চোখ গরম করে আভার দিকে তাকালাম। আমি রেগে গিয়েছি! রেগে গেলে মাথা প্রচন্ড গরম হয়ে যায়। কখনো হিতহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। রাগের বশে কখন কি বলে ফেলি জানিনা। একবার আমার এক বন্ধুকে রেগে গালি দিয়েছিলাম। তারপরে সে তিনদিন আমার সাথে কথা বলেনি!
.
আভা আমার রাগ অপেক্ষা করে মুচকি মুচকি হাসছে। এই মেয়ের সমস্যা কি বুঝিনা! যখন তখন মাথায় উদ্ভোট সব চিন্তা জেগে বসে। কি করে সে নিজেও বোধহয় বুঝতে পারেনা। তার মুচকি হাসি দেখে বললাম
-হাসি বন্ধ কর।
-কেন!
-এভাবে হাসছ কেন?
-আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই হাসছি।
-তোমার ইচ্ছা হলেই সবকিছু করবে!
-হ্যা। আমি এখন বৃষ্টিতে ভিজব।
-না ভেজা যাবেনা।
-আমি ভিজব।
.
প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। দুইদিন ধরে জমে থাকা মেঘ আজ ঝরে পরছে যেন! বাসা থেকে বের হবার আগে ছাতা নিয়ে বের হওয়া উচিত ছিল। ভেবেছিলাম দুইদিনের জমে থাকা মেঘে যখন বৃষ্টি হয়নি! আজও হবেনা! কিন্তু পথে এসে বিপাকে পরতে হল।
আভাকে সাথে নিয়ে শপিং এ গিয়েছিলাম। শপিং বলতে বাসার কিছু জিনিসপত্র। আভা নিজেই এসব জিনিস কিনতে পারে। এর আগে অনেকবার কিনেছে সে! কিন্তু এবারে সে একা আসতে রাজি নয়। আমার অফিসে ছয়দিনের জন্য ছুটি দিয়েছে। আজ তার প্রথম দিন। ভেবেছিলাম এই ছয়দিন ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিব।
.
ছাত্রজীবনে দিনে অনেক ঘুমিয়েছি। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পরে সেটা হারিয়ে ফেলেছি। বিয়ের পরে সেটা আরো খুব ভালভাবে হারিয়ে ফেলেছি। সপ্তাহে একদিন ছুটি পেলেও সেটা কোন না কোন কাজে কেটে যায়। কখনো ঘরের কাজ, আবার কখনো বাজার বা অন্য কাজ লেগেই থাকে। এবারে ছয়দিন ছুটির কথা আগেই জানতাম। তাই শুক্রবারে সব কিনে রেখেছিলাম। কিন্তু আভার মত একটা বউ ঘরে থাকলে দিনের ঘুম সম্ভব নয়!
আজকে সে শুধু শপিং এর জন্য আমাকে নিয়ে বের হয়নি। এটা শুধুই অছিলা। আমাকে নিয়ে সে ঘুরবে, এটাই মুলত কারন।কিন্তু বৃষ্টির জন্য সেড়া ভেস্তে গেল।
.
-আমি বৃষ্টিতে ভিজব।
আভার এমন বাচ্চামি স্বভাব দেখে হাসি পেয়ে গেল। বাচ্চাদের মত করে সে বলছে ভিজবে!
আমি কড়া গলায় বললাম
-ভেজা যাবেনা।
-চলো না ভিজতে ভিজতে আজ বাসায় যাই।
-কি! পাগল হয়েছ! পকেটে মোবাইল আছে।
-তো কি হয়েছে! দোকান থেকে একটা পলিথিনের প্যাকেট নেই। তারপরে মোবাইল প্যাকেটে ঢুকালেই হবে।
-না। কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর। বৃষ্টি থামলে আমরা বাসায় যাব।
.
বৃষ্টির গতি এখন একটু কমেছে। রাস্তার পাশের যাত্রীছাউনির এখানে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে তেমন লোকজন নেই। রাস্তায় ও মানুষ নেই তেমন। গাড়িও দেখা যাচ্ছে না। একটা সি এন জি অথবা ট্যাক্সিক্যাব পেলেও হত! কপাল খারাপ বলেই এখানে আটকা পরে আছি।
.
আভা হঠাৎ করে রাস্তায় গিয়ে ভিজতে শুরু করল। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। তাকে যেতে বারন করলাম। তবুও সে গেল! মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। আভাকে ডাক দিলাম। ও বৃষ্টিতে ভেজা বাদ দিয়ে যাত্রীছাউনিতে এসে বলল
-তুমিও এস। আজ ভিজেই বাসায় যাব।
মেজাজ গরম থাকায় ঠাস করে তার গালে একটা থাপ্পড় মারলাম। সবকিছু যেন শান্ত হয়ে গেল। বৃষ্টির গতিও কমে গিয়েছে এতক্ষণে। আভা আমার পাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।
একটা সি এন জি দেখে ডাক দিলাম। সি এন জি কাছে আসতেই আভাকে বললাম
-উঠ।
সে চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসল।
.
বৃষ্টি থেমে গিয়েছে। মাঝেমাঝে গুড়ি বৃষ্টি পরছে। তবে আকাশ থেকে মেঘ কাটেনি। আবার যখন তখন বৃষ্টি শুরু হতে পারে। ভেজা রাস্তায় গাড়ি সি এন জি ছুটছে।
বাসার কাছাকাছি এসে সি এন জি থামল।
সি এন জি থামার সাথে সাথে আভা নেমে হনহনিয়ে বাসার দিকে হাটতে থাকল। এখান থেকে দুই মিনিট হাটলেই আমাদের বাসা। সি এন জিকে বাসা পর্যন্ত যেতে বললে সে রাজি হল না। বাধ্য হয়ে এখানেই নামলাম।
ভাড়া মিটিয়ে ব্যাগ হাতে হাটতে থাকলাম। রাগ করে সে ব্যাগ রেখেই চলে গিয়েছে। আমাকেই এখন সব ব্যাগ বহন করতে হবে।
.
বাসায় ঢুকতে না ঢুকতেই আবার বৃষ্টি শুরু হল। লিফটের সামনে এসে সুইচ টিপে অপেক্ষা করতে থাকলাম। লিফট আসতে দেরি হচ্ছে! তাহলে আভা আগেই বাসায় ঢুকে পরেছে। বাসার চাবি ওর কাছেই ছিল। তাই বাসায় যেতে সমস্যা হবেনা।
লিফট আসতেই ভিতরে ঢুকে পাঁচ নাম্বার বাটনে চাপ দিলাম। আমরা এই বিল্ডিং এর ছয় তলায় থাকি।
.
লিফট থেকে নেমে বাসায় ঢুকলাম। আভা বেডরুমে বসে আছে। ব্যাগগুলো নামিয়ে আভার পাশে গিয়ে বসলাম। সে গাল ফুলিয়ে বসে আছে। এভাবে থাপ্পড় দেওয়া ঠিক হয়নি। রাগের মাথায় কেন যে এমন করলাম। আভার হাত ধরতেই সে ঝটকা মেরে হাত ছাড়িয়ে নিল। বুঝলাম মহারাণীর খুব রেগে আছেন। আস্তে করে বললাম
-সরি।
-কোন দরকার নেই।
-খুব রাগ উঠে গিয়েছিল। তাই...
-আমি বৃষ্টিতে ভিজতে চাইলেই তোমার যত রাগ উঠে তাইনা! যত সমস্যা আমার বেলায়!
-বৃষ্টিতে ভিজলেই তোমার জ্বর আসে।
-আসলে আসবে। তাতে তোমার কি!
-জ্বর আসলে আমার লস। আমার রান্না করে দিবে কে!
-হ্যা। আমি তো তোমার বাসার কাজের মানুষ তাইনা!
.
আভা রেগে আগুন হয়ে আছে। একটু বাড়াবাড়ি করলেই যখন তখন ঝলসে যাবে যেন! ওর রাগ কমানোর জন্য বললাম
-এই বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
-তো!
-চলো না ছাদে যাই।
-আমার জ্বর আসবে। তুমি যাও।
আমি ওর কাছাকাছি মুখটা এগিয়ে দিয়ে বললাম
-ওকে। একটু আগে পাশের বাসার সুপ্তিকে ছাদে যেতে দেখলাম। এবারে আমিও যাই।
বিছানা ছেড়ে দাঁড়াতেই আভা বলল
-দাড়াও। আমিও যাব।
-তোমার জ্বর আসবে।
-তবুও যাব।
-না যেতে হবে না।
-আমি যাব বলছি। আর কোন কথা নয়। চলো ভিজব।
.
বাসার দরজা লাগিয়ে সিড়ি বেয়ে ছাদে উঠতে শুরু করলাম। আভা আমার পিছন পিছন আসছে। পিছন থেকে ডেকে বলল
-এই, আমার না পায়ে ব্যাথা করছে।
ওর কথা শুনে আমি হাসলাম। আমার হাসি দেখে সেও হাসি দিল। যেটাকে দুষ্টামির হাসি বলে। আমি ওকে কোলে তুলে নিলাম। তার পায়ে ব্যাথা নেই। কোলে উঠার জন্য একটা অজুহাত।
বুঝলাম এবারের ছুটিও আয়েশ করে কাটানো যাবে না। বৃষ্টিতে ভিজেই আভার জ্বর আসবে। তার সেবা করতে করতেই সময় শেষ! তবে ভালবাসার মানুষটির পাশে থেকে সেবা করতে খারাপ লাগেনা।
আভাকে কোলে নিয়ে ছাদের দিকে হাটতে থাকলাম। আজ হোক দুজনের বৃষ্টিবিলাস। অসুখের তোয়াক্কা নাই-বা করলাম!
Jubair hasan rabby
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ