গল্পঃএলোমেলো
লেখক:SO H EL(ঘারত্যাড়া)
>>>>>
<> হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সামনে
বসে আছি, কিন্তু একজনকে দেখে যেন কেমন
পরিচিত লাগলো,
কেমন জানি বুকের ভিতর টা ধুক করে
উঠলো... চেহারাটা ঠিক যেন সিমলার মতো
মনে হলো...
সিমলা! আজ থেকে ১০ বছর আগের কথা...
আমার বয়স তখন ২০ বছর। তিন বোনের পর
আমার জন্ম হয়, তাই আদরের শেষ ছিল না,
সারা দিন ঘুরে বেড়া আর বন্ধুদের সাথে
আড্ডা দেওয়া ছিল আমার কাজ।
বাবা সরকারী চাকুরী করতেন, সে জন্য তেমন
কোন কাজ ও ছিল না, বাজার ও বাবা করতো,
আমার কাজ ছিল সবার সুধু আদর খাওয়া।
ইন্টার পাশ করার পর স্থানীয় একটা কলেজে
ভর্তি হলাম, ভালোই দিন কাল কাটছিল...
ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন চিন্তা ছিল না,
।।
কিন্তু একদিন দুপুরে বড় আপু বলল, ইমরানের
বিয়ে দিয়ে দাও, তাহলে শয়তানটা ভালো
হয়ে যাবে।
আমি ভাবলাম, আপু হয়তো মজা করছে, কিন্তু
দুই দিন পর আম্মু বলল, তোর জন্য একটা মেয়ে
ঠিক করেছি...
আমি তো পুরো শক খেয়ে গেলাম,
আমিঃ কি বলেন আম্মু, আমি এই বয়সে
কীভাবে বিয়ে করবো? আমার তো পড়াশুনাও
এখনও শেষ হয় নি।
আম্মুঃ তুমি চিন্তা করো না, আমার বাড়ীতে
একটা বউ দরকার, আর মেয়েও পড়বে, তুমিও
পড়বে।
আমিঃ কিন্তু আম্মু, আর ২-৩ বছর পর করলে
হতো না?
আম্মুঃ তুমি কি কাউকে পছন্দ করো?
আমিঃ না আম্মু, কিন্তু আমি বিয়ের জন্য
তৈরি না।
আম্মুঃ মেয়ে আমাদের দুঃসম্পর্কের আত্মীয়।
মেয়েটা দেখতে অনেক ভালো, আর ব্যবহার
ও ভালো, তুমি না করো না...
আমিঃ আমি কি বলবো বুঝলাম না...
।।
১৫ দিন পর আমাদের বিয়ে হয়ে যায়।
যে দিন বিয়ে হয়, আমার কেমন জানি একটা
ঘোরের মতো লাগছিলো... কি হচ্ছে এসব?
আমার বন্ধুরা বলল, শালা! আর যায় বল, তোর
বউ টা কিন্তু হেব্বি...।
আমি একটু শুনে খুশী হলাম, যাক, আমার বউকে
তো সবাই পছন্দ করেছে।।
রাত হয়ে গেলো...
আমি ঘরে গেলাম, আমি ছোট বেলা থেকেই
মেয়েদের থেকে দূরে থাকতাম, ছোট বেলায়
একটা মেয়েকে পছন্দ করতাম কিন্তু ৬ বছরেও
তাকে বলতে পারি নি,
তারপর সে মেয়েটা অন্য যায়গায় প্রেম করা
শুরু করে, তারপর বুঝলাম আমার দারা এই
প্রেম হবে না।
ঘরে প্রবেশ করেই মেয়েটা আমাকে সালাম
দিলো। সে কি লজ্জা পাবে? আমি নিজেই
মনে হচ্ছে লজ্জাই পালিয়ে যায়।
সে আমাকে বলল, তার নাম সিমলা। এবার ssc
পরীক্ষা দিয়েছে।
যাক ভালো, আমি তাকে বললাম, আজ অনেক
ঝামেলা হয়েছে, আপনি শুয়ে যান।
কিছুক্ষনের মধ্যেই আমি শুয়ে গেলাম।
।।
সকালে সিমালার ডাকে ঘুম ভাংলো।
সিমলাঃ এই যে, শুনছেন। আম্মু ডাকছে।
আমি একটু চমকে উঠলাম, এই! মেয়ে আসলো
কোথা থেকে? পরে মনে পড়লো, ওহ কাল তো
আমার বিয়ে হয়েছে।
আমি উঠতে যাবো কি? হায়! হায়! আমার
লুঙ্গি কই?
সিমলাঃ কি হলো উঠেন?
আমিঃ আপনি যান, আমি আসছি।
সিমলাঃ ঠিক আছে।
আমি তাড়াতাড়ি লুঙ্গি খুঁজে সেটা পড়ে বের
হলাম। ভাগ্য ভালো যে রাতে দুই জনে দুই টা
কাঁথা নিয়েছিলাম, না হলে আজতো 'আমার
তো মান সম্মান থাকতো না।
হায় হোক, আল্লাহ্ এই মাত্রাই বাঁচিয়ে
দিলো>>
বিয়ের কয়েকদিন পর বাবা আমাদের এক
যায়গা বেড়াতে পাঠালেন...
কিন্তু আমাদের মাঝের দূরত্ব কেন জানি
কমলো না...
সিমলা আমার সাথে কেন জানি প্রয়োজন
ছাড়া বেশি কথা বলতো না,
আমিও কম কথা বলতাম।
একদিন সিমলা বলল, আচ্ছা আপনি কিছু করেন
না কেন? আমি সবাইকে কি বলবো যে আমার
স্বামী বেকার ছেলে।
কথা টা শুনে আমি কেমন জানি শক খেলাম।
আমিঃ কি করবো? আমি তো এখন পড়ছি,
আগে পড়া শেষ করি,
কিন্তু সিমলা যেন কিছু বুঝার মতো মেয়ে
না...
।।
আসতে আসতে আমি কেমন জানি হয়ে
গেলাম, যে ছেলে বন্ধুদের সবার সাথে কথা
বলে সবাইকে বিরক্ত করে দিতো।
সেই আমি আজ চুপ...
আমার এক বড় ভাই ব্যাপারটা নোটিশ করলো,
সে আমাকে একা জিজ্ঞেস করলো, কি
হয়েছে সিমলার সাথে?
যায় হোক, আমি ভাইকে সব বললাম, সে বলল,
রাগ না করে ধৈর্য ধরতে, আর ভালো করে
পড়তে।
।।
এভাবে কিছু দিন চলে গেলো।।
সিমলার এক বান্ধবীর বিয়ে, এজন্য দাওয়াত।
বিয়ের দুই দিন আগে আমি সিমলা কে নিয়ে
নিয়ে ওদের এলাকাতে গেলাম।
তখন পড়ন্ত বিকেল!
সিমলাকে নিয়ে একটা ছোট্ট নদী পার হচ্ছি,
গোধূলির সব রং যেন সিমলার চেহারার মধ্যে
ফুটে উঠেছে।
হয়তো আমি সেদিনি ভুল করে ফেললাম, আমি
সিমলার প্রেমে পড়ে গেলাম।
আর পড়বোই না কেন? সে তো আমার বউ।।
সে দিন সন্ধাই সিমলার বান্ধবীর গায়ে হলুদ,
আর এতে সিমলা এতো মানুষের সাথে নাচা
শুরু করলো।।
আমি তাকে মানা করলাম, কিন্তু সে শুনলো
না, উলটো আমার সাথেই খারাপ ব্যাবহার
করলো।
সে দিন রাতে আমি আবার সেই নদীর পাড়ে
গেলাম।।
সে দিন কেমন জানি আমি খুব কাঁদলাম, কি
ছেলে আমি? আর আমার কপালে এরকম বউ?
আত্মীয় স্বজনদের কারো সাহস নাই আমার
সামনে দ্বিতীয় বার কথা বলা, এমন কি বড়
ভাবীরাও আমার সামনে নাচা নাচি করে
না।
কারণ তারা জানে আমি কি রকম ছেলে,
অবশ্য এজন্য তারা আমাকে অনেক
ভালোবাসে, তারা বলতো, তোর বউ আসলে
তাকে আমরা নাচ শিখাবো, যাতে তোর
সাথে ওর ঝগড়া হয়।
আমি তখন বলতাম, আমি আমার বউকে
তোমাদের সাথে মিশতে দিবো না, না হলে
সে খারাপ হয়ে যাবে।
ভাবিরা হেঁসে বলতো, দেখবো দেখবো...।
।।
কিন্তু কোন দিন ভাবিনি যে এই রকম মেয়ে
আমার ভাগ্যে জুটবে।
আমি তো কাউকে কোন দিন কষ্ট দেই দি,
তবে কেন আমি এতো অবহেলার পাত্র।
সারা রাত নদীর পাড়ে শুয়ে থাকলাম, খুব
অসহায় লাগছিলো সে দিন।
সকালে আমি বাড়ী ফিরলাম,
অথচ সিমলা আমাকে একবারও প্রশ্ন করলো
না যে আমি সারা রাত কোথায় ছিলাম...
সে এতোটাই ব্যাস্ত ছিল যে সারা রাতেও
সে একবার ও আমার খোঁজ খবর করলো না।
একজন বলল, দুলাভাই, রাতে কোথায়
গেছিলেন, নাস্তা করবেন না?
আমিঃ এমনি ঘুরতে, নাস্তা করেছি, এখন
করবো না...
তিন দিন পর আমরা চলে আসলাম...
সিমলাঃ জানো তুমি, আমার বান্ধবীর স্বামী
কি করে?
আমিঃকি করে?
সিমলাঃ সে ঢাকায় চাকুরী করে। তাকে
নাকি এক মাস পর ঢাকা নিয়ে চলে যাবে, ইস
তারা এখন থেকে বড়লোক হয়ে যাবে।
আমিঃ ঢাকায় গেলে বড়লোক হয়ে যাবে,
এটা তোমাকে কে বলেছে?
সিমলাঃ কেন টিভি তে দেখায় না?
আমিঃ ওটা সত্যি না, যেটা দেখা যায় সব
সময় সেটা সত্যি হয় না।
সিমলাঃ ওসব কথা বাদ দাও, আমার ও ছোট
থেকে খুব ইচ্ছা যে আমিও ঢাকায় থাকবো।
কিন্তু তুমি যে কবে নিয়ে যাবা। তুমি চাকুরী
কবে করবা বলো তো? সবার সামনে তোমার
জন্য আমার সম্মান থাকলো না, সবাইকে
মিথ্যা করে বলতে হলো, যে তুমি ব্যাবসা
করো।
আমিঃ মিথ্যা বলা কি কোন দরকার ছিল?
সিমলাঃ তো সবার সামনে বলবো যে তুমি
বেকার।
আমিঃ বললে দোষ কি?
সিমলাঃ আমি বলতে পারবো না।
।।
একদিন সিমলা কলেজ যাচ্ছিলো।
একটা ছেলে দেখে বলল, দেখ দোস্ত, কি
সুন্দর একটা মাল যাচ্ছে...
কথা টা শুনে আমিও তাকালাম, ওরা যে
মেয়েটার কথা বলছিল সে মেয়ে ছিল
সিমলা।
আমি বাড়ী গিয়ে, রাতে সিমলা কে বললাম,
আমিঃ সিমলা, একটা কথা বলি?
সিমলাঃ কি বলো?
আমিঃ তুমি বোরখা পরলে কি ভালো হতো
না? এটা তোমার জন্যও সুরক্ষা, আর এটার
প্রয়োজন ও আছে।
সিমলাঃ আমি বোরখা পরা পছন্দ করি না,
কেমন জানি লাগে।
আমিঃ সব সময় তো নিজের পছন্দ মতো
চাইলেই হয় না, কিছুটা দায়িত্ব নিয়ে অন্যের
পছন্দ নিয়েও চলতে হয়।
সিমলাঃ আমি দেখতে সুন্দর, সবাই আমাকে
দেখে সুনাম করে এজন্য তোমার হিংসা
হচ্ছে, এতোই যখন তোমার হিংসা তাহলে
আমাকে বিয়ে করেছিলা কেন?
আমিঃ দেখো, তুমি একটু বেশি কথা বলছো...
সিমলাঃ আমি বেশি কথা বলছি নাকি তুমি?
আমি আমার ইচ্ছা মতো থাকবো, তোমার
ইচ্ছা মতো না, দু বেলা খাওয়ানোর ক্ষমতা
নাই আবার বড় বড় কথা।
কথা টা শুনে মন খুব খারাপ হলো...
না চাইতেও তাকে একটা চড় মেরে দিলাম।
তারপর ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম.........
।।
এরপর থেকে সিমলা আর আমার সম্পর্ক আরও
অবনতি হয়ে যায়...
সে তার বাবার বাড়ী যায় আর ১৫ দিন পর সে
আমাকে ডিভোর্সের কাগজ পাঠিয়ে দেয়।
সত্যি বলতে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম,
কিন্তু জোর করে কাউকে ধরে রাখা যায় না।
তাই আমিও এই সম্পর্ক শেষ করে দিলাম...
মা বাবা রাগ করে বলল, ১৫ দিনের মধ্যেই
তোর আবার বিয়ে দিবো।
কিন্তু এবার আমি খুব কঠোর ভাবে না করে
দিলাম, সিমলা আমাকে এই ৬ মাসে অনেক
কিছু শিখিয়ে গেলো,
হয়তো এটাই জীবন, এটাই বাস্তবতা, সবাই
একটু স্বার্থের জন্যই চলে। কেউ অভিনয়
করতে পারে, কেউ বা পারে না।
আর যায় হোক, সিমলা তো আমার সাথে সুখে
থাকার অভিনয় করলো না।
তার ভালো লাগলো না সে চলে গেলো...
।।
এরপর আমি পড়াশুনা শেষ করে একটা ভালো
চাকুরী পেলাম...
চাকুরী ৪ বছর পর!
বাবা মা অনেক জোর করেই আমার বিয়ে
দিলো। আমি আর সিমলার খবর জানি না।
তারপর আমার নতুন জীবন শুরু হলো...
আমার বউ নিশাত। পড়াশুনা এই বছরেই শেষ
করে একটা প্রাইভেট গার্লস-হাই স্কুলে
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা।
।।
যে দিন প্রথম আমি তাকে দেখতে যায়,
সে আমাকে বলল, আমি চাকুরী করি, আর এটা
করবো, আপনি বাধা দিতে পারবেন না, আর
বেতনের কিছু টাকা আমি আমার মা-বাবা
কে দিবো,
কারণ তারা আমাকে মানুষ করেছে, আমার ও
কিছু দায়িত্ব আছে, আর হ্যাঁ, আমি বোরখা
পরি, আর একটু পর্দা করে চলি,
তাই আমাকে এই নিয়ে কোন কথা বলবেন না,
মানে আমি বোরখা পরা ছাড়তে পারবো না।
আর একটা কথা, আপনি এতদিন কি করেছেন
জানি না,
তবে কোন নেশা করলে সেটা ছাড়তে হবে,
ওটা সুধু সিগারেট হলেও ছাড়তে হবে।
আমি সুধু একটা কথা বললাম, আমি সিগারেট
খায় না, তবে চা, কফি খায়, ওটাও কি
ছাড়তে হবে নাকি?
সে বলল, না না, আমি এটা তো বলি নি।
আমি বললাম, আপনি চাকুরী করবেন ভালো
কথা, আপনি আপনার বাবা মায়ের দায়িত্ব
পালন করবেন এতেও আমার কোন সমস্যা নাই,
সে বলল, ঠিক আছে তাহলে আমি বিয়ে করতে
রাজী আছি...
।।
বিয়ের পরের মাসের বেতন পেয়ে আমাকে
দিয়ে বলল, এই নেন!
আমিঃ কি এটা?
নিশাতঃ আমার বেতন। বাবাকে পাঁচ হাজার
টাকা দিয়েছি, দুই হাজার আমার কাছে
রাখলাম, এই নেন বাকিটা।
আমিঃ আমি টাকা নিয়ে কি করবো? তোমার
কাছেই রেখে দাও।
নিশাতঃ আমার কাছে থাকলে এর হিসাব
থাকবে না, আমি কোথাও খরচ করে দিবো।
সামনে আমাদের অনেক বড় জীবন।
কিছু টাকা পয়সা তো জমা করতে হবে...
আপনি আপনার ব্যাংকে জমা করে দেন। আর
বাড়িটাও রং করতে হবে।
আমিঃ এই বাড়ী রং করবো তোমার টাকাই?
নিশাতঃ কেন এটা কি আমার বাড়ী না?
আমার তোমার করছেন কেন? আম্মু বলেছে
আপনাকে নাকি আমার হাতে তুলে দিয়েছে
তাহলে আপনি যদি আমার হন,
তাহলে আপনার সব কিছুই তো আমার তাই না
কি?
আমিঃ আচ্ছা সরি। কান ধরলাম, ভুল হয়ে
গেছে।
নিশাতঃ আমি আর আপনি, আমি আর আপনি
না, আমি আর আপনি হচ্ছি আমরা...
আমিঃ আমাকে কি তোমার ছাত্র মনে
করেছো নাকি? ভালোই তো কথা শিখেছো
দেখছি... জীবনে কতো ছেলেকে
পটিয়েছো ?
নিশাতঃ এই শোনেন, এবার কিন্তু বাড়াবাড়ি
হয়ে যাচ্ছে, বিয়ের আগে খোঁজ নেন নি?
আমার এলাকার মানুষ কি বলেছে?
আমিঃ আচ্ছা সরি, মাফ করে দাও।
নিশাতঃ আমি এক বার ভুল করলে মাফ করি,
দুই বার না। এর জন্য শাস্তি পেতে হবে।
আমিঃ কি শাস্তি?
নিশাতঃ আজ বিছানাই আপনার যায়গা নাই,
আপনি নীচে শুয়ে যান।
আমিঃ কি বলো, এই শিতে নীচে শুতে হবে?
নিচ তো অনেক ঠাণ্ডা।
নিশাতঃ তারপর ও...।
আমিঃ ঠিক আছে। (আমি কম্বল নিয়ে নীচে
শুতে গেলাম)
নিশাতঃ এই কি করছেন?
আমিঃ কেন ঘুমাবো না? সকালে অফিস
যেতে হবে।
নিশাতঃ আমাকে ছাড়া আপনার ঘুম হবে?
আমিঃ কি করবো? শাস্তি তো পেতেই হবে।
নিশাতঃ না থাক, আসেন, বিছানাই...
।।
এভাবেই আমাদের দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা
নিয়ে আমার সংসার শুরু হয়েছে...
৫ মাস পর একদিন নিশাত বলল।।
নিশাতঃ এই যে, শুনছো...
আমিঃ কি বলো...
নিশাতঃ আমি তোমাকে অনেক
ভালোবাসি...
আমিঃ আমি ও তোমাকে অনেক বেশি
ভালোবাসি।
নিশাতঃ আর এই ভালোবাসার একটা উপহার
স্বরূপ আমাদের মাঝে নতুন একজন অতিথি
আসছে...।
।।
আমি তার দিকে চমকে তাকালাম!
আমিঃ কি বলো? সত্যি? কখন জানতে
পারলা?
নিশাতঃ কালকে জেনেছি। তবে আজকে
ডাক্তারের কাছে গেছিলাম, উনি বলল, আমি
সত্যি সত্যি মা হবো...
।।
৭ মাস পর আমি হাসপাতালের অপারেশন
থিয়েটারের সামনে বসে আছি।
রাতে নিশাতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
।।
একজন নার্স ডাক দিলো।
ভাই, আপনার মেয়ে হয়েছে, ভিতরে আসেন।
আমি ভিতরে গেলাম, আমি মেয়েকে
দেখলাম, ঠিক মায়ের মতো হয়েছে, যাক
ভালো, আমি নিশাতের পাশে গিয়ে বসলাম,
তার এখনও জ্ঞান ফিরে নি, তার মায়াবী মুখ
দেখে মনে হচ্ছে আমি আবার তার প্রেমে
পড়ে যায়।
।।
পরের দিন বিকেলে আমি নিশাতকে বাড়ী
নেবার উদ্দেশে হাসপাতাল গেলাম,
হাসপাতালে প্রবেশ করার পর মনে হলো কেউ
যেন আমাকে দেখে লুকিয়ে গেলো,
আমি একজন কে বললাম উনি কে?
সে বলল, উনি একজন হাসপাতালের কর্মচারী,
আমি তার নাম জিজ্ঞেস করলাম,
উনি বলল, ওনার নাম সিমলা...।
আমি তো চমকে গেলাম, আরেকটু ভালো করে
ওনার পরিচয় নিলাম, হ্যাঁ সত্যি এটা সেই
সিমলা, আমার প্রথম বউ, আমার প্রথম
ভালোবাসা।।
কিন্তু তার একি অবস্থা... তার কথা ভাবতে
গিয়ে কখন চোখের পানি বের হয়ে গেছে
বুঝতে পারিনি...। হাজার হলেও প্রথম
ভালোবাসা তো।
পিছন থেকে আব্বু ডাক, দিলো।
আব্বুঃ কিরে তোর কাজ শেষ হলো? আমাদের
বাড়ীর নতুন মানুষ তো বাড়ী যাবার জন্য
রেডি। আর তোর চোখে পানি কেন?
আমিঃ না, চোখে কি যেন পড়ে ছিল, আমি
ডাইভার কে বলে দিচ্ছি, ব্যাগ গুলো বের
করতে।
আসার সময় হাসপাতালের সবাইকে মিষ্টি
খাওয়ালাম... সুধু একজন বাদে।
তারপর আমি নিশাতকে ধরে আমি আসতে
আসতে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গেলাম,
আড় চোখে দেখলাম, কেউ পদ্দার আড়ালে দু
চোখ বের করে তাকিয়ে আছে...
নিশাতঃ এই ওদিকে কি দেখছো? গাড়ীতে
উঠো... বাড়ী যাবা না?
আমিঃ হ্যাঁ, চলো...।
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ