রাত দুটো। চাঁদের আলো পড়েছে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার উপর। ওখান থেকে চোখে পড়ে ঘুম ভেঙ্গে গেল।রাত্রে বারান্দার পর্দা টানতে ভুলে গিয়েছিলাম।
কখন যেন ডায়েরিতে পরীর স্মৃতি গুলো পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গেছি।
পুরনো অভ্যেস, মাঝ রাত্রে একবার ঘুম ভাঙলে আর ঘুম আসবে না, চেষ্টা করে লাভ নেই।
.
চোখ মুছতে মুছতে বারান্দায় এসে দাড়ালাম, যে জায়গাটাতে দাড়িয়ে প্রত্যেক রাতে পরীর সাথে কথা হতো।
বাইরের পুরো পরিবেশটা মনে হচ্ছে কেও যেন পুরো শহর জুড়ে সোডিয়াম লাইট চালু করে রেখেছে।
আজকের এই মাঝরাতের চাঁদটা বড্ড বেরসিক। এই চাঁদটা কোন কোন লেখকের জন্য লেখার অনুপ্রেরণা, কোন কোন কাপলের জন্য এক টুকরো ভালোবাসার নিদর্শন, আবার কোন কোন ছ্যাকা পাওয়া প্রেমিকের জন্য বড্ড যন্ত্রনার।
আমার কাছেও চাঁদটা অনেক রোমান্টিক ছিল যখন চারপাশ জুড়ে আমার পরী ছিল, এখন এই চাঁদটাই আমার কাছে গলার কাটা।
.
পরী চলে গেছে। শুধু রেখে গেছে কিছু কষ্টের বিষাদ মাখা স্মৃতি। ওর স্মৃতি গুলো এখনো আমাকে কুড়ে কুড়ে খায়। মেয়াটা বড্ড ভালোবাসতো আমাকে। শেষ যেবার কথা হয়েছিল ও আমাকে বলেছিল আমার জীবনে নাকি এমন কেও আসবে যে ওর চেয়েও আমাকে বেশি ভালোবাসবে। জানিনা আদৌ ভালোবাসবে কিনা, বাসবে কিভাবে? আজ ২ বছর হলো পরী চলে গেছে। অন্যমেয়েকে তো ভাবতেই পারিনা। হয়তো এই নিষ্ঠুর সমাজ একসময় আমাকে বাধ্য করবে অন্য কাওকে নিয়ে সুখে থাকার অভিনয় করতে। আমি পারবোনা কাওকে ঠকাতে। পরীর জন্য আমার বুকের ভিতর যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে তা কোন কিছুর মূল্যেই পূর্ণ হবার নয়। যদি বুকের মাঝে কাওকে যায়গা দিতেই হয়! তবে আমাকে বুকের মাঝে অন্য আরেকটা জায়গা তৈরি করতে হবে।
.
পরীর সাথে আমার পরিচয় ৪ বছর আগের।
কোন কারনে বাইকের হাইড্রলিক ব্রেকটা পুরাপুরি প্রেস করেছিলাম, পড়ে গিয়েছিলাম হাইওয়েতে। শুধু এটুকুই মনে করতে পারছি।
পরে নিজেকে আবিষ্কার করলাম হসপিটালের বেডে।
আমি এখানে কেন? বলে উঠে পড়তে গেলাম, পারলাম না, ব্যাথা অনুভূত হলো। পাশ থেকে একটা মেয়ে কন্ঠ বলল
:আপনার হাত ভেঙে গেছে। বাইক এক্সিডেন্ট করেছিলেন। আমিই আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছি।
:আপনি কে?
:মানুষ!
:মনে হয়না!
:কেন?
:এখন মানুষেরা অন্য মানুষের বিপদ দেখলে নিজেকে গুটিয়ে নেই। আপনি ফেরেস্তা।
মেয়েটা আমার কথায় শুধু হাসছে। খারাপ লাগছেনা। সৃষ্টি কর্তা যাকে এত সুন্দর হাসি, রুপ, গুন, মায়াবী চাহনি দিয়েছে তাকে আমি হাসতে বাধা দিতে পারিনা।
:প্লিজ নামটা বলবেন কি?
:পরী।
:বাহ চেহারার মতই নাম।
:মানে?
:ও আপনি বুঝবেন না।
পরে জানতে পারলাম পরী আমাকে হস্পিটালে না আনলে আমাকে নাকি শেয়াল কুকুরেই খেয়ে যেত।
:আচ্ছা আমার বাসার কেও নেই কেন এখানে ?
:আপনার ফোন আপনার কাছে ছিলনা, তাছাড়া আপনি সেন্সলেস ছিলেন তাই, কারো সাথে কন্ট্রাক্ট করতে পারিনি। আচ্ছা আপনার নাম কি?
:মাসুম।
অনেক কথাই হয়েছিল সেদিন।
এরপর মেয়েটা আমার সুস্থ হবার ২ মাস অনেক খোঁজ খবর নিয়েছে, যতটা আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে, টেক কেয়ার করেছে তা আর কারো পক্ষে সম্ভভ হয়নি।
.
মেয়েটার প্রতি অসম্ভব ভালোলাগা, কৃতজ্ঞতা কাজ করছিল। মনে মনে তার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হলেও বলার সাহশ পাচ্ছিলাম না। যে মেয়ে স্বয়ং বিধাতার মাধ্যমে উছিলা হয়ে আমার জীবন বাঁচালো, অন্তত তাকে আমি প্রেমের প্রস্তাব দিতে পারিনা!!..
আবার পরোক্ষণেই মনে হতো মানুষ ই তো মানুষের জন্য।
.
এক কর্কশ কাক ডাকা দুপুরে তাকে আমি "ভালোবাসার কথা " বলেছিলাম।
মেয়েটা রোদ্রজ্জ্বল গরম দুপুরের ভাপসা গরমের মত না হয়ে বরং শেষ রাত্রের রোমান্টিক চাঁদের মত ভালোবাসা বুলিয়ে দিয়েছিল।। আমার মুখের দিকে তাকিয়েই হয়তো না করতে পারেনি। বিশ্বাস করুন সেদিন আমি ওর চোখে সেদিন সত্যিকারের ভালোবাসা দেখেছিলাম।
মেয়েটা সবসময় বলতো আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলবো মনে হয়। আমি এসব কল্পনাও করতে পারতাম না। সাথে সাথে ওর মুখ চেপে ধরে বলতাম আমি তোমাকে যেতে দিলে তো! পরী আমি আমার দেয়া কথা রক্ষা করতে পারিনি। মেয়েটা শেষ পর্যন্ত আমাকে ছেড়েই গিয়েছিল।
মেয়েটার চাঁদ খুব পছন্দ ছিল। যে রাত্রে চাঁদ উঠতো সেই রাতে পরী ঘুমাতো না।
সারাক্ষণ জেগে ফোনে গল্প করতো, আমাকেও ঘুমাতে দিত না পাগলীটা।
.
.
.
একবার শুনেছিলাম সে নাকি অসুস্থ। তাই ৭-৮ দিন কোন যোগাযোগ ছিলনা। চেষ্টা থাকলেও করতে পারিনি।
এক সন্ধ্যায় একটা চিরকুট পেলাম তাতে যা লিখা ছিল, একটা মানুষের হৃদয়কে পাথরের টুকরার উপর রেখে অন্য পাথর দিয়ে পিষে দেয়ার চেয়েও বেশি।
লেখা:
"মাসুম, আমার জীবনের অতিতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে, তোমার আগে আমার লাইফেও একটা ছেলে ছিল, সে আমার দূর্বলতা নিয়ে জোরপূর্বক হায়েনার মত আমার শরীর ভোগ করেছে।
চেয়েছিলাম না তোমার ভালোবাসা গ্রহন করতে। কিন্তু তোমার দিকে তাকালে বুঝতে পারতাম ওই চোখে আর যাই থাকুক, আমার জন্য ভালোবাসাটা খুব ছিল। আমি যে বড্ড বেশি ভালোবাসার কাঙালিনী। তাই নিষেধ করতে পারিনি। তবে আমি মোটেই তোমার যোগ্য না। তুমি ভেবো না আমি তোমাকে ভালোবাসিনা, অনেক ভালবাসি। আর ভালোবাসি বলেই আমার মত একটা নষ্ট শরির নিয়ে তোমার ঘরে যেতে পারবোনা। তোমাকে দেয়ার মত যে কিছুই নেই আমার।
একটা ডিভোর্স হওয়া ছেলের সাথে আমার পরিবার বিয়ে ঠিক করেছে, আমি তাতে মত দিয়েছি। প্লিজ তুমি যদি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো তবে আমার সাথে আর যোগাযোগ করোনা।
ভালো থেকো, তোমাকে যে আমার জন্য ভালো থাকতে হবে"।
.
চিরকুট টাতে ফোঁটা ফোঁটা পানির ছাপ দেখত পেলাম, বুঝতে কষ্ট হলোনা, ওটা পরীর চোখের জলের ছাপ ছিল।
বড্ড কষ্ট নিয়ে মেয়েটা এতবড় কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
.
.
.
এত কিছু ভাবতে ভাবতে কখন যেন এক ফোটা পানি চোখ থেকে হাতে এসে পড়লো। রাত জাগা কিছু কুকুরের ডাকের শব্দে কল্পনা থেকে ফিরে আসলাম বাস্তবে।
.
মেয়েটা আসলেই বুঝতে পারেনি আমাকে। শুধু শরীরেই যে ভালোবাসা থাকেনা। ভালোবাসা আল্লাহর দান। আমি তো শরীর চেয়েছিলাম না। শুধু ওর ভালোবাসা চেয়েছিলাম।
পরীকে মনে পড়ে বুকের বাম পাশটা কেমন ব্যাথা করছিল। মনে হলো একটা ফোন করি ওকে। কিন্তু ও কি আমাকে চিনবে? বা ওর সেই নাম্বার কি এখনো খোলা আছে? আর এত রাত্রে ওকে ফোন করা ঠিক হবে? ওর তো বর আছে!
অনেক সন্দেহ নিয়ে ফোনবুকে নাম্বার খুঁজলাম, পেলাম না। মুখস্ত নাম্বার টি আমার বুকে ঠিক ই লেগে ছিল।
ফোন দেয়ার সাথে সাথেই রিসিভ হলো, যেন ওপাশ থেকে কেও আমার জন্যই ফোন নিয়ে অপেক্ষা করছিল। একটা দীর্ঘস্বাস শুনতে পেলাম, বুঝতে কষ্ট হলোনা এ যে আমার সেই পরী।
কেও কাওকে সেদিন কিছু বলতে পারিনি। শুধু একটু যা হয়েছেল তা শুধুই অনুভব।
একটা বাচ্চা কন্ঠে কান্নার শব্দ পেলাম ফোনের ওপাশ থেকে, বুঝতে কষ্ট হলোনা পরীর বাচ্চা হয়েছে।
এরপর একটা পুরুষ কণ্ঠে ডাক শুনতে পেলাম: "পরী মেয়ে কাঁদছে", তুমি এত রাত্রে বারান্দায় কি করছো, ওকে থামাও। আমাকে একটু ঘুমাতে দাও প্লিজ।
কিছু বলতে চাওয়ার আগেই ফোন টা কেটে গেল।
.
অনেক অজানা শঙ্কা আমাকে গ্রাস করে ফেলল।
তাহলে কি পরী এখনো আমাকে ভুলতে পারেনি?
পরী কি তাহলে আমাকেই ভাবছিল?....
ওকি এখনো চাঁদনীরাতে রাত জাগে?
পরী কি তাহলে আসলেই সুখে নেই........
[ভুল ত্রুটি মার্জনীয়]
.
#কষ্ট_স্মৃতি
লেখাঃ Md Nazmus Sakib (রাজকুমারীর খোঁজে)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§
365
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧝:ā§Ģā§Š AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ