āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

438

বাসে প্রচন্ড ভিড় থাকা সত্বেও ঠেলে উঠতে হয়েছে।
কারণ তাড়া আছে অনেক।বাসায় গর্ভবতী স্ত্রী
অপেক্ষা করছে আমার জন্যে।বাসায় সে একা।
বাসায় যাওয়ার পূর্বে দই কিনে নিলাম।বাসায় যেয়ে
দরজা খুলে ভিতরে যেয়ে দেখলাম রিয়া ঘুমোচ্ছে।
তাড়াতাড়ি পোশাক পরিবর্তন করে রান্নাঘরের দিকে
পা বাড়ালাম।দুধ গরম করলাম।আর ডিম সিদ্ধ করলাম।
রুটি বানানোর জন্যে গরম পানি বসালাম।আটাতে গরম
পানি মিশালে রুটি নরম হয়।
আটাকে যত বেলুন দিয়ে গোল করতে চাচ্ছি ততই
খারাপ হচ্ছিল।অবশেষে হাত দিয়েই গোল করলাম
টেনে টেনে।
বিয়ের আগে রান্নাঘরে পা দিলেও শুধু ডিম আর চা
বানানোর জন্যে দিতাম।আজ একটা ছোট্ট সংসারের
সব রান্নাই মোটামুটি পারি।
কিছুক্ষণ পরই বেডরুম থেকে রিয়ার শব্দ কানে
আসে,তুমি এসেছো?
আমি রুমে যেয়ে দেখলাম রিয়া উঠতে চাইছে।আমি হাত
ধরে উঠতে সাহায্য করলাম।
খাবারের টেবিলে বসে চুপ করে ছিলাম।রিয়া খাচ্ছিলো
সেটা নিচু হয়ে দেখছিলাম।
'একটা কথা বলব? রিয়া হঠাৎ বলল।
আমি বললাম,বল।
রিয়া খাওয়া বন্ধ করে বলল,তুমি কি আসলেই সুখী?
সত্যটা বল।
রিয়ার প্রশ্নের উত্তরটা "না" বলার কোনো অর্থ
আমার কাছে ছিলোনা।একরুমে থেকেও দুজনে অচেনার
মত থাকি।তবে আমি শুধু এতটুকুই চেয়েছিলাম আমার
জীবনে রিয়ার জায়গা যেনো পার্মানেন্ট হয়,আর রিয়ার
জীবনে আমি।
সুতরাং আমি বললাম,হ্যা।অনেক সুখী আছি।(হাসি দিয়ে)
রিয়া খাবার রেখে চলে গেলো রুমে।তারপর দরজা
আটকিয়ে দিলো।
রিয়াকে প্রথম দেখেছিলাম ভার্সিটির গেটে।তখন
থেকেই কল্পনায় তাকে নিয়েই ঢুবে থাকতাম।আম
গাছের নিচে কতদিন যে চোখ বুঝে রিয়াকে নিজের বলে
কল্পনা করেছি তার হিসাব নেই।কল্পনাতে রিয়া আর
আমি ছিলাম প্রথমে।এরপর ছোট্ট একটা মেয়েও এসে
পড়ে।ছোট ছোট পা মেয়েটির।ছোট ছোট কচি হাত।
রিয়াকে আম্মু আর আমাকে আব্বু বলে গালে চুমু দেয়।
ক্লাসমেট হিসেবে রিয়ার সাথে ভালো বন্ধুত্ব
ছিলো।আর বন্ধুত্বটাই আমার ভালোবাসার কথাটা
তাকে বলতে না পারার কারণ।
অবশেষে একদিন এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারলাম
রিয়া প্রেগন্যান্ট।একটা ছেলের সাথে রিয়া প্রায়ই
ঘুড়তে যেত। ছেলেটা নাকি এখন রিয়াকে বিয়ে করতে
অস্বীকৃতি জানায়।রিয়াকে বাসা থেকে বের করে
দিয়েছে। এক বান্ধবীর বাসায় উঠেছে সে। গোলগাল
চেহারায় মায়াবী একজোড়া চোখের অধিকারী মেয়েটার
এই অবস্থা চোখের সামনে দেখতে পারিনি।
সেজন্যেই বন্ধুকে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেই রিয়াকে।
রিয়া প্রথমত রাজি হয়নি।তার ভয় ছিলো আমার
ক্যারিয়ার নিয়ে। তবে সত্য বলতে আমার ভয় ছিলো
তাকে নিয়ে।তার অনাগত সন্তানকে নিয়ে।
বাসায় একথা জানালে সবাই রিয়াকে মানতে অস্বীকৃতি
জানায়।অবশেষে পরিবারের অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করি।
বড়লোক বন্ধুর সুবাধে চাকুরীও পেয়ে যাই তার বাবার
অফিসে।
এভাবেই রিয়াকে আজীবনের জন্যে আপন করে নেই।
তবে তার একটা অভিযোগ রয়েছে।সেটা হলো তাকে
এভাবে ভালোবেসেই নাকি আমি পৃথিবীতে সবচেয়ে বড়
ভুল করেছি।
আমিও বলি যে এই সবচেয়ে ভুলটা যদি আমার তার
প্রতি ভালোবাসাটা হয়,তাহলে আমি এইরকম হাজার
ভুল করতে পারি।
মেয়েটার এই নিষ্পাপ ভাবনার কথা মনে পড়লেই বুকটা
কেপে উঠে সেই নরপিশাচের জন্যে।যে আমার রিয়াকে
আজ সমাজের নিকট এইরকম করেছে।
রাতে খেয়েদেয়ে ঘুমোতে গেলে দেখলাম রিয়া
ঘুমোচ্ছে না।
--শরীর খারাপ?
--না,ভাবছি।
--কি ভাবছো?
--ভালবাসা ভুল নাকি কাওকে বিশ্বাস করা ভুল?
কথাটা বলার কারণ বুঝেছিলাম।তাই উত্তরটা তাকে
বুঝিয়েই দিলাম।তার মাথার এলেমেলো চুলগুলো
কপাল থেকে হাত দিয়ে সড়াতে সড়াতে বললাম,
একটা মেয়েকে যখন তার প্রিয় মানুষটি জিজ্ঞেস করে,
তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো? তখন মেয়েরা
বোকার মত উত্তর দেয়, জীবনের থেকেও বেশী। আর
তখনই ছেলেটা মেয়েটাকে ছাদ থেকে লাফ দেয়ার মত
দুঃসাহসী কাজ করতে বলে।মেয়েটাও ছাদ থেকে লাফ
দেয়।মেয়েটা ভুলে যায় জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু
নেই।মেয়েটা তার জীবনকে ছেলেটার ভালোবাসার
কাছে বিক্রি করে দেয়।সে ভেবেছিলো ছেলেটি শেষ
মুহুর্তে হয়তো তার হাতটা ধরবে।কিন্তু না!
ছেলেটা তার হাত ধরেনা,ধরে অন্যকারো হাত।
.
কথা বলা শেষ করলে রিয়া আমার বুকে ওর মাথা রেখে
ডুকরে ডুকরে কেঁদে বলে,আমি অনেক বোকা তাই না?
নিজের জীবনটাকে বিক্রি করে দিয়েছি।
আমি শান্তনা দিতে পারছিলামনা।চোখ থেকে জল
গড়াচ্ছে। তবুও তার পিঠে হাত বুলিয়ে বললাম,আমি
আবার ফেরত আনবো।চিন্তা নেই।
.
দিনে দিনে মেয়েটা ভেঙ্গে পড়ছে অনেক।তার
দেখাশোনার জন্যে হলেও একজনকে দরকার
এইসময়ে। সারাদিন বাসায় একা একা কতক্ষণ থাকা
যায়।ভাবলাম পরেরদিন কিছু বই নিয়ে আসবো।বই
পড়লেও সময়টা ভালো কাটবে।বই মানুষের সবচেয়ে
ভালো বন্ধু।
পরেরদিন সকালে উঠে নাস্তা তৈরি করে অফিসের
জন্য তৈরি হলাম।তৈরির সময় রিয়ার ঘুমন্ত মলিন
চেহারায় দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ।নিষ্পাপ
পাপড়িগুলো বারবার এদিক ওদিক নড়ছে। রিয়ার মাথায়
হাত বুলিয়ে চলে আসি অফিসে।
আসার সময় ভাবলাম কাওকে না কাওকেতো থাকা
লাগবেই তার পাশে এই মুহুর্তে। তবে বিশ্বস্ত লোক
পাওয়া বড়ই মুশকিল আজকাল।
তবে বিশ্বস্ত লোক পেতে আর সময় লাগেনি।রিয়ার
মাকে ফোন দিয়ে বলতেই উনি রাজি হয়ে যায়।বাসায়
এসে দেখলাম তার পরিবারের সবাই তারপাশে।
অনেকটাই চিন্তামুক্ত মনে হলো।রিয়াকে আজ
অনেকদিন পর হাসিখুশী দেখছি।কিছু ভালো বই নিয়ে
এসেছিলাম তার জন্যে। রিয়ার বাবা মা এখানেই থাকতে
চাইলেন রিয়ার সন্তান হওয়ার আগ পর্যন্ত।মেয়েটার
মুখের পুরোনো হাসি দেখে মনে হচ্ছে এই রিয়াই সেই
আগের রিয়া।তার কিছুই হয়নি।
মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গলে রিয়াকে দেখলাম জানালার পাশে
বসে আছে।ঘুম থেকে উঠে সামনে যেতেউ দেখলাম
চোখে জল।আমায় দেখে হাত দিয়ে তাড়াতাড়ি করে
মুছতে চাইছে।
--তুমি কি আমার সাথে সুখী?
--তোমার মত মানুষ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
--তুমি যদি মনে কর আমি তোমায় করুণা করছি
--তাহলে বলবো আমায় ছেড়ে চলে যাও।তবে যাওয়ার
--আগে বাচ্চাটাকে দিয়ে যেও।
কথাটা যেনো রিয়াকে বড়ই বিস্মিত করলো। অবাক
চাহনি নিয়ে তাকিয়ে রইলো খানিকক্ষণ। হয়তো সে
ভাবছিলো যে ছেলের পিতা আমি নই,সেই ছেলের
জন্যে আমার এত টান কেন!
আমার টান কারণ ছেলেটা রিয়া।আমার ছেলে আর রিয়ার
ছেলে দুটোই এক।
আর জন্ম দিলেইত সবসময় পিতা হওয়া যায় না।
দেখতে দেখতে ডেলিভারির তারিখ নিকটে এসে
পড়লো।হঠাৎ একদিন অফিসে ফোন এলো রিয়ার
বাবার মোবাইল থেকে। রিয়াকে নিয়ে তারা হাসপাতালে
যাচ্ছে।
ছুটে গেলাম হাসপাতালের দিকে।সারা শরীর ঘামে ভিজে
গিয়েছিলো।
প্রায় দুই কি আড়াই ঘন্টা পর ছেলে সন্তানের বাবা
হওয়ার সুসংবাদ পেলাম।তবে সবাইকে তখনও কিছু
বলিনি।
মাস্টার্স কমপ্লিট হওয়ার পরই চাকুরীটা ছেড়ে দেই।
অন্য এক অজানা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেই।কারণ
ছিলো কেও যেনো ছোট থেকেই আমার ছেলেকে
অন্যের ছেলে বলে বিভান্ত করতে না পারে। সময় হলে
সে নিজেই একদিন জানবে।কারণ সত্য কোনদিন
গোপন থাকেনা।ছেলে সবুজ যেনো রিয়া আর আমার
ভিতরে ভালোবাসার অধ্যায়ের সূচনা হয়ে এসেছে। সে
এখন আমাদের বাবা, মা বলে গালে চুমু দিতে পারে।
আমাদের দুজনের মাঝে থেকে দুজনের হাত ধরে সেতুর
মত দুজনকে এক করে রেখেছে।অন্যরকম
ভালোবাসার বন্ধন আমাদের।
.
ভালো থাকুন।সুস্থ থাকুন।আর গল্প পড়ুন এবং
অন্যকেও গল্প পড়তে উৎসাহী করুন।সকলের জন্য
শুভ কামনা।আল্লাহ হাফেজ।
.
লিখাঃশিশির আহমেদ(অনুভূতিহীন মানুষ)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ