গল্প : অবশেষে মুক্তি
---/------/-
.
আজ ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ, দুদিন পরেই "ভালবাসা দিবস" কিন্তু আলিয়া আর আসিফের মধ্যে আজ ডিভোর্স হয়ে গেল। শেষ হয়ে গেল তাদের ২বছরের বিবাহিত জীবনের সম্পর্ক। ভালবেসেই বিয়ে করেছিলো তারা ।
কিন্তু আলিয়ার পরিবার তা মেনে নেয়নি। তবুও আলিয়া, তার পরিবারের কথা অমান্য করে আসিফের সাথে চলে যায়। কারন আলিয়া আসিফ কে অন্ধের মতো ভালবাসতো। আসিফকে ছাড়া আলিয়া যেন কিছু ভাবতে পারতো না।
প্রথম প্রথম আসিফের বাসার লোক আলিয়াকে তেমন কিছুই বলেনি। এভাবে কেটে যায় একটি বছর। আর এই দিকে আলিয়ার বাসার মানুষ কোন উপায় না দেখে। মেয়ের সুখের জন্য তারাও মেনে নেয়। বলে রাখা ভালো যে আলিয়ার বাবা ছিলো না। পরিবারে থাকার মধ্য তার মা, আর বড় ভাই ছিলো গার্জিয়ান হিসাবে।
যখন আসিফের বাসায় শুনলো যে আলিয়ার বাসায় সব কিছু মেনে নিয়েছে। তার পরের দিনেই আলিয়া, আসিফকে নিয়ে তার বাবার বাসায় যায়। আজ সে খুবেই খুশি। কারন সে যেটা মনে মনে চেয়ে ছিলো। আজ সেটা সে পেয়েছে। নিজেকে অনেকটা অপরাধী থেকে মুক্ত করতে পারছে। পছন্দের সব খাবার বানিয়ে খাওয়াচ্ছে তার মা। ভাইয়ের সেই মিষ্টি ভালবাসা সবকিছু মিলে খুব হাসি খুশি নিয়ে পাঁচ দিন থাকার পর আবার আলিয়া চলে আসে তার শশুর বাসায়। খুব ভালোই কাটছিলো আলিয়ার মিমাংশি জীবন।
কিন্তু
এর কিছু দিন পর থেকে আলিয়া লক্ষ্য করে যে, আসিফের সাথে সাথে আসিফের পরিবারের অন্য সব সদস্যদের মাঝে কিছু পরির্বতন দেখা যাচ্ছে। আগের মতো কথা বলে না। আলিয়া কিছু বললেও এড়িয়ে যায়। কিন্তু কেন হচ্ছে? এসবের কারন আলিয়া কিছুই বুঝতে পারে না।
আর দিন যতই যাচ্ছে আলিয়ার প্রতি আসিফের ব্যবহার খারাপ হতে থাকে। অন্য সবার ব্যবহার খারাপ না লাগলেও যখন ভালবাসার মানুষ খারাপ ব্যবহার করে তখন যে কি পরিমান কষ্ট লাগে সেটা সেই বুঝতে পারে। তার পর আলিয়া, ব্যাপারটা পরিস্কার করার জন্য আসিফ কে বলে।
.
- আমার সাথে তুমি এই ধরনের খারাপ ব্যবহার কেন করছো।
- কই খারাপ ব্যবহার দেখলা তুমি।
- না।তুমি তো এরকম ছিলা না।
- তা হলে কেমন ছিলাম।( একটু জোরে)
- আসলে কি হইছে খুলে বলবা কি।( নরম সুরে)
- তোমাকে কি সব কথা খুলে বলতে হবে নাকি কি। ( খুব জোড়ে চিতকার করে কথাটা বলে আসিফ)
- কেন। আমি কি শুনার অধিকার রাখি না।
- না। রাখ না। আচ্ছা তুমিই বল আমি কি পেয়েছি তোমার পরিবারের কাছে। কিছুই পাইনি।
- কি বলতে চাও। খুলে বলবা কি?
- খুলে বলার কি আছে এখানে। তুমি বুঝ না।
- খুলে না বললে বুঝব কি করে।
- আজ তোমাকে বিয়ে না করে অন্য কাউকে বিয়ে করলে শশুর বাসা থেকে অনেক কিছু পাইতাম।
- তার মানে তুমি টাকা চাচ্ছো আমার কাছ থেকে।
- দেখ আমি একটা ব্যবসা শুরু করতে চাই। সে জন্য আমার ৫লাখ টাকা দরকার। আমি আমার বাবা মায়ের সাথে কথা বলেছি কিন্তু তারা টাকা দিতে রাজি না। তাই বলছিলাম যে টাকাটা যদি তোমার বাসা থেকে এনে দিতে পারতা তাহলে খুব ভালো হতো।
- কি বলছো এই সব। তুমি তো আমার বাসার অবস্থা জানো। তার মধ্যে সবে কয়েক দিন হলো বাসায় ব্যাপারটা মেনে নিয়েছে। এখন এসব কি ভাবে বলবো। তার মধ্যে এতো টাকা আমার ফ্যামিলি তোমাকে কিভাবে দিবে। তুমি বল।আমার ভাই অনেক কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছে।
( অনেকটা অবাক হয়ে এই কথাটা বললো। কারন আলিয়া নিজের কানকে বিশ্বাস করাতে পারছে না।যে আসিফ তার কাছে টাকার আব্দার করতে পারে)
- আমি কি তোমার কাছে এর আগে কিছু চাইছি নাকি বল।এখন আমি চাই নিজে কিছু করতে। তুমি যে ভাবে পারো টাকার কথা বলবা তোমার বাসায়। আমি কিছু জানি না। আমি আর এভাবে তোমাকে খাওয়াতে পারবো না। তোমাকে তো কিছু বলে না। কিন্ত আমাকে অনেক কিছু বলে। আমি আর তোমার জন্য বাসায় প্রতিদিন আমাকে কথা শুনতে পারবো না। ( খুব কড়া মেজাজে কথাটা বলে দেয় আসিফ)
- কিন্তু আসিফ। তুমি বুঝার চেস্টা কর। এতো টাকা আমার ফ্যামিলি কিভাবে দিবে।
- না। আমি কিছু বুঝতে চাই না। আমি টাকা চাই। তুমি যত তারাতাড়ি পারো তোমার বাসায় বলে টাকার ব্যবস্থা কর। ( এই বলেই আসিফ ওখান থেকে চলে যায়)
কিন্তু আলিয়া নিজে কান্না আর আটকাতে পারে। আলিয়া ভাবে আজ টাকার জন্য আসিফ তার সাথে এমন ব্যবহার করতে পারলো। এই কি সেই আসিফ যাকে সে ভালবেসে বিয়ে করছিলো। যার জন্য সে নিজের পরিবারের অবাধ্য হয়ে ছিলো। তাহলে আজ এই টাকার জন্য আসিফের ফ্যামিলিও তার সাথে এই কদিন ধরে খারাপ ব্যবহার করছে। কিছু ভাবতে পারছে না আলিয়া। সে এখন কি করবে। কিভাবে বাসায় বলবে এইসব ভাবে আর চোখের পানি ঝড়ায়।
তারপর..
অনেক ভেবে চিন্তে সে তার বাবার বাসায় তার পরের দিনেই রওনা হয়। যাওয়ার সময় আসিফ কে বলে যায়। তারপর বাসায় যাওয়ার পরে যখন সে তার মা'কে ও ভাইকে ব্যাপার টা খুলে বলে। তখন ওর ভাই এই ব্যাপারে নাখোজ করে দেয়। তার ভাই আলিয়াকে সাফ সাফ বলে দেয়,। তারা এতো টাকা দিতে পারবে না। কিন্তু আলিয়ার মা, মেয়ের সুখের জন্য কিছু টাকা হলেও দিতে ইচ্ছুক। কারন হাজার হলেও মেয়ের সংসার তো আর নষ্ট করতে পারে না। তার পর আলিয়ার ভাইও আর কিছু বলেনি। প্রায় ৭দিন অনেক কষ্ট করে আলিয়ার হাতে ২লাখ টা তুলে দেয় আলিয়ার ভাই। কারন পুরো টাকা ধার করে দিয়েছে। তাই এতো দেরি। কিন্তু আলিয়া একটা জিনিস খুব ভালো করে খেয়াল করেছে। এই ৭দিনের মাঝে আসিফ যতবার তাকে ফোন দিয়েছে ততোবার আগে টাকা জোগার হয়েছে কিনা এই ব্যাপারে কথা বলেছে। আলিয়ার সম্পর্কে তেমন কোন খোজ খবর নেয় নি ।
.
যাই হোক আলিয়া তার বাসা থেকে ২লাখ টাকা এনে যখন আসিফ কে বলে যে তার ভাই অনেক কষ্ট করে তাকে ২লাখ টাকা দিয়েছে। যেখানে আলিয়া আশা করেছিলো আসিফ হয়তো তাকে তেমন কিছু বলবে না। কিন্তু ২লাখ টাকার কথা শুনে আসিফ খুবেই রেগে যায় এবং আলিয়াকে একটা থাপ্পড় মারে এবং বলে যে আমি না তোমাকে ৫লাখ টাকার কথা বলছি আর তুমি ২লাখ টাকা আমাকে দিচ্ছ। এই টাকা দিয়ে কি হবে কিছুই তো হবে না। কিন্তু আসিফের মায়ের কথায় আসিফ টাকাটা ওই খান থেকে নিয়ে চলে যায়। আর আলিয়া তার রুমে এসে কান্না করতে থাকে। যাই হোক পরে আবার পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক
হয় এবং কিছু দিন ভালোই চলে। কিন্তু
আলিয়া যখন আসিফ কে বলে তুমি না ব্যবসা শুরু করবা কিন্তু তোমার তো কোন পরিকল্পা দেখছি না। কবে থেকে ব্যবসার কাজ শুরু করবা। তখন আসিফ ব্যাপার টা এড়িয়ে চলে কোন উওর দেয় না। শুধু বলে যে ২ লাখ টাকায় ব্যবসা সম্ভব না। কিছুই বলতে পারে না আলিয়া। এই ভাবে যখন আরো কিছু দিন চলে যায়। তখন আসিফের আম্মু মানে আলিয়ার শাশুড়ি এসে আলিয়া কে বলে যে,
.
- শোন বউ মা। তুমি যে টাকা গুলা তোমার বাবার বাসা থেকে আনছিলা। সে টাকা গুলা আমাদের ধার শোধ দিতে শেষ হয়ে গেসে। আমি চাই তুমি এবার তোমার বাবার বাসা থেকে যে টাকা গুলা আসিফ কে এনে দিবা আসিফ তা দিয়ে ব্যবসা শুরু করবে।
- এসব কি কথা বলছেন মা। ধার শোধ করেছে মানে ( আলিয়ার মাথায় যেন আকাশ ভেংগে পরলো)
- হুম, যা বলছি সেটাই সত্য।
- কিন্তু মা আমার বাসা থেকে আর একটি টাকাও দিবে না। আর আপনি তো জানেন অই ২লাখ টাকা দিতে আমার পরিবারের কত কষ্ট হইছে।
- কেন টাকা দিতে পারবে না। আমারা কি তোমার বিয়ের সময় তোমার কাছে কিছু আবদার করেছিলাম নাকি। শুধু ২লাখ টাকায় কি সব হয় নাকি।
- দেখন মা আমাদের বিয়ে টা কিন্তু পারিবারিক ভাবে হয়নি। আর এখন যদি এই ভাবে বলেন তাহলে কিভাবে সম্ভব।
- অসম্ভব এর কি আছে। যখন বিয়ে করেছিলে তখন এসব মাথায় আসে নি। যত সব আদিক্ষেতা। ( খুব বিরক্তি নিয়ে কথাটা বললো আলিয়ার শাশুড়ি)
- আমি পারবো না মা,এই ভাবে টাকা চাইতে।
- টাকা তোমাকে আনতেই হবে। তা না হলে বুঝবা মজা কাকে বলে। এই বলেই আলিয়ার শাশুড়ি সেখান থেকে চলে যায়। আর আলিয়া নিরুপায় হয়ে বসে পরে। সে বুঝতে পারেনা এর মুল কারন কি। কিন্তু সে আর টাকা নিতে পারবে না তার ফ্যামিলি থেকে সেটা সে মনে মনে ভেবে নেয়।
.
তার ঠিক দুই পরে আলিয়ার শাশুড়ি আবার বলে যে, টাকা নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু এইবার আলিয়া জোড়ালো ভাবে না করে দেয় যে, সে আর টাকা এনে দিতে পারবে না। এতে আলিয়ার শাশুড়ি রেগে গিয়ে। আলিয়াকে চুলের মঠি ধরে মারতে থাকে। আর বলে যে টাকা না নিয়ে আসলে আলিয়াকে শান্তিতে থাকতে দিবে না।।এই বলে আলিয়াকে আরো কয়েকটা থাপ্পড় মেরে চলে যায় আলিয়ার রুম থেকে। তখন আসিফ বাসায় ছিলো না। তাই আলিয়ার নিরবে কাঁদা ছাড়া উপায় ছিলো না। সে ভাবে যে আসিফ আসলে সব কিছু খুলে বলবে কিন্তু
রাতে যখন আসিফ বাসায় আসলো তখন আসিফ পুরা মাতাল। এই অবস্থা দেখে আলিয়া কিছুটা অবাক হয়ে যায়। কারন যে মানুষটা কখনো সিগারেট হাতে নিয়ে দেখে নি সে মানুষ,সে মানুষটা আজ কি আজে বাজে নেশা করছে। কি বিভস্য দুর্গ্ধ বের হচ্ছে মুখ থেকে , না আলিয়া আর কিছুই ভাবতে পাচ্ছে না। তাই যখন আলিয়া, আসিফকে ধরতে গেল তখনেই আসিফ, আলিয়াকে জাটকা মেয়ে দুরে সরিয়ে দেয়। আর বলে
- তুই নাকি আমার মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছিস.( পুড়া নেশা করা অবস্থায়)
- কি বলছো তুমি এই সব। পাগল হয়ে গেসো তুমি। আমি কখন মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করলাম। বরং উনিতো আমাকে অনেক মেরেছে। আর তুমি আমাকে তুই তুই করে কেন বলছো। ( কেঁদে কেঁদে কথা গুলা বলে আলিয়া )
- এই কি বললি তুই আমার মায়ের নামে। আমার মায়ের বদনাম তুই আমার সামনে করছিস। তোর সাহস তো কম না। আর তোকে কি বলবে,,,
- আচ্চা আগে তো আমার কথা শুনাবা তুমি তাই না...
- কিসের কথা শুনবো আমি। কোন কথা শুনার সময় নাই। আগে বল আমার টাকা কবে এনে দিবি।
- আমি কিভাবে টাকা এনে দিবো। বুঝার চেষ্টা কর আমাকে ( অনেক আকুতি নিয়ে)
- তুই, তুই তুই টাকা দিবি না। দেখ তোর কি হাল করি। এই বলেই রুমে রাখা কাচের গেলাস টা ছুড়ে মারে আলিয়ার মুখের উপর। নাকে গিয়ে লাগে গেলাসটা, অঝর ধারায় রক্ত বের হতে থাকে। সাথে সাথে আলিয়া মাগো বলে চিতকার করে ফ্লোরে বসে পরে। সেই দিকে কোন খেয়াল না করে আসিফ, একের পর এক লাথি মারতে থাকে আলিয়াকে। আলিয়া আসিফের পায়ে ধরে কান্না করতে তাকে আর বলতে থাকে তাকে যেন না মারা হয়। কিন্তু আসিফ সেদিকে কান না দিয়ে, আলিয়ার মুখের উপর সজোরে লাথি মেয়ে রান্না ঘরে গিয়ে গরম লোহার সিক এনে আলিয়ার হাতে কয়েক বার বসিয়ে দেয়। কিন্তু এই সময় আলিয়া শশুর বাসার লোকেরা একটা বারের জন্যেও আলিয়ার রুমে আসেনি। এই আঘাত সহ্য করতে না পেরে আলিয়া কখন জ্ঞান হারাই ফেলে সে জানে না। যখন আলিয়ার জ্ঞান ফিরলো তখন সকাল হয়ে গেসে কিন্তু আলিয়া নিজেকে নড়াতে পারছে না। সারা শরীর ব্যাথায়, অসহ্য যন্ত্রনায় অনুভুতি হীন মনে হচ্ছে নিজেকে। খুব তৃষ্ণাত্ব সে, গলাটা শুখিয়ে কাঠ হয়ে গেসে। একটু পানির খুবেই দরকার। কিন্তু সে তো হাত পা ঠিক মতো নাড়াতে পাচ্ছিলো না। পানি কোথায় পাবে। চোখ দুটা খুলতেই অনেক কষ্ট হচ্ছে তার। যখন সে অনেক কষ্ট করে আস্তে আস্তে চোখ খুললো তখন দেখে যে তাকে স্টোর ঘরে হাত বেধে রাখা হয়েছে। নিজেকে একেবারেই নিরুপায় মনে করে। অসহায় হয়ে পরে। গলা শুখিয়ে যাওয়ার ফলে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু তার পর যখন আলিয়া কোন রকম শব্দ করে আসিফ কে ডাক দেয়। কিন্তু আসিফ কোন সারা দেয় না। কয়েক বার ডাকার পর আসিফ আসে। আসিফ কে বলে সে যেন তার হাতটা খুলে। কিন্তু আসিফ না করে দেয়। আসিফের কাছে একটু পানি আবদার করে কিন্তু আসিফ কোন কথা না বলে সেখান থেকে চলে যায়। আসিফের এই চলে যাওয়া দেখে আলিয়া কাঁদে কিন্তু তার চোখ থেকে পানি বের হয় না। সারা দিন এই ভাবে যাওয়ার পর, রাতে আলিয়া শরীর এর ব্যাথায়, পানির তৃষ্ণায়, একেবারে ছট ফট করতে থাকে। সে আর সহ্য করতে না পেরে। আবার আসিফকে ডাকে কিন্ত এই বার আলিয়ার শাশুড়ি আসে। এবং বলে যদি টাকা এনে দেয় তার বাবার বাসা থেকে তাহলে সে খুলে দিবে। তা না হলে সে আবার তার উপর নির্যাতন করবে। আলিয়া কোন উপায় না দেখে টাকা দিতে রাজি হয়। তার পর আলিয়াকে খুলে দেওয়া হয়। আলিয়ার শাশুড়ি হাত খুলে দিয়েই সেখান থেকে চলে যায়।তার পর অনেক কষ্ট করে আলিয়া তার রুমে যায়। কিন্তু তার শরীরের প্রতিটা পরতে পরতে ভিষন ব্যথা। কিন্তু আসিফ আলিয়ার জন্য এক টাকার ঔষদ পযন্ত কিনে আনে নি। আলিয়া যেন একদিনের মধ্যেই আসিফের কাছে অপরিচিত হয়ে গেসে। এই দিকে তার শাশুড়ি বা শশুর একবারের জন্য খোজ নেওয়ার ও প্রয়োজন মনে করেনি।আলিয়ার কি অবস্থা তা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নাই।
যাই হোক আলিয়া আসিফ কে বলে যে, তার এই অবস্থার একটু উন্নতি হলে সে বাসায় গিয়ে টাকার কথা বলে টাকা ব্যবস্থা করবে। আসিফ কিছু বলেনা। নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকে। একটা রাতো আলিয়া ঠিক মতো ঘুমাতে পারে না। আগের আসিফের মাঝে এই আসিফকে সে আর খুজে পায় না। কি হবে তার বেচে থেকে সে কিভাবে তার বাসায় গিয়ে আবার টাকা চাইবে। কোন কিছুরেই যাতে হিসাব মিলে না তার কাছে। উপরওয়ালা কেন তার সাথেএই খেলা খেলছে।
.
তার এই অসুস্থ শরীর নিয়ে প্রতি দিন তার সংসারে সকল কাজ করতে হয়। চুন থেকে পান খস্লেই ওর শাশুড়ি অকে মারে। আসিফ বাবা মা তুলে বকা ঝকা করে। আলিয়া কিছুই বলে বলেনা নিরবে সহ্য করে আর চোখের জলে বুক ভাসায়। আর একটা কথায় বার বার তার মাথায় আসে। আজকে যদি তার পরিবারের অমতে বিয়েটা না করতো তাহলে হয়তো এমন হতো না। অন্য রকমেই হতে পারতো কিন্তু কপালের লিখন তো আর খন্ডানো যাবে না।
.
তার কিছু দিন পর আলিয়া তার বাবার বাসায় যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করে, কারন সে এখন নিজেকে অনেকটা সুস্থ মনে করে । হাতের দাগ গুলা তেমন ভাবে এখনো মিশেনি। নাক ফেটে যাওয়া চিহ্নটা এখনো স্পস্ট বুঝা যাচ্ছে।তবু কিছুই করার নাই। সম্পর্কের বাধান যে খুবেই মায়ার বাধান।একজন চাইলেই একটি সম্পর্ক হঠাত করে শেষ করে দিতে পারে। কিন্তু আলিয়া পারেনা কারন সে আসিফ কে এখনো আগের মতোই ভালবাসে।
.
- কি ব্যাপার তুমি কবে যাবে?? ( আসিফের কথায় বাস্তবে ফিরে আলিয়া)
- হ্যা,ভাবছি কাল যাবো।
- দেখ, এইবার কিন্তু কোন বাহানা করবা না। ( রুক্ষ ভাবে)
আলিয়া নিশ্চুপ কোন কথা বলে না। মাথা নিচু করে খাটের কোন বসে আছে।
- কি হলো কথা বলছো না কেন।
- আচ্ছা ঠিক আছে। ( খুব আস্তে করে বলে কথাটা)
আসিফ আর কিছু বলে না। আস্তে করে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুঝে থাকে। তা দেখে আলিয়া, আসিফের পাশে বসে। আস্তে করে আসিফের মাথায় হাত বুলায় দিতে ধরে। কিন্তু মাথায় শুধু হাত দিতেই আসিফ উঠে সজোরে আলিয়ার গালে একটা থাপ্পড় মারে।
- এই আমি তোমাকে হাত বুলায় দিতে বলছি।
- না। ভাবলাম হাত বুলায় দিলে তোমার ভালো লাগবে। ( গালে হাত দিয়ে অশ্রু সিক্ত চোখে কথাটা বলে)
- যে টা বলছি, সেটার চিন্তা আগে কর। এই বলেই আসিফ সেখান থেকে চলে যায়।
আর আলিয়া খাটে শুয়ে চাপা কান্না করতে থাকে। কষ্ট এ তার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কি হচ্ছে তার। এখন তার চোখের পানি ফেলানো ছাড়া আর কোন উপায় দেখে না।
.
.তার পরের দিন সে তার বাবার বাসায় যাওয়ার জন্য সকালেই বাসা থেকে বের হয়ে যায়। যাওয়ার আগে সে তার শাশুড়িকে বলে যায়। যাওয়ার সময়ও তার শাশুড়ি বলে এবার যাতে পুরো টাকা নিয়ে আসে। আলিয়া কোন উত্তর না দিয়েই চলে আসে।
এখন সে বাসে বসে আছে। ক্লান্ত শরীর। হালকা মৃদু বাতাস। মাথাটা বাসের শিটের সাথে এলিয়ে দিয়ে। ভাবছে সেই দিন গুলার কথা। আজ থেকে ৩বছর আগেই কোন এক পড়ন্ত বিকেলে আসিফের সাথে আলিয়ার চোখা চুখি হয়েছিলো। তার পর ধীরে ধীরে একটু একটু কথা, একটু মিলা মিশা, এই ভাবেই হয়েছিলো মনের ভালবাসা। দুজনে প্রতিজ্ঞা করেছিলো সেদিন যে, তারা যত দিন দুনিয়াতে বেঁচে থাকবে কেউ কাউকে কখনোই কষ্ট দিবে না।ভুল বুঝবে না। সেই বার ভালবাসা দিবসে নিজেকে খুবেই হ্যাপি মনে করেছিলো আলিয়া। নিজের ভালবাসার মানুষের সাথে প্রথম ভালবাসা দিবস উদযাপন। সে যেন এক অসংজ্ঞায়িত অনুভুতি। আলিয়া যেন আকাশের চাদ হাতে গেসে, তার পর থেকেই মাঝে মাঝে পার্কে ঘুরা, এক সাথে বাদাম খাওয়া। নদীর পারে বসে সুর্যের গোধূলি লগ্নে দুজনে রংগিন আভার মাঝে হারিয়ে যাওয়া। সকালের শিশির ভেজা ঘাসে খালি পায়ে হাতে হাত রেখে হাটা। সিনেমা দেখা, ছোট ছোট বিষয় নিয়ে একটু রাগ, একটু অভিমান,একটু ঝগড়া, সব মিলেই ছিলো একটি ভালবাসার সপ্নের পৃথিবী। কিন্তু আজ তার সব কিছুই যেন একটা সময়ের মাঝে হারিয়ে যাওয়া সৃতি কন্ডুলি হয়ে আছে। আর এসব ভাবতেই আলিয়া চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারেনা। কি থেকে কি হয়ে গেল সব।
.
তার পর আলিয়া বাসায় আসার পর, আলিয়ার মা আলিয়াকে দেখেই কান্না শুরু করে। সাথে আলিয়াও তার মাকে জরিয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। কারন আলিয়ার যে অবস্থা তাতে আলিয়ার মা ও আলিয়ার ভাই বিশ্বাস করতে পাচ্ছে না।এতো কিছু হয়ে তার সাথে কিন্তু কিছুই তারা জানতে পারে নি।
রাতে খাবার টেবিলে বসে আলিয়া পুরা ব্যাপাটা খুলে বলে। তার মা ও ভাইকে। কিন্তু এইবার ওর ভাই একটা টাকাও দিবে না। এবং আলিয়াকেও আসিফের বাসায় যেতে মানা করে দেয়। আলিয়া কিছুতেই তার ভাইকে বুঝাতে পারে না। কারন আলিয়ার যত কষ্টই হোক সে আসিফকে হারাতে চায় না। কিন্তু তার ভাই তাকে কড়া ভাবে বলে যে তাকে আর অই বাসায় যেতে দিবে না।
এই ভাবেই কেটে যায় কিছু দিন। এই দিকে আলিয়ার বড় ভাই। আসিফকে ফোন দিয়ে সব কিছু বলে দিয়েছে। তারা যেন তার বোনকে নিতে না আসে। সেই দিকে আসিফ তার মায়ের সাথে আলিয়ার ভাইয়ের কথা বললায় দেয়।আলিয়ার শাশুড়ি ও উল্টা বলে দেয় যে আলিয়াকে যেন টাকা ছাড়া না পাঠানো হয়। যেভাবেই চুপচাপ থাকে বিষয়টা।
কিন্তু তার কিছু দিন পড়েই আলিয়া আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাথা ঘুরে পরে যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে। ডাক্তার চেক আপ করে বলে আলিয়া অন্তসত্তা। এই কথা শুনার পরেই আলিয়ার ভাই খুবেই খুশি হয়। কারন মামা হওয়ার মজাটাই যে আলাদা। সাথে সাথে আলিয়া, ও আলিয়ার মা তারাও খুশি।
.
এই খবরটা আলিয়ার শশুড় বাড়িতে ফোন দিয়ে বলে দেয় আলিয়ার বড় ভাই।কিন্তু আসিফ কোন প্রতি ক্রিয়া দেখায় না। শুধু বলে যে সে আসবে। তার কথায়
আলিয়ার ভাইয়ের কিছুই যায় আসে না। তাই এই দিকে আলিয়ার কোন যত্নের ত্রুটি করে না, আলিয়ার পরিবার।
খুব যত্ন সহকারে চলে আলিয়ার প্রতিটা দিন। আলিয়া ভাবে যে হয়তো এই বার সব কিছু মিমাংশা হয়ে যাবে। কিন্তু আলিয়া যত বার আসিফ কে ফোন দেয়, আসিফ ফোন ধরলেও ঠিক মত কথা বলে না। আসিফ কে আসতে বললে শুধু বলে যে সময় হলে আসবে। আলিয়া তবু আসিফ কে কিছু বলে না। ভাবে হয়তো টাকার জন্য মন খারাপ।
.
এইভাবে দুই মাস যাওয়ার পরে হঠাত আসিফ আলিয়ার বাসায় আসে। আসিফ কে দেখে আলিয়া পরিবারের সবাই কিছু খুশি। তারাও আলিয়ার মতো ভাবে যে হয়তো এবার মেয়ের কপালে সুখ দেখা দিতে পারে। আসিফ আলিয়ার জন্য অনেক খাবার নিয়ে আসে। সাথে কিছু পোশাক ও কিনে নিয়ে আসে। এসব দেখে আলিয়া যে কি পরিমানে খুশি হয়। তা আলিয়া ছাড়া আর কেউ জানে না। রাতে আলিয়া আসিফের সাথে কথা বলে।
- আচ্ছা আমাদের বাচ্চার কি নাম রাখবা ( আলিয়া)
- আগে হউক তার পর দেখা যাবে।
- কি বল তুমি এই সব আগে হউক মানে তুমি কি চাও না এই বাচ্চার বাবা হতে। ( কিছুটা অবাক হয়ে)
- আরে বাবা আমি কি সেই কথা বলছি নাকি। ( একটু বিরক্ত হয়ে)
- আচ্চা বলতো, আমাদের ছেলে হবে না মেয়ে হবে।
- আমি খুবেই ক্লান্ত। এখন এই সব নিয়ে কথা না বললেও চলবে। আর এখন কি আমাকে কি একটু ঘুমাতে দিবা। ( রাগ হয়ে)
- আচ্ছা, তুমি ঘুমাও। আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেই।
এই দিকে আসিফ শুয়ে পরে, আর আলিয়া আসিফের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
.
সকালে ঘুম থেকে উঠে আসিফ কে দেখতে পায় না আলিয়া। তার পর সে তার মার কাছে জানতে পারে, আসিফ একটু বাহিরে গেসে। সে আর চিন্তা করে না। প্রায় ২ঘন্টা পরে আসিফ আলিয়ার জন্য বাহির থেকে খাবার কিনে আনে। এই সব দেখে আলিয়া বলে যে,
- তুমি আমার জন্য খাবার কিনে আনলা কেন?
- কেন আমি আনতে পারি না।
- তানয় বাসায় তো খাবার বানাচ্ছে তাই ( আসলে আলিয়া বিশ্বাস করতে পাচ্ছে না। আসিফ তার জন্য খাবার নিয়ে আসছে)
- তুমি এখন আমার সাথে খাবা। আমি তোমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দিবো । চলতো। এই বলেই আসিফ আলিয়াকে রুমে নিয়ে জায় আর নিজের হাতে আলিয়াকে খাইয়ে দে। আলিয়া খাচ্ছে আর তার চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে। কিন্তু এ পানি আনন্দের। এ পানি ফিরে পাওয়া ভালবাসার।
.এইভাবে ৩দিন আসিফ থাকে আলিয়াদের বাসায়। খুবেই ভালো ব্যবহার করে আলিয়ার সাথে। এবং চলে যাওয়ার সময় বলে যে এইবারের "ভালবাসা দিবসে" তাকে খুব দামি একটা উপহার দিবে। এই কথা শুনার পরে আলিয়া খুব খুশি হয়। তার পর আলিয়াকে রেখে আসিফ নিজের বাসায় চলে যায়। আসিফের এই ব্যবহার আলিয়ার পরিবারের সবাই খুশি ।
এভাবে চলতে থাকে দিন। আসিফের সাথে প্রায় প্রতিদিন কথা বলে আসিফ। অবশ্য ফোন টা আলিয়াই করে।
তার এক মাস পরেই হঠাত আলিয়া পেটে খুবেই ব্যথা উঠে। সে খুব চিতকার করতে থাকে ব্যাথায়। তা দেখে খুব দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পর ডাক্তার সব কিছু চেক আপ যা বলে তার জন্য তারা কেউই প্রস্তুত ছিলো না। ডাক্তার তাদের বলে যে আলিয়া পেটে যে বাচ্চা ছিলো তা এখন মৃত। এবং এইটা আলিয়াকে পয়জন খাওয়ানোর ফলে হয়েছে। আলিয়া এইটা শুনার পরেই অজ্ঞান হয়ে যায়। তার ভাই ও মা কান্না থামাতে পারে না। আলিয়ার ভাই ব্যাপারটা বুঝতে পারে যে আলিয়ার এই সর্বনাশ আফিস ছাড়া কেউ করে নি। কিন্তু তার কোন প্রমান তার কাছে নাই। সে কিছুই করতে পারে না। খবর টা আসিফের ফ্যামিলিতে দেওয়া হয়। এই বার তারা সবাই আসে। আসিফ কিছুই বলে না। আসিফ কে জড়িয়ে ধরে আলিয়া কান্না করতে থাকে। এবং আসিফের ফ্যামিলি বলে যে আলিয়া সুস্থ্ হলে তারা আলিয়াকে তাদের বাসায় নিয়ে যাবে। এই বলে আসিফ সহ তার ফ্যামিলির সবাই চলে যায়। এতে আলিয়ার ভাই ব্যাপার টা পুরো পুরি বুঝে যায়।
তার ১০ দিন পর আলিয়াকে যখন বাসায় নিয়ে আসা হয়। তার ৩দিন পর, আসিফ আলিয়ার ভাইকে ফোন জানায় দেয়। তাদের পরিবার আলিয়াকে আর তাদের বাসায় নিতে চায় না। তারা তার জন্য অন্য কোথাও মেয়ে দেখেছে। আর সেও চায় না আর আলিয়ার সাথে থাকতে। কিন্তু আলিয়ার ভাই জানতে চায় যে আলিয়ার দোষ কি। কিন্তু আসিফ কিছু বলে না। আসিফের একটাই কথা এখন সে আলিয়ার সাথে থাকবেনা।।।। এ ক্ষেত্রে আলিয়ার ভাই কিছুই বলতে পারে না। কারন সে এমন আগেই ভেবে ফেলেছিলো।
তার পর আলিয়ার ভাই আলিয়াকে খুলে বলে সব কিন্তু আলিয়া শুধু কান্না করে। সে বুঝতে পারছে যে তার কাছ থেকে আসিফের সরে যাওয়া একটা ষড়যন্ত্র মাত্র। আলিয়া আসিফকে ফোন দেয় কিন্তু আসিফ ফোন ধরে নি।
অনেক বার ফোন দেয় কিন্তু সেই একই অবস্থা ফোন আর রিসিভ করে না সে। কিন্তু আলিয়া হাল ছাড়ে না। তার পর মেসেজ করে যে সে তার সাথে একটি বার কথা বলবে। তার পর আবার ফোন দেয় কিন্তু তবুও ধরে না। আসিফ আলিয়াকে মেসেজে বলে দেয় যে সে এইবারেই কথা বলবে সেটা ডিভোর্স এর পর। তার পর আলিয়ার আর ফোন দেয় নি। একে বারে শোকে পাথার হয়ে যায়। এতো তারতারি সব শেষ হয়ে যাবে এমনটা সে কখনোই ভাবে নি। আর যে আসিফের জন্য একদিন সে নিজেই সব কিছু ছেড়ে দিয়ে চলে গেসিলো আজ সেই আসিফেই তাকে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। হায়রে কপাল। হায়রে আসিফ।
আলিয়ার ভাই আইনের সাহায্য নিতে চেয়েছিলো কিন্তু আলিয়া না করে দেয়।
তার ২দিন পরেই ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেয় আলিয়ার বাসায় তাতে আসিফের স্বাক্ষর করা। সেটা দেখে আলিয়ার একটু খারাপ লাগেনি কিন্তু কেন জানি খুব অপরিচিত মনে হয়েছে কিছু কাছের মানুষ কে। তার পর সেই ডির্ভোস পেপার নিয়ে চলে আলিয়া যায় আসিফের সাথে দেখা করতে........যাওয়ার সময় খুব আক্ষেপ নিয়ে একটা কথাই বলেছিলো আলিয়া "" হায়রে স্বার্থ "
তার পর আলিয়া সেই জায়গাটাতে জায় যেখানে তারা প্রথম "ভালবাসা দিবস" এক সাথে উদযাপন করেছিলো। এর মধ্যেই আফিরের ফোন
-কই তুমি ( আসিফ)
- কোথায় থাকতে পারি?
আসিফ আর কিছু না বলে ফোনটা কেটে দেয় কারন আসিফ জানে আলিয়া কোথায় আছে। কিছুক্ষন পর আসিফকে দেখতে পায় আলিয়া, আসিফ কাছে আসতেই।
-তুমি আমাকে না বলেছিলে "ভালবাসা দিবসে "আমার জন্য দামি উপহারের বেবস্থা করছো। এই যাতে আমি খুব ভালো করে "ভালবাসা দিবস"উদযাপন করতে পারি। এই তার উপহার তাই না।
( কান্না জরিত কন্ঠে কথাটা বলে আলিয়া)
- নিশ্চুপ ( আসিফ)
- দুই দিন আগেই দিয়ে দিলে। আমি কিন্তু একটুও কষ্ট পাইনি জানো (চোখের পানি মুছতে মুছতে)
-এবারো নিশ্চুপ।
-এইবার খুশিতো, যাও এখন থেকে তুমি মুক্ত। তুমি তো এইটাই চেয়েছিলে তাই না। ( আলিয়া)
- ভালো থেকো।( আসিফ)
-আমি কেমন থাকবো তা নিয়ে তোমাকে না ভাবলেও চলবে।
- দেখ আলিয়া।
- তুমি আর একটা কথাও বলবা না।আর আমিও চাইনা। তোমার সাথে আমার আর কোন কথা হউক।
- এভাবে কেন বলছো।
- কি ভাবে বলবো তোমাকে। আজ তুমি আমাকে শিখিয়ে দিলে স্বার্থের কাছে কিভাবে সব কিছু হার মেনে যায়।
- দেখ আলিয়া। আমি জানি এখানে আমার কিছুই বলার নাই। এই নাও তোমার টাকা টা।
- কিছু বলার থাকলেই বা কি, আর না থাকলেই বা কি।আর আমার টাকা টা তোমাকে দিতে হবে না। এটা আমি তোমার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য তোমাকে দান করলাম। আর শুনো আজকে যাদের জন্য আমাকে তুমি ছেড়ে দিলা দেখিও তারা যাতে তোমাকে কখনো ভুল না বুঝে।
.
(এই বলে আলিয়া সেখান থেকে চলে আসে, আর আসিফ দাড়িয়ে আলিয়ার চলে যাওয়া দেখছে)
আলিয়া জানে না তার ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হবে। কিন্তু একটা জিনিস খুব ভালো করে শিখতে পারছে, তা হলো।
" স্বার্থের কাছে কিছু কিছু সময় কিছু কিছু মানুষের জন্য মুল্যহীন হয়ে পরে ""
.
শুধু একটা কথাই বলবো আমার এই গল্পের সাথে যদি কারো জীবনের গল্প মিলে যায় তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। কারন। আমি চাইনা আমার এই গল্পের আলিয়ার মতো অন্য কোন মেয়ের জীবনে এরকম কষ্ট নেমে আসুক।।
লেখায়: Md Shafiq Ahmed SK
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ