( নীল পরীর মায়া)
.
written : কল্পনার কারিগর (গল্প লেখক)
.
- কাব্য ওই কাব্য.!
- কি?
- কলেজ চল।
- দাড়া আসছি।
- তাড়াতাড়ি।
- ওকে, দোস্ত।
.
আমি আর রিহান। দুজন বন্ধু, একই ক্লাসে পড়ি " অনার্স ফাস্ট ইয়ার। আমি কাব্য। আর রিহান এখন ওর বাইক নিয়ে আমার বাসার সামনে দাড়িয়ে আছে, দুজনে একসাথে যাব বলে। আমারও বাইক আছে, তবে বন্ধুর সাথে একসঙ্গে যাওয়ার মজাই আলাদা।
.
- এতখন লাগে তোর?
- আরে না,, পিচ্চি ভাইটাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়,
- চল, উঠ।
- হুহ।
.
বাইক নিয়ে কলেজে রওনা হলাম। হটাৎ রাস্তায় কতদূর গিয়েই বাইক কেমন যেন আওয়াজ করে বন্ধু হয়ে গেল।
- ওই কাব্য এখন কি করব রে?
- কি হইছে?
- ইঞ্জিনে সমস্যা হইছে।
- এইটার শরীরে জং ধরছে দোস্ত গোসল করিয়ে নিয়ায়।
- ধ্যাত, হেটে চল বেশি সময় লাগব না।
- এটা কি করবি?
- পাশের দোকানে রেখে আয়, বিকেলে ঠিক করতে নিয়ে যাব,
- আচ্ছা।
.
বাইক রেখে দুজনে হাটতে হাটতে আসছি কলেজের দিকে। একটু হেটেই রিহানকে বললাম,
- রিহান, প্রতিবার পার্টি দিস, গতকাল কেন দিলি না।
- দোস্ত রিমা কে সত্যিই ভালবেসে ছিলাম রে, কিন্তু ও বুঝলো না,,
- হাহাহা, ৭৮ টার মধ্যে শেষের টারে ভালবাসলি?? তাহলে ৭৫টা কই গেল?
- রাখতো ওসব ফালতু মেয়ের কথা।
- কি কস দোস্ত,, যখন প্রেম করতি তখন তো জান, জানু বাবু বলে চিল্লাচিল্লি করতি এখন ফালতু।
- হ রে দোস্ত। এখন বুঝতে পারছি সত্যি কারের ভালবেসে ছ্যাঁকা খাইলে কেমন লাগে।
- হাহাহা, ছ্যাঁকার দোকান দে একটা।
- ফাজলামো করবি না,, কাব্য তুই আগে কাউকে ভালবাস তাহলে দেখিস ছ্যাঁকা খাইতে কেমন লাগে!!!
- আমি তোর মতো এতগুলো প্রেম করুম নাকি, যে ছ্যাঁকা খাইয়া পরে দোকান দিমু???
- ধুরু হালা, চুপ কর।
- তুই কাদতেঁ থাক, আর আজ কলেজে নতুন মাইয়া আসবো,,, ২০১৭ সালে উৎপাদিত মাইয়া। খুব সুন্দর সুন্দর নতুন মেয়ে ভর্তি হইবো ওইগুলোর একটা পটিয়া সারাজীবন ওই টার সাথেই প্রেম করুম।
- হাহাহা হালায় বলে কি রে??? ২০১৭ সালের মাইয়া তো এখনো বসতেই শিখে নাই কেবল ৩ মাস হইলো ওগুলো। ফিডারও খায় না এখনো আর তুই ও গুলোর সাথে প্রেম করবি হাহাহা।
- ওহ্ শিট,, ওই মানুষ বলতেই ভুল হয়। এ বছর নতুন যে মাইয়া ভর্তি হইবো আমি ওগুলোর কথা বলছি।
- ওকে চল, কলেজ এসে পরছি।
- ওকে। আমি খুজতে থাকি। জীবনে তো প্রেম করলাম না,, আজ দেখি চেষ্টা করে।
-বেস্ট অফ লাক,
- হুস হুর হুর, ভাগ এখন,, আমি দেখি আসছে কিনা!!!
.
তারপর রিহানের ওখান থেকে পশ্চিম দিকে গেলাম। উফফ একটা প্রেম না করলেই নয়,, ও এতো গুলো প্রেম করল কিন্তু আমি একটাও করতে পারলাম না,, কি লজ্জার ব্যপার। একবার একটা প্রেম করে ছ্যাঁকা খেয়েই দেখি কি হয়,, আর না হলে সারাজীবন একটা দিয়েই কাটিয়ে দিব।।
.
কলেজ কাছে বলেই আগে ভর্তি হলাম নয়তো আরও পরে ভর্তি হতাম,, যেমন আজকে সবাই ভর্তি হচ্ছে। আমি এখন ক্লাসে যাই, পরী পরে খোঁজা যাইবো।
.
নতুন ক্লাস হওয়ার জন্য প্রথম প্রথম ক্লাস কমই হলো। আজকে ৩টা ক্লাস হইছে, ১টার সময় কলেজ ছুটি দিল। আজ বোধ হয় রিক্সায় যেতে হবে, রিহানের বাইক তো চান্দে গেছে। আমার টা আনলেই ভালো হতো।
.
গেটের বাইরে এসে রাস্তায় আসা মাত্রই একটা রিক্সা পেলাম। রিহান হারামজাদা আজ আগেই চলে গেছে ওর বাইক সাড়াতে, কারণ আজ বিকেলে আমি আর ও ওর এক কাজিনের বিয়েতে যাব।
.
- এই মামা চলেন তো,
- কই?
- ওইতো বাজারের পাশে মোরের ওখানে।
- উঠেন।
( বসে উঠলাম)
.
প্যাডেলে চাপ দেওয়ার সাথে সাথে,,
- এই চাচা শুনুন।
- কি আফা?
- আমারে নিয়ে যান,
- এই মামার সাথেই যাবেন??
- ওনাকে নামিয়ে দিন।
- হাহাহা, মামা আপনি নামেন আফা যাইবো।
- ওইই মামা তোমার আফার গোষ্ঠী কিলাই,, ইয়য়য়া, আইছে রে,, আমি আগে উঠছি সো আমিই যাব।
- দেখছেন আফা মামা কি কয়?
- এই শুনুন না, এমন করছেন কেন? আমার খুব তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে হবে বাসায় অনেক কাজ।
- আপনার কি এতো জরুরি কাজ?
- উফফফ আজ আমার আপুর বিয়ে।
- কলেজে আইছেন কেন?
- ভর্তি হতে। এখন যেতে দিন।
- আপনি বাজার থেকে উওর দিকে যাইবেন?
- আরে হ্যাঁ ( রাগি সুরে)
-যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে আমার সাথে একসঙ্গে চলুন নয়তো দাড়িয়ে থাকেন।
- ও মাই গড। চেপে বসুন যান,, কাছে আসার চেষ্টা করবেন না।
- আফনে কেডা আফনের কাছে যামু ক্যা যত্তোসব।
- ওকে ওকে, চাচা চলুন।
.
- আফা আর মামা আপনারা যে কি শুরু করছেন,, অপরিচিত হয়ে কি এমন ঝগড়া করে কেউ।
- চাচা আপনি বুঝতে পারছেন না আমার খুব তাড়া আছে। আমার আপুর বিয়ে আর আজ ভর্তি হওয়ার শেষ ডেট তাই আসছি।
- ওহ্।
.
- এই আরও চেপে বসুন।
- তার থেকে ভালো আমি রিক্সা থেকে লাফ দেই ওকে।
- না, দিতে হবে না।
- ওকে। আজকে আমাদের আবার দেখা হতে চলছে।
- মানে!!!
- বিয়ে বাড়ি।
(এই বলে রিক্সা থেকে নেমে আসতে লাগলাম)
-এই হ্যালো শুনুন, বিয়ে বাড়ি মানে,, কোন বাড়ি??
.
উওর দিলাম না। চুপ করে এসে পড়লাম। ওই মেয়েটার মুখের দিকেও এখনো তাকাই নি। যে খারাপ স্বভাব মুখটাও বোধ হয় ওমন খারাপ হবে। দেখলেই হার্ট এটাক করার মতো। তার জন্যই দেখিনি।
.
বাড়ি এসে গোসল করে শুয়ে পড়লাম। ৪টার দিকে রিহান আসলো,,
- দোস্ত বাইক ভালো হয়নি।
- তো?
- তোরটা নিয়ে চল।
- আচ্ছা। আর তোর কাজিন ওটা তোর কি লাগে।
- ফুপাতো বোন। কেন?
- ওটার কি ছোট বোন আছে।
- হ্যাঁ, এবার আমাদের কলেজে ভর্তি হইছে তোকে কাল দেখামুনি।
- আজকে কথা হইছে মনে হয়, মুখের দিকে তাকাইনি।
- কিভাবে দোস্ত।
- পরে বলব চল এখন।
- হুম চল।
.
বিয়ে বাড়ি বেশি দূরে না। বাইক নিয়ে এক টানে চলে আসলাম মাত্র ৮ মিনিট লাগলো। আর রিহান হারামজাদা ডিজিটাল পোলা, রকেটের মতো বাইক চালায়।
.
বিয়ে বাড়ি গিয়ে রিহান বড়দের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিল। এভাবে আর একটু ঘুরে সময় চলে গেল। আমার পেট আর চলে না, খুব ক্ষিদে লাগছে, রিহানকে বললাম, ও আর একটু অপেক্ষা করতে বললো, একটু পর নাকি সবাইকে দেওয়া হবে।
কি আর করব, বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
.
কতখন পরে খাবার দেওয়া হলো। খেতে বসলাম, সামনে প্লেটে মাছ মাংস পোলাও সব আছে, আশেপাশে না দেখে হাত বাড়িয়ে দিলাম। কে যেন টান দিয়ে প্লেট না নিয়ে গেল?? পাশে তাকাতেই দেখি একটা মিষ্টি নীল পরী। একদম পরীর থেকেও সুন্দর একটা মেয়ে, নীল শাড়িতে হেব্বী মানায়ছে।
.
- কি হলো প্লেট নিলেন কেন?
- আজকে আপনার কপালে খাবার নাই।
- কেন?
- আজকে দুপুরে আপনি আমার সাথে ওমন ব্যবহার করছেন তাই।
- আরে কি বলেন, আমি তো আপনাকে দেখিইনি, চিনি না, কেমন ব্যবহার করলাম আবার???? প্লিজ খাবার টা দিন, খুব ক্ষিদে লাগছে।
- ওই আত্মীয় বাড়ি আইসা বেহায়ার মতো খাইখাই করছেন কেন?
- তাতে আপনার কি? আমি খাবই।
- পারলে খেয়ে দেখান।
( হাত শক্ত করে ধরে প্লেট টা টান দিয়ে নিয়ে নিলাম, তবে খুব সাবধানে অন্য কারো চোখে যেন না পরে)
.
- ওই আপনি আমার হাত ধরলেন কেন?
- আপনি বাধ্য করলেন তাই।
- যত্তোসব।
- আপনি আমার খাবার নিলেন কেন?
- রিক্সাওলায়ার সামনে ওমন আচরণ করলেন তাই।
- ওহ্ তাইলে ওই ললনা আপনি? আর তার জন্য আমার খাওয়া বন্ধ করতে আসছেন?
- বন্ধ করব কেন? আপনি তো এখন নিয়েই নিছেন, এখন চুপচাপ বসে খেয়ে নিন।
- আপনি খাবেন না।
- আপনার পাশেই তো বসছি দেখেন না।
- আচ্ছা খান।
.
তারপর আমি খাওয়া শুরু করলাম। ও তো আগে থেকেই শুরু করছে। রিহান যে আবার কই গেল? হায় কপাল, এই পরীটার দিকে দুপুরে কেন চেয়ে দেখলাম না?? কত্তো সুন্দর মায়া মাখা মুখ একটা আর আমি কিনা কি ভেবে তাকাইনি। ধুরর, তখন মিস করছিলাম এখন আর মিস করব না। এবার তাকিয়ে কথা বলব।
.
- আপনার নামটা বলবেন?
- কেন?
- এমনি!
- সায়মা ইসলাম মিম।
- খুব সুন্দর নাম।
- ধন্যবাদ।
- রিহানকে চিনেন?
- হুম, আমার ভাই,, একটু ছোট।
- ওর তো বোন নেই।
- আরে আমি তো আপন বোন না। আর ও আমার মাত্র কয়েক দিনের ছোট।
আর আপনি এখানে আসছেন কেন?? কার কি হোন আপনি?
- না মানে, আমি কারও কিছু না, আমি রিহানের বন্ধু তাই ও আমাকে এখানে নিয়ে আসছে।
- ওহ্,, তো বন্ধুর বাড়ির খাবার চুরি করতে আসছেন??
- ( কথাটা শুনে খারাপ লাগল তাই অর্ধেক খাইছিলাম আর বাকি অর্ধেক প্লেটে রেখেই উঠে পড়লাম, সত্যিই তো আমি এ বাড়ির কে?? বন্ধুর আত্মীয় বাড়ির খাবার কমাতে আসছি, না আসলেই ভালো হতো। প্লেট রেখে দাড়ালাম তারপর এদিক ওদিক তাকিয়ে চলে এলাম, মিম যখন কথা বলল তখন ওর দিকে করুণ দৃষ্টিতে একটু তাকিয়ে ছিলাম)
.
সুন্দর বলেই যে মনটা সুন্দর হবে এমন না। এই সুন্দরীর মনটা খুব খারাপ।
.
- এই হ্যালো কই যাচ্ছেন খাবার রেখে খেয়ে যান।
- খাওয়ার দরকার নেই, নিজের বাড়িতে অনেক খাবার আছে ওগুলোই খাব, শুধু শুধু অন্যের বাড়ির খাবার খাব কেন?
.
এই বলে ওখান থেকে চলে আসলাম।
ভাবছে টা কি হ্যাঁ?? ওর বাড়িতে আসছি বলে ওর কথামতো চলতে হবে। আমি কি রাস্তার ছেলে নাকি যে যা বলব তাই মেনে নিতে হবে।
.
রিহান দেখি কনের কাছে দাড়িয়ে আছে, তাই ওর কাছে গেলাম।
- রিহান বাইকের চাবি দে।
- এখন চাবি দিয়ে কি করবি?
- দিতে বলছি দে।
- এই নে ধর।
- তোর বিয়ে খাওয়া হয়ে গেলে বাড়ি যাস। আমি এখন চলে যাব।
- কিইইইই? হারামি কি কস? কি হইছে তোর। রাতের বেলা যাবি কেন? তোকে তো আজ রাতেই চলে যাওয়ার জন্য নিয়ে আসিনি।
- এ বাড়ির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। আমি গেলাম।
- ওই যাস না দাড়া দাড়া। আর কি বললি এগুলো, কি হইছে তোর।
.
এসে পড়লাম বাইক নিয়ে রাতের বেলা। ১০ টা বাজবে হয়তো তখন। আসার সময় মিম দেখছিল আর পেছন থেকে অনেক ডাকছিল কিন্তু কিছু না বলে চলে আসছি।
বাড়ি এসে মা যা রান্না করছিল তা পেট পুরে খেলাম।
.
আর যাব না কোনো দিন ওই বাড়িতে। ওই ফাজিল মেয়েটার সামনে তো একদমই না। এতো রাতে আসছি বলে মা কিছুটা অবাক হয়ছিল তবে কিছু বলেনি।
.
পরের দিন শরীরটা ভালো লাগেনি তাই আর কলেজে যায়নি। সারাদিন বাড়িতেই ছিলাম। তারপরের দিন কলেজে গেলাম। রিহান আজকেও বিয়ে বাড়ি থেকে আসে নাই। নইলে কলেজে আসতো। যতখুশি হারামজাদা তুই বিয়ে বাড়ি খা। ( এই বলে হালার নামে কটুত্তি করতে লাগলাম)
.
সাড়ে তিনটায় বাসায় পৌছলাম। বাসায় গিয়ে একেবারে বাথরুমে গিয়ে ফ্রেস হলাম। যেই আমার রুমে ঢুকছি একটা সুন্দর গন্ধ বেরুলো। এটা আমার অতি পরিচিত পোলাও মাংসের গন্ধ। আমার বিছানার উপর প্লেটে সুন্দর করে রাখা আছে।
.
যেই প্লেটে হাত দিব তখনই মা আসলো।
- খেয়ে দেখতো কেমন হইছে আজকে বিয়ে বাড়ি থেকে রিহান নিয়ে আসছে। আসার সময় নতুন করে রেধে আনছে।
- কোন বিয়ে বাড়ি থেকে?
- যেখানে গেছিলি।
- ওহ্, কি রাধছো? খেতে দাও।
- এগুলো খা।
- আমি এগুলো খাব না ( ধমক দিয়ে উচ্চ গলায় বললাম)
.
পাশের রুম থেকে খিকখিক করে হাসতে হাসতে রিহান আর মিম বের হলো।
- রিহান কখন আসছত?
- কেবল, ওখান থেকে এখানে আসলাম।
- ওনাকে নিয়ে আসছত কেন?
- ওর জন্যই তো আসলাম। নাহলে আসতাম নাকি?
- এইযে মিস্টার এবার ভাব না দেখিয়ে খেতে বসুন।
- আপনি এগুলো এখানে আনছেন কেন?
- সেদিন ওভাবে চলে আসলেন কেন?
- আমার ইচ্ছে হয়ছে তাই, তাতে আপনার কি?
- আমার অনেক কিছু।
- মানে!!!
- আপনি বুঝবেন না। খেয়ে নিন।
- আমি আপনার বাড়ির একটা কিছুও মুখে দিব না, সরুন।
.
এই বলে ওখান থেকে না খেয়েই চলে আসলাম। যত্তোসব। প্রথমে খোটা দিব তারপর আদিকক্ষেতা দেখাতে আসব। আমার দরকার নাই এমন। তারপর ওখান থেকে একটা হোটেলে গিয়ে খেয়ে আসলাম।
.
ওই মাইয়া যা ইচ্ছা তাই করুক তাতে আমার কি?
সারা বিকেল ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যা বেলা বাসায় গেলাম। আমার রুমে যেতেই মা রাগি ভাব নিয়ে আমার কাছে আসছে।
.
- তুই ওই মাইয়ার লগে এমন করছিস কেন?
- তাতে কি হইছে।
- কি হইছে মানে??? ও আমার কাছে আজ এসে সব কইছে। ও নয় ফাজলামোর ছলে একটা ভুল কথা বলেই ফালাইছে, তাতে এতো রাগ করার কি আছে?
- ওইটা ফাজলামোর ছলে বলছে??
- তা নয়তো কি?
- ওর কাছে ফাজলামো হলেও আমার কাছে না।
- একবার তো ওর সাথে কথা কইয়া দ্যাখ। আজকে তুই দুপুরে ওভাবে যাওয়ার পর মাইয়াটা কাদতেঁ কাদতেঁ বাড়ি গেছে। ওর হাসি মুখটাও দেখা পারলাম না।
- ওর হয়ে তুমি কথা বলছো তাই না।। আর ওই ফাজিল মাইয়া কাঁদছে কেন?
- সেইটা আমি কেমনে কমু?
- হইছে যাও এখন।
.
এই বলে মা কে অন্য ঘরে পাঠিয়ে দিলাম। কাদুক চাই যা ইচ্ছা তাই করুক তাতে আমার কি? আজকের দিনটাই খারাপ করে দিল।
কতখন চুপচাপ শুয়ে থেকে ফেসবুকে ঢুকলাম,, ডাটা অন করতেই ম্যাসেঞ্জারে শব্দ হতো লাগল। এত্তো মেসেজ কে দিল আবার?
.
Saima Islam Sathi আইডি থেকে অনেক মেসেজ রিকুয়েস্ট আসছে, সবগুলোতে শুধু sorry sorry লেখা। কিন্তু ও আমার ফ্রেন্ড লিস্টেও নাই। ফলো করে রিকুয়েস্ট মেসেজ দিছে।
তাতে আমার কি? সিন করে রেখে দিলাম।
একটু পর আবার আরেক টা মেসেজ,
sorry bolchi to tobe kno amon korchen? please maf kore din. ami avabe bolte chai ni, please forgive me.
ধুরর, ভাল্লাগেনা দিলাম ব্লক করে, যত্তোসব আজিড়া প্যাচাল।
.
একটু পোস্ট দেখে ঘুমিয়ে পড়লাম। কালকে আবার সকালে কলেজ যেতে হবে।
.
পরের দিন সকালে উঠে কলেজ গেলাম। কলেজ যাওয়া মাত্র আমি সিটে গিয়ে বসছি, ওমনি
( ঠাস)
এটা কি হলো? মিম এসে বসিয়ে দিল গালে একখান নরম হাতের থাপ্পড়, এ মা কি মেয়েরে বাবা, আমাকে থাপ্পড় দিয়ে এখন নিজে কাঁদছে।
.
- কি হলো? মারলেন কেন?
- আরেক টা কথা বললে এখনই খুন করে ফেলবো হারামজাদা।
- কেন?
- এমন করছিস কেন আমার সাথে হ্যাঁ?
- তাতে কি হইছে?
- গতকাল রাতে ব্লক দিছস ক্যান?
- এমনি।
- ( এইবার জুরে কান্না করছে। এইরে কলেজে এসে কান্না করছে এখন কি করব?)
- এই আপনি কাঁদছেন কেন?
- আমার সাথে এমন করোনা প্লিজ।
- কেন?
- ভালবাসি।
- কিইইইইই?
- হুম।
- কাকে?
- তোমাকে।
.
( ওইইইই কেউ আমারে চুবাস না ক্যা রে, এই মাইয়া বলে কি?)
.
- জ্বী আপু আপনি কে? আপনাকে তো আমি চিনি না, আপনি আমাকে ভালবাসি বললেন কেন?
- হারামি আপু বললে খবর আছে তোর।
- কবে থেকে ভালবাসেন হ্যাঁ?
- যেদিন রিক্সায় উঠেছিলাম সেদিন থেকে।
- কিইইই?? ওয়েট, আমি মাথায় জল ঢেলে আসি।
.
এই বলে টিউবলের দিকে দিলাম দৌড়।
এখন কি করব? এই মাইয়ার উপর তো আমি আগেই ডাবল ক্রাশ খাইয়া আছি আর এটা এতো তাড়াতাড়ি হয়ে যাইবো ভাবিই নাই।
এতো রাগ দেখিয়ে ভালই হইছে, পরী নিজেই ধরা দিছে। এখন একটু তিড়িং তিড়িং করে দেখি কি হয়?
.
মাথায় জল দিয়ে আবার আসলাম।
- এই কি হলো কিছু বলছো না কেন?
- কি বলবো?
- ভালবাসি একবার বলো না প্লিজ কাব্য।
- আমি তোমাকে ভালবাসি,
না,
- ( কান্না করছে আবার) কেন ভালবাসো না?
:- জানি না।
- তোমাকে বাসতেই হবে।
- কোনো দিনও না।
- এবার কিন্তু খুব খারাপ হবে।
- কি করবা?
'- আমি এখন মাঠে গিয়ে চিৎকার করে সবাই কে বলবো, তুমি আমার সাথে প্রেম করে ফিজিক্যাল রিলেশন করে এখন ব্রেকআপ করছো।
- (আল্লারে আমারে উঠাইয়া লও, এ আমি কি শুনি, হিতের বিপরীত হয়ে গেল " ভাবছি ওরে একটু কান্দামু কিন্তু ও এখন আমারে কান্দাইতাছে)
না, না প্লিজ জান, এমন কথা মুখেও এনো না প্লিজ।
- তাহলে বলো ভালবাসি।
- ভালবাসি তো তোমাকে অনেক ভালবাসি। সেই যখন নীল শাড়িতে দেখেছিলাম তখনই তোমার প্রেমে পরছি জান ( সত্যি কথা বলে দিলাম)
-সত্যিই??
- হুমমমম,,
.
- এই কি করছো ছাড়ো ছাড়ো। ক্লাসের সবাই দেখে হাসছে। ছাড়ো বলছি।
- না, ছাড়বো না ( এই বলে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো)
.
কি আর করব, সবাই তো দেখেই ফেলছে এখন আর শুধু শুধু ছাড়বো কেন? কতখন ওইভাবেই জড়িয়ে রাখলাম।
মনে হয় এটা সারাজীবনের জন্যই।
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§
390
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§§ā§Ļ:ā§Ļā§Š AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ