গল্পঃ তিথির বিয়ে
.
____Zahid Hasan (বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি)
.
মাঝেমধ্যে মন চায় আমিও এইভাবে ঝগড়া করি। দিনশেষে বরের সাথে রোমান্টিক আলাপ করব। রাতে ঘুমানোর সময় জেনেশুনে সজাগ থাকব তখন সেই বর আমাকে ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে আমায় ঘুম পাড়াবে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিবে তখন আমি হারিয়ে যাব ঘুমের দেশে। এমন একটা বর আমার জীবনে আসুক যাকে আমি যা বলব সে সব শুনবে। আমি রাগ,অভিমান করলে সেই বর আমার প্রতি রাগ না হয়ে বরং আমার রাগ ভাঙাবে,জড়িয়ে ধরে কপালে একটা চুমু দিবে। আমার তখন সব রাগ,অভিমান চলে যাবে তারপর আমিও তার কপালে একটা চুমু দিব।
.
- হা হা হা এমন বর পাওয়া ভাগ্যের উপর নির্ভর করে। (আবির)
- আচ্ছা কাল দেখা করিস কিছু সিরিয়াস কথা আছে। (তিথি)
- কাল কেন আজই বল। এইটা কেমন কথা কইলি অর্ধেক কথা কইলি আর অর্ধেক কথা পেটের ভিতর রেখে দিলি।
- চুপ থাক, কাল আমি আর তুই ঐ গাছটার নিচে বসে বসে গল্প করবো তখন বলব।
.
এরকমভাবে কথা অর্ধেক বের করে আর অর্ধেক ভিতরে রাখলে কেমন জানি লাগে। না জানি কি নিয়ে সিরিয়াস কথা বলবে। বাসায় যাওয়ার পর খালি তিথির ঐ কথা মনে পড়তেছে। মেয়েদের পেটের ভিতর কথা রাখা তাদের একটা স্বভাব। ধুর টেনশন নিতে পারব না যা বলার বলবে তাতে আমার কি। নিজেকে হালকা করার জন্য মাথা থেকে আজেবাজে কথা ঝাড়তেছি। পাশের রুম থেকে আম্মু চিল্লাচিল্লি করতেছে। মনে মনে চিন্তা করি আস্তে আস্তে সংসারের ভার আমার উপর আসছে শীঘ্রই আমাকে কিছু একটা করতে হবে।
.
পরেরদিন...
তিথির সাথে দেখা করার জন্য তিথিদের বাসায় যাব। কিন্তু মাথায় একটা কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। একসময় আমি পড়ালেখা করতাম বিধায় তিথির সাথে দেখা করতে বাসায় যেতাম কিন্তু আমি এখন বেকার তিথির মা-বাবা যদি আমাকে তাদের বাসায় আসাযাওয়া দেখে মাইন্ড করে। অবশ্য তিথির মা-বাবা এরকম না তবুও কেন জানি নিজের বিবেক বাধা দিচ্ছে। বেকারদের মাথায় আজেবাজে বুদ্ধি আসে যদি আমার মাথায় ও আসে তাই আর তাদের বাসায় যাব না। বাইরে দেখা করবো। যাই হোক একটু আগেই বাসা থেকে বের হব ঠিক তখনই আব্বুর ডাক। ভেবেছিলাম একটু আগে যাব এখন আরো দেরি হবে।
গেলাম বাবার কাছে আর শুরু হলো আমাকে নিয়ে।
.
কি করি না করি পড়ালেখা ত করিই না এইভাবেই বেকার ঘুরি কেন? বয়স ত কম হয়নি লোকে কি বলে। আমার মানসম্মান থাকতে চাকরি কর তারপর যা করার আমরা করবো। তারপর যে কি করবা সেটা আমি ভালো করেই বুঝে গেছি।
.
আমাকে এক ডিলে দুই পাখি শিকার করতে হবে। চাকরি প্লাস তিথির কথা বাসায় দুইটা একসাথে বলব। বাবা যা বলেছে একদম ঠিক বলেছে বেকারকে আসলেই কেউ দুপয়সা দাম দেয় ন। বেকার না কি এদেশের বোজা। কিন্তু আমি ত পড়ালেখা ভালোই করেছি ইচ্ছে করলে চাকরি পেতে পারি আর চাকরিই বা খুঁজতে যাব কেন বড় ভাইয়ের কাছে বললেই ত হয়। মাথা পুরা আউলাইয়া গেছে কি করব বুঝতেছি না। এদিকে তিথির সাথে দেখা করতে হবে আর এখানে আব্বু আমার মাথা আউলাইয়া দিছে। যাই তিথির সাথে দেখা করে আসি। বাইরে গেলে মাথাটা ঠিক হবে আবার তিথির সাথে দেখাটা ও হবে।
.
মনে হচ্ছে অনেক লেট করে ফেলছি। না জানি আমার উপর কেমন রাগ করছে। তিথির সামনে যেতেই রেগেমেগে চোখ লাল করে ফেলছে। আমি কিছু বলার আগেই এক লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। মনে মনে ভাবতেছি রাগটা আজ যেভাবেই হোক ভাঙতে হবে। তারপর তিথি কোনকিছু না বলেই হাটতে লাগলো। আমি তখন তিথির পেছন পেছন যাচ্ছি। একটু হাটে আবার দাঁড়িয়ে পড়ে আমিও একটু হাটি তারপর দাঁড়িয়ে পড়ি।
.
- সমস্যা কি আপনার?? (তিথি)
- এমা তুই থেকে আপনি? কি হইছে বলবি ত?(আবির)
- তুই আমার চোখের সামনে থেকে দুর হ কুত্তা।
- এই দেখ আমি কান ধরে উঠবস করতেছি আর দেরি হবে না।
কান ধরে উঠবস করা দেখে তিথি হাসতেছে। আমি কান ধরা ছেড়ে দিয়ে তার হাসিমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ শুনতে পেলাম গাড়িঘোড়ার ফ্যা ফু শব্দ। আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি না কি স্বপ্ন দেখছি কিছুই বুঝতে পারতেছি না। তারপর একটা হাতের স্পর্শ আমার হাতে লাগে। তিথি টান দিয়ে রাস্তার পাশে নিলো।
.
- অই পাগল রাস্তায় দাঁড়িয়ে আনমনা হয়ে গেলি না কি? (তিথি)
- না মানে তোর হাসির দিকে তাকাতে আমি ভাবনার জগতে চলে গেছিলাম। তোর হাসি যে আমার মন কেড়ে নিয়েছে তাই আমি রাস্তায় দাড়িয়ে আছি না কি স্বপ্নে আছি বুঝতেছি না।
- দেখতে হবে হাসিটা কার হি হি হি।
- আচ্ছা কাল বলছিলি কি জানি সিরিয়াস কথা বলবি কই বললি না ত।
- কিছুকিছু কথা আছে সময় বুঝে বলতে হয়। মুখ দিয়ে যখনতখন বের হয় না। এসব কথা বলার একটা ফিলিংস লাগে সেইটা এখন আর নেই।
- তো কখন বলবি? আমার যে এই কথাগুলো না শুনলে ঘুম হবে না। আমি তোর হাতেপায়ে ধরি তবুও কথাগুলো বল।
- এই পাগল বলতেছি দাড়া।
- দাঁড়াতে পারব না বসে নেই।
তিথি মুচকি একটা হাসি দিয়ে।
- আচ্ছা বস।
- হুম বল
- আমাদের কলেজ ত বন্ধ তাই আমরা পরশুদিন গ্রামে যাচ্ছি।
- হা হা হা হা এই কথা ব্যাপার না।
- হাসিস না আরো কথা আছে।
- আর কি কথা? অহ্ বুচ্ছি এইবার গ্রাম থেকে আসতে দেরি হবে এইতো?
- না না না না। আমি মনে হয় ঢাকাতে আর আসব না,তোর সাথে আর দেখা হবে না কথাও হবে না।
- মিথ্যুক তুই আমি বিশ্বাস করি না।
- আমার বিয়ে ও ঠিক।
- হা হা হা হা হা, ফাইজলামি রাখ।
- ফাইজলামি না। আমি বলছিলাম না সিরিয়াস কিছুকথা আছে এটাই সেই সিরিয়াস কথা।
.
আবির তিথির মুখ দেখে বুঝে গেছে এই কথাগুলো ফাইজলামি না। তখন তার কাছে দুনিয়াটা অন্ধকার মনে হচ্ছে। আবিরের মনের আকাশে কালো মেঘ জমে গেছে এই বুঝি বৃষ্টি আসবে। আসলে জীবনে রং বড় অদ্ভুত কখন যেন পাল্টে যায় বলা যায় না। চারিপাশে ভালোলাগার মত কোনকিছুই খুঁজে পায় না আবির। তার চোখ পালাবার পথ খুঁজে বেড়ায়, কিন্তু পালাবে কোথায়? গন্তব্য যে জানা নেই। এইভাবে ধুঁকতে ধুঁকতে বেশ কয়েকদিন কেটে যায় আবিরের।
.
কিছুদিন পর…
আবিরের বাসার দারোয়ান একটা চিঠি আবিরকে এসে দিয়ে যায়। চিঠিটা পড়ে আবিরের মন কষ্টের পাহাড় হয়ে গেছে। যেই মেয়ে ক্লাস ৬ থেকে কলেজ পর্যন্ত একসাথে লেখাপড়া করেছে সেই মেয়ে আজ আবিরকে না জানিয়ে শিহাব নামের এক ছেলেকে বিয়ে করে ফেলেছে।
.
উপর দিয়ে ফিটফাট ভেতর দিয়ে সদর ঘাট, এই রকম হওয়ার চেয়ে ভদ্র হোন, জ্ঞান অর্জন করুন,নিজেকে সবার সামনে প্রতিষ্ঠিত করুন।বাবা মায়ের দুঃখ বোঝার চেষ্টা করুন । বাহুল্যতা ত্যাগ করুন । স্মার্টনেসের নামে আলগা ফুটানি বাদ দিন । ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করুন। নিজেকে ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে দাড় করান তারপর আলগাপিরিত করেন। আজ আপনি ভালো লেখাপড়া জানা থাকা সত্বে ও যদি বেকার ঘুরেন কেউ আপনাকে দুপয়সা দাম দিবে না।
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§
401
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§§ā§Ļ:ā§Ļā§ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ