অফিস থেকে ঘরে ঢুকতেই শিমুর চেঁচামেছি শুরু। শান্ত ড্রেস না পরিবর্তন করে শুয়ে আছে। মেয়েটার যন্ত্রনায় অসহ্য হয়ে গেছে , কোন দুঃখে যে সে এই মেয়ে কে বিয়ে করেছে সে নিজেই বুঝে না। তা ও আবার ৫ বছর প্রেম করে.... আগে জানলে বিয়ে তো দুরের কথা প্রেম ও করতনা। না এভাবে আর সংসার করা সম্ভভ নয়।
উকিলের সাথে কথা বলেছে শান্ত। শিমুর যে আপত্তি থাকবেনা তা ভাল করেই জানে শান্ত।
শিমু রুমে এসেই
-এত দেড়ি হল কেন অফিস থেকে ফিরতে? কোথায় ছিলে বল !?? মোবাইল অফফ কেন ছিল?
-অফিসে কাজ ছিল। মোবাইল এ চার্জ ছিলনা।
-অফিসে ও তো ফোন দিয়েছি , তুমি তো ছিলে না ।
-তখন বের হয়ে গেছি, রাস্তায় জ্যাম ছিল।
-এটা কি?? ম্যাচ এর বক্স কেন পকেট এ ?
শান্ত এবার শোয়া থেকে উঠে বসে , রেগে চেঁচিয়ে বলে -
-ম্যাচ থাকলে সমস্যা কি? এত সন্দেহ কর কেন?
-তুমি আমার সাথে চেঁচিয়ে কথা বলছ ? !
-হ্যা , বলছি । আমি কি তোমার পোষা প্রানি নাকি যে যা বলবে তা চুপ করে শুনব ?
-অনেক সহ্য করেছি আর না।
-আমি ও অনেক সয্য করেছি। এভাবে থাকা আমার পক্ষে আর সম্ভভ না।আমি উকিল এর সাথে কথা বলেছি।
-তোমার মত র্থাড ক্লাস ছেলের সাথে আমি আর থাকতে রাজি না।
শিমু বেগ গুছিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যায়... শান্ত দেখেও না দেখার মত হয়ে থাকে।
....................¬...........
১১.৩০. এতক্ষন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে ১ টা গাড়ি ও পেলনা শিমু। ১ টা প্রইভেট কার কি মনে করে পিছনে এল। শিমু মুখ ঘুরিয়ে নিল। গ্লাস খুলতেই দেখে রাজু।
-রাজু তুই ?!
-কিরে তুই এত রাত এ ? গাড়ি পাচ্ছিস না ? উঠ !
শিমু গাড়িতে উঠে বসে।
-শান্ত কই ? তুই এত রাতে কই যাস ?
-ও বাসায়। আমি আমাদের বাসায় যাচ্ছি।
-কি ব্যপার ঝগড়া হল নাকি?..... সংসারে এসব একটু আকটু হয়...
-না,ওর সাতে আমার আর হচ্ছেনা .....ডির্ভোস দিব।
-ডির্ভোস!! কেন?
-আমার গায়ে হাত তুলেছে, রাত করে বাড়ি ফিরে, সারাদিন মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
-আর এ অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতেই তো পারে। তুই ওকে বুজতে চেস্টা করলেই তো হয়।
-তুই কি বলতে চাস ? আমি ওকে সন্দেহ করি ?
-না,তা না।
রাজু স্পষ্ট শিমুর গালে থাপ্পরের দাগ টা দেখেতে পারছে। গাড়ি বাসার সামনে এসে থামে।
.................................
১ মাস পর...
ঘড়ি হাতে নিতেই দেখে ১০ টা বেজে গেছে। শিমু কে ৯ টায় বের হতে বলেছে শান্ত। এতদিন অনেক শান্তিতেই ছিল শান্ত , ঘরে এসে কারো চিৎকার শুনতে হয়নি , ইচ্ছা মত সিগারেট খেয়াছে কেউ বাধা দেয়নি। আজ থেকে সম্পুর্ন মুক্ত। এলোমেলো করা ঘর টা ঐ অবস্থায় ফেলে তাঁড়াতাড়ি রেডি হয় শান্ত। বের হয় শান্ত।
শিমু ওর বাসার গলির মুখে দাড়িয়ে আছে। কেউ না জানে মত করে উকিলের কাছে গিয়ে ডির্ভোস দিবে ২জন। চুপ করে রিকশায় পাশাপাশি বসে আছে শান্ত আর শিমু। শান্তোর আজ খুব ইচ্ছা করছে শিমুর হাত টা ধরতে , না তা হবেনা আর কখন।
..
উকিলের সামনে বসে আছে শিমু আর শান্ত। শিমু কে খুব উদাস মনে হচ্ছে। উকিলের কথায় ঘোর কাটল ২জনের। শান্ত খেয়াল ই করেনি সে কখন শিমুর হাত ধরে বসে আছে। শান্তর হাত এ বেন্ডেজ তাই কাগজ টা শিমুর দিকে বাড়িয়ে দেয় উকিল। বুকের মদ্ধে কেমন জানি ব্যাথা অনুভব করছে শান্ত। শিমু কলম হাত এ তুলে নেয়।
সবাই কে অবাক করে দিয়ে কাগজটা ছিঁড়ে উঠে দাঁড়ায় শিমু ,
-ছিঁড়ে ফেললে কেন?
-তুই কি মনে করিস। তোর মত খাটাস কে আমি ডির্ভোস দিব ? আয়নায় নিজেকে একবার দেখেছিস ? কি অবস্থা হয়েছে তোর ? আর আমার সাজানো ঘরে অন্য কেউ আসবে তা আমি চেয়ে চেয়ে দেখব ? কখনই না ।
শান্ত মাথা নিচু করে আছে।
-আপনি বলন উকিল সাহেব এরকম খাটাস কে ডির্ভোস দিলে ২ দিন পর কি হবে ? এখনই দাঁড়ি উঠে , চুলের কি অবস্থা দেখছেন ?
উকিল মুচকি হাসছে। শান্ত কে টানতে টানতে শিমু বের হয়ে যায় ।
-কোথায় নিয়া যাচ্ছ আমাকে ?
-বিউটি পার্লার এ ।
-যাহ, আমি কি মেয়ে নাকি ?
-তাহলে জিজ্ঞেস করলে কেন?
চুপচাপ শান্ত ছেলের মত সেলুন এ বসে আছে শান্ত। আয়নায় শিমু কে দেখছে শান্ত। নাহ আসলেই এই পাগলী কে ছাড়া বেঁচে থাকা টাই অর্থহীন , কি ভুল টাই না করতে যাচ্ছিল সে। আল্লাহ যা করেন ভালর জন্যই করেন ।
( কখন রাগের মাথায় বা অতিরিক্ত আবেগের মাথায় কোন সিদ্ধান্ত নিবেন না , এর ফল বেশির ভাগ সময় ই খারাপ হয় , আজীবন এর ফল ভোগ করতে হয় । যেকোন ব্যপারেই হোক না কেন ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিন । আর স্বামী স্ত্রী র সম্পর্ক অনেক পবিত্র এবং মধুর সম্পর্ক , যত কষ্টই হোক , যত বাধাই আসুক , যত সমস্যাই আসুক না কেন , আপনার ই দায়িত্ব আপনার সংসার টিকিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। কারন বিয়ের সম্পর্ক টা ছেলে খেলা নয় )
লিখাঃ Prince Shakil
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ