ছায়াসাথি হয়ে রবো তোমার
Habiba Bristy
দৌড়ে এসেও বাসে সিট খালি পেলাম না। দাঁড়িয়ে আছি একগাদা লোকের ভীরে। সারাদিন ক্লাস শেষে দুটো টিউশনির পর মেজাজ এমনিই তিরিক্ষি হয়ে থাকে। তার উপর এক ঘণ্টা বাঁদরঝোলা হয়ে বাসায় ফিরতে হবে। পেছনে দাঁড়ানো লোকগুলোকে বলতে ইচ্ছে করছে, ‘‘আয় তোদের কোলে নেই। এত কায়দা করে গায়ে ঘেষতে হবে না।’’ কিছুক্ষণের মধ্যেই ঠেলাঠেলি বন্ধ হয়ে গেল। পেছনে না তাকিয়েও বুঝলাম আবীর নামের হনুমানটা পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। আমার বিনে পয়সার বডিগার্ড। যাকে আমি এক মুহূর্তও সহ্য করতে পারি না।
প্রায় চলে এসছি। নামবার আগমুহূর্তে টের পেলাম কে যেন পেছনে দাঁড়িয়ে আমার ওড়না ধরে টানছে। রাগের চোটে পেছনে ফিরেই হনুমানটাকে কষে একটা থাপ্পড় দিলাম। চড় খেয়ে গালে হাত দিয়েও বেহায়াটা দাঁত কেলিয়ে হাসছে। হাসতে হাসতে ওর পাশের সিটের দিকে বুড়ো আঙ্গুল তুলে ইশারা করল। ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে দেখি দুই তিন বছরের এক পিচ্চি আমার ওড়না টেনে মুখে দেয়ার চেষ্টা করছে। ঠিক তখনই বাস থামলো। নেমে হাঁটা শুরু করলাম। যথারীতি হনুমানটাও পেছন পেছন আসছে। আরও জোড়ে হাঁটা ধরলাম। যত দ্রুত বাসায় পৌছাবো তত দ্রুত এই আপদ থেকে রেহাই পাবো।
‘‘ছেলেবেলায় ভাবসম্প্রসারন পড়েছিলাম, প্রাণ থাকলেই প্রাণী হয় কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হয়না। অকারনে একজন ভদ্র মানুষকে চড় মারার পর দুঃখিত না হওয়াটা কিন্তু এটারই উদাহরন।’’
হনুমানটা চেঁচিয়ে বলল। সারাটা রাস্তা এখন কিচকিচ করতেই থাকবে। হাঁটা না থামিয়েই বললাম, ‘‘চড় খাওয়া মুখটাতে যখন বত্রিশ পাতি দাঁত ৪৪০ ভোল্টের জ্বলন্ত বাল্ব এর মত চকচক করে তখন দুঃখিত না হয়ে বোনাস হিসেবে আরও একটা চড় দিতে ইচ্ছে করে।’’
বেহায়াটা এবার হো হো করে হেসে বলল, “ইচ্ছে অপূর্ণ রাখতে হয় না। দিয়েই ফেলো। নয়ত রাতে ঘুমুতে পারবে না।’’
দাঁতে দাঁত চেপে বললাম, “একটা মানুষ এতটা বেহায়া হয়?”
“চড়ের সাথে যে ইলেকট্রনগুলো দিলে সেগুলো পেতে হাজারবার বেহায়া হতে রাজী আছি। তুমি নেগেটিভ হলে কি হবে? তোমার শরীরের ইলেকট্রনগুলো কিন্তু অতিমাত্রায় পজিটিভ। অলরেডি আমার ইলেকট্রনদের সাথে চুটিয়ে প্রেম শুরু করে দিয়েছে।”
“আপনি আসলেই একটা অসভ্য বেহায়া হনুমান।”
বাসায় চলে এসছি। ঢুকেই ধড়াম করে গেইটটা লাগিয়ে দিলাম। হনুমানটা তখনও চেঁচিয়ে যাচ্ছে, “এই তিনটা নামের মধ্যে ডাকনাম কোনটা আর টাইটেল কোনটা বলে গেলে না যে......।”
(২) আবীর, মার বান্ধবী রুনা খালার ছেলে। তিন বছর পর ছ’মাস হলো দেশে ফিরেছে। তার হঠাৎ করে দেশের বাহিরে চলে যাওয়া আর হঠাৎ ফিরে আসা, দুটোর কারনই আমি। মার কাছে শুনেছি ছোটবেলায়ই নাকি রুনা খালা আমাকে ছেলের বউ হিসেবে ঠিক করে রেখেছিলেন। খালার ইচ্ছেটাই হয়ত আবীর ভাইয়ের ভেতর সংক্রামিত হয়েছিল। আমি এসবের কিছুই জানতাম না। জানলাম সেদিন, যেদিন তূর্যের সাথে জীবনের বাকি পথ পাড়ি দেব বলে যারা হাত ধরে পথ চলা শিখিয়েছে তাদেরকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আবীর ভাইই সে সময়টায় কিভাবে কিভাবে যেন আমার আর তূর্যের ব্যাপারটা বাবা মাকে বুঝিয়েছিল। খুশিতে দিশেহারা আমার যখন মনে পড়লো আবীর ভাইকে একটা থ্যাংকস দেয়া উচিত তখন শুনলাম সে স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাহিরে চলে গেছে। আমার উপর জমানো অভিমানের পাহাড়টা হালকা করতেই হয়ত।
বিয়ের দুমাস আগে তূর্য ওর সব প্রমিজ ভেঙ্গে আমার হাত ছেড়ে অন্য পথে চলে গেল। একটা সকাল। একটা ট্রাক। আমার এতগুলো বছরের তিলতিল করে বোনা স্বপ্নগুলোকে চাকায় পিষ্ট করলো। দুবছরে স্বাভাবিক হলাম। আবারও ছেড়ে দেয়া পড়াশোনা শুরু করলাম। ব্যস্ত থাকার জন্য দুটো টিউশনি নিলাম। বাবা মা আর রুনা খালার মরে যাওয়া ইচ্ছেটা আবার প্রাণ পেলো। আবীর ভাই ফিরে আসলো। আবারও স্বপ্ন দেখার সাহস নেই আমার। বাবা মা হাল ছেড়ে দিলেও আবীর ভাই নাছোড়বান্দা। ছ’মাস ধরে প্রতিটাদিন সে আমার যাওয়া আসার পথে ছায়ার মত আছে। এত নিষেধ, বকাঝকা, বোঝানোও তাকে পিছু হটাতে পারে নি। তার কথা হলো, “আমি তো তোমাকে জোড় করছি না। কিছু বলছিও না। আমারও কাজ থাকে। তোমার আমার কাজের সময় আর স্থান মিলে গেলে তো আমার কিছুই করার নেই।”
অবশেষে আমিই হাল ছেড়ে দিয়েছি। সে থাকুক তার মত, আর আমি আমার।
(৩) আজকের পরিবেশটা বেশ সুন্দর। বাতাসে শীতের গন্ধ। সকালে বাসা থেকে বেরুতেই মন ভাল হয়ে গেলো। তবে সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। কিছুদূর হাটতেই পেছন থেকে আওয়াজ এলো, “শীত যে চলে এলো বুঝতে পারছো নীলা?”
পেছনে তাকিয়ে বললাম, “না তো। আপনি না বললে তো কখনও জানতেই পারতাম না। ঠাণ্ডা লাগিয়ে জ্বর বাঁধাতাম। অনেক ধন্যবাদ।”
“হে হে তাহলে তো আমার ট্রিট পাওনা হয়ে গেলো।”
“বাস ধরে সোজা চিড়িয়াখানায় চলে যান। আপনার মত অনেক হনুমানকে এখন ট্রিট দেয়া হচ্ছে।”
“তুমি সকালের নাস্তাটা বুঝি ওখানেই করো?”
“আমি সাতসকালে কারও গায়ে পড়ে ট্রিট চাই না।”
“ইয়ে মানে আমি কিন্তু তোমার গায়ে পড়ি নি এখনও। তবে তুমি চাইলে...
“আবীর ভাই আপনি এত ছ্যাঁচড়া কেন?”
এ কথাতেও উনি তেলতেলে হাসি হেসে বললেন, “তোমার জন্য।”
“আমি আপনাকে ছ্যাঁচড়া হতে বলেছি?”
“বলো নি। কিন্তু পরোক্ষভাবে হতে বাধ্য করেছো।”
দাঁড়িয়ে গেলাম। উনার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিভাবে?’
“তুমি হ্যাঁ বলে দিলেই তো আমাকে ছ্যাঁচড়া সাজতে হতো না। বিদেশ ফেরত ভদ্র ছেলে হয়েই থাকতাম।”
“আবীর ভাই, হ্যাঁ বলা কি এত সহজ? তাই যদি হয় তো দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন কেনো? আর কেনোইবা এখন অন্য কারও জন্য হ্যাঁ বলছেন না?”
আবীর ভাই ঠাণ্ডা গলায় বললেন, ‘তোমার জন্য।’
“আমি আপনাকে বেঁধে রাখিনি”।
“তুমি নিজেকে বেঁধে রেখেছো। আনি চাই তুমি বাধন খুলে বেড়িয়ে আসো। আমার জন্য না হলেও অন্য কারও জন্য।”
“আপনি ভুল ধারনা নিয়ে আছেন আবীর ভাই। আমি আমাকে বেঁধে রাখি নি। ভালবাসায় জোর করা কিংবা বেঁধে রাখা বলে কিছু নেই।”
“নীলা, ভালবাসা অনেক জটিল কিছু। তুমি এখানে যা চাইছো, তুমি ধরেই নিয়েছো সবার ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটে।”
‘‘বুঝলাম না।’’
“শোনো নীলা, ভালবাসা হলো কারও যতনে বোনা ছোট্ট একটা বীজ। একসময় বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটে। চারাগাছ বেরোয়। এই চারাগাছটা সময়ের সাথে বেড়ে উঠে যত শাখা প্রশাখা মেলে, ততই তার শেকড়টা শক্ত হয়। হাজারও সবুজ পাতা আর রঙিন ফুলে ভরা গাছটা একসময় তার সবচে সুন্দরক্ষণে উপস্থিত হয়। গাছের মালিক তখন পৃথিবীর সবচে সুখীদের একজন। এরপর অপেক্ষা ফল পাওয়ার। এতদিনের স্বপ্ন পূরণ হবার। কিন্তু গাছে ফল আসার পর মানুষটা আবিস্কার করে এটা বিষাক্ত ফলের গাছ। এতটাই বিষ এর প্রত্যেকটা অংশে যে গাছের মালিকের সহ্যসীমা বারবার হাপিয়ে ওঠে। এরপরও সে এই বিষাক্ত গাছটাকে উপড়ে ফেলে না। বিষাক্ত অক্সিজেন নিয়ে পুড়তে থাকে প্রতিটা মুহূর্তে। এটাকে উপড়ে ফেলে এর জায়গায় আরেকটা নতুন বীজ বুনতে ভয় পায়। ভাবে, আবারও বুঝি একই ঘটনা ঘটবে।
এখন তুমি সিদ্ধান্ত নাও তুমি সারাজীবন বিষাক্ত অক্সিজেন নেবে? নাকি ভয় থেকে বেড়িয়ে এসে আরেকটা বীজ বুনবে?”
“আবীর ভাই, সবার ক্ষেত্রে কেমন ঘটে তা আমার জানা নেই। কিন্তু আমার গাছটা কখনই বিষাক্ত ফলের ছিল না।”
“সেটা তুমি মানতে চাইছো না।”
হঠাৎ মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। কর্কশ কণ্ঠে বললাম, “আপনি নিজের মতামতকে আমার উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন কেনো? গত ছ’মাস ধরে আপনি আমাকে রাস্তা ঘাটে সবসময় অস্বস্তিতে ফেলেছেন। এখনও ফেলছেন। এবার আমাকে একটু শান্তি দিন। নয়ত আবারও আমার ক্লাস করা বন্ধ করতে হবে।”
আবীর ভাইয়ের অসহায় দৃষ্টিকে পাশ কাটিয়ে রিক্সায় উঠে গেলাম।
এবং প্রথমবারের মত আজ বিকেলে ফেরার পথে আর আবীর ভাইকে রাস্তায় পেলাম না। খুশিই হলাম। তবে এও জানি কাল সকালেই আবারও তার চেহারা দেখতে হবে।
(৪) বিস্ময়কর ঘটনা ঘটলো অবশেষে। দুদিন গেলো অথচ আবীর ভাই নামের হনুমানটার টিকিও দেখা গেলো না রাস্তায়। এতদিনে নিজেকে মুক্ত মনে হচ্ছে। বুকের ওপর থেকে একটা মস্ত বড় পাথর নেমে গেছে যেন। সূক্ষ্ম অপরাধবোধটা সারাক্ষণ খোঁচা দিত। আমার কারনে আবীর ভাইয়ের জীবন থেমে থাকছে সেটা মানতে পারতাম না।
কিন্তু ধাক্কা খেলাম সপ্তম দিনে। যখন বাসের প্রচণ্ড ভীরে দাঁড়িয়ে থেকে অমানুষগুলোর ইচ্ছেকৃত গায়ে পড়া সহ্য করছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিলো হনুমানটা এক্ষুনি এসে সবাইকে ঠেলে আমার পেছনে দাঁড়াবে যেন সব ঝাকি ওর ওপর দিয়েই যায়। কিন্তু নাহ, সারা রাস্তা অদ্ভুত এক যন্ত্রণা নিয়ে বাসায় ফিরলাম। সে রাতে আর ঘুমুতে পারলাম না। হাজারও বার একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরলাম নিজের কাছেই। আমি কি তাকে মিস করছি? কেনই বা করছি? শেষমেশ উত্তর পেলাম। ছ’মাসের অভ্যস্ত জীবনে একটা জড়পদার্থ হারিয়ে গেলেও মানুষ সেটার অভাব অনুভব করে। আর সেখানে আবীর ভাই তো জলজ্যান্ত একটা মানুষ।
তবে এই ছেলেমানুষি উত্তরে বেশিদিন সন্তুষ্ট রাখতে পারলাম না নিজেকে। পরের দিনগুলো বারবার আঘাত হেনে বুঝিয়ে দিল আমি ভুল ছিলাম। পাড়ার বখাটেদের কুৎসিত কথাগুলো চিৎকার করে যেন আর্তনাদ করত এই বলে যে ‘‘দেখো আজ তোমার পাশে সেই হনুমানটা নেই বলে আমাদেরকে তোমার কানে পৌঁছুতে হচ্ছে। হনুমানটা যেদিন এদের একজনের নাক ফাটিয়েছিল সেদিন থেকে তোমার থেকে দূরে থাকতাম আমরা।’’
ক্লান্ত পরিশ্রান্ত আমি যখন ঘণ্টা পার হলেও রিক্সার দেখা পাই না তখন অবাধ্য মনটা আশা করে বসে থাকে এই বুঝি হনুমানটা সবগুলো দাঁত বের করে রিক্সা নিয়ে এসে বলবে, ‘‘উঠে পড়ো, লিফট দিচ্ছি।’’ আর আমি তাকে ফেলে রেখে তার এনে দেয়া রিক্সা নিয়ে চলে যাবো। কিন্তু না তো। কেউ আসে না। আচমকা এসে যাওয়া বৃষ্টিতে ভিজে গেলে কেউ ম্যাজিকের মত ছাতা মেলে ধরে না মাথার উপর। ছেড়া স্যান্ডেল হাতে নিয়ে যখন লজ্জায় মাথা নিচু করে হেঁটে যাই তখন কেউ একজন তার পায়ের নতুন স্যান্ডেল জোড়া হাতে নিয়ে বকবক করতে করতে আমার পেছন পেছন আসে না।
এই অসহ্য অনুভূতিগুলোকে প্রাণপণে নিজের থেকে দূরে সরানোর চেষ্টায় একটা মাস পার করে দিলাম। কিন্তু আর পারছিলাম না নিজেকে ধোঁকা দিতে। সিদ্ধান্ত নিলাম আবীর ভাইকে বলে ফেলবো যে আমি ভালবাসার একটা নতুন বীজ বুনতে চাই। আপনি আসুন। আপনাকে ছাড়া গাছটা বেড়ে উঠবে না যে।
প্রথমবারের মত আবীর ভাইয়ের নাম্বার ডায়াল করলাম। সারারাত ফোনের ওপাশের মহিলা রোবট আমাকে দুঃখিত বলেই গেলো। ঘোলাটে চোখে সকাল থেকে দুপুর কাটালাম রাস্তায় দাঁড়িয়ে। আবীর ভাই নেই। রুনা খালার বাসায় চলে যাবো কিনা ভাবতে ভাবতে বাসে উঠে পড়লাম।
সিদ্ধান্তহীনতায় বাস আমাকে নিয়ে আসলো অনেক দূরে। দু’একজন ছাড়া বাস প্রায় ফাঁকা। পিচ্চিটার ডাকে ঘোর কাটলো, ‘‘আপা কই নামবেন?”
বললাম, এইতো সামনের স্টপেজে। আবীর ভাইয়ের সাথে বেশ কয়েকবার ওকে গল্প করতে দেখেছিলাম। ভাড়া নিয়ে চলে যাচ্ছিলো ছেলেটা। দ্বিধা কাটিয়ে পেছন থেকে ডেকেই ফেললাম, অ্যাই শোনো।
‘‘কি আপা?”
‘‘আমার সাথে যেই ছেলেটা সবসময় আসতো যেতো তাকে দেখেছো?”
‘‘কেডায় আপা? আবীর ভাইজান?”
‘‘হ্যাঁ। সে কোথায় জানো?”
‘‘আপা আপনে জানেন না? ভাইজান তো ট্রাকের তলাত চাপা পইড়া মইরা গেছে। পিরাই একমাস তো হইবই।”
মাথায় আর কিছুই ঢুকছিল না। থরথর করে কাঁপছিলাম শুধু। চারপাশে অসংখ্য কণ্ঠস্বর চিৎকার করছে। ট্রাক। অ্যাই নীলা শীত পড়েছে বুঝতে পারছো? নতুন বীজ বুনবে না? আপা ভাইজান তো ট্রাকের তলাত চাপা পইড়া মইরা গেছে। ট্রিট দেবে না নীলা? ভাইজান তো মইরা গেছে আপা।
দুহাতে কান চেপে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললাম। কে যেন পিঠে হাত রাখলো। চমকে তাকিয়ে দেখি বাঁদর টুপি পড়া আবীর ভাই টুপি খুলে দাঁত কেলিয়ে হাসছে। কান্না থামিয়ে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। এরপর উঠে দাঁড়িয়ে জড়িয়ে ধরলাম ওকে। কান্নার বেগ আরও বাড়লো। দুমদাম কয়েকটা কিল মারলাম। হনুমানটা হাসতে হাসতে বলল, ‘‘এত গাধী কেন তুমি? খালাকে জিজ্ঞেস করলেই তো আমার খোঁজ পেতে। আর এই বাঁদর টুপি পড়ে একমাস তোমার পেছনে ঘুরতে ঘুরতে আরও ফর্সা হয়ে গিয়েছি দেখেছো?”
কিছু না বলে ওর শার্ট ভেজাতে থাকলাম। অসভ্যটা আবার বলল, ‘‘এত এত ইলেকট্রনের পজিটিভ চার্জ তো আজ মেরেই ফেলবে আমাকে।”
নাহ, এরপরও কিছুই বললাম না। আজ তার সাত খুন মাফ।
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ