"আমার সাথে যে ছেলেটার বিয়ে ঠিক হয়েছে, তার নাম শ্রাবণ। ওকে আমি খুব ভালোমত চিনি না। যতটুকু জানি, বিয়েতে সে নিজ থেকেই রাজি হয়েছে, তার বাবা-মা জোর করে কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে না ! শ্রাবণের চেহারার দিকে তাকালেও বিয়েতে রাজি না হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যায় না। সে হাসছে, আনন্দিত সে, হাসিমুখে সবার সাথে কথা বলছে। আমি বেশ আশ্বস্ত হলাম। খুব ধুমধাম করে আমাদের বিয়ে হয়ে গেলো। বছরখানেক কেটে গেলো, আমাদের একটা সন্তান হলো। শ্রাবণ এখন ভীষণ সুখী একটা ছেলেে, ভীষণ সুখী একজন বাবাও !!
... ... ...
শ্রাবণের সাথে সংসার করার পুরো ১০ বছর পর ড্রয়ারের এক কোণে আমি ওর ডায়রিটা খুঁজে পাই। ডায়রিতে যে কয়টা লেখা ছিল, সবগুলোই বিয়ের আগের, তারিখগুলো সে কথাই বলে !! ডায়রির লেখাগুলো পড়ে আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, বিয়ের আগে ওর একটা রিলেশন ছিল !!
মেয়েটাকে ও প্রচন্ড ভালোবাসতো। প্রত্যেকটা লেখার মাঝে অনেক বেশি আবেগের ছাপ ছিল। ডায়রির বিভিন্ন পাতার ফাঁকে শুকিয়ে যাওয়া গোলাপের পাপড়ি ছিল। খুব সুখী কাপল ছিল তারা !! ডায়রির বেশিরভাগ পাতায় দুটো হাতের ছবি আঁকা ছিল। খুব শক্ত করে ধরে রাখা দুইটা হাত। একটা ছবির নিচে লিখা ছিলঃ "সে সবসময় আমার হাত ধরে রাখে, খুব শক্ত করে ধরে রাখে। আমি বললাম, "এমনভাবে হাত ধরে রাখো যেন হাত ছাড়লেই আমি চলে যাবো ??" সে কপাল কুঁচকে বললো, "হু, ফুড়ুৎ করে উড়ে যাবা !!" আমি হেসে ফেলি। দিনের বাকি সময়টা আমার হাত খালি খালি লাগে, প্রচন্ড শূন্য লাগে !!"
শ্রাবণের ডায়রির বাকি লেখাগুলা আমি আর পড়তে চাই নি। শেষ পৃষ্ঠায় গেলাম। সেখানে কাঁপা কাঁপা হাতে লিখা ছিলঃ "আজকে সে প্রথম এবং শেষবারের মত আমার হাত ছেড়ে দিলো। আমি কষ্ট পাচ্ছি, ভীষণ কষ্ট। এই অবস্থায় একটা মানুষ আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে, ঘুমের ওষুধ খায় কিংবা হাত কাটে। আমি এগুলার কিছুই করবো না। আমি স্বাভাবিক থাকবো, ভীষণ স্বাভাবিক। কেউ কিচ্ছু জানবে না, কেউ কিচ্ছু বুঝবে না। শুধু আমি ভেতরে ভেতরে পুড়বো !! খুব শীঘ্রই আমার বিয়ে হবে। তার সাথে না, অন্য কারো সাথে। আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। আমাকে অন্য কোন একজন এর হাত ধরে বেঁচে থাকতে হবে। অন্য কোন একজন পাশের বালিশটায় জায়গা করে নিবে। আমার একটা সন্তান হবে, সে অন্য কোন একজনকে মা বলে ডাকবে। আমি হাসিমুখে থাকবো। শুধু আমিই জানবো, কেউ একজনকে ভীষণভাবে ভালোবেসে ছিলাম আমি।।
প্রত্যেকের জীবনে এই "কেউ একজন" থাকে। কারো কারো ভাগ্য হয় ঐ "কেউ একজন" এর সাথে সারা জীবন থাকার। আর কারো কারো ভাগ্য হয় "অন্য কোন একজন" এর সাথে সারা জীবন থাকার !!
তবুও জীবন থেমে থাকে না। আমি, তুমি, "কেউ একজন", "অন্য কোন একজন" সবাই চলতে থাকে, একদম নিজের মত !! অনেকে অবাক হয়ে প্রশ্ন করবে, "কীভাবে তার জায়গাটা তুমি আরেকজনকে দিলা ??"
পৃথিবীতে কেউ কাউকে কারো জায়গা দেয় না, কেউ কাউকে REPLACE করতে পারে না। ভাগ্যের দোষে হয়তোবা অন্য কারো হাত ধরতে হয়, কিন্তু হাতের ভেতরটা আর আগের মত উষ্ণ লাগে না, ভাগ্যের দোষে অন্য কারো সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়, কিন্তু নিজের ভেতরটা আর আগের মত সিক্ত হয় না !!
... ... ...
আমার চোখ দুটো ভিজে আসলো। এক ধরণের অপরাধবোধে আমি ভুগতে থাকলাম। এই অপরাধবোধ দূর করার কোন উপায় আমার জানা নেই !! পৃথিবীতে সংসার করতে থাকা অনেকগুলো ছেলে জীবনের এক পর্যায়ে তীব্র রকমের কষ্ট পেয়েছিল। কোন এক ছলনাময়ীর হাত আকড়ে ধরে হয়তো সে বাঁচতে চেয়েছিল। সেই ছলনাময়ী তাকে মৃত্যুর দিকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল !! এক সময়ের চঞ্চল, দুরন্তপনা, হাসিখুশি ছেলের ভেতরটা খুন হয়ে গেছে সেদিনই। তবুও সে এখনো বেঁচে আছে। ভারী পাথরের মত জমাট বাঁধা কষ্ট বুকের ভেতরটায় পুষে রেখে স্বাভাবিক মানুষের মত দিব্যি বেঁচে আছে। বাবা-মা এর জন্য, স্ত্রীর জন্য, ফুটফুটে সন্তানের জন্য !!
একটা অমানুষের জন্য হয়তো কষ্ট পাওয়া যায়। কিন্তু তার জন্য মরে যাওয়া যায় না। সত্যিকারের আপন মানুষগুলোর জন্য বরং বেঁচে থাকা যায়। প্রচন্ড কষ্ট নিয়েও বেঁচে থাকা যায় !!" :)
-- কালেক্টেড
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ