৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছি।বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজার দায়িত্ব বড় মামাকে দিয়েছি।পাত্রীদের এমন ঢল নেমে যাবে বুঝতে পারিনি।একটা জিনিস বুঝতে পারলাম কন্যাদের পিতা মাতার কাছে আমি একটি সোনার ডিম পারা মুরগি বর্তমানে।
.
বিকাল বেলা এলাকার চায়ের দোকানে বসলাম।এই পাঁচ বছরে চায়ের দোকানটিকে এবং দোকানদার অমূল্য কাকাকে খুব মিস করেছি।অমূল্য কাকা ৫ বছর আগে আমার কাছ থেকে ৭০০ টাকা পেত, সেই টাকার কথা তার মনে না থাকলেও আমার ছিল।তার হাতে ১০০০ টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিয়ে আমি বল্লাম রেখে দিতে।অমূল্য কাকার হাসিটি দেখে ভালো লাগছে।জীবনে বাকি নিয়েছি অনেক কিন্তু পরিশোধ করতে দেড়ি হয়ে যেত।তাই তার এই সুন্দর হাসি দেখার সৌভাগ্য তখন হতো না।
.
অমূল্য কাকা দোকান থেকে বিকালে বাসায় আসতেই মামা জানালেন একটি বিয়ের প্রস্তাব এসেছে পাত্রী তার অনেক পছন্দ হয়েছে।সন্ধ্যায় পাত্রীদের বাসায় যেতে হবে।কি আর করার মামার কথা মত রেডি হয়ে পাত্রী দেখতে গেলাম।
মেয়ের বাবাকে দেখে চিনতে বাকি রইলো না যে জেমির বাবা এটি....
আমি তখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়তাম।জেমি সম্ভবত ক্লাস সেভেনে।জেমি তার বাবার সাথে যেত আর আমি বন্ধু বিশালের বাইকের পিছনে বসে জেমির বাবার সামনেই টিজ করতাম।লজ্জায় মাথায় হেড হয়ে আছে।জেমির বাবাকে দেখে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারছি না।কিন্তু জেমির বাবার আপ্যায়ন দেখে মনে হচ্ছে তিনি চিনতে পারছেন না।না চেনারও তো কারণ নেই।কেননা টানা এক বছর জ্বালিয়েছি বাপ বেটিকে।
জেমিকে কিছুক্ষণ পর আমার সামনে আনা হলো।বাহ!পিচ্চি মেয়েটি ভারি সুন্দর হয়ে গেছে।কিন্তু যখন ছোট ছিল আরো কিউট ছিল।মেয়েটি এখন অনার্স থার্ড ইয়ারে আছে।জেমি আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমাকে হয়তো তার চেনা চেনা লাগছে কিন্তু তার চিনতে কস্ট হচ্ছে।কেননা আগের মত চুলে স্পাইক,গলায় চেইন আর হাতে বয়লা নেই যে!
সবচেয়ে মজার ঘটনা ঘটলো যখন জেমি আর আমাকে আলাদা কথা বলতে দেওয়া হলো।
জেমি আমাকে একা পেয়ে বলে ফেল্লো,"আপনার বড় চুলে আর স্পাইকে খুব ভালো লাগতো"।
কথাটি শুনে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম।জেমি আমাকে চিনেছে তাহলে।
আমি বল্লাম, "আচ্ছা আমি যখন পিছু নিতাম কোনদিন তো তাকাতে দেখিনি আমার দিকে।"
জেমি বলে ফেল্লো," বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেখতাম,কিন্তু আপনার উপর রাগ হতো!কেন যে আপনি বাবার সামনে এরকম করতেন।প্রপোজ করলেই পারতেন।আপনার ভয়ে বাবা আমাকে খুব কড়া গার্ডে রাখতো!জীবনটা বন্দি মনে হতো!"....
জেমির কথা শুনে যা বুঝলাম বিয়েতে ও রাজি।আমিও রাজি....বাসায় এসে আয়নার সামনে চুলটা স্পাইক করার চেস্টা করছি।কিন্তু কেন যেন এটি করতে বেমানান লাগে।
.
.
রাতে বাসায় এসে ফোনে দেখি কল এসেছে।বন্ধু সজিব কল দিয়েছে।ইতরটার নাম্বার হারিয়ে ফেলেছিলাম।কাল ইউনিভার্সিটিতে যেতে বলেছে।ইউনিভার্সিটির নাম শুনে বুকটা কিছুটা খুশিও হলো বটে।
.
সকাল সকাল ইউনিভার্সিটিতে গেলাম।দেখি ইতরগুলো বসে আছে চায়ের স্টলে।সবাইকে দেখে খুব ভালো লাগছে।ইতরগুলোর একজনও পাস করেনি।এরা ইচ্ছা করে করছেও না।কেননা পাস করে বের হয়ে গেলে রাজনীতি আর পদ আর বাড়তি ইনকাম সব বন্ধ হয়ে যাবে!
এরা একেকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় পদে আছে।আমার খারাপ লাগছে কিছুটা।কেননা এদেরকে রাজনীতি শিখিয়েছিলাম আমি।কিন্তু আমার কপালে এত শান্তি জুটলো না।
অবশ্য এটি ভেবে শান্তি পাচ্ছি যে নাহ!বিদেশ গিয়ে হলেও আমি পাশ তো করেছি।
.
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকাচালার হিসেবে নিয়োগ পেতে তেমন একটি দেড়ি হলো না।বিদেশি সার্টিফিকেট দেখে তারা ঠিকই টানলো আমাকে।যাক ভালো চাকরি এবং বিয়ে দুটিই হয়েছে।
ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিতে গিয়ে আমার একজন প্রিয় ছাত্র হয়ে গেল।রক্তিম...
এতটা ভদ্র,মেধাবী ছাত্র কখনো দেখিনি।শিক্ষকতার পেশায় এসে এটি বুঝলাম যে ছাত্ররা যদি কথা শুনে আর সম্মান করে এটি অনেক বড় প্রাপ্তি।হয়তো আমার শিক্ষকদেরও এটিই চাওয়া ছিল!
.
রক্তিমকে নিয়ে আমি সারাক্ষণ ভাবি।ছেলেটিকে আমি সাজেস্ট করেছি যে বিসিএস দিয়ে ক্যাডার হতে।কেননা সে এটি পারবে।
এর মধ্যে একদিন শুনতে পেলাম সরকারি এবং বেসরকারি ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের মধ্যে গেঞ্জাম বেজেছে।আমাদের ছাত্রদেরও মাথা গরম এবং সরকারি ইউনিভার্সিটিরও....
আমি বুঝি না ইউনিভার্সিটিতেও এই দেশে বৈষম্য বিরাজ করে কেন।আমার ডিপার্টমেন্টের কিছু ছেলেকে ক্যাম্পাসের বাইরে আমার সামনেই লাঞ্চিত করা হচ্ছিল।প্রথমে তাদের বল্লে না শুনলেও পরে যখন তারা জানতে পারলো তাদের ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলাম এবং বন্ধুদের নাম বল্লাম।তারা সবাই সরি বলে চলে গেল।আমি তাদের না যেতে দিয়ে সবার সাথে বসে খা খাইয়ে বুঝিয়ে বিদায় দিলাম।
যাক পূর্বের গেঞ্জাম থামানোর অভিজ্ঞতা কাজে লেগে গেল।আর আমাদের ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের বুঝালাম যতই চেস্টা করো পেশি শক্তিতে সরকারিদের সাথে পারবে না।তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক রেখে দেখো তারা তোমাদের জন্য জানও দিয়ে দিবে।
.
.
আজ রক্তিমেরর জন্মদিন।ফেসবুকের নোটিফিকেসনের মাধ্যমে জানলাম।উইস করার সাথে সাথে রক্তিম তার বাসায় ইনভাইট করলো।
সন্ধ্যায় রক্তিমের জন্য গিফট কিনে তার বাসায় গেলাম।রক্তিমের মা গেইট খুলে আমাকে দেখে ভয় পেয়ে গেলেন।আর আমার হাত থেকে গিফট টি পরে গেল।রক্তিমের মায়ের মুখে ভয় এবং চোখের পানি দুটি আমাকে ভীত করে দিচ্ছে!
আমি চুপচাপ এসে পরলাম।রক্তিম আমাকে অনেকগুলো কল দিচ্ছে কিন্তু ধরছি না।
৫ বছর আগে রক্তিমের বড় ভাই জাদিদ আমাদের ইউনিভার্সিটির ১ ব্যাছ সিনিয়র ছিলেন।আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আমার হাতেই রক্তিমের বড় ভাই মারা যায়।ব্যাকাপ যথেস্ট থাকলেও মিডিয়া কভারেজ এসবের কারণে দেশ ছেড়ে চলে যায়।৫ বছর বাইরে পড়াশোনা করে এবং মামলা নিষ্পত্তি করে দেশে এসেছি।এতদিন ধরে এটিকে সাধারণ গেঞ্জাম মনে হলেও আজ কেমন যেন মনে হচ্ছে অনেক বড় পাপ করেছি জীবনে!...
যখন ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলাম তখন মনে ছিল না যে আমিও পাশ করে একদিন কোন সাধারণ পেশা বা বড় পেশায় যুক্ত হবো।ইউনিভার্সিটির রঙিন জগতে এবং ক্ষমতার নেশায় মানবিকতার মৃত্যু ঘটেছিল!....
ভাবছি আবার অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাবো....
আর দেশে আসবো না...লজ্জায় এখানে আর থাকবো না...
.
লিখাঃ মোসাব্বের হোসেন মুয়ীদ
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§
201
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧍:ā§Ļā§Ž AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ