এক...
তুমি আমার কথা একদম ই শোন না।
"
আজ যখন আমি এফবি তে আসলাম তখনি মেসেজ টোন টা বেজে উঠলো।
আমি মেসেজ এ চাপ দিতেই সুপ্তির নাম টা ভেসে উঠলো।
'
সুপ্তি আবারও বললো, তোমাকে না এক্সাম এর সময় এফবি তে আসতে বারন করছিলাম।আসলা কেন?
'
মেয়েটা এমন কেন।যতই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি ততই সে আমার কাছে আসে।
আমি সুপ্তির মেসেজ এর রিপ্লাই না দিয়েই বের হয়ে আসলাম।
""
সুপ্তি আমাদের পাসের ফ্লাটেই থাকে।মেয়েটা দেখতে সুন্দর হলেও আমি কেন যেন ওকে ঠিক ভাবে পছন্দ করতে পাড়ি না।
সবসময় আমার পেছনে লেগেই থাকে। আর আমার আম্মা কে দেখলে মনে হয় আমি কিছুই না সুপ্তিই ওনার মেয়ে।
দুই....
দুধ টুকু খেয়ে নাও।
'
কাল এক্সাম আছে তাই একটু সব কিছু রিভিশন দিচ্ছিলাম।তখনি কেও একজন উপরের কথাটি বললো।
আমি মাথা তুলে তাকাতেই দেখি সুপ্তি হাতে দুধের গ্লাস নিয়ে দাড়িয়ে আছে।
সুপ্তিকে দেখে আমার মেজাজটা একটু খারাপ হয়ে গেলো।তার উপর আবার গ্লাস এ দুধ নিয়ে আসছে।
দুধ আমার কোন কালেই পছন্দ ছিল না আর এখনো নেই।কিন্তু এই মেয়েটা এখানে কেন।
"
আম্মা আমাদের বাসায়।
'
আমি যখনি আম্মাকে ডাকতে যাব তখনি সুপ্তি কথাটা বললো।
আমি জানি দুধ তোমার পছন্দ না।তবুও একটু খেয়ে নাও ভাল লাগবে।
কথাটি বলে সুপ্তি আমার দিকে কেমন যেন এক মায়াময় চেহারায় তাকালো।আমি কিছু বলার আগেই সুপ্তি দুধের গ্লাসটা এগিয়ে দিল।
নাহ মেয়েটা যেহেতু কষ্ট করে নিয়ে আসছে তাহলে একটু খেয়েই দেখি।মাথাটাও কেমন যেন ব্যাথা করতেছে।
'
সুপ্তির হাত থেকে গ্লাসটা নিতেই সুপ্তির মুখে হাসি ফুটে উঠলো।
বাহ।হাসলে মেয়েটাকে তো দারুন লাগে।কি মিষ্টি একটা হাসি।হাসলে আবার গালে টোল ও পড়ে।
"
কি হল, কি দেখো,,খাও।
'
আমি সুপ্তির কথায় লজ্জাই পেলাম।মেয়েটা কি ভাবছে কি জানি।আমি দুধ টুকু খেয়ে সুপ্তির হাতে গ্লাসটা দিলাম।
'
সুপ্তি আমার কপালে একটা চুমু দিয়েই সেই ভুবন ভুলানো হাসি দিয়ে চলে গেল।
মেয়েটা করলো কি এটা।আমি আশেপাশে তাকালাম কেও আবার দেখলো নাতো।
'
একি জানালা খোলা।যখনি জানালা বন্ধ করতে যাব তখনি দেখি পাসের বাসার পিচ্চি মেয়েটা হাসতেছে।
মেয়েটা কিছু দেখলো নাতো।আমি কিছু না বলেই জানালা আটকে দিলাম।
তিন....
এই দাড়াও।
'
আম্মাকে বলে যখনি এক্সামের জন্যে বের হতে যাব তখনি কেও একজন আমাকে দাড়াতে বললো।
আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি সুপ্তি ওদের দরজা খুলে দাড়িয়ে আছে।
আমি কিছু বলার আগেই সুপ্তি আমার সামনে এসে কি সব যেন বলে ফুহ দিয়ে দিলো।
এইটা কি করলা একটু রাগি ভাব নিয়েই সুপ্তিকে কথাটা বললাম।
দোয়া করে দিলাম যাতে এক্সাম ভাল হয়।সুপ্তির কথাটা শুনে আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম।মেয়েটা বলে কি।আর কত দোয়া নেব।বাসা থেকে বের হতে আম্মাও ঠিক একই কাজ করলো।
"
তোমাকে একটু এগিয়ে দেই কথাটি বলেই সুপ্তি আমার দিকে তাকালো।
এখন যদি আমি না করি তাহলে মেয়েটার মনটা খারাপ হয়ে যাবে।হয়তো আমি যাওয়ার পর কাঁদবে।
হুম চলো।কথাটি বলে আমি হাটতে লাগলাম।
মেয়েটা অনেক খুশিই হয়েছে।দেখিনি তবুও বুঝতে পাড়লাম।
চার..
আমি তোমার সাথে একটু যাই।
"
যখনি রিক্সায় উঠে বসলাম তখনি সুপ্তি কথাটি বললো।
আমি কিছুটা অবাক হয়েই বললাম আমার সাথে যাবে মানে।
-অনেকের সাথেই তো অনেকে যায়,আমি তোমার সাথে গেলে সমস্যা কি।
-আমি একাই যেতে পারবো কথাটি বলেই রিক্সাওয়ালাকে যেতে বললাম।
সুপ্তির দিকে তাকিয়ে দেখি চোখে পানি জমতে শুরু করেছে।যেন আটকানোর চেষ্টা করেও পাড়ছে না।
"
কিছুদূর যাওয়ার পড়ে আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা এখনো দাড়িয়ে আছে।চোখের পানি মোছার ব্যার্থ চেষ্টা করছে।
""
এক্সাম এর পুরো সময়টাই সুপ্তির সেই জল ভরা চোখ আমার সামনে বার বার ভেসে উঠলো।
মেয়েটা আমাকে এতো ভালবাসে আর আমি তা বুঝতে পারি না।
একবার মনে হল মেয়েটাকে নিয়ে আসলে কি এমন হতো।এসে আবার চলে যেত।
এসব ভাবতে ভাবতেই দেখি সময় প্রায় শেষের দিক।তবুও প্রায় ফুল এন্সার করে বের হলাম।
পরিশিষ্ট ....
এই আহাদ।
'
এক্সাম শেষে একটু তাড়াতাড়িই বের হলাম।রিক্সা পেতে খুবই সমস্যা হয়।
বের হতেই কেও একজন আমার নাম ধরে ডাকলো।
আমি আশেপাশে তাকালাম। সবাই প্রায় বের হয়ে এসেছে।এতো মানুষের মাঝে কে আমাকে ডাক দিল কিভাবে বুঝব।
"
এই আহাদ এইদিকে।
"
আবারও কেও একজন ডাকলো।আমি সামনে তাকিয়ে দেখি সুপ্তি রিক্সায় বসে আমাকে ডাকছে।
আমি সুপ্তিকে দেখে কিছুটা অবাক হলাম।এই মেয়ে এখানে কেন।
তবে ভালোও লাগলো।সুপ্তিকে দেখে মনটা ভাল হয়ে গেল।
"
তুমি এখানে।
"
এখান দিয়েই যাচ্ছিলাম।ভাবলাম তোমার এক্সাম শেষ একসাথেই যাই।
আমি সুপ্তির কথা একটুও বিশ্বাস করলাম না।এইদিকে সুপ্তির কোন কাজ থাকতে পারে না।
মেয়েটা আমার জন্যেই এইখানে এসেছে।
আমি আবারও বললাম সত্যি তো।
'
সুপ্তি এবার নিচের দিকে তাকিয়ে একটু মন খারাপ করেই বললো, এক্সামের পর রিক্সা পেতে সমস্যা হয় তাই আমিই নিয়ে আসছি।
আমি কিছু না বলে রিক্সাতে উঠে বসতেই সুপ্তির মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠলো।
""
তোমার হাতটা একটু ধরি।
"
কিছুদূর যাওয়ার পরে সুপ্তি কথাটা বলে উঠলো।
আমি কিছু বলার আগেই সুপ্তি আমার হাত ধরে ফেললো।
'
আমি তোমাকে সত্যিই অনেক ভালবাসি কান্না জড়িত কন্ঠে সুপ্তি কথাটি বলে অন্যদিকে তাকালো।
'
নাহ এই মেয়েটাকে আর কষ্ট দেওয়া যাবে না।মোটেই না।
আমি সুপ্তির হাত শক্ত করে ধরলাম।
মেয়েটা এবার আর চোখের পানি আটকাতে পারলো না।টুপ করে গড়িয়ে পরলো।
আমি পানি মুছে দিতেই সুপ্তি আমার কাধে মাথা রাখল।
"
রিক্সা তার আপন গতিতে চলছে আর আমি গান গাইতেছি এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হত তুমি বলো তো।
'
-তুমিই বলো।
আমি সুপ্তির দিকে তাকাতেই দেখি ফাজিল মেয়েটা মিটি মিটি হাসতেছে।
-------------------------------------
(সুপ্তি আর আমার প্রেমের গল্প)
.
Abdul Ahad(অলস বালক)
#07
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ