবটুকু শেষ কর। এমন দিন আর পাবি না।
  -  আমি তোরে এতকিছু বলতে বলছি?
  -  দোস্ত, আজ তুই বর। সো বেশি কথা না বলে চুপ করে থাক।
আমার কথার দাঁত কটমট করে খাওয়ার প্লেটে মনোযোগ দিলো সিফাত। আমি আস্তে আস্তে খাচ্ছি আর অপরিচিতাকে খুঁজছি।
.
বিয়ের পরের দিন সিফাতের বাড়িতে হাজির হলাম। যে করেই হোক অপরিচিতার সম্পর্কে জানতে হবে। মেয়েটার কত বড় সাহস! আমার মন কেড়ে নিয়ে নিজেই নিঁখোজ!
একবার শুধু দেখা পাই, তবে ভালোই মজা দেখাব। আর কারো কাছে পার পেলে নিশ্চই আমার কাছে পাবে না।
.
সিফাতের বাড়িতে গিয়ে দেখি সিফাত বাগানে বসে পত্রিকা পড়ছে। আমাকে দেখে পত্রিকা টেবিলের উপর রেখে উঠে দাঁড়ালো।
  -  কি রে দোস্ত, তুই এত সকাল সকাল?
আমি কিছুটা মুখ ভ্যাংচিয়ে বললাম,
  -  হ্লা বউয়ের সাথে রোমান্স করে আমার কথা ভুলে গেলি? কাল আসলে হয়তো নিষেধ করবি।
  -  আরে এমনটা নয়, এত সকাল সকাল কখনো আসিস নি তো, তাই বললাম।
.
আমি সিফাতের কথা শুনে সোজা বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়লাম। সিফাত আমার পিছন পিছন এসে বললো,
  -  বলবি তো কি হয়েছে?
  -  ভাবি কই?
  -  উনার সাথে আমার একটু কথা আছে, সিক্রেট।
  -  আসতে না আসতেই সিক্রেট কথা?
  -  চুপ হ্লা।
.
আমাদের কথাবার্তা শুনে নিশি বেডরুম থেকে বের হয়ে বললো,
  -  আরে সজীব ভাই, কেমন আছেন?
  -  কাল অবধি ভালো ছিলাম ভাবি। আজ থেকে হয়তো আর ভালো থাকবো না।
  -  কেন কেন ভাই?
  -  একদিনেই যেভাবে আমার বন্ধুকে নিজের আয়ত্বে নিয়েছেন তাতে দু'দিন পর ওর দেখাই পাওয়া যাবে না।
.
আমার কথা শুনে নিশি হো হো করে হাসতে লাগলো। ভ্যাবাচ্যাকা হয়ে সিফাত বললো,
  -  তুমি ওর কথা কিছু মনে করো না।
  -  দেখেছেন ভাবি, এখন আপনার হয়ে সাফাই গাইছে।
  -  আচ্ছা, আপনি বসুন আমি চা দিচ্ছি।
.
আমাকে শেষোক্ত বাক্যটা শুনিয়ে দিয়ে নিশি যেতে লাগলো। আমি পিছন থেকে বললাম,
  -  ভাবি আপনার সাথে কথা ছিলো, সিক্রেট।
নিশি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে রান্নাঘরের দিকে গেল। এর ফাঁকে আমি খালাম্মা আর আঙ্কেলের সাথে দেখা করে তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানলাম।
.
কিছুক্ষণ পর নিশি চা নিয়ে আসলো। আমরা তিনজনই বেলকনিতে বসে আছি। আমি একবার নিশির দিকে তাকাচ্ছি তো আরেকবার সিফাতের দিকে তাকাচ্ছি। সিফাত বিরক্ত হয়ে বললো,
  -  বলবি না চলে যাব?
  -  তোকে থাকতে বলেছে কে? যা তুই চলে যা।
আমার কথা শুনে নিশি আবারো হাসতে লাগলো। সিফাত নিশিকে বললো,
  -  এভাবে জোরে হাসো না, বাড়িতে এখনো অনেক আত্মীয়।
.
সিফাতের কথায় নিশি চুপ হয়ে গেল। আমি বললাম,
  -  যা বলবো এখন আপাতত কেউ যেন না জানে।
  -  আচ্ছা। (নিশি)
  -  ভাবি সেই মেয়ে, যে আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে। শয়নেস্বপনে আমি শুধু তাকেই দেখি।
কিছুটা রাগান্বিত হয়ে সিফাত বললো,
  -  সিনেমার স্টাইল বাদ দে। যা বলার খোলাখুলি বল।
  -  ভাবি তাকে আমি সেদিনও দেখেছি।
নিশি বললো,
  -  কোনদিন?
.
আমি চোখ বন্ধ করে কি যেন ভাবলাম। তারপর বললাম,
  -  যেদিন বিয়ের দিন ঠিক করতে গেলাম। তার লম্বা কালো চুল, মায়ামাখানো মুখ। আমি পাগল হয়ে গেছি ভাবি।
কিছুটা আশ্চর্য হয়ে নিশি বললো,
  -  সজীব ভাই, কার কথা বলছেন?
  -  জানলে কি আর তোমায় বলতাম? বিয়ের দিন ও আপনার পিছনে বসেছিলো। সবুজ শাড়ি, হালকা গহনা। আহা! কি রুপ!
.
আমার কথায় নিশি মুখটা কালে করে ফেললো। চেয়ার থেকে উঠে বললো,
  -  আপনি যার কথা বলছেন তাকে ভুলে যান।
  -  কেন, ভুলে যাব কেন?
সিফাত বললো,
  -  কার কথা বলছে নিশি?
  -  সায়মা আপার কথা বলছে।
  -  ও আল্লাহ! দোস্ত চুপ, আর একবারো ও কথা মুখে আনিস না। ভুলে যা।
আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না।
  -  কি হয়েছে?  সমস্যা কী?
  -  সায়মা আপা অন্ধ!
নিশির কথা শুনে আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরতে লাগলো।
(চলবে)

#সীমাহীন_ভালোবাসা
#সাজ্জাদ_আলম_বিন_সাইফুল_ইসলাম
#পর্বঃ২
.
.
আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম,
  -  সায়মা অন্ধ!
নিশি বললো,
  -  হ্যাঁ সজীব ভাই, সায়মা আপা দু'চোখ দিয়ে কিছুই দেখতে পারে না। এইসএসসি পরীক্ষায় কলেজে একাই গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলো। কলেজ থেকে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে বাড়ি আসার পথেই একটা কারের সাথে সংঘর্ষ ঘটে। ওর বাঁচার কথা ছিলো না, তবুও দু'চোখ ছাড়াই বেঁচে আছে।
.
নিশির কথা শুনে আমি মাথা নিচু করে চোখের পানি ফেলতে লাগলাম। নিশি যখন কথাগুলো বলছিলো তখন সেও কাঁদছিলো। এত সুন্দর একটা মেয়ে, সে কিনা অন্ধ! বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিলো। বুকটা ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছিলো। ভিতরে একজন চিৎকার করে বলছে, 'তুমি এবারো ঠকলে।'
.
আমি আর কিছু না বলে বাড়ি চলে আসলাম। চলে আসার সময় সিফাত পিছন থেকে বহুবার ডেকেছে কিন্তু আমি আর পিছনে ফিরে তাকাইনি। নীলাকে হারানোর দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সায়মাকে ভালোবেসেছি। তাও অঙ্কুরিত হবার আগেই ঝরে গেল। ভালো লাগছিলো না, কোন কিছুই ভালো লাগছিলো না। মনে হচ্ছিলো জীবনটাই বৃথা।
.
আমার শূণ্য জীবনে পূর্ণতা দান করতে একসময় নীলা নামের একটি মেয়ে এসেছিলো। ভালোবেসে সবসময় কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছিলো। আমিও তাকে পাগলের মতন ভালোবেসেছি। তাকে ছাড়া জীবনে বেঁচে থাকা অসম্ভব মনে হয়েছিলো। সে চলে গেল, পৃথিবী ছেড়েই চলে গেল।
.
নীলার অপেক্ষায় প্রায়শ আকাশের দিকে বোকার মতন তাকিয়ে থাকতাম। হয়তো হাজারো শুভ্রতার মাঝে তার হাসিটাকে দেখতে পেতাম। এতটুকুই আমার তৃপ্ততা ছিলো। নীলাকে ভুলতে পারিনি। তার স্মৃতি বয়ে বেড়াতে বেড়াতে অন্য একটি মেয়ে চোখের সামনে ভেসে আসে। সায়মা, যে মেয়েটার চোখে আলো নেই।
.
নিশি আমাকে সেদিন আরো বলেছিলো,
  -  সজীব ভাইয়া, সায়মা আপু আসলে গ্রামের মেয়ে। আমার বড় চাচার মেয়ে। আমার আব্বু শহরে এসে চাকরির পর বাড়ি করে এখানেই সেটেল্ট হলেন। কিন্তু সায়মা আপুর বাবা আসলেন না। গ্রামই নাকি তার সব। অথচ এখনো তার সংসার চালাতে টানাটানি। সায়মা আপুকে চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো সে তার চোখের আলো ফিরে পেত। কিন্তু আমাদের তো সে সাধ্য নেই। আমার বিয়ের কয়েক সপ্তাহ আগে তাকে আমাদের বাড়িতে আনা হয়েছে।
.
আমার দু'দিকে দু'জন ভাসছে। বামপাশে নীলা, ডানপাশে সায়মা। নীলা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। সায়মা তো চিনেই না আমাকে। নীলা হয়তো পরজীবনে ভালোই আছে। জীবনে চলার পথে নামায, রোযা সবকিছুই করার চেষ্টা করতো। আমি তো পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি।
.
সিফাতকে সাথে নিয়ে কয়েকদিন পর নিশিদের বাড়িতে যাই। নিশি তখন তার আব্বুর বাড়িতে। আমাকে দেখে নিশি ম্লান হাসলো। আমি নিশির ম্লান হাসার কারণ সহজেই অনুধাবন করতে পারলাম। কিছু সবার সাথে আড্ডা দেয়ার পরও সায়মাকে খুঁজে পেলাম না। সবাই কত আনন্দ করছ, অথচ সায়মা নেই।
.
আমি নিশিকে ইশারা করে ছাদে গিয়ে দেখি এক কোণায় আনমনে বসে আছে। আমি তার কাছে গিয়ে গলা খাকড় দিতেই সে চমকে উঠে বললো,
  -  কে?
আমি দাঁড়িয়ে থেকেই বললাম,
  -  আমি সজীব, সিফাতের বন্ধু।
গলার স্বর নিম্মগামী করে বললো,
  -  ওহ, বসুন।
.
আমিও ছাদের উপর বসে পড়লাম। মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো সে জানে না, সে যে দিকে তাকিয়ে আছে সে দিকে আমি বসে আছি। সায়মার অপরুপ চাহনি দেখে আমি তৃতীয়বার ওর প্রেমে পড়লাম। মনে মনে আল্লাহর সৃষ্টির প্রশংসা করার জন্য মাশা-আল্লাহ বলে উঠলাম।
.
আমি দ্বিতীয়বার কথা বলার জন্য গলা খাকড় দিলাম। মেয়েটা চুপ হয়েই আছে।
  -  এত চুপচাপ কেন আপনি?
  -  আমি এমনি।
  -  তবুও সবসময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করলেই তো পারেন।
  -  সৃষ্টিকর্তার কাছে হয়তো বড় কোন অপরাধ করেছি, তাই তিনি শাস্তি দিচ্ছেন।
  -  তাঁর পরীক্ষাও তো হতে পারে।
  -  এতকিছু ভাবি না।
.
সায়মা আবার চুপ করে রইলো। আমি ওর মায়ামাখা মুখটার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।
  -  আমি আপনাকে ভালোবাসি।
হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে বলে ফেললাম। আমার কথায় সায়মা চমকে উঠে চোখের পানি ফেলতে লাগলো।
  -  আমি কিছু বলেছি।
  -  আপনি হয়তো জানেন না, আমি চোখে দেখতে পাই না। গ্রাম্য ভাষায় যেটাকে অন্ধ বলে।
  -  আমি সেটা জানি। প্রথমদিন আপনাকে দেখেই ভালোবেসেছি। তারপর থেকে শুধু আপনাকেই দেখি। বিশ্বাস করুন, আপনাকে দেখার পর থেকে আমি কোনকিছুতেই মন রাখতে পারছি না।
  -  এটা আবেগ, আবেগ কেটে গেলে স্বাভাবিক হবেন।
.
আবেগ বলেই চালিয়ে দিলো সায়মা। আমার কিছুই বলার নেই। ও হয়তো ভাবছে ওর প্রতি আমি করুণার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। অথচ আমি ওকেই ভালোবাসি। ওর চোখ দুটোকে ভালোবাসি, ওর সিন্ধ মুখটাকে ভালোবাসি, ওর লম্বা কেশগুচ্ছকে ভালোবাসি।
.
আমরা দু'জন চুপচাপ বসে আছি। মাগরিবের আযান হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যে দিবে। এমন সময় নিশি ছাদে আসলো।
  -  সজীব ভাই, নামায পড়বেন না? সময় তো হয়ে এলো।
  -  হ্যাঁ পড়বো, এখনই যাচ্ছি। আপনার বোন এত কথা কম বলে কেন?
কথাটা বলেই আমি ওর দিকে তাকালাম, দেখলাম মুখটা শুকিয়ে গেছে। নিশি হাহা করে হাসতে হাসতে বললো,
  -  আপু একটু কথা কমই বলে। যাইহোক আপনি তাড়াতাড়ি আসুন, আমি জায়নামাজ দিচ্ছি।
  -  আচ্ছা।
.
নিশি চলে গেল। আমি শেষবারের জন্য সায়মার দিকে তাকালাম। মেয়েটা আমার দেহ কোনদিকে সেটা বুঝতে পেরে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়েছে। আমি শেষবার বললাম,
  -  আমি সত্যিই আপনাকে ভালোবাসি সায়মা। I love u......
সায়মা মেকি হেসে বললো,
  -  অন্ধদের ভালোবাসতে নেই। নামাযের সময় হয়ে এলো। আপনি যান, আমিও নিচে নামব।
  -  আমি আপনাকে সাহায্য করবো?
আবারো সেই মেকি হাসার চেষ্টা করে বললো,
  -  আমার অসুবিধা হবে না। মুখস্ত হয়ে গেছে।
.
আমি সেদিন সায়মাকে আর দেখিনি। রাতেই বাড়িতে চলে এসেছিলাম। সায়মার কথাগুলো মনের মধ্যে বারবার ভেসে আসছে। ভেসে আসছে ওর মুখটা। কোনক্রমেই ভুলতে পারছি না। মনকে বারবার বোঝালাম, 'তুই সায়মাকে ভুলে যা, ওতো অন্ধ। অন্ধদের ভালবাসার কোন অধিকার নেই।'
.
তবুও মন যেন কোন প্রতিবন্ধকতাই মানছে না। আমাকে কোনকিছুই ভালো লাগছে না। বিছানায় শুয়ে আজগুবি সব কথা ভাবছি, এমন সময় সিফাতের ফোন,
  -  কেমন আছিস দোস্ত?
  -  ভালো নাই রে। সায়মাকে ভুলতেই পারছি না।
  - আবারো সায়মা! দোস্ত, তুই ওকে ভুলে যা, ওতো অন্ধ।
  -  আমি কি করে ওকে ভুলে যাই, যতই ভোলার চেষ্টা করি ততই কাছে আসে।
  -  তুই একবার নীলার কবর জিয়ারত করে আয়।
  -  আচ্ছা ঠিক আছে।
.
অনেকদিন নীলার কবর জিয়ারত করা হয় না। মেয়ে আমাকে অনেক ভালোবেসেছিলো। দুপরিবারের সবাই জানতো। হঠাৎই সে আমায় ছেড়ে চলে গেল। মাগরিবের নামায আদায় করে নীলার কবর জিয়ারত করলাম। পিছনে কার যেন হাতের স্পর্শ পেলাম। ফিরে দেখি নীলার বাবা।
.
আমি উনাকে দেখেই সালাম দিয়ে চোখের পানি মুছলাম। উনার চোখেও স্পষ্ট পানি। আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বললো,
  -  নীলা মারা যাওয়ার পাঁচ বছর হতে চললো। তুমি এখনো তাকে ভুলে যাওনি বাবা?
  -  ওর স্মৃতি আমাকে ভুলতে দেয় না আঙ্কেল। আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন ও আমার বুকের একটা প্রান্তে থাকবেই।
.
নীলার বাবার জোরাজুরিতে ওদের বাড়িতে ঢুকে এক কাপ চা খেলাম। নীলার বাবা চা খেতে খেতে বললেন,
  -  বাবা, তুমি বরং এবার একটা বিয়ে করো। নিজের পছন্দ থাকলে তাও বলো। এভাবে তো একজনের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না।
আমি কোন কথা না বলে চুপ করে থাকলাম। নিজের পছন্দ! সেতো বর্তমান সায়মা।
যে চোখে দেখতে পায় না, মানুষ যাকে অন্ধ বলে।
(চলবে)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ