-কাছে আসার অপেক্ষা
.
১
-সকাল ৮ টা।টঙের দোকানে বসে আছি।সামনে ৪ টা আলু পুরি নিয়ে বসে বসে।বসে আছি বললে ভুল হবে গবেষণা করছি।আমার খুবই পছন্দের এই আলু পুরি।যে দিন মেসে সকালে রান্না হয় না সেদিন সকালে আলু পুরি খাই।একটা আলু পুরি নিয়ে মুখে পুরেছি।একটা কামড় দিয়ে কেবল মুখ থেকে বের করেছি...
.
-এই সব তুমি খাও কিভাবে? কেউ খায় এই সব?
চোখ বুজে খাচ্ছিলাম।কোন খাবার যখন খুব বেশি সুস্বাদু হয় তখন চোখ বন্ধ করে খেতে হয় তাহলে সেটা আরো বেশি মজাদার হয়।কণ্ঠ শুনেই বুঝেছি রাহি।
মুখের ভিতরে থাকা আলু পুরিটা সোজা পেটে চালান করে দিলাম।তারপর রাহির দিকে তাকারাম।নাকটা হালকা ঘেমে আর লাল হয়ে আছে।তার মানে রেগে আছে।
-চোখ বুজে খায়।আর আমি তো খাচ্ছি।অনেক সুস্বাদু।খেয়ে দেখো অনেক মজাদার।মামা ওকে ও ৪ টা আলু পুরি দাও।
-আমি এই সব রাবিস ফুড খাই না।আর তুমি কেন খাও এসব।এসব খেলে তো নিশ্চিত অসুস্থ হবা তুমি।
.
আরেকটা আলু পুরি মুখে পুরে কামড় দিলাম।তারপর বললাম
-আহ্ অমৃত।কি বানাইছো মামা তুমি!
এবার রাহির দিকে তাকালাম।আরো রেগে গেছে।
-তুমি এই গুলাকে অমৃত বলছো।ওঠো এখনি।আমার সাথে যাবে এখন।
-আরে একটু দাড়াও আগে তো খেয়ে নেই।
-নাহ। আর একটাতে ও হাত দিলে তোমার হাত আমি ভেঙ্গে দেব।
ও আমার ড়ান হাতটা ধরলো।তারপর এক প্রকার টানতে টানতে নিয়ে ওর গাড়ির সামনে নিয়ে এলো।
-গাড়িতে ওঠো।
-কোথায় যাবা
-জাহান্নামে।উঠতে বলছি ওঠো।আর চুপ করে থাকবা।কোন প্রশ্ন করবা না।করলে হাত পা ভেঙ্গে বসিয়ে রাখবো।
.
-ছিট বেল বেধে নাও।
-ছিট বেল আবার বাধবো কেন।
-বলছি তাই বাধবা।বলেছি না কোন প্রশ্ন করবা না।
.
ও নিজেই আমার সিট বেল বেধে দিলো।তারপর নিজেরটা বেধে নিলো।.
আল্লাহই ভালো জানে কপালে কি আছে আজ।অনেক রেগে গেছে।......
অনেক স্ট্রিডে গাড়ি চালাচ্ছিল।কিন্তু কিছুক্ষন পর আবার স্বাভাবিক ভাবে চালাতে লাগলে।তারমানে রাগ কমে গেছে।একটা পার্কের সামনে এসে গাড়ি থামালো।...
.
২
পাশাপাসি বসে আছি বেঞ্চে।কেউ কোন কথা বলছি না।এখন আর রেগে নেই মনে হচ্ছে।তবে মন খারাপ মনে হচ্ছে।ওর মন খারাপ থাকলে আমাকে গান শোনাতে হয়।আমার গান শুনলে ওর মন ভালো হয়ে যায়।একটু পরই আমাকে গান গাইতে বলবে ও।আমার দিকে চোখের দিকে তাকালো ও।আমি মাথা নিচু করে নিলাম।তারপর অন্য দিকে তাকিয়ে গাইতে শুরু করলাম
.
তুমি চাইলে বৃষ্টি, মেঘও ছিল রাজী
অপেক্ষা সুদূর বর্ষনের,
মাতাল হাওয়া বইছে, দূরে পাখি গাইছে গান
বৃষ্টি তোমার আহবান।।
সাদা রঙের স্বপ্ন গুলো দিল নাকো ছুটি
তাইতো আমি বসে একা,
ঘাসফুলেদের সাথে আমি একাই কথা বলি
ঘাসফুল গুলো সব ছন্নছাড়া।।
.
এখনও আমার দিকে তাকিয়ে আছে রাহি।যাকে বলে পলকহীনভাবে তাকিয়ে থাকা।আমি ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম
-গান তো শেষ।
ও একটু কেপে উঠলো।তারপর বললো
-তোমাকে বলতে বলেছি।তাকানোর মাঝে ডিস্টার্ব করো কেনো।
একটু বসো। আসি আসছি।
-কই যাবা।
আমার কথার উত্তর না দিয়ে রাহি চলে গেলো।কিছুক্ষন পরে দুইটা আইসক্রিম নিয়ে ফিরে আসলো।একটা আমাকে দিলো আর একটা ও খেতে লাগলো।অনেকটা বাচ্চাদের মতো খাচ্ছিলো ও।একটুখানি ওর নাকে লেগে গেছে।ও জিহ্বা দিয়ে নাকের থেকে সরানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু জিহ্বা দিয়ে নাগাল পাচ্ছে না।
আমি রুমাল বের করে ওর নাক থেকে আইসক্রিমটুকু মুছে দিলাম।
আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো তারপর বললো
-তুমি আমার মনের কথা কিভাবে বুঝে ফেলো?
-কিভাবে জানি না।তবে বুঝে ফেলি।
-তাহলে তোমাকে এত ভালবাসি এটা কেন বুঝো না।
-যেটা বাস্তবে সম্ভব না সেটা বোঝার কোন মানে হয় না।
-কেন সম্ভব না।বলো আমাকে। আমি তোমাকে ভালবাসি তুমি আমাকে ভালবাসো।তাহলে বাধা কোথায়।
.
আমার অনেক কাছে চলে আসলো ও।তারপর বললো
-আমার চোখের দিকে তাকাও।এভাবেই তাকিয়ে থাকবে।
.
ওর চোখের দিকে তাকালাম।কিন্তু বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকতে পারলাম না।ওই চোখের দিকে বেশিক্ষন তাকালে আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারবো না। অন্য দিকে তাকিয়ে বললাম
-বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া অনেক কঠিন।পারবে তুমি আমার সাথে মানিয়ে নিতে।
পারবে রাতের পর রাত না খেয়ে ঘুমোতে?
পারবে ওই টঙের দোকানের চারটা আলুপুরি খেয়ে সকালটা কাটাতে? পারবে তিন কিলোমিটার প্রতিদিন হেটে টিউশুনি করাতে? পারবে সকালে শুধুমাত্র ভাত আর ডাল খেয়ে কাটাতে? ছোট্ট একটা ঘরে সারা রাত মশার কামড় খেয়ে ঘুমোতে?
সোনার চামচ মুখে নিয়ে তোমার জন্ম।একটা সাধারন মেয়ে হয়ে আমার হতে পারবে?
.
পরিবেশটা নিরব হয়ে আছে।শুধু রাহির চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।হটাত ও উঠে দাড়িয়ে বললো
-যদি পারি তবেই তোমার সামনে এসে দাড়াবো।
চোখ মুছতে মুছতে রাহি চলো গেল।আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছি।
.
৪
.
অনেক দিন থেকে রাহির সাথে দেখা হয় না।হয়তো ওই দিনের পর আমাকে ভুলে গেছে।ভুলে গেলেই ওর জন্য ভালো। আমিও রাহিকে ভালবাসি ওকে ভালো না বাসার কোন কারন নেই।কিন্তু আমি বাস্তববাদী।...
আজও সকালে মেসে রান্না হয়নি।তাই টঙের দোকানে গেলাম আলুপুরি খেতে।...
প্লেটে তিনটা আলুপুরি নিয়ে বসেছি।প্লেটে থেকে হাতে একটা পুরিতে হাত দিয়েছি দেখি অরেকটা হাত প্লেটে।হাতে কাচের চুড়ি।একটা বেঞ্চ নিয়ে আমার সামনে রাহি বসে পড়লো। কালো শাড়ি পড়ে এসেছে আজ।কপালে কালো টিপ দেওয়া।অনেকটা শুকিয়ে গেছে।চোখের নিচে হালকা কালো দাগ।হাতে কয়েকটা মশার কামড়।আমার দিকে তাকিয়ে বললো
-মামা আরও তিনটা আলুপুরি দেন তো।
.
.
Written By-Ashik
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§
35
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧧⧍:ā§Šā§Š AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ