স্বপ্নডাঙা
--- Alford Humo (এ্যালফোর্ড হোমো) ---
.
হুট করেই গাড়ীর চাকা পাঞ্চার হয়ে গেল। গাড়ীর ভেতরেই বসে আছি। যদিও আসি এখানে থাকি না। অফিসের কাজে বন্ধুর বাসাতে ওঠেছি এই সপ্তাহ খানেকের জন্যে। সামনে স্কুল মনে হয় টিফিন পিরিয়ড শুরু হয়েছে। গাড়ীর ভেতরে বসে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিলাম আর ড্রাইভার গেছে মিস্ত্রী ডাকতে। দেখি কে যেন গাড়ীর দড়জার কাচে টোকা দিচ্ছি। বাহিরে বের হয়ে দেখি একটা মেয়ে। বয়স ৫-৬ বছর হবে।
- তুমি কে? (মেয়েটা)
- আমি জাহিন। তোমার নাম কি? (আমি)
- আমি অপরিটিত দের সাথে কতা বলি না। (তোতলা ভাবে)
- ০০০০ আচ্ছা।
- তুমি এখান থেকে এই গাড়ীটা সরাও তো আমরা খেলপো এখানে।
- মামুনি আমার গাড়ীটাতো নষ্ট হয়ে গেছে ঠিক হলেই আমি এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাবো।
- ও আচ্চা।
মেয়েটা চলে গেল। কিছুক্ষন পর গাড়ীর চাকা সাড়ার পর বাসাতে চলে আসলাম। রাতে বসে থেকে টিভি দেখছিলাম। কেন জানি সেই পিচ্চি মেয়েটার কথা মনে পড়ছে। মেয়েটা দেখতে খুব মিষ্টি। বয়স কত আর হবে। এই পাঁচ বছরের মতো। সামনের একটা দাঁত নেই। কথাগুলোও তোতলাদের মতো।
সেদিনের মতো রাতে টিভি দেখা শেষ করে শুয়ে পড়লাম। অফিসের চাপে পিচ্চি মেয়েটার কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। কয়েকদিন পর সেই স্কুলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখি সেই পিচ্চি মেয়েটা খেলছে। আমি ড্রাইভারকে গাড়ী সাইডে পার্ক করতে বললাম। তারপর পাশের দোকান থেকে। কিছু চকলেট কিনলাম। তারপর পিচ্চি মেয়েটার কাছে গেলাম।
- কেমন আছো মামুনী? (আমি)
- তুমি আমাকে মামুনী বলচো কেন? (মেয়েটা)
- এমনি। নাও চকলেটগুলো তোমার জন্য।
- না আমি খাবো না।
- কেন?
- চককেট খেলে মামুনী বকা দিবে।
- ও তাই? তা তোমার স্কুল ছুটি?
- আজ হাফ ডে। তাই ছুটি হয়ে গিয়েছে।
- তোমার মামুনী আসে নি?
- না।
- তোমার পাপা তাহলে আসবে?
- আমার পাপা নেই তো।
- কোথায় গেছে?
- আমি জানি না।
- আচ্ছা তাহলে আজ আমি যাই।
- আচ্চা।
পরে আসলাম। কেন জানি সেই পিচ্চি মেয়েটার মায়ায় পরে গিয়েছি। পরেরদিন শুক্রবার ছিল। তাই শনিবারে আবারো সেই স্কুলে গিয়েছি। অনেক খুজে মেয়েটাকে পেলাম।
- তুমি এখানে কি করচো? (মেয়েটা)
- আমি তো তোমার সাথে দেখা করতে আসছি। (আমি)
- আমি তো তোমাকে চিনি না। আচ্চা তোমার নাম কি?
- আমার নাম জাহিন। তোমার নাম?
- আরাদা।
নামটা শুনে কিছুটা না অনেকটা চমকে গিয়েছিলাম। হয়তো এই জন্যেই এতো মায়া জন্মে গিয়েছে মেয়েটার উপরে।
- আরাদ্ধা?
- হ্যাঁ। (ফোকলা দাঁতের হাসি দিয়ে মাথা নড়ালো। বুঝতে পারলাম মেয়েটা নামটা উচ্চারন করতে পারে না)
- আচ্ছা তোমার বাসাতে কে আছে। আমি আছি, মামুনী আছি আর নানু মনি আছে।
- তোমার আম্মু আজকে আসবে না?
- আসছে তো।
- কোথায়?
- ঔই যে তোমার পেচনে।
আমি পেছনের দিকে তাকাতেই বড় রকমের ধাক্কা খেলাম। এটাতো ইরিত্রা। আমি যেমনটা অবাক হয়েছি ইরিত্রাও কম অবাক হয় নি। দুইজনেই কিছুক্ষন চুপ করে ছিলাম। তারপর আমিই বলা শুরু করলাম...
- কেমন আছো ইরি? (আম)
- কে ইরি? আপনি আমাকে ইরি বলে ডাকছেন কেন? (ইরিত্রা)
- রেগে আছো?
তোমাকে অনেক খুজেছি।
- আরাদ্ধা মামুনী চলো বাসায় চলো। আমাদের দেরী হয়ে যাচ্ছে।
- কাওকে বিয়ে করেছো?
- দ্যাটস নন অফ ইউর বিজনেস। আমাদের মতো অসহায় মেয়েদের বিয়ে একবারই হয়। আপনাদের মতো কয়েকবার হয় না।
- তার মানে আরাদ্ধা আমার মেয়ে?
কথার উত্তর না দিয়ে ইরিত্রা চলে গেল। আমিও বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ইরিত্রা আমার স্ত্রী। সেহেতু আরাদ্ধা আমার মেয়ে।
...
গাড়িতে বসে ১০ বছর আগের কথা নিজের অজান্তেই মনে পরে গেল।
সেদিন ভার্সিটির নবীনবরন অনুষ্ঠান ছিল। পুরো অনুষ্ঠানের দায়িত্বটা আমার উপর না পরলেও খাওয়া দাওয়ার দায়িত্বটা আমার উপরেই পড়লো। সবাইকে প্যাকেট দেয়ার কিছুক্ষন পর একটা মেয়ে আমাকে এসে বললো...
- এই যে শুনুন? (অচেনা মেয়ে)
- কি? (আমি)
- আমার এটাতে ডিম নেই কেন?
- দেখেন এতোগুলার মাঝে দুইএকটা বাদ যেতেই পারে।
- আপনি জানেন ডিম আমার খুব পছন্দের।
- ওওও। তার মানে ডিম আগেই খেয়ে নিয়েছেন। আর এখন আবার বলতে এসেছেন? পেটুক কথাকার।
- কি আমি পেটুক?
আমি তাড়াতাড়ি সরে পরেছি। কিছু দূরে গিয়ে দেখি মেয়েটা এখনো আমার দিকেই অগ্নিচোখে তাকিয়ে আছে। কয়েকদিন পরে ক্যাম্পাসে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হুট করে কোথায় থেকে সেই মেয়েটা এসে সামনে দাড়ালো..
- আমি আমাকে সেদিন পেটুক বললেন কেন?
- কবে?
- সেদিন?
- মনে নাই তো।
- আপনি পেটুক, আপনার দাদা পেটুক, আপনার চোদ্দগুষ্টি পেটুক।
আমি বোকার মতো দাড়িয়ে কথাগুলো শুনে গেলাম। আর মেয়েটা বলা শেষে হনহন করে চলে গেল।
- দোস্ত জাহিন? (সজিব)
- কি? (আমি)
- বাঁশটা কি তোকে দিল?
- নিজেই তো বুঝলাম না।
- ভাইরে এটা মেয়ে না ডাইনি? কে ক্যাম্পাসে বড় আর কে ক্যাম্পাসে ছোট তার কিছুইতো মানে না।
- ঔ ব্যাটা ঔ! পারলে হেতের ব্যাপারে জাইনা আয়।
- টেনশন কইরো না মামা। কালকের মাঝে সবকিছু জেনে তোকে জানাবে। আচ্ছা একটা কথা বলতো তুই এই মেয়েকে কিছু বললি না কেন?
- এমনি।
- এমনি? নাকি অন্য কিছু? তা হেতিরে কি আমাদের ভাবী বানাবেন নাকি?
- সর শালা এখান থেকে। (লাথি মেরে তুলে দিয়েছি)
রাতে বাসাতে বসে ভাবছিলাম ঠিকইতো আমি এই মেয়েটাকে কেন কিছু বললাম না? তাহলে কি তাকে আমার পছন্দ হয়েছে? মেয়েটা কিন্তু দেখতেও সুন্দর। আহা কি সুন্দর টানা টানা চোঁখদুটো। লম্বাতে কম না ৫ফিট ৪-৫ ইঞ্চি হবে। পরেরদিন সকালে ক্লাসে বসে আছি। এমন সময় সজিবের আগমন..
- ভাবীর নাম ইরিত্রা। ইন্টারে গোল্ডেন পাইছে। বাসা ভার্সিটি থেকে ২০ মিনিট দূরে। তার বাবা একটা মোটামুটি ভালো জব করে। এক বাপের এক মেয়ে।
- হুম।
- এবার চলো। ট্রিট দাও।
- কিসের ট্টিট দিব?
- বারে এতো ঘটনা তোকে জানালাম।
- তোর ভাবী হয় না? তাহলে ট্টিট কেন দিব? ট্রিটতো আমাকে দিবি তুই।
- আমি দিব কেন?
- বারে তোর জন্য ভাবী পেলাম তাই।
- তাইতো। (বোকা সেজে গিয়েছে)
- চল আমার সাথে।
- কোথাই?
তারপর সজিবকে টেনে নিয়ে ক্যাম্পাসে সেই মেয়েটা মানে ইরিত্রাকে খুজতে লাগলাম। ক্যাম্পাসে না পেয়ে যখন মন খারাপ করে ক্যান্টিনে গেলাম তখন দেখি এই মেয়ে ক্যান্টিনেই বসে আছে।
- আপনি এখানে? আর আমি আপনাকে সব জায়গাতে খুজছি। (আমি)
- আমাকে বলছেন? (ইরিত্রা)
- জ্বী। সরি বলার জন্য খুজছিলাম।
- আমাকে? কেন?
- সেদিনের জন্য।
- পাগল নাকি? আপনাকে তো আমি চিনিই না। কোনদিন দেখিই নি।
- হায় হায়! বলে কি? গতকালকেই না আপনি আমার সাথে কথা বললেন।
- ধেত। কে না কে। পাগল মনে হয়।
মেয়েটা ওর বান্ধবীদের সাথে ওঠে চলে গেল। যা বাবা কি মেয়েরে বাবা। না চেনার ভান করে চলে গেল। সাথে পাগল উপাধীটা ফ্রী দিয়ে দিল। পরেরদিন ক্যাম্পাসে বসে ছিলাম..
- আরে আপনি এখানে? (ইরিত্রা)
-...........
- সবকিছু শোধবোধ।
- কিসের?
- সেদিন আপনি আমাকে চেনেন নি। আর গতকাল আমি। হলো না তাহলে সবকিছু শোধবোধ।
-............. (মেজাজটাই খারাপ করে দিল)
- আপনি তো আমাদের বড় ভাই হাজার হলেও। তাই সরি বলছি।
- আমি জাহিন।
- আমি ইরিত্রা।
- জানি।
- কিভাবে?
- সিক্রেট। আচ্ছা আমরা কি ফ্রেন্ড হতে পারি?
- হতে পারি।
সেদিনের মতো কথা বলে বাসাতে চলে এসেছি। আস্তে আস্তে আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে পড়ি। আমার বাসাতেও কয়েকটা বন্ধুর সাথে ইরিত্রাকেও এনেছিলাম কয়েয়েকবার। একদিন ভার্সিটির অনুষ্ঠানে ইরিত্রাকে সাইডে ডাকলাম..
- কি বলবে বলো? এদিকে ডাকলে কেন? (ইরিত্রা)
- আমি কোন কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলতে পারি না। তাই সরাসরি বলে দিচ্ছি।
- কি বলবে সেটাতো বলো।
- আমি তোমাকে ভালোবাসি।
-.............
- কি হলো কিছুতো বলো।
- তুমি আমার ব্যাপারে কিছু জানো না।
- সব জানি।
- তোমাদের সাথে আমাদের মানায় না।
- ভালোবাসি তোমাকে। খুব ভালোবাসি ইরি।
বলে জড়িয়ে ধরেছিলাম। কিছুক্ষন পর ইরিও আমাকে জড়িয়ে ধরেছে।
- আমিও তোমাকে ভালোবাসি। অনেকবার বোঝাতে চেয়েছি। কিন্তু পারি নি।
তারপর থেকে ভালোই চলছে আমাদের সম্পর্ক। কয়েকমাস পরে একদিন রাতে স্বপ্ন দেখলাম ইরিত্রার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। আর আমি আমি দেবদাসের মতো হাতে মদের বোতল নিয়ে ইরির বরযাত্রী গাড়ীর পেছনে ছুটছি। দেখা মাত্রই মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল। সকালে ওঠেই ইরিকে ফোন করে ক্যাম্পাসে আসতে বললাম।
- আচ্ছা ইরি একটা কথা বলি।
- কি?
- তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কাওকে বিয়ে করবে?
- কখনো না।
- তাহলে আমার সাথে এখনি চলো।
- কোথায়?
- এখনি বিয়ে করবো তোমাকে। কাল রাতে খুব খারাপ একটা স্বপ্ন দেখেছি।
-.............. (দেখি ইরির চোখে পানি)
তারপর প্রায় ২০-২৫ মিনিট পর কাজি অফিসে চলে আসলাম আর সজিবকে সব বললাম। তাই ইরির আর আমার বিয়ের জন্য সাক্ষী নিয়ে কাজি অফিসে চলে আসলো। কিছুক্ষন পর আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। মাস খানেক হয়ে গিয়েছিল। আমারা বাসাতেও কিছু জানাই নি। আর ইরিও ওর বাসাতে কিছু বলে নি।
কযেকদিন ধরে আমার খুব জ্বর। তাই ক্যাম্পাসে যাওয়া হয় নি আর আমার ইরির সাথে দেখা করা হয় নি। সকালের দিকে ইরিত্রা আমার বাসাতে চলে এসেছিল।
- মা ইরিত্রা তুমি একটু জাহিনকে খাবার দাও। আমি একটু বাহিরে যাবো। (আম্মু)
- আচ্ছা অ্যান্টি। (ইরি)
- জাহিন তুই মেয়েটাকে একটুও বিরক্ত করবি না।
- ঠিক আছে। (আমি)
একটু পরে আম্মু বাহিরে গেল। দেখি ইরি রান্না ঘরে নুডুলস বানাচ্ছে। আমি ইরিকে পেছন থেকে যেয়ে জড়িয়ে ধরলাম..
- কি করছো? ছাড়ো বলছি।
- উহু। আমার বউকে আমি জড়িয়ে ধরেছি। তাতে কার কি?
- এহ আসছে স্বামীগিরি দেখাতে। কেও দেখে ফেলবে।
- না বাসাতে কেও নেই। শুধু তুমি আর আমি।
- উহু। আজকে স্বামী অধিকার পালন না করলে হবেই না।
- একদমই না।
এরপর মাসখানেক পর ইরি হঠাৎ করে ফোন করে বললো।
- আমার সাথে এখনো দেখা করো। প্লিজ।
- কফি শপে আসো। আমি আসছি।
কিছুক্ষন পর নির্দিষ্ট স্থানে চলে আসলাম। দেখি ইরিত্রা বসে আছে।
- হ্যালো জানু। (আমি)
-..............
- কি হলো মন খারাপ?
- আগামী সপ্তাহে আমার বিয়ে।
- তাই নাকি? খুব ভালো।
- মানে।
- মানে আর কিছু না। তুমি বাসায় যাও আমি আমার বাসাতে সব বলছি।
- যা করার তাড়াতাড়ি করো।
রাতে খাওয়া শেষে আম্মু আর আব্বুর ঘরে গেলাম..
- আব্বু কিছু কথা ছিল। (আমি)
- কি টাকা লাগবে? (আব্বু)
- না মানে।
- আরে কি মানে মানে করছিস? (আম্মু)
- আম্মু আমি বিয়ে করেছি।
- কি? (আব্বু)
- কি যা নয় তা বলছিস? (আম্মু)
- আমি সত্যি বলছি। (মাথা নিচু করে)
- কবে বিয়ে করছিস?
- মাস দুয়েক হলো।
- আমি যেকোন মেয়েকে এই বাড়ির বউ করে আনতে পারবো না।
- আব্বু দেখ আমি ইরিত্রাকে ভালোবাসি। আর ও খুব ভালো মেয়ে।
- আমি এইসব কিছু বুঝি না। যা বলেছি তাই হবে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে তোমার বিয়ে আমার বন্ধুর মেয়ের সাথে হবে।
রাগ করে চলে আসলাম। একটু পরে আম্মু আসলো আমার রুমে। আম্মুকে সব কথা খুলে বললাম। আম্মু শুধু বললো তুই চিন্তা করিস না তোর বাবাকে আমি মানিয়ে নিব। পরেরদিন আম্মু হ্যাঁ সূচক জবাব দিল। আর সেদিনই ইরিদের বাড়িতে গিয়ে সব পাকা কথা সেড়ে আস হয়েছিল। তবে বিয়েটা আবার নতুন করে হবে। সপ্তাহ খানেক পর আমাদের বিয়েটা আবার হলো।
ভার্সিটি লাইফ শেষ করে নিজেদের ব্যাবসা দেখাতে লাগলাম।
বছরদুয়েক পর....
ব্যাবসার কাজের প্রচুর চাপ তাই মাসখানেক ধরে ইরিকে সময় দিতে পারি না। তাই মাঝে মাঝেই ঝগড়া হয়। একদিন রাতে ফোনে ব্যাবসার কাজে কথা বলছিলাম।
- আমার প্রতিতো আপনার আর কোন সময় নাই। (ইরি)
- মানে? (আমি)
- মানে আবার কি? বুঝো না কি বলি। কার সাথে কথা বলো?
- অফিসের কাজে কথা বলছি।
- অফিসের কাজে তাই না? মেয়েটা কে?
- কোন মেয়?
- যার সাথে প্রেম করছো ফোনে।
- কি আবল তাবল কথা বলছো।
- আমি তো পুরনো হয়ে গেছি। তাই এখন আর আমাকে তো ভালো লাগবে না।
- তুমি থাকো তোমার নতুন প্রেমিকা নিয়ে।
- ইরি শোন।
ইরি রুম থেকে চলে গেল। রাতে আর ইরির সাথে কথা হয় নি। সকালে ঘুম থেকে ওঠে আমিও অফিসে চলে গেলাম।
রাতে বাসায় ফিরলাম ১২ টার দিকে। প্রচুর মেজাজ খারাপ। তার মধ্যে এখনো ইরিকে দেখতে পাচ্ছি না।
- আম্মু। আম্মু? (আমি)
- কি হলো চিল্লাছিস কেন? (আম্মু)
- ইরি কই?
- ওর বাবার বাড়ি। কেন জানিস না।
- ও হ্যাঁ। ভুলে গেছি।
আমি ইচ্ছা করেই জানার ভ্যান করলাম। কিন্তু ইরি আমাকে কিছু না বলে হঠাৎ করে ওর বাবার বাড়িতে চলে গেল কেন? ফোন করলাম। কয়েকবার রিং বেজে কেটে গেল।
- হ্যালো। তুমি আমাকে কিছু না বলে তোমার বাবার বাড়িতে গেছো কেন?
- আপনাকে জবাব দিতে রাজি না।
- মানে?
- মানেটা খুব সোজা। আমি আর আপনার সাথে থাকবো না।
- ইয়ার্কি করছো?
- মোটেও না। যাকে নিয়ে গাড়িতে করে ঘুরে বেড়ান তাদের নিয়ে থাকুন।
- দেখ ইরি আমি মেঘাকে নিয়ে একটা ক্ল্যাইনডের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। দ্যাটস অল।
- দেখা করতে ফাইভ স্টার হোটেলে যাওয়া লাগে?
- আরে বাবা ক্ল্যাইনডদের সাথে লাঞ্চ করতে করতে ডিলটা ফাইনাল করেছি।
- আমাকে কিছু বোছাতে আসবে না। আজকে থেকে আমাদের মাঝের সব সম্পর্ক শেষ।
- হ্যালো ইরি। হ্যালো।
এরপর কয়েকদিন পর আম্মুর কাছে শুনলাম আমি বাবা হতে চলেছি। কোন কথায় নেই সাথে সাথে চলে গেলাম ইরিদের বাসায়। যাওয়ার সময় ভেবেছিলাম ইরি আর রাগ করে থাকবে না। সব রাগ আর অভিমান ভুলে যাবে। কিন্তু যখন সেখানে গেলাম তখন বুঝলাম আমার ধারনা ভুল। ইরির বাবা মা এবং আমার আব্বু আম্মুও অনেক বুঝালো। কিন্তু কোন কাজ হয় নি। এক কথায় রাগ করেই চলে এসেছিলাম। এই সন্দেহ জিনিসটা খুব খারাপ। রাগুক, রেগে থাকুক। আমিও তার রাগ আর ভুল ভাঙ্গাতে যাবো না।
নয় মাস পর...
অফিসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ করে ইরির বাবা মানে আমার শ্বশুড়ের ফোন। রিসিভ করতেই শুনলাম আমার মেয়ে হয়েছে। পেইন উঠেছিল তাই কাওকে জানাতে পারে নি। আব্বু আম্মুকে নাকি জানিয়েছে আর তারা চলে এসেছে। দেরী করলাম না। সাথে উপস্থিত হাসপাতালে। শুধুমাত্র যেতে যতটুকু সময় লেগেছে।
- ইরি কোথায়? (আমি)
- ভেতরে আছে যাও। আমি আর তোমার আব্বু একটু ডাক্তারের সাথে কথা বলে আসি।
- হুম।
রুমে ঢুকলাম। আমাকে দেখে আম্মু আর শ্বাশুড়ি বের হয়ে এলো।
- খবরদার আমার আর আমার সন্তানের কাছে আসবে না। (ইরি)
- দেখ তুমি কিন্তু এখনো আমার উপরে রাগ করে আছো। (আমি)
- আমি আপনাকে চিনি না। চলে যান এখান থেকে। এতো দিনতো কোন খোজ নেন নি। এখন কেন এসেছেন? আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেয়ার জন্যে?
- দেখ তুমি কিন্তু এখনো আমাকে ভুল বুঝছো। আর কেড়ে নিব কেন? এতো আমাদেরই সন্তান।
- বের হয়ে যাও এখান থেকে।
দেখি একটু পরে ডাক্তার এসেছে চেকাপ করার জন্যে। আমি ওনার লিখে দেয়া ঔষুধ গুলো আনতে গেলাম। অবশ্য কিছুক্ষনের জন্য হলেও মেয়েকে কোলে নিয়েছিলাম।
এরপর ইরিকে অনেকবারই বুঝাতে গিয়েছি। কিন্তু কোন কাজ হয় নি। আরাদ্ধার বয়স যখন ছয় মাস তখন একদিন শুনলাম ইরি আর আরাদ্ধাকে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খুজেছিলাম কিন্তু পাই নি। ইরি কারো সাথে কোন যোগাযোগই রাখে নি। আর আজ এতো বছর কেটে গেল। ঠিকই খুজে পেলাম।
.
- স্যার বাসায় আইসা পড়ছি।
- হ্যাঁ।
পরেরদিন আরাদ্ধার স্কুলে গিয়ে দেখি আরাদ্ধা আসে নি। তাই আমি প্রিন্সিপালের কাছে গিয়ে পরিচয় দেয়ার পর বাড়ির ঠিকানা দিল। প্রথমদিন যাচাই করলাম বাড়ির ঠিকানা ঠিক আছে কি না। হ্যাঁ ঠিক আছে বাড়ির ঠিকানা। পরেরদিন আব্বু আম্মু আর ইরির বাবা মাকে নিয়ে উপস্থিত হলাম। দরজা খুলতেই ইরি ভীষন শক খেয়েছে। কেও কোন কথা না বলে ভেতরে চলে গেল। আমি আর ইরি বাহিরেই দাড়িয়ে ছিলাম। পরে অনেকক্ষণ ধরে ইরির সাথে আব্বু আম্মু কথা বলে রাগ ভাঙ্গাতে চাইলো কিন্তু ইরির কোন কিছুই হলো না।
- তোমার সাথে কয়েকটা কথা বলেই চলে যাবো।
-............
- দেখো তুমি সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমাকে ভুল বুঝে আসছো।
- কোনটা ভুল বুঝেছি। সেই মেয়ের সাথে যাও নি?
- হ্যাঁ গিয়েছি তবে সেটা শুধুমাত্র অফিসের কাজের জন্য। তোমাকে আগে যেমনটা ভালোবাসতাম এখনো তেমনি ভালোবাসি। দেখ আরাদ্ধার একটা ভবিষ্যত্ব আছে। আমার কথা না ভাবো তার কথা ভেবেই রাগ, অভিমানগুলোকে ভুলে যাও প্লীজ।
চলে আসার আগে সবাই ইরিকে আবারো বুঝালো। আমি তখনো আরাদ্ধার সাথে খেলছিলাম। একোক্ষনে মেয়েটা বুঝে গিয়েছি আমি ওর কে হই। তাই এখন পাপা বলে ডাকছে।
- তোমার সাথে একটা কথা আছে? (ইরি)
- হুম বলো।
- এখানে না। ঘরে চলো।
- এখন বলো।
- সেদিন এই রাগগুলোকে ভাঙ্গাও নি কেন?
- জানো তো আমি অল্পতেই রেগে যাই। আর সেখানে এইসব কথাগুলো বলেছিলে তাই আমারো রাগ হয়েছিল।
-..............
- দেখ এখনতো সরি বলছি।
- হুম। (দেখি ইরি কাদছে)
- রাগ ভাঙ্গছে?
- না। ভাঙ্গবে না।
বুঝেছি এই ভাবে কাজ হবে না। তাইতো বুকে জড়িয়ে ধরলাম। ইরিও আমাকে জড়িয়ে ধরে ছোট বাচ্চার মতো কেদে ওঠলো। আমি কাটকালাম না। কাদুক, কেদে কেদে নিজেকে হাল্কা করুক।
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§
429
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§§ā§Ļ:ā§Šā§¨ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ