(১নং গল্প)
হঠাৎ পাওয়া ভালবাসা
.
.
মিথি নুহাশের বোন বলে এখন নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে শিখেছি।কতটা নিয়ন্ত্রন করতে পারছি জানিনা।তবে চেষ্টা করছি।ইচ্ছে থাকা সত্বেও ওকে আর হোষ্টেলের কাছে দেখতে যাইনা।ওকে না দেখতে পেয়ে যেন চোখ দুটো জ্বলে যাচ্ছে।তবুও ভুলেও বিকেলে ক্যাম্পাসের দিকে পা বাড়াইনা।কারন ওকে যতই দেখব ততই মায়ায় পড়ে যাব।কি লাভ মায়া বাড়িয়ে?যখন ওকে বলাই সম্ভব না যে আমি ওকে ভালোবাসি!
কারন ও আমার বন্ধুর বোন।ভালবাসার থেকে বন্ধুত্বের মূল্য আমার কাছে অনেক বেশী।নুহাশ যদি জানতে পারে যে আমি ওর বোনকে.....
না না।এ হতে পারেনা।আমি আমার বন্ধুর মনে কষ্ট দিতে পারবনা।এমনিতেই ও সবার সাথে গর্ব করে বলে ওর সব বন্ধুর থেকে আমিই নাকি সেরা।ও নাকি আমাকেই সব থেকে বেশী পছন্দ করে। এটা ভেবেই মিথিকে ভালোবাসি কথাটা বলা হয়নি।
.
যেদিন প্রথম মিথিকে দেখেছিলাম গার্লজ হোষ্টেলের সামনে সেদিনই জীবনের প্রথম ক্রাশটা খেয়েছিলাম।
ও দেখতে এত ফর্সা না।তবুও ওর মুখটা খুব মায়াবি।হাসিটার তুলনা হয়না। যে কেউ ওর দিকে একবার তাকালে আরেকবার না তাকিয়ে পারবেনা।আমি ঐ দিনই ওর রুপের মায়ায় পড়েছিলাম।এরপর থেকে ওকে দেখার জন্য প্রায়ই গার্লজ হোষ্টেলের কাছে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতাম।অবশ্য ক্যাম্পাসের কাছেই হোষ্টেল ছিল।তাই ক্যাম্পাসে দাড়িয়ে থাকলে বা বসে থাকলে যে কেউ বুঝতে পারবে যে আমি কাউকে দেখতে এসেছি তা কিন্তূ নয়।মিথি সম্ভবত দু তলায় থাকত।কারন ওকে আমি রোজ দু তলার বেল্কনিতেই দেখতাম।বান্ধবীদের সাথে যখন কথার ফাঁকে ও প্রান খুলে হাসত তখন কি যে ভাল লাগত ওকে?
.
ও হাসার সময় ডান হাতে মুখ চেপে উচ্চস্বরে হাসত।যখন হাসত তখন ওর শরীর খুব সুন্দর করে দোলত।ঠিক যেমন করে হালকা বাতাসে গাছের পাতা অথবা আগাছার লতগুলো দোলে।
সেই সাথে ওর শ্যাম্পু করা চোলগুলো গায়ের দোলনিতে একবার কাঁধের এপাশে আরেকবার ওপাশে দোলনি খেত।
কি যে অমায়িক লাগত তখন মেয়েটাকে!
আমি দেখতাম আর মাতাল হয়ে যেতাম।
.
মিথি যে নুহাশের বোন সেটা সেদিনই জানতে পারলাম যেদিন নুহাশের বাবা মাড়া গেল।আমি ওদের গ্রামের বাড়ি গেলাম ওর বাবাকে দেখতে।গিয়ে দেখি মিথি ওর বাবার লাশ জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদছে। ঐদিন ওর আসল পরিচয় জেনে যতটা অবাক হয়েছিলাম তার থেকে বেশী কষ্ট পেয়েছিলাম ওর কান্না দেখে।ভালবাসার মানুষের চোখের পানি কিছুতেই সহ্য করতে পারছিলাম না।আবার কিছু বলতেও পারছিলাম না।কেবল নীড়বে দুটো যন্ত্রনা একসাথে সহ্য করেছিলাম।
ঐ দিন রাতে যখন আমি নুহাশদের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরছিলাম,নুহাশ আমাকে ডেকে বলল যে পরদিন সকালে নাকি ওর পরীক্ষা আছে।আমিতো শুনে পুরাই অবাক হয়েছিলাম
এই মেয়ে যে পরিমানে কান্নাকাটি করছে আর ওর মনের অবস্থা এখন যে পরিমানে খারাপ তাতে করে ওর পক্ষে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব বলে আমার মনে হয় না।
.
যা হোক নুহাশের অনুরোধে মিথিকে আমি আমার সাথে ঢাকায় নিয়ে গেলাম। ও একটু পর কাঁদতে কাঁদতে নাক টানছিল।আমি ওকে শান্ত্বনাও দিতে পারছিলাম না।কারন ওর কষ্টটা আমার বুকে শেলের মত বিঁধছিল।
তবুও ওকে শান্তনা দেবার জন্য একবার বললাম যে
-মিথি আর কেঁদনা।কেউতো আর চিরকাল বেঁচে থা....
কথাটা শেষ করার আগেই মিথি আমার গলা জরিয়ে ধরে কান্নার মাত্রাটা আরো বাড়িয়ে দিল।
তখন আমরা ট্রেনে ছিলাম।চারপাশের মানুষগুলো আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।
তবুও আমি কিছু মনে করলাম না।আস্তে করে ওর মাথায় হাত রেখে বললাম
-রিলেক্স মিথি।তুমি এত বড় মেয়ে হয়ে এভাবে কাঁদলে লোকজন কি ভাববে?
এবার মিথি নিজেকে একটু সামলে নিল।হাতের পিঠ দিয়ে চোখগুলো মুছে নিল।
.
রাত যখন প্রায় আটটা বাজে।সুনসান নীড়বতা অতিক্রম করে ট্রেন এগিয়ে চলছে। তখনই মিথি ঘুমিয়ে গেল।ঘোমের ঘোরে ও আমার কাঁধের উপর ঢলে পড়ল।
একবার ভাবলাম ওকে ডেকে দেই।
আরেকবার ভাবলাম কি দরকার ডাকার!ঘুমাচ্ছে যখন ঘুমাক।
তাছাড়া আমার কাছেও ব্যাপারটা মন্দ লাগছে না।হাজার হলেও ওকে আমি ভালোবাসি।
যে মেয়েটাকে এত ভালবাসি,সে আমার এত কাছে আজ।তবুও মনে হচ্ছে তার আর আমার মাঝে যেন অনেক দূরত্ব।কারন এই মেয়েটাকে যে আমার ভুলতে হবে।
.
নুহাশ এখনো বাড়ি থেকে আসেনি।ওর বাবার কুলখানির পর আসবে।এদিকে মিথির এক দু দিন পর পর পরীক্ষা।নুহাশের কথামত মিথিকে প্রতিদিন হোষ্টেলে একবার দেখতে যাই।
ও আমাকে দেখেই কেমন জানি অস্থির হয়ে যায়।খুব মিষ্টি করে হাসে।এতে আমিও খানিকটা লজ্জা অনুভব করি।
তবুও
মনে মনে ভাবি,কবে যে নুহাশটা অাসবে। মিথিকে প্রতিদিন দেখতে পেয়ে আমার ভালই লাগে।তবুও আমি আর ওর মায়ায় নিজেকে জড়াতে চাইনা।
.
.
নুহাশ এসে গেছে ঢাকাতে।তাই আমার ডিউটি শেষ।তবে এখন প্রতিদিন বিকেলে কিছু একটা মিস করি।
.
বুঝতে কষ্ট হল না
যে আমি মিথির মুখটা মিস করি।
ওকে না দেখতে পাওয়াটা মিস করি।তবুও কিছু করার নেই।আমি চাইলেই ওকে দেখতে পাড়বনা।
তবে ঐদিন রাতে মিথি যখন আমার কাঁধে ঘুমিয়ে পড়েছিল,ঐসময় আমার পড়নে যে শার্টটা ছিল ঐ শার্টটা না ধুয়ে খুব যত্ন করে রেখে দিয়েছি।
ওটাতে মিথির চুলের একটা গন্ধ লেগে আছে।সম্ভবত ও কিউট তেল ব্যাবহার।ঐ তেলেরই গান্ধ লেপ্টে আছে আমার শার্টের কাঁধের দিকের অংশটাতে।
যখনই মিথিকে মিস করি তখনই শার্টটা হাতে নেই।অনুভব করি যেন মিথি জড়িয়ে আছে শার্টটার মাঝে।
.
গত এক সপ্তাহ যাবৎ নুহাশের সাথে যোগাযোগ হয়না।
আজ সকালে ফোন করে ও যা বলল,এটাও আমাকে শুনতে হবে ভাবিনি কখনো।
মিথির জন্য ছেলে দেখতে যাবে।সাথে আমাকেও যেতে হবে।
হায়রে!এই ছিল আমার কপালে!শেষ পর্যন্ত ভালবাসার মানুষের জন্য আমার নিজের ছেলে দেখতে যেতে হবে!
বুঝতে পারছিলাম না কি করব!
অবশেষে বন্ধুর অনুরোধ রাখতে যেতে হল।
ছেলে মাশ আল্লাহ ভালই।কিন্তূ আমার কাছেতো পুরাই সতীন সতীন মনে হল।
.
নুহাশ সিদ্ধান্ত নিল এই ছেলের সাথেই মিথির বিয়ে দিবে।আমি যেন কিছু বলতে চেয়েও পারলাম না।ভেতরে ভেতরে অনেক কষ্ট পাচ্ছিলাম।কিন্তূ কিছু করার ছিলনা।নিরুপায় ছিলাম আমি।
.
বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হয়ে গেল।বিয়ের সব বাজারও করা শেষ।
অনিচ্ছা সত্বেও নুহাশদের বাড়িতে বিয়ের তিন দিন আগে চলে এসেছি।যতবার মিথি আমার সামনে পরে ততবারই আঁতকে উঠি।বুকের কষ্টটা যেন আরও এক গুন বেড়ে যায়।
মাঝে মাঝে মনে হয় নুহাশকে সব খুলে বলি।
আবার মনে হয়,সময় থাকতে যখন বলিনি, এখন আর বলে কাজ কি?
আসলে না বলতে পারা কথাগুলো ভেতরে খুব যন্ত্রনা দেয়।আর এই যন্ত্রনার ভয়াবহতাটা টর্নেডো,সাইক্লোন বা রোয়ানোর চেয়ে কোন অংশে কম নয়।
.
রাতে কিছুতেই ঘুম আসছিল না।কালই মিথির বিয়ে।নিজেকে নিয়ন্ত্রন করাটা খুবই কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।
সিগারেট টানতে টানতে
কখন যে চোখ লেগে এসেছে টেরও পাইনি।
.
রাত প্রায় আড়াইটার দিকে নুহাশের ডাকে ঘুম ভাঙল।চোখ কচলাতে কচলাতে নুহাশের মুখের দিকে তাকালাম।ওর মুখটা একবারে রাতের অন্ধকারের মতই কালো হয়ে আছে।আমি একটু ঘাবড়ে গেলাম।
আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই নুহাশ বলল
-তুই মিথিকে ভালবাসিস?
নুহাশের কথা শুনে আমার পুরু শরীর বেয়ে ঘাম ঝড়তে লাগল।
কি বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না।তবুও নিজেকে ইনোসেন্ট প্রমান করতে তাড়াহুড়া করে বললাম
-দোস্ত,তুই এইটা ভাবলি কি করে!আমার বন্ধুর বোনের সাথে
আমি প্রেম করতে পারি!
-আমি কি বলছি তুই ওর সাথে প্রেম করছিস?
ওকে তোর ভালো লাগে কিনা তাই বল।
-দোস্ত।কাল ওর বিয়ে।কি লাভ আজ এসব বলে?
-কি লাভ হ্যাঁ!আমার বোনকে আমি কোনদিন কাঁদতে দেইনি।আমার বোনকে অামি বড় হবার পর মোট তিনবার কাঁদতে দেখছি।একবার আমার বাইক একসিডেন্টের সময়,দ্বিতীয়বার বাবা মাড়া যাওয়ার দিন আর আজ কাঁদতে দেখলাম।তাও তোর পায়ের কাছে বসে।
.
আমিতো পুরাই অবাক হয়ে গেলাম।নুহাশ কি বলল এটা?
তার মানে কি মিথিও আমাকে ভালবাসে!ও মাই গড!
আমি অসহায়ের মত নুহাশের মুখের দিকে তাকালাম।
নুহাশ বোধ হয় আমার চোখের ভাষা বুঝে ফেলেছে।
নুহাশ আমার হাত দুটো চেপে ধরে অসহায়ের মত আমাকে বলল
-কথা দে বন্ধু,আমার বোনটাকে কোনদিন কাঁদতে দিবিনা।
আমি কিছু বলতে পারলাম না।কেবল নুহাশের মুখের দিকে বোকার মত তাকিয়ে রইলাম।
এবার নুহাশ বলল
-আর দেরী করিস না।তুই ওকে নিয়ে এখনি ঢাক চলে যা।আমি কাল রাতে আসতেছি।
-কিন্তূ বরপক্ষকে কি বুঝাবি?
-ওসব নিয়ে তুই ভাবিস না।আমি ম্যানেজ করব।যদিও আমাদের বংশে একটু চুনকালি লাগবে।তাতে কি?আমার বোনটাকেতো কাঁদতে হবেনা।আমার কাছে আমার বোনের সুখের থেকে বড় আর কিছু হতে পারেনা।
.
আমি আর মিথি এখন ষ্টেশনে।ভোর হলেই ট্রেন আসবে।মিথি আমাকে কিভাবে কখন এতটা ভালোবেসেছে সেই গল্পটা বলতে বলতেই ও কখন যে ঘুমিয়ে গেছে নিজেও বোধ হয় টের পায়নি।
মিথিকে ভালোবাসি বলতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে।কিন্তূ ওতো আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পরেছে।তাই বলতে পারছিনা।
যা হোক, ব্যাপারনা।ও ঘুম থেকে উঠলেই না হয় কথাটা বলে দেব।
-----------------------------------------------
-----------------------------------------------
(২ নং গল্প)
সাদা গোলাপের পাঁপড়ি
.
.
সাড়া জীবন আমার বাবা-মা,চাচা-চাচী,দাদা-দাদু,নানু সর্বোপরি সকল আত্নীয় স্বজন এবং বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে যে পরিমান ধমক না খেয়েছি,তার থেকে অনেক বেশী ধমক খেয়েছি গত দেড় বছরে সামি স্যারের।
এই লোকটা অবশ্য শুধু আমাকে না কলেজের সব ছাত্র ছাত্রীকেই এভাবে ধমকায়।আর যারা উনার কাছে প্রাইভেট পড়েন,তারাতো ক্লাসের বাহিরেও অতিরিক্ত ধমক খায়।
স্যারের বয়স অল্প হলে কি হবে!অাচার ব্যবহার পুরাই মুরব্বি,মুরব্বি।দেখতে স্মার্ট অার সুদর্শন হলেও অাচার ব্যবহার পুরাই কর্কশ টাইপের।
.
স্যারকে সবাই যমরাজের মত ভয় পায়।আমিও পাই।যদিও স্যার চুন থেকে পান খসলেই যে কাউকে ঝাড়ি দেওয়া শুরু করে তবুও আমার কেন জানি মনে হয়,উনি আমাকে একটু বেশীই বকেন আর আমার উপর নজরদারিটাও একটু বেশী রাখেন।অবশ্য বেশী নজরদারীর আরও একটা কারন থাকতে পারে,আর সেটা হচ্ছে আমি ক্লাসের ফাস্ট গার্ল।
প্রথম যেদিন স্যার আমাকে ধমকেছিলেন আমিতো ভ্যাঁ করেই কেঁদে দিয়েছিলাম।আমি যখন কোন কারনে কাঁদি আমার পুরু পরিবার লেগে যায় আমার কান্না থামাতে।আর স্যারের ধমক খেয়ে কেঁদে দেওয়াতে স্যার আমাকে আরো জোরে ধমক দিয়ে বলল
-এই তুমি কি ননসেন্স?
এত বড় মেয়ে হয়ে গেছ।এখনো বাচ্চা মেয়েদের মত এভাবে কাঁদছ কেন?
ধমকের উপর ধমক খেয়ে আমার অবস্থা তখন আরো নাজেহাল হয়ে গিয়েছিল।
সে থেকেই স্যারকে দু চোখে দেখতে পারিনা।দেখলেই মুখে
ভেংচি কাটি।অবশ্য সেটা
উনার চোখের আড়ালে।দেখলে আবার খবর আছে।
.
ইদানিং আমাদের ক্লাসমেট রাজ আমাকে বেশ বিরক্ত করছে।অবশ্য ও সেই প্রথম থেকেই মানে কলেজে ভর্তি হবার পর থেকেই লেগে আছে আমার পিছে। তবে ইদানিং একটু বেশী ডিষ্টার্ব করছে
আমি কলেজের সামনে রিক্সা থেকে নামতেই দেখি ও দাড়িয়ে আছে গেটের সামনে।আমাকে দেখেই বত্রিশ পাটি খোলে একটা হাসি দেয়।আর শার্টের কর্লার টানতে টানতে এসে আমার সামনে দাড়িয়ে সালমান খানের মত করে একটা হাসি দেওয়ার চেষ্টা করে।অবশ্য এটাতো আর ও বুঝতে পারেনা যে ও দাঁত বের করে হাসলে ওকে হিরো আলমের মত লাগে।
ওকে কত বকেছি কাজ হয়নি।এক কথায় যাকে বলে বেহায়া আরকি।
যদিও রাজকে খারাপ লাগে তবুও ওর পাঠানো সাদা গোলাপের পাপড়িগুলো অার ভালবাসি লেখা চিরকুট টা খারাপ লাগেনা।প্রতিদিন ইংরেজি বইয়ের ভেতর সাদা গোলাপের পাপড়ি দিয়ে লাভ বানিয়ে রাখে ও অার ছোট্র চিরকুটে লিখে দেয় ভালবাসি।গত তিনমাস ধরে ও এই কাজটা করে আসছে।
প্রতিদিন টিফিন প্রিয়ডের পর ক্যান্টিন থেকে টিফিন শেষ করে ক্লাসে ফিরে গিয়েই দেখি যে ইংরেজি বইটা ব্যাগের উপরে রাখা আর তার ভেতরে গোলাপের পাপড়ি।প্রথম প্রথম অদ্ভুদ লাগলেও এখন অভ্যাস হয়ে গেছে।
.
এখন আমি প্রতিদিন টিফিন শেষে গিয়ে বইটা নিয়ে বারান্দায় অথবা জানালার ধারে গিয়ে দাড়িয়ে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতে থাকি আর
পাপড়ি রাখা পাতা সামনে এলেই বাতাসে সেগুলো উড়ে এসে আমার চোখে মুখে পড়ে।
কি যে ভাল লাগে তখন!
ক্ষনিকের জন্য তখন মনটাতে রাজের প্রতি ভাল লাগাতে ভরে উঠে।
উফ!ছেলেটা না পারেও....
গত দেড় বছর ধরে আমাকে ইমপ্রেস করার জন্য কত চেষ্টাই না করছে বেচারা
আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে হয়ত পটেই যেত এতদিনে।
তবে আমি যদি কখনো ভালোবাসি ওকে শুধু এই ফুলের গন্ধে আমাকে কিছুক্ষন মাতিয়ে দেওয়ার আনন্দটার জন্যই ভালবাসব।
.
দেরী করে কলেজে আসায় কলেজে ঢুকেই দেখি সামি স্যার ক্লাসের দিকে যাচ্ছেন।
আমারতো মাথায় হাত আর জিহ্বায় কামড় পড়ে গেল।যদি স্যারের আগে ক্লাসে যেতে না পাড়ি তবে কান ধরে দাড় করিয়ে রাখবে আমাকে।তাড়াতাড়ি অর্ধেক দৌড় আর অর্ধেক হাটার মত করে চটপটিয়ে হেটে স্যারকে ক্রস করার চেষ্টা করতেই স্যার ইয়া জোড়ে চিল্লায়া বলে উঠল
-এই মেয়ে,শিক্ষকদের সম্মান করতে জাননা?তুমি জাননা যে শিষ্যকে সবসময় গুরুর পেছনে হাটতে হয়?
স্যারের ধমক খেয়ে পুরাই ফিদা হয়ে গেলাম।কি বলব বুঝতে পারছিলাম না।
শুধু মাথাটা নীচু করে রেখে ফাঁসির আসামীর মত সরি বলেই দাড়িয়ে রইলাম।
তারপর স্যার ইটস অকে বলেই যেতে বললেন আমাকে।আমিতো বেঁচে গেলাম।কিন্তূ প্রতিদিনের মত আমাকে একতরফা ভাবে গেইট
থেকে এগিয়ে নিয়ে আসা রাজ ভাইয়ের অবস্থা দেখার জন্য একবার পেছনে ফিরে তাকিয়ে স্যারের কাছে ওর অপদস্থ হওয়ার যে চিত্র দেখলাম তা আর আপনাদের নাইবা বললাম।
.
প্রতিদিনের মত আজও কলেজের বারান্দায় দাড়িয়ে যখন পরোক্ষভাবে বাতাসে পাপড়ি উড়াচ্ছিলাম তখনি পেছন থেকে ধমক খেয়ে কেঁপে উঠে পেছনের দিকে তাকালাম
তাকিয়ে দেখি যমরাজ সামি স্যারের চুলে একটা পাপড়ি আটকে আছে।উফ বাতাস এত খারাপ কেন।আমি ধমক খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে সরি বলেই নীচের দিকে তাকিয়ে রইলাম
সামি স্যার তার চিরাচরিত কর্কশ গলায় বলল
-এটা ফুলের পাপড়ি বিলাস করার জায়গা না।এটা পড়াশুনা করার জায়গা।এসব বাচ্চামি বাসায় গিয়ে করো।
সামির বাচ্চার ধমক খেয়ে মনটা বেশী খারাপ হয়ে যাওয়াতে ভাবলাম আর ক্লাস করবনা।
তাই রাজকে ডেকে বললাম
-আমাকে ঘুড়তে নিয়ে যাবে?
আমার মুখ থেকে ও কথা শুনে রাজের চোখ মুখ খুশিতে উজ্জল হয়ে উঠল।
.
রাতের খাবার খেয়ে শুতে যাব,ঠিক তখনি বাবা আমাকে তার রুমে যেতে বললেন।
.
রুমে গিয়ে দেখি,বাবা মা দুজনেই মনমরা হয়ে বসে আছে।
আমি রুমে ঢুকতেই বাবা বলল
-তুই আমার মেয়ে হয়ে এত নীচ হয়ে গেছিস ভাবতে অবাক লাগছে।এখুনি কলেজ ফাঁকি দিয়ে ঘুড়ে বেড়াস?
আমি তোকে এক সপ্তাহের মধ্যেই বিয়ে দেব।
.
সারা রাত বসে বসে কেঁদে চোখের পানি আর নাকের পানি এক করে ফেললাম।মনে একটাই দ্বিধা,বাবা খবরটা কোথা থেকে পেল?তাছাড়া এখন যদি বলি যে রাজের সাথে আমার তেমন কোন সম্পর্ক নেই তাহলে কি সেটা কেউ বিশ্বাস করবে?
সারা রাত সজাগ থেকে লাল লাল চোখ নিয়ে সকালে গিয়ে আম্মুকে জিজ্ঞাসা করলাম যে বাবাকে ঘটনাটা কে বলেছে?
মা যা বলল তা শুনে আমার মেজাজ পুরাই গরম হয়ে গেল আর অবাক হলাম আমি।সামি স্যার নাকি বাবাকে ফোন করে বলেছে।
.
কলেজে গিয়ে রাজকে নিয়ে স্যারকে একটা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সুযোগ বুঝে স্যারের টেবিলে গিয়ে সব হাজিরা খাতা নিয়ে পালাচ্ছিলাম,ঠিক তখনি চোখে পড়ল স্যারের টেবিলের নীচে অনেকগুলো ফুলের ডাটা।পাপড়ি ছিড়ে ফেলে দিলে ফুলের যে অংশটা থাকে সে অংশটা আরকি!
কৌতূহল মেটাতে ড্রয়ারটা টান দিলাম।দেখলাম ওখানে একটা ছোট্র পলিথিনে কয়েকটা সাদা গোলাপের পাপড়ি।মনে হচ্ছে মাত্রই ছেড়া হয়েছে আর ঐ পলিথিনেই একটা কাগজে ছোট্র করে লেখা"ভালোবাসি"
আমিতো থ মেরে গেলাম।হাউ ক্যান ইট পসিবল!
তার মানে এতদিন সামি স্যার আমাকে........
আমি যেন এ দৃশ্য দেখে সম্মোহিত হয়ে গেলাম। রাজ স্যার আসছে বলেই খাতাটাতা রেখে দিল দৌড়।
আমার দৌড় দিতে একটুও ইচ্ছে করলনা।কেন জানি
বুকের সাহসটা চারগুন বেরে গেল।
.
স্যার এসে আমার দিকে তাকিয়ে জোড়ে ধমক দিতে উদ্যত হল ঠিক তখনি আমি ঐ পাপড়ি আর চিরকুটটা দুহাতে ধরে হাত দুটো সামনের দিকে বাড়িয়ে ধরলাম।
নিমিষেই স্যারের তেজে ভড়া মুখটা ছোট হয়ে গেল আর উনি দুবার ঢুক গিলে আমাকে তোতলাতে তোতলাতে আস্তে করে বলল
-ক্লাসের সময় হয়ে গেছে।ক্লাসে চল।
বেচারা স্যার মনে হয় জীবনে এরকম পরিস্থিতিতে আর কখনো পড়েনি।
.
স্যার এস বল ক্লাসের দিকে যেতে লাগল।আমিও স্যারের পাশাপাশি হেটে যেতে লাগলাম।আজ আর স্যার ধমক দিয়ে বলছেন না যে,শিষ্যদের সবসময় গুরুর পেছনে হাটতে হয়।বরং আমি স্পষ্টতই বোঝতে পারছি যে স্যার আড়চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছেন আর মুচকি মুচকি হাসছেন।
____________________Tanjina Akter Tania(হিমাদ্রির মেঘ)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§
202
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧍:ā§Ļ⧝ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ