সেমাই খাওয়ার গল্প
----------------------------------------------------
< হ্যালো বাবু কই তুমি ? ( আয়েশা)
< এই তো বাসায় ঘুমোচ্ছি কিন্তু কেন? (আমি)
< এই জানো?? আজকে আমি সেমাই রন্না করছি (আয়েশা)
< ভাল করছো তো আমাকে বলতেছো কেনো! (আমি)
< আরে তোমার জন্য- ই তো করলাম (আয়েশা)
< না আমি সেমাই খাই না সেমাই খাওয়া ছেড়ে দিছি (আমি)
< আরে এতো কষ্ট করে রান্না করলাম আর তুমি খাবা না বললেই হল ?(আয়েশা)
< আরে ভাই ঐ রাতের পর থেকে আমি সেমাই খওয়া ছেড়ে দিছি (আমি)
< হি হি হি (আয়েশা)
< এই মেয়ে একদমি হাসবা না খুন করে ফেলবো হাসলে ( আমি)
< ওকে হাসবো না তবে ঐ রাতের কথা টা আমি ও ভুলতে পারিনি আর পারবো বলে মনে ও হয় না। তবে ঐ রাত টার কথা মনে হলে এখন কেনো জানি হাসি পায় আমার ( আয়েশা)
< আসলে ঐ রাত টা ভুলার মত ছিল না।এইরকম কিছু রাত বা দিন থাকে যেই গুলা চাইলেও ভুলা যায় না । ঐ রাতের কথা মনে পড়লে আমিও নিজের অজান্তেই হাসি তবে আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া যে উনি ঐ রাতে হেফাজত করেছিলেন।
ওহো! আমাদের পরিচয় - ই তো দেওয়া হয়নি!....
আমি রোহান এই বছর অনার্স ২য় বর্ষে পড়ছি। আয়েশা নামের ঐ মেয়েটির সাথে আমার দু বছরের রিলেশন মেয়েটি একটু চঞ্চল প্রকৃতির সব সময় — ই হাসি খুশি মেতে থাকে। আবার একটু সাইকো টাইপের ও যেকোন সময় ইমোশনাল হয়ে যেকোন কিছু করে ফেলতে পারে!! এই ধরনের মেয়ে গুলা একটু ভয়ানক টাইপের ও বটে । এই তো দু বছর আগে ও যখন প্রোপোজ করেছিল আমায় তখন আমি না করেছিলাম । তারপর ও হাত কেটে ফেলেছিল!!! এই রকম প্রায় -ই পাগলামি করে মেয়েটা। এই পাগলামি গুলা ভালই লাগে তবে এইরকম পাগলামি গুলা মাঝে মাঝে বিপদের কারন হয়ে দাড়াঁয় !!! আমার এই গল্পটি তেমন- ই একটি বিপদের রাতের গল্প এই তো কিছু দিন আগের কথা .....
< হ্যালো এই কই তুমি এতো দেড়ি লাগে কেনো আসতে ?আমি আর কত বসে থাকবো ? ( আমি )
< এই তো চলে আসছি রিকশাতে আর দু মিনিট লাগবে প্লিজ রাগ করো না ( আয়েশা)
< এই তো চলে আসছি বাবু তুমি কখন আসছো? ( আয়েশা)
< এই তো মাত্র ২২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড হইছে ।( আমি)
< এই রাগ করছো তুমি ???? ( আয়েশা)
< না রাগ করবো কেনো আর আমার তো রাগ - ই নাই ( আমি)
< এই শুনো একটা ভাল সংবাদ আছে ( আয়েশা)
< সরি আফা আমার ভাল সংবাদ শুনার মোড নাই এখন ( আমি)
< আরে শুনো তো আজকে রাত্রে তোমাকে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াবো আমি ( আয়েশা)
< এই শুনো এমনতেই দেড়ি করে আসছো মেজাজ খারাপ হয়ে আছে । আর ফাইজলামি করবা না বলে দিচ্ছি( আমি)
< আরে বাবা! ফাইজলামি না আপুর সিজার হবে তো তাই রাত্রে আম্মু আব্বু হসপিটালে থাকবে (আয়েশা)
< সত্যি???( আমি)
< হুম সত্যি( আয়েশা)
< ইয়েস ইয়েস!( আমি)
< এই কি হইছে তোমার এমন ইয়েস করছো কেনো!?? ( আয়েশা)
< উম্মাহ বাবু আচ্ছা শুনো তুমি বাসায় যাও ভাল করে রান্না কর যেয়ে আমি আসতেছি... ( আমি)
< এই তোমার না মন খারাপ ছিল! ( আয়েশা)
< ছিল তবে এখন ভাল হয়েগেছে ( আমি)
< ও আচ্ছা তাহলে যাই আমি সন্ধ্যায় চলে আইসো আর গেইটের সামনে এসে একটা ফোন দিও আমাকে ( আয়েশা)
< উখে বাবু যাও .......
অত:পর রাত্রে গিয়ে আয়েশার হাতে রান্না খেলাম তরকারীতে লবন দিতে মনে ছিল না ! তবুও ও খাইয়ে দিছিল অন্যরকম-ই একটা স্বাদ ছিল।
অত:পর রাত ২ টার দিকে বাসায় ব্যাক করলাম। এর পরের দিন সন্ধ্যাবেলায় আয়েশা আবার ফোন দিল .......
< এই বাবু কোথায় তুমি? (আয়েশা)
< এই তো মাঠে আসছিলাম খেলতে তবে খেলা হবে না তাই মাঠেই বসে আছি ( আমি)
<এই শুনো সন্ধ্যার দিকে আমাদের বাসায় চলে আইসো। আজকেও আব্বু আম্মু হসপিটালে থাকবে রাত্রে ।
আজকে তোমাকে সেমাই রান্না করে খাওয়াবো (আয়েশা)
< এই না আজকে আসতে পারবো না।
বেশি কোন কিছুই ভাল না। ( আমি)
< এই তোমাকে আসতে বলছি না? ( আয়েশা)
<সরি বাবু রাগ করো না আমি আজকে আসতে পারবো না ( আমি)
< এই শুনো তুমি যদি না আসো তাহলে উল্টা পাল্টা কিছু করে ফেলবো আমি( আয়েশা)
< উল্টা পাল্টা করবা মানে কি! ?( আমি)
< তোমার বুঝতে হবে না । তুমি যদি না আসো তাহলে আমাকে আর পাবে না (আয়েশা)
<এই পাব না মানে কি!?
তুমি এই গুলা কি বল হুম? ( আমি)
< এই শুনো তুমি যদি না আসো তাহলে আগে তো একটা হাত কাটছিলাম এখন দুটোই কাটবো (আয়েশা)
< আরে তুমি এই সব কি শুরু করছো হুম? ???(আমি)
< তুমি আসবা কি না হ্যা / না তে উত্তর দাও? (আয়েশা)
< আচ্ছা যাও আসবো এখন তো পাগলামি টা বন্ধ কর ( আমি)
< উখে চলে আইসো সন্ধ্যার দিকে ( আয়েশা)
< হুম আসবো এখন ফোনটা রাখি ( আমি)
< ওকে রাখ বায় ( আয়েশা)
অতঃপর সন্ধ্যার দিকে আয়েশার বাসার সামনে এসে আয়েশা কে ফোন দিলাম ....
< হ্যালো এই শুনো আমি তোমার বাসার গেইটের সামনে দাড়িঁয়ে আছি গেইট টা খুলো ( আমি)
< এই শুনো আমার ফুফাতো ভাই টা টিভি দেখতেছে ড্রয়িংরুমে বসে কি করবো বুঝতেছি না ???( আয়েশা)
< তোমাদের বাসায় ওর টিভি দেখতে হবে কেনো? ওদের টিভি কি হইছে? ( আমি)
ওদের টিভি টা নষ্ট হয়েগেছে তাই আমাদের টা দেখতেছে কিন্তু ওকে বাসা থেকে বের করবো কি করে? ( আয়েশা)
< এই শুনো তুমি একটা কাজ কর মেইন সুইজটা অফ করে দাও তাহলেই চলে যাবে ও ( আমি)
গুড আইডিয়া একমিনিট দাড়াঁও মেইন সুইজ অফ করতেছি..... ( আয়েশা)
অত:পর আয়েশা মেইন সুইজ অফ করার পর ও ফুফাতো ভাই বাসা হতে বেড়িয়ে গেল। তারপর আমি বাসায় ডুকলাম আজকের সেমাই টা অনেক ভাল ছিল অনেক মজা করে খেলাম যদিও আমি মিষ্টি পছন্দ করি না...
অত:পর ১১ টার দিকে যখন আয়েশাদের বাসা হতে বেরুতে যাব ঠিক তখনি জানালা দিয়ে উখি দিয়ে দেখি ওর ফোফাতো এবং আরো ৩ জন দাড়িঁয়ে রইছে ওদের বাসার সামনে । আমার কাছে বিষয়টা একটু কেমন যেনো লাগলো! তাই ঠিক করলাম একটু পরেই বের হই ওরা যাক আগে গেইট থেকে এভাবে আরো ২ ঘন্টা পেরিয়ে গেল। ওরা একমিনিটের জন্যও নড়েনি যায়গা হতে !এদিকে আয়েশার বাবা ও ফোন দিছিল ওর কাছে উনি বাসায় চলে আসতেছেন টেনশনে ঐ সময় আমার যে কি অবস্থা হইছিল তা বলে বুঝাতে পারবো না ।
অত:পর মনে মনে ঠিক করলাম যা হবার তো হবেই ওর বাবা আসার আগে বাসা থেকে বেরুতে হবে । ওর বাবা আসলে বিষয়টা আরো কঠিন হয়ে যাবে। অত:পর ঠিক করলাম এখনি বাসা হতে বেরিয়ে যাব ঠিক তখনি আয়েশা বলল ওদের বাসার পেছনে দিক দিয়ে নাকি একটা দরজা আছে তবে ওদের বাসার ঠিক পেছন দিকে একটা ডোবা আছে ওখানে ওরা সবাই ময়লা আবর্জনা ফালায় এই দরজা দিয়ে। যাইহোক মনে মনে ডিশিসন চেইন্জ করলাম ধরা খাওয়ার থেকে ময়লা ডোবাতে ডুবে থাকা অনেক ভাল। অত:পর পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে সারা রাত ঐ ডোবাতেই ছিলাম ফজরের আজানের একটু আগে ঐ ডোবা হতে কোনমতে বেরুতে সক্ষম হয়েছিলাম। ঐ ডোবার পানি এতো নোংরা ছিল যে? আজ ও আমার নাকে ঐ পানির গন্ধ টা মাঝে মাঝে লাগে!। এর পরে থেকে আর কোনদিন সেমাই খাইনি ...
ওহ !!! আয়েশা তো এতক্ষণ ফোনে লাইনে ছিল!!!
< শুনো আয়েশা তোমার হাতের সেমাই এখন আর আমি খাব না। আরেকবার আর কোন লুকোচুরি নয় আরেকবার ডিরেক্ট বাসর ঘরেই খাব ইনশাআল্লাহ ....
এটাই ছিল আমার সেমাই খাওয়ার গল্প অসমাপ্ত....
[তবে ভাইলোগ ঘটনা কিন্তু কাল্পনিক আফনেরা আবার উল্টা পাল্টা ভাব্বেন না আমারে নিয়া😳😳😳😳]
লিখা :রোহান আহমেদ( Joy mahateer)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ