āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

207

*বিয়ে**
.
লিখা : @MrNobab😍

প্রায় ৮ ঘন্টা ধরে বসে আছি এই বেঞ্চের উপর, সেই সকালে বাসা থেকে বের হইছি আর এখন অব্দি এখানেই অবস্থান করছি। দুপুরের খাবারটাও কপালে জুটেনি,জুটেনি বললে ভুল হবে কেননা আমি ইচ্ছে করে দুপুরে বাসায় যাইনি আর তাই দুপুরের খাবারটাও খেতে পারিনি।
এদিকে আম্মু সেই কখন থেকে শুধু ফোন করেই যাচ্ছে,এই পর্যন্ত অন্তত পক্ষে ১২০+ ফোন আসছে আমার মোবাইলটিতে,মোবাইলটির চার্জ প্র‍্যায় শেষের দিকে,কিন্তু তবুও বাসায় যেতে ইচ্ছে করছে না।
.
বাসায় না যাওয়ার কারনো আছে বটে, আর তার প্রদান কারন হলো আমার বুইড়া পিতাজান। পিতাজান আমার উপর ইদিনিং খুব অত্যাচার শুরু করেছে। আমি একটু শান্তিতে থাকবো সেটা আমার পিতা কখনই হতে দিবে না। ছোটো বেলা থেকেই আমার ওপর অত্যাচার করে আসছে,। তবে এখন তার মাত্রা বেড়ে গেছে, সেই ছোটো বেলা থেকে দেখে আসছি তার অত্যাচারগুলো,
ছোট বেলায় আমি যখন পড়তে বসতাম আমার সাথে উনিও বসতো,তবে আমার সেই পরিচিতো ডাণ্ডাটা নিয়ে,যেটাকে আমি মারান্তক পরিমানে ভয় পেতাম। ক্লাশ টেন পর্যন্ত চলছিলো আমার উপর সেই ডান্ডার অত্যাচার।
এরপর ভাবলাম, কলেজে জীবনে পা রাখলে হয়তো একটু মুক্তি পাওয়া যাবে। কিন্তু না ওনার কাছ থেকে কোনো মুক্তি নেই,দিন দিন অত্যাচার আরো বাড়িয়ে দিয়েছিলো।
মাঝে মাঝে ওনার অত্যাচার গুলো দেখে চোখে পানি এসে যেতো।
আমার সমবয়সি ছেলেমেয়েগুলো কতই না স্বাধীন জীবনযাপন করে,ক্লাশ বাদে রাস্তায় আড্ডা দেওয়া, স্যারের সাথে মজা করা ছিলো নিত্ত দিনের বিষয়। কিন্তু আমাকে দিয়ে কখনো সেসব কাজ হয়ে উঠেনি,ঊঠবেই বা কিভাবে! আমার পিছনে যে বুইড়া বাপটায় আঠার মতো লেগে থাকতো। প্রতি ঘন্টায় স্যারেরদের কাছে ফোন করে আমার সম্পর্কে আপডেট জানতো। ওনার একটাই মিশন ছিলো আর সেটা হলো আমার জীবন থেকে শান্তি নামক শব্দটা দূর করে দেওয়া। মাঝে মাঝে মনে হয় বুইড়া বাপটার দাড়ি গুলো টেনে ছিড়ে দেই,কিন্তু পারিনা বাবা বলে কথা। অবশ্য তার এই অত্যাচার আজ আমায় অনেক সাফল্য এনে দিয়েছে। সে যদি ছোটো বেলায় আমায় ওরকম চোখে চোখে না রাখতো তাহলে আজ হয়তো আমাকে কিছু বিপথগামী তরুনদের দলে থাকতে হতো। কিন্তু না আমার আব্বুজান আমাকে সসবসময় আগলে রেখেছে। এই কথাটা ভাবলে আমার পিতাজানের গালে দুইটা পাপ্পি দিতে ইচ্ছে হয়,।সুযোগ পেলে কোনো একদিন দিয়ে দেবো।
.
তবে কিছুদিন ধরে বুড়া বাপটায় আমার জন্য আরেকটা নতুন অশান্তি আনতে লেগে পরেছে। আর সেটা হলো বিয়ে। হ্যা আমারই বিয়ে। আমার বিয়ে নিয়ে ওনার এত্তো মাথা ব্যাথা ক্যান বুঝিনা। এত্তো অত্যাচারের পর ভাবছিলাম লেখাপড়ার পর হয়তো একটু শান্তিতে থাকতে পারবো। কিন্তু আমার শান্তি যে বুইড়াটার চোখে সয়না। লেখাপড়া শেষ করতে না করতেই বিয়ের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে। কয়েকদিন থেকেই আমার বিয়ে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমি এসব ফাজলামি মনে করে হেসে উড়িয়ে দিতাম,কিন্তু আজ যে কথাটা বললো সে কথাটা একটু সিরিয়াস টাইপের ছিলো। আর সেই কারনেই রাগ করে বাহিরে চলে এসেছি..
.
হটাৎ আজানের শব্দ শুনতে পেলাম,নিজের হাত ঘরির দিকে চেয়ে দেখি সন্ধ্যা প্রায় ৬.৩০ এর মতো বেজে গেছে। ইতি মধ্যে পেটের ভিতর ডাকাডাকি শুরু করে দিয়েছে,আবার রাতো গভীর হতে চলছে অন্যদিকে মায়ের ফোন যেনো থামছেই না, তাই অগত্যা বাড়ির দিকে রওনা হতে হলো। যাওয়ার সময় চুডু বোনটার জন্য দুটো চকলেট কিনে নিলাম। হ্যা আমার একটা ১ বছরের বোন আছে যে কিনা ভিষন চকলেট প্রেমী..
.
বাড়িতে পৌঁছে দেখি বাড়িটি শুনশান নিরব। প্রথমে মনে হলো ভুলে হয়তো অন্য কোথাও এসে গেছি। কিন্তু গেইটের দিকে চোখ যেতেই নিশ্চিত হলাম যে এটাই আমার আব্বাজানের তৈরিকৃত সর্বপ্রথম এবং সর্বশেষ বাড়ি।
যাইহোক, কোনো রকম বাসার ভিতর প্রবেশ করলাম, কিন্তু ব্যাপার কি! রুমের সব গুলো লাইট বন্ধ কেনো? শুধু আম্মুর রুমে একটু আধটু আলো দেখা যাচ্ছে। আমি আবার অন্ধকারে ভয় পাই,তাই তটজলদি ডুকে গেলাম আম্মুর রুমে। যদিও আম্মুর রুমে প্রবেশ আমার জন্য নিষিদ্ধ। কেননা ওই রুমে গেলে পিচ্চিটাকে শুধু চ্যাতানোর ইচ্ছে হয়, একদিন পিচ্চিটাকে এত্তো চেতাইছি যে ওইদিন সারারাত শুধু কেদেই গেছে,ওই দিন ওও ঘুমায়নি আর আমাদেরকেও ঘুমাতে দেয়নি। আর সেদিন হতেই আব্বাজান আম্মুর রুমে আমার প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে,সাথে এটাও বলেছে যে,
""আর কোনোদিন যদি শুনি তুমি ওরে কান্দাইছো তাহলে তোমার দু বেলার খাবার বন্ধ ""
যাইহোক, আম্মুর রুমে গিয়ে দেখি আম্মু তার রুমে নেই,আর পিচ্চিটা ডানকাত হয়ে ঘুমুচ্ছে। ওড় তুলতুলে গালটা দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না। কামর বসিয়ে দিলাম ওর গালটায়,আর সাথে সাথে ভ্যা ভ্যা..
ওর কান্না মানি আমার আগামী দু বেলার খাবার বন্ধ। খাইছে, এমনিতেই দু বেলা না খেয়ে আছি,এরপর যদি আরো দু বেলা না খেয়ে থাকি তাহলে হয়তো আমি মারা পরবো। তাই ওর কান্না থামাতে লেগে গেলাম..
"""নু নু বাবু কান্দেনা,এইযে দেখ তোমার চকলেট। আমার পিচ্চি আপুটা অনেক ভালো, বাবু কান্দেনা কান্দেনা। তুমি কি চাও আমি আগামী দু বেলা না খেয়ে থাকি। ভাইয়ের প্রতি একটুতো মায়া করো। বাবু বাবু...."""
কিছুতেই কাজ হচ্ছে না,সেই কখন থেকে শুধু ভ্যা ভ্যা করেই যাচ্ছে। দূর কেনো যে কামর দিতে গেলাম!
এর মধ্যে আম্মুরো রুমে প্রবেশ,
__ওই কি হইছে কি হইছে! (আম্মু)
__দেখো না ওরে মনে হয় মশায় কামড়ে দিছে। (আমি)
__আমি তো রুমে মশার স্প্রে করে গেছি,তাহলে আবার মশা আসলো কোথা হেকে? (আম্মু)
__না না না মানে,ওর গালে মনে হয় কিছু একটা পড়েছে তাই এভাবে চেচাচ্ছে (আমি)
__কই কই দেখি, (কিছুক্ষন দেখার পর) আরে এইটা তো কামড়ের দাক। তুই আবার ওরে কামড় দিছিস? (আম্মু)
__কি যে বলনা। আমাকে কী এখনো সেই আগের মতো আছি নাকি? (আমি)
__দ্বারা আজ তোর বাপ আসুক,তারপর তোকে দেখে নেবো। (আম্মু)
আরে বলে কি বলে কি,আব্বুর আসলে দেখে নিবে মানি। আব্বু যদি জানতে পারে আমি ওরে কামড় দিছি তাহলে তো দু বেলা না পুরো দু মাসের খাবার বন্ধ করে দিবে।
আমার আম্মুটাও না ইদিনিং কেমন যেনো হয়ে যাচ্ছে। সবসময় আমার বিরুদ্ধবাদ করবে। ছোট বেলায় আব্বু যখন আমায় মারতো আর উনি দূর থেকে বলতো ""মারো মারো,আরো জোড়ে মারো। পড়ালেখা তো নাই সারাদিন শুধু আড্ডা। এমনিতেই পড়ালেখায় সবার পিছনে পরে আছে তারপরো ওনার আড্ডা দেওয়া থামেনা। মারো আরো জোড়ে মারো""
আব্বুর মার খেয়ে যখন গাল ফুলিয়ে বসে থাকতাম তখন আবার আম্মু এসে আমায় কাছে টেনে নিতো,খেতে না চাইলে নিজ হাতে আমায় খাইয়ে দিতো। কিন্তু এখন আর সেসব করেনা। এখন যদি আব্বু আমায় ধমকায় তখন দূরে দাঁড়িয়ে হাসে আর বলে ""হি হি হি, বুড়া ছেলে এখনো তার আব্বুর হাতে মার খায়। কি লজ্জা কি লজ্জা""
সেই পুরোনো সৃতি মনে পরলে চোখ ফেটে জল বেড়িয়ে আসে,কতইনা সুখময় ছিলো সেসময়ের লাইফটা
__ওই এতো কি ভাবছোস? নে এবার ওর কান্না থামা (আম্মু)
__আমি কান্দাইছি নাকি যে আমি ওর কান্না থামাবো (আমি)
__তুই কান্দাছনাই তো কি আমি কান্দাইছি (আম্মু)
এটা বলেই ওকে আমার কোলে দিয়ে দিলো,আর পিচ্চিটাও এক লাফে আমার কোলে এসে পরলো.
ওকে আমার কাছে দিয়ে আম্মু কোথাও যাওয়ার জন্য উঠে দারালো..
__এই আম্মু কই যাও,,(আমি)
__কাজ আছে তো, কাজেই যাই (আম্মু)
__ওকে যে কামড় দিছি এইটা আবার আব্বুর কাছে বইলো না।
__কেনো,কামড় যখন দিছস, বলতে তো হবেই। তাছাড়া আমি না বললেও তোর আব্বু এমনিতেই জেনে যাবে।
__এমনিতে জানুক। কিন্তু তুমি বইলো না। এমনিতেই দু বেলা না খেয়ে আছি এখন আব্বু যদি জানে আমি ওরে কান্দাইছি,তাহলে তো আমার আগামী দু বেলার খাবার বন্ধ। তোমার ছেলের প্রতি একটুও কি মায়া নেই!
__হাহাহহা,আচ্ছা ঠিকাছে বলবো না।
__আচ্ছা আম্মু তুমি এতো ভালো কেনো? তোমার বুড়া স্বামীটা যদি তোমার মতো একটু ভালো হতো।
__তুই তোর আজাইরা প্যাঁচাল নিয়া বইসা থাক, আমি গেলাম। আমার কাজ আছে।
__আরে কই যাও কই যাও,বসো এখানে।
হাত ধরে আম্মুকে খাটের বসিয়ে দিলাম
__হুম বল,কি বলবি (আম্মু)
__আম্মু..
__কি হইছে?
__সেই সকাল থেকে না খেয়ে আছি,খুব ক্ষুধা লাগছে।
__তো খেয়ে নে।
__তুমি খাইয়ে দেওনা,অনেক দিন যাবৎ তোমার হাতে খাইনা।
__সব ন্যাকামি।
বলেই আম্মু ঊঠে ধারালো। আমি জানি আম্মুটা আমার জন্য এখন কিছু খাবার নিয়ে আসবে। আমার আম্মুটা না সত্যিই অনেক ভালো। সবসময় আমার দিকে খেয়াল রাখে। তবে এই পিচ্চিটার কারনে আদরের ভাগটা একটু কমে গেছে। পিচ্চিটার দিকে চেয়ে দেখি ও আমার কোলেই ঘুমিয়ে গেছে। যাক বাবা বড় বাচা বাচলাম,এখন যদি ও কান্না করতো আর ওর সেই কান্না যদি আব্বু শুনতে পেতো তাহলে আজ আমার কি অবস্থা হতো কে জানে, পুচকিটার গালে একটা উম্মাহ দিয়ে ওকে খাটে শুয়ে দিলাম।
এর মধ্যে আম্মুও খাবার নিয়ে হাজিড়। আম্মু আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে আর আমি খাচ্ছি,সত্যিই মায়ের হাতের খাবারের কোনো তুলনা হয়না।
ঘরটা কেমন যেনো অন্ধকার অন্ধকার লাগছে, তাই আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম..
__আচ্ছা আম্মু রুমের সবগুলো লাইট অফ কেনো? (আমি)
__ওরে বুদ্ধুরাম,এইটা বুঝোস না। আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই তোর বিয়ে। বিয়েতে অনেক খরচা হবে তাই লাইট অফ করে তোর আব্বু টাকা বাচাচ্ছে। (আম্মু)
__হাহাহাহাহাহাহা, হোহোহো, হিহিহি।
__গাধার মতো হাসতেছিস কেনো?
__আরে আমি বিয়ে করলেতো আব্বু টাকা বাচাবে। আর আব্বুটাও এমন কেনো খরচের জন্য বাসার লাইট অফ রাখবে! এই কথা শুনলে পাগলেও তো হাসবে, আমি হাসলে দোষ কিসের।?
.
__কে বিয়ে করবেনা কে??????...
আরে কন্ঠটা একটু পুরুষ পুরুষ মনে হলো,বাসায় আবার চোর ঢুকে পরলো নাতো,বাসা যেই অন্ধকার এতে চোর ঢুকা অস্বাভাবিক কিছু না।
এটা ভেবে পিছনে ফিরতেই আমি তো শক, কেননা পিছিনে যে আমার আব্বাজান দাঁড়িয়ে আছে। উনি কি তাহলে আমার সব কথা শুনে ফেলেছে, ভয়ে অনেকটা কাছুমাছু হয়ে উত্তর দিলাম..
__না বা বা,বলছিলাম আমাদের পাশের মেয়েটার বিয়ে ঠিক হয়েছেনা ও বিয়ে করবে না (আমি)
__সেটাই বলো,আবার তুমি বিয়ে করবেনা এই কথাটা আর কখনো যেনো শুনি,, আর হ্যা আগামী মাসের ০৩ তারিখ তোমার বিয়ে (আব্বু)
এএএএ, বলে কি এই বুইড়াটায়। বিয়ে তাও আবার আমার বিয়ে। না না আমি এই বিয়ে কিছুতেই করবো না। এখনো কতো পিচ্চি আমি,আমাকে খাবার পর্যন্ত আম্মু খাইয়ে দেয় অথচ বুড়া বাপটায় আমার পিঠে আরেকটা চাপিয়ে দিতে উদ্যত হয়ে আছে। আব্বুকে যে করেই হোক থামাতে হব্বে,
__আচ্ছা আব্বু আমি তোমার কে হই? (আমি)
__সেটা তুমিই ভালো জানো (আব্বু)
__আচ্ছা কোনো বাবা কি চায় তার ছেলে অশান্তিতে থাক!
__না,, তা কেনো চাইবে! সব বাবাই চায় তার ছেলে শান্তিতে থাক,সারাজীবন সুখে থাক।
__তাহলে আমাকে কেনো একটু শান্তিতে থাকতে দেওনা। মাত্র পড়ালেখা শেষ করলাম, আর কিছুদিন যাক তারপর না হয় বিয়ে করি।
__কি কইলা আবার কও তো?
__না না কিছুনা,আমি রাজী এই বিয়েতে। [ভয়ে বলছি]
__গুড,আর হ্যা আগামীকাল সকাল ৯.০০ টা বাজে তুমি (....) রেষ্টুরেন্টে যাবা,ওখানে তোমার সাথে দেখা করার জন্য মেয়ে আসবে। আমি চাই বিয়ের আগে তুমি ওর সাথে পরিচিতো হয়ে নিবে।
__আচচ্ছা বাবা।😭😭
কি থেকে কি হয়ে গেলো কিছুই বুঝলাম না, আমার এখন সুইসাইড করতে ইচ্ছে হচ্ছে,দূর এতো কিছু করার পরো বিয়েটা থামাতে পারলাম না,মাথাই হ্যাং।
আর কিছু না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
.
সকাল ৫ টার সময় আব্বুর ডাকে ঘুম ভাঙলো,এই আব্বুটা আমাকে একটু শান্তিতে ঘুমাতেও দেয় না,
যাইহোক, নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে হাটা দিলাম, নামাজ পরে কিছুক্ষন হেটে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বাসায় চলে আসলাম। কিছু খেয়ে সেই রেস্টুরেন্টের দিকে হাটা দিলাম,যেখানে আমার হবু বউয়ের সাথে দেখা করার কথা। যদিও আমি মানিনা যে ওই মেয়েই আমার হবু বউ। কেননা আমি ওখানে যাচ্ছি এই বিয়েটা বানচাল করার উদ্দেশ্যে। ঠিকানা অনুযায়ী রেস্টুরেন্টে পৌছে গেলাম, এখনো কেউ আসেনি তাই ফোন অন করে COC খেলায় মনোনিবেশ করলাম। এই খেলাটায় আমি সেই পরিমানে অবিজ্ঞ। খেলাটা খেলতেও কেনো জেনো ভালো লাগে। একবার খেলায় মনোনিবেশ করলে বের হতেই ইচ্ছে করেনা। খেলা অবস্থায় হালকা খেয়াল করলাম যে, কেউ একজন আমার সামনের চেয়ারে এসে বসলো। যাক ওদিকে খেয়াল না দিয়ে আমি আমার খেলায় সম্পুর্ন মনোযোগ দিলাম। খেলতে খেলতে ফোনের চার্য প্রায় শেষ। তাই গেমটা অফ করে সামনে তাকাতেই আমিতো শক!!!!!। কেননা সামনে একজন সেই লেভেলের সুন্দরী বসে আছে। গাল দুটো টুকটুকে লাল হয়ে আছে,এটা সম্ভবত রাগের লক্ষন। কিন্তু উনি কার উপর এতো রেগে আছে? আমার সামনেই যেহুতু বসে আছে তাই প্রশ্ন করাই যেতে পারে..
__হ্যালো মিস,,(আমি)
........
__ ওইযে আপনাকেই বলছি (আমি)
........
__ ওহ সরি,আমি মনে হয় প্রতিবন্ধী সিটে বসে পরেছি। দুঃখিত মাফ করবেন (আমি)
বলেই উঠে যেতে লাগলাম,আর ওমনিই ওনার মুখের বোম্ব বিস্ফারণ হলো
__ওই কোথায় যান? বসেন এখানে (মেয়েটি)
__জ্বী,!
__বসতে বলছি।
__বসেই তো আছি।
__একটু আগে কি যেনো বললেন আপনি?
__আমি! কই কিছুনাতো।
__আমাকে কি প্রতিবন্ধী মনে হয়?
__হয়েছিলো,তবে এখন মনে হয় আপনি পুরো সুস্থ।
__আমি এখানে এসেছি কিসের জন্য তা হয়তো বুঝতেই পারছেন।
__না বোঝার কি আছে।
__আমাকে আপনার পছন্দ হইছে?
__পছন্দ হইলেও আমি এ বিয়ে করবো না,
__গুড,আমিও চাইনা আমার বিয়েটা আপনার সাথেই হোক?
__আমাকে কি পছন্দ হয়নি?
__পছন্দ হওয়া বড় কথা না,আজ যা দেখলাম তাতে বোঝা যাচ্ছে আপনার কাজের প্রতি খুবি অনিহা। আপনাকে যদি বিয়ে করি তাহলে তো আমাকে না খেয়ে মরতে হবে।
__কোন কাজের মাধ্যমে বুঝলেন আমার কাজের প্রতি আনিহা আছে?
__এইযে, আমি সেই সকাল ৯.৩০ এ এখানে এসেছি,আর তখন থেকে দেখছি আপনি গেম খেলেই যাচ্ছেন। কারো প্রতি খেয়াল দেওয়ার সময়টুকুও আপনার নেই। (মেয়েটি)
ঘড়ির দিকে খেয়াল করতেই দেখি ঘড়ির কাটা প্রায় ১২ টা ছুই ছুই,এতোক্ষন গেম খেলছি বিশ্বাসই হচ্ছেনা,
__ওহ! আচ্ছা। এই বিয়েটা তাহলে হচ্ছেনা! (আমি)
__জ্বী না,,আব্বুকে বলে আজই আমি বিয়েটা ক্যান্সেল করে দেবো। (মেয়েটি)
কথাটা শুনে আমার তো মনমে লাড্ডু ফুটতেছে,ওনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ জানাই, ঊনি এতো বড় কাজটা ৫ মিনিটের ভিতরেই সল্ফট করে দিলেন সে হিসেবে ওনাকে কিছু দেওয়া উচিত,
__কিছু খেয়েছেন আপনি? (আমি)
__ না, (মেয়েটি)
__আপনি চাইলে এখান থেকে যতো খুশি খেতে পারেন। আমার পক্ষথেকে এটা আপনার জন্য বিশেষ উপহার।
__ মানে!
__ বুঝিয়ে বলছি,,.দেখুন আমিও চাইনি এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে। কিন্তু আব্বুর চাপে পড়ে অনেকটা বাধ্য হয়ে বিয়েটা করতে হচ্ছে। আমি চাইছিলাম যাতে বিয়েটা ক্যান্সেল হয়ে যায়। কিন্ত আব্বুর কারনে তা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। এতো বড় কাজটা আপনি মাত্র ৫ মিনিটেই সম্পন্ন করে দিলেন। তাই আমার পক্ষ থেকে সামান্য উপহার।
__কি?
__আশা করি বুঝতে পারেছেন।
অনেকটা হাসতে হাসতে বেরিয়ে এলাম রেস্টুরেন্ট থেকে।
তবে এটা মানতেই হবে যে, মেয়েটার রুপে গুনে একেবারে পারফেক্ট। এতো বিশাল কাজটা কতো সহযেই না সল্ফট করে ফেললো। এই মেয়েটাকে যে বিয়ে করবে সে সংসারীক জীবনে সত্যিই সুখী হতে পারবে।
তবে এসব বিষয় নিয়ে আমার এখন চিন্তা নেই। বিয়ে যে ক্যান্সেল হইছে এটাই এনাফ।
এই প্রথম কোনো কাজে আমি আব্বুর বিরুদ্ধে জয়ি হয়েছি। তাই বাসার জন্য কিছু নেওয়া উচিত। আসার সময় এক প্যাকেট মিষ্টি আর পুচকিটার জন্য এত্তোগুলো চকলেট কিনে নিলাম।
অনেকটা লাফাতে লাফাতে বাসায় প্রবেশ করলাম, কিন্তু মনে হচ্ছে বাসার সবার মুড অফ,কিন্তু কেনো। আমিতো এমন কিছু করিনি যাতে সকলে এভাবে গোমড়া মুখ নিয়ে বসে থাকবে। বিষয়টা ক্লিয়ার হওয়ার জন্য আব্বুর কাছে যেতে হবে,আব্বু ওনার রুমেই বসে আছে। ওনার রুমে যাওয়ার সাহস আমার নেই তাই দরজার কাছে দাড়িয়েই আব্বুকে জিজ্ঞেস করলাম,
__কি হয়েছে আব্বু (আমি)
__তুমি নাকি বিয়ে ক্যান্সেল করে দিয়েছো (আব্বু) [অনেকটা রাগের সহিত]
__ হ্যা দিয়েছি,কিন্তু শুধু আমি না,ওই মেয়েও তো আমার সাথে একমত ছিলো। দুজনের সদ্ধান্তেই বিয়ে ক্যান্সেল হয়েছে।
__কিন্তু ও যে এই মাত্র ফোন করে বললো তুমিই এ বিয়ে ক্যান্সেল করেছো।
__না না আব্বু,ওই মেয়ে মিথ্যা বলে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে,
__শোনো এইসব বকবক আমি শুনতে চাইনা। তোমার বিয়ে ঠিক টাইমেই হবে, এবং ওই মেয়ের সাথেই হবে। (আব্বু)
হটাৎ আব্বুর ফোনে একটা কল আসলো আব্বু ফোন টা রিসিভ করে অনেকটা হাসি মুখেই বললো ""হ্যা হ্যা বিয়াই সাহেব আপনার মেয়ের বিয়ে আমার ছেলের সাথেই হবে,আপনি কোনো চিন্তা করবেননা আমাদের ঠিক করা টাইমেই ওদের বিয়ে হবে""
.
এই মুহুর্তে আমার মাথার চুলগুলো ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে, এত্তো এত্তো কিছু করলাম বিয়েটা বন্ধ করার জন্য কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। আমার বাবাটাকে আল্লাহ কোন মাটি দিয়ে যে তৈরি করছে কে জানে! মাঝে মাঝে কনফিউশনে পরে যাই,উনি কি আসলেই আমার বাবা। বাবা থাকলে আমাকে এতো প্যাঁড়া দেয় ক্যান..?😭😰
.
অবশেষে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ের দিন আগত। খুব সুন্দর ভাবে সাজানো হয়েছে আমাদের বাসাটা। সকাল থেকেই বাড়িটা মানুষে গিজগিজ করছে। মনে হচ্ছে যেনো এই বাড়িতে কোনো রিলিফ বিতরণ চলছে,
যার বিয়ে উনি টেনশনে অজ্ঞান হবার অবস্থা,অথচ সবাই কতোই না হইহুল্লোর শুরু করে দিয়েছে। বাংলায় একটি প্রবাদ আছেনা, ""যার বিয়ে তার খবর নাই পাড়াপড়শির ঘুম নাই"" সেই প্রবাদটিই এখানে অক্ষরে অক্ষরে পালন হচ্ছে।
সকাল হতে ভিবিন্ন ধরনের কাজ করে চলছি,আমার বিয়ে হচ্ছে না অন্য কারো বিয়েতে আমাকে কাজে লাগানো হয়েছে কিছুই বুঝতেছিনা। বুইড়া বাপটায় আজকের দিনেও একটু শান্তি দিলোনা,উনি এক কোনায় বসে শুধু আদেশ করে যাচ্ছে, ""এই এইটা করো,ওইটা করনা,ওখানে যেওনা ইত্যাদি ইত্যাদি "" আর আমিও বাধ্য ছেলের মতো সব কথাগুলো শুনে যাচ্ছি। আর কতক্ষন কাজ করতে হবে কে জানে। আব্বুর কাছে শুনলাম দুপুর ২ টার দিকে নাকি আমদের মেয়ের বাড়ি যেতে হবে মেয়েকে আনতে।
.
অবশেষে অনেক জল্পনা কল্পনার পর কনের বাড়িতে পৌছালাম। ওনারা আমাদের জন্য ভালোই আপ্যায়নের ব্যাবস্থা করেছেন। ইয়া বড় একটা মুরগি আমায় খেতে দেওয়া হলো। আমিতো খাবার দেখে রিতিমত অবাক!
আগে যদি জানতাম বিয়ে মানে এতো খাবার তাহলে তো প্রতি সপ্তাহে একটা করে বিয়ে করতাম।
যাইহোক,খাবার দাবাড়ের পর্ব শেষ। এবার আমাদের বাসায় ফেরার পালা। আমিতো সেই কখন থেকে গাড়িতে ওয়েট করছি,কিন্তু মেয়ে আসার কোনো নাম নেই। সেই কখন থেকে অনবরত কেদেই যাচ্ছে। কাদুক তাতে আমার কি। আজ থেকে ওই মেয়ের অত্যাচারে যে আমাকে প্রতিদিন কদাতে হবে। কোন শালায় যে আব্বুর মাথায় বুদ্ধি দিয়েছিলো এতো তাড়াতাড়ি একটা অবুঝ ছেলেকে বিয়ে করাতে,ওনাকে পেলে মনের দুঃখে একটু কোলাকোলি করতাম।
অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে উনি মানে আমার বউ গাড়িতে এসে বসলেন। তবে কান্নার কোনো থামাথামি নেই। মানুষ যে এতো কাঁদতে পারে ওকে না দেখে বিশ্বাসী করা যায়না। সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
ছোটো বেলা থেকেই মেয়েদের সাথে তেমন একটা মেশা হয়নি,মেশা হয়নি বললে ভুল হবে, কেননা আমার বাবাই কোনোদিন কোনো মেয়ের সাথে মিশতে দেয়নি। আজ আমার পাশে একটা মেয়ে বসে আছে, খুব নার্ভাস ফিল হচ্ছে। আমি যতটা সম্ভব দূরে চেপে বসার চেষ্টা করছি। বউ হলে কি হয়েছে, মেয়ে তো মেয়েই।
.
অবশেষে রাত ৮ টার দিকে বউকে নিয়ে নিজের বাসায় এলাম। আহা! এখন একটু শান্তি লাগছে। যতই হোক নিজের বাড়ি বলে কথা।
আমার দিকে সবাই কেমনযেন আড়াচোখে তাকাচ্ছে। আরে এখানে আড়াচোখে তাকানোর কি হলো,বিয়ে তো সবাইকেই করতে হবে তাইনা। আর আমি ইচ্ছে করে বিয়ে করছি নাকি,আব্বুই তো আমায় জোড় করে বিয়ে করিয়ে দিয়েছে। এই বিষয়টা ওদের বোঝানোর পরেও আমার দিকে কেমন যেনো চেয়ে থাকে। কিন্তু কেনো? আমি আবার কোনো দোষ করে ফেললাম নাতো। এ বিষয়ে জানতে বন্ধু সিয়ামের দারপ্রান্ত হলাম,,
__ওই দেখতো আমার ফেইস ঠিক আছে কিনা! (আমি)
__কি আজগুবি প্রশ্ন! তোর ফেইস আবার চেঞ্জ হবে কেনো? (সিয়াম)
__চেঞ্জ হয়নি তো আমার দিকে এভাবে তাকাইয়া থাকোস কেনো?
__আরে চেয়ে থাকি কি সাধে! তোর মতো একটা বোকা ছেলে যদি ক্যাটরিনা টাইপের মেয়ে বিয়ে করে, তাহলে তো চেয়ে থাকবোই।
ওহ! আচ্ছা এই বিষয় তাহলে। কিন্তু আবার বউ কি সত্যিই সুন্দর। সবাই যখন বলছে তাহলে নিশ্চই সুন্দরিই হবে। কে জানে, আমিতো তেমন খেয়াল করিনি..
__ওই কি হলো? (সিয়াম)
__কই? (আমি)
__কোথায় হারিয়ে গেলি?
__আচ্ছা,প্রেম করে যখন কলেজের সুন্দরি মেয়েটাকে বিয়ে করছিলি তখন তো বলছিলি ওই সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে,এখন তাহলে এই কথা বলছিস কেনো?
__আসলে তখনি ভুল হয়েছে,প্রেম না করে যদি তোর মতো ডিরেক্টলি বিয়ে করতাম তাহলে হয়তো তোর মতো সুন্দর একটা বউ পাইতাম।
__তো প্রেম করলি কেনো?
__কি বলবরে দোস্ত,সবই কপালের দোষ।
__হাহাহা,তবে মানতেই হবে তোর বউটাও কিন্তু অনেক সুন্দর। আমিও তো কলেজে থাকতে ওর উপর ক্রাশ খেয়েছিলাম। কিন্তু আব্বুর কারনে আর সামনে এগুতে পারিনি।
__কেনো যে ওইসময় প্রেম করতে গেলাম,ধুর!!
__হেহেহে,চালিয়ে যাও বন্ধু। বউ তো বউই,সে যেরকমই হোক না কেনো, তাকে কিন্তু সবসময় ভালোরাখার চেষ্টা করবি।
__হুম্ম।
.
আমন্ত্রিত অতিথি আর বন্ধুবান্দবের সাথে আড্ডা দিতে দিতে কখন যে রাত ১২ টা বেজে গেলো টেরই পেলাম না,
প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে আমার, তাই সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঘুমাতে চলে গেলাম,আসলে সকাল থেকে গাধার মতো খাটছিতো তাই ক্লান্ত শরিরে এখন প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে।
কিন্তু রুমে যাবার আগে বাধলো আরেক বিপত্তি,যেইনা রুমে ঢুকতে যাবো অমনি আরেকদল ছেলেপেলে এসে আমাকে গেড়াও করলো,তাদের একটাই কথা, তারা নাকি অনেক কষ্ট করে আমার রুম সাজিয়েছে এখন আমাকে তাদের কষ্টের ফল হিসেবে কিছু টাকা দিয়ে রুমে প্রবেশ করতে হবে। আরে এটা আবার কেমন কথা!!! আমার রুমে আমি যাবো তাতে আবার টাকা কিসের,আর আমি ওদেরকে রুম সাজাতে বলছি নাকি, তাছাড়া আমি টাকা নিয়ে বিয়ে করতে গেছি নাকি যে চাইলেই ওদের টাকা দিয়ে দেবো!! ওদেরকে অনেক ভাবে বুঝালাম কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। এদিকে আমার প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে তাই অগত্যা আব্বুর কাছ থেকে ২০০০ টাকা নিয়ে ওদেরকে দিয়ে মুক্তি নিলাম।
..
রুমে যেতে প্রচন্ড নার্ভাস লাগছে,কেননা রুমে আরেকজন বসে আছে। অবশ্য এই দিনটায় সকল পুরুষেরই নার্ভাস লাগবে। অপরদিকে আমার প্রচন্ড ঘুমো পাচ্ছে,কি যে করি!! কি দিন আইলোরে ভাই,এখন নিজের রুমে নিজের যেতেই ভয় করছে।
অনেকটা ভয়ে ভয়ে পা টিপে টিপে রুমে ঢুকলাম।
আরে বাহ! রুমটা তো ওরা ভালোই সাজিয়েছে। চারদিকে কতো সুন্দর ফুল দিয়ে দিয়েছে দেখতে কিন্তু অসাধারণ লাগছে। অন্য রকম পরিবেশ।
বিছানার দিকে চোখ যেতেই দেখি কেউ একজন লাল শারিতে ইয়া লম্বা একটা ঘোমটা দিয়ে গুটিশুটি মেরে বসে আছে। দেখতে কিন্তু অনেকটা বাচ্চাদের মতো লাগছে
হটাৎ মনে পরলো আমি তো রুমে ঢোকার পর দরজা লক করিনি,দৌড়ে গিয়ে দরজাটা লক করে দিলাম। দরজা লক করার সাথে সাথে মনে হলো আমার পিছনে কেউ হাসছে,পিছিনে ফিরতেই দেখি আমার বউ হাসতে হাসতে প্রায় ফ্লোরে পরে যাওয়ার অবস্থা।
আরে আমি ভয়ে শেষ আর উনি হাসছে,এ আবার কেমন মেয়েরে বাবা।
__কি ব্যাপার হাসতেছেন ক্যানো? (আমি)
__হিহিহি,আপনার কান্ড দেখে (বউ)
__আমি কোনো জোকারের কাজ করিনি যে আমার কাজ দেখে হাসতে হবে। (আমি)
__জোকার থেকে কম কিসে (বউ)
__কি? আমায় কি কোনো জোকার মনে হয়??
__না না,তা হবে কেনো?
__ওইদিন না বললেন আমায় বিয়ে করলে আপনার না খেয়ে মরতে হবে,তাহলে আবার সেই আমাকেই বিয়ে করলেন কেনো.?
__আমি করছি নাকি,বাবা জোড় করে আপনার সাথে বিয়ে দিয়ে দিসে।
__ও,তাহলে দুজনের বাবাই এক। কারো চোখে শান্তি সয় না।
__মানে?
__আপনার মানে বোঝার দরকার নেই। আপনি বিছানার মাঝ থেকে সরুন, আমার ঘুম পাচ্ছে আমি ঘুমাবো। আর হ্যা আপনিও শুয়ে পড়ুন।
আমি কাপড় চেঞ্জ করে বিছানার একপাশে শুয়ে পরলাম। বউ আমার দিকে কিছুক্ষন রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ওয়াশ রুমে চলে গেলো। কাপড় চেঞ্জ করে উনিও আমার এক পাশে শুয়ে পড়লো। দুজনের মাঝে অনেক খানি দুরুত্ব।
কিন্তু আমার কিছুতেই ঘুম আসছেনা,একবার এদিক আরেকবার ওদিক ঘোরাঘুরি করছি। এতোসুন্দর একটা রুমে ঘুমা না আসার তো কোনো কারন দেখছিনা। অনেক তদন্তের পর বের করলাম আমার খাটে একটা কোলবালিশের ওভাব আছে। সেই ছোটো বেলা থেকেই কোলবালিশ সাথে নিয়ে ঘুমিয়েছি,এই কোলবালিশ ছাড়া আমার কিছুতেই ঘুম আসবে না,কি যে করি!!! চিন্তা করে দেখলাম কোলবালিশ নেই তো কি হইছে,কোলবালিশের থেকে বেশি কিছু এখন আমার রুমে আছে আর সেটা হলো আমার বউ,, কিন্তু বউ কি আমার কথা শুনবে!! আরে দূর শুনবে না কেনো ওতো আমার বউই, শুনতে তো হবেই,,,
__ওই বউ (আমি)
.....................
__বউ তুমি কি ঘুমিয়ে গেছো?
...................
__ওই বউ।
__উহুম (বউ)
__বলছিলাম আমারনা কোলবালিশ ছাড়া ঘুম আসে না।
__তো কোলবালিশ নিয়ে ঘুমান।
__নাইতো।
__অন্য রুম থেকে নিয়ে আসেন।
__বলো কি,এতোরাতে অন্য রুমে কি করে যাই। তাছাড়া অন্য রুমে তো অনেকে ঘুমিয়ে আছে।
__না আনতে পারলে ঘুমানোর দরকার নেই।
__আচ্ছা ঠিকাছে,ঘুমাবো না। [মন খারাপ করে]
অনেকটা মন খারাপ করে শুয়ে পরলাম
.
কিছুক্ষন পর আমার ঘাড়ে একটা ঘরম হাওয়া অনুভব করলাম,পাশে ফিরতেই দেখি বউ আমার খুব পাশে এসে গেছে,হয়তো ঘুমের কারনে না বুঝে আমার পাশে চলে এসেছে,তাই ওকে সরিয়ে দিতে চাইলাম,কয়েকটা ধাক্কা দিতেই..
__আপনি না কোলবালিশ ছাড়া ঘুমাতে পারেন না (বউ)
__পারিনাতো (আমি)
__তাহলে সরিয়ে দিচ্ছেন কেনো?
__মানে?
__কি মানে মানে শুরু করছেন। কোলবালিশ পেয়েছেন এখন জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরুন।
__ক্যামনে কি??
__বুদ্ধু কোথাকার,নিজের বউকে ধরে ঘুমাবে তাতে আবার ভয় পাওয়ার কি আছে!
বলেই বউ আমাকে জড়িয়ে ধরলো,আমিও দেরি না করে জড়িয়ে নিলাম। আহা! শান্তি। কতোই না শান্তি লাগছে এখন। বউ সম্পর্কে যে ভয় ছিলো তা একমুহুর্তে দূর হয়ে গেলো,ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলাম
.
মাঝ রাতে বুকে ব্যাথার কারনে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। কিন্তু ব্যাথাটা উপরিভাগের, বুকে হাত দিয়ে দেখলাম পাথরের মতো আমার বুকে কিছু একটা পরে আছে,ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখলাম পাথরের কিছু চুলো আছে। পরে বুঝলাম আমার বউটা আমার উপর শুয়ে আছে। সেই কারনেই বুকটা ব্যাথা করছে,ওকে নামানো দরকার,বিছানায় এতো যায়গা থাকতে ঘুমানোর জন্য আমার বুকটা কেনো বেছে নিলো বুঝতেছিনা...
__এই উঠো (আমি)
..............
__আরে উঠো। (আমি)
__হুম...(বউ)
__উঠো না একটু
__হুম...
__আরে কি হুম হুম করতেছো,আমার বুকটা তো ব্যাথা হয়ে গেছে।
__আমি ব্যাথা দিছি নাকি,আমাকে কেনো সরিয়ে দিচ্ছো?
__তোমার মতো জলহস্তিনী বুকের উপর ঊঠলে বুক তো এমনিতেই ব্যাথা হবে তাইনা!!
__কি আমি জলহস্তিনী [মাথা তুলে অনেকটা রাগের সহীত]
__তা নয়তো কি? তোমার মতো একটা জলহস্তিনী বুকের উপর ঘুমিয়ে আছে বলেইতো আমার বুকটা ব্যাথা হয়ে গেছে।
__ওহ,তাই,আচ্ছা আর ঘুমাবো না।
বলেই খাটের একপাশে গিয়ে শুয়ে পরলো,
মনে হয় রাগ করছে, ভালোই তো লাগছিলো এতক্ষন। বুকে ব্যাথা হলেও বুকের মধ্যে অন্য রকম একটা প্রশান্তি ছিলো। আসলে আমি ওকে একটু রাগানোর চেষ্টা করছিলাম,অনেকের কাছে শুনতাম মেয়েদের আসল রুপ নাকি রাগানোর পরই ফুটে ওঠে। কিন্তু এই কথায় যে ও অভিমান করবে সেটা ভাবতেও পারিনি। যাইহোক আমার কথাই যখন অভিমান করেছে তখন আমাকেই ওর অভিমান ভাঙ্গতে হবে। দেখি চেষ্টা করে অভিমানটা ভাঙ্গতে পারি কিনা,,,
__বউটা কি রাগ করেছে! (আমি)
..........
__সরি বউ,দেখ কান ধরেছি।
..........
__বললাম তো আর হবে না। তুমি প্লিজ রাগ করে থেকনা।
__ আমি কারো উপর রাগ করিনি (বউ)
__সরি বউ,,
__বললাম তো আমি রাগ করিনি,আপনি ঘুমান।
__তুমি যদি আমার আমার সাথে না ঘুমাও তাহলে আমিও ঘুমাবো না।
__আপনার শরির খারাপ করবে,আপনি ঘুমিয়ে যান।
__করুক তাতে তোমার কি? তুমি যতক্ষন পর্যন্ত আমার সাথে না ঘুমাবে ততক্ষন আমিও এখানে বসে থাকবো।
__ওকে,থাকেন। আমার কি! আপনি যদি থাকতে পারেন তো বসেই থাকেন।
__হুম্ম,বসেই আছি।
আমিও দেখিয়ে দেবো আমারো রাগ আছে,আরে রাগ কি শুধু মেয়েদেরই থাকে নাকি। ছেলদেরো রাগ আছে। আজ সেটাই আমি দেখিয়ে দেবো। যতক্ষন না পর্যন্ত ও আমার কাছে আসবে ততক্ষন পর্যন্ত আমি এভাবেই বসে থাকবো,হুহ।
এদিকে আমি ঘুমের কারনে ঢুলছি,,আমার বউটা এতো পাষান কেনো বুঝিনা। তার স্বামিকে এভাবে বসিয়ে রেখে নিজে মনে হয় ঘুমুচ্ছে,ঘুমাক,আমি আজ এখানেই বসে থাকবো
বসা অবস্থায় কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম খেয়াল নেই। ঘুম ভাঙলো বউর ডাকে,,,
__কি হইছে ডাকতেছো কেনো? (আমি)
__আর কতক্ষন এভাবে বসে বসে ঘুমাবেন? (বউ)
__এহ, আমি ঘুমাইছি নাকি! আমি তো এমনিতেই চোখ বন্ধ করে ছিলাম।
__বউর কাছে হিরো সাজার চেষ্টা তাইনা।
__আমি তো এমনিতেই হিরো। বউর কাছে হিরো সাজবো কেনো??
__হইছে হইছে এবার শুয়ে পরুন। এভাবে বসে থাকলে তো পিঠ বাকা হয়ে যাবে।
__বললাম তো তুমি আমার সাথে না ঘুমালে আমি ঘুমাবো না।
__ওকে চলুন, আমি আপনার সাথেই ঘুমাবো।
__সত্যিতো!
__হুম, সত্যি।
আমার চোখে ঘুম ছিলো তাই কিছু না বলে শুয়ে পরলাম। আমার বউটা একটা বালিশ এনে আমার পাশে শুয়ে পরলো। ওর কান্ড দেখে আমি আবার উঠে বসলাম।
বউটা এবার খানিকটা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো,
__কি হলো,আবার ঊঠলেন কেনো? (বউ)
__তুমি তোমার কথা রাখোনি। (আমি)
__আমিতো আপনার কাছেই শুয়েছি।
__আরো কাছে এসে ঘুমাতে হবে।
__আরো কাছে কিভাবে?
__একটু আগে যেখানে ঘুমিয়েছিলে ওখানে ঘুমাতে হবে।
__পারবো না।
__প্লিজ বউ,ঘুমাও না। তোমাকে ছাড়া আমার ঘুম হবে না।
__একটু পর আবারতো বলবেন তোমার কারনেই আমার বুক ব্যাথা করছে। [ব্যাঙ্গ করে]
__আরে না,আরকখনোই বলবো না।
__আচ্ছা আপনি শুয়ে পরুন,আমি আপনার বুকের ওপরেই ঘুমাবো।
__উহুম,এইতো আমার বউটা,, লাভিউ বউটা। তোমাকে এত্তো গুলো ভালোবাসি।
বউটাকে আমার বুকের ওপর রেখেই শুয়ে পরলাম। জড়িয়ে নিলাম বাহুডোরে। বউটাও আমাকে জড়িয়ে দরে আমার বুকের ওপর শুয়ে আছে। একটু আগে যেখানে ব্যাথা অনুভব করছিলাম এখন সেখানে শান্তি অনুভব করছি,যেই শান্তি কোনো ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা।
__আচ্ছা বউ তোমার এতো রাগ কেনো? (আমি)
__এহ,আমার রাগ কই!!আপনার তো আরো বেশি রাগ।
__সামান্য কথায় এভাবে কেউ রাগ করে!
__আপনার কাছে হয়তো সামান্য ছিলো,কিন্তু আমি অনেক কষ্ট পাইছি।
আমি কিছু না বলে বউটার কপালে একটা চুমু দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম এখনো রাগ আছে কি না! বউটা আমাকে কিছু না বলে শুধু শক্ত ভাবে আমাকে জড়িয়ে দরলো। আমিও তাতে বুঝে গেলাম আমার বউটার আর রেগে নেই। আমিও ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। যাতে কোনো ভাবেই ওকে হারাতে না পারি।
.
এই মুহুর্তে আমার বুইড়া বাবাটাকে একটা ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। আমার বাবাটার কারনেই আজ আমি এতোসুন্দর একটা বউ পেয়েছি।
আজ থেকে বুঝতে পারলাম আসলে বাবা মা সন্তানের জন্য যা করে তা ভালোর জন্যই করে। লাভিউ বুইড়া বাবাটা, লাভিউ আম্মুটা।
---সমাপ্ত।

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ