āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

194

এক
.
চেয়ারে হেলান দিয়ে দুহাত মাথার পিছনে রেখে চুপ করে বসে আছে জাহেদ। একবার ভাবলো ফেনটা ছেড়ে দিবে কিন্তু ছাড়লো না। চেয়ার থেকে উঠে জানালাটা খুলে দিয়ে আবার চেয়ারে বসতে যাবে তখন তায়িফা দরজাটা দিয়ে ঢুকে একটা বাজারের থলে নিয়ে এসে বললো..
.
"এইভাবে আর কত? বাসায় যে কিছু নেই কতবার বললে কানে ঢুকবে?
.
জাহেদ কিছু বললো না। অবশ্য বলার থেকে চুপ করে থাকা অনেক ভালো। দিন দিন তায়িফার আচরণ কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে সেটা জাহেদ খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে। জাহেদের চুপ থাকা দেখে তায়িফা আবার বললো..
.
"দাঁড়ায় দাঁড়ায় কি ভাবো? বাসায় কিছু নেই। দুপুর হলেই তো আবার খাবারের জন্য আমারে জ্বালাবা।
"কি কি লাগবে?
"এই কাগজে সব লিখা আছে।
.
এইটা বলেই তায়িফা ফেনের দিকে তাকায়। রুমের ভিতর কেমন গরম ভাব। ওদের বাসাটাও একদম হাবিজাবি গলির ভেতরে। জানালা দিয়ে যে একটু বাতাস ও আসবে সেই রকম একটা পরিস্হিতিও নেই। শহর গুলাও চারপাশে দালানে ভড়ে গেছে। তায়িফার গরম একদম সয্য হয় না। ও ফেনের সুইচের কাছে ফেন ছাড়তে গিয়ে ও কি যেন মনে করে ছাড়লো না। মেয়েটাও দিন দিন গরমটা সয্য করার চেষ্টা করছে। তায়িফা খুব ভালো করেই জানে বিদ্যুত্‍ বিল বেশি আসবে যা জাহেদের পক্ষে দেওয়া অনেক দুষ্কর হয়ে পড়বে। তায়িফা আবার জাহেদের কাছে এসে দাঁড়ায় ফেনের সুইচ না ছেড়ে। লিস্টে কি কি আনতে হবে জাহেদ একটু ভালো করেই দেখতে লাগলো। এর একটু পর তায়িফাকে বললো..
.
"আলু না পাঁচ দিন আগে দুই কেজি এনেছিলাম, শেষ?
"হ্যাঁ শেষ। দিন দিন যে গিলো তার হিসেব থাকে না?
.
জাহেদ কিছু না বলে লিস্টে আবার তাকায়। একটু তাকিয়ে আবার বললো?
.
"ডিম ও শেষ? এক ডজন না এনেছিলাম?
"না শেষ না তো, আমার বাবার বাড়ি দিয়ে আসি তুমি জানো নাহ? আচ্ছা তুমি আমায় কি মনো করো বলো তো?
"না আমি এইসব মনে করবো কেন? আচ্ছা চাউল দশ কেজি লিখছো। এখন আপাতত পাঁচ কেজি আনলে হয় না?
.
তায়িফা কিছু বলতে গিয়েও যেন কিছু বললো না। তায়িফা খুব ভালো করেই জানে এই পাঁচ কেজি চাউল তিন দিন পরেই শেষ হয়ে যাবে। আবার জাহেদের সাথে এইগুলা নিয়ে ঝগড়া রাগারাগি করতে হবে। শ্বাশড়ী, ননদ, আর ওদের দুজনকে নিয়েই এই পরিবার। এর একটু পরেই দরজাটা দিয়ে ঢুকে বিন্তি এসে বললো..
.
"ভাবী কলেজে যাবো তো টাকা দাও নাহ?
.
তায়িফা জাহেদের দিকে তাকায়। জাহেদ কাগজের লিস্ট টা শার্টের ভিতরে ঢুকিয়ে রাখে। তায়িফা বিন্তির দিকে তাকিয়ে বলে...
.
"আমার কাছে কি টাকার গোডাউন? টাকা নেই।
"না দিলে দিবা না। এইভাবে কথা বলো কেন?
.
এইটুকু বলেই বিন্তি চলে যাওয়ার জন্য ঘুরে ফিরে। তায়িফার দিকে একটু অন্যরকম ভাবে তাকায় জাহেদ। জাহেদের তাকানোটা ঠিক যেন বলছে ওর সাথে এমন না করলে হতো না? বিন্তির চলে যাওয়ার সময় জাহেদ ওকে ডাক দেয়...
.
"এই দাঁড়া বলছি। টাকা নিয়ে যা।
"লাগবে না তোমাদের টাকা।
.
জাহেদ, বিন্তির সামনে গিয়ে প্যান্টের পকেট থেকে মানি ব্যাগ বের করে বিশ টাকার একটা নোট বের করে বলে...
.
"তোর টাকা লাগলে আমাকে বলতে পারিস না?
"বলতে হবে কেন? আমি যে ভাবীর কাছে টাকা খুঁজেছি তুমি কানে শুনতে পাও নি? তখন বের করে দাও নি কেন? তাছাড়া ঠিকি তো বলছে। ভাবীর কাছে টাকার গোডাউন আছে নাকি?
.
জাহেদ কিছু বললো না। বিন্তির হাতে টাকাটা দিয়ে বাজারের থলে টা নিয়ে চুপ করে বের হয়ে পরে। জাহেদ চলে গেলেই তায়িফা বিন্তির কাছে গিয়ে বল..
.
"রাগ করছিস?
.
বিন্তি মাথা দিয়ে না সূচক ইশারা দেয়। বিন্তির চুপ থাকা দেখে তায়িফা আবার বললো..
.
"তুই এমন কেনরে? কলেজে যাচ্ছিস একটু চুল গুলা ঠিক করে আচড়িয়ে যাবি না? না হলে রাজপুত্র খুঁজে পাবি না।
.
বিন্তির মনটা কেমন করে যেন উঠলো। একটু হেসে বললো..
.
"ভাবী তুমি নাহ? যাও তো।
"এই দাঁড়া দাঁড়া। টাকা নিয়ে যা। আর চুল গুলা আচড়িয়ে দি।
"ভাইয়া দিয়েছে তো। লাগবে না।
"চুপ মুখে মুখে কথা বলিস। ভাইয়ারটা ভাইয়া দিয়েছে।
.
এইটা বলেই শাড়ির আচল দিয়ে আলমারিটা খুলে একটা ছোট ব্যাগ থেকে দুইটার দশ টাকার নোট বের করে দেয়। আর চিরোনি টা নিয়ে চুল আচড়িয়ে দিতে থাকে। মধ্যেবিত্ত পরিবার গুলা মনে হয় এমোনি। এইসব পরিবারের মধ্যে রাগারাগি ঝগড়া যেমন একটু বেশি, ভালোবাসাটাও একটু বেশি, তবে এইসব পরিবারের মানুষগুলা আকার ইঙ্গিতে ভালোবাসা প্রকাশ করে।  তায়িফা বিন্তির চুল আচড়িয়ে দিতে থাকে। তায়িফা আচড়াতে আচড়াতে বললো..
.
"চুলগুলার একটু যত্ন নিতে পারিস নাহ?
.
বিন্তি একটু চুপ করে রইলো। তারপর বললো...
.
"একটা কথা বলবো?
"হু বল।
"ভাইয়াকে অনেক ভালোবাসো তাই না?
"জানি না। ভালোবাসা টালোবাসা আমার মাঝে নেই।
"তুমি এমন কেন? ভাইয়ার সামনে রাগারাগি করো কিন্তু ঠিকি আড়ালে আমাদের আগলে রাখো।
.
তায়িফা চুপ করে থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। চুল গুলা আচড়িয়ে ঠিক মত ক্লিপ দিয়ে বেধে বলে..
.
"এখন দেখতো কেমন পরিপাটি লাগছে। এবার কলেজে তোর দিকে নজর থাকবে সবার বুঝছিস?
"হইছে হইছে, ঢং সব।
.
তায়িফা হাসতে থাকে। এই পরিবার টার সাথে যেদিন আবদ্ধ হয়েছে, সেদিনের পর থেকেই একটু একটু করে পরিবারের মানুষগুলা মনের কেন্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে। বিন্তি উঠে কলেজের দিকে রওনা দেয়।
.
"বউ মা, বউ মা, আমার চশমাটা কোথায় রাখলাম।
.
তায়িফা শারীর আচলটা দিয়ে মুখের বিন্দু বিন্দু ঘামটা মুছে শ্বাশড়ীর রুমে গিয়ে বললো..
.
"কি হয়েছে আম্মা?
"চশমাটা কোথায় রাখলাম খুঁজে পাচ্ছি না। একটু খুঁজে দাও না।
"আপনিও না আম্মা, কোথায় রাখেন খেয়াল থাকে না।
"কি আর করবো বলো বয়স হয়েছে তো।
.
তায়িফা আর কিছু না বলে চশমাটা খুঁজে দেয়। তায়িফা খুব ভালো করেই জানে চশমা পড়ে ওর শ্বাশড়ি এখন কি করবে। সেই আদি কালের একটা চিঠি পড়বে।
.
চশমাট পড়েই তায়িফার শ্বাশড়ি একটা চিঠি বের করে চেহারে হেলান দিয়ে বসে। তায়িফা চুপ করে তাকিয়ে থাকে। সাত পৃষ্টার একটা চিঠি তায়িফার শ্বাশড়ি কত শত বার পড়েছে তার ঠিক নেই। তায়িফা বললো...
.
"আম্মা একটা কথা বলবো?
.
তায়িফার শ্বাশড়ি চশমাটা ঠিক করে প্রথম পৃষ্টায় চোখ রেখেই বললো..
.
"আমি জানি বউ মা, তুমি কি বলবে। এই চিঠি বার বার পড়তে আমার বিরক্ত লাগে না? এইটা তাই তো?
"হ্যাঁ আপনি কি করে বুঝলেন?
"প্রিয় মানুষকে দেখতে বা তার কিছু স্মৃতি মনে করতে বা তার কিছু হাজার বার পড়লেও বিরক্ত লাগে না বউ মা।
.
তায়িফা আর কিছু বললো না। এটা তার শ্বশুড়ের চিঠি। আগের কালের মানুষেরা প্রেম প্রপোজ বেশির ভাগই চিঠিতে করতো। এটা সেই প্রপোজের চিঠি। পুরো সাত পৃষ্টার একটা চিঠি। তায়িফার শ্বাশড়ি এটা পড়ার সময় হাসবে। আর পড়ার একদম শেষে চুপ করে চোখের পানি ঝড়াবে। তায়িফা শ্বশুড় এই দুনিয়ায় আর নেই। তায়িফা আর কিছু না ভেবে রুম থেকে বের হয়ে যায়...
.
দুই
.
জাহেদ বাজারের থলেটা নিয়ে রহিম চাচার দোকানে য়েতেই রহিমা চাচা বললো..
.
"কি বাবাজি কি খবর তোমার?
"এই তো চাচা আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। টুকটাকা কিছু কিনতে আসছি।
.
এইটা বলেই বাজারের লিস্ট টা রহিম চাচার কাছে দিয়ে বলে..
.
"এইখানে যা যা লিখা আছে তা তা দিয়ে দেন। আর আগে বাকি কত ছিল খাতাটা একটু দেখেন।
"একটু অপেক্ষা করো দেখতাছি।
.
রহিম চাচা খাতা উল্টাতে থাকে। খাতা উল্টাতে উল্টাতে বলতে লাগলো..
.
"বাবাজান এইভাবে আর জীবন চলে? কিছু একটা তো করার দরকার তাই না?
.
জাহেদ চুপ করে রইলো। ও খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে রহিম চাচা কি বলতে চেয়েছে। রহিম চাচা একটা পান মুখে দিয়ে জাহেদের চুপ থাকা দেখে আবার বললো..
.
"পরিবারটা তোমার ভরসায় চলে। এইসব লেখালেখি কইরা কিছু হইবো না। চাকরি একটা গেছে আরেকটা ধরো। লেখালেখি কইরা কি জীবন চলে?
"চাচা আপনি চাউল দশ কেজি না দিয়ে পাঁচ কেজি দেন।
.
রহিম চাচা ঠিকি বুঝতে পেরেছে জাহেদ ঘুরাচ্ছে। পান চিবোতে চিবোতে খাতায় চোখ রেখে বলে..
.
"ঐ আসিফ চাউল পাঁচ কেজি মাপিস। তোমার আগে বাকি ছিল দুই হাজার তিনশত পচিঁশ টাকা। শোনো বাবাজি আমার কথায় কিছু মনে কইরো না। তুমি তো সব সময় আসো না, বউ মা যখন দোকানে আসে ওর চেহাড়া দেইখাই অনেক কিছু বুঝি, একটা কথা কি মাইয়াটার মনে চাপা কষ্ট কিন্তু কাউরে বুঝতে দেয় না।
.
জাহেদ চুপ করে থাকে। কিছু বলতে গিয়েও কিছু বললো না। সব কিছু মাপা হলে রহিম চাচা হিসেব করে বললো..
.
"আগের বাকি টাকা আর এখনের টাকা সব মিলাইয়া হইছে চার হাজার তিনশত ত্রিশ টাকা।
.
পকেট থেকে মানিব্যাগটা বের করে ওখান থেকে পাঁচশ টাকার দুইটা নোট দিয়ে বললো..
.
"চাচা একহাজার টাকা এখন রাখেন। আমার বইটা বের হলেই বাকি গুলা দিয়া দিব, মাছ তরিতরকারির কিছু বাজার আছে।
.
রহিম চাচা কি না বলেই টাকাটা নিয়ে পানের চিপটি ফেলে বললো.. বাকি রইলো.. তিন হাজার তিনশত ত্রিশ। জাহেদ মালামাল গুলা নিয়েই হাটতে থাকে আর ভাবতে থাকে এবার একটা কিছু করার দরকার। আসলে জাহেদ বেকার যে তা নয়। ও চাকরি করতো আর কাজের ফাকে টুকটাক কিছু লিখতো। ও যে কোম্পানিতে চাকরি করতো হঠাত্‍ ঐ কোম্পানি বিরাট একটা লসে পরে যাওয়াতে কোম্পানী অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেয়। জাহেদ কি করবে ভেবে পায় না, কোম্পানীর স্টাফদের সাথে আর মালিকদের সাথে অনেক ঝামেলা হয় এই নিয়। এতগুলা মানুষ হুট এখন কোথায় চাকরি পাবে। এটা ঠিক হুট করে তো আর চাকরি পাওয়া যায় না। চাকরিটা চলে যাওয়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন যায়গায় ট্রাই করতে থাকে কিন্তু পায় নি। কি করবে না করবে ভেবে না পেয়ে আফজাল সাহেবের সাথে দেখা হয়। আফজাল সাহেব আবার বিভিন্ন পুশ্তক প্রকাশক নিয়ে কাজ করে। জাহেদের সাথে দেখা হলে জাহেদকে বলে এইবাবের বই মেলায় একটা কিছু করতে। জাহেদ তেমন একটা গুরুত্ব দিল না। কয়েকদিন ভাবার পর কিছু ভেবে না পেয়ে আফজাল সাহেবের কথায় রাজি হয়। যদি বইটা ঠিক মত পাবলিশ হয় তার লাভের কিছু অংশ জাহেদকে দিবে। জাহেদ শুরু করে দেয় লেখালেখি। লিখতে লিখতে প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসে। সারাদিন বাসায় বসে এইসব লেখার কারনে তায়িফা অনেকবার জাহেদের সাথে রাগারাগি করে।
.
জাহেদ ভাবতে ভাবতে মাছ ও তরিতরকারির বাজারে গিয়ে যা যা কিনার তা কিনে একটা রিকশা করে বাসায় চলে আসে। বাজার গুলা তায়িফাকে বুঝিয়ে দিয়েই নিজের রুমে এসে বাকি লেখার কাজটা শুরু করে দেয়। এর একটু পরেই তায়িফা রুমে ঢুকে বললো...
.
"দারুন বাজার করেছো তুমি।
.
জাহেদ চুপ করে রইলো। ওর কথা বলার এখন ইচ্ছা নেই ওর মাথায় শুধু একটাই চিন্তা লেখাটা শেষ করতে হবে। জাহেদের চুপ থাকা দেখে তায়িফা আবার বললো..
.
"মন কোথায় থাকে তোমার বাজার করতে গেলে? হলুদের গুড়ি আনছো? লবন আনছো?
"কেন বাজারের ব্যাগে নেই?
"তার মানে তুমি শিউর না। তুমি চেক করে আনো নি। আনবে কিভাবে তোমার মন পরে আছে তো এই লেখার মাঝে। এইসব লেইখা কোন লাভ হবে না বুঝছো। বাহিরে গিয়ে চাকরি খুঁজো যাও।
.
জাহেদের মাথাটা একটু গরম হয়ে যায়। কি করবে বুঝতে পারছে না। উঠে দাঁড়িয়ে বলে..
.
"এই বাসাই আর আসবো না। ঠিক করে কথা বলা যায় না?
.
এইটা বলেই খাতা আর কলমটা নিয়ে বের হয়ে যায়। জাহেদের চলে যাওয়া দেখে তায়িফাও বললো..
.
"হ্যাঁ হ্যাঁ আর আইসো না। তুমি কি ভাবছো তুমি না থাকলে আমরা বাচবো না। চলতে পারবো না। ঠিকি পারবো।
.
জাহেদ চলে যায়। তায়িফা শারীর আচল মুখে দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে চুপ করে খাটে বসে। তারপর কান্না করতে থাকে। জাহেদের মা আস্তে আস্তে হেটে রুমে এসে বললো..
.
"কি হয়েছে বউ মা? কিসের যেন চেচামেচি শুনলাম।
.
তড়িগড়ি করে চোখের পানিটুকু মুছে বললো.. কোথায় মা কিছু হয় নি। আপনার ছেলে বাজার এনেছে এইগুলা গুছাতে হবে যাই অনেক কাজ। রান্নাটাও বসাতে হবে।
.
.
তিন
.
বিন্তি মাথাটা নিচু করে ক্যাম্পাসে আদনানের পাশে চুপ করে বসে আছে। বিন্তি জানে আদনান ওকে ভালোবাসে কিন্তু বিন্তি সব সময় ওকে এড়িয়ে চলে। কারন ও জানে ভালোবাসা মানে স্বপ্ন দেখা পাশে থাকা, আর এই স্বপ্নটা যদি বাস্তবে রুপ না নেয় তাহলে এই ভালোবাসা কোন মূল্য নেই। সেটা ভালোবাসা নিয়ে শুধুই মিছে মিছে স্বপ্ন দেখা। বিন্তিও যে আদনানকে পছন্দ করে না, তা কিন্তু নয়। বিন্তির এমনভাবে বসে থাকা দেখে আদনান বললো..
.
"এইভাবে চুপ করে বসে থাকার মানে কি? আরে বাবা আমি তোমাকে পছন্দ করি ভালোবাসি তা ঠিক আছে। তুমিও যে আমাকে ভালোবাসতে হবে এমন তো কোন কথা না। তোমারো পছন্দ থাকতে পারে। আমি না হয় হলাম না তোমার। তাই বলে এইভাবে আমার সামনে চুপচাপ থাকবা? যাও আমাকে ভালোবাসতে হবে না।
.
আদনানের দিকে বিন্তি একটু তাকায়। একটু তাকিয়ে আবার মাথাটা নিচু করে ফেলে। নিচের দিকে তাকিয়েই বললো..
.
"তুমি আমাকে বুঝো হ্যাঁ?
"একদমি না, তোমাকে বুঝে লাভ আছে বলো? তুমি তো আমার হবা না তাই না? যে আমার হবে তাকেই বুঝবো আমি।
.
এইটা বলেই আদনান একটু হাসে। বিন্তি দাঁতে দাঁত চেপে কিড়মিড় করতে থাকে রাগে। একটু রেগে আদনানের দিকে তাকিয়ে বললো..
.
"তো যাও না বুঝো না, আমার কাছে কি? তোমার সময় নষ্ট হচ্ছে তো।
"আমার ইচ্ছা আমি এখানে বসে থাকবো। আমি বিন্তি মেয়েটার সাথেই থাকবো। তোমার কোন আপত্তি আছে?
.
বিন্তি কি বলবে বুঝতে পারে না। এই ছেলেটা ওকে যেমন কাদাঁয়, তেমন হাসায় আবার রাগায় ও। বিন্তি একটু ইতস্তত হয়ে বললো..
.
"তুমি বুঝতে পারছো, আমি তোমাকে কেন এড়িয়ে চলি?
.
আদনান এবার একটু স্বাভাবিক হয়। তারপর বললো..
.
"জানি।
"জানলে কেন আমাকে ভালোবেসেছো? আর আমাকেও ভালোবাসতে বাধ্য করেছো? তুমি জানো না আমার পরিবার সম্পর্কে আমার সম্পর্কে?
.
আদনানকে ভালোবাসার কথাটা বিন্তির মুখে শুনে একটু অবাক হয়। বিন্তি কখনো ওকে ভালোবাসার কথা বলে নি। তবে আদনান ঠিকি বুঝতো বিন্তিও ওকে পছন্দ করে। আদনানের চুপ থাকা দেখে বিন্তি আবার বললো..
.
"ভালোবাসা এই না শুধু প্রেম করলাম, ভালোবাসা মানে একটা দায়িত্ব কাধে নেওয়া, ভালোবাসা মানে প্রিয় মানুষটার কথা ভেবে পরিকল্পনা অনুযায়ী চলা, কি করলে সামনে এগানো যায়, কি করলে বাকি পথটুকু একসাথে থাকা যায়, ভালোবাসা মানে প্রিয় মানুষটার জন্য নিজকে গড়ে তোলা। সব কিছু ঠিক রাখা। তোমার ফ্যামিলি কি আমাকে মেনে নিবে? তাছাড়া আমার ভাইয়া, মা, ভাবীকে আমি ভালোবাসি, ওরাও এটা মেনে নিবে না। আমি কারো কথা ভাবি না, আমি আমার ভাইয়ার কথা ভাবি। কেউ তোমাকে আর আমাকে নিয়ে আমার ভাইয়াকে দু কথা শুনাবে এটা আমি মেনে নিব না।
.
এইটুকু বলেই বিন্তি থামে। আদনান চুপ করে রইলো। ওর মাথা কাজ করছে না কি উওর দিবে। বিন্তি বসা থেকে ওঠে দাঁড়ায় তারপর বললো..
.
"তুমি আমাকে নিয়ে আর স্বপ্ন দেখো না। আমায় মাফ করো আদনান আমার কিছুই করার নেই।
.
এইটুকু বলেই বিন্তি চলে যায়। আর আদনান চুপ করে বিন্তির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।
.
পরিশিষ্ট
.
তায়িফা খুব চিন্তিত হয়ে পরে লোকটা দুপুর বেলাও আসেনি বাসায়, কি খেয়েছে আর না খেয়েছে কে জানে, একটু বকা আর রাগারাগি করলেই কি বাসা থেকে চলে যেতে হবে? নবাব সাহেব মনে করেছে আমি উনার জন্য চিন্তা করবো, না একদমি না, কেন করবো আমি চিন্তা? আমার জন্য করে? আমিও করবো না। এইগুলা বির বির করে বলতে বলতেই বিন্তির রুমে যায় তায়িফা। বিন্তির কাছে গিয়েই তায়িফা বললো..
.
"কিরে শুয়ে আছিস?
"হ্যাঁ ভাবী ভালো লাগছে না।
"শরীর খারাপ?
.
এইটা বলেই কপালে হাত দিয়ে দেখলো জ্বর আছে কিনা।
.
"আহা আমার জ্বর নেই। এমনি ভালো লাগছে না।
.
তায়িফা একটু চুপ হয়ে ঘড়ির কাটার দিকে তাকায়। তায়িফার মুখের অস্হিরতা দেখে বিন্তি বললো..
.
"তোমাকে কেমন চিন্তিত দেখাচ্ছে।
.
তায়িফা কথাটা তেমন খেয়াল করলো না। বিন্তি তায়িফা কে একটু নাড়া দিয়ে বললো...
.
"এই ভাবী কি হয়েছে?
.
তায়িফা ঘড়ির কাটা থেকে আর চিন্তিত মন থেকে একটু সজাগ হয়ে বললো..
.
"দেখ না, তোর ভাইয়া সেই কখন বের হয়েছে, দুপুরেও খেতে আসে নি, এখন রাত নয়টা বাজে।
"তুমি নিশ্চয় রাগারাগি করছো ঠিক?
.
তায়িফা মাথা দিয়ে হ্যাঁ সূচক ইশারা দেয়।
.
"ভাবী তুমিও না। সব সময় এমন না করলে হয় না?
"ক্যান করবো না? সংসারটা কিভাবে চলবে তা ভাবতে হয় না? আর রাগারাগি করলেই কি বের হতে হবে? ফোনটাও অফ করে রাখছে।
"আর ভাইয়ার বুঝি টেনশন নেই নাহ? তোমার থেকে ভাইয়ার বেশি টেনশন। তুমি দেইখো সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে আমাদের। চিন্তা করিও নাতো আসবে। না এসে আর কই যাবে।
.
এর একটু পরেই দরজার কলিং বেল বেজে ওঠে। তায়িফা আর কিছু না ভেবে একটা দৌড় দেয় দরজার কাছে। দরজাটা খুলতেই জাহেদ চুপ করে দরজার ভিতরে ঢুকে। তায়িফা বলতে লাগলো..
.
"কই ছিলা সারাদিন?
.
জাহেদ কিছু না বলে রুমের ভিতরে ঢুকে টেবিলের উপর কলম আর খাতাটা রেখে ফ্রেশ হতে যায়। ফ্রেশ হয়ে এসে সোজা বিছানায় শুয়ে পড়ে। তায়িফা জাহেদকে বললো..
.
"বাহির থেকে খেয়ে এসেছো মনে হয়?
"তোমার যা মনে হয়।
"হ্যাঁ আমার তো অনেক কিছু মনে হয়। কেউ একজন নবাবের জন্য না খেয়ে থাকে তার খেয়াল কি নবাব রাখে।
.
জাহেদ কিছু বলে না। তায়িফা আবার বললো..
.
"দেমাগ আমিও দেখাতে পারি। আমিও খাবো না।
.
এর পর চুপ করে বসে থাকে তায়িফা। এরকয়েক মিনিট পর টেবিল থেকে খাতাটা নিয়ে বারান্দায় যায় তায়িফা। চুপ করে পড়তে থাকে লেখাটা। অর্ধেক পড়তে পড়তেই দশটার কাছাকাছি হয়ে যায়।
. জাহেদ তায়িফার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকে চুপ করে। আর ভাবে মেয়েটা এমন কেন, ওর সাথে রাগারাগি করবে, হৈচৈ করবে লেখা নিয়ে কত কিছু বলবে কিন্তু ওর প্রত্যেকটা লেখা তায়িফা লুকিয়ে লুকিয়ে পড়ে। জাহেদ কাশি দেয় এহেম করে। জাহেদের কাশির শব্দ পেয়ে তায়িফা ঘুরে ফিরে একটু আচমকিত হয়ে বলে..
.
"এই গুলা কোন লেখা? দেখলাম আর কি, একটু পড়ে। এর চেয়ে আমিই ভালো লিখতে পারি।
.
জাহেদ হাসে। জাহেদ হাসি দিয়ে ভিতরে চলে যেতেই তায়িফা ওর হাতটা ধরে বলে..
.
"কখন বের হবে বই? একদম প্রথম বইটা আমিই কিনবো।
.
জাহেদ তায়িফাকে হাত ধরে এনে সোফায় বসায়। জাহেদের মা ও বিন্তিও আসে। জাহেদের খবরটা পেয়ে জাহেদের মা চোখের চশমাটা খুলে বলে..
আজকে তোর বাবা থাকলে বেশি খুশি হতো। এই কথা সেই কথা বলতে বলতে তায়িফাকে বললো..
.
"ঐ গানটা গাবা? ঐ যে আমি প্রায় গাই। তোমার বাবার পছন্দের গান।
.
তায়িফা একটু চুপ করে থেকে গাইতে থাকলো..
.
পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায় ও সেই চোখের দেখা.. প্রানের কথা সে কি ভুলা যায়..
আয় আর একটি বার আয়রে সখা প্রানের মাঝে আয়..
মোরা সুখে দুখের কথা কবো প্রান জুড়াবে তায়..
.
দরজার কলিং বের বাজতেই তায়িফা দরজাটা খুলতেই দেখে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটা কেউ না আদনান। আদনান বিন্তির কথা বলতেই তায়িফা আদনানকে ভিতরে আসতে বলে। বিন্তি আদনানকে দেখেই একটী অবাক হয়। একটু চুপ করে থেকে কাউকে কিছু বলতে না দিয়ে আদনান খুব সোজা সাপটা বলে দিল.. আমি বিন্তিকে পছন্দ করি। কিন্তু আপনাদের কথা ভেবে ও আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। জাহেদ বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। তায়িফা জাহেদের হাতটা ধরে আস্তে করে বলে ... কোন কথা না। একদমি চিল্লাচিল্লি করবা না।.. এর পর তায়িফা বিন্তির দিকে তাকায় বিন্তির চোখ মুখ দেখেই তায়িফা বুঝে যায়। তারপর আদনান কে বললো.. এত রাতে বাসায় আসছো খেয়ে যাবা। পরে ভাবা যাবে এটা। আদনান কি বলবে বুঝতে পারে না। ও ভেবে অনেক কিছু হতে পারে। ওকে মার ধর করতে পারে , বকা ঝকা করে বাসা থেকে বের ও করতে পারে কিন্তু কিছুই হয় নি। এই সাদা কালো দুনিয়ায় ভালোবাসা গুলা অন্যরকম। এই পৃথিবীর মানুষের একেক জনের একেক রকম ভালোবাসার ধরন তবুও দিন শেষে সবাই একটু ভালোবাসতে চায়, সেটা যে কাউকে হোক, শুধু কাপলদের মাঝে সীমাবদ্ধ তা নায়...
.
লেখা.... Jahedul Hoque Subon

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ