āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

384

আমি একটা লিচু চকলেট খেতে খেতে আর একটা
লিচু চকলেট আপার দিকে বাড়িয়ে দিলাম। আপা
চকলেটটা নিয়ে কেনো জানি আবার ফিরিয়ে
দিলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম "ফিরিয়ে দিলে
কেনো আপু, চকলেট খাবা না??"। আপু আমার দিকে
অগ্নিশর্মা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো "বজ্জাত
ছেলে আমি তোকে চিনিনা ভেবেছিস! এখন
আদর করে আমাকে এক-টাকার একটা চকলেট
খাওয়াবি, পরে আমার কাছথেকে দশটাকা আদায় করে
ছাড়বি। তোর চকলেট তুই খা।"
আমি পোকালাগা দাঁতগুলো বেরকরে বললাম
"কেউ ভালোবেসে কিছু দিলে নিতে হয়। তুমি
এখন এটা খাও পরে নাহয় আমাকে এক প্যাকেট চিপস
কিনে দিও।" আপু আমার গাল টিপে ধরে বলে
"ভালোবেসে তোর কানের নিচে দুইটা
দেবো, এর জন্য চকলেট খাওয়াতে হবেনা। যা
ভাগ।"
আমিআহত মনে চকলেটটা আমার হ্যাপ-প্যান্টের
পকেটে রেখে ঘর থেকে বের হয়ে এলাম।
দুইদিন ধরে আমার খুব চিপস খেতে ইচ্ছে
করছে। সেদিন দোকানে যেয়ে মাকে
বলেছিলাম একপ্যাকেট চিপস কিনে দিতে। মা পাঁচটাকা
দামের এক প্যাকেট ডালভাজা হাতে ধরিয়ে দিয়ে
বললো "কাছেতো টাকা নেই আব্বু, এখন এটা
খাও। তোমাকে পরে কিনে দেবো।" কিন্তু মা
পরে আর কিনেই দিলোনা। আজ যখন স্কুল
থেকে বাড়ি আসছিলাম তখন আমাদের ক্লাসের
মোটকু ছেলেটা চিপস খেতে খেতে আমার
সঙ্গে আসছিলো। সারাটা পথ আমার সাথে গল্প
করতে করতে এলো কিন্তু আমাকে একটাও চিপস
খেতে দেয়নি।
আপুর ঘর থেকে বের হয়ে ভাবলাম মায়ের কাছে
যেয়ে টাকা চাই। আমাদের শোবার ঘরে উঁকি
মেরে দেখলাম মা জানালার দিকে মুখ করে চুপচাপ
বসে আছে। মায়ের মনখারাপ দেখে আমার আর
কিছু বলতে সাহস হলোনা। আমি আস্তে আস্তে
মায়ের কোলে যেয়ে বসে পড়লাম তারপর তার
বামহাতের আঙুল গুলো টেনে টেনে ফুটাতে
লাগলাম। মা পরম মমতায় আমার মাথায় তখন তার ডান হাতটা
বুলিয়ে দিচ্ছিলো। আমি পকেট থেকে চকলেটটা
বেরকরে মাকে বললাম "আম্মু চকলেট খাবা?" মা
আমার মুখে হাত বুলাতে বুলাতে বললো "কেনো
তুমি খাবানা?" আমি বললাম "নাহ, খেতে ভাল লাগছেনা।
আপুকে দিয়েছিলাম কিন্তু আমাকে চিপস কিনে
দেওয়ার ভয়ে আপু চকলেটটা নেয়নি।"
মা হেসে বললো "আচ্ছা এখন রেখে দাও, পরে
খেও।" আমি বাধ্য ছেলের মতো মাথা নাড়ি।
.
বিকেল বেলা আসরের আজান দিলে আমার কলয়ার
আলা লাল গেন্জিটা পড়ে মাঠের দিকে যায়।
আমাদের বাড়ির একটু দূরে খুব সুন্দর বড় একটা মাঠ
আছে। আমার বয়সি অনেক ছেলেরা রোজ
বিকেলে এখানে ক্রিকেট খেলা করে। তবে
আমি কিন্তু খেলিনা। আমি একপাশে দাড়িয়ে ওদের
খেলা দেখি। তবে তারচেয়ে ভাললাগে ওদের
মারামারি দেখতে। খেলা করতে করতে
বেশীরভাগ সময়ি ওরা মারামারি করে। তখন মাঠের
পাশের দোকানদার কাকু এসে বিচার করে দিয়ে যান।
সবাইকে সামনে দাড় করিয়ে আমাকে বলে "আব্বা
বলতো কে আগে মেরেছে?"
আমি বিরাট ভাবনিয়ে আঙুল উঁচু করে অপরাধিকে
দেখিয়ে দেই। কাকু তখন ওদের কান ধরে
জোরে মোড়া দেয়।
.
রাতের বেলা আপুর কাছে পড়তে বসে একমনে
চারের নামতা পড়তে পড়তে কেনো জানি বারবার
তিনের নামতা পড়ে ফেলছিলাম। সেই সন্ধ্যা
থেকে চেষ্টা করছি কিন্তু হচ্ছেনা। শেষপর্যায়ে
আপু একটা হায় তুলে বললো "ভাই, তোর আর
পড়তে হবেনা। তুই বরং ভাত খেয়ে শুয়েপড়।
তোর সাথে বকে বকে আমার মাথা ধরেছে।"
আমি আপুর দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকায়। কিন্তু আপু
একটা বই মুখের ওপর দিয়ে শুয়েপড়ে।
আমি তখন অংকের বইটা নিয়ে মায়ের কাছে যাই।
কারন আমি জানি, চারের নামতা না হলে আমাদের
স্কুলের রজিনা ম্যাডাম কাল পুরো একঘন্টা আমাকে
ক্লাসের সামনে দাড় করিয়ে রাখবে।
.
আমাকে নামতা মুখস্থ করাতে মাও যখন ব্যার্থ হলো
তখন হটাৎ আপু তার ব্যাগ থেকে ১প্যাকেট চিপস
বের করে বললো "যদি নামতা মুখস্থ করতে পারিস
তাহলে এটা তোর। আর যদি না পারিস তাহলে তোর
সামনে দাড়িয়ে আমি সবগুলো চিপস খেয়ে
ফেলবো।"
আমার চোখেমুখে তখন হাসির ঝিলিক। একহাতে
চিপসের প্যাকেটটা ধরে আমি কেমন করে
যেনো সব পড়াই মুখস্থ করে ফেললাম।
রাতে ভাত খেয়ে আপু আর আমি শুয়েপড়ে গল্প
করছিলাম। তখন বুঝতে পারলাম আমার আব্বু বাড়িতে
এসেছে। আমি আমার আব্বুকে সবচেয়ে
বেশী ভয় পায়। সেজন্য আমি আব্বুর ধারে
পাশেও যাইনা তেমন।
কিছুক্ষন পরেই ওঘর থেকে আব্বুর জোর গলায়
কথা শুনতে পাওয়া গেলো। দেখলাম আপু আমার
পাশথেকে উঠে আব্বু-আম্মুর ঘরের দিকে
যাচ্ছে।
সবাই আমার আব্বুকে খুব খারাপ লোক বলে। আমার
আব্বু নাকি রোজ অনেক অনেক মদ খায়। শুনেছি
আমার আব্বুর আরো একটা বিয়ে আছে। আব্বু
সবসময়ি প্রায় সেখানে থাকে। দুই একদিন পর পর
আমাদের যখন দেখতে আসে তখন বিনা কারনেই
মায়ের সাথে খুব খারাপ ব্যাবহার করে। মা যদি
কোনো কথা বলে তাহলে আব্বু আমাদের
সামনে মাকে মেরেফেলার মতো করে মারে।
আমি তখন মাকে জড়িয়ে ধরে ভীষন জোরে
কান্নাকরি। প্রথম প্রথম আপুও মাকে জড়িয়ে
কাঁদতো কিন্তু এখন কেনোজানি আপু সাহসী
হয়ে গেছে। মাকে মারতে গেলে আপু আব্বুর
সাথে এখন জোর গলায় কথা বলে। আমার খুব ভয়
হয়, আব্বু যদি আপুকেও মায়ের মত করে মারে!
.
পরেরদিন সকালে আমি স্কুলে যাওয়ার জন্য রেডি
হচ্ছিলাম। মা মুখ ভারকরে আমার জামার বোতামগুলো
লাগিয়ে দিচ্ছিলো। ইদানিং সবসময়ি প্রায় মায়ের মনখারাপ
থাকে। আমি পকেট থেকে দুইটাকা বেরকরে
মাকে বললাম "আম্মু তোমার জন্য আজ আফুকাকার
ঝালমুড়ি নিয়ে আসবো। ঝালমুড়ি গুলো ভিষন মজার।
দেখবে খেলেই তোমার মন ভালোহয়ে
যাবে।" মা কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।
মাঝে মাঝে মায়ের শুকনো মুখটা দেখে আমার
খুব মায়া লাগে। মা আমার মুখে ক্রিম লাগিয়ে দিতে
দিতে বলললো "বাইরের ওসব খাবার খেতে
নেই, পেট খারাপ করবে। স্কুল ছুটি হয়ে গেলে
একপাশ দিয়ে সোজা বাড়ি চলে আসবে, ঠিক
আছে???" আমি খুব বুঝে গেছি এমন একটা
ভাবনিয়ে মাথা কাত করি।
হাতধরে স্কুলে যাওয়ার পথে আপু আমাকে
জিজ্ঞেস করলো "এইটুকু বয়সে তুই এমন বড়
মানুষের মতো আচারণ করিস কেন? মাঝেমাঝে
মনেহয় তুই খুব বড় হয়ে গেছিস।"
আমি আপুর দিকে তাকিয়ে বলি "আপু তুমি শুধু বললো
আমি বড় হয়ে গেছি, বড় হয়ে গেছি... কিন্তু আমি
বড় হচ্ছি কৈ!! আমার আর ছোট থাকতে ভাললাগেনা।
আমি কবে তোমাদের মতো বড় হবো?"
আপু আমার দুই কাঁধে হাত দিয়ে বলে "তোর মনটা
খুব বড়। দেখিস ভাই, তুই একদিন অনেক বড় হবি।
একদম আকাশের মত বড়।"
আপুর কথা শুনে আমি আকাশের দিকে তাকাই। তখন
নিজেকে কেমন যেনো আকাশ আকাশ লাগে।
.
আপু আমাকে স্কুলে রেখে কলেজে চলেযায়।
স্কুল ছুটির পর আমি আফুকাকার দোকানে যাই ঝালমুড়ি
কিনতে। এই লোকটার নাম এমন অদ্ভুত কেনো তা
আমি জানিনা। তবে এই অদ্ভুত নামের লোকটা
আমাদের খুব প্রিয়। দোকানে ঢুকেই দেখি শান্তা
ঝালমুড়ি খেতে খেতে আমার দিকে তাকিয়ে
আছে। আমি মাথা চুলকাতে চুলকাতে ওর সামনে
গিয়ে দাড়ায়। শান্তা আর আমি একই ক্লাসে পড়ি। এই
একসপ্তাহ আমি ওর থেকে পালিয়ে বেড়িয়েছি
কিন্তু আজ ধরা পড়ে গেলাম। সেদিন ক্লাসে আমার
খাতার একটা পৃষ্ঠায় নিজের নামটা লিখে ভাজকরে
দিয়ে বললো "শান্ত এই পৃষ্ঠায় তুমি আরকিছু
লিখবেনা।" আমিও তখন ওর খাতায় আমার নামটা লিখে
দেই। কিন্তু ও আমার নামের পাশে প্লাস চিহ্ন দিয়ে
ওর নামটা লিখে সব ছেলেমেয়েকে দেখায়।
তারপর থেকে লজ্জায় আমি আর ওর সামনে যাইনি।
শান্তা আমার দিকে তাকিয়ে বললো "আমাকে
এতো লজ্জা পাও কেন? বড় হয়েতো আমি
তোমার সাথেই প্রেম করবো।"
আমি ওর দিকে তাকিয়ে একটা ক্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে
বলি "তাহলে তখন তুমি আমি একসাথে বসে আপু
কাকুর ঝালমুড়ি খাবো।"
আমাদের দুজনের এই ভেবে খুব মনখারাপ হয় যে
বড় হয়েতো আমাদের বড় স্কুলে পড়তে হবে।
তখন আর আফুকাকার দোকানে এসে ঝালমুড়ি খাওয়া
হবেনা।
.
স্কুল থেকে বাড়ি এসে আমি একমুঠো ঝালমুড়ি
মায়ের গালে দেই। আম্মু আমাকে জড়িয়ে ধরে
দুইগালে আদর করে দেয়।বাকি অর্ধেক ঝালমুড়ি
আমার টিপিন বক্সে করে আপুর জন্য রেখে
দেই। এইগুলো খেলে আপু আজ আমাকে এক
প্যাকেট চিপস কিনে দেবেই দেবে।
.
কিন্তু আপু আজ ঝালমুড়ি গুলো খায়ইনি। ছেড়া জুতা
দুইটা হাতে নিয়ে আপু কলেজ থেকে খালিপায়ে
বাড়ি আসে তারপর মনখারাপ করে খাটের ওপর শুয়ে
থাকে। আপুর জুতাগুলো অনেক পুরানো হয়ে
গেছে। আব্বু অনেকদিন আপুকে আর নতুন জামা
নতুন জুতা কিনে দেয়না। আমাকে বলেছিলো এবার
থ্রিতে উঠলে একটা নতুন জামা কিনে দেবে কিন্তু
তাও দেয়নি।
আমি ঘরে ঢুকে দেখলাম আপু বালিশে মুখ চেপে
কাঁদছে। আমার খুব খারাপ লাগে। আমার যদি এখন টাকা
থাকতো তাহলে আমি আপুকে অনেকগুলো জুতা
কিনে দিতাম। আমি আপুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলি
"আমাকে আর চিপস কিনে দিতে হবেনা। সেই
টাকাগুলো গুছিয়ে তুমি একজোড়া নতুন জুতা কিনে
নিও।"
.
আজ দুইদিন আব্বু আমাদের চাল তরকারি কিছুই কিনে
দেয়না। রোজ সকালে ঝাল-পেয়াজ দিয়ে ভাত
খেতে হয়।আমি ঝাল-পেয়াজ দিয়ে একদমি
খেতে পারিনা।মা ভাত মাখিয়ে আমার গালে তুলে
দেয়, আমি দুগাল খেয়ে বলি "আম্মু আমি আর
খাবোনা। আমার পেট ভরে গেছে।"
আজ দুপুর বেলা খেতে গিয়ে দেখলাম আপুও ভাত
খাচ্ছেনা আম্মুও খাচ্ছে না। আমি বললাম আম্মু "আপু
আর তুমি ভাত খাবেনা?"
মা বলে "তুমি খাও। এখন আর চাল নেই, বিকালে রান্না
করে খাবানি।"
আমি ভাত মাখিয়ে একগাল খাই তারপর একগাল মায়ের
গালে আর একগাল আপুর গালে দেই আর বলি
"আমার এখন ক্ষুদা লাগছেনা। বিকেলে একসাথে
খাবানি।"
মা তখন হটাৎ আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে
ফেলে। আপুও কাঁদতে থাকে। ওদের কান্না
দেখে আমারো খুব কান্না পায়। আমার আব্বুটা যে
কেনো এমন! অন্যদের আব্বুতো অনেক
ভালো......
সন্ধ্যা বেলা খেলার মাঠথেকে বাড়ি এসে দেখলাম
আব্বু মাকে মারছে।আপু আব্বুকে থামাতে
গেলে আব্বু আপুকেও মারতে শুরুকরে। আমি যদি
এখন নায়ক জসিমের মত বড় হতাম তাহলে এই
লোকটাকে ভীষণ মারতাম। আমি যখন অনেক বড়
হবো তখন নায়ক জসীম যেমন গুন্ডা যাম্বুকে
মারে আমিও তেমনকরে আমার আব্বুকে মারবো
তারপর পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেবো।
কাল সকালে আমরা এই বাড়ি ছেড়ে নানাবাড়ি চলে
যাবো। মা অবশ্য যেতে চাচ্ছেনা। কিন্তু আপু
বলে দিয়েছে এই বাড়িতে ও আর একমুহত্বও
থাকবেনা। মা কিছুই বলছেনা, শুধু কাঁদছে। কিন্তু
অনেকদিন পর নানাবাড়ি যাবো ভেবে আমার একটু
একটু খুশি লাগছে।
.
পরেরদিন সকালে আমরা যখন সৈয়দপুর বাস
স্টেশনে পৌছালাম তখন বেলা এগারোটা বাজে। বাস
থেকে নেমে দেখলাম বড়মামা আমাদের নিতে
এসেছেন। আমার এই মামা খুব ভালো। নানা মারা যাওয়ার
পর এই মামা ছাড়া আর কেউই আমাদের কোনো
খোঁজখবর নেননি। মামা প্রতিবার যখন আমাদের
বাড়িতে বেড়াতে যেতো তখন আমার জন্য ক্রিম
বিস্কুট নিয়ে যেতো।
নানাবাড়ি আসার কিছুদিন পরেই বুঝতে পারলাম আমার মামি
আমাদেরকে আর সহ্য করতে পারছেননা। কারনে
অকারনে আমাকে আর আপুকে একগাদা বকা শুনিয়ে
দেন।আমাকে সবসময়ি প্রায় বিয়াদপ ছেলে
বলেন। এটা শুনতে আমার খুব খারাপ লাগে। আমি
তখন আহত দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকায়। তখন
মায়ের ও মনখারাপ হয় কিন্তু মা মামিকে কিছুই বলেনা।
মা এখন আর আমাকে ভাতও মাখিয়ে দেয়না। রোজ
রাতে কেমন করে যেনো কাঁদে।
আমার এখানে থাকতে আর একটুও ইচ্ছে করেনা।
আমার মামাতো ভাই রাফাত ও আমার সাথে খুব হিংসা
করে। মাঝেমাঝে আমার খুব শান্তার কথা
মনেপড়ে। আমি স্কুলে যাইনা দেখে শান্তা
হয়তো আমাদের বাড়িতে আমাকে খুজতে
গিয়েছে। আমার বাড়ির জন্যেও খুব মনখারাপ হয়।
শুনেছি আমার আব্বু আর একটা বিয়ে করে
আমাদের বাড়িতেই এনে রেখেছে। আব্বু
আমাদের আর কোনো খোজই নেয়না।
মাঝেমাঝে আপুকে যখন আব্বুর কথা জিজ্ঞেস
করি তখন আপু আব্বুকে একগাদা গালি দিয়ে বলে
"ভাই তুই ওই শয়তান লোকটার কথা ভেবে একদম
কষ্ট পাবিনা। ও আমাদের বাপ না।"
পরের দিন বিকালে আমি মামাদের বারান্ডার রেলিং এ
হেলাম দিয়ে ছোলা ভাজা খাচ্ছিলাম। তখন হটাৎ আমার
মামাতো ভাই পিছন থেকে এসে আমাকে ধাক্কা
মারে। আমার হাতের ছোলা গুলো সব পড়ে যায়।
আমি তখন ভীষন রেগে গিয়ে রাফাতের কানে
স্বশব্দে একটা চড় দেই। রাফাতের কান্না শুনে মামি
দৌড়ে এসে আমাকে চড় মারে। আমি মামিকে
সত্যকথা বলতে গেলে মামি আমাকে বলে
"যেমন ডাকাত বাপ তেমন তার ছেলে। আমারও
কপাল মন্দযে এই পালপুরি এখন আমার ঘরে এসে
জুটেছে, জানিনা কতদিন এভাবে হাড়ে নুন দিয়ে
খাবে।"
আমি কাঁদতে কাঁদতে মায়ের কাছে যাই। কিন্তু মা
আমাকে মারতে শুরু করে। আমার মুখে পিঠে মা
খুব জোড়ে জোড়ে মারে আর বলে "এতো
জ্বালাস কেন? আমাকে কি একটু শান্তি দিবিনা?
তোদের জন্য কোথাও আমার শান্তি নেই।
এতো লোক মরে তোরা মরতে পারিস নে।"
আমি তখন কিছু করিনি কিছু করিনি বলে কাঁদি। আপু এসে
আমাকে মায়ের থেকে ছাড়িয়ে কোলে তুলে
নেয়। আমি সারাটা সন্ধ্যা আপুর কোলের ভীতর
ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকি। আপু আমার হাতে
দশটাকা দেয় কিন্তু আমি নেইনা। আপু আমাকে বলে
"লক্ষি ভাই এবার চুপকর আর কাঁদিস না। আম্মু রাগকরে
তোকে মেরেছে। তুই জানিসনা আম্মু তোকে
কতটা ভালোবাসে।" আমি কিছু বলিনা, আপুর গলা
জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে শুয়ে পড়ি।
রাতের বেলা বুঝতে পারি মা আমার পাশে এসে
বসেছে। আমি তখন চোখ বন্ধকরে শুয়ে আছি।
মা আমার গায়ে হাত দিয়ে বলে " শান্ত! আব্বু উঠে
খেয়ে নাও।" আমি কোনো কথা বলিনা। মা আবার
ডাকে কিন্তু আমি ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকি।
কিছুসময় পর মা আমার পাশে উঠে শুয়ে পড়ে।
তারপর আমাকে কোলে ভীতর জড়িয়ে নিয়ে
মাথায় হাত বুলাতে থাকে।
মায়ের ওপর আমার আজ খুব কষ্ট হচ্ছে। মা
আমাকে আগে কখনো মারেনি কিন্তু আজ
মেরেছে। মা আমাকে আর একটুও ভালোবাসেনা।
আমি মনেমনে বলি "আম্মুর সাথে আমি আর
কখনোই কথা বলবোনা। আল্লাহ আমার আম্মু
যেনো আর কখনো আমার সাথে কথা না বলে।"
.
সেই রাতের কথা গুলো আল্লাহ শুনেছিলো কিনা
আমি জানিনা কিন্তু মায়ের সাথে আমার আর কখনোই
কথা হয়নি। আমি অনেকবার আম্মু আম্মু বলে
ডেকেছিলাম কিন্তু মা কোনো উত্তর দেয়নি।
পরের দিন সকালে মাথার কাছে আপুর কান্না শুনে
আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি তখনও মায়ের
কোলের ভীতর। আমি উঠে বসে মায়ের গালে
হাত দিয়ে অনেকবার ডাকি কিন্তু মা কোনো উত্তর
দেয়না। আমি মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে মুখে মুখ
লাগিয়ে ডাকি তবুও মা কোনো উত্তর দেয়না। আপু
মায়ের হাতটা নিজের মুখে ঘষতে থাকে আর
পাগলের মতো কাঁদতে থাকে।
.
আমি ঐটুকু বয়সে কি বুঝেছিলাম জানিনা, তখন আমার
শুধু মনেহচ্ছিলো আমি আমার মাকে অনেকদূরে
হারিয়ে ফেলেছি।
নিজেকে নিজের কাছে খুব বেশী অপরাধী
অপরাধী লাগতো। আমার মনেহতো আমি আমার
মাকে মেরে ফেলেছি। প্রায় প্রত্যেক রাতে
ঘুমের ভীতর স্বপ্ন দেখতাম আম্মু আমাকে
জড়িয়ে শুয়ে আছে কিন্তু হটাৎ এক ভীষন
অন্ধকারের মাঝে মা হারিয়ে যাচ্ছে। আমি তখন
ঘুমের ভীতর আম্মু আম্মু বলে কেঁদে উঠতাম।
পাশ থেকে আপু আমাকে জড়িয়ে ধরতো।
মাঝরাতে আমরা দুভাই-বোন মা মা করে কাঁদতাম।
.
মা মারা যাওয়ার পরের দিন গুলো আমাদের দু-
ভাইবোনের কাছে বড্ডবেশী কঠিন হয়ে
উঠেছিলো। সেই সময়টাতে কেউ আমাদের
অসহায় মুখের দিকে ফিরেও তাকায়নি। কিন্তু আল্লাহর
রহমত ছিলো আমাদের উপর।
সেই কঠিন সময়ে আমার মায়ের চাচাতো বোন
রেহানা খালা আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলো। শুধু
তাইনয় আমাদের মাথার ওপর বিশাল এক ছায়া হয়ে
ছিলো সবসময়। আমার এই খালা এবং খালুকে আমি
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোমানুষ হিসেবে শিকার করি।
আমাকে নতুন স্কুলে ভর্তি করে দিয়ে খালা আমার
মাথায় হাতদিয়ে বলেছিলো "জীবনে অনেক বড়
হও বাবা। একদম আকাশের মতো বড়, যেনো
মানুষের মাথার ওপর সবসময় সুবিশাল ছায়া হয়ে থাকতে
পারো।"
খালু প্রত্যেকদিন আমাকে নিয়ে নামাজ পড়তে
যেতো। যাওয়ার সময় বলতো "শান্ত বাবা, নামাজ
পড়ে আল্লার কাছে বেশী বেশী দোয়া
করবা। আল্লা যেন তোমার মায়ের ওপর এবং
তোমাদের ওপর রহম করে।
আমার এই খালার একটা মেয়ে ছিলো। তার নাম
রুকাইয়া। আমরা কখনো তাকে দেখিনি। রুকাইয়া আফা
অনেক ছোটবেলায় হারিয়ে যায়।
...................................................
.
এর আরো অনেকদিন পরের কথা। আমি
এইচ.এস.সি. পরিক্ষা শেষ করে আপুর বাসায়
বেড়াতে এসেছি। আপুর বিয়ে হয়েছে দু'বছর
আগে। দুলাভাই এখানের একটা প্রাইভেট
কোম্পানিতে চাকরি করে। দুলাভাই আমার খুব প্রিয়
মানুষ। তিনি সবসময় একটা মোটা ফ্রেমের চশমা
পড়ে কেমন যেনো আদ্ধাতিক ভাবনিয়ে থাকেন
আর ভয়ংকর সব কবিতা লেখেন। মাঝেমাঝে আমার
সামনে এসে বলেন "শালাবাবু, একটা কবিতা শুনবা?"
আমি খুব আগ্রহ নিয়ে মাথা নাড়ায়।
দুলাভাই তখন অদ্ভুত কন্ঠে কবিতা আবৃতি করতে
শুরুকরেন। কবিতা গুলো আমার কাছে খুব জিবন্ত
মনেহয়। মনেহয় একদম জীবন থেকে তুলে
নেওয়া।
সন্ধ্যাবেলা চা খেতে খেতে দুলাভাই আমাকে
বলেন "শালাবাবু মন এতো পড়ালেখার দিকে দিলে
হয়! জগৎ সংসারে কত মেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে
তাদের দিকে একটু মন দাও। এখনইতো উপযুক্ত
সময়।"
আমি চায়ের কাপে একটা চুমুক দিয়ে বলি "প্রেম
করার কথা বলছেন তো? এতে ডাক্তারের নিষেধ
আছে। ডাক্তার বলেছে আমার হার্ট দূর্বল। প্রেম
করলে কেউ বাঁচাতে পারবেনা।"
দুলাভাই বলে "কোন ডাক্তার বললো একথা! সে
বেটা নিশ্চই কারো কাছথেকে ছেকা
খেয়েছে। তুমি একবার প্রেম করে দেখো
তোমার দূর্বল হার্টে এমন শক্তি আসবে তোমার
মনেহবে পুরো দুনিয়া তুমি একাই তচনছ করে
দিতে পারবে।"
আমি মুখ গোমরা করে বলি "আপনার কথা আমি মাথায়
রাখলাম। বিয়ে করে বউয়ের সাথে হরদম প্রেম
করবো।"
দুলাভাই মুখ আরো গোমরা করে বলে "হুর মিয়া, তুমি
সবসময় ক্যাবলা মার্কা কথাই বলো। বিয়ের পর
বউয়ের সাথে কেউ প্রেম করে নাকি? করে
ঝগড়া। এখন প্রেম না করলে আমার মতো বয়সে
এসে বউয়ের সাথে ঝগড়া করবা আর আফসোস
করবা।"
আমি দুলাভাইয়ের মুখের দিকে ফিরে হাসি দেই, ভাই
উঠে বাইরের দিকে চলে যায়।
.
পরের দিন সকালে আপু আর আমি বসে সকালের
খাবার খাচ্ছিলাম। তখনই হটৎ বজ্রপাতের মতো একটা
চমকানো খবর আসে।
আব্বু নাকি অনেক অসুস্থ। তিনি আমাকে এবং আপুকে
শেষ বারের মতো দেখতে চান।
খবরটা শুনে আমি হা করে আপুর দিকে তাকিয়ে থাকি।
আপু আমার দিকে তাকিয়ে আবার স্বাভাবিক ভাবে
খেতে থাকে।
আজ এতোটা বছর আব্বুর সাথে আমাদের
কোনো যোগাযোগ নেই, আব্বু আমাদের
কোনো খোজ নেয়নি। আমরা মরে গেছি নাকি
বেঁচে আছি সেটাও একবারো দেখতে আসেনি।
সেই ছোট বেলা থেকে আব্বুর প্রতি ঘৃণ্যা
ছুড়তে ছুড়তে বড় হয়েছি।
আব্বুকে দেখতে যাওয়ার কথা আপুকে বলতে
সাহস হয়না। আমার চুপকরে থাকা দেখে আপু বলে
"শান্ত তুই যেতে চাইলে যেতে পারিস। কিন্তু আমি
যাবোনা। ঐ লোকটার মরা মুখও আমি দেখতে
চাইনা।" আমি মাথা নিচু করে থাকি কোনো কথা বলিনা।
আমার খুব কৈতুহল ছিলো। ছোটবেলায় আমাদের
প্রতি যে মানুষটার কোনো দয়া ছিলোনা,
কোনোরকম মায়া মমতা ছিলোনা। সেই মানুষটা ঠিক
কেমন করে বাঁচে! কেমন করে থাকে!!!!!!!
অদৃশ্য এক টানে আমি ছুটে যায় আমাদের সেই
পুরানো বসত ভিটায়।
দুপুরের পরপরি আমি আব্বুর কাছে যেয়ে পৌছায়।
আমাদের সেই জরাজির্ণ ঘরের ভীতরে একটা
খাটে আব্বু শুয়ে ছিলো। আমি একটা চেয়ার নিয়ে
খাটের পাশে বসি। তারপর আব্বুর মুখের খানিক
উপরে মুখ নিয়ে ডাকি। পাশ থেকে কে যেনো
বলে দেয় "তোমার ছেলে এসেছে, শান্ত।"
আব্বু কোনো কথা বলতে পারেনা। আস্তে
আস্তে তার হাতটা আমার মুখে বুলাতে থাকে। ঠিক
সেই মুহুর্তে আমার দু'চোখ অশ্রুতে ভিজে
ওঠে।
আমি আব্বুর হাতটা মুখে চেপেধরে বসে থাকি।
সেই ছোটবেলা থেকে যে মানুষটাকে শুধু ঘৃণ্যা
করে বড় হয়েছি সেই মানুষটাকে আজ
বড্ডবেশী আপন মনেহচ্ছে। মনেহচ্ছে
পৃথিবীর সবটুকু মায়া নিয়ে আব্বু আমাকে ছুয়ে
দিচ্ছে।
এতো মায়া নিয়ে পৃথিবীর কোনো বাবা হয়তো
তার সন্তানকে কখনো ভালোবাসেনি। পৃথিবীর
কোনো সন্তান তার বাবার পাশে বসে কখনো
হয়তো এতো মায়া অনুভব করেনি।
আব্বু মায়ের মতো আমার মাথায় হাত বুলাতে থাকে।
আমি তখন আব্বুর বুকের ওপর মাথা রেখে হাও মাও
করে কেঁদে উঠি।
এভাবে কতক্ষন কেঁদেছিলাম জানিনা। কিন্তু একটা
সময় আব্বু চোখ মোটা মোটা করে জোরে
নিশ্বাস নিতে থাকে। পাশথেকে কেউ একজন সূরা
ইয়াছিন পড়তে পড়তে আমাকে বলে "তোমার
বাপের গালে পানি দাও খোকা।"
আমি জোরে জোরে কলেমা শরীফ পড়তে
থাকি আর আব্বুর গালে পানি দিতে থাকি। আমার
ভীতরটা তখন খুব ভেঙেচুরে যাচ্ছিলো। আমি
আব্বুর হাতটা অনেক শক্তকরে ধরে রাখি, একদম
তার জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত।
.
আব্বু মারা যাওয়ার পরের দিন আমি সোজা কক্সবাজার
চলে যাই। তারপর পুরো এক সপ্তাহ আমি কারো
সাথে কোনো কথা বলিনি, কারো সাথে
কোনো রকম যোগাযোগও রাখিনি। আমার
ভীতরটা কেমন যেনো ফাকা ফাকা লাগতো। সারাদিন
শুধু দূরের সাগরের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। দূর
সাগরের শীতল বায়ু যখন আমাকে ছুয়ে যেতো
তখন আমার ভীতরটা হু-হু করে কেঁদে উঠতো।
প্রায় একসপ্তাহ পর আপু আমাকে ফোন দিয়ে
বলে "ভাই তোকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
যেখানে থাকিস তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে আয়। অনেকদিন
তোর মাথায় হাত বুলিয়ে দেইনা আমি"
আমার অশ্রু ভরা দুচোখে তখন আপুর মুখটা ভেসে
ওঠে। পৃথিবীর এতো এতো লোকের মাঝে
একমাত্র এই বোনটা ছাড়া আমার আর আপন কেউ
নেই। আমি ফেনটা কেটে দিয়ে ধরা গলায় বলি
"আমি আসছি আপু। আমি আসছি। আমারো তোমাকে
খুব দেখতে ইচ্ছে করছে...........
.
**********************************
.
(জীবনটা বড্ডবেশী কঠিন। জীবনের সেইসব
কঠিন বাস্তব অনুভূতি গুলো লিখে প্রকাশ করার
ক্ষমতা আমার নেই। গল্পটা সেইসব মানুষদের জন্য,
যার জীবনবোধের সবটুকু দুঃখ ঢেকে সবার
সাথে হাসিমুখে থাকে তারপর রাতের আধারে একা
একা মুখ লুকিয়ে কাঁদে। সবসময় আমার মনের
ভীতর কিছু অসহায় মুখ ভেসে ওঠে। আমার এই
ভেবে খুব খারাপ লাগে যে, তাদের জন্য কিছু
করার ক্ষমতা আমার নেই। সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু
প্রার্থনা করি জীবনের সবটুকু কালো মেঘ সরে
গিয়ে তাদের মুখে যেনো প্রশান্তির এক নির্মল
হাসি ফুটে ওঠে।)
.
- নাজমুল হোসাইন আকাশ।

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ