অনু চুপ করে বসে আছে। রাগে গালটা হালকা লাল
হয়েছে। ওর গাল বর্ন ধারন করলে অদ্ভুত সুন্দর
লাগে। এই সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট বর্ননা আমার কাছে
নেই। তবে লাল বর্ন ধারন করলে তার মুখের
দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। রাগলে সবার গাল
লাল হয়না। সবার রাগী মুখে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা
করেনা। কিছু মুখ ভয়ংকর হতে পারে। আমাদের
কলেজে এমন একজন ম্যাডাম ছিল। দেখতে ইয়া
মোটা আর কালো। রাগলে তার দিকে তাকানো
যেত না। সবাই তাকে ভয় পেত।
.
হাটুগেড়ে অনুর সামনে বসলাম। ভাল করে লক্ষ
করার চেষ্টা করছি। কেন সে রাগ করেছে! রাগ
করার যথেষ্ট কারন থাকতে পারে। কারন ছাড়া কেউ
রাগ করেনা। এতক্ষণে অনুর ক্লিনিকে থাকার কথা।
সে ডিউটিতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ডাক পরবে
-বার নাম্বার বেডে ইনজেকশন লাগবে।
সে তাড়াতাড়ি গিয়ে রোগিকে ইনজেকশন দিবে।
কাজের ব্যাস্ত থাকবে। মাঝেমাঝে একটু সময়
পেলেই আমাকে ফোন দিয়ে বলবে
-কথা বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল।
শুধু কথা বলার জন্য সে ফোন দেয়না। আমার
খোঁজ নেওয়ার জন্য ফোন দেয়।
কিন্তু সেসব কিছুই হয়নি!
.
গায়ে দেওয়া এপ্রোনটা চেয়ারের উপর পরে
আছে। অনু এখনো চুপচাপ। আমার উপস্থিতি টের
পেয়েও সে এভাবে চুপ করে থাকে! বিষন্ন
মনে সে বারবার জানালার দিকে তাকাচ্ছে। আমাকে
দেখেও না দেখার ভান করছে! আমার অপরাধ তার
ফোন রিসিভ না করা। কথা ছিল আজ দুপুরে তাড়াতাড়ি
ফিরলে একসাথে লাঞ্চ করব। দুজনের লাঞ্চ শেষ
হলে আমি তাকে হাসপাতাল পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে।
আমাকে নিয়ে সে হাসপাতালের ভেতরে যাবে।
.
হাসপাতালে আমার বেশ এলার্জি আছে। এখানের
পরিবেশ বিরক্তিকর লাগে। খুব বেশি দরকার নাহলে
যাইনা। তবুও অনুর সাথে দুইবার গিয়েছিলাম। তার
স্টাফদের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
.
অফিসের ব্যাগটা বিছানার উপরে রাখলাম। এটা অনুর
পছন্দ না। ব্যাগ এভাবে যেখানে সেখানে রাখার
কারনে সে বকতে শুরু করে। ব্যাগটা সুন্দর করে
সাজায়, আর আমাকে ঝারে! আমি চুপ করে ওর
কথাগুলো শুনে যাই! কিন্তু আজ কিছুই বলছে না। চুপ
করে বসে আছে।
.
দুপুরে সে অনেকবার আমাকে ফোন দিয়েছে।
কাজের চাপে থাকায় রিসিভ করিনি। রিসিভ করলে অনুর
যত অভিযোগ ঝারা শুরু হত। তারচেয়ে ফোন রিসিভ
না করে নিজের মত কাজ করেছি। এই অপরাধে
সে মুখ ফুলিয়ে এভাবে বসে আছে।
.
-খুব ক্ষুধা লাগছে।
অনু মুখ ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকাল। নীরবতা
ভেঙে বলল
-তো আমি কি করব?
-কিছু খেতে দাও।
-নিজে নিয়ে খেতে পার না!
এখনো রাগ কমেনি। রাগ দিয়ে কিছু রান্না করা যেত!
তবে এখন অনায়াসে মাছ রান্না করা হয়ে যেত!
কিন্তু রাগের তাপ দিয়ে রান্না সম্ভব না।
.
কয়েকপা এগিয়ে ডাইনিং টেবিলের সামনে আসলাম।
অফিস থেকে এসে এখনো ফ্রেশ হইনি।
এভাবেই খেতে চলে এসেছি! ফ্রেশ হয়ে
খেতে না বসলে অনু কথা শুনিয়ে দেয়। মাঝে
মাঝে সেটা বেশি হয়ে যায়। ক্ষুধা নিবারণ করেও
তো ফ্রেশ হওয়া যায়! আজ কিছু না বলায় ভালই
হয়েছে। আগে পেট পুজো করে নেই।
পরে বাকি কাজ দেখা যাবে!
.
প্লেটে ভাত নিতে গিয়ে একটা গ্লাস মেঝেতে
পরে গেল। সাথে সাথে গ্লাসটা ভেঙে
টুকরোটুকরো হয়ে গেল। অনু বেডরুম
থেকে দৌড়ে এসে এই হাল দেখে তাকিয়ে
থাকল। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পরে বলল
-যেটা পার না, সেটা করতে যাও কেন!
-তুমিই তো বললে নিয়ে খেতে।
-একটু অপেক্ষা করলেও তো পারতে! নাকি আমার
রাগের মুল্য নেই!
-আগে খেয়ে নেই। তারপরে তোমার রাগ ভাঙাব।
আমার কথায় অনুর রাগ আগের চেয়ে বেড়ে
গেল। রাগে কান্না করে দিবে এমন ভাব।
.
-ভাত দাও।
অনু আমার প্লেটে ভাত দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকল।
আমি এখনো খাওয়া শুরু করিনি। অনুকে বললাম
-তুমিও বস।
-আমি খাব না।
-আচ্ছা আমিও খাব না তাহলে।
বাধ্য হয়ে অনুও একটা প্লেট নিয়ে বসল।
প্লেটে শুধু ভাত নিয়ে দুজনে বসে আছি। আজ
অনু নিজ হাতে আমার জন্য ডাল রান্না করেছে,
সাথে কৈ মাছের ঝোল,সাথে আলু ভর্তা। এগুলো
আমার প্রিয় খাবার। সে প্রায়ই আমার জন্য প্রিয়
খাবারগুলো রান্না করে। এর জন্য স্পেশাল কোন
দিন লাগেনা। ভালবাসায় সব দিনই স্পেশাল।
.
দুজনেই চুপচাপ। অনু কিছু বলতে গিয়েও বলছে না।
সামনে প্রিয় খাবার দেখেও চুপ করে বসে আছি।
নিজে থেকে নিয়ে খাওয়া শুরু করতে ইচ্ছা হলেও
সে ইচ্ছা দমে রেখেছি। অনুর মুখের দিকে
তাকিয়ে বললাম
-তরকারী দাও।
সে আস্তে করে বলল
-ড্রেস চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে আস।
.
ডাইনিং টেবিল ছেড়ে বেডরুমে চলে এলাম।
ড্রেস চেঞ্জ করে হাতমুখ ধুয়ে নিলাম।
কাজগুলো বেশ তড়িঘড়ি করে করলাম। একে তো
পেটে ক্ষুধা, তারপরে প্রিয় খাবার। সবকিছু মিলিয়ে
কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গেলাম। তবে অনুর রাগ
ভাঙানোটাও জরুরি। আমার কারনেই সে এমন মন
খারাপ করে আছে। অফিসের ব্যাগ থেকে দুইটা
প্যাকেট বের করলাম।
.
প্যাকেট হাতে নিয়ে অনুর সামনে দাঁড়ালাম। আস্তে
করে বললাম
-বউ, ও বউ।
সে চুপ করে আছে। তাই আবার বললাম
-বউ, ও বউ!
সে দাতে দাত চেপে উত্তর দিল
-কি হয়েছে?
প্যাকেট দুইটা তার হাতে দিয়ে বললাম
-সরি।
-কেন?
-ভুলটা আমার হয়েছে।
-তো?
-তাই সরি।
এবারে কান ধরে তার সামনে হাটুগেড়ে বললাম
-সরি, এইযে কানে ধরছি।
-খেতে বস।
.
প্যাকেট দুইটা টেবিলের উপরে রেখে
দিয়েছে। প্যাকেট দুইটা র্যাপিং পেপারে মোরা
দেখে গিফট মনেহয়। এটা দেখে অনুর মনে
কৌতুহল জাগছে। তার কৌতুহল ভাঙার জন্য বললাম
-প্যাকেট খুল।
-খাওয়ার পরে খুলব। আগে খেয়ে নাও।
-আহা! এখন খুলে দেখ।
.
অনু র্যাপিং পেপার খুলল। ভেতরে একটা ডেইরি
মিল্কের বক্স। দেখেই সে হাসতে হাসতে শুরু
করল। চকলেটের বক্স কেউ এভাবে র্যাপিং করে
বাসায় আনে নাকি জানা নেই। তবে আমি এনেছি।
আমার এমন আজগুবি কাজ দেখেই সে হাসতে শুরু
করেছে। অনু রাগ করে থাকলে প্রতিবার কোন না
কোন আজগুবি কাজ করে বসি। যেটা দেখে অনু
হেসে ফেলে। হাসিতেই তার রাগ শেষ।
আরেকটা র্যাপিং পেপার খুলে ক্যাটবেরি বের
করে খেতে শুরু করল। ভাত খাওয়ার সময় কেউ
চকলেট খায়! তবে অনু খায়। এখন সে ভাত খাওয়া বাদ
দিয়ে চকলেট খাবে।
.
অনুর দিকে তাকিয়ে আছি। কিভাবে বাচ্চাদের মত
চকলেট খাচ্ছে! তার এই হাসিমুখটা দেখতে কত ভাল
লাগে সেটা বুঝাতে পারব ন। তার অভিমান ভরা মুখটা
দেখে বারবার প্রেমে পরে যাই,সেটা বোধহয়
তার অজানা। জানলে এমন অভিমান দেখতে পেতাম!
.
ভাত তরকারী ওভাবেই রয়ে গিয়েছে। ভুলেই
গিয়েছি খাওয়ার কথা। পেটের ক্ষুধা ভুলে
প্রেমের ক্ষুধায় মগ্ন হয়ে গিয়েছি। অনু আমাকে
এভাবে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে দেখে
চেয়ার ছেড়ে আমার পাশে আসল। প্লেটে
তরকারী তুলে দিয়ে বলল
-ভাত খাও।
-হ্যা খাচ্ছি।
-লাভিউ।
অনু আমার গালে একটা চুমু খেয়ে আবার সামনের
চেয়ারে গিয়ে বসল। ওর মুখ থেকে গালে
চকলেট লাগলেও সেটার দিকে খেয়াল না করে
আমি ভাত খাওয়া শুরু করলাম। থাকনা চকলেট লেগে,
ক্ষতি কি তাতে!
.
-- Jubaer Hasan rabby
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§
385
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§§ā§Ļ:ā§Ļā§§ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ