āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

186

<আবেগের ধারাবাহিকতা
.
.১
আমি শিশির।বয়স ২৮। আপাতত একটি প্রাইভেট ব্যাংকে
চাকরিরত আছি সাথে বিবাহিত জীবনযাপন। স্ত্রী প্রভাত।
বাবা-মাকে প্রভাতের কথা বলাতে তারা কিছুটা সংকোচ বোধ
করেছিলেন। ছোটবেলা হতেই মা-বাবা আমার কোনো
আশা অপূর্ণ রাখেননি। তবে আমিও ছিলাম বাবা মায়ের বাধ্য
সন্তান। যেহেতু পড়াশুনা শেষ করে চাকরি ধরেছি,
নিজের পায়ে নিজে দাড়াঁতে পেরেছি তাই মা-বাবা আমার
কথাকেই সমর্থন করে বসেছিলো। আমিও শুরু থেকেই
মনে প্রাণে চেয়েছিলাম যাতে প্রভাতই আমার স্ত্রী
হয় এবং সেই শুভ কাজও সঠিক সময়ে হয়। প্রভাত খুবই
ঝগড়ুটে আর নিঃসন্দেহে রাগী।
.
.২
অফিস শেষ করে বাসায় ফিরছি রিকশাযোগে। পথিমধ্যে
দেখতে পেলাম একজন বাদামওয়ালা চিৎ হয়ে পড়ে
আছে। বাদাম সব মাটিতে। আশেপাশে কোনো মানুষ
জনও দেখতে পারছিনা। আমি এগিয়ে গেলে দেখতে
পাই তার মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে সাথে
সাথে মেডিকেল নিয়ে গিয়ে ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করা
হলো। রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়াতে আমি ১ ব্যাগ রক্ত
দিয়েছি। বাসায় ফিরতে যাবো ঠিক তখনই দেখি প্রভাত সি
এন জি থেকে নেমে মেডিকেলে আসলো। কেন
আসলো কার জন্য আসলো তা তখন আর ভাবিনি। ওর কাছে
দৌড়ে গেলাম। ও তো আমাকে দেখেই থ।
» শিশির তুমি এখানে কি করছো?
আমি একটু ইতস্তত করে বললাম।
» আমারও তো একই প্রশ্ন। তুমি এখানে কেন?
প্রভাত বিচলিতভাবে এদিক ওদিক তাকিয়ে আবার বলল
» না মানে আমার এক ফ্রেন্ড কার এক্সিডেন্ট হয়েছিল ২
ঘন্টা আগে। তাই আর কি।
কথাটা বলেই প্রভাত একটা মন ভোলানো হাসি দেয়।
আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সাথে সাথেই ভিতরে
চলে যায় সে। আমি কিছু না ভেবে বাসায় চলে আসি।
.
গরুর গাড়ির ন্যায় চলছিল আমাদের সংসার জীবন। ইদানীং
অফিস থেকে এসেই প্রভাতকে পাইনা। দুশ্চিন্তায় ভুগি খুব।
ফোন লাগালে ব্যস্ত। যখন বাসায় ফেরে তখন কিছু
জিজ্ঞেস করতে চাইলে ক্লান্ত বলে এড়িয়ে যায়। আমিও
তেমন একটা জোর খাটাতে চাই না। খুব যে ভালোবাসি
মেয়েটিকে। সময়ের পরিক্রমায় ওর আচরণ গুলো
অসহনীয় হয়ে উঠছে। যাই বলুক আজ আসুক তারপর...
» এহেম এহেম
"সজোরে মাথা ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকালো সে।"
» কোথায় যাও তুমি? বলে গেলে অসুবিধা কোথায়?
"সে একটু ব্যস্ততা দেখিয়ে"
» আরে নাহ কিছু পুরোনো বান্ধবীর সাথে দেখা
হলো। আর ওদের খুব মিস করি তাই প্রতিদিন দেখতে যাই।
প্রথম বারের মত আমার কেমন জানি সন্দেহ হলো।
» তার জন্য কি ফোন ব্যস্ত!
"ছলছল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো"
» তুমি কি বোঝাতে চাইছো শিশির? তোমার অবর্তমানে
আমি...
» দেখো তুমি যা ভাবছো। আমি তা বোঝাতে চাচ্ছিনা। আমি
চাই তুমি যেখানেই যাও অন্তত আমাকে বলে যাও। অযথা
আমার দুশ্চিন্তা হয়। কেন বুঝতে পারছো না তুমি একটা
মেয়ে।
"কথাগুলো এক প্রকার জোর গলাতেই বলে ফেললাম"
প্রভাত আমার দিকে একদৃষ্টে চেয়েই আছে। যেন
আমি কিছু ভুল বললাম।
.
দু দিন ধরেই প্রভাত ঘর বন্দি। ও নিজেই নিজের সাথে
এমনটা করছে। মনে মনে ভাবছি "আমি কেন ওকে
সন্দেহ করছি। আর ও কেনই বা এমনটা করছে। কেন
এতটা পরিবর্তন সে?" উফফ আমি জাস্ট আর কিছু ভাবতে
পারছিনা।
.
প্রভাত এই দুদিন কিচ্ছু খাইনি। শুধু আমি ধমক দিয়ে কথা বলেছি
বলে। এমনকি পানি পর্যন্ত না।
জানি এখন কিছু বোঝাতে গেলে যা ইচ্ছে তাই করে
বসবে। তাই আমিও দুশ্চিন্তার ঘোরে আর কিছু বলিনি।
অপেক্ষাতেই রইলাম। রাগপরীটার রাগ ভাঙ্গার অপেক্ষায়।
.
.৩
প্রভাত আর আমি ভার্সিটি ক্যাম্পাসের নির্জনতম জায়গায় বসে
সাময়িক নিরবতা পালন করছি। কেউ কারো সাথে কথা বলছিনা।
দুজনই সমবয়সী হওয়াতে আমাদের মাঝে বোঝাপড়াটা ও
খুব ভালো। দুজনই একই বর্ষের একই ডিপার্টমেন্টে
পড়াশোনা করছি। ক্লাসে তো সারাক্ষণ চোখাচোখি হয়।
ক্লাস শেষে একসাথে ফুচকা খাওয়া যেন আমাদের
অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
। আমাদের প্রথম দেখা হয় প্রায় ৭ মাস আগে। ভার্সিটিতে
সে সেদিন প্রথম এসেছিলো।
"গিটার নিয়ে বসে আছি ক্যাম্পাসে"
» এই যে ভাইয়া। এখানে হিসাববিজ্ঞান বিভাগ টা কোথায়?
"আমি নড়েচড়ে দাড়িয়ে গেলাম"
» তুমি কি আমাকে বলছো?
"মেয়েটি আরেকটু কাছে এসে বলল"
» জ্বি আপনাকে। হিবি বিভাগ টা কোথায়।
" আমি বললাম চলুন। সাথে করে নিয়ে গিয়ে দেখিয়ে
দিয়ে আসলাম। ভাবতেই কেমন জানি লাগছে এরকম একটা
সুন্দরী মেয়ে আমাকে...। ধুর! কি যা তা ভাবছি"
"১০ মিনিটের মধ্যে মেয়েটির আবার আগমন"
» আপনাকে ধন্যবাদ বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। ধন্যবাদ।
"আমি বসা থেকে বললাম"
» ওয়েলকাম।
» আমি প্রভাত।
» আমি শিশির।
"প্রভাত বন্ধু হওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দিল। আমিও গ্রহণ
করে নিলাম।"
» দাড়িয়ে আছো যে প্রভাত। বসো পাশে।
"শুরুতেই আমি তার ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু
করে দিলাম। সেও নির্দ্বিধায় সব বলছে আমাকে।"
এভাবেই রোজ ভার্সিটিতে ক্লাস শুরুর আগে ও পরে
আমরা একসাথে কথা বলা, আর ফুচকা খাওয়া ছাড়া বাসায় যেতামই
না। ফোনেও কথা হতো প্রচুর। কথার মাঝে একদিন
প্রভাত বলে ফেলল।
» শিশির তুমি ভার্সিটিতে কখনো আমি ছাড়া আর অন্য
কোনো মেয়ের সাথে কথা বলবেনা।
"আমি কিছুটা ঘাবড়ে গেছি আর বললাম"
» কিন্তু কেন?
প্রভাত বিরক্তিকর সুরে বলল
» আমি বললাম তাই।
» ওহ্। কারণ টা জানতে পারি?
» না তোমার না জানলেও চলবে।
আমি কিছু বললাম। ব্যাপারটাকে আরো দীর্ঘ করার চেষ্টা
চালালাম। কাজ হলো না।

পরের সপ্তাহে দুদিন ভার্সিটিতে যাইনি। কারণ পারিবারিক একটা
কাজে আমাকে সিলেট যেতে হয়েছিলো। আর সেটা
কেন জানি প্রভাতকে বলার প্রয়োজন মনে করলাম না।
আর আমি তো দুদিন পর চলেই আসবো। এই ভেবে
আর বলিনি।
.
দুদিন পর ক্যাম্পাসে...
কি হলো আজ রাগপরীটাকে দেখতে পাচ্ছিনা যে।
কোথায় গেলো। সবখানেই খুজঁলাম কিন্তু পেলামনা। তাই
দুশ্চিন্তা হতে লাগলো। এদিকে ফোন ও বন্ধ।
"মেয়েটি আবার আমার খোজ না পেয়ে কিছু করে
বসলো নাতো?" ধুর আমি কি যা তা ভাবছি।
২ দিন ধরে ও ভার্সিটিতে আসছেনা। কোনো খোজ না
পেয়ে ওর বান্ধবীর কাছে জিজ্ঞেস করলাম। সবার
মুখে একই কথা তারা কিছু জানেনা।
আমার কেমন জানি খুব কান্না পাচ্ছে। কিচ্ছু ভালো লাগছেনা
আর। আফসোস লাগছে। এবার বুঝতে পারছি, গত দুদিন
আগে যে আমি ওকে অবহেলা করে কিছু বলিনি তার
ভেতরটা কেমন করেছিলো।
বিষণ্ণ মনে বসে আছি। প্রকৃতির মাঝে কোনো সুখ
খুজে পাচ্ছিনা। সব সুখ যেন তাকে ঘিরেই। তার মানে কি
আমি সত্যিই ওকে ভালোবেসে ফেলেছি? সেই যাই
হোক। আমার ওকে চাই।
.
গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসে আকাশের দিকে
তাকিয়ে আছি। তার ৫ সেকেন্ড এর মধ্যেই আবিষ্কার
করলাম কেউ একজন সজোরে আমার বাম গালে ডান হাত
দিয়ে চড় দিয়েছে।
মাথা ঘুরিয়ে দেখি প্রভাত দাড়িয়ে। আমি বললাম।
» এটা কি হলো?
» কোনটা? চড় নাকি তোমার ধোঁকাবাজি?
আমি একটা গভীর শ্বাস নিয়ে বললাম।
» আসলে প্রভাত আমি বুঝতে পারিনি যে...
আমাকে বাকিটুকু বলতে না দিয়ে একই গালে আবারো
একটা চড়। তাড়াহুরো করে ওর পাশ থেকে সরে গেলাম।
বুঝতেই পারছি এতটা রিঅ্যাকশান দেখানোর কারণ কি। আমি
নিম্নস্বরে মাথা নিচু করে বললাম।
» সরি।
» কিসের সরি হ্যা কান ধরে উঠবোস করবা। এখনি।
"তাই করতে হলো।" ১০ বার উঠাবসা শেষে আমি চলে
আসতে চাইলাম। সত্যি বলতে মাইন্ডে লাগছে খুব।"
» ঐ কুত্তা কই যাস হ্যা! মানুষের মতো লাগেনা?
একপ্রকার সেন্সলেস ভাবেই কথাটা বলল।
» কাল দেখা করি। আজ শরীর খারাপ লাগছে।
"সে বুঝতে পেরেছে কেন আমি চলে যেতে
চাইছি"
তাই দেরী না করেই পেছন থেকে আমাকে জড়িয়ে
ধরলো।
কাদঁতে কাদতে বলছে।
» আমি কি পরিমাণ কষ্ট পাইছি সেই দুদিন তুমি জানো? জানবে
কোত্থেকে তুমি তো আস্ত একটা হাদারাম।
"মনের অজান্তেই ওকে বুকে জড়িয়ে নিলাম। আর বলছি
» আমি তোমাকে ছাড়া অসহায় পরী। ভালোবেসে
ফেলেছি খুব।
প্রভাত সমানে কেঁদেই চলেছে। আর বলছে
» আমিও
» কি তুমিও?
» জানিনা।
আমি আবেগের সুরে বললাম জানতে হবেনা। শুধু একটু
বেশী করে ভালোবেসো তাতেই হবে।
» হুম। আরেকবার এভাবে যেও খুন করে ফেলবো
একদম।
.
.৪
গত দুদিন ধরে কিছু খায়নি প্রভাত। আমিও খাইনি। কারণ খুব
ভালোভাবে জানি ওকে কিছু বোঝাতে গেলে
জিনিসপত্র সব ভাঙ্গচুর করবে। কিন্তু সে ত রুম থেকে
বের ই হচ্ছে না। নাহ্ এভাবে আর থাকা যায়না। ক্ষুধার জ্বালায়
মরে যাব হয়তো। তাই দেরী না করে রান্নাবান্না করে
ভাতের প্লেট নিয়ে ওর সামনে গেলাম। গিয়েই পুরা থ।
ওর চোখগুলো ফুলে লাল হয়ে গেছে। ফুপিয়েই
চলেছে অনবরত। ইচ্ছেমত কেদেঁছে বুঝেছি। আমার
ব্যাপারটা আগে জানার কোনো পথ ছিলো না কারণ দরজা
আটকে রেখেছিলো। আজ খুলেছে।
» প্রভাত?
» কে আপনি?
» খাবার এনেছি। উঠে বসো প্লিজ।
» প্লিজ একা থাকতে দাও। বেশী নাটক করবা তো। গ্লাসটা
দিয়ে মাথা দুভাগ করে দিবো।
আমি জোর করে খাওয়াতে গেছি। তাতে সত্যি সত্যি গ্লাস
টা আমার মাথায় মেরে দিয়েছে। খুব রক্ত ঝড়ছে। আমি
বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছিলাম। পরে আর কোনো হুশ নেই।
.
যখন জ্ঞান ফিরে জানতে পারি আমি হাসপাতালে। আমার বৌটা
বসে কাদঁছে। তার চোখের পানি টুপ করে যখন আমার
গালে এসে পড়লো তখনই বুঝলাম।
আমি ধীরে ধীরে বলছি কাদঁছো কেন? আমিতো
বেঁচে আছিই।
.
ও আমার পায়ের কাছে মাথা ঠুকে বলছে
» আমাকে ক্ষমা করে দাও শিশির। আমার ভুল হয়ে গেছে।
আমি ধড়মড় করে উঠে। ওকে বুকে এনে শক্ত করে
জড়িয়ে ধরে রেখেছি।
আর বলছি।
» পরী আমি তোমাকে সন্দেহ করিনি তখন। আমার যে
দুশ্চিন্তা হয়েছিলো সেটাই তোমাকে বোঝাতে
চাইছিলাম।
» থাকুক না। বলছিই তো তোমাকে আর কখনো কষ্ট
দিবোনা। আমি তোমার বুকে ঘুমাবো এখন চুপ থাকো।
» হিহি। ওকে। খেয়েছো?
» হ্যা।
» ভালো।
» মানে কি? তুমি যখন অজ্ঞান ছিলে তখন আবেগের
বশে তোমার ঠোঁট...
» ওহ্। চুরি করে খাওয়া হচ্ছে?
» কেন মিষ্টার তুমি বুঝি খাওনা। আমি যখন ঘুম থাকি তখন কি
করো আমি বুঝিনা মনে করো!
» ঐ চুপ!
» হিহিহী
» চলো খেতে চলো,তোমাকে খাইয়ে দেই।
» চলো। দুজন দুজনকে খাইয়ে দেই।
*
অতঃপর একটি ভালোবাসার আবারো নতুন ভাবে বেঁচে
থাকার প্রেরণা।
.
উৎস্বর্গ:- প্রান্তীর প্রহর
.
লেখা: শিশির ইরিয়ান (সুপ্তময় সকাল)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ