.....রহস্যময়ী বউ......
MD MUNSUR HELAL
১ম পার্ট....
****
এনায়েতপুর বেড়িবাঁধে বসে আছি আমি আর মারুফা।
দুজনি নিরব। কোন কথা নাই। থাকবেই বা কি করে?
আজই আমাদের প্রথম দেখা।
নিরবতা ভেঙ্গে বললাম আমাকে কি আপনার পছন্দ হইছে?
আড়চোখে দেখলাম মারুফা একটু আমার দিকে তাকিয়েই আবার নিচ দিকে মাথা দিলো।
আবার নিরবতা।
কি হলো বললেন না যে?
-হুম।
-কি হুম? কথা বলতে পারেন না? দেখুন এটা ছেলেখেলা নয়। আপনার আমার বিয়ে প্রায় ঠিকঠাক। এখন আপনি আমাকে পছন্দ করলেই সামনে শুক্রবারে বিয়ে হয়ে যাবে।
আর আপনার এবং আমার পছন্দ-অপছন্দ জানার জন্যই আপনাদের বাসা থেকে এই নির্জনে পাঠানো হইছে আমাদের।
ঐ দেখুন আমার আর আপনার ভাবি দূর থেকে ওয়েট করছে আমাদের জন্য।
কতক্ষন এভাবে নিরব হয়ে বসে থাকবো? কিছু একটা বলুন।
-হুম" মানে বোঝেন না? নাকি নেকামো করেন?
আমার পছন্দ-অপছন্দ দিয়ে কিছু আসে যায় না। আপনার পছন্দ হলে বলে দিন বিয়ে হয়ে যাক।
আমি আর কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না ব্যাস।
এটুকু একটানা বলে আবার চুপ হয়ে গেলো মারুফা।
আমি অবাক চোখে চেয়ে আছি মেয়েটার দিকে। যেই মেয়েটি এতক্ষন পুতুলের মতো নিরব হয়ে ছিলো। সেই কিনা ঝরঝর করে করা কন্ঠে কথাগুলো একটানে বললো।
আমি হাবলার মতো চেয়ে দেখতেছি ওর রাগময় সুন্দর মুখটা। হঠাৎ ব্যগটা কাঁদে ঝুলিয়ে উঠে দাড়িয়ে বললো চলুন এখুন...
ভাবিরা আসতেছে।
এটুকুই কথা ওর সাথে ছিলো সেদিন।
বাবা মা আগেই দেখে পছন্দ করেছিলো ওকে।
শুধু আমার পছন্দ করা বা দেখা বাকি ছিলো। আমি একা যাবোনা বলে ভাইয়া, ভাবি আর ছোটবোনকে নিয়ে মারুফাকে দেখতে যাই সেদিন।
দেখা শেষ হলে ভাইয়া ভাবিকে পাঠায় আমার কাছে। পছন্দ হইছে কিনা তা জানার জন্য।
আমি বরাবরের মতো হ্যা সুচক মাথা নাড়ি। (যদিও বিয়ে করার ইচ্ছা নাই। শুধু মা বাবার অনুরোধ রাখতে গিয়েই পাত্রি দেখতে আসা)
ভাবি আমার কাছ থেকে শুনে ভাইয়াকে বলার পর, সে মেয়েপক্ষকে বললো ওদের দুজনকে একটু কথা বলার সুযোগ দিলে ভালো হতো মনে হয়।
মেয়ের বাবা শুনে বললো ঠিক কথাটাই বলেছো বাবা।
যাওতো বউমা (মারুফার ভাবিকে উদ্দেশ্য করে) ওদের নিয়ে বেড়িবাঁধের দিক থেকে ঘুরে আসো। ওরা দুজন কথা বলে নিক। যেহেতু বিয়েসাধির ব্যপার।
মারুফার ভাবি তখন আমার ভাবিকে সাথে নিয়ে বেড়িবাধের কাছে এসে বললো.. তোমরা একটু দূরে গিয়ে দুজন-দুজনকে দেখে নাও। এবং কোন কিছু বলার থাকলে বলে নাও।
এরপর যা হলো তা তো বললাম।
এভাবে সেদিন ওকে দেখে বাড়ি ফিরে আসি।
আজ আমি মারুফাকে বিয়ে করতে যাবো।
মনের ভিতর কেমন জানি করতেছে। এই বিয়েটা করা আমার ভুল হচ্ছে না তো?
দেখতে গিয়েই মারুফা আমার সাথে যে ব্যবহার করেছিলো! তাহলে কি আমাকে তার পছন্দ হয়নাই? নাকি ওর কোন পছন্দের কেউ আছে?
নানান প্রশ্ন আমাকে এলোমেলো করে দিচ্ছে।
হঠাৎ বাইরে থেকে ছোটবোন ডাকছে... ভাইয়া" বাবা তোমাকে বের হতে বললো। গাড়ি এসে গেছে। সবাই গাড়িতে উঠেছে।
বাইরে এসে দেখি বন্ধুরা আমার জন্য গাড়িতে ওঠে নাই। তাছাড়া সবাই গাড়িতে উঠে পড়ছে।
গাড়িতে ওঠার আগে গ্রামের আদিম যুগের নিয়ম অনুযায়ী মা ও বাবার পায়ে হাত দিয়ে সালাম জানালাম। মা ও বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে বললো~ ভালোভাবে ফিরে আয় বাবা।
গাড়িতে পা রাখতেই মনে হলো পালকির কথা। খুব ইচ্ছে ছিলো আগের যুগের মতো পালকিতে চড়ে বিয়ে করতে যাবো। কিন্তু ১ টা মেয়ের জন্য আমার সব চাওয়া, সব স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেলো।
পুরনো কথা মনে হতেই চোখে পানি জমে গেছে। হাতের রুমালটা দিয়ে তাড়াতাড়ি পানিটুকু মুছলাম।
পাশ থেকে ছোটমামা বলছে চোখে কি হলো মুনসুর?
-না কিছুনা মামা। কি যেন পড়ছিলো চোখে।
গাড়ি চলছে বেলকুচির উপর দিয়ে। বেলকুচি সাগরিকা সিনেমা হলের সামনে আসতেই গাড়ি ব্রেক করলো! এ জায়গায় সবসময় জ্যাম থাকে। এর কাছেই আমাদের বেলকুচি থানা। তাই জ্যাম বাধলেও বেশিক্ষণ থাকেনা জ্যাম।
গাড়ির গ্লাস সরিয়ে বাইরে তাকাতেই কে যেনো বলছে... আরে ভাইয়া আপনি Md Munsur Helal না? ফেসবুকে গল্প লেখেন না আপনি?
তাকিয়ে দেখি একটা পিচ্চি কিউট মেয়ে বলতেছে আর হাসতেছে।
-হা আমি সেই মুনছুর। বাট তুমি কে?
-চিনবেন না ভাইয়া। এইতো থানার পাশেই বাসা আমাদের। কিছুদিন হলো আপনার সাথে কথা বলতে চাই বাট আপনাকে চ্যাটেই পাই না।
-হুম। ফেসবুকে এখন কম আসি। আর আসলেও চ্যাট অফ থাকে।
-আচ্ছা ভাইয়া কোন এলাকায় বিয়ে করতে যাচ্ছেন? আর আপনার নাম্বারটা কি পেতে পারি? আপনার গল্পগুলো আমার হেব্বি লাগে। আপনার বিরাট ভক্ত হয়ে গেছি আমি....বলেই আবার খিলখিল করে হাসিটা ছুড়ে দিলো মেয়েটা।
-কিছু বলতে যাবো তখনি গাড়িটা ছেড়ে দিলো।
মেয়েটি চেচিয়ে বললো পরে কথা হবে ভাইয়া। আমার আইডি নাম.... ইসরাত জাহান ইশা।
গাড়ির সবাই আমার দিকে চেয়ে আছে। আমি ফেসবুকে গল্প লিখি সবাই জানে। বাট মুরব্বিরাও গাড়িতে থাকায় একটু লজ্জাবোধ হচ্ছে।
***
২য় পার্ট আসবে শীঘ্রই....
...রহস্যময়ী বউ....
২য় পার্ট...
১ ঘন্টার ভিতর গাড়ি খাঁজা ইউনুস আলি হাসপাতালের নিকট চলে আসছে। আর একটুপর ই বিয়ে বাড়ি।
এখানে অনেকবার ঘুরতে এসেছি আগে। বিশেষ করে হাসপাতালের বাইরের (এরিয়ার ভিতর) দৃশ্যগুলো অসাধারন। এখানে অনেক পর্যটকরাই বেড়াতে আসে দূর-দূরান্ত থেকে।
গাড়ি থেমে গেছে। অনেক ছেলেমেয়েরা চিৎকার করে বলতেছে, বর এসেছে বর এসেছে।
সবাই গাড়ি থেকে নামছে। আমাকে বসে থাকতে হবে মেয়েপক্ষ আমাকে না নামানো পর্যন্ত।
এসব গ্রাম্য নিয়মগুলো ভালোই লাগে আমার কাছে।
একটুপরই একটা মুরব্বি এসে আমায় মিষ্টি খাওয়ালো। ইচ্ছে না থাকলেও বাধ্যতামুলক একটা মিষ্টি খেলাম। এরপর একটা সোনার চেইন গলায় পরিয়ে দিলো সেই মুরব্বি। পরে জেনেছিলাম সেই মুরব্বি আমার দাদা-শ্বশুড়।
সুন্দর কাচা ফুলের একটা গেইট সাজিয়েছে মেয়েপক্ষ। গেটে ঢুকে বসে পড়লাম বোনের জামাই ও বন্ধুদের নিয়ে।
গ্রামের নিয়মে গেটে খেলা দেয়া হয় ও প্রশ্ন করা হয় কিছু।
যে খেলাগুলো দিয়েছে তার সবই আমি পারি। কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে ওসব করতে যাইনি। আমার বন্ধু ও এক নানাই সব খেলা খেলেছে ও প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে।
গেটে আবার মিষ্টি, শরবত, ফলমুল খেতে খেতে পেটটাই ফুটবল হয়ে গেলো।
মনে মনে ভাবতেছি... নিজের বিয়ে নিজেই খেয়ে পেট ফুলাচ্ছি। :-D
গেটের কাজ শেষ করে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শুরু হলো।
বিয়ে করতে এসে এতো বেশি খেতে হয় জানতাম না। বরের জন্য আলাদা একটা রুমে খাওয়ার ব্যবস্হা করেছে।
সেখানে নাকি শালি ও শালা, সুমুন্দির বউরা স্পেশালভাবে খাওয়াবে।
যদিও কাছে বন্ধু ও দুলাভাইরা থাকবে। তবুও ওতোগুলো মেয়ের সামনে আমার খাওয়া হবে না। এমনেই লাজুক স্বভাবের মানুষ আমি। তার ওপর মা, বোন ব্যতীত কারো সামনে আমি খাইনি কখনো।
খেতে বসলাম। হঠাৎ অনেকগুলো মেয়ে রুমে ঢুকলো। একটি মেয়েকে দেখে আমার চোখ কপালে উঠে গেলো!
আরে... এ তো সেই মেয়ে! যে আসার পথে বেলকুচি সিনেমা হলের সামনে কথা বললো আমার সাথে।
মেয়েটও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
-আরে ভাইয়া... আপনি যে এখানে বিয়ে করতে আসবেন তা তো বলেন নি।
যাক, একটা লেখক দুলাভাই তো পেলাম। যিনি আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখক।
ওর কথা শুনে সবাই অবাক চোখে চেয়ে আছে আমার দিকে।
আমি লজ্জারাঙ্গা মুখটা নিচ দিকে দিয়ে বোবার মতো বসে রইলাম।
যাই হোক। কোনভাবে খাওয়া-দাওয়া পর্ব শেষ হলে কাজি সাহেব আমাদের বিয়ে পড়ালো।
রাত ১০ টা বাজে। তখন বিয়ে বাড়ি থেকে বউ নিয়ে গাড়িতে উঠলাম।
এমন সময় ইসরাত নামের সেই মেয়েটা গাড়ির ভিতর মাথা ঢুকিয়ে আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো আগামিকাল আসতেছি আমরা। আর আপুটার উপর রাতে অত্যাচার কম কইরেন।
আমি টাস্কি খেয়ে গেলাম। মেয়ে বলে কি?
বিয়ে করলাম বউকে আদর, ভালোবাসায় বুকে জড়িয়ে রাখার জন্য। আর ও বলছে অত্যাচার কম করতে। আমি কি অত্যাচারি নাকি? আমায় দেখে কি সেরকম মনে হয়?
আমা শালির এই কথার পর নিজেকে কেমন জানি মনে হলো। আমায় দেখে বুঝি খারাপ মানুষ মনে হয়। নয়তো ওমন কথা বলবে কেনো?
অবশ্য পরে বুঝেছিলাম আমার ঐ শালি কথাটা কোন লাইনে দিয়েছিলো।
বুঝতে পেরে নিজেকে আবার আবুল মনে হলো।
যাই হোক বউ নিয়ে বাড়িতে আসলাম। আবার কতো নিয়ম-কানুন। মা এসে বউকে কি যেনো খাইয়ে তারপর বাড়িতে নিয়ে গেলো।
আবার ঐদিকে আমার রুমে বাসর সাজিয়েছে বোন, ভাবি ও কাজিনরা। সেখানে নাকি মেয়েপক্ষ থেকে পর্যাপ্ত টাকা না দিলে বাসরের তালা খুলবে না। বড় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে তারা।
মেয়ের সাথে আসা তার নানি টাকা দিতে কাচুমাচু করছে। (দুই হাজার দিছে অলরেডি)
আর এইদিকে আমার যেনো সময় আর কাটছে না। কখন ঢুকবো আমার সেই স্বপ্নের বাসরে?
এক সময় বিরক্ত হয়ে বললাম কয় টাকা লাগবে তোদের? আয় নিয়ে যা।
ভাবিরা ও কাজিনরা এগিয়ে এসে বললো ৩ হাজার দাও আর মাত্র। তবেই বাসর ঘরের তালা খুলবে।
আমি বললাম আমার নানি শ্বাশুড়ি টাকা দেয় নাই?
-দিছে। মাত্র দুই হাজার। আমরা পাঁচ হাজারের নিচে খুলবো না। (ভাবিরা)
তাড়াতাড়ি পকেট থেকে দুইটা পাঁচশত টাকার নোট বের করে ভাবির হাতে দিয়ে বললাম... এবার খোলেন প্লিজ।
-আহহারে এতো অধৈর্য হয়ে গেছেন মশাই? এই নেন চাবি। বউরে নিয়া হা-ডু-ডু খেলেন গা।
এই বলে সবাই হাসতে হাসতে বউয়ের কাছে গেলো।
আমি চাবিটা নিয়ে তালা খুলছি আর ভাবছি... বাসর রাতে আবার হা-ডু-ডু খেলতে হয় নাকি?
রুমে ঢুকেই অবাক আমি! স্বপ্নপুরীতে ঢুকলাম যেনো। আহ... কি সুন্দর করে সাজিয়েছে বাসর।
একটুপরেই বউ নিয়ে ঘরে ঢুকলো সবাই।
বউ রেখে সবাই বের হয়ে গেলো।
আমি বিয়ের পোষাক খুলে দরজা আটকে দিলাম।
খাটে বসে নিচুস্বরে বউকে বললাম, আচ্ছা বাসর রাতে কি হা-ডু-ডু খেলতে হয়? তোমাকে এ বিষয়ে কেউ কিছু বলেছে?
কোন উত্তর পেলাম না। ভাবলাম লজ্জায় বলছে না হয়তো।
এবার হাত দিয়ে মারুফার (আমার বউ) মাথার ঘোমটা সরালাম। দেখি কাঁদতেছে মেয়েটা।
থুতনিটা ধরে চোখের পানি মুছিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে হাত বাড়াবো, এমন সময় মারুফা বলে উঠলো... তুই আমাকে ছুবি না বলে দিলাম!
কারেন্টে শক খাওয়ার মতো চমকে গিয়ে হাতটা সরিয়ে নিলাম!
৩য় পার্ট আসবে শীঘ্রই...
....রহস্যময়ী বউ.....
৩য় পার্ট....
নিজের কানকে বিশ্বাস করাতে পারছি না। ভুল শুনলাম না তো?
বুকে একটু সাহস নিয়ে ভয় ভয় চোখে আবার তাকালাম মারুফার দিকে।
এখনো কাঁদছে মেয়েটা।
-তো... তো... তোমার কি হইছে? (ভয় ভয় কন্ঠে)
-আমার সাথে একটা কথা বলবি না। আমাকে স্পর্শ করার চেষ্টাও করবি না।
আরেকবার টাস্কিত হয়ে নিরব হয়ে গেলাম।
বাসর রাতে কোথায় বউয়ের লজ্জাময় মুখটা দেখবো, রসিয়ে রসিয়ে প্রেমালাপ করবো। তা না ভয়ংকর এক পেত্নীর রুপ দেখছি।
মনের দূঃখে খাটের এক কোনে গিয়ে অপরদিকে মুখ করে শুয়ে আছি।
ঘুম ও যেনো আমার সাথে আজ শত্রুতা করছে। কখন থেকে ঘুমানোর চেষ্টা করছি কাজ হচ্ছে না।
চোখ দুটো বুঝে ঘুমের ভান করে শুয়ে আছি। আর ভাবতেছি একটা মানুষের জীবনে কতো কষ্ট আর দেবে আল্লায়?
মনের অজান্তে দু-চোখ বেয়ে টপটপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। কতো আশা ছিলো সব কষ্ট ভুলে মারুফাকে বুকে জড়িয়ে আবার নতুন জীবন শুরু করবো। কিন্তু ভাগ্যের কি অদ্ভুত নিয়ম। ঝড়ের পর আবার ঘুর্নিঝড় শুরু হলো।
জীবনে বহু রাত ঘুমহীন কাটিয়েছি পুরনো কথা মনে করে। কিন্তু সেইসব রাতের চাইতে বড় কালো রাত মনে হচ্ছে আজকের রাতটা।
রাত প্রায় ১ টা বাজে। শরীরে কিছুর স্পর্শ অনুভব করলাম!
তবুও নড়াচড়ার সাহস পেলাম না। একটুপর মনে হলো মারুফা খাট থেকে উঠে পড়লো।
একটুপর আবার শুয়ে পড়লো।
বুঝলাম বাথরুম পেয়েছে ওর। আমিও শয়তানী করে গভীর ঘুমে আছি এমন ভাব ধরে শুয়ে রইলাম।
এভাবে কখন যে ঘুম মামা আমার চোখে মিশে গেছে নিজেও জানিনা।
রাত ৪ টার দিকে হুট করে জেগে গেছি।
একি! আমাকে ঝাপটে ধরে শুয়ে আছে কেউ। চোখ খুলে দেখি মারফা। ঘুমের মধ্যে কখন ওর দিকে ফিরে শুয়েছি নিজেও জানিনা। এই সুযোগে মেয়েটা আমায় জড়িয়ে ধরেছে।
একেবারে বুকের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিয়েছে আমায়।
ভালোভাবে ওর মুখের দিকে চাইলাম। গভীর ঘুমে অচেতন মারুফা।
কি সুন্দর মায়াবী মুখখানা। গোলাপী ঠোটদুটো যেনো কোন কল্পনার পরীর মতো।
মনে মনে ঘুমকে ধন্যবাদ দিলাম।
ওকে তো ছোয়ার সাহস পেতাম না। ঘুম ই ওকে আমার বুকের মধ্যে এনে দিলো।
ইচ্ছে করছে এই পরীটাকে বুকের গভীরে লুকিয়ে রাখি। আদর করে আপন করে নেই ওকে। কিন্তু পরক্ষনেই মনে হলো নাহ... নিজ থেকে ও যেহেতু আমায় চায় না। অথবা হয়তো আমায় পছন্দ করেনি। তাকে তার অজান্তে কিছু করাটা আমার ঠিক হবে নাহ।
শুধু চেয়ে আছি ওর সুন্দর মুখটার দিকে। যেনো কবিদের আকা কল্পনার পরী।
হঠাৎ ও নড়ে উঠলো। আমি চোখ বুঝে ঘুমের ভান করে শুয়ে রইলাম।
বুকের ভিতর ধুকধুক করছে। মারুফা রাগ করবে না তো?
করবেই বা কেনো? আমি তো ওকে জড়িয়ে ধরিনি। ওই নিজ থেকে আমায় কাকড়ার মতো জড়িয়ে ধরে আছে।
নাহ আর কোন নড়াচড়া পাইনা। চোখদুটো একটু খুলে দেখি ঘুমিয়েই আছে আমার নতুন বউটা।
হাজার হলেও আমি পুরুষ মানুষ। এভাবে নিজের বিবাহিত নতুন বউ বুকের সাথে মিশে থাকলে কার ই বা কন্ট্রোল থাকবে?
একটু সাহস নিয়ে ওকে নিজ থেকে এই প্রথম নিজের দিকে টেনে নিলাম। কপালে একটা আলতো চুমু দিলাম।
নাহ। এই মারুফা আমার। ও আমার বউ। ওকে আমি হারাতে দেবো নাহ।
আমার দু-চোখ বেয়ে আবার পানি বেরুচ্ছে। মারুফা হয়তো ভোরে উঠেই চলে যাবে আমার থেকে অনেক দূরে। হয়তো আমার হারিয়ে যাওয়া পাগলীটার মতোই দূরে চলে যাবে। কিন্তু কেনো জানি মনে হচ্ছ না.. ওকে যেতে দেবো না। এভাবে পুষে রাখবো ওকে বুকের মাঝে। তবে ও কি থাকবে? সেরকম কিছু তো দেখিনি ওর চোখে।
এসব ভাবতেই বুকের বাম পাশটায় ব্যথা অনুভুত হচ্ছে।
ভোর হয়ে গেছে। পাখির কলরবে জেগে গেছি।
তাকিয়ে দেখি মারুফা নাই। লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠেছি। কোথায় গেলো মেয়েটা?
দেখি দরজা খোলা। তড়িঘড়ি করে বাইরে এসে দেখি উঠানে সবাই হাসহাসি করছে। মা আমায় দেখেই বলছে দেখ তো খোকা... এই সাত সকালে উঠেই ঘরবাড়ী ঝাড়ু দিয়ে থালাবাসন মাঝতে বসেছে বউমা।
কতো করে বললাম এসব করতে হবেনা। শুনলোই না। লোকে কি বলবে বলতো?
নতুন বউ দিয়ে কাজ করায় কেউ। দলে দলে সবাই একটুপর আসবে বউ দেখতে। এসে এমন অবস্থায় দেখলে কি বলবে তারা?
আমি অবাক! ভেবেছিলাম হয়তো ও সবার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে। কোন কাজকর্ম করবে না।
কিন্তু এখন দেখছি উল্টোদিক।
হঠাৎ দেখি বড় মামি মারুফাকে হাত ধরে নিয়ে আসছে আর মাকে উদ্দেশ্য করে বলছে... নতুন বৌমাক কাজ করতে দিছো কেন আপা?
মা মুচকি হেসে বলছে কতো করে না করলাম শুনলো না পাগল মেয়েটা।
মামি আমার ছোটবোন ও ভাবিদের উদ্দেশ্য করে বললো যা তো মা তোরা... বৌমাকে একটু সাজিয়ে নিয়ে আয়।
সবাই একটুপর বউ দেখতে আসবে।
আমি রুমে গিয়ে শুয়ে আছি। খুব আনন্দ লাগছে। মেয়েটা আমার সাথে ওমন করলেও বাড়ির সবার সাথে কি সুন্দর হাসি খুশি ভাবে মিশছে।
একটুপর ভাবিরা (কাজিনের বউ) মারুফাকে নিয়ে ঘরে ঢুকছে।
-কি মশাই। গোসল করতে হবে না। কতো বেলা হইছে দেখছো? (মুচকি হেসে মারুফা)
-গোসল করবো কেন?
-কেন মানে? রাতে মনে ছিলো না বউয়ের সাথে কুতকুত খেললে গোসল করতে হয়।
অবাক চোখে চাইলাম মারুফার দিকে! হা মনে হচ্ছে ও ভোরে উঠে গোসল করেছে।
-কি দেখছো মশাই? মারুফাকে গোসল করিয়েছি ভোরেই। তুমি এবার ফ্রেশ হয়ে নাও। (ভাবি)
এই বলে ভাবিরা বের হয়ে গেলো।
আহাম্মকের মতো লজ্জাভাব নিয়ে কিছুক্ষন চেয়ে রইলাম মারুফার দিকে।
-কি হচ্ছে এসব? গোসল করেছো কেনো? (আমি)
-চুপ... ইচ্ছে হইছে করছি তাতে তোর কি? আমার যা ইচ্ছা তাই করবো তাতে তোর কি?
এই বলে মারুফা আমার কলার ধরে নিচুস্বরে বললো.... রাতে আমায় জড়িয়ে ধরে কাজটা ভালো করোস নাই। এর প্রতিশোধ আজ আমাদের বাড়িতে গিয়ে নেবো।
এই বলে মারুফা দ্রুতপায়ে বাইরে চলে গেলো।
আমার মাথাটা ঘুরছে। কি হচ্ছে এসব? কি করবো আমি? নানান প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
এমন সময় বাইরে থেকে বাবা ডাক দিলো।
বাইরে গিয়ে দেখি মেয়েপক্ষদের খাওয়ানোর জন্য বাজার করতে যাবে বাবা, কাকা ও মামারা।
-২০ হাজার টাকা আছে তোর কাছে ওটা দে। (বাবা)
বাবাকে টাকা দিয়ে একটু বাইরে ঘুরতে বের হলাম মনটা হালকা করতে।
৪র্থ পার্ট আসবে শীঘ্রই...
....রহস্যময়ী বউ....
৪র্থ পার্ট....
একটু ঘোরাফেরা করলাম। নাহ ভালো লাগছে না কিছুই। শুধু মনে হচ্ছে মারুফার কথা। ও এমন করছে কেনো?
আমাকে যদি পছন্দ না হয়ে থাকে তো বিয়ের আগে বললেই পারতো। ওর যদি ভালোবাসার মানুষ থেকে থাকে তাও বলতে পারতো। তা না করে ও এসেছে আমার কষ্টমাখা জীবনটাকে আরো কষ্টে ডুবিয়ে নষ্ট করতে।
এসব ভাবতে ভাবতে বাড়িতে চলে আসলাম। উঠানের মধ্যে বিয়ের মানুষদের খাওয়ানোর জন্য রান্না চড়ানো হইছে।
আমি সোজাসোজি আমার ঘরে ঢুকলাম। দেখি আমার জন্য ভাবিরা ও দুলাভাইরা অপেক্ষা করতেছে।
-চলো গোসল করে নেই। (দুলাভাইরা)
-ওকে চলেন।
অনেক এয়ার্কি ঠাট্টা করছে আমাকে গোসল করাতে। বিশেষ করে ভাবিরা, নানি, দাদিরা যোগ দিয়েছে আমাকে গোসল করানোর কাজে।
ওহ ভুলে গেলাম একটা কথা। গোসলের আগে আমাকে আর আমার বউ মারুফাকে পাশা খেলানো হইছে।
পাশা খেলাটা কি? এটা অনেকেই জানেনা। বিশেষ করে শহরের মানুষরা এটা দেখে না।
আমাদের গ্রামের দিকে আদিম যুগের অনেক নিয়ম কানুন এখনো মেনে চলা হয়।
পাশা খেলাটা হলো এরকম.... মাটিতে একটা স্বাভাবিক গর্ত করে। তার মধ্যে পানি ভরে। ঐ পানির ভিতর সোনা, রুপা, পিতল, পয়সা, আংটি, আদা, পেয়াজ, রসুন ছেড়ে দেয়া হয়।
এরপর নতুন বউ ও জামাইকে সেই পানির ভিতর থেকে সেই জিনিষগুলা তুলতে বলা হয়।
কে বেশি তুলতে পারে সেটাই দেখার বিষয়।
তারপর পানিতে ফেলা আংটি বা কিছু নতুন বউয়ের হাতে দিয়ে মুঠি আটকাতে বলে। সেই মুঠি জামাইকে এক হাতে খুলে দেখাতে হবে।
না পারলে বউ জিতবে। পারলে জামাই।
আমি জিতেছিলাম তবে অনেক কষ্টে।
যাই হোক গোসল করে ঘরে শুয়ে আছি। চোখদুটোতে ঘুমের ভাব এসেছে। হঠাৎ লক্ষ করলাম রুমে কয়েকজন মহিলা ঢুকছে।
তাকিয়ে দেখি মারুফার সাথে আমার সেই শালি (মারুফার খালাতো বোন) ইসরাত সহ আরো কয়েকজন যুবতি ও বয়স্ক মহিলা।
আমি বিছানায় থেকে উঠলাম।
এক মহিলা বললো কেমন আছো জামাই বাবা?
-জ্বি ভালো আছি। আপনারা কেমন আছেন? (মনে মনে বললাম পেত্নীর পাল্টায় মানুষ পড়লে যেমন থাকে তেমনি আছি)
-হা আমরাও ভালো আছি।
এই বলে ৩ জন মহিলা বের হয়ে গেলো। (ঐ তিনজন সম্ভবত চাচি, মামি, খালা শ্বাশড়ী হতে পারে।)
বাকিরা মারুফার সাথেই আছে ঘরে। আমি বসতে বললাম সবাইকে।
সেই ইসরাত নামের শালিটা আমার কাছে বসলো।
-দুলাভাই কি অবস্থা?
-এইতো আছি। পানি ছাড়া মাছ যেমন থাকে।
-মানে? রাতে কিছু হয় নাই। (নিচুকন্ঠে)
-হয়নি মানে। তোমার আপু যা দেখিয়েছে না... এখনো মাথা নষ্ট হয়েই আছে।
এটুকু বলে আমি ভয়ে ভয়ে পাশে বসা মারুফার ভয়ংকর রুপ দেখতে তার দিকে তাকালাম।
ও বাবা! একি দেখছি। বউ আমার লজ্জায় লুতুপুতু। এমন ভাব নিচ্ছে যেনো রাতে আমরা হাডুডু খেলে স্বর্ণ জিতে নিয়েছি।
কেমনে পারে মানুষ একেক সময় একেকটা রুপ নিতে?
-আচ্ছা থাক দুলাভাই। জানি বাসর রাতে জমে থাকা ভালোবাসার দেনদেন হয়।
ইসরাতের কথাটা কেড়ে নিয়ে আমি বললাম... শুধু জমে থাকা ভালোবাসার লেনদেন না জমে থাকা... এটুকু বলতেই মারুফা আমার মুখ আটকে দিলো হাত দিয়ে।
-এই শয়তান। তুমি নির্লজ্জের মতো সবই বলে দিবা নাকি, আমার ছোটবোনদের কাছে।
এই কথা শুনে আমি আরেকবার টাস্কিত হইলাম। পেত্নীটা এমন ভাব নিয়ে বলছে যেনো রাতে আমরা সবই করেছি।
-জানিস আপু... দুলাভাই যা গল্প লেখে না। পড়লে তুই পাগল হয়ে যাবি। (ইসরাত)
-গল্প পড়তে হবে না। এমনেই ওকে পাগলা গারদে পাঠাতে হবে। (আমি)
-কি বললা? (মারুফা)
-না মানে বললাম যে তোমাদের আপু এক রাতেই আমার জন্য পাগল হয়ে রইছে। সাথে আমাকেও বানিয়েছে।
সবাই হাসছে আমার কথা শুনে।
-জানি দুলাভাই আপনি খুব রোমান্টিক। আপনার গল্প পড়েই বুঝেছি। তা বিয়ের পর কি আর লিখবেন না?
-হা অবশ্যই লিখবো। (অলরেডি লিখতেছি তা আর বললাম না)
-আচ্ছা নতুন বউয়ের সাথে একটু মজা করেন। আমরা আপনাদের এলাকাটা ঘুরে দেখি।
এই বলে শালীকারা বাইরে চলে গেলো।
আমি মাথা নিচু করে বসে আছি। হঠাৎ একটা হাত আমার হাতের উপড় পড়লো!
চেয়ে দেখি মারুফা কাঁদছে...!
-কি হলো? আমি তো কিছু করিনি। কাঁদছো কেনো?
মারুফা কিছু বলতে যাবে অমনি আবার এক ভাবি ঘরে ঢুকলো।
-এই তোমরা দুজন চলো। খাবার রেডি। সবাই খেতে বসবো।
মারুফা দ্রুত চোখ মুছে আমাকে বললো চলো খেয়ে নেই।
-তুমি যাও। আমি বাথরুম থেকে আসছি।
এই বলে আমি বাথরুমে ঢুকলাম।
বাথরুমে ঢুকে ভাবতে লাগলাম কি দেখছি আমি?
একসময় কালনাগিনী, একসময় পিচাশিনী আবার একসময় মায়াবিনী।
এমন একেক সময় একেক রুপে দেখছি আমার বউ মারুফাকে।
মাথাটা এখন আরো বেশি ঘুরতেছে। কি রহস্য এই মেয়ের মাঝে? কি চায় ও? কেনোই বা আমার সাথে এমন করছে?
বিয়ের খাওয়া শেষে আবার একটু বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।
ঐদিকে আমার বউ মারুফাকে সাজগোজ কারাচ্ছে ভাবি ও বোনেরা।
আমার মনে নানান ভাবনা। কখনো তুই, কখনো তুমি, কখনো হাসি, আবার কখনো কান্না। কি অদ্ভুত বউ কপালে আসলো রে আল্লাহ।
সন্ধা পেরিয়ে গেছে। গাড়িতে উঠলাম।
আমার পাশেই বউ বসেছে তার পাশেই আমার সেই শ্যালিকা।
আমার গা ঘেসে বসেছে মারুফা। এনমনেই সুন্দরি মাইয়া। তার উপর শরীর থেকে পারফিউম এর সুগন্ধি পাগল করে দিচ্ছে আমায়।
ঘুটগুটে অন্ধকার। খেয়াল করলাম গাড়ি আমাদের রয়নাপাড়া থেকে কাঙ্গালরোড দিয়ে তামাই ঢুকছে। একটা ছোট্ট ঝাকুনি খেলো গাড়ি। সাথে সাথে আমার পেত্নী বউটা আমার শরীরের উপড় হুমড়ি খেয়ে পড়লো।
একটু দুষ্টু চোখে তাকালাম মারুফার দিকে।
উলে বাব্বাহ... এ দেখি লজ্জায় পেত্নী থেকে ডাইনিতে কনভার্ট হয়ে গেছে।
তার মানে ঝাকুনি খেয়ে যখন সে আমার উপ্রে পড়িল। আমার হাতটা তখন তাহার কোন বিশেষ জায়গায় ছোয়া দিলো। (ইচ্ছা করে দেয়নাই। আমার দোষ নাই) এজন্য তার চোখ থেকে এখন আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে। যেনো খেয়ে ফেলবে আমায়।
ঐদিকে পাশে বসা শ্যালিকা কিছু একটা বুঝতে পারিয়া অবিরাম মুচকি হেসেই চলছে।
আমিও অন্যমনস্ক হইয়া গাড়ির জানালার ফোকর দিয়া বাহিরের দিকে চাহিয়া রহিলাম।
প্রায় ৪০ মিনিটের মধ্যে আমার শ্বশুড়বাড়ী পৌছে গেলাম।
গিয়ে তো পাগল হয়ে গেলাম। নতুন বউ যেমন সবাই দলবেধে দেখতে আসে ঠিক তেমনি আমাকে দেখতেও দলবেধে মানুষ আসছে।
আমি লজ্জায় লাল হয়ে মাথা নিচু করে বসে আছি। আমার ব্যপারটা আমার সুমুন্দি বউ বুঝতে পেরেছে হয়তো।
মারুফাকে উদ্দেশ্য করে বললো..
যা তো বোন তোর বরকে বাথরুমে নিয়ে যা। হাতমুখ ধুয়ে আয়। আমি খাবার রেডি করি।
কথামতো ফ্রেস হয়ে আমার বউয়ের রুমে গেলাম।
মানুষটা যেমনি সুন্দর তেমনি ঘরটাও মাশ-আল্লাহ।
এরপর খাওয়ার পালা। আইটেম দেখেই আমার পেট ওভারলোড।
হাল্কা কিছু মুখে দিয়ে বিছানায় উঠে শুয়ে পড়লাম।
-কি দুলাভাই এতো তাড়াতাড়ি শুইলেন? একটু গল্পসল্প করি। (ইসরাত সহ অন্য শ্যালিকারা)
-নাহ বোন। খুব খারাপ লাগছে এখন। ভোরে উঠে গল্প করবো।
-তোরা যা এখন। আমার ননদ জামাইয়ের শয়তানী ঘুম পাইছে। এখন আমরা গেলেই বাঁচে।
এই বলে আমার গালে একটা টোকা মেরে গুড নাইট বলে চলে গেলো আমার সুমুন্দি বউ।
মারুফা দরজা আটকিয়ে আঁচলটা কোমড়ে বাঁধছে আর আমার দিকে এগিয়ে আসছে।
আমার গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে। শোয়া থেকে উঠে বসে পড়লাম আমি।
৫ম/শেষ পার্ট আসবে শীঘ্রই...
....রহস্যময়ী বউ....
৫ম/শেষ পার্ট....
মারুফার ভিলেন মার্কা চোখ দুটোর দিকে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।
ভাবছি আজ বুঝি মাইয়া মানুষের হাতে মাইর ই খেতে হয়।
যদিও ওকে একটা ঘুসি মারলে ওর হাড্ডিগুড্ডি পালিয়ে যাবে এই ভেবে একটু সাহস আনছি মনে। পরক্ষনেই আবার সেই সাহস চোরের মতো পালিয়ে গেলো এই ভেবে যে আমি আমার বাড়িতে নয়, ওর বাবার বাড়িতে আছি।
মারুফা এসে আমার কলারটা টেনে ধরলো।
আমি ও নায়কদের মতো ভাব নিয়ে ওর কোমর জড়িয়ে ধরলাম।
মারুফা কলারটা আরেকটু টেনে মুখের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো... এই হাবলু তুই বুঝিস না আমাকে? আমার চোখের দিকে তাকিয়ে তুই কিছু বুঝতে পারিস না?
প্রথম যেদিন আমাকে দেখতে এসে আমায় বলেছিলি তোকে আমার পছন্দ হয় কিনা।
তখন আমি তোর দিকে একবার চেয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়েছিলাম। ঐ হাসিটার মাঝে কি ছিলো বুঝিস নি?
বাসর রাতে যখন তুই আমায় বলেছিলি হাডুডু খেলা কি? তুমি এই সম্পর্কে জানো?
বলেই আমার দুটি গাল ধরে চোখের পানি মুছে দিয়েছিলি। আমি তোকে বললাম তুই আমায় স্পর্শ করবি না। তখন কি আমার চোখের পানে ভালো করে চেয়েছিলি?
চোখের জলের সাথে কোন চাওয়া লুকিয়ে ছিলো তা কি বুঝেছিলি?
বাসর ঘরে গভীর রাতে যখন আমি তোকে জড়িয়ে ছিলাম তখন তুই আমার গালে একটা আদরের চুমো দিয়েছিলি। তারপর সারারাত আমার কতো কষ্ট হয়েছিলো বুঝিস নি আমার শরীরের কাঁপন দেখে?
এটুকু একটানা বলে মারুফা আবার কাঁদতে লাগলো।
আমি হাফ ছেড়ে ভালো করে ওর চোখের পানে তাকালাম।
হা.. এই মেয়ে ভালোবাসে গভীরভাবে। ওর চোখের ভাষা তাই বলছে।
হঠাৎ একটা জোর ধাক্কায় আমাকে বিছানায় ফেলে দিছে মারুফা।
ঐ মদন... তুই এখনো বুঝতে পারছিস না আমার চোখের ভাষা, কি চাই আমি?
আমি একটানে ওকে আমার উপ্রে ফেলে দিলাম।
ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে ওকে একেবারে বুকের সাথে পিষিয়ে নিয়েছি।
মারুফা আমায় আরো শক্তভাবে জড়িয়ে ধরেছে।
-এই পাগল... আমায় এইভাবে সারাজীবন জড়িয়ে ধরে রাখবে তো?
কোনদিন আমায় দূরে সরিয়ে দিবে না তো? আমি না তোমায় অনেক ভালোবাসি গো পাগল।
এটুকু বলে মাথাটা একটু তুলে আমার চোখের পানে চাইলো মারুফা।
-কবে থেকে এতোটা ভালোবাসো আমায়? (আমি)
-মনে আছে তোমার? তুমি "ম্যাডাম" গল্পের শেষ পার্ট পোষ্ট করলে। আমি সেটা পড়ে তোমায় একটা মেসেজ দিলাম... প্লিজ একটু ইনবক্সে আসুন।
তুমি তার রিপ্লাই দিলে ৪ ঘন্টা পর। তখন রাত প্রায় বারোটা বাজে।
রিপ্লাইয়ে তুমি লিখলে "কি বলবেন বলেন"।
আমি লিখলাম "আমি আপনার পাগলি হতে চাই"।
তুমি লিখলে "সরি" এর মধ্যে আমি আর নিজেকে জড়াতে চাইনা।
তারপর আর কোনো কথা হয়নি। আমি জানতাম তোমার আগের কাহিনী। সুমি নামের কোন মেয়ের সাথে তুমি প্রেম করেছিলে এই ফেসবুক থেকেই।
সে তোমায় ফাঁকি দিয়েছে।
জানো মুনছুর... তুমি যখন সুমিকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে। ভালোবাসার কথা সবই শেয়ার করতে। তখন আমার বড্ড কষ্ট হতো।
কেনো কষ্ট হতো জানো? কারন তার বহু আগে থেকে তোমায় আমি ভালোবাসতাম।
কিন্তু কোনদিন বলার সাহস পাইনি।
যখন দেখলাম তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো। তখন আমি একবুক কষ্ট নিয়ে লুকিয়ে কাঁদতাম।
এরপর যখন তোমার পাগলির (সুমির) বিয়ে হয়ে গেলো এই স্ট্যাটাস দিলে। তখন না কষ্টে আমি ডুকরে ডুকরে কেঁদেছিলাম সেদিন।
যেই মানুষটা এতো পাগলের মতো কাউকে ভালোবাসতে পারে, যে সবকিছু সরল মনে ফেসবুক বন্ধুদের জানাতে পারে তাকে কিভাবে ফাঁকি দিয়ে বিয়ের পিড়িতে বসতে পারে মানুষ?
এরপর আমি তোমায় প্রপোজ করলে তুমি এক্সেপ্ট করোনি। তাতে আমি একটুও কষ্ট পাইনি। কারন আমি জানতাম তোমার মনের ব্যাপার। বারবার কেউ একই ভুল করতে পারে না। তাই তুমিও সরাসরি না করলে আমায়।
কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। তোমার স্বরলতা আমায় মুগ্ধ করেছিলো। তোমার গল্পে খুঁজে পেতাম কোন অতুলনীয় ভালোবাসা। যেই ভালোবাসা আবেগময় মানুষ ছাড়া প্রকাশ করতে পারেনা।
তোমার আমার গ্রামের বাড়ি একই জেলায় এবং পাশাপাশি থানায় এটা আগে থেকেই জানতাম। কিন্তু যখন তুমি তোমার সমস্ত ঠিকানা ফেসবুকে পোষ্ট করলে। About এ দিয়ে দিলে তখন আর দেরি করিনি।
লজ্জাকে উপেক্ষা করে বাবা-মা কে তোমার কথা জানালাম। আমার বাবাটাও খুব ভালো। আমার ব্যাপারে সে জানতো। কেনদিন কিছু চাইনি তাদের কাছে। কোনদিন তাদের অবাধ্য ও হইনি। যার ফলস্বরুপ বাবা তোমাদের বাড়িতে ঘটক পাঠালো তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য। (যদিও সমাজে এটা কম হয়। কিন্তু আমার চাওয়াটাই বাবার নিকট সব ছিলো। যার কারনে প্রস্তাব পাঠালো)
আমি টেনশনে ছিলাম যে তোমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করবে নাকি এই ভেবে।
কিন্তু ভাগ্য বিধাতা তোমায় পাঠিয়ে দিলো আমার কাছে। ♥
এসব একটানা বলে মারুফা আবার আমার বুকে শুয়ে পড়লো।
আমার চোখে পানি। শেষ কবে কেঁদেছিলাম মনে নাই।
মারুফাকে আমি একেবারে আপন করে বুকের সাথে জড়িয়ে নিয়েছি।
ও আমার বুকে মুখ বুঝে বলছে... আমাকে তোমার পাগলির জায়গায়টা দিবেনা? আমি তোমার পাগলি হতে চাই।
আমি কান্নাজড়িত কন্ঠে বললাম তুমিই আমার পাগলি। আমি তোমাকেই ভালোবাসি।
-চুপ... হাডুডু খেলবি না? নাকি হাবলুর মতো ঘুমিয়ে যাবি আবার নতুন বউকে রেখে?
এই বলে আবার কলার চেপে ধরলো মারুফা।
-হুম... আজ থেকে তোর সাথে খেলা শুরু দিলাম আয়। এই বলে আমি আর মারুফা খেলার মাঠে নেমে পড়লাম। :-p
শেষরাতের দিকে জেগে গেলাম।
দেখি মারুফা ঘুমিয়ে আছে। কি সুন্দর মায়াবী মুখখানা। এই মেয়েটাই আমার রহস্যময়ী বউ।
হঠাৎ ও আমায় বাহুতে জড়িয়ে ধরলো। বললো কি ভাবছো পাগল? চলো দুজনে ফ্রেস হয়ে নামাজ আদায় করি?
আমি বললাম তার আগে আরেকবার....? :-p (আরে ভাই হাডুডুর কথা বললাম। মাইন্ড কইরেন না)
-যাহ দুষ্টু...ওঠো এখন।
-আচ্ছা ম্যাডাম উঠছি। এই শোনো... এখান থেকে বাড়িতে গিয়ে আবার কালকেই মামাদের ওখানে যেতে হবে। (আমি)
-কেনো? নতুন বউ নিয়ে মামার বাড়ি যায় নাকি কেউ এতো তাড়াতাড়ি? (মারুফা)
-না মানে...বাড়ির সবাই যাবে। পিচ্চি মামাতো ভাইয়ের মুসলমানির দাওয়াত। না গেলে চলবে না।
-ও আচ্ছা। আগে বাড়িতে যাই তো। এই বলে আমার গলা জড়িয়ে ধরলো আমার "রহস্যময়ী বউ"। ♥♥ (কাল্পনিক)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ