এক....
এই আহাদ।
"
কথাটি শুনেই আমি পেছনের দিকে তাকালাম।
পেছনে সুপ্তিকে দেখে একটু অবাকই হলাম।একটু না বেশ ভালোই অবাক হলাম।
'
কাল রাতে ওই কথা বলার পর ও যে আবার আমার সামনে আসবে এইটা আমি ভাবতেও পারিনি।
আমি যতই মেয়েটাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি মেয়েটা ততই আমার সামনে এসে হাজির হয়।
'
সেই কখন থেকে ডাকতেছি তুমি শুনতে পাচ্ছ না কথাটি বলেই সুপ্তি আমার দিকে তাকিয়ে মুখের রাগি ভাব টা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করলো।
এমন মায়াবি চেহারায় রাগি ভাবটা একদম মানায় না একদম ই না।কথাটি বলতে চাইলেও বলতে পারলাম না।
"
সুপ্তি আমাদের বাড়িওয়ালার মেয়ে।দেখতে ভয়ংকর সুন্দর।কিন্তু মেয়েটাকে আমার কেন যেনো খুব একটা পছন্দ হয় না।
""
কাল রাতের কথা কিছু ভেবছো।
আমি কিছু না বলে যখনি চলে যাওয়ার জন্যে পা বাড়াবো তখনি সুপ্তি কথাটা বলে উঠলো।
দুই...
ছাদে উঠা নিষেধ আপনি জানেন না।
"
আজই আমরা এই বাসায় উঠেছি।সারাদিন জিনিস পত্র গোছানোর পর একটু হাওয়া খাওয়ার জন্যে একটু ছাদে আসলাম।
চাদের আলোতে নিজেকে অনুভব করতে ভালই লাগছে।মনে হচ্ছে আমি চাদের ভিতরেই ডুবে আছি।
""
আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ে মুখে রাগি ভাব নিয়েই দাঁড়িয়ে আছে।
চাদের আলোয় মেয়েটাকে অনেক সুন্দর লাগছে।চাদের আলোয় মেয়েটাকে নিয়ে ডুবে যেতে ইচ্ছে করছে।
"
ছাদে উঠা নিষেধ আপনি জানেন না। মেয়েটি আবার কথাটি বলে উঠলো।
'
কোই কোথাও লেখা নেই তো কথাটি শুনে মেয়েটি আরও বেশি রেগে গেলো।
আপনি জানেন আমি কে মেয়েটি রাগি কন্ঠে কথাটি বলে উঠলো।
'
আমি তিন তলায় নতুন এসেছি আর আপনার চেহারায় রাগি ভাবটা একদম ই মানায় না কথাটি বলেই আমি নিচে চলে আসলাম।.
..তিন..
সুপ্তির সাথে তুমি কি করেছো।
'
সকালে যখন বাসা থেকে বের হতে যাবো তখনি আম্মা কথাটি বলে উঠলো।
আম্মা আজ আমাকে তুমি করে বলছে তার মানে কিছু একটা হয়েছে।আম্মা যখন রেগে থাকে তখন আমাকে তুমি করেই বলে।
কিন্তু এই সুপ্তিটা কে।আমি আবার কি করলাম।
আমি তো কিছু করি নি আর এই সুপ্তিটা কে।
আমার কথায় আম্মা মনে হয় আরও একটু রেগে গেলেন।
মজা কর আমার সাথে আম্মা কঠিন গলায় কথাটি বললো।
আম্মা আবারও বললো,
-সুপ্তি বাড়িওয়ালার মেয়ে।কাল রাতে ছাদে কি করেছো ওর সাথে।
চার....
এই রিক্সা।
'
যখনি রিক্সায় উঠতে যাবো তখনি কেও একজন রিক্সায় উঠে বসে পড়লো।
তাকিয়ে দেখি সুপ্তি বসে আছে।আমার রাগের মাত্রাটা একটু বেড়ে গেলো।
এইটা কি হলো কথাটি বলেই রাগি ভাব নিয়ে সুপ্তির দিকে তাকালাম।
আমার দেড়ি হয়ে যাচ্ছে তুমি চাইলে আমার সাথে যেতে পারো, কথাটি বলেই সুপ্তি আমার দিকে মুচকি হেসে তাকালো।
আমি অবাক না হয়ে পাড়লাম না।বলে কি মেয়েটা। রিক্সা ঠিক করলাম আমি আর আমাকেই বলে কি না যেতে পারো।
'
একটা জরুরি কাজে বের হয়েছিলাম।কিন্তু মেয়েটার জন্যে তো আমার আরও দেড়ি হয়ে যাচ্ছে।
আমি কিছু না বলেই রিক্সাতে উঠে পড়লাম। ফাজিল মেয়েটা দেখি মুচকি মুচকি হাসতেছে।
পাচ..
সকালে বাড়িওয়ালা এসেছিলো।কথাটি শুনে আমি আম্মার দিকে তাকালাম।
তুমি নাকি ওনার মেয়ের সাথে খারাপ আচরন করেছো।
কি বলে। সামান্য মজা করেছি বলে বাসায় এসে নালিশ দিয়ে গেলো।আসলে মেয়েটাকে যতটা খারাপ ভাবছিলাম ততটা খারাপ না তার থেকে আরও বেশি খারাপ আর ফাজিল।
তুমি আর ছাদে যাবা না আর এখনি সুপ্তির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেবে কথাটি বলেই আম্মা চলে গেল।
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।
ছাদে যাব না ঠিক আছে কিন্তু ক্ষমা চাওয়াটা একটু বেশিই হয়ে গেল না।
ছয়....
ধাক্কা দিয়ে কিন্তু ফেলে দেব।
'
আমার দিকে চেপে বস কথাটি শুনে আমি সুপ্তির দিকে ভ্রু কুচকে তাকালাম।
মেয়েটা বলে কি।গায়ের সাথে গা লেগে যাওয়ার ভয়ে আমি মাঝখানে একটু ফাকা রেখেই বসেছিলাম।
'
সুপ্তি আবারও বললো কি হলো চেপে বসো।
অবশ্যই না।
কথাটি শুনে সুপ্তি রাগি ভাব নিয়ে উপরের কথাটি বললো।
আমি আর কিছু না বলে একটু চেপে বসলাম।
এই মেয়েকে দিয়ে বিশ্যাস নেই।যদি সত্যি সত্যিই ধাক্কা মেরে বসে তখন কি হবে।
'
ভাড়াটা দিয়ে দিও।
'
সুপ্তির ভার্সিটির সামনে আসতেই সুপ্তি নেমে উপরের কথাটি বললো।
তোমার ভাড়া তুমি দিবা।
মোটেও না।রিক্সা ঠিক করছো তুমি,তাই ভাড়াটাও তুমিই দিবা কথাটি বলেই ফাজিল মেয়েটা মুচকি হেসে চলে গেল।
ভাড়া না দিলেও এই ফাজিল মেয়েটার হাত থেকে তো বাচলাম।
ক্ষমা চাওয়ার পর থেকে মেয়েটা আমাকে সবসময় জ্বালিয়েই মারছে।
কিছু বললেই আম্মার কাছে নালিশ চলে যায়।
...সাত...
তুমি চাইলে ছাদে যেতে পারো।
'
কলিংবেল বাজতেই সুপ্তি দরজা খুলে দিল।
দেখতে তো ভয়ংকর সুন্দর কিন্তু এতো ফাজিল কেন।
কাল রাতের জননে আমি দুঃখিত কথাটি বলে
যখনি ফিরে আসতে যাব তখনি সুপ্তি উপরের কথাটি বললো।
কি মেয়েরে বাবা।নিজেই ছাদে উঠছি বলে বাসায় নালিশ করলো এখন আবার নিজেই ছাদে উঠতে বলছে।
আসলে মেয়েরা কখন কি ভাবে সেটা নিজেও বলতে পাড়ে না।সবসময় ই বেশি বোঝে।
আমি কিছু না বলেই চলে আসলাম।
'
এখন আর বাসায় থাকতে ভাল লাগেনা।মেয়েটা যে কিভাবে পটিয়ে ফেললো সেটাই বুঝতেছিনা।
'
আহাদ আমি তোমাকে ভালবাসি।
'
কথাটি শুনে আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি কেও নেই।
আমি একটু অবাকই হলাম।আমি কি ভুল শুনলাম, না তা হবে কেন।
আমি যখনি আবার সামনের দিকে তাকাবো তখনি আবার আমি একই কথা শুনতে পেলাম।
পেছনে তাকিয়ে এবার চমকেই উঠলাম,দেখি সুপ্তি দাড়িয়ে আছে।
এই ফাজিল মেয়েটা বলে কি।সবসময় ফাজলামি।
আমি সত্যিই তোমাকে ভালবাসি কথাটি বলে সুপ্তি এক মায়াময় চেহারায় আমার দিকে তাকালো।
সুপ্তির চোখে এবার ফাজলামোর কোন চিহ্ন পেলাম না।
মেয়েটাকি সত্যিই আমাকে ভালবাসে।
আমি কিছু না বলেই নিচে চলে আসলাম।
পরিশিষ্ট... ..
সুপ্তি আবারও বললো কালকের রাতের কথা কিছু ভাবছো।
মেয়েটাকে একটু শিক্ষা দেওয়া দরকার।অনেক জ্বালিয়েছে আমাকে।
তোমার সাথে প্রেম, অবশ্যই না।আমি কোন ফাজিল মেয়ের সাথে থাকতে চাই না কথাটি শুনে সুপ্তির মুখটা কালো হয়ে গেলো।
কিছু বলতে চাইলেও বলতে পারছে না।চোখে পানি চলে এসেছে।
আমি আর দাড়ালাম না।কয়েক পা এগিয়ে যেতেই আবার পেছনে তাকালাম।
দেখি সুপ্তি মাথা নিচু করেই দারিয়ে আছে।মনে হচ্ছে এখনও কাঁদছে।
মনে হয় একটু বেশি বেশিই করে ফেললাম।নাহ আর না, অনেক হইছে।মেয়েটা সত্যিই আমাকে ভালবাসে।
'
আমার বউ টা কাদলে একদম ই ভাল লাগে না।কথাটি শোনার পর সুপ্তি আমার দিকে তাকালো।
কেঁদে কেঁদে একদম চোখ লাল করে ফেলেছে মেয়েটা।
আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই সুপ্তি আমাকে জড়িয়ে ধরে কাদতে শুরু করলো।
"
আম্মাকে ফোন করে বললাম সবকিছু গুছিয়ে নিতে।নতুন বাসা খুজতে হবে।
শ্বশুর মসাই জানলে এমনিতেই বাসা ছেড়ে দিতে বলবে তাই আগেই ছেড়ে দিলাম।
আমি আর সুপ্তি রিক্সায় বসে আছি।সুপ্তি আমার কাধে মাথা রেখে বসে আছে।
আমি সুপ্তির কপালে একটা চুমু একে দিলাম আর মনে মনে বললাম এই ভালবাসা হারাতে নেই,কোনমতেই নেই।
-------------------------------------
(অবশেষে বাড়িওয়ালার ফাজিল মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেলাম)
"
Abdul Ahad(অলস বালক)
"
#06
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ