ভাইব্রেশনের শব্দ কানে ভেসে আসলো মেয়েটার। মোবাইলের স্কিনের দিকে তাকিয়ে অপরিচিত নাম্বার দেখে বিরক্তি নিয়ে ফোনটা রিসিভ করলো সে...!
__হ্যালো,কে বলছেন?
__আমি নিলয়।
__নিলয় নামে তো আমি কাউকে চিনি না। কার কাছে ফোন দিয়েছেন..?
__চিনেন না তাতে কি হয়েছে,এখন থেকে নাহয় চিনবেন আমিই নিলয়। ভেবে নিন আমি আপনার কাছেই ফোন দিয়েছি।
__মানে.......!!
__মানে কিছুই না আবার অনেক কিছু। আচ্ছা আপনার নামটাইতো জানা হলো না। আপনার নামটা কি জানতে পারি?
__ আমার নাম জানার কি খুব দরকার আপনার? আমার কোন নাম নেই।
__কথা যেহেতু বলছি নাম জানাটা তো অবশ্যই দরকার।
__বলেছিতো আমার কোন নাম নেই।
__যার কোন নাম নেই সেই অনামিকা। তারমানে আপনার নাম অনামিকা,তাইনা..?
__হুম....আপনিতো অনেক ট্যালেন্টেড। সহজেই বুঝে ফেলেছেন।
এভাবেই পরিচয় হয় অনামিকা আর নিলয়ের।
.
এক বছর পর....
.
.
অনামিকা কলিং.....
ঘুম ঘুম চোখে ফোনটা রিসিভ করলো নিলয়।
__হ্যালো....
__কি ব্যাপার! এতো বেলা হয়ে গেছে তুমি এখনো ঘুমাচ্ছো....?
__না ঘুমাচ্ছি নাতো। এইতো উঠছি।
___তাহলে এতগুলো ফোন দিলাম ধরলে না কেন?
__আমি ভেবেছিলাম এলার্ম বাজছে তাই।
____কি!!!!! ফান কোরো নাতো। আজকে যে আমাদের দেখা করার কথা সেটা কি ভুলে গেছো?
__আরে না ভুলিনি। আমি এখনি উঠছি,তুমি রেডি হউ।
___আচ্ছা ঠিক আছে। আমি রেডি হয়ে আসছি,তুমি চলে এসো।
.
নিলয় আর অনামিকা এখন দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে এখনো কেউ কাউকে দেখেনি। প্রায় ১ বছর আগে রঙ নাম্বারে পরিচয় হয়েছিলো নিলয় আর অনামিকার। তারপর দুজনের মধ্যে প্রেম হয়। দীর্ঘ এক বছর পর আজকে তারা দেখা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়
.
রেডি হয়ে আগে থেকে ঠিক করা জায়গায় গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে নিলয়। দীর্ঘ এক ঘন্টা অপেক্ষা করার পরও অনামিকার দেখা পাচ্ছে না সে। ফোনটাও ধরছে না।
কিছুক্ষন পর নিলয়ের ফোনটা বেজে উঠলো।
রিসিভ করতেই অনামিকার কন্ঠ ভেসে আসছে....
__নিলয় কোথায় তুমি?
__আমিতো অনেকক্ষণ যাবৎ অপেক্ষা করছি তোমার জন্য। তুমি কোথায়?
__একটু পেছনে ঘুরে তাকাওতো।
পেছনে ঘুরে তাকাতেই নিলয় দেখতে পায় একটু দূরে রাস্তার অপর পাশে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছে অনামিকা। মুচকি হাসতে হাসতে এগিয়ে আসতে থাকে অনামিকা। ততক্ষনে রাস্তার মাঝখানে চলে এসেছে। নিলয় দুচোখ বড় বড় করে এই এই করছে। কিছু বুঝে উঠার আগেই অনামিকা প্রাইভেট কারের ধাক্কায় অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়েছে মাটিতে।
নিলয়ের হাত থেকে ফোনটা পড়ে যায়। নিলয় দুহাতে চোঁখ কচলাচ্ছে আর ভাবছে সে স্বপ্ন দেখছে নাতো...!!!
ততক্ষনে লোকজন জড়ো হয়ে গেছে। নিলয় দৌড়ে যায় সেখানে। তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালে নিয়ে যায় অনামিকাকে।
ডাক্তার অনামিকার চিকিৎসা করছে। বাহিরে একটা চেয়ারে বসে নির্বাক হয়ে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখছে নিলয়। হাত দুটো রক্তে ভিজে আছে। প্রচন্ড আঘাতে মাথা ফেটে রক্ত বের হয়েছে অনামিকার।
.
কিছুক্ষন পর ডাক্তার এসে জানালেন মাথায় প্রচন্ড আঘাতের কারনে চোখ দুটো নষ্ট হয়ে গেছে অনামিকার। কথাটা শুনে নিলয় এতটাই হতবাক হলো যে নিজের চোখদুটোকেও সামলে রাখতে পারছে না। অঝরে দুচোখ থেকে পানি ঝরছে। অনামিকা আর দেখতে পাবে না ডাক্তারের এই কথাটা কোন ভাবেই বিশ্বাস হচ্ছে না নিলয়ের। উপরওয়ালা অনামিকার এত বড় ক্ষতি করতে পারেন না!!
.
নিলয় অনামিকার হাত ধরে বসে আছে।অনামিকা হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে।
.
__Close you eyes try to see me,Close your eyes try to see me!! (অনামিকা)
__অনামিকা কি বলছো এসব আবল-তাবল....? (নিলয়)
__মনে আছে নিলয়? আমি যখন তোমাকে দেখতে চাইতাম তখন তুমি আমাকে এই কথাটাই বলতে। আজ উপরওয়ালা আমার চোখ দুটোকে সত্যি সত্যিই অন্ধ করে দিলো। মনে মনে সাত রং দিয়ে তোমার ছঁবি একেছিলাম, ভেবেছিলাম যেদিন দেখা হবে সেদিন আমার কল্পনায় আঁকা সেই রাজকুমারের সাথে মিলিয়ে দেখবো তোমায়। কিন্তু উপর ওয়ালা যে আমাকে সেই সুযোগটাও দিলোনা। আমি চাইলেও আর তোমাকে দেখতে পারবো না নিলয়। জানিনা আল্লাহ আমার সাথে এমন কঠিন খেলা কেন খেলছেন?? (অনামিকা)
নিলয় কিছু বলে না,চুপ করে থাকে আর নিরবে কান্না করতে থাকে। কারন অনামিকাকে শান্তনা দেয়ার ভাষাও যে সে খুঁজে পাচ্ছে না।
.
এক মাস পর......
.
আজকে অনামিকার অপারেশন হয়েছে। অনামিকা আবার পৃথিবীর আলো দেখছে। কিন্তু নিলয়!!!! নিলয় কোথায়? নিলয়কে সে কেন দেখতে পাচ্ছে না। আজ যে অনামিকার খুশির দিন,এই খুশির দিনে নিলয় কেন তার পাশে নেই? তাহলেকি নিলয় তার সাথে প্রতারনা করেছে? নাহ! নিলয় তো অনামিকাকে ভালোবাসে,তাকে কোন ভাবেই ছেরে যেতে পারে না। তাহলে কোথায় নিলয়.....?
এমন হাজারও প্রশ্ন উঁকি দেয় অনামিকার মনে। অবশেষে ডাক্তারের কাছে জানতে পারে নিলয় তার চোখ দুটো অনামিকাকে উৎসর্গ করেছে। নিলয়ের চোখ দিয়েই সে আবারও পৃথিবীর আলো দেখতে পাচ্ছে। নিলয় সত্যিই অনামিকাকে অনেক বেশি ভালোবাসে!!
লেখাঃঅভিমানী সোহেল (একটু বেশীই অভিমানী)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ