āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

195

"সব ভাবনাই সঠিক হয় না "

A.F. Mannu(আজাইরা)

সবাই পড়ালেখা করে কিন্তু কেউ আছে যাদের জন্যই পড়ালেখা আবার কেউ আছে যারা পড়ালেখার জন্য অনুপযুক্ত। ঠিক অনুপযুক্ত না তবে লেখাপড়া বিমুখী। এইরকম একটা ছেলে মান্নু। সামনে তার টেস্ট পরীক্ষা কিন্তু সেইদিকে তার কোন খেয়াল ই নেই। সে সারাদিন ই ব্যস্ত থাকে ফেসবুক নিয়ে অথবা ঘুরাঘুরি তে। অবশ্য তার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে তেমন কেউ নেই চ্যাট করার জন্য। ঘুরাঘুরি টাও একা একাই করতে হয়। মোটকথা, সে পড়ালেখা থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায়।

একদিন সে ফেসবুকে শুধু শুধুই ঘুরাঘুরি করতে ছিলো। হঠাৎ সে একটা আইডি পায় এবং নামটা তারকাছে পরিচিত মনে হয়। প্রোফাইল চেক করে দেখে এই মেয়ে তার কলেজেই পড়ে। কিন্তু সে কলেজে না যাওয়ার কারণে কাউকেই তেমনভাবে চিনে না। তাছাড়া, মেয়েটার কোন ছবিও ছিলো না তার আইডিতে। তখন তার মাথায় চিন্তাভাবনা শুরু হয় সে কি মেয়েটাকে রিকুয়েস্ট দিবে?? না দিবে না!! কি মনে করে যেন সে মেয়েটাকে রিকুয়েস্ট দিয়েই দেয়।
দুইদিন পরে নোটিফিকেশন আসে মেয়েটা তার রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করছে। সে মেয়েটার প্রোফাইলে গিয়ে সামান্য একটু দৌড়াদৌড়ি করে ফিরে আসে। কারণ, মেয়েটা চ্যাটে ছিলো না। পরদিন সে আবার মেয়েটার প্রোফাইলে ঢুকে এবং মেয়েটার প্রোফাইল পিকচারে কমেন্ট করে। সে আশা করেনি যে মেয়েটা তার কমেন্টের রিপ্লাই দিবে। কিন্তু তাকে ভুল প্রমাণ করে মেয়েটা তার কমেন্টের রিপ্লাই দেয়। বলতে ভুলেই গেছি, মান্নু একটু প্যাচাইল্লা টাইপ ছেলে। সে অন্যের কথাকে ন্যাকড়ার মতো পেঁচাইতে ভালোবাসে। তার এই গুণটার সর্বোত্তম সৎ ব্যবহার করা শুরু করে দেয় কমেন্ট বক্সে। অন্যদিকে মেয়েটি বিরক্ত হলেও তার এই কথা প্যাঁচানোটা মনে হয় তার ভালোই লাগে। সেইজন্য সেও কমেন্টের রিপ্লাই দিতে থাকে। এই কমেন্টের রিপ্লাই রিপ্লাই খেলাটা প্রায় অনেক লম্বা হয়ে যায়।

কমেন্ট কমেন্ট খেলায় সে বুঝতে পারে মেয়েটি চ্যাট অফ করে ফেসবুকে এক্টিভ থাকে। ওহ, মেয়েটির নামই তো বলা হলো না!! তার নাম সাথী। সে মেয়েটি কে ম্যাসেজ দেয়।
-hi
-hlw
-কেমন আছো?
-f9,u?
-ভালোই মনে হয়। কি করতাছো?
-kicu na. 2mI ki koro??
-তেমন কোন কাজ নাই। পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন নিছো?
-eito kunu rokom..  2mr??
-এইসব কি!! কালকে বাংলা পরীক্ষা আর আজকে তুমি ইংলিশে বাংলা লিখতাছো?? খুবই লজ্জা।
-ওহ,, আচ্ছা ঠিক আছে। এখন থেকে বাংলাতেই লিখবো।
-হুম্ম,, খুবই ভালো।

এভাবেই তাদের মধ্যে কথাবার্তা বাড়তে থাকে। তারা প্রতিদিন ই অনেক রাত পর্যন্ত চ্যাট করতো। যদিও, মান্নু ছেলেটি, মেয়েদের অনেক ভয় পেতো কোন এক অজানা কারণে কিন্তু সাথীর সাথে সে সাবলীলভাবেই চ্যাটিং করতো। যে ছেলেটা সারা সপ্তাহ মিলিয়ে ২ ঘন্টাও চ্যাট করতো না। আজ সে ছেলে রাতের ২ টা, আড়াইটা পর্যন্ত চ্যাট করে। ১২ টার পরে যে শত চেস্টা করেও সজাগ থাকতে পারতো না আজ সে কিভাবে রাতের দুইটা পর্যন্ত সজাগ থাকে!!! খুবই আশ্চর্যের কথা।

একদিন মান্নু,  সাথীকে জিজ্ঞেস করে তার হোয়াটসআ্যাপ নাম্বার আছে কিনা??
-আছে। কেন, হোয়াটস আ্যাপ দিয়ে কি করবে?
-না, এমনিতেই বল্লাম আর কি। তোমার যদি ইচ্ছা হয় তাইলে আমার **** এই নাম্বার টা এড করতে পারো।
মান্নু, রিপ্লাইয়ের প্রত্যাশা না করেই ফেসবুক থেকে চলে যায়। পরদিন সকালে সে দেখতে পায় হোয়াটস আ্যাপ একটা ম্যাসেজ আসছে। সে বুঝতে পারে এইটা সাথীই দিছে কারণ হোয়াটস আ্যাপে তার ছবি ছিলো।
তখন তাদের চ্যাটিং ফেসবুক থেকে হোয়াটস আ্যাপে চলে আসে। সাথী  রাত ১১ টার পরে অনলাইনে আসতো এবং তাদের চ্যাটিং রাত দুইটা অতিক্রম করতো। এভাবেই চলতেছিলো তাদের চ্যাটিং। সকালেও মাঝেমাঝে তাদের মধ্যে চ্যাটিং হতো!!! তবে এইটা সকাল না বলাই উত্তম কারণ সাথী ঘুম থেকেই উঠতো ১১ টার পরে। মান্নু এখনো বুঝতে ব্যর্থ যে, কিভাবে সে এত রাত পর্যন্ত চ্যাটিং চালিয়ে গিয়েছিলো!! সাথীই ছিলো প্রথম কোন মেয়ে যার সাথে এত অধিক কথা সে বলছে।

মান্নুর ন্যাকড়া প্যাঁচানোর অভ্যাস তখনো ছিলো। এই কারণে মাঝেমাঝে কথা এমন প্যাচাইতো যে সাথী তারপ্রতি বিরক্ত হয়ে যেতো এবং তাকে ব্লক দিতো। ব্লক খাওয়ার পরপরই সে সাথীকে কল দিতো।
-তুমি ব্লক দিছো কেন?
-ব্লক দিবো না তো কি করবো!! তুমি এইসব কি বলছিলা?
-আচ্ছা যাও, সরি। আর কোন সময়ই এইসব বলবো না। এখন আনব্লক করো।
-পারতাম না। তুমি ব্লকের উপযুক্ত।
-আরে,বল্লাম তো আর কোন সময়ই এইরকম বলবো না। সরি, এখন আনব্লক করো।
-ওকে। কালকে করবো।
মান্নু মাঝেমাঝে এমন সব কথা বলতো যা শুনে সাথী মনে করতো মান্নু তার প্রেমে পড়ছে। অন্যদিকে, কোন এক অজানা কারণে সাথী তাদের এই চ্যাটিং টাকে প্রেমে কনভার্ট করতে ইচ্ছুক ছিলো না। এই নিয়ে তাদের মধ্যে বির্তক হয়ে যেতো। কিন্তু, মান্নুকে আল্লাহ্‌ প্রেম করার জন্য দুনিয়াতে পাঠান নাই। সে আসলেই প্রেমের জন্য অনুপযুক্ত সৃষ্টিগত কারণে। তবুও মান্নু, সাথীকে বিরক্ত করার জন্য অনেক কিছুই বলতো যা প্রমাণ করতো সে সাথীকে ভালোবাসে। আসলে, সাথীকে বিরক্ত করে সে অনেক মজা পাইতো।

মান্নু, পড়ালেখাবিমুখী তাই সে কোচিং টোচিং করতো না। সে সাথীর কাছে একদিন এমনিই কোচিংয়ের শীট চায়। সাথীও দিতে রাজি হয়। পরদিন সে সাথীর শীটগুলো তার কাছ থেকে নিয়ে আসে। সে এমনিতেই শীটগুলো আনে যদিও এইগুলা পড়বে বা পড়া দরকার এইরকম কোন চিন্তাই তার মাথায় ছিলো না।
শীট দিতে মান্নু, সাথীর বাসার সামনে যায়। এইপ্রথম সে কোন মেয়ের বাসার সামনে দাড়াইলো একজন মেয়ের অপেক্ষায়। সে আরো একবার সাথীর কাছ থেকে গণিত খাতা আনে। একটা গণিত খাতা এখনো তার টেবিলের উপরে আছে যা সে চিরস্থায়ীভাবে পেয়েছিলো। তাদের চ্যাটিং ঠিকই রাত দুইটার ঘড়ির কাটা  অতিক্রম করতো। কোন একদিন রাত ১১ টার পরে সাথী চ্যাটিংয়ের না আসলেই মান্নু মিসকলের উপরে মিসকল দেওয়া শুরু করে দিতো। এতে বিরক্ত হয়েই সাথী চ্যাটিংয়ে আসতে বাধ্য হতো। যদিও চ্যাটিংয়ে এসেই রাগত ম্যাসেজ দিতো কিন্তু একবার চ্যাটিংয়ে আসলে ঠিকই রাতের ঘড়ির কাটা বাড়তেই থাকতো। সেদিকে অবশ্য কেউই নজর রাখতো না। এইভাবেই তাদের এইচএসসি পরীক্ষা চলে আসে কিন্তু তাদের চ্যাটিং ঠিকই চলতে থাকে। কি এত চ্যাট!! কিছুই বুঝতো না এবং জানতোও না। কিন্তু ঠিকই রাত অতিক্রম করে ফেলতো চ্যাটিং করে। পরীক্ষা শেষ হয় এবং সাথী কোচিং নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে। তখন তার হোয়াটস বন্ধ ছিলো। এই ব্যস্ততার মধ্যেও সে ফেসবুকে আসতো কিন্তু অতিরিক্ত প্যাঁচানো স্বভাবের কারণে তাদের চ্যাটিং বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। মান্নু, কি মনে করে যেন সাথীকে প্রপোজ করে কিন্তু সাথী এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এবং তাদের চ্যাটিং ও বন্ধ হয়ে যায়। যদিও, সাথীকে মান্নু ভালোবাসতো না। আসলে এই এক জায়গায় সাথী অতিরিক্ত বুঝে ফেলে। যে বুঝাটা ছিলো একদমই ভুল। যদিও সে জানতো না এবং জানার চেস্টাও করেনি। এরপর  তারা কেউই কাউকে ম্যাসেজ দিতো না। তাদের রিজাল্ট যে প্রকাশিত হয় সেইদিন সাথী তার আইডি ডিএক্টিভ করে দেয়। এটা অবশ্য মান্নু জানতো। কিন্তু তাকে যে চিরতরে ব্লক দিবে তা সে জানতো না। তাই সে ব্লকটাকে আইডি ডিএক্টিভ মনে করছিলো। এবং তার কাছে আজো সাথীর আইডি ডিএক্টিভ ই মনে হয়।

আল্লাহ্‌ প্রত্যেক মানুষকেই ব্রেইন দিছেন এবং এই ব্রেইন উন্নত হয় অধিক ব্যবহার করার দরুণ। মান্নুর ব্রেইনকে সে সঠিকভাবে ব্যবহার করতো না। তার ইচ্ছা ছিলো মেডিকেলে পড়ার এবং আল্লাহ্‌ তাকে সে যোগ্যতাও দিছিলেন। কিন্তু সে তার ইচ্ছার বাস্তবায়ন করার জন্য কোন পদক্ষেপ এই নিতো না। অন্যদিকে, সাথী মেডিকেলে যেভাবেই হোক তার চান্স পাইতেই হবে। মান্নু র কাছে মেডিকেলের এপ্রন টা সেই লাগতো। মান্নুর জীবনের ক্রাশ ছিলো এই জড় এপ্রন টা। এই এপ্রন টার ক্রাশের জন্যই মান্নু সাথীর সাথে এত চ্যাটিং করতো যদিও সে মানুষ সাথীর জন্য তেমন পাগল ছিলো না। চ্যাটিং করলে ভালো লাগতো। না করলে সামান্য খারাপ লাগতো এইপর্যন্তই। মান্নুর ইচ্ছা ছিলো যদি সাথী ডাক্তার হয় তাইলে তারসাথে সে এই ডাক্তারি সেবাদান নিয়ে একটা বিশাল গবেষণা করবে। সাথীকেই সে বেছে নিয়েছিলো কারণ সাথীর সাথে সে ছিলো অনেক সাবলীল। সাথী আর তার মধ্যে একটা সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হইছিলো। হ্য,মান্নু প্রেমে পড়ছিলো। তবে সেটা মানুষ সাথীর না!! সেটা ছিলো সাথীর সাদা এপ্রন এবং ভবিষ্যৎে মেডিকেল থেকে সে যে জ্ঞান আহরণ করতে যাইতেছিলো সেইগুলোর।
কিন্তু, তার অতিরিক্ত প্যাঁচানো স্বভাবের কারণে সাথী তাকে ভুল বুঝে এবং চিরস্থায়ী আইডি ডিএক্টিভের নামে ব্লক দেয়। অন্যদিকে, সাথীও মেডিকেলে পড়া থেকে বঞ্চিত হয় আর মান্নুও সেই আগের মতোই আছে তার ফেসবুক নিয়ে। কিন্তু এখন তার হোয়াটস আ্যাপে কোন ম্যাসেজ আসে না। একদমই ফাকা পরে থাকে। তার ফেসবুক চ্যাটিং এরও একই অবস্থা। চ্যাটিং বিহীনভাবেই সে তার সারাদিন ফেসবুকে ব্যয় করে। যদিও, সাথীর সাথে তার করা চ্যাটগুলো এখনও ইনবক্সে আছে কিন্তু তার দেখতে ইচ্ছে করে না। কারণ, সে মনে করে সাথীর সাথে তার প্যাঁচানো চ্যাটিংগুলো করে সে নিজেই নিজেকে অপমান করছে।
সাথী কেমন আছে? কোথায় আছে? সে কিছুই জানে না এবং জানতে হবে বা জানা তার জন্য প্রায় অক্সিজেনের মতো এইরকম ও তার কাছে মনে হয় না। বন্যার আগেও যেইরকম নদীর স্রোতে পানির সাথে অনেক কিছু ভেসে যেতো তেমনি বন্যার পরেও নদীর স্রোত ঠিক আগের কাজটিই করে।
এটাই নিয়ম,, ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।
    "মানুষ মরে গেলে পচে যায়,
         আর বেচে থাকলে বদলায়,
    কারণে অকারণে, সময়ে এবং অসময়ে।" -
সাথীর একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস।
  যদিও এই লেখাটা মুনীর চৌধুরী তার   রক্তাক্ত প্রান্তরে ব্যবহার করছেন।

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ